প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি

প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি

স্কুল খোলার প্রথম দিনই রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাসে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। ছবি: সাইফুল ইসলাম

দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে ভালোবাসা নিয়ে। স্কুলগুলো সাজানো হয়েছে নানা উপকরণে, নাচে-গানে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শিশু কিশোররাও দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রামে একটি স্কুলে একটি মেয়ে তার ‘ঝালমুড়ি মামার’ খোঁজ করে সংবাদ শিরোনামে এসেছে। 

করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকা শিক্ষাঙ্গন প্রাণ ফিরে পাওয়ার দিন ছাত্রছাত্রীরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে স্কুলে গেছে। প্রথম দিনেই উপস্থিতির হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শাখাটির পরিচালক আমির হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশের মোট ১৪ হাজার ৪৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছি। এতে দেখা যায় ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিল।’

সরকারি ও বেসরকারি শীর্ষ মানের স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল। তবে যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হননি তিনদিন পর তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এই সময়ে ক্লাস হয়েছে অনলাইনে। গত মে মাসে স্কুল খুলে দেয়ার পরিকল্পনা করা হলেও সে সময় আরও প্রাণঘাতি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।

তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসতে থাকায় সারাদেশেই একযোগে খুলে দেয়া হয়েছে সব স্কুল ও কলেজ।

দীর্ঘদিন পর স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে ভালোবাসা নিয়ে। স্কুলগুলো সাজানো হয়েছে নানা উপকরণে, নাচে-গানে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি
চিরচেনা শপথ পাঠ আর জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় স্কুলের কার্যক্রম। কোনো কোনো স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি
মেনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি করতে দেখা গেছে রোববার।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে, দেড় বছরে শিশু-কিশোরদের মনে যে প্রভাব পড়েছে, তার কারণে তাদের সঙ্গে আচরণ করতে হবে সংবেদনশীলতার সঙ্গে। কোনোভাবে মানসিক চাপ দেয়া যাবে না।

প্রথম দিন রাজধানী এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই চেষ্টাটি দেখা গেছে। শিশু কিশোররাও দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রামে একটি স্কুলে একটি মেয়ে তার ‘ঝালমুড়ি মামার’ খোঁজ করে সংবাদ শিরোনামে এসেছে।

ক্রমেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে আশা করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের পরিচালক বলেন, ‘অনেকেই গ্রামের বাড়িতে আছেন, অসুস্থ ও ব্যক্তিগত সমস্যাসহ নানা কারণে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে।’

প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি
কুমিল্লায় একটি স্কুলে শিশুদের হাতে মাস্ক তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ

গত ৯ সেপ্টেম্বর দেশের সরকারি-বেসরকারি ১৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য গুগল ডকসের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। প্রতিদিন বিকেল ৪ টার মধ্যে তথ্য জমা দিতে বলা হয়।

গত ৫ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তখন বলেছিলেন, ‘২০২১ সাল ও আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে। অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে এক দিন করে চলবে। একইভাবে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণি প্রতিদিন এবং অন্যান্য ক্লাস সপ্তাহে এক দিন চলবে।’

প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি
কুমিল্লারই আরও একটি স্কুলে শিশুদেরকে বরণ করা হয় চকলেট দিয়ে

মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংবিষয়ক সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস চালু হবে আগামীকাল থেকে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ততই বাড়বে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

সাত কলেজে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় পরীক্ষার জন্য আন্দোলন করেছে। ফাইল ছবি

সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিমউল্লাহ খন্দকার বলেন, ‘নতুন সময় অনুযায়ী কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ অক্টোবরের পরিবর্ততে ১৩ নভেম্বর এ ভর্তি পরীক্ষা হবে। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের স্নাতক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

সোমবার সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিমউল্লাহ খন্দকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নতুন সময় অনুযায়ী কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ অক্টোবরের পরিবর্ততে ১৩ নভেম্বর এ ভর্তি পরীক্ষা হবে। এরপর ৫ নভেম্বর বাণিজ্য ইউনিট ও ৬ নভেম্বর বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

