৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

স্কুল খোলায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোলাহল আর আনন্দের উচ্ছ্বাস। স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করালেও বেশির ভাগেরই ছিল না স্কুল ইউনিফর্ম।

মহামারি করোনায় ৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা। স্কুল প্রাঙ্গণ আবারও মুখরিত চিরচেনা সেই রূপে। যেখানে শিক্ষার্থীরা আবার সশরীরে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে আর শিক্ষকরাও পাঠদান করছেন। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার চোখেমুখেই ছিল খুশির ঝিলিক।

রোববার সকাল থেকেই স্কুলের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের শরীরে তাপমাত্রা নির্ণয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান শেষে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

সাভার

স্কুল খোলার প্রথম দিনে দল বেঁধে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই এসেছে স্কুল ড্রেস ছাড়া।

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

ঢাকার সাভারে অনেক স্কুলে গিয়েই দেখা গেছে এমন চিত্র। স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করালেও বেশির ভাগের ছিল না স্কুল ইউনিফর্ম।

আশুলিয়ার গাজীরচট এএম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম হোসেন নিউজবাংলাকে জানাল স্কুলের পোশাক না পরে আসার কথা।

তামিম বলে, ‘অনেক দিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাই ইউনিফর্ম ছোট হয়ে গেছে। নতুন ইউনিফর্ম বানাইতে দিছি। বানানো হলে নতুন ইউনিফর্ম পরে আসব।’

বরিশাল

সরকারঘোষিত সব নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে বরিশালে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয়েছে পাঠদান।

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থী এরই মধ্যে ঝরে পড়েছে। সশরীরে বিদ্যালয়ে আসতে পারায় তাদের মাঝে কিছুটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ‌্যালয়ে গিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও। একটি বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীকে বসিয়ে পাঠদান করা হয়েছে।

বরিশালের একে ইনস্টিটিউটের সহকারী শিক্ষক জসীম উদ্দিন বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি প্রত‌্যকে শিক্ষার্থীর হাতও স‌্যানিটাইজ করা হয়েছে। তারপর সবাইকে ক্লাসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে।

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

মথুরানাথ পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ‘স্কুলের প্রধান ফটকে “নো মাস্ক নো স্কুল”-সংবলিত ব‌্যানার লাগানো হয়েছে। যে শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরেনি তাদের আমরা মাস্ক সরবরাহ করেছি। স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়েছে।’

ভোলা

সারা দেশের মতো ভোলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভোলার ১ হাজার ৬০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান।

রোববার সকাল থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল, কলম ও ক্লাসরুটিন দিয়ে বরণ করেন নেন।

কথা হয় ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলমার সঙ্গে। এলমা বলে, করোনাকালে অনলাইন ক্লাসে পড়ায় ততটা মনোযোগ বসত না। বোরিং লাগত। এখন স্কুল খুলে দেয়ায় অনেক ভালো লাগছে। সকালে স্কুলে আসার পরে আমরা অনেকটা সারপ্রাইজ হয়েছি। স্যার, ম্যাডামরা আমাদের ফুল ও কলম দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।’

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

ভোলা জেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাস জানান, জেলায় ২৬৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৪০টি মাদ্রাসা ও ৫০ কলেজে পাঠদান চলছে। এ ছাড়া মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার ভাঙনকবলিত এলাকায় কিছুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে থাকায় তাদের স্থানান্তর করে পাঠদান করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়সহ জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হয়েছে পাঠদান। দীর্ঘদিন পর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও। স্বাস্থবিধি মেনে একটি বেঞ্চে ২ জন শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ শফিয়ার রহমান জানান, প্রথম দিনে দশম, এসএসসি পরীক্ষার্থী, পঞ্চম শ্রেণি ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান শুরু হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান।

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্লাস করছে। প্রত্যেকে মাস্ক পরিধান করছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। তারা তা অনুসরণ করবে।’

ময়মনসিংহ

প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর ময়মনসিংহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগে কয়েক দিন ধরেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় ক্লাসরুমসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা।

