সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা যায়, শেষ প্রান্তে সড়কের দুই পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে কঠিন বর্জ্য। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে রাসায়নিক মিশ্রিত কালো পানি চলে এসেছে সড়কে। উৎকট গন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে শ্রমিকদের।

পরিবেশ দূষণের কারণে সম্প্রতি সাভারের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরী বন্ধ করে দেয়ার সুপারিশ এসেছে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে। চালু হওয়ার চার বছরের মধ্যে এটি বন্ধের দাবি উঠতে শুরু করেছে।

চামড়া শিল্পনগরী কেন বন্ধ করা হবে না, বিসিকের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এদিকে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক ও শ্রমিকরাও পরিবেশ দূষণ রোধ করে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

বিসিক বলছে, ট্যানারিগুলো প্রয়োজনের বেশি পরিমাণ পানি ব্যবহার করায় তা সিইটিপির শোধন ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে সলিড বর্জ্যকে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করলে এই সমস্যা সমাধান হবে। এই লক্ষ্যে নতুন একটি প্রকল্প নিয়ে তারা এগুচ্ছে।

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

গত ২৩ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দূষণের কারণে চামড়া শিল্প নগরী বন্ধের সুপারিশ করে।

সাভারের হরিণধরা এলাকায় চামড়া শিল্পনগরীতে গিয়ে পরিবেশ দূষণ দেখতে পায় নিউজবাংলা।

শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা যায়, শেষ প্রান্তে সড়কের দুই পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে কঠিন বর্জ্য। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে রাসায়নিক মিশ্রিত কালো পানি চলে এসেছে সড়কে। উৎকট গন্ধের কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে শ্রমিকদের। বর্ষাকালে কিংবা বৃষ্টি হলেই ট্যানারি বর্জ্য মিশ্রিত পানি সড়কে চলে আসে। তখন ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।

কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) পাশেই ধলেশ্বরী নদীর তীর ঘেঁষে রীতিমত ভরাট হয়ে গেছে ট্যানারির কঠিন ও তরল বর্জ্যে, যা নদীর জন্যে হুমকি।

স্বাধীন ট্যানারির শ্রমিক মোহাম্মদ বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাস্তাঘাট নোংরা হয়ে থাকার কারণে আসা-যাওয়া খুব কষ্ট হয়। রাস্তার দুই পাশে ময়লা রাখার কারণে পানি কোনো পাশে যাইতে পারে না। এই জন্য সমস্যা হয়।’

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

রাসেল মিয়া নামে ট্যানারির আরেক শ্রমিক বলেন, ‘আমি ভাত খাইয়া এই দিক দিয়া আসলে গন্ধে আমার মাথা ঘুরে। সব সময় ৫ টাকা অটো ভাড়া দিয়া ফ্যাক্টরিতে যাই। কিন্তু বৃষ্টি হইলে ১০ টাকা দিলেও অটো এই দিকে আসে না। তখন পুরা রাস্তা ময়লার পানিতে ডুইবা যায়। ওই হাইটা গেলেও পায়ে পাঁচড়া (চুলকানি) হয়। অনেক সময় গাড়িগুলা রাস্তার মইদ্দেও ময়লা ফালায় যায়।’

এত সমস্যা নিয়েও ট্যানারি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চান এই পেশার সঙ্গে ৩০ বছর ধরে জড়িত কবির হোসেন। বর্তমানে গ্রিনঅ্যারো ট্যানারিতে কাজ করেন তিনি।

কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্যানারি বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের রিজিকের উপর আঘাত আসবে। এটা আমরা কোনোভাবে মাইনা নিতে পারব না। এর জন্যে বিসিক একমাত্র দায়ী। এমনকি যারা এইটার পৃষ্ঠপোষক, সরকারও এইটার জন্য দায়ী। এইটার দায় কারা নিবে, কী করবে যাতে এই শিল্পটা বাঁচে। চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পরে এটা গোল্ডরেও হার মানায়।’

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের মারাত্মক ধরনের ত্রুটি ছিল। পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তোলার মূল কম্পোনেন্ট সিইটিপি (কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার)। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা সঠিকভাবে আজ পর্যন্ত ফাংশনিং করছে না। এটা সরকারও স্বীকার করে এবং সর্বজনস্বীকৃত।

‘এটার জন্য সরকারের যে দায়িত্ব পালন করা উচিত, আর মালিকদের যে রেসপন্সিবিলিটি – কেউই তা মানছে না। তাই সংসদীয় কমিটির ট্যানারি বন্ধ করে দেয়াার সুপারিশের মতো সিদ্ধান্তে আমরা বিক্ষুব্ধ।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘ট্যানারি বন্ধ করে দেয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। আমরা মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে হাজারীবাগ থেকে এখানে এসে বিনিয়োগ করেছি। এখন আমাদের প্রোডাকশন বেড়েছে। এই সময় এমন সুপারিশের কারণে মালিকরা বিপাকে পড়েছেন। এমন আত্মঘাতী সুপারিশ করার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।’

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

তবে পরিবেশকে বাঁচাতে চামড়া শিল্পনগরী বন্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে দাবি পরিবেশবিদদের।

সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা লাল চিহ্নিত একটা ইন্ডাস্ট্রি। লাল মানে ভয়াবহ। সেই লাল চিহ্নিত ইন্ডাস্ট্রি লোকালয়ে করা হলো। প্রথম থেকেই আমরা এটাতে সম্মত ছিলাম না। এই চামড়া শিল্পে শুধুমাত্র তরল বর্জ্যের কারণে যে দূষণ হচ্ছে তা নয়। এখানে ক্রোমিয়াম এসিডের মতো মারাত্মক গ্যাস আছে এবং সলিড আছে ওয়েস্ট। এগুলাতো মিনিমাইজেশনের কোনো ব্যবস্থাই নাই। সলিউবল অক্সিজেন এখানে অনেক কম। পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, এখানে স্যালাইনিটি অনেক বেশি। এসব জিনিসের এখানে মিনিমাইজেশন দরকার। সোজা কথা এটা, জোড়াতালি দিয়ে করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির সুপারিশ করার আগে অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। এটা সরকার ও তাদের ব্যাপার। আমাদের মতে, এই ট্যানারি এখানে আদৌ করা উচিত হয়নি। এটাকে সরিয়ে নেওয়াই সঙ্গত।’

তবে ট্যানারির দূষণের কথা স্বীকার এই শিল্পকে বাঁচাতে চলমান সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছে বিসিক।

বিসিকের জেনারেল ম্যানেজার জীতেন্দ্র নাথ পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাজারীবাগে ট্যানারির প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি ছিল কম। এখানে এসে প্রোডাকশন ক্যাপাসিটি অনেক গুণ বেড়ে গেছে। তবে আমাদের দুর্বলতা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে। হাজারীবাগকে রেখে হয়ত কিছু বাড়ানো হয়েছে।

সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর সমস্যা কোথায়

‘আমি নিজেও বলব, এটা যদি আর একটু চিন্তা ভাবনা করা যেত যে, ৫০ কিংবা ১০০ বছর মেয়াদি, তাহলে সিইটিপির যে ক্যাপাসিটি ২৫ হাজার কিউবি সেটা বাড়ানো যেত। তাহলে কিন্তু আজকে এই অবস্থা হতো না। আর এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার কিউবি যেটা যাচ্ছে, এটা কিন্তু কোরবানির ঈদের এই তিন মাস যাচ্ছে। সারা বছর কিন্তু এটা থাকে না, ১৫ থেকে ২০ হাজার কিউবির ভিতরেই থাকে।

‘তবে আমাদের পানির ইউজটা কিন্তু পরিমিত করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল নিয়ম অনুযায়ী, ১ টন চামড়া প্রসেস করার জন্য ৩০ হাজার লিটার পানি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে ব্যবহার হয় ৬০ হাজার লিটার পর্যন্ত। আর পরীক্ষা করেও আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের সিইটিপিতে সেই ধরনের কোনো সমস্যা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে সলিড ওয়েস্টটা নিয়ে সমস্যা। আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, এসপিজিএস অর্থাৎ স্ল্যাশ থেকে ইলেকট্রিসিটি তৈরি করা হবে, যেটা টেকনিক্যালি ঠিক না হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। নতুন একটা প্রজেক্ট পরবর্তীতে হাতে নেয়া হয়েছে। সেই প্রজেক্টেটার প্ল্যানিং গবেষণায় যাচাই-বাছাই চলতেছে। মূলত এই সলিড ওয়েস্টগুলা কিন্তু আমাদের সম্পদ, ফেলার কোনো জিনিস নয়। এগুলিকে আমরা রিসাইক্লিং, রিইউজ করার পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছি। এগুলি যখন সম্পদে পরিণত হবে তখন এই সমস্যাটা সমাধান হবে। তাছাড়া ডাম্পিং ব্যবস্থা চিরদিনের জন্য নয়। এটা করলে আমরা সবদিক দিয়েই উপকৃত হব।’

রাজধানীর হাজারীবাগে নদী দূষণের কারণে চামড়াশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরিবেশে উন্নীত করতে সাভারের হেমায়েতপুরে শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় বিসিক। ২০০৩ সালে শুরু করা প্রকল্প ১ হাজার ১৫ কোটি ব্যয়ে ১৭ বছরে বাস্তবায়িত হয়। ২০১৭ সালে ১৩০টি ট্যানারি একযোগে উৎপাদন শুরু করলেও বর্জ্য শোধন সমস্যায় ধুকছে এই বিসিক শিল্প নগরী।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লী চিকিৎসক কারাগারে

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লী চিকিৎসক কারাগারে

শিশুটির বাবা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম তাকে হার্টের চিকিৎসা দিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে এক পল্লী চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বরগুনা থানায় চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মামলা করেন। ওই দিন রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। মাসুম প্রাথমিকভাবে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা দেন।

তিন হাজার টাকায় পরীক্ষাগুলো করানোর পর মাসুম রিপোর্ট দেখে তাদের জানান, ইয়ামিনের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তাকে পরপর চার দিন চারটি ইনজেকশন দিতে হবে। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৮টার দিকে মাসুম নিজ হাতে একটি ইনজেকশন দেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ইনজেকশান পুশ করার পর থেকেই ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মাসুমকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থাপত্র অনুসারে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে খিঁচুনি দিয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।
সাইদুল বলেন, ‘আমার শিশু সন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অবশ্য অপচিকিৎসার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি বরগুনার নলটোনা এলাকার হাসান নামের একজন তার মায়ের হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক মাসুমের কাছে নিয়ে যান।

হাসানের অভিযোগ, মাসুম তার মায়ের অপচিকিৎসার করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মাসুম উল্টো তাকে হুমকিধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মাসুমের চিকিৎসায় তার মায়ের হাত প্রায় অচল হয়ে গেছিল। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তার মা সুস্থ হন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক মাসুমকে জেলার টাউন হল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

শরীয়তপুর সদরে জ্বিনের আছর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে। আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

শরীয়তপুর সদরে জিনের আসর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার খিলগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে নির্যাতন করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার সকালে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত দুলাল গাজীর বাড়ি ওই এলাকাতেই। তামান্না আক্তার নামের ওই নারী ভত্তাইসার গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে।

তামান্নার বাবা তোতা মিয়া জানান, ২০১৮ সালে দুলালের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেয়ের। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তাকে মারধর করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তামান্নাকে টয়লেটে আটকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন দুলাল।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে।

‘আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

এ বিষয়ে দুলাল গাজী বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে মারধর করিনি। তাকে জিনে আসর করেছে। সে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আবার ফিরে আসে। তাকে কে মারধর করে আমি জানি না।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ‘তামান্না নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী মারধর করছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ওই নারীকে ফোন করি। তার বাবার বাড়ির লোকজনকে বলেছি লিখিত অভিযোগ দিতে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান মেয়েটিকে জিনে আসর করেছে। এমন ভিত্তিহীন কথা তারা কেন বলছেন তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

আগুনে পুড়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাগজপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ইচ্ছা করে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের চেষ্টায় আধ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ২ বছর স্থায়ী কার্যালয়ে অফিস করেছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর বসা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন যে তৈরি করব, তার জন্য জমি, বাজেটও নাই। তাই আমার বাসভবনে অস্থায়ী কার্যালয় করেছি।

তার অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দুটি প্রিন্টার, একটি ফটোকপি মেশিন, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

ঘরের আড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ঘরের আড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

পরিবারের লোকজন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নাজমা বেগমকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে তার মেয়ে ঝুমুর। তার চিৎকারে লোকজন এসে নাজমাকে নিচে নামায়। শুক্রবার সকালে মরদেহ থানায় নেয় পুলিশ।

ভোলার লালমোহনে ঘরের আড়া থেকে গলায় ফাঁস দেয়া নাজমা বেগম নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মহেশখালী গ্রামের ফরাজি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

৪০ বছর বয়সী নাজমা বেগম ওই বাড়ির মো. সিদ্দিকের স্ত্রী। তিনি চার সন্তানের জননী।

পরিবারের লোকজন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নাজমা বেগমকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে তার মেয়ে ঝুমুর। তার চিৎকারে লোকজন এসে নাজমাকে নিচে নামায়। শুক্রবার সকালে মরদেহ থানায় নেয় পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

তিন দিন অনশনের পর বিয়ে

তিন দিন অনশনের পর বিয়ে

স্ত্রী তানিয়া জানান, তিনি এবং হুমায়ুন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আড়াই বছর ধরে তারা ঢাকার একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাস করছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়ায়ুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন দিন অপেক্ষার পর ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে হুমায়ুনের বাড়ি এসে অনশন শুরু করেন।

প্রেমের টানে বরিশাল থেকে ছুটে এসেছেন ফরিদপুরে। বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা তিন দিন ছিলেন অনশনে। অবশেষে সেই দাবি মেনে নিলেন প্রেমিক ও তার পরিবার। ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে গাটছড়া বাঁধেন ওই জুটি।

ঘটনাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের শুবদেবনগর গ্রামের।

স্ত্রী তানিয়া খানমের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বড়করপাকর গ্রামে। স্বামী হুমায়ুন মোল্লা ফরিদপুরের চতুল ইউনিয়নের শুবদেবনগর গ্রামের।

তানিয়া জানান, তিনি এবং হুমায়ুন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সেই সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আড়াই বছর ধরে তারা ঢাকার একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাস করছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়ায়ুনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিন দিন অপেক্ষার পর ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে হুমায়ুনের বাড়ি এসে অনশন শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ২৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়িতে ফেরেন হুমায়ুন। এদিন রাত ১০টার দিকে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের বিষয়ে চতুল ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কারামত আলী খান বলেন, ‘ছেলের পরিবার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বিয়ে পড়িয়েছি। দেনমোহর ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বিয়ের পর হুমায়ুনের বাড়িতে আছেন নবদম্পতি।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

ছুটির দিনেও পাটুরিয়ায় যানবাহনের লাইন

ছুটির দিনেও পাটুরিয়ায় যানবাহনের লাইন

পাটুরিয়ায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ছবি: নিউজবাংলা

রাজবাড়ীর আকলিমা বেগম বলেন, ‘রোদের মধ্যে গাড়িতে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকা কেমন লাগে কন। আমাদের কষ্ট হয় আর বাচ্চাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। বিরক্ত হয়ে মাঝেমধ্যে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি করতেছি।’

সাপ্তাহিক ছটির দিনেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। ফেরি পারে যানবাহন ও যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

তবে দুপুরের তুলনায় সকালে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেকটাই কম ছিল।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাঙ্গীর নামের একটি রো রো (বড়) ফেরি পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাটুরিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে প্রায় দুই শ গাড়ি অপেক্ষায়। ঘাট এলাকা থেকে নবগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে দেড় শ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথুলী সংযোগ মোড় এলাকায় প্রায় এক শ পণ্যবাহী ট্রাক পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে।

এ ছাড়া পাটুরিয়ার তিন ঘাটে ও ঘাট এলাকায় দুই শ যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত পরিবহন ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে।

ফরিদপুরগামী আব্দুল হালিম বলেন, ‘বেলা দেড়টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতেছি। এই প্রচণ্ড গরমে বাসে বসে থাকা খুব কষ্টের। তার পরেও বসে আছি, বাড়িতে তো যেতে হবে।’

রাজবাড়ীর আকলিমা বেগম বলেন, ‘রোদের মধ্যে গাড়িতে বাচ্চা নিয়ে বসে থাকা কেমন লাগে কন। আমাদের কষ্ট হয় আর বাচ্চাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। বিরক্ত হয়ে মাঝেমধ্যে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি করতেছি।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম মো.জিল্লুর রহমান জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে এবং সে যানবাহনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়িও পারাপার করা হচ্ছে। জরুরি কাজে নিয়োজিত পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস পারাপারের পর পণ্যবাহী ট্রাক সিরিয়াল অনুযায়ী পার করা হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বোন নিহত

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বোন নিহত

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বোন নিহত। ছবি: নিউজবাংলা

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, মোকছেদ আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে সব সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে গোসল করানোর জন্য বড় বোন শিকল খুলে দেন। এ সময় মোকছেদ একটি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর বোনের মৃত্যু হয়।

বগুড়ার নন্দীগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় বোন নিহত হয়েছেন।

উপজেলার বুড়ইল বীরপলি গ্রামে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজমি আরা একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ভাই মোকছেদ আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় ৫ বছর ধরে আজমি আরার কাছে রয়েছে। মোকছেদকে সব সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে গোসল করানোর জন্য বড় বোন শিকল খুলে দিয়ে সংসারের কাজ করছিলেন।

এ সময় মোকছেদ একটি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে আজমি গুরুতর আহত হন।

ওসি আরও জানান, তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর মারা যান। ঘটনার পর মোকছেদ আলীকে ওই বাড়িতেই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার কোনো অভিযোগ করবে না বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

এ ছাড়া মোকছেদ মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে আটকও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।

আরও পড়ুন:
শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ট্যানারি ইউনিয়নের
সাভার ট্যানারির ঋণ খেলাপিদের বিশেষ ছাড়
দূষণ: ট্যানারিকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা জরিমানা

শেয়ার করুন