যেভাবে মূল্যায়ন হবে

মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্জিত মেধা স্কোরের ক্রমানুসারে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। এ জন্য মাধ্যমিক, ও লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ; উচ্চ মাধ্যমিক ও এ লেভেল বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে ২ দিয়ে গুণ করে এই দুইয়ের যোগফল ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে যোগ দিয়ে ১২০ নম্বরের মধ্যে মেধা স্কোর নির্ণয় করা হবে। সে অনুযায়ী তৈরি করা হবে মেধাতালিকা।

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ

ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা।

চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষা হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। আর আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে দেয়া হবে নম্বর।

চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে।

পরীক্ষা উপলক্ষে সোমবার শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

২। পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের কক্ষে আসনে বসতে হবে।

৩। প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

৪। পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ এবং সিকিউ অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

(ক) সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি ওএমআর শিট বিতরণ, সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনি উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

(খ) দুপুর ২টা থেকে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষার ক্ষেত্রে

দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনি ওএমআর শিট বিতরণ। দুপুর ২টায় বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র বিতরণ। আর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনি (ওএমআর শিট) উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

৫। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে সংগ্রহ করবে।

৬। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী সরবরাহকৃত উত্তরপত্রে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে দেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

৭। ব্যবহারিক সম্বলিত বিষয়ে তাত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক খাতা (নোটবুক) এর অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক খাতা (নোটবুক) এর নম্বর প্রদান করে নম্বরসমূহ ০৩/০১/২০২২ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক খাতা (নোটবুক) এর নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।

৮। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশ পরে উল্লিখিত বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ করতে পারবে না।

৯। কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিজ কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে না, পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।

১০। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।

১১। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিচার ফোন (স্মার্টফোন ব্যতীত) ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া পরীক্ষার হলে অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

চানখারপুলে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ

চানখারপুলে ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন মাসুদ মাহাদী অপু। মাঝ দিয়ে কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেন তিনি।

রাজধানীর চানখারপুল থেকে গলায় গামছা ঝুলানো অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে চকবাজার থানা পুলিশ।

সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে মাসুদ মাহাদী অপু নামে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। হল ছিল মাস্টার দা সূর্যসেন।

অনার্স ও মাস্টার্সে ভালো রেজাল্ট করা অপু কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেন। চাকরি ছেড়ে গত দেড় বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিসিএসের।

অপুর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়।

তার রুমমেট জহিরুর ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এক রুমে তিনজন থাকি। আমি এবং অন্যজন দারাজে কাজ করি। প্রতিদিনের মতো আমি আজও সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হয়ে যাই। ১০টার সময় অপর জনও বাসা থেকে বের হয়ে যান।

‘আমি যখন বাসা থেকে বের হই তখনও অপু ঘুমাচ্ছিল। দুপুর অফিস শেষে বাসায় আসার পর দেখি দরজা বন্ধ। অনেকবার ফোন দিয়েছি। ফোন রিসিভ হয় না। দরজার উপরে একটি ছোট জানালা আছে, সেটি দিয়ে দেখি গামাছায় ঝোলানো। এরপর ৯৯৯ নাইনে ফোন দেই। আশেপাশের লোকজনকে ডেকে দরজা ভাঙি।’

দুপুর ১২টায় অপুর বন্ধু সাইদ পাশের রুম থেকে তার রুমে যান। তখনই তার সঙ্গে শেষ কথা হয় অপুর।

নিউজবাংলাকে সাইদ বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টায় আমি স্কচটেপ আনতে অপুর রুমে যাই। তখন দরজা খোলা ছিল। দেখি ও শুয়ে শুয়ে মোবাইল টিপছে। তাকে বললাম এতক্ষণ শুয়ে আছিস কেন। সে বলল, কাল রাতে ভালো ঘুম হয়নি। এরপর আমি তার রুম থেকে স্কচটেপ এনে আমার রুমে এসে কাজ শেষ করে আবার তার রুমে গিয়ে দিয়ে আসি। এরপর আমি আমার রুমে চলে আসি।’

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

ভর্তি জালিয়াতি: ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ঢাবির আরও দুজন

ভর্তি জালিয়াতি: ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ঢাবির আরও দুজন

এ ছাড়া, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের ৭২জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ পন্থায় ভর্তি হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের এক সভায় এ সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ‘উদ্যানের রাজা’ ঢাবি শিক্ষার্থী আখতারুল করীম রুবেলকে সাময়িক বহিষ্কারেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের ৭২জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

অবৈধ পন্থায় ভর্তি হওয়ার দায়ে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মো. রাকিব হাসান ও ভূতত্ত্ব বিভাগ শিক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফি। তারা দুইজনই ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছিলেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভা থেকে এই দুই শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল।

জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এর আগে দুই দফায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারা সবাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা মামলার আসামি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ৮৭ জন শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন এবং পাবলিক পরীক্ষা আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

‘উদ্যানের রাজা’ আখতারুল করীম রুবেল নামে ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আকতারুল করিম রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের উপ দফতর সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক ব্যবসায়ীদের চারটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যানে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেও এই শিক্ষার্থী পরিচিত।

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের এক কর্মচারীর কাছে চাঁদা দাবি করে তাকে মারধরের ঘটনায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনও তিনি জেলে। এ ঘটনায় ২৮ জুলাই তাকে ছাত্রলীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ অতিথিরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

শেরাটন ঢাকা হোটেলে সোমবার প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) উদ্যোগে চলছে তিন দিনের বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের শেরাটন ঢাকা হোটেলে সোমবার প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কাটেন অতিথিরা। পরে তারা প্রদর্শনীর বিভিন্ন আলোকচিত্র ঘুরে দেখেন।

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন
‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কাটেন অতিথিরা

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, যে কাজ তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি, সেই কাজগুলোকে যিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেই মানুষটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে পরিক্রমা এবং পথনকশা তৈরি করা প্রয়োজন সেটি তিনি করেছেন। আমরা এখন আর হতদরিদ্র দেশ নই, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের অধীনে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৯ ডলার। পাকিস্তান ২৫ বছরে ১২৫ ডলারে সেটা উন্নীত করেছিল। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে দায়িত্ব নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মাথাপিছু আয় ৮৯ থেকে ২৭৭ ডলারে উন্নীত করেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা ২ হাজার ২৭৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ খাতের বদলে যাওয়ার গল্প তুলে ধরেন মন্ত্রী। দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেলের মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই সাফল্য দেখে প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের ঈর্ষা করে, আর পাকিস্তান আফসোস করে।’

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন
‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী তার যোগ্যতা, মেধা, প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি মমত্ব দিয়ে এটা অর্জন করেছেন। তিনি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য। তাই তার প্রতি বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপনে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে ধন্যবাদ জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করতে বঙ্গবন্ধুর কন্যার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার সব কিছু চমৎকারভাবে এই চিত্র প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।

‘যখন আমরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখছিলাম আমি অবাক হয়ে খেয়াল করছিলাম পুরোনো দিনের ছবিগুলো সংগ্রহ করা, তারপর সেটিকে উপস্থাপন করা এবং ধারাবাহিকভাবে শেখ হাসিনার শৈশব, কৈশোর, তার ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং আধুনিক বা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের বিষয়গুলো যেভাবে সাজানো হয়েছে তা অসাধারণ।’

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন
‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক

প্রধানমন্ত্রীর জীবন দর্শন তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশকে শুধু গণতন্ত্র উপহার দেননি, ডিজিটাল বাংলাদেশ উপহার দেননি, প্রজন্মকে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে যে মনস্তাত্ত্বিক নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটি শত শত বছর পরে ইতিহাস হয়ে থাকবে।

‘একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও দরিদ্র রাষ্ট্রকে তিনি মাত্র ১২ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির দ্বিতীয়টি পাওয়া যাবে না।’