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে পাঠদান দেয়া হবে বলে জানান শিক্ষকরা।

সিরাজগঞ্জ

দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পা রেখেই আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সশরীরে ক্লাসে ফিরে সবারই চোখেমুখে ছিল খুশির ঝিলিক।

স্কুল খোলার প্রথম দিনে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও আগামীকাল থেকে আগের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নাটোর

নাটোর বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদ হোসেন। রুটিন অনুযায়ী আজ তার ক্লাস না থাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখতে এসেছে।

সাদ বলে, ‘আজ বড় ভাইয়াদের ক্লাস হবে। তাদের ক্লাস করা দেখতে এসেছি। আমাদেরও ক্লাস হবে ভাবতেই ভালো লাগছে।’

৫৪৪ দিন পর বাজল স্কুলের ঘণ্টা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নাটোরের প্রতিটি স্কুলে হাত ধোয়া ও তাপমাত্রার যন্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রংপুর

দেড় বছর পর খুলেছে শিক্ষার্থীদের প্রাণের বিদ্যালয়। আগ্রহ উচ্ছ্বাস আর উৎসবের কমতি ছিল না রংপুরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। একই আমেজ ছিল শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝেও।

কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফুল ছিটিয়ে বরণ করা হয়েছে। কোথাও আবার কাটা হয়েছে কেক।

রংপুর মহানগরীর অন্তত ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে গেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিয়েছে প্রত্যেকে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বন্ধুদের কাছে গিয়ে হইহুল্লোড় করতে পারছে না। এক বেঞ্চে কাছাকাছি বসতেও পারছে না। শুধু দূর থেকে হাত নেড়ে বিদ্যালয়ে আসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করছে একে অপরের সঙ্গে।

রংপুর কারমাইকেল কলেজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু তালহা বলে, ‘এত ভালো লাগছে যে বলে বোঝাতে পারব না। আর যেন আমাদের স্কুল বন্ধ না হয়, স্যার-ম্যাডামদের একটু বলে দিও।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

ইয়াবা ফেলে মিয়ানমারে পালিয়েছে চোরাকারবারিরা

উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্যরা

কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

কক্সবাজারে ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ঘুমধুম বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কিছু ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করব‌ে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটায় ঘুমধুম বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজার উখিয়া ৪ নং রাজাপালং ইউপির উখিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকজন ইয়াবা কারবারি হেঁটে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখলে টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ব্যাগ ফেলে দৌড়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। টহল দল ঘটনাস্থল থেকে লুঙ্গি দিয়ে মোড়ানো ব্যাগ তল্লাশি করে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করে।’

এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২ পিস ইয়াবাসহ ১৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) টহল দল।

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর ওপর অভিমানে যুবলীগ নেতার ‘আত্মহত্যা’

স্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগ নেতা যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন। মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানির জন্য আত্মহত্যা করলাম..।’

কুমিল্লায় এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহানগর যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না।

২৯ বছর বয়সী এই তরুণ কুমিল্লা সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে।

প্রেমের সুবাদে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন এমরান। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের সম্পর্কে দেখা দেয় জটিলতা।

মুন্নার স্ত্রী ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানে তিনি আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান বলে ধারণা করতে থাকেন মুন্না। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর একপর্যায়ে মুন্না আত্মহত্যা করেছেন, দাবি স্বজনদের।

বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন মুন্নার বাবা মতিউর রহমান।

মামলায় বলা হয়, কুমিল্লা কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান দুজন। ৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি তারা বিয়ে করেন।

মেয়েটি পরে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

স্বজনদের অভিযোগ, মেয়েটি মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যেতেও বলতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার মুন্না আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি ও মেসেজ পাঠান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি স্ত্রী। অভিমান করে নিজের শোবার ঘরেই সিলিং ফ্যানে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর শুক্রবার লক্ষ্মীপুর আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে নিখোঁজের চার মাস পর দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাজধানী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাজধানীর মহাখালীর একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রায়হান চৌধুরীর আদালতে নেয়া হয়। সেখানে তার জবানবন্দি নেন বিচারক।

