রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ

রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাত। ছবি: সংগৃহীত

রোববার রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মান্তিতস্কির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

রোববার মন্ত্রণালয়ে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মান্তিতস্কির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সহযোগিতা চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মোমেন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী দেশ গঠনে রাশিয়ার অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

‘১৯৭২ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাশিয়া সফর করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের জন্য রাশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু।’

সৌজন্য সাক্ষাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনের ইচ্ছা ব্যক্ত করলে সম্মতি দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার আশাও ব্যক্ত করেন ড. মোমেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

ফরিদপুর পৌরসভা। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কী.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেক্টিভিটি থাকবে।’

দেশের সব পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের বিষয়ে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কী.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেক্টিভিটি থাকবে।’

‘এতে তারা কি করছে, মানুষকে সেবাটা দিচ্ছে কিনা সেটা আমরা বুঝতে পারবো। এতে মানুষ লাভবান হবে। তারা যখন লাভবান হবে তখন তারা ট্যাক্সও দিতে চাইবে। যদি কারো লাভ হয় তাহলে সে কেন দেবে না? অবশ্যই দেবে। এ জায়গায় আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।’

একই সঙ্গে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা যেখানে অডিটর নিয়োগ করছি। এটি নিয়োগ করা মানে কাউকে অসম্মান করা না। এতে কাজে স্বচ্ছতা আসবে।

‘এটা হলে তাহলে জবাবদিহিতা বাড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসটিজিয়াস হবে, আয়বর্ধক হবে, স্বনির্ভর হবে। স্বনির্ভরতা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে প্রেসটিজিয়াস বলতে পারে না।’

‘ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা গালি ডিজার্ভ করে’

কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের যে গালিগালাজ শুনতে হয় তার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিয়নের মেম্বার বলে সারাদিন আমরা গালি দেই। সম্ভবত অনেক কারণও আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদকে আমরা গালি দেই। আমি মনে করি তারা (গালি) পাওয়ার জন্য ডিজার্বও করে। কী কারণে করে?

‘তারা সঠিকভাবে সেবা দেয় না এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলো যে দুর্নীতিমুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা সেগুলো ঠিকভাবে পালন করে না। এটা মোটামুটি এসটাবলিস্ট।’

অবশ্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার অপ্রাপ্তির জন্য দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যর্থতা তাদের নয়, ব্যর্থতা আমার। আই হ্যাভ টু ডায়াগনোসিস ফেইলরটা কার। যে মানুষ জবাবদিহির আওতায় থাকবে না সে নষ্ট হবে। এ জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘আমরা জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করতে পারিনি, জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের। মেম্বারের পজিশন যে মর্যাদাপূর্ণ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে কাজ না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে যতবেশি, যত দ্রুত শক্তিশালী করা যাবে দেশ তত দ্রুত শক্তিশালী হবে। মানুষগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা থেকে সচিব, মন্ত্রী গিয়ে গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।

‘ওখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে খুব ইফেকটিভ করতে পারলে কেউ আর পেছনে থাকবে না।’

শেয়ার করুন

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বলেছেন, মন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না তিনি।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ সামনে এনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীদেরও এটা অনুসরণ করতে হবে। দুর্নীতি যেন না হয় সে জন্য প্রত্যেকের জায়গা থেকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। যারা দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অনিয়ম বন্ধে বিআরটিসি কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি কমে আসে। আমরা বিআরটিসির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সেবা অনলাইনে চালু করেছি।

‘শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাজেই বিআরটিসির মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি যেন বাসা বাঁধতে না পারে সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে।’

যেকোনো মূল্যে বিআরটিসিকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী।

লকডাউন শেষে পরিবহনে আবারও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের সুবিধায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিআরটিসি রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সেবা চালু করেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর ধানমন্ডি এলাকায় চক্রাকার বাস সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত মুখ ধুয়ে হলে প্রবেশ করতে পারে।’

প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে শেষের দিকে একাডেমিক ভবন ও হল পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব হলের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওঠার জন্য সব হল প্রস্তুত। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফুল লেয়ারের তিনটি করে মাস্ক দেয়া হবে, যা অনায়াসে তিন থেকে চার মাস ব্যবহার করতে পারবেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত-মুখ ধুয়ে হলের প্রবেশ করতে পারে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি হলে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেহেতু বাইরে থেকে হলে উঠবে, তাই প্রথম ১৪ দিন তাদের হল থেকেই অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সশরীরে ক্লাস করতে পারবে তারা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার বিষয়ে জাবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা হবে। সে সভায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি।

