নো মাস্ক, নো স্কুল

নো মাস্ক, নো স্কুল

মোহাম্মদপুরের রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকে এই ব্যানারটি সাঁটানো হয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

রাজধানীর একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙানো হয়েছে। যেখানে ‘নো মাস্ক, নো স্কুল’ ছাড়াও ‘অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ ও নাক স্পর্শ না করি’, ‘বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করি’ ইত্যাদি স্লোগান আছে।  

স্কুলে ক্লাস করতে আসা ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। জানানো হয়েছে, স্কুলে কেউ মাস্ক ছাড়া এলে ঢুকতেই দেয়া হবে না।

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ স্কুলগুলো আবার শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর হবে রোববার থেকে। খুলবে কলেজের দরজাও।

এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। করোনায় যে মানসিক আঘাত এসেছে, তার কারণে শিশু কিশোরদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল থাকার নির্দেশ এসেছে। বলা হয়েছে, আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে।

রাজধানীর একাধিক স্কুলে গিয়ে বেলুনসহ নানা উপকরণ দিয়ে সাজাতে দেখা গেছে। স্কুলে শিশু-কিশোররা যেন নির্ধারিত দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করে, সে জন্য করিডোরে দাগ দিয়ে দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে ফটকে বড় করে ব্যানার টানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘নো মাস্ক, নো স্কুল’। অর্থাৎ মাস্ক ছাড়া এলে কাউকে ক্লাস করতে দেয়া হবে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুপাতে একাধিক ভাগে ভাগ ও তিন ফুট দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থী বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগে স্কুলের কিছু গেট বন্ধ থাকলেও এবার শিক্ষার্থীদের ঢুকতে ও বের হতে সব গেটই খুলে দেয়া হবে।

নো মাস্ক, নো স্কুল
শিশু-কিশোরীদের জন্য স্কুল সাজিয়েছে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার স্কুল প্রাঙ্গণে টাঙানো হয়েছে। যেখানে ‘নো মাস্ক, নো স্কুল’ ছাড়াও ‘অপ্রয়োজনে মুখ, চোখ ও নাক স্পর্শ না করি’, ‘বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করি’ ইত্যাদি স্লোগান আছে।

রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মূল ফটকেই লাগানো হয়েছে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার।

অধ্যক্ষ কাজী শামীম ফরহাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে।’

একই চিত্র দেখা যায়, রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন স্কুলে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। কেননা একমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানলেই করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

‘শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে আমরা স্কুলের ফটক ও ভেতরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানার টাঙিয়েছি।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজও দেয়াল ও ক্লাসরুমে টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সচেনতামূলক ব্যানার।

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি যেন কঠোর ভাবে মানা হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তদারকি দলও গঠন করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আমাদের বিভিন্ন সচেতনতামূলক ব্যানারও তৈরি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১৭ মাস পর কাল বিদ্যালয় খুলছে। এজন্য ভিকারুননিসার প্রতিটি ক্যাম্পাস এবং ক্লাসরুমকে বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে। এর শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যেন শিক্ষার্থীদের কোনো রকম চাপ না দিয়ে পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করে তোলার ব্যবস্থা করা হয়।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার ৯ দিন পর ১৭ মার্চ থেকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

নো মাস্ক, নো স্কুল
স্কুল প্রাঙ্গণ নানা উপকরণ দিয়ে সাজাচ্ছেন ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই শিক্ষিকা

জুন মাসের শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ দিয়েও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণঘাতী ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় সরকার। জুলাই থেকে আরও কঠোর বিধিনিষেধে যায় সরকার।

করোনাভাইরাসের কারণে ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর স্কুল-কলেজে সশরীরে পাঠদান শুরুর অপেক্ষা এখন।

প্রথম দিন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস হবে।

গত রোববার আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। একই দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি হিসেবে ১৯টি নির্দেশনা জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার আলোকেই প্রস্তুত করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

১৯ দফা নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে

# শিক্ষাঙ্গনের প্রবেশমুখে করোনার স্বাস্থ্যবিধি ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

# প্রবেশপথে সব শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের তাপমাত্রা মাপতে হবে।

# শিক্ষার্থীর ভিড় এড়াতে প্রতিষ্ঠানের সব প্রবেশমুখ ব্যবহার করতে হবে। যদি একটি প্রবেশমুখ থাকে সে ক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।

# প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানাতে বলা হয়েছে।

# শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে, সে বিষয়ে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী বক্তব্য দিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের দেয়া ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

# প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রাখতে হবে।

# প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ ও আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

# ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

# শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অভিভাবক প্রবেশের সময় সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

# প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঠিকভাবে মাস্ক (সম্ভব হলে কাপড়ের মাস্ক) পরতে হবে।

# প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুতে পারে।

# শ্রেণিকক্ষে তিন ফুট শারীরিক দূরত্বে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে।

# শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

# প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করতে হবে।

# সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

# স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে কমিটি করতে হবে।

# প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে পড়াতেও বলা হয়েছে।

# প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত আগেই শেষ করতে হবে।

এবং

# স্কুল বা কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

শিক্ষার্থীদের দাবিতে পূজায় পরীক্ষা বাতিল জবিতে

ডিনস কমিটির সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা হবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ৭ অক্টোবরের আগে এবং পূজার সময় ১১-১৬ অক্টোবর কোনো সেমিস্টার পরীক্ষা হবে না।

সোমবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

তিনি জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

৭ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় চলতি বছরের ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরীক্ষা ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন বিভাগ সময়সূচি ঘোষণার সঙ্গে রুটিনও প্রকাশ করতে থাকে।

এতে দেখা যায় পূজার ছুটিতেও কিছু বিভাগের পরীক্ষার তারিখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানান বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের বক্তব্য নিয়ে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আমলে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: লোগো ব্যবহারে হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: লোগো ব্যবহারে হুঁশিয়ারি কর্তৃপক্ষের

চত্তগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে এ ধরনের সংবাদ বা তথ্যাদি প্রচার আইনত দণ্ডনীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো যেখানে-সেখানে ব্যবহারের ওপর সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য, সংবাদ প্রচারিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়।

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার রাতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে নানাবিধ ভিত্তিহীন তথ্য ও সংবাদ অপপ্রচার করে যাচ্ছে। এসব তথ্য ও সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করে এ ধরনে সংবাদ বা তথ্যাদি প্রচার আইনত দণ্ডনীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ব্যাপারগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

ক্যাম্পাস নজরদারিতে বাড়ছে ক্যামেরা

ক্যাম্পাস নজরদারিতে বাড়ছে ক্যামেরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার মাধ্যমে চলে নিয়মিত নজরদারি। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ক্যাম্পাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বক্তিরা ক্যামেরায় নজরদারি করবেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন বিঘ্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে আরও ২২টি ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। আগের আছে ৪০টি ক্যামেরা। এতে পুরো ক্যাম্পাসে নজর রাখা সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

ক্যাম্পাস খোলার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রকল্পটির প্রস্তাবনা শেষ হয়েছে, উপাচার্যের অনুমোদন পেলেই শুরু হবে বাস্তবায়ন। এ তথ্য জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আগে থেকেই অনেক ক্যামেরা লাগানো আছে, কিছু জায়গায় আরও লাগাতে হবে। সে জন্য প্রস্তাবনা রেডি হয়ে গেছে। বাকি তথ্য আইটি দপ্তর বলতে পারবে।’

নেটওয়ার্ক এন্ড আইটি দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, ‘অলরেডি ২২টি ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভিসি স্যার অনুমোদন দিলেই এটার বাস্তবায়ন হবে। এখন ২২টা বসছে, পর্যায়ক্রমে আরও লাগানো হবে। এসব কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে আইটি দপ্তর।’

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে গত বৃহস্পতিবার দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে। ক্যাম্পাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্যামেরায় নজরদারি করবেন। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন বিঘ্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে বৈঠকে।

ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদ নিয়ে আশঙ্কা থাকলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৪০টির বেশি ক্যামেরা আছে। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ভিসি ভবন, নিউ একাডেমিক ভবনের নিচতলা, কলা ভবন, ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ও বাইরে, অবকাশ ভবন, শান্ত চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এসব ক্যামেরা বসানো হয়। নতুন ২২টি ক্যামেরা যোগ হলে ক্যাম্পাস এলাকার পুরোপুরি নজরদারি সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

প্রাথমিকে নিয়োগ শিগগির

প্রাথমিকে নিয়োগ শিগগির

প্রতীকী ছবি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শূন্যপদের বিপরীতে এবং ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবলের বিপরীতে পদ সৃজন ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া চলমান আছে। শিগগিরই নিয়োগ-প্রক্রিয়া শেষ করা হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকের শিক্ষকসহ অন্যান্য নিয়োগ শিগগির শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সংসদ ভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে রোববার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষার্থীর অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবল সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলমান বলেও মন্ত্রণালয় জানায়।

সংসদ সচিবালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শূন্যপদের বিপরীতে এবং ছাত্রসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকসহ অন্যান্য সহায়ক জনবলের বিপরীতে পদ সৃজন ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া চলমান আছে। শিগগির নিয়োগ-প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।

ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে যেসব বিদ্যালয়ে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও আইনি জটিলতা নেই, সেসব বিদ্যালয় নির্বাচিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেন্ডার-প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে কমিটি পুনরায় সুপারিশ করেছে।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক এখনও বেতন পাননি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বেতন নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়। এ ছাড়া সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার (এডিপিও) পদে কর্মরতদের দ্রুত পদোন্নতি দিতে কমিটি সুপারিশ করেছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তাদের মেধা দেশের অন্য উন্নয়নমূলক কাজে লাগানো যায় কি না, তা বিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য মেহের আফরোজ, আলী আজম ও মোশারফ হোসেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের সা‌র্বিক প‌রিচালনায় এ বিমার আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং‌য়ে করা যা‌বে। ত‌বে এ জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া বিমাসংক্রান্ত অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থের অভাবে কোমলম‌তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ পলিসির আওতায় প্রিমিয়াম মাসে ২৫ টাকা, বছরে ৩০০ টাকা, বিমার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

অটোপাস হলেও ফাইনাল দিতে হবে প্রথম বর্ষকে

অটোপাস হলেও ফাইনাল দিতে হবে প্রথম বর্ষকে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লগো

কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সে ক্ষেত্রে তার শর্ত সাপেক্ষে দেয়া প্রমোশন বা অটোপাস বাতিল গণ্য হবে।

অটোপাস হলেও প্রথম বর্ষের ফাইনাল দিতেই হবে শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন পাওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। আগামী নভেম্বরে এই ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আদেশে জানানো হয়, ২০২০ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন ফরম পূরণ করেছে, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে যথাসময়ে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে এসব পরীক্ষার্থীকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে শর্ত সাপেক্ষে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে না গেলে ২০২০ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

বলা হয়, এই পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ১৬ জুন ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় ওই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দিয়ে ক্লাস করার অনুমতি দেয়া হয়।

২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেন ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬, অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫০। আর মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৬ শিক্ষার্থী।

প্রমোশন পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সে ক্ষেত্রে তার শর্ত সাপেক্ষে দেয়া প্রমোশন বা অটোপাস বাতিল গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার সামনে অভিভাবকদের গাদাগাদি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন।  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গায় তা মানছেন না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থবিধি মানলেও অধিকাংশ অভিভাবক তা মানছেন না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গায় তা মানছেন না।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো শেষে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। পরের দিন থেকে খুলে দেয়া দেয়া মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসছে। তাদের সবার মুখে মাস্ক। ব্যবস্থা রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও। তবে স্কুল-কলেজের বাইরের চিত্র ভিন্ন। অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বিষয়টিতে তারা গুরুত্বও দিচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি স্বাস্থবিধি মেনে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়েও আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টিকা দেয়া শেষে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যাবে। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উপাচার্যদের।’

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে। সংক্রমণের হার কমে আসলে সব ক্লাসই নেয়া যাবে। তবে হার যদি বেড়ে যায় তখন কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি স্বাস্থবিধির বিষয়টি। প্রতিষ্ঠানের কোথাও দৃশ্যমান আবর্জনা বা লক্ষণীয় হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় ডেঙ্গুর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে’, যোগ করেন দীপু মনি।

এর আগে যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত স্কুল-কলেজ
করোনায় স্কুলের ‘সর্বনাশ’
স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেড়েছে বই-খাতা বিক্রি
পাঠদানে প্রস্তুত নীলফামারীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
স্কুলে অ্যাসেম্বলি বন্ধ, খাবার পৌঁছাতে হবে কক্ষে

শেয়ার করুন