কেমন চলছে ব্যাংক খাত

সুদহার বাজারের ওপর ছাড়া উচিত: মাহবুবুর রহমান

সুদহার বাজারের ওপর ছাড়া উচিত: মাহবুবুর রহমান

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

যখন ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, তখন আমরা বলেছিলাম বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দিতে। বাজার ঠিক করবে সুদহার কেমন হবে। পরে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সেটা এখন ৭ শতাংশে নেমে গেছে। ঋণের চাহিদা কমতে কমতে সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অবস্থা ভালো যাচ্ছিল না। বিশাল অংকের খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত ছিল ব্যাংকগুলো। কয়েকটি বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা কমে এসেছিল। ঋণ দেয়ার জন্য ভালো উদ্যোক্তা খুঁজে পাচ্ছিল না ব্যাংকগুলো: যার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এক অংকের ঘরে (১০ শতাংশের নিচে) নেমে এসেছিল।

এর মধ্যেই গত বছরের মার্চে ধেয়ে আসে মহামারি করোনারভাইরাসের ছোবল। তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। স্থবির হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। ওলোট-পালট হয়ে যায় সব হিসাব-নিকাশ। বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে। করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অংক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। সরকারের নির্দেশে দেশের অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে ব্যাংক খাত। প্রণোদনার ঋণ ছাড়া এ সময়ে অন্য ঋণ তেমন বিতরণ করেনি ব্যাংকগুলো। লকডাউনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিয়েছেন ব্যাংককাররা। এখন অবশ্য মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ এ শিরোনামে নিউজবাংলার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য। করোনাকালীন সংকট থেকে উত্তরণে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক খাত। কিন্তু সেই ব্যাংক খাতের অবস্থা এখন কেমন?

করোনার আগেও ব্যাংকগুলো তেমন ভালো অবস্থায় ছিল না। বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি কম ছিল, খেলাপি ঋণও ছিল বাড়তির দিকে। ২০২০ সালের মার্চে করোনা শনাক্তের পর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। টানা বন্ধের কারণে তৈরি পোশাকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সার্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কিন্তু আমাদের বড় প্রাপ্তি ছিল রেমিট্যান্স। প্রতি মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসা শুরু করে। বছরজুড়ে খেলাপি ঋণে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলো রিকভারি করার যে পদক্ষেপ নেয় সেটা থমকে যায়। তখন আমরা কাউকে ঋণের কিস্তি দিতে বাধ্যও করতে পারিনি।

ফলে ব্যাংকগুলোর তেমন প্রভিশনিং করতে হয়নি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল ন্যূনতম ১ শতাংশ প্রভিশন থাকতে হবে।

এরপর বিশ্বব্যাপী টিকা চলে আসার পর রপ্তানি বাড়তে শুরু হয়। পাশাপাশি আমদানিও বেড়ে যায়। তেলের বাজার অস্থির হয়ে যায়।

অনেক ভালো রেমিট্যান্স যেহেতু আসা শুরু করে সেহেতেু ডলারের দর অবমূল্যায়িত যেন না হয় এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কেনা শুরু করে। প্রায় ৭/৮ বিলিয়ন ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনে নেয়। ফলে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য মার্কেটে চলে আসে।

সরকার ১ লাখ কোটি টাকার উপর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করল। ফলে বিভিন্ন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

অতিরিক্ত তারল্যর কারণে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ বেঁধে দেয়া হলেও সেটা ৭ শতাংশে নেমে যায়। আমানতে সুদহারও আড়াই থেকে ৩ শতাংশ হয়ে যায়।

করোনার মধ্যেও ব্যাংক কিন্তু কোনোদিন বন্ধ থাকেনি। সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে জীবন বাজি রেখে তারা সেবা দিয়ে গেছে।

করোনার ক্ষতি মোকাবিলায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বণ্টন করছে ব্যাংক। কিন্তু বলা হচ্ছে বড় বড় ব্যবসায়ীদেরই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। প্রকৃত চিত্র কী?

সবসময়ই বড়রা প্রণোদনার অর্থ পেয়েছে বিষয়টি তেমন নয়। বড় ঋণগুলো দ্রুত ছাড় হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণের জন্য কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছে। এসব সংস্কারে কয়েকমাস পার হয়ে যায়। আর এ শিল্পের অধিকাংশ গ্রাহক গ্রামাঞ্চলের। করোনার বছরের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা শুরু হয়। কিন্তু করোনায় ব্যাংকের সব শাখা খোলা ছিল না। গ্রাহকরাও ঠিকমতো আসতে পারেনি।

ব্যাংকগুলোর সিএসএমই পোর্টফোলিও সার্বিকভাবে তেমন ভালো না। এতে ব্যাংকের ঝুঁকি থেকে যায়। এজন্য ভালো গ্রাহক যাচাই করে ঋণ ছাড় করতে সময় লেগেছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকদফা সময় বাড়িয়ে সহায়তা করেছে যেন শতভাগ এ ঋণ ছাড় করা হয়। কিন্তু সবশেষ ১২টি ব্যাংক শতভাগ ঋণ ছাড় করেছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। অর্থাৎ আমানতের সুদহার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আপনাদের আপত্তি আছে, যা ব্যাংকার্স সভায় স্পষ্ট করেছেন। এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

আমানতে সুদহার মুক্ত বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। যখন ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল, তখন আমরা বলেছিলাম বাজার ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দিতে। বাজার ঠিক করবে সুদহার কেমন হবে। পরে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও সেটা এখন ৭ শতাংশে নেমে গেছে। ঋণের চাহিদা কমতে কমতে সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আমাদের দেশে অনেকগুলো ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়া হয়েছে।

এখন মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির সমান আমানত দিতে আমার রাজি আছি। কিন্তু সরকার কাদের জন্য এটা করতে চাচ্ছে? সুদহারের ওপর নির্ভর করে যাদের জীবিকা চলে, যাদের মূল আয় কমে গেছে- কিন্তু ব্যাংকের সঞ্চয়ের ওপর চলতে হয়। এসব মানুষের জন্য এ সুবিধার কথা চিন্তা করেছে সরকার।

সঞ্চয়পত্র কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার করা হয়েছে। একজন ৫০ লাখের বেশি কিনতে পারবে না, কিন্তু ব্যাংকে তো এক একজন বিভিন্ন ব্যাংকের মোটা টাকা আমানত রাখতে পারবে। কারণ, এখানে কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার করা নেই।

এজন্য আমরা যাদের সুবিধা দেয়ার জন্য এটা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি, সে সুবিধা নিয়ে যাবেন বড় বড় আমানতকারীরা।

আবার কখনো যদি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ে এবং ব্যাংকের তারল্য কমে যায়, তখন আমানতের চাহিদা বেড়ে যাবে। তখন ব্যাংকের মুনাফায় প্রভাব পড়বে।

অভিযোগ করা হয়, ব্যাংক পরিচালকরা ২৫-৩০ ভাগ পর্যন্ত মুনাফা নেন। কিন্তু আমানতকারীদের মুনাফা দেয়ার ক্ষেত্রেই গড়িমসি। আসল বিষয়টা স্পষ্ট করবেন?

এখন ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঋণ দিতে ব্যাংকের আড়াই শতাংশ চলে যায়। থাকে সাড়ে ৬ শতাংশ। ব্যাংক যদি প্রফিট নাও করতে চায়, যদি খেলাপি ঋণ না থাকে তারপরও সাড়ে ৬ এর বেশি ব্যাংক আমানতে সুদ দিতে পারবে না। কারণ ৯ এর বেশি সুদ নিতে পারছি না।

ব্যাংকে শেয়ারহোল্ডাদের অংশ ১০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ কিন্তু আমানত। এর ওপরে কীভাবে ২০ শতাংশ দেয়া যাবে?

যখন কোনো লিকুইডেশন হয় তখন সবার আগে আমানতকারীরা টাকা পাবে। শেয়ারহোল্ডাররা সবশেষ টাকা পাবে। এখানে ঝুঁকি বেশি।

আমানতকারীদের আমরা বঞ্চিত করতে চাই– এ ধারণা ঠিক না। একসময় ১১ থেকে ১২ শতাংশ আমানতে সুদ দেয়া হয়েছে। তখন ঋণের সুদ ছিল ১৮ বা ১৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংক খাতের এখনও অন্যতম প্রধান সমস্যা। এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে কী করা দরকার। ব্যাংক এবং গ্রাহকের দায় কোথায়?

খেলাপি ঋণ থেকে উত্তরণে ব্যাংকিং কোম্পানি আইনে কিছু পরিবর্তন হচ্ছে বলে শুনেছি। যারা টাকা নিচ্ছে তারা অনেক সচেতন। টাকা আদায়ে যদি মামলা করা হয় সেক্ষেত্রে ৭/৮ বছর পার হয়ে যায়। ৫/৬ বছর পার হয়ে গেলে একজন খেলাপি গ্রাহক যখন বুঝতে পারে তার পক্ষে রায় আসবে না, তখন সে দেশ ছেড়ে চলে যায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

আমরা ব্যাংককাররাও অসম প্রতিযোগিতার কারণে গ্রাহকদের খারাপ করে ফেলছি। কারণ এক ব্যাংক ঋণ না দিতে চাইলে অন্য ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঋণ দিচ্ছে। টাকা এমন জিনিস এর প্রতি মোহ থাকবে। এসব বিষয় দেখতে হবে।

অনেকে স্বল্পমেয়াদে ঋণ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করছে। ঋণ নিয়ে যে বিনিয়োগ করে সেখান থেকে গ্রাহকের আয় না হলে ঠিকমতো ঋণ শোধ করতে পারবে না। ফলে খেলাপি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার সময় বাড়ল

আমদানির চাল বাজারে ছাড়ার সময় বাড়ল

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন কিন্তু এখনও চাল বাজারজাত করতে পারেননি, তাদের জন্য সময় আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

চালের দাম বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি করা চাল বাজারজাতের সময় বাড়িয়েছে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করেছেন বা করবেন, তারা সেই চাল ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাজারজাত করতে পারবেন। আগে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি করা চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

রোববার সেই শর্ত শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব (বৈদেশিক সংগ্রহ) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি করা চাল বাজারজাত করতে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় পাবেন আমদানিকারকরা।

আদেশে বলা হয়, বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যারা ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন কিন্তু এখনও চাল বাজারজাত করতে পারেননি, তাদের জন্য সময় আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। বাজারে দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্কও কমানো হয়।

চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু হয় গত ১৭ আগস্ট থেকে। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে কিংবা শর্ত শিথিল করে মোট ১৩টি আদেশ জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

প্রথম আদেশে বলা হয়েছিল, বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খুলতে হবে এবং আমদানিকারকদের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।

প্রথম দুই দফায় ৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরবর্তী আদেশগুলোতে নতুন আমদানিকারকদের অনুকূলে বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ ও সরবরাহ অনুবিভাগ থেকে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র এক লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এ সময়ে সরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭০ টন।

সব মিলিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ লাখ ৯৯ হাজার টন। আর গম ১ লাখ ৪০ হাজার টন। ধান আছে ৫১ লাখ টন।

চাল আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্কও কমিয়েছে সরকার। গত ১২ আগস্ট আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

সঞ্চয়পত্রে পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার বাস্তবায়নের নির্দেশ

সঞ্চয়পত্রে পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার বাস্তবায়নের নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট রোববার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। সার্কুলারে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। তিন ধাপে মুনাফার হার বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন হারে মুনাফা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট রোববার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। সার্কুলারে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর পুনর্নির্ধারিত মুনাফার হার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে তাদের মুনাফা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে যাদের ১৫ লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগ আছে, তাদের মুনাফার হার ২ শতাংশের কিছুটা কম কমানো হয়েছে। আর ৩০ লাখের উপরে বিনিয়োগের মুনাফা কমানো হয়েছে ২ শতাংশের বেশি।

২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার নতুন হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এ হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনর্বিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এ মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে যারা সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে।

এখন থেকে যারা সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ

পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এত দিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়া হত। এখন এ সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। পাঁচ বছর মেয়াদি এ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এ সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার সাড়ে ৭ শতাংশ। এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর মেয়াদি হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়। ওই হারই এত দিন বহাল ছিল।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

মধ্যবিত্ত সঞ্চয় করবে কোথায়

মধ্যবিত্ত সঞ্চয় করবে কোথায়

সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংকে ভিড় করছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

বেশি বিনিয়োগের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে সরকার। এতে বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকরা চাপের মুখে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভর করে যারা সংসার চালান, তাদের জন্য দুঃসময়। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন, তাদের ক্ষেত্রে মুনাফা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে আগের চেয়ে কম হারে মুনাফা পাবেন।

এ ছাড়া ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাব এবং সবচেয়ে বেশি মুনাফার ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুনাফা কমানো হয়েছে গড়ে ১ থেকে ২ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, অনেক অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রথমবারের মতো সরকার মুনাফা হারের আলাদা স্তর করেছে। সঞ্চয় স্কিমের স্তর করেছে তিনটি। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা অপরিবর্তিত থাকবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমবে ১ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা কমবে ২ শতাংশ।

অর্থাৎ কম টাকার বিনিয়োগকারীর মুনাফার হার বেশি, আর বেশি টাকার বিনিয়োগকারীর মুনাফার হার কম।

যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত হার কার্যকর হবে। অর্থাৎ এই প্রজ্ঞাপনের আগে যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন হার কার্যকর হবে না।

সবশেষ ২০১৫ সালে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো হয়েছিল।

সুদহার পুনর্নির্ধারণ প্রসঙ্গে সরকার বলছে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকে পড়ায় ব্যাংক খাতে আমানতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সরকারের ঋণের বোঝা কমানো, আমানতের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখাসহ সামগ্রিকভাবে ভারসাম্য রক্ষায় বেশি বিনিয়োগের সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানো হয়েছে। এতে করে সরকারের সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় কিছুটা কমবে।

গত অর্থবছরে মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। আর গত জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে মানুষের মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুদ ব্যয় বেড়ে চলেছে, যা সরকারের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। মূলত সঞ্চয়পত্রে লাগাম টেনে ধরতে সুদহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একক খাত হিসেবে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এখন সুদ পরিশোধে। গত অর্থবছরে সুদ বাবদ ব্যয় হয় প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়বেন সঞ্চয়কারীরা। তবে বেশি বিপাকে পড়বেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, নারী ও মধ্যবিত্ত নাগরিক। কারণ, সমাজের বিশাল এই জনগোষ্ঠী বহুলাংশে সঞ্চয়পেত্রর আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তারা বলেছেন, করোনাকালে এমনিতেই অনেক মানুষ কষ্টে আছে। আবার দেশে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প কম। অবসরপ্রাপ্ত ও বয়স্ক অনেকের একমাত্র আয় সঞ্চয়পত্র। সরকারের এ সিদ্ধান্তে তাদের আয় কমে যাবে। ফলে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক-পরিচ্ছদ, জিনিসপত্রের দামসহ জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক গুণ বেড়েছে। এ অবস্থায় সঞ্চয় থেকে আয় কমলে স্বল্প ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর শ্যামলীর বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী আব্দুর রহমান সরকারের এ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের বাঁচার কোনো পথ আর রইল না। পেনশনের টাকার একটি অংশ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনার ইচ্ছা ছিল। সুদহার কমায় সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলাম।’

আগারগাঁওয়ের গৃহিণী হামিদা বানু বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ পাওয়া যায় না। কিছুদিন আগে সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর বাড়ানো হয়েছে। এখন মুনাফার ওপর কর কমানো হলো। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য সঞ্চয়পত্র ছিল একমাত্র আয়ের ভরসা। সরকার এখানে হাত দিয়েছে। করোনাকালে বেঁচে থাকটাই কষ্ট হয়ে পড়েছে।’

রাজধানীর তালতলার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক রাশিদুল হাছান বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে কর কর্তনের পর মাসে ১৫-১৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এই টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবার কি চলতে পারে?’

আগারগাঁওয়ের সরকারি কলোনীর শাহাবউদ্দিন বলেন, ‘২০ বছর চাকরি করেছি। চাকরিজীবনের সঞ্চয়ের অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছি। সেই মুনাফার অর্থে কোনো রকম সংসার চালিয়ে নিচ্ছিলাম। সরকার এখন সঞ্চয়পত্রে সুদ কমিয়ে দিল। মুনাফা কমে গেলে হয় আমাকে খরচ কমাতে হবে, নয়তো হাত পাততে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বুধবার ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সুদহার কমানোর ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কারণ, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে বেশি বিনিয়োগ করে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তরা। এ ধরনের নাগরিকদের স্বার্থ বিবেচনায় সুদহার না কমালেই ভালো হতো।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

জাপানি গাড়িসহ নিলাম হবে ৭৫ লট পণ্যের

চট্টগ্রাম বন্দরের একাংশ

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিভিন্ন মডেলের তিনটি জাপানি গাড়ি, সাড়ে ১৫ হাজার কেজি ড্রাগন ফলসহ ৭৫ লট পণ্য নিলামে তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারকরা পণ্যগুলো খালাস না করায় ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এই নিলাম।