‘এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সারা দেশে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে, তারা হলেন: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করে এই ১১ নেতা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে এই আদেশ। সেদিনই রোববার মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘যেভাবে হিসাব চাওয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখা চাই। এর নিরসন চাই। উৎকণ্ঠা দূর করতে হবে।’

শেয়ার করুন

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজুকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: নিউজবাংলা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

চাঁদপুর শহরে পাওনা টাকার জেরে খুর দিয়ে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিলেট থেকে রোববার অভিযুক্ত রাজু চন্দ্র শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ।

সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

১৬ সেপ্টেম্বর শহরের বিপনীবাগ মার্কেটের পৌর পানির পাম্প স্টাফ রুমের পাশ থেকে নারায়ণ চন্দ্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

তিনি আরও বলেন, হত্যার পর দোকানের রক্ত পরিষ্কারের সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ইসমাইল বকাউল অভিযুক্তকে প্রশ্ন করলে রাজু জানায়, ‘ধর্মীয় উৎসবের কারণে দোকান পরিষ্কার করে পুরোনো কাপড়সহ ময়লা জিনিসপত্র বস্তায় করে নিয়ে যাচ্ছি।’

মুক্তা ধর আরও বলেন, ‘ঘটনার রাত থেকে রাজু পলাতক। প্রথমে ঢাকা ও হবিগঞ্জ এবং পরে সিলেট শহরে গিয়ে গা-ঢাকা দেন তিনি।’

কত টাকার লেনদেন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে খুব অল্প টাকার কথা বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাকে রিমান্ডে নিলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

শেয়ার করুন

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

ওয়াসার দূষিত পানি দিয়ে বানানো শরবত সংস্থাটির এমডিকে পান করাতে চেয়েছিলেন মিজানুর রহমান (ডানে) নামের এক অধিকারকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডিকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা হাইকোর্টকে জানাবে ওয়াসা।

আগামী ২ নভেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওয়াসা তাদের পরিকল্পনা জানাবে।

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডি তাকসিম এ খানকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি নিয়ে করা রিটের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে আজ শুনানির জন্য মামলাটি তালিকায় আসে। এরপর আদালতে বলেছি, ২ বছর ধরে তারা কী করেছে, দূষিত পানি রোধে ওয়াসা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কী- এসব বিষয় উপস্থাপনের পর ওয়াসা জানিয়েছে, তারা আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে বিষয়গুলো আদালতকে জানাবে।’

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে চার সদস্যের কমিটি গঠনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।

পানি পরীক্ষায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২০১৯ সালের ৭ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ৮টিতে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই সময় ওয়াসার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম বলেছিলেন, সমন্বিত প্রতিবেদন আসার পর জোন-১ ও জোন-৪-এর একটি এবং পাতলা খান লেনে পাওয়া একটি নমুনায় যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। সেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হলো ফেকেল ও ই-কোলাই।

প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মাসুম।

শেয়ার করুন

১৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাজে যোগ দিতে বাধা নেই

১৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাজে যোগ দিতে বাধা নেই

এই নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ না করে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছিলেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৪ প্রার্থী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ১ হাজার ৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের খারিজ আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে নিয়োগ পাওয়াদের কাজে যোগ দিতে কোনো বাধা নেই।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আবেদনটি সোমবার খারিজ করে দেয়।

এর আগে শনিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আবেদনের শুনানির জন্য আজকের তারিখ ঠিক করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদ।

রিট থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি ১ হাজার ৬৫০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের পরীক্ষা শেষে ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি ফল প্রকাশ করা হয়।

তবে এতে কোটা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ না করে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৪ প্রার্থী।

পরে ফল না পেয়ে চাকরিপ্রার্থী ৩৪ জন রিট আবেদন করে। এরপর একে একে ২০ রিট হয়। এ সংক্রান্ত ২০ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের পর আপিল বিভাগে আবেদন করেন রিটকারীরা। চেম্বার বিচারপতি সেই আবেদনের শুনানির জন্য আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে আবেদনটি ডিসমিস (খারিজ) করে দেয়।

শেয়ার করুন