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষ শেখ হাসিনার জীবন সম্পর্কে জানতে পারছে মন্তব্য করে পলক বলেন, ‘আমি আশ্বস্ত করছি ও আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সঙ্গে কথা হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি; আগামীকাল ফিজিক্যাল এক্সিবিশন শেষ হলেও আমরা ডিজিটাল এক্সিবিশন শুরু করব। যেটি চলবে বছরের পর বছর।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘আমরা এমন একজন প্রাজ্ঞ ও মহান নেতার জন্মদিন উদযাপনে এই আয়োজন করেছি, যিনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক আগেই একজন প্রভাবশালী বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। যার অনন্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে এক মর্যাদাশীল দেশের নাম।

‘সেই মহান নেতা, জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এই চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত, অত্যন্ত আনন্দিত।’

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন
‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

ড. নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছিলাম মহান স্বাধীনতা। শুধু স্বাধীন দেশ নয়, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি। ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘যে বাংলাদেশ একসময় পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল; অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময়। এটা কেবলই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী এবং জাদুকরী নেতৃত্বের কারণে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট বিশ্বকে আলোড়িত করেছে। কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব তাকে জায়গা করে দিয়েছে বিশ্বের সেরা ৩ নেতার কাতারে।’

চিত্র প্রদর্শনী সফল করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ড. নাফিজ সরাফাত।

সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য জীবন

এর আগে রোববার বেলা ১১টায় শেরাটন ঢাকা হোটেলে ফিতা ও কেক কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন ২০০৯ সালে। এরপর আরও দুবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন রূপকল্প ২০২১। সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরের গল্প শুধুই এগিয়ে যাওয়ার। একসময়ে যে বাংলাদেশ পরিচিত ছিল বন্যাকবলিত, দারিদ্র্যপীড়িত দেশ হিসেবে, সেই দেশই এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন-দর্শন তরুণদের সামনে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

প্রদর্শনীটি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ

এইচএসসি শুরু ২ ডিসেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ফাইল ছবি

আর চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এইচএসসির মতোই এসএসসি পরীক্ষাও হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ২ ডিসেম্বর, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া, চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনও হাতে পেয়েছে নিউজবাংলা।

নিউজবাংলাকে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সাধারণত প্রতিবছর এপ্রিল মাসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার এ পাবলিক পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এ ছাড়া, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এইচএসসির মতোই এসএসসি অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

০১. করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

০২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

০৩. পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। সকাল ১০.১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৪. দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী শিট বিতরণ। দুপুর ২টা বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৫. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ নভেম্বর

ফাইল ছবি

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া, চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার এ পাবলিক পরীক্ষা নভেম্বর মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

কবে কোন পরীক্ষা

১৪ নভেম্বর পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ও হিসাববিজ্ঞান এবং ১৬ নভেম্বর রসায়ন (তত্ত্বীয়), ১৮ নভেম্বর শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), ২১ নভেম্বর ভূগোল ও পরিবেশ ও ফিন্যান্স ও ব্যাকিং, ২২ নভেম্বর উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়) ও জীব বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) এবং ২৩ নভেম্বর পৌরনীতি ও নাগরিকতা, অর্থনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ পরীক্ষা হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

০১. করোনা মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

০২. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

০৩. পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার দিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র এবং ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। সকাল ১০টায় বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। সকাল ১০.১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৪. দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও বহুনির্বাচনী শিট বিতরণ। দুপুর ২টা বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বিতরণ। দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে বহুনির্বাচনী উত্তরপত্র সংগ্রহ ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ।

০৫. পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
‘বাবা আজ ঈদের দিনের মতো লাগছে’
স্কুলে অব্যবস্থাপনা দেখে শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষোভ
স্টোররুমকে শ্রেণিকক্ষ ভেবে অধ্যক্ষকে শোকজ
‘আবার স্কুলে যাব, কী যে আনন্দ লাগছে’
কালিয়াকৈরে ১৯ স্কুলে বন্যার পানি, ক্লাস অনিশ্চিত

শেয়ার করুন