নিলামের জন্য অপেক্ষারত জাপানি গাড়ি তিনটি যথাক্রমে টয়োটা মাইক্রোবাস, নিশান মাইক্রোবাস, টয়োটা কেআর-৪২ মডেলের।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্যমতে, এবারের নিলামে গাড়ি ছাড়াও রয়েছে ১৫২ কেজি সালফিউরিক এসিড, ১ ব্যাগ টেক্সটাইল কেমিক্যাল, ১৫ হাজার ৫০০ কেজি ড্রাগন ফল, ১ হাজার ৩১৩ রোল ফেব্রিক্স পণ্য, ৬২ কার্টন প্লাস্টিক হ্যাঙ্গার, ২৪ লাখ ৬০৯ টাকা মূল্যের থান কাপড়, ২০ ব্যাগ জিংক অক্সাইড, ২ হাজার ৫৩০ কার্টন আউটডোর ওয়াল টাইলস, ৩১ হাজার ২০৫ টাকা মূল্যের রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস পণ্য, ১৯৫ কার্টন জেন্টস আন্ডারওয়্যার, ৭ কার্টন পেপার ট্যাগ, ১৩৩ কেজি প্লাস্টিক ফিতা, ২১ কার্টন ওয়েস্ট বেল্ট, ৫০ কেজি পেইন্টিং পণ্য, ৫৯ কার্টন ফ্লাড লাইট, ২২ পিস ল্যাবরেটরি সাপ্লাইজ, ৭৪ কার্টন হ্যান্ড গ্লোভস, ৫৭০ রোল ফ্লোর ম্যাট, ৭৬২ ব্যাগ এলুমিনিয়াম পাউডার, ৩ কার্টন কটন ড্রকর্ড, ৫৩ হাজার কেজি ওজনের এমপিইটি ফিল্ম, ৫১ কার্টন ইলেকট্রিক এয়ার পাম্প, ১৫ হাজার ৭০০ কেজি ওজনের ব্র্যান্ড ফেজার লিফট, ১৫০ কেজি ওজনের পুস্তক নিলামে তোলা হচ্ছে।

এ ছাড়াও ২ হাজার ৬৭০ পিস মোটরসাইকেল টায়ার, ৯৫ হাজার ৮৭৯ টাকা মূল্যের কসমেটিক্স, ৫ হাজার ৩৬৭ টাকার ডিপ লাইনার, ২ হাজার ২৪১ টাকার আই লাইনার, ১৩ লাখ ১২ হাজার ৩৪১ টাকার ক্যাপিটাল মেশিনারি, ৯৮ হাজার ৪২৫ টাকার মেশিনারি পণ্য, ১ লাখ ৯ হাজার ৩৬১ টাকার পিভিসি মেশিন, ১ ইউনিট ডায়নামিক ব্যালেন্সিং মেশিন, ৯১ পিস খালি ড্রাম, ২৭ হাজার ১৫০ কেজি ওয়্যার রোপ, ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৬ কেজি ওজনের চেইন ক্যাবল, ৩০ পিস ইলেকট্রিক স্ট্যান্ড ফ্যান, ৬ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকার বয়লার পণ্য, ৪ হাজার ৭৭৪ কেজি ওজনের শার্ট ফেব্রিক্স, ৬২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৭ কেজি ওজনের উল ফেব্রিক্স, ১ হাজার ৪৩০ কেজি ওজনের আমব্রেলা ফেব্রিক্স, ১৮ পিস ওয়াল ফ্যান, ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ টাকার ব্লক ও ব্লেড পণ্য, ৪৬ রোল কম্বল, ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৯২ টাকার জিংক শিট পণ্য উঠছে নিলামে।

সরকারি নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে এম করপোরেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে নিলামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিলামে অংশ নিতে হলে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিস চলাকালীন ২০০ টাকা দরে ক্যাটালগ ও ১০০ টাকা দরে দরপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রশাসন) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে টেন্ডার বক্সে দরপত্র জমা দিতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (নিলাম শাখা) মো. আল আমিন জানান, বন্দরে আমদানি করা পণ্য যথাসময়ে খালাস না করলে তা নির্দিষ্ট সময় পর নিলামে তোলা হয়। কারণ খালাস না করা পণ্য বন্দরের ইয়ার্ডগুলো দখল করে রাখে। এতে কনটেইনার জটের সম্ভাবনা থাকে। তাই বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনটি নিলাম ডাকার চেষ্টা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

২৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটায় ৭৫ লট পণ্য নিলামে তোলা হবে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ৯৩ লট পণ্য নিলামে তোলা হয়েছিল।

বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য অনেক সময় খালাস করেন না আমদানিকারকরা। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনতে গিয়ে কায়িক পরীক্ষায় আটক হয় এসব পণ্যের বড় একটা অংশ। নিয়মনুযায়ী আমদানিকারকদের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের পণ্য খালাসের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু যথাসময়ে পণ্য খালাস না করলে এগুলোকে নিলামে তোলে কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অনলাইনে গরু কিনে ঠকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।’

অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিজেও ঠকেছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বলেছেন, গত বছর কোরবানির ঈদে অনলাইনে একটি গরু অর্ডার করে সে অনুযায়ী তিনি পাননি; পেয়েছেন অন্য একটি গরু।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশন ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত রোববার এক মতবিনিময় সভায় অনলাইনে কেনাকাটা নিয়ে নিজের এই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে টিপু মুনশি বলেন, ‘প্রথমবার অনলাইনে কোরবানির গরু কিনে আমি নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছি। এই কোরবানির আগের কোরবানির ঈদে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কোরবানির হাট বসে। ওই হাট উদ্বোধনের দিন মন্ত্রী হিসেবে আমাকেও রাখা হয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি একটি কোরবানির গরু কিনলাম। তার আগে আমি জানতে চাইলাম কত দাম? আমাকে জানানো হলো ১ লাখ টাকা। গরু আমি কিনলাম। আগাম পেমেন্ট করলাম।

‘বসে আছি চার-পাঁচ দিন। কোনো খবর নেই। ছয়-সাত দিন পর আমাকে জানাল, সেই গরু আর নেই। বলেছিলাম কী হলো সেটা? ওটা আরেকজন নিয়ে গেছেন। জানতে চাইলাম আমার গরু আরেকজন নিয়ে চলে গেলেন? আপনারা সেটা দিয়ে দিলেন? আমি বললাম, আমি মন্ত্রী। আমারই যদি গরু না থাকে, তাহলে?’

বাণিজ্যমন্ত্রী হেসে বলেন, ‘তিন দিন পর কোম্পানি জানাল, চিন্তা কইরেন না আমরা আপনাকে আরেকটা গরু দিচ্ছি। তারা আরেকটা গরুর ছবি দেখায়; দাম চায় ৮৭ হাজার টাকা।

‘কী বলব। আমি তো তাদের কাছে বন্দি। বলল, বাকি ১৩ হাজার টাকায় আমাকে একটা ছাগল দেবে। সবকিছু তারাই বলল। আর আমি শুনেই যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত তাদের বললাম ওটা কোরবানি করে এক ভাগ আমার বাসায় পাঠিয়ে দাও। বাকি দুই ভাগ বিলি করে দাও। তবে ছাগলটা জ্যান্ত আমাকে পাঠাও।’

সব উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কিন্তু প্রথমবার। দ্বিতীয়বার সমস্যা হয়নি। তখন এ সুযোগটা তাদের দেয়া হয়েছে। ঠিক আছে আমি নিজে ভুক্তভোগী, কিন্তু যদি শুনতাম আমার টাকাও নাই গরুও নাই, তাহলে হয়তো মামলা-টামলা করা যেত।’

নিজের এ অভিজ্ঞতা বলার উদ্দেশ্য নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘আমার কথা বলার উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স খাতে যা হয়েছে সেটি প্রথম বলেই ঘটেছে, কিন্তু এ খাতটি খুবই সম্ভাবনাময়। ১০-২০টা খারাপ প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো সেক্টরের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না।

‘দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে এর দায় এড়াতে চাই না বলেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বসে আলোচনা করছে। উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে। কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। এ জন্য পৃথক আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কাজ করছে সরকার।’

যৌথ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম। এ সময় ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল

এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।’

ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা বলে মনে করেন দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল।

তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ব্যাংকাররা ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।’

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং কমিশন গঠন ‘খুবই জরুরি’ বলেও মন্তব্য করেন তারিক আফজাল।

করোনার ধাক্কার পর বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সোয়া লাখ কোটি টাকার ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে সেই প্রণোদনার অঙ্ক বেড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া ঋণ বিতরণ খুব একটা ছিল না। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমতির দিকে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতি। সব খাতেই এখন পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে। ঋণ বিতরণও বাড়ছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ শিরোনামে নিউজবাংলা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) তারিক আফজাল।

করোনা মহামারির মধ্যেও জরুরি সেবার আওতায় নিরলস সেবা দিয়ে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। সেই ব্যাংক খাতের অবস্থা এখন কেমন?

ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সব শ্রেণির মানুষ জড়িত। করোনার সময়ে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকলকারখানা বন্ধ ছিল। মহামারির ক্ষতি কাটাতে সরকার বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল বলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিছুটা সচল ছিল।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সচল অবস্থা এবং ব্যাংক খাতের মাধ্যমে সরকারের প্রণোদনার অর্থের সঠিক প্রয়োগ ব্যবসাকে সচল এবং দেশের অর্থনীতিকেও সচল রেখেছে।

বাংলাদেশে কোভিডসংক্রান্ত অর্থনৈতিক যে নীতিমালা করা হয়, সেগুলো ছিল পজিটিভ। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং সেটার সঠিক প্রয়োগের ফলে অর্থনীতির কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অগ্রগামী রেখেছে।

আমাদের আমদানি-রপ্তানি অগ্রসর ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়নকাজও থেমে থাকেনি। পদ্মা সেতু সেটার বড় উদাহরণ।

দেশে কয়েক বছর ধরে মন্দ ঋণের প্রভাব রয়েছে। সেই মন্দ ঋণের প্রভাব কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাংকিং খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। করোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রণোদনার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কিছু সুবিধা দিয়েছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ছাড় দেয়া হয়েছে। চলতি বছরেও কিছু নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

করোনায় ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে যে সুবিধা দেয়া হয়েছিল, সে কিস্তিগুলোর আংশিক শোধ করার পরেও ব্যাংকগুলো মোটামুটিভাবে বেশ ভালো মুনাফা করেছে। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন ব্যাংকের অগ্রগতির যে পরিকল্পনা ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু ব্যাংক কর্মীদের বেতন-বোনাস দেয়াসহ সার্বিক দিক মোকাবিলা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি আমরা।

অন্যান্য সময় ব্যাংক যেভাবে চলছে, তার সঙ্গে যদি মহামারির এ সময় ব্যাংক খাতের অবস্থা তুলনা করি, সেটা নিয়মমাফিক হবে না।

অন্য ব্যাংকের মতো এবি ব্যাংকও ব্যতিক্রম নয়। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক নীতিমালা মেনে আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের কিছু ঘাটতি ছিল সেগুলো পূরণ করেছি।

প্রণোদনা প্যাকেজ বিষয়ে অনেক অভিযোগ আছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বণ্টন করছে ব্যাংক। কিন্তু বলা হচ্ছে, বড় বড় ব্যবসায়ীকেই প্রণোদনার অর্থ দেয়া হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

গণমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে দেখেছি, প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে ১৬টি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শোকজ করেছে।

এবি ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ সঠিকভাবে বিতরণের চেষ্টা করেছে। বড় শিল্পের পাশাপাশি ছোট শিল্পে প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। এ শিল্পের প্রসার অর্থনীতির মন্দাভাব ও মন্দঋণ দুটোই প্রতিহত করবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গ্রাহক তৈরি করে যদি তাদের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ দিতে পারি, তাহলে ঝুঁকির সম্ভাবনা কম থাকে।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা ঋণের টাকা ফেরত দেয়। ব্যাংক খাতে এসব গ্রাহক তৈরি করা হলে মন্দ ঋণের মাত্রা অনেক কমে যাবে। কারণ মন্দ ঋণ বৃহৎ শিল্পে পুঞ্জিভূত।

প্রণোদনার ঋণ হয়তো অনেক ব্যাংক সঠিকভাবে বিতরণ করতে পারেনি। আবার অনেক ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে কিছু জটিলতা আছে। এখানে গ্রাহকের অভাব আছে।

ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যাংক ঋণগ্রহীতার আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন করেই ঋণ দেয়, কিন্তু গ্রাহকের অভাব থাকলে লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ না-ও হতে পারে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের কম ঋণ দেয়া হলে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

ব্যাংকে গ্রাহক পাওয়া, আনুষঙ্গিক বিষয় পরিপালন, গ্রাহকের সামর্থ্য, ব্যাংকের আন্তরিকতা সবকিছু বিবেচনা করতে হবে। না হলে ঋণ না দেয়ায় শুধু ব্যাংকের ওপর দায় দেয়া হলে সেটা অন্যায় হবে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। দেশের ব্যাংক খাতের এখন অন্যতম প্রধান সমস্যাও এটি। বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদৌ কি আদায় করা সম্ভব? এ সংস্কৃতি থেকে বের হতে কী করা দরকার বলে আপনি মনে করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবের আমি এবি ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করি। তখন থেকে মন্দ ঋণের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমিয়েছি। সামনে এটা আরও কমে আসবে।

খেলাপি ঋণ থেকে বের হওয়ার দুটি সুযোগ আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রসার এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতর হতে হবে।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের থেকে ঋণ আদায় করা গেলে খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা দরকার। আমানতকারীদের যে অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে, তার প্রতি ব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারেরও দায়বদ্ধতা আছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে আলোচিত বিষয় আমানতের সুদহার। অর্থাৎ আমানতের সুদহার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ কিছু কিছু ব্যাংক আমানতে ২ থেকে আড়াই শতাংশ সুদ দিচ্ছে। আমানতে মূল্যস্ফীতির কম সুদ না দেয়ার এই নির্দেশনা পরিপালনে ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ কী?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের আমানতকারী রয়েছেন। সবার প্রতি ব্যাংকের কর্তব্য আছে। ব্যাংক শুধু ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করবে সেটা নয়।

আমানতকারীদের নিম্নমানে সুদ দেয়া আইনের পরিপন্থি। কারণ, প্রত্যেকে কিছু আশায় ব্যাংকে সঞ্চয় করে থাকে। কিন্তু সেই আমানতে টাকায় যদি কোনো আশানুরূপ রোজগার না হয়, তবে সেটা আমানতকারীদের প্রতি অন্যায়। ব্যাংক আমানতকারীকে নিম্ন সুদ দিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় অর্থ বিনিয়োগ করছেন নিজেদের মুনাফার জন্য। এতে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভারসাম্য থাকছে না। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে একাধিবার ‘ব্যাংক কমিশন’ গঠনের আলোচনা হয়েছে, ‘কমিশন’ গঠনের প্রয়োজন আছে বলে কি মনে করেন? কেন করেন?

সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য কর্মকর্তার কাছে বলতে চাই, আমাদের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কমিশন গঠন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে ৬০টি ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একার পক্ষে এগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা সহজ নয়। একটি ডেডিকেটেড ব্যাংকিং কমিশন যদি গঠন করা যায়, তাহলে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

ব্যাংক খাতে ইন্টারফেয়ারেন্স (হস্তক্ষেপ) একটা সমস্যা। অনেক সময় ব্যাংকাররা এটির কারণে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারেন না। আইনের সঠিক প্রয়োগ ও অনুশাসন ব্যাংকার এবং গ্রাহক উভয়ের জন্য প্রয়োজন। ব্যাংকের মালিকদের জন্যও এটা প্রয়োজন। কারণ, তারা দেশের জনগণের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান দিয়েছেন। কিন্তু সেটা যদি ব্যক্তিস্বার্থে উপনীত হয়, তবে সমস্ত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সুতরাং এটাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। সবকিছুর পাশে দেশ, মানুষ, সমাজের কথা চিন্তা করতে হবে।

বর্তমান সরকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাকে সঠিকভাবে সহযোগিতা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকারের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুশাসন জরুরি। অনুশাসন যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, বাংলাদেশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

ধামাকার পরিচালকের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে প্রতারণার মামলা

মামলার বাদী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায় অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।’

প্রতারণার অভিযোগ এনে ধামাকা শপিং ডটকমের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী।

থানার উত্তর আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামীম খান বৃহস্পতিবার এই মামলা করলেও শনিবার রাতে তা জানাজানি হয়।

শামীম পোশাক কারখানার পার্টস ব্যবসায়ী।

আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিমউদ্দিন চিস্তী, চেয়ারম্যান এম আলী ওরফে মোজতবা আলী, সিইও সিরাজুল ইসলাম রানা, প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ, নাজিম উদ্দিন আসিফ, হেড অব অ্যাকাউন্টস্ সাফোয়ান আহমেদ, ডেপুটি ম্যানেজার আমিরুল হোসাইন, আসিফ চিশতী, সিস্টেম ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম স্বপন ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরোধ বারান রয়।

মামলার বাদী বলেন, ‘গত ২০ মার্চ ধামাকা শপিং ডটকমের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য কেনার অফার দেয়া হয়। অনলাইনে অফারটি দেখে আমি প্রতিষ্ঠানের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করি। যোগাযোগ করার পর আমাকে জানানো হয়, পণ্য অর্ডার করলে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা হবে। সে অনুযায়ী আমি ৮৪টি ইনভয়েসের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ইনভয়েসে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করি।

‘প্রতিষ্ঠানটি তার অর্ডার কনফার্ম করে এবং কনফার্ম ইনভয়েস জিমেইল আইডিতে পাঠায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত ৪৫ দিনেও আমার পণ্য সরবরাহ করেনি। ৫০ দিন পর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে আমাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এক মাস অপেক্ষা করার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তার সই করা ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি চেক দেয়া হয়। ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

‘৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সিও মামলার ৩ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি টাকা না দিয়ে তাকে হুমকি দেন। ৫ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ধামাকা অনলাইন শপিংয়ের ১১ জনের বিরুদ্ধে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতারণার মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে দৌড়
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের চুক্তি
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন তহবিলের অর্থ পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও
খেলাপি ঋণ বাড়াল ২০ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৪টি

শেয়ার করুন