স্বাস্থ্যবিমার দাবিতে সোচ্চার জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

স্বাস্থ্যবিমার দাবিতে সোচ্চার জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক দফা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার দাবি উঠলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। করোনায় অনেক শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে এবং সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর অসুস্থতায় মৃত্যু ঘটলে ফের আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্যবিমা।

অর্থাভাবে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীদের অনেকে। বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন কেউ কেউ। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৬ বছর পার হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলের ব্যবস্থা হয়নি। বাধ্য হয়ে তাদের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। বিনা চিকিৎসায় কেউ মারা গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব নিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমা করা থাকলে অমানবিক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ৮৫ টাকা বার্ষিক প্রিমিয়ামে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা দেন। এ সুযোগটি এখনও নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপারে এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক দফা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার দাবি উঠলেও ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। করোনায় অনেক শিক্ষার্থী আক্রান্ত হলে এবং সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর অসুস্থতায় মৃত্যু ঘটলে ফের আলোচনায় এসেছে স্বাস্থ্যবিমা।

বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন লেবু গত বৃহস্পতিবার মারা যান। তীব্র জ্বরে আক্রান্ত লেবু টাকার অভাবে চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি।

স্বজনরা জানান, লেবুর দুই ভাই ভ্যানচালক, বাবা গোবরের জ্বালানি বিক্রি করেন। অসুস্থ অবস্থায় লেবু বাড়িতে টাকা চাইলে, তারা অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। সেই সময় আর পাননি লেবু। চিকিৎসা ছাড়াই মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী রাহাত আরা রিমি মারা যান গত ১১ জুলাই। তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভূগছিলেন। শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগতে থাকা রিমি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না টাকার অভাবে।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান পাভেল মারা যান টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার আগে পাভেল ঢাকায় এসেছিলেন টিউশনি করার জন্য।

শিক্ষার্থীদের মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। আবাসিক হল না থাকায় শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকতে হয়। ঢাকার আবাসন খরচ মেটাতেই যখন তাদের হিমশিম অবস্থা তখন স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দেবার সুযোগ কম। স্বাস্থ্যবিমা করা থাকলে সহজেই তারা চিকিৎসা করাতে পারবেন।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রিপা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টাকার অভাবে চিকিৎসা শুরু করাতে পারেননি আমাদের বিভাগের আল আমিন ভাই, বৃহস্পতিবার মারা গেলেন। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক সহায়তা অথবা স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এমন হতো না।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রতন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতে হল নেই, যার কারণে বাইরে থাকতে বেশি খরচ হয়। সেখানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে টাইফয়েড, জন্ডিসে আক্রান্তের আশঙ্কা বেশি। এখন আবার করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাদের অধিকাংশ পরিবারের খরচ জোগান দেয়া কঠিন। সব দিক বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিমা চালু করা জরুরি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিমার বিষয়ে আমরা একবার আলোচনা করেছিলাম, বিমার লোকজন নানা সমস্যার কথা জানালে তা এগোয়নি। বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থা করাটা অনেক বড় কাজ। সবকিছু বিবেচনায় এটা করা যেতে পারে।’

করোনা আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো নতুন দায়িত্ব পেয়েছি, আগে ছাত্রকল্যাণের সবকিছু অগোছাল ছিল। আমি শিক্ষার্থীদের পরিসংখ্যান তৈরি করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কারো স্বাস্থ্যবিমা নেই। এগুলো চালু থাকলে বিপদের সময় কাজে লাগে। আমরা স্বাস্থ্যবিমার চিন্তাভাবনা করছি, কথা বলছি। চেষ্টা করব শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই স্বাস্থ্যবিমা করার।’

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপক প্রচলন চান প্রধানমন্ত্রী

৮৫ টাকায় বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৭ অক্টোবর

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১৭ অক্টোবর

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘ভর্তি কমিটির সভায় ক ইউনিটের পরীক্ষা ১৭ অক্টোবর, খ ইউনিটের ২৪ অক্টোবর এবং গ ইউনিটের পরীক্ষা ১ নভেম্বর নেয়া হবে।’

দেশের ২০টি গুচ্ছভুক্ত সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর। পরীক্ষা শেষ হবে ১ নভেম্বর।

ভর্তি কমিটির সভায় মঙ্গলবার এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্তের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর।

তিনি বলেন, ‘ভর্তি কমিটির সভায় ক ইউনিটের পরীক্ষা ১৭ অক্টোবর, খ ইউনিটের ২৪ অক্টোবর এবং গ ইউনিটের পরীক্ষা ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।’

