স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘চর এলাকার শিশুদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। স্কুলভবন নেই, শৌচাগার নেই। তারপরও সরকারনির্ধারিত দিনে ক্লাস নিয়েছি।’

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার একটি স্কুলের মেঝে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকায় সড়কে বসে ক্লাস করেছে শিক্ষার্থীরা।

পাটি ও প্লাস্টিকের বস্তায় বসে চলে পাঠদান।

ঘটনাটি ঘটেছে কেদারপুর ইউনিয়নের ১৩০ নম্বর দক্ষিণ ভূতেরদিয়া নব আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘চর এলাকার শিশুদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। স্কুলভবন নেই, শৌচাগার নেই। তারপরও সরকারনির্ধারিত দিনে ক্লাস নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু নদীবিধৌত এলাকা, তাই বেশির ভাগ অঞ্চল পানিতে নিমজ্জিত। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি আমাদের স্কুলের মেঝে পানিতে তলিয়ে থাকায় পাটি বিছিয়ে সড়কে ক্লাস নিয়েছি।’

স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সাইমন বলে, ‘সকালে স্কুলে এসে দেখি পানিতে ডুবে গেছে সব। পরে স্যাররা গাছের নিচে রাস্তায় বসাইয়া ক্লাস করাইছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর কবির বলেন, ‘স্কুল চালুর দিনে কর্তৃপক্ষ উঁচু একটি স্থানে ক্লাস করিয়েছ। স্কুলটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তা ছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে পরিবেশ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখতে।’

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। সঙ্গে রাখেন আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম এবং মধু রাখার বালতি। সংগ্রহ করেন মধু। আর এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এক মৌচাক ভাঙলে পাওয়া যায় ১৫-২০ কেজি মধু। শতভাগ খাঁটি ও বিশুদ্ধ মধু ক্রেতাকে পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দেন মামুন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের রতন বরিষ গ্রামে।

২০১৯ থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন মধু সংগ্রহের কাজ। তবে গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়ি চলে আসেন তিনি। পরে নিজের এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই আবার শুরু করেন মধু সংগ্রহ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

তবে মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাকের মধু সংগ্রহ করা গেলে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। অনলাইনে মধু বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

মামুন জানান, মূলত মৌমাছিরা নিজেদের খাদ্য হিসেবেই মধু ফুল থেকে আহরণ করে। ফুলের মধ্যে নেক্টার নামের এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে। প্রথমে ফুল থেকে এই নেক্টার কর্মী মৌমাছিরা পান করে তাদের দেহের মধু থলিতে সংরক্ষণ করে মৌচাকে নিয়ে যায়। পরে মৌচাকে থাকা মৌমাছির মুখে দিয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা। এরপর মৌচাকের মৌমাছিগুলো ফুলের রসের সঙ্গে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বেশ কয়েক ধরনের এনজাইম যোগ করে মৌচাকে সেগুলো জমা করে।

মধু শক্তি প্রদানকারী খাদ্যগুলোর মধ্যে একটি। দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। প্রাকৃতিক মধুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

মামুন বলেন, ‘মধু সংগ্রহের কাজে সহযোগী হিসেবে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন। আমরা সারা বছর গ্রামগঞ্জে সাইকেল চালিয়ে প্রাকৃতিক চাকের মধুর সন্ধান করি। কোথাও মধুর সন্ধান পেলে ছুটে যাই সেখানে। মধু সংগ্রহ করার সরঞ্জাম সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। এরপর চোখ খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে আমাদের একজন মৌচাক কাটি। সঙ্গে রাখা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা মধু সংগ্রহ করি।’

এই উদ্যোক্তা জানান, শীতকালে প্রকৃতিতে ফুল বেশি ফোটে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এই সময়েই মৌচাকগুলোতে মধুও বেশি পাওয়া যায়।

মধু চেনার সঠিক উপায়ও জানালেন মামুন। বলেন, ‘মানুষ মধু কিনতে গিয়ে ব্যাপক সংশয়ে পড়েন। মধু চেনার বেশ কিছু প্রচলিত উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। চুন দিয়ে পরীক্ষা, ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা, পিঁপড়া দিয়ে পরীক্ষা-এগুলো আসলে সঠিক উপায় না।

‘আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য মধুতে আগুনে জ্বেলে ও পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখান। এগুলো মধু চেনার সঠিক উপায় নয়। একমাত্র ল্যাবটেস্টই আসল মধু চেনা যায়। তবে আসল মধুর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে যেটি অনুধাবন করা যায়।’