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে তার মা রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লক্ষ্মীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জিসান আলমসহ তিনজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরে গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর একটি বাসায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

অপহরণ না প্রেম করে পালিয়ে গেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মামলায় কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক যুবক। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ জিসানের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে জিসানসহ কয়েক বখাটে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মনিকা আক্তার এখনও অবুঝ। তার বয়স ১৫ বছর। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েক বখাটে। ঘটনার দিন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়।

‘এরপর বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে জিসান আমার মেয়ের প্রাণনাশ এবং অ্যাসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি ও হুমকিধমকি দেয়। মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় খুশি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

শিশুটির বাবা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম তাকে হার্টের চিকিৎসা দিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে এক পল্লি চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বরগুনা থানায় চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মামলা করেন। ওই দিন রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। মাসুম প্রাথমিকভাবে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা দেন।

তিন হাজার টাকায় পরীক্ষাগুলো করানোর পর মাসুম রিপোর্ট দেখে তাদের জানান, ইয়ামিনের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তাকে পরপর চার দিন চারটি ইনজেকশন দিতে হবে। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাসুম নিজ হাতে একটি ইনজেকশন দেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মাসুমকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থাপত্র অনুসারে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে খিঁচুনি দিয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।

সাইদুল বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অবশ্য অপচিকিৎসার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি বরগুনার নলটোনা এলাকার হাসান নামের একজন তার মায়ের হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক মাসুমের কাছে নিয়ে যান।

হাসানের অভিযোগ, মাসুম তার মায়ের অপচিকিৎসা করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মাসুম উল্টো তাকে হুমকিধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মাসুমের চিকিৎসায় তার মায়ের হাত প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তার মা সুস্থ হন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক মাসুমকে জেলার টাউন হল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন

পদ্মার ভাঙন, স্কুল মুহূর্তে বিলীন

পদ্মার ভাঙন, স্কুল মুহূর্তে বিলীন

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে রাজবাড়ী সদরের চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, ‘চর সিলিমপুরে হঠাৎ ভাঙনে স্কুলসহ সিসি ব্লকের ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্কুলসহ ১০০ মিটার এলাকা মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঝুঁকিতে রয়েছে পদ্মাপাড়ের শতাধিক স্থাপনা। এর মধ্যে বসতভিটা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে স্কুল ও মসজিদ।

জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে চর সিলিমপুর গ্রাম। গ্রামের শিশুদের লেখাপড়ার একমাত্র ভরসা চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাও নদীতে বিলীন হয়েছে।

স্থানীয় সিরাজ ফকির বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। স্কুল নদীতে চলে গেছে। আমাগো বাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। কখন নদীতে ভেঙে যায়।’

৬০ বছর বয়সি রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমার সব শেষ অইয়া যাইবো এইবার। এর আগে আরও দুইবার বাড়ি সরাইয়ে এহানে আয়ছিলাম। এইবারও মনে অয় চইলা যাবি গাংগে। আমার তো ছোট্ট একটা ঘর ছাড়া কিচ্ছুই নাই। আমি কনে যাবো।’

চর সিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রনি জানায়, তার বাড়ি এই স্কুলের পাশেই। সে এই স্কুলে পড়ত। এখন সে কোথায় পড়বে। তার বাড়িটাও আছে ভাঙন ঝুঁকিতে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল নদীতে চলে গেছে। আমি এখন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। এই স্কুলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৮ শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে।’

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপনির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অংকুর বলেন, ‘চর সিলিমপুরে হঠাৎ ভাঙনে স্কুলসহ সিসি ব্লকের ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
জুতা রেখে, প্যান্ট গুটিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীরা
মাউশির নজর অলিগলিতেও
অর্পিতা খুঁজছে ঝালমুড়ি মামাকে
ক্লাস শুরু হয়নি শিবচরের ৮ বিদ্যালয়ে
‘মনে হচ্ছে স্বর্গে এসেছি’

শেয়ার করুন