গত ২৫ আগস্ট গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়।

গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয় হলো: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

সংক্রমণ ৫ এর নিচে নামলে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম

সংক্রমণ ৫ এর নিচে নামলে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম

লেখাপড়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। বাড়ি বাড়ি ওয়ার্কশিট পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রমও চলবে, জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

রোববার লালমনিরহাটে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার নিম্নগামী। কিছু দিনের মধ্যে হয়তো ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। তখন আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসব এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করব।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে নিয়মিত মাস্ক (কাপড়ের) পরতে হবে। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের আগে প্রত্যেককে তাপমাত্রা পরীক্ষা ও সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করতে হবে। এ ছাড়া প্রতি বেঞ্চে ৩ ফুট দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বসতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরা। লেখাপড়ার এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি ওয়ার্কশিট পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রমও চলবে।’

মতবিনিময় সভায় লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা, বিভাগীয় উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাফর বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ শিক্ষার্থীদের

মানববন্ধনে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত নাবিলা আহমেদ বলেন, ‘সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. শাহজাহান‌ স্যারকে সামা‌জিক ও পা‌রিবা‌রিকভা‌বে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভা‌বে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’

গোপালগ‌ঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের (ভিসি) বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের প্রশাস‌নিক ভব‌নের সামনে সোমবার বেলা তিনটার দিকে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত নাবিলা আহমেদ বলেন, ‘সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. শাহজাহান‌ স্যারকে সামা‌জিক ও পা‌রিবা‌রিকভা‌বে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভা‌বে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’

চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী রাসেল শিকদার বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে গত বুধবার সাবেক এক গৃহকর্মী যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গত শুক্রবার শাহজাহান বলেন, ‘সবসময় আমি অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। সাবেক উপাচার্যের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করেছি।

‘ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের সময় সাবেক উপাচার্যের সুবিধাভোগী একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে যৌন হয়রানির মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

সোয়া চার বছরের ভোরকে স্কুলে ভর্তি করতে নিয়েও ফিরে এসেছেন মা। কারণ, সেখানে কবে ক্লাস শুরু হবে সেটি নিশ্চিত নয়। রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এর স্টারলিট স্কুল অফ ইংলিশ থেকে ছবিটি তুলেছেন পিয়াস বিশ্বাস।

২০২০ সালে স্কুল বন্ধ করে দেয়ার সময় যে শিশুর বয়স তিন থেকে সাড়ে চার বছর ছিল, তাদের শিক্ষাজীবন এখনও শুরু হয়নি। এক থেকে দুই বছর পরে শুরু করতে যাওয়া এ শিশুরা ভবিষ্যতে পিছিয়ে যাবে বলে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষাবর্ষ এক বছর না রেখে কয়েক মাস কমানোর পরামর্শ এসেছে।

স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় স্বরিৎ ঋতি ভোর। বয়স তার সোয়া চার বছর। স্বাভাবিক সময়ে এই বয়সের আগেই শিশুরা স্কুলে যাওয়া শুরু করে।

রাজধানীতে বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রাক প্রাথমিকে প্লে গ্রুপ, নার্সারি, কেজি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে কেজি টু পার হওয়ার পর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

ভোরকে তার বাবা-মা ভর্তি করাতে চান ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে। এখনও ক্লাস শুরু না হলেও প্লে-তে ভর্তি নেয়া হচ্ছে আগে থেকেই।

জুলাই থেকে জুন শিক্ষাবর্ষে ভোরকে এখন ভর্তি করা হলে ক্লাস ওয়ানে উঠতে উঠতে তার বয়স আট বছর পার হয়ে যাবে।

এ কারণে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে সাধারণত তিন বছর থেকেই শিশুদের ভর্তি করা হয়, যা করোনার কারণে সম্ভব ছিল না। ২০২০ সালের মার্চ থেকেই বন্ধ সব স্কুল। আর ১৭ মাস পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুললেও এখনও প্রাক-প্রাথমিকে ক্লাস শুরু হয়নি।

ভোরের মতোই লাখ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হতে দেরি হয়েছে। যারা আগে থেকে স্কুলে ভর্তি ছিল, তারা অনলাইনে ক্লাস করলেও একেবারে প্লে গ্রুপের শিশুদের এভাবে ক্লাস করানো কঠিন। তাছাড়া এ বয়সে ভোরকে অনলাইন ক্লