‘গণমাধ্যমে নৈতিকতার চর্চা জরুরি’

‘গণমাধ্যমে নৈতিকতার চর্চা জরুরি’

সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ আয়োজিত ‘মিডিয়া এথিকস অ্যান্ড কোড অব কনডাক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনার।

সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন সজীব সরকার বলেন, ‘নৈতিক সাংবাদিকতার বিষয়টি অনেকটাই সাংবাদিকের ব্যক্তিচরিত্রের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই যেমন নানা কারণে সাংবাদিকতার এথিকস উপেক্ষা করছেন, কেউ কেউ আবার অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন।’

সব পেশার জন্যেই একটি নৈতিক বিধিমালা থাকে; সাংবাদিকতারও রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমে এসব বিধিমালা সবসময় মানা হয় না। নীতিমালা শুধু থাকলেই হবে না, এগুলো মানতেও হবে। রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে গণমাধ্যম সংযোগ স্থাপন করে বলে তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা খুব জরুরি।

রোববার সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ আয়োজিত ‘মিডিয়া এথিকস অ্যান্ড কোড অব কনডাক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ড. রিজওয়ান উল আলম।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির সাম্প্রতিক ঘটনাসহ আরও অনেক ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের নৈতিকতার বিষয়গুলো নিয়ে ওয়েবিনারে আলোচনা করা হয়।

এ সময় সাংবাদিকতার নৈতিক ভিত্তি ও তা চর্চার বাস্তবতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের করা প্রশ্নের উত্তরে ড. রিজওয়ান উল আলম বলেন, প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের জন্যে যে নৈতিক বিধিমালা প্রস্তাব করেছে, তা কোনো আইন নয়। ফলে এগুলো মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। নৈতিকতার বিষয়টি সাংবাদিকের নিজের সদিচ্ছার ওপরও অনেকখানি নির্ভর করে। এ জন্যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান- উভয়কেই আসলে দায়িত্বশীল হতে হবে। আর গণমাধ্যম যখন তার কর্মীদের আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন অনেক ক্ষেত্রে নৈতিকতার ব্যত্যয় ঘটে, তবে শুধু আর্থিক কারণই একমাত্র কারণ নয়। গণমাধ্যমের রাজনৈতিক-অর্থনীতি বোঝাটা এখানে জরুরি।

ওয়েবিনারে স্বাগত বক্তব্যে সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান বলেন, আমরা সবসময় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই। তবে শুধু স্বাধীনতা চাইলেই হবে না, এখানে দায়িত্বশীল হওয়ারও দরকার রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করেই বড় হয়েছে।

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন সজীব সরকার বলেন, ‘নৈতিক সাংবাদিকতার বিষয়টি অনেকটাই সাংবাদিকের ব্যক্তিচরিত্রের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই যেমন নানা কারণে সাংবাদিকতার এথিকস উপেক্ষা করছেন, কেউ কেউ আবার অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন। এ পেশায় সাংবাদিকতা বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করা ছেলে-মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে; এতে গণমাধ্যমের সার্বিক চিত্র ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচকভাবে বদলাবে।’
সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইলিয়াস আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের নৈতিকতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আলোচনা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান বাড়াবে এবং তাদের উৎসাহিত করবে। এ ধরনের বিষয়ে এমন আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও দরকার। এমন আলোচনা থেকেই ভবিষ্যতে এসব সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

পহেলা অক্টোবর থেকে দুটি নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

৩৩তম সিনেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শনিবার এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। সিনেট সদস্য ড. ওমর ফারুক রাসেলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

২০১৯ সালের জুলাই মাসে শাটল ট্রেনে চড়ে ক্যাম্পাসে আসেন রেলমন্ত্রী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেলওয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রেলমন্ত্রী।

তখন তিনি ঘোষণা দেন, এসি ও ওয়াই-ফাইসহ ১৫-১৬ বগিবিশিষ্ট একটি নতুন ট্রেন দেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে উন্নয়নের ১ যুগ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে উন্নয়নের ১ যুগ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গত ১২ বছরে তার অবদান ও অর্জন নিয়ে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ। বোববার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালে। এরপর আরও দুবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন রূপকল্প ২০২১। সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরের গল্প শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। একসময়ে যে বাংলাদেশ পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গত ১২ বছরে তার অবদান ও অর্জন নিয়ে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের শেরাটন ঢাকা হোটেলে রোববার উদ্বোধন হবে তিন দিনের এ প্রদর্শনী।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের এক যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে থাকবে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।

রোববার বেলা ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নদর্শন তরুণদের সামনে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

প্রদর্শনীটি রোববার শুরু হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

করোনা উপসর্গে এবার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

করোনা উপসর্গে এবার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু

সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার জানান, চার দিন ধরে জান্নাতুল জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অক্সিজেন লেভেল ৬৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মানিকগঞ্জের পর এবার লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

সদর হাসপাতালে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে জান্নাতুল ফিজা মারা যায়। ফিজা রায়পুর উপজেলার সায়েস্তানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পড়ত। সে দেবীপুর এলাকার সেলিম উদ্দিনের মেয়ে।

স্বজনরা জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর নিয়মিত মাদ্রাসায় যাচ্ছিল জান্নাতুল। চার দিন আগে তার জ্বর হয়। ছিল কাশি-সর্দিও।

এরপর পল্লি চিকিৎসক দেখিয়ে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট এবং আরও কিছু ওষুধ খাওয়ানো হয় তাকে। শুক্রবার সকালে জ্বর তেমন ছিল না। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে নেয়ার পর জান্নাতুল ফিজা মারা যায়।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কমলা শীষ রায় জানান, হাসপাতালে আনার আগে জান্নাতুল ফিজা মারা যায়। তবে তার করোনা উপসর্গ ছিল।

সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফার জানান, চার দিন ধরে জান্নাতুল জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছিল। এ সময় পল্লি চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ খায়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়লে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

সেখানে তার অক্সিজেন লেভেল ৬৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, যেহেতু তার করোনা উপসর্গ ছিল, সে অনুযায়ী তার নমুনা নিয়ে করোনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট হাতে এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে, সে করোনায় মারা গেছে কি না।

এর আগে মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর হয়। ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পথে বুধবার রাতে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

মৃত সুবর্ণা ইসলাম রোদেলার বাড়ি জেলার বেউথা এলাকায়। সে স্থানীয় এসকে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে

এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে

প্রতীকী ছবি

মন্ত্রী জানান, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে।

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ডিজিটাল প্রদর্শনীতে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে।

প্রাক-প্রাথমিকের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আরও তিন সপ্তাহ পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে
শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার ডিজিটাল প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণ নিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘মাধ্যমিকে-উচ্চ মাধ্যমিকে সারা দেশে কিছু সমস্যার রিপোর্ট পেয়েছি। তবে যেখানেই করোনার সংক্রমণের তথ্য আসছে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে সমস্যা হয়েছে, বিশেষ করে মানিকগঞ্জের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী মারা গেছেন, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই।

‘আমরা সেই কেসটি নিয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। সেই শিক্ষার্থী মাত্র একবার ১৫ তারিখে স্কুলে এসেছিল। তার ছয়-সাত দিন পর তার আক্রান্তের খবর পাওয়া যায় এবং সে মৃত্যুবরণ করে।’

দীপু মনি বলেন, ‘আমাকে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাচ্ছে, এই স্কুলে এতজন আক্রান্ত, ওই স্কুলে এতজন অসুস্থ। আমি খোঁজ নিচ্ছি, অনুসন্ধান করছি, কিন্তু এমন কিছুই পাচ্ছি না।

‘তবে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। কোনো অভিযোগ পাওয়ামাত্র আমরা সঙ্গে সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি ও প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

খুলছে ১২ টাকায় ডাল-পরোটার জবি ক্যাফেটেরিয়া

খুলছে ১২ টাকায় ডাল-পরোটার জবি ক্যাফেটেরিয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ক্যান্টিন খুলে দেবো। যেহেতু ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যান্টিনের সুবিধা নিতে পারে। সেজন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল্যসহ তিন বেলা খাবারের একটা তালিকাও দিয়ে দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন থেকে এবার ভালো সুযোগ সুবিধা পাবে বলে আশা রাখছি।’

করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়া (ক্যান্টিন)। এতে করে সকালে ও বিকেলের নাস্তায় মাত্র ১২ টাকায় ডাল-পরোটা খেতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

অক্টোবরের শুরু থেকে ক্যাফেটেরিয়া খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম। তিনি জানান, ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তার মূল্যসংবলিত একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মূল্য পরিশোধ না করে খাওয়ার অভ্যাসকে বাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক।

তিনি বলেন, ‘আমরা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ক্যান্টিন খুলে দেবো। যেহেতু ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে ক্যান্টিনের সুবিধা নিতে পারে। সেজন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল্যসহ তিন বেলা খাবারের একটা তালিকাও দিয়ে দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন থেকে এবার ভালো সুযোগ সুবিধা পাবে বলে আশা রাখছি।’

বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি খাবারের মূল্য আগের চাইতে একটু বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান ছাত্রকল্যাণ পরিচালক। তিনি বলেন, ‘ডিমসহ কিছু দ্রব্যের বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই কয়েকটি খাবারের দাম একটু বাড়ানো হয়েছে৷ বাকি সবকিছুর দাম আগের মতোই আছে। ক্যান্টিন থেকে যাতে শিক্ষার্থীরা ভালোমানের খাবার খেতে পারে আমরা সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ নজর রাখব।’

শিক্ষার্থীদের খাওয়ার পর বিল না দেয়ার অভ্যাসকে বাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইনুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীই আগে ফাও খেতো, বিল দিতোনা। এতে সব শিক্ষার্থীকে মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহ অনেক কঠিন হয়ে যায়। সবাইকে এই অভ্যাস বাদ দিতে হবে। তাহলে আমরা সকল শিক্ষার্থীর সুবিধার্থে মানসম্পন্ন খাবার নিশ্চিত করতে পারব। সকল শিক্ষার্থী সেই সুবিধাটা পাবে।

দীর্ঘদিন পর ক্যাফেটেরিয়া খোলার ঘোষণা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বিল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা দিন আমাদের ক্যাম্পাসেই থাকা লাগে। বাইরের খাবার অতটা মানসম্মত না। আশা করছি ক্যাফেটেরিয়া খুললে খাবারের সমস্যাটা অনেকটা দূর হবে।’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী অনুপম মল্লিক জানান, পরীক্ষা দুই শিফটে শুরু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এক শিফটেই চলবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে করে যারা ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে আসবে দুর্ভোগ কম পোহাতে তাদের সেই এক শিফটের বাসেই আসতে হবে। এতে করে একটা দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। ক্যাফেটেরিয়া খুলে দেয়ায় তাই তাদের আর খাবারের চিন্তা করা লাগবে না।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটিরিয়ার পরিচালক মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ আমাদেরকে ক্যাফেটেরিয়া খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আমরা সবকিছু গোছানো শুরু করেছি। কোনো কিছু পরিবর্তন বা প্রয়োজন হলে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

গত বছরের মার্চে করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জবির একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াটিও বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আবারও চিরচেনা রূপে ফিরতে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়াটি।

দীর্ঘদিন পর নতুন আঙ্গিকে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবার আশ্বাস দিয়েই ক্যান্টিন খুলে দেয়ার ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের। শিক্ষার্থীদের সুস্বাদু ও ভালো মানের খাবার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

খুলছে ১২ টাকায় ডাল-পরোটার জবি ক্যাফেটেরিয়া
ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মূল্য তালিকা

খাবারের মূল্য তালিকা:

সকালের নাস্তা: প্রতি পিস পরোটা ৪ টাকা, ডাল ৮ টাকা, সবজি ৮ টাকা, হালুয়া ৮ টাকা এবং সিংগাড়া ৩ টাকা পিস।

দুপুরের খাবারে পাওয়া যাচ্ছে: ভাত+মাছ+ডাল প্যাকেজ ৪০ টাকা; ভাত+মুরগী+ডাল প্যাকেজ ৪০ টাকা; ভাত+ডিম+ভর্তা+ডালের প্যাকেজ ৩৫ টাকা; ডিম খিচুড়ি ৩৫ টাকা; আলু ভর্তা ৫ টাকা; বেগুন ভর্তা, কলা ভর্তা, কচু ভর্তা ৮ টাকা। এছাড়া টমেটো ভর্তা, সবজি/শাক পাওয়া যাবে ১০ টাকায়।

বিকেলের নাস্তা

পরোটা ৪ টাকা; ডাল ৮ টাকা; পুরি, আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু ৩ টাকা পিস; ছোলা বুট ১০ টাকা; নুডলস ১০ টাকা; কফি ১২ টাকা; আদা চা, লেবু চা, গুড়ের চা, পুদিনা পাতার চা, কালিজিরা চা ৪ টাকা; এবং দুধ চা ৭ টাকায়।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে প্রাথমিকেই ঝরে পড়ল ৪২ হাজার শিক্ষার্থী

নোয়াখালীতে প্রাথমিকেই ঝরে পড়ল ৪২ হাজার শিক্ষার্থী

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নোয়াখালীতে শুধু প্রাথমিকেই ৪২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ খুলে দিলে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি হবে বলে আশা করছি। বাকি ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়া বলা যাবে না। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত না হোক, অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয়ে আসে। আমাদের চলতি বছরের জরিপে ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুখরিত হতে শুরু করেছে স্কুলগুলো। তবে জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন মিলিয়ে অন্তত ৪২ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্য দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস।

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় ১ হাজার ২৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৯০৪ শিক্ষার্থী রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ৬২ থেকে ৭৩ শতাংশের ওপর ওঠেনি।

জেলা শিক্ষা অফিস ২০২০ সালের ১৬ মার্চের আগেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার পর্যালোচনা করেছে। তখন বিদ্যালয়গুলোতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ থেকে কমে গড়ে ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। সে ক্ষেত্রে অনুপস্থিত আছে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, ২০২১ সালের জরিপে জেলায় ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ হাজার ৪৫ জন।

২০১৮ সালেও এপিএসসির জরিপে দেখা গেছে, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

নোয়াখালীতেও সে হার ছিল বেশি, যা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় কমে ৫ শতাংশে নিয়ে আসতে পেরেছেন।

সরকারি হিসাবে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ হলেও ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিতিতে প্রকৃত ঝরে পড়ার হার আরও বেশি হবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

জেলা সদরের চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির হার গড়ে ৬৯ শতাংশ। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার পঞ্চম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪১ জন। এতে উপস্থিতির হার ৬৩ শতাংশ।

চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা ইমাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হচ্ছে। তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে আমরা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছি।’

এ সময়ে অবশ্য কিন্ডারগার্টেন থেকে ৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সদর উপজেলার পূর্ব চর উরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ। ২৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ দিনে গড়ে উপস্থিত ছিল ২০৭ জন। ওই বিদ্যালয়েও বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন থেকে ৬ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নাজিহা বিনতে আনোয়ার বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিদ্যালয় মনিটর করছি। যে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে, তাদের সঙ্গে শিক্ষকরা যোগাযোগ করছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনার চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে তাদের চকলেট, বেলুন, ফুল ও বিভিন্ন খেলনাসামগ্রী উপহার দিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎফুল্ল রাখা হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া উপজেলায় ২২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৮০৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৪ হাজার ৮৪১ জন। ওই উপজেলায় উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ।

হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল হান্নান পাটোয়ারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনতে হোম ভিজিট ও মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছি। আশা করছি, আগের মতো শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখরিত হবে বিদ্যালয়।’

চাটখিল উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ টি এম এহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলার ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ৫ দিনে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল গড়ে ৬০ শতাংশ। শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে আসছি।’

সরকারি জরিপে জেলায় ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার রেকর্ড করলে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত গড়ে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যার সংখ্যা ৩৩ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী উত্তর এবং দক্ষিণ শাখা জানায়, জেলায় ৫৪৩টি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিটিতে গড়ে ১২০ জন করে ৬৫ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে করোনার প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন। করোনায় আর্থিক সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছে।

কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও জেলায় চলমান ৪৮৯ কিন্ডারগার্টেন থেকে প্রায় ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে, যার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৪১ জন।

এ ছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫৪টি কিন্ডারগার্টেনে গড়ে ৬ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেও এখনো ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ঝরে পড়ার তালিকায় রয়েছে। যার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪৪ জন।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী দক্ষিণ শাখার সভাপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারা, বাড়িভাড়া মেটাতে না পারা, অর্থ সংকটে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেয়াসহ বেশ কিছু কারণে সদর উপজেলায় ১১৯টি কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১১টি বন্ধের খবর পেয়েছি।’

অনেকেই শিশুশ্রমে যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক জানান, বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১১৭টি কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১২টি বন্ধ হয়ে গেছে। সোনাইমুড়ির ৫টি, কোম্পানীগঞ্জের একটি এবং সেনবাগে ১০টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে যায়।

উত্তর শাখার সহসভাপতি খায়রুল বাশার কবিরহাট উপজেলায় ৬টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধের তথ্য জানান।

চাটখিল উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মো. সোহেল জানান, উপজেলার ৬৮ কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে ১০টি বন্ধ হয়েছে করোনায়।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন নোয়াখালী দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘জেলায় ৫৪টি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলো খোলা থাকলেও উপস্থিতির হার ৫০ শতাংশের নিচে। অনুপস্থিতির ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। ৩৮ শতাংশের মধ্যে কিছু অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে।’

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সদরে ১৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২-১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। বাকিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলে ফেরাতে কাজ করছেন শিক্ষকরা।’

শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ঝরে পড়ার জরিপ করব ডিসেম্বরের শেষে। এখনও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া হিসাবে ধরতে পারছি না।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে পাঁচ দিনে শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। করোনার আগে ২০২০ সালের ১৬ মার্চ বিদ্যালয়ে ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যার এখন অন্তত ১৫ শতাংশ কম।’

তার প্রত্যাশা, এই উপস্থিতি কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়বে।

শিক্ষার্থী উপস্থিতির হারের হিসাবকে ঝরে পড়া বলা যায় কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ খুলে দিলে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি হবে বলে আশা করছি। বাকি ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়া বলা যাবে না। তাদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত না হোক, অনিয়মিত হলেও বিদ্যালয়ে আসে। আমাদের চলতি বছরের জরিপে ঝরে পড়ার হার ৫ শতাংশ রেকর্ড হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন

রাবির ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে মেস

রাবির ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে মেস

রাজশাহী মহানগরীর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেয়া হবে না। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হলে তারও সমাধান করা হবে। আশা করি সব ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থী নিরাপদে মেসে থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ সেশনে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে মেসে থাকতে পারবে।

রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যায়ের প্রক্টর লিয়াকত আলী।

তিনি বলেন, ‘মহানগর মেস মালিক সমিতির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের বিনা মূল্যে মেসে রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মেস মালিকরা।’

প্রক্টর লিয়াকত জানান, যদি কোনো মেস মালিক টাকা চান বা টাকার জন্য চাপ দেন, তাহলে ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানাবেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হলে মেসের নাম ও মালিকের নম্বর আমাকে (প্রক্টর) পাঠালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

রাজশাহী মহানগরীর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেয়া হবে না। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হলে তারও সমাধান করা হবে। আশা করি, সব ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থী নিরাপদে মেসে থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল। এ কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালীন তাদের রাজশাহীতে অবস্থান করা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহী মেস মালিক সমিতিগুলো ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীদের তাদের মেসে বিনা মূল্যে রাখার ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন:
ভুল তুলে ধরে উপকার করুন: মিডিয়াকে মন্ত্রী রেজাউল
প্রেস, জার্নালিস্ট ও মিডিয়া শব্দগুলো এলো কোথা থেকে

শেয়ার করুন