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

বাসার খোঁজে মরিয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসজুড়ে বাসা ভাড়ার অসংখ্য লিফলেট দেখা গেলেও বাসা খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

৭ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ঘোষণার পরপরই শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু একটি যুতসই বাসা খুঁজে পাওয়া এখন তাদের নতুন চ্যালেঞ্জ।

ছেলেদের কোনো হল না থাকায় এবং মেয়েদের একমাত্র হলটি চালু না হওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন বিপদে। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় এসে ক্যাম্পাসের আশপাশে হন্যে হয়ে বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ঢাকার মেস ছেড়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণত প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির পর পুরান ঢাকায় বাসা ভাড়ার একটা চাপ পড়ে। তবে এবার সব বর্ষের শিক্ষার্থী হন্যে হয়ে বাসা খোঁজায় সেই চাপ কয়েক গুন বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেশি টাকা ভাড়া দাবি করছেন বাড়িওয়ালারাও। এ ছাড়া মানসম্মত বাসা, পড়ার পরিবেশ আছে এমন বাসা খুঁজে পেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাসা খুঁজে বেড়ানো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘করোনার সময় বাসা ছেড়েছিলাম। ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস খুললে এসে বাসা নেব। কিন্তু এখন এসে কোনো বাসায়ই সিট পাচ্ছি না। সব পূরণ হয়ে গেছে। বাসা খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত। সামনে আবার পরীক্ষা!’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে ঢাকায় আসায় বাড়িওয়ালারা আগের তুলনায় বেশি ভাড়া চাইছে। জামানতও বেশি দাবি করছে৷ করোনায় আমাদের আর্থিক অবস্থাও খারাপ। তাই কোনো কিছুই হিসাবে মিলছেনা।’

গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী ফারজানা বলেন, ‘মেয়েদের বাসা খুঁজে পাওয়া অনেকটাই মুশকিল হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়েও হলটি খুলে দিচ্ছে না। হল খুলে দিলে আমাদের আবাসন সঙ্কট অনেকটাই কেটে যেত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তিথি। পরীক্ষার রুটিন পেয়ে গাইবান্ধা থেকে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন। টানা পাঁচ দিন পুরান ঢাকার অলি গলি ঘুরেও কোনো বাসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফার্মগেটের একটি মেসে সিট নিয়েছেন।

তামজিদ ইমরান অর্নব নামে এক জবি শিক্ষার্থী মনে করেন, ছাত্রী হল চালু হলে ৮০-১০০টি বাসা ফাঁকা হয়ে যাবে। তখন বাসার চাহিদা কমে গেলে বাজেট অনুযায়ী ভাল একটা বাসা পেতে সুবিধা হবে ছেলেদের।

বাসা খুঁজে হয়রান শিক্ষার্থীরা বাসা খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনলাইনেও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপে অনেকেই সমাধান খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, ক্যাম্পাস খুলবে এই আশায় বাসা ছাড়েনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মিমি। তাই করোনার সময় বাড়িতে থেকেও প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া মাসে মাসে ভাড়া পরিশোধ করেও ফিরে এসে নিজেদের জিনিসপত্র খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কিছু শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি প্রক্টর স্যারের সাথে আগামীকাল বসবো। আমরা আলোচনা করে দেখি বাড়িওয়ালাদের সাথে কথা বলে বাড়তি ভাড়া আর এডভান্সের ব্যাপারটার সমাধান করা যায় কিনা। এর আগেও প্রক্টর স্যার এমন সমস্যার সমাধান করেছিলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা বাড়িওয়ালাদের অনুরোধ করবো যেন ভাড়াটা পূর্বে যেরকম ছিলো সেইরকমই রাখে। আর অ্যাডভান্স শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যেন বেশি না নেয়।’

এ ছাড়াও বাসাভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানাতে বলেন তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের যেনো মেস বাসা খুঁজতে সমস্যা না হয়, সেজন্য পরীক্ষার আগে চার সপ্তাহ সময় দেয়া হবে। সে অনুযায়ীই গত ৭ সেপ্টেম্বর আগামী ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

শিক্ষা দিবস: শহীদদের দাবি আজও অধরা

শিক্ষা দিবস: শহীদদের দাবি আজও অধরা

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রগতিশীল ৮টি ছাত্র সংগঠন আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রনেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোপ টেস্টের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কতজন দালাল আছে সে পরীক্ষাও চালানো হোক। ইতোমধ্যে সরকার খবর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আন্দোলন-সংগ্রামে হতে পারে। আমরা বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও আন্দোলন চলবে, বন্ধ থাকলেও চলবে। যতদিন গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে না, তত দিন আন্দোলন চলবে।’

১৯৬২ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে যেসব ছাত্ররা শহীদ হয়েছিলেন তাদের দাবি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

শুক্রবার শিক্ষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। প্রগতিশীল ৮টি ছাত্র সংগঠন এ ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করেন।

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা রক্ত দিলেও আজও আমরা সেই অধিকার পাইনি। মহান শিক্ষা দিবসের শহীদরা চেয়েছিলেন এমন শিক্ষা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠবে। কিন্তু আমাদের বর্তমান শিক্ষানীতি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ১৯৬২ সালের এই দিনে অনেক শিক্ষার্থী মারা যান। এরপর থেকেই এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

এই শরীফ কমিশনের প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষা ধনিক শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাব রাখা হয়। এমনকি কমিশন বাংলা বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব করে। শিক্ষার্থীরা এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন।

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোপ টেস্টের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে কতজন দালাল আছে সে পরীক্ষাও চালানো হোক। ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দালালের কারখানা তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকারের পা চেটে দায়িত্ব পেয়েছেন।’

এই ছাত্রনেতা আরও বলেন, ইতোমধ্যে সরকার খবর পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আন্দোলন-সংগ্রামে হতে পারে। আমরা বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও আন্দোলন চলবে, বন্ধ থাকলেও চলবে। যতদিন গণতান্ত্রিক ও সার্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পাবে না, তত দিন আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে এমন কথা ছিল। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী। অথচ এই সরকার করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো দায়িত্বই নেয়নি, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো গবেষণা বা বরাদ্দ রাখেনি।’

মাসুদ রানা বলেন, জনগণের অজ্ঞতাই শাসকের শক্তি, এটা তারা জানে। তারা জানে জনগণ শিক্ষিত হলে প্রশ্ন করবে। আর তাই প্রশ্নহীন-আনুগত্যশীল একটি জাতি নতুন এই শিক্ষানীতির মাধ্যমে এই সরকার তৈরি করতে চায়।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মঈন উদ্দিন বলেন, শিক্ষা আন্দোলনের শহীদরা যে দাবিতে আন্দোলন করে গেছে সে দাবি আমরা আজও প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমরা দাবি করতে চাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হোক এবং সেই লক্ষে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

ছাত্র ইউনিয়নের বিদ্রোহী অংশের সহ-সভাপতি অনিক রায় বলেন, ‘শিক্ষা আন্দোলনের এতো বছর পরেও শিক্ষাকে বাণিজ্যকরণ অব্যহত রয়েছে। আর তাই সেই শিক্ষা আন্দোলনের মিছিল চলমান। যতদিন সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত না হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণাগারে পরিণত না হচ্ছে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে থেকে সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পাঁচ দফা দাবিও উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো করোনাকালে সকল বেতন ফি মওকুফ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, এই বছর থেকেই পিএসি-জেএসসি বাতিল, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ারোধে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা এবং শিক্ষার বাণিজ্যকরণ-বেসরকারিকরণ বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ছাত্র কাউন্সিলের সহসভাপতি সায়েদুল হক নিশানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সুবাশিষ চাকমা, বিল্পবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

কলেজশিক্ষার্থীরা টিকা পাচ্ছে শিগগিরই

বরিশাল সরকারি কলেজে শুক্রবার রাতে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। ছবি: নিউজবাংলা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

শিগগিরই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনার টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

বরিশাল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি এবং অ্যাসাইনমেন্টবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তবে আবারও যদি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তবে অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়ন করা হবে। আমরা কলেজশিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চল এ সভার আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন।

সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেনসহ বরিশালের সব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

হলগুলো অছাত্রদের জন্য নয়: কাদের

হলগুলো অছাত্রদের জন্য নয়: কাদের

ওবায়দুল কাদের

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এক সেমিনারে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায়-আসে না।’

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অছাত্রদের থাকা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার মতে, অছাত্রদের পুনর্বাসনের জন্যই হলগুলোতে পলিটিক্যাল রুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

শুক্রবার শিক্ষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক উপকমিটির সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ মাসের শেষেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। হলগুলোতে জীবনযাত্রা কেমন তা দেখতে হবে। অছাত্রদের পুনর্বাসনের জন্য হল-হোস্টেলগুলোতে এই যে পলিটিক্যাল রুম থাকার একটা নিয়ম, তা বন্ধ করতে হবে। তাদের লিখিতভাবে হলে থাকা বন্ধ করতে হবে। এ নিয়ে কে খুশি হলো, কে অখুশি হলো তাতে কিছু যায়-আসে না।

‘অছাত্রদের অনেকে ভর্তির ব্যাপারে সমস্যা করেন, অনেকে বাণিজ্য করেন। শিক্ষাকে গুণগত গভীরতায় আনতে এসব চিরতরে বন্ধ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘শিক্ষা: ২০৪১ সালে লক্ষমাত্রা অর্জনের বাস্তবিক কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘পরীক্ষার্থী নয়, চাই শিক্ষার্থী। জীবিকা নয়, জীবনের জন্যই শিক্ষা প্রয়োজন এ বাস্তবতা সবার আগে উপলব্ধি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অতটা ভাবেন না, যতটা তিনি ভাবেন আগামী প্রজন্ম নিয়ে। আর এটাই হওয়া উচিত। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় আছে বলেই তিনি আজ রাষ্ট্রনায়ক।’

শিক্ষা দিবস নিয়ে ছাত্র সংগঠনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকের দিবসটা ছাত্র সমাজের জন্য অপরিহার্য। ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে আজ কয়জনে জানে?’

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘আমরা কারিগরি শিক্ষার ওপর খুব জোর দিচ্ছি। আমরা বলেছি বিভাগ থাকবে না। মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসা এইগুলো থাকবে না। কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষার্থী অন্তত পক্ষে একটি ট্রেইডে যোগ্যতা অর্জন করবে। দশম শ্রেণির পর যদি তার পড়াশোনা করার সুযোগ না হয়, তারপরও তার কর্মসংস্থানে কোনো অসুবিধা হবে না।’

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর মুনাজ আহমেদ নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এস এম মাকসুদ কামাল, সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। উপস্থাপনা করেন শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক উপকমিটির সদস্যসচিব শামসুন্নাহার চাঁপা।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী

বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমার সঙ্গে টাকাপয়সার সম্পর্ক থাকার কথা না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরে খুলেছে, অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ফি দেয়নি। সেই ফি যদি কোথাও অনেক বেশি হয়ে যায়, তা পরিশোধে ইনস্টলমেন্ট বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে কোনো ফি লাগবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর ফি যদি বকেয়া পড়ে এবং সেটির পরিমাণ যদি বেশি হয়, তাবে তা ধাপে ধাপে নেয়া যেতে পারে।

চাঁদপুর সার্কিট হাউসে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমার সঙ্গে টাকাপয়সার সম্পর্ক থাকার কথা না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পরে খুলেছে, অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ফি দেয়নি। সেই ফি যদি কোথাও অনেক বেশি হয়ে যায়, তা পরিশোধে ইনস্টলমেন্ট বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দীপু মনি বলেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারা তো অবশ্যই ফি পরিশোধ করে দেবেন। ফির সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্ট মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য কোনো ফি নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু কিংবা কোভিড পরিস্থিতির জন্য, একটা সুন্দর জীবনের জন্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে সব জায়গায় পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।

সার্কিট হাউসে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুল, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

নতুন রুটিনে অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস বাড়ল

নতুন রুটিনে অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস বাড়ল

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক স্তরের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম নতুন সূচি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে বলে মাউশির নতুন আদেশে বলা হয়েছে।

অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস এক দিনের পরিবর্তে এখন সপ্তাহে দুই দিন হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

ওয়েবসাইটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের স্বাক্ষরিত একটি আদেশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এ তথ্য জানা যায়।

আদেশে বলা হয়েছে, ‘শনিবার ও বুধবার নবম শ্রেণির এবং রোববার ও বুধবার অষ্টম শ্রেণির ক্লাস নেয়া হবে। এ ছাড়া সোমবার সপ্তম শ্রেণি এবং মঙ্গলবার ষষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস নেয়া হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, চলতি বছর ও আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন নিতে হবে।

‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আর ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির (নিম্ন মাধ্যমিক) কার্যক্রম মাধ্যমিকের (ষষ্ঠ থেকে নবম) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করতে হবে।’

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক স্তরের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম নতুন সূচি অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে বলে মাউশির নতুন আদেশে বলা হয়েছে।

এর আগে, ৭ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক রুটিন প্রণয়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর রোববার থেকে খুলে দেয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সোমবার খুলেছে মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল ও নার্সিংসংক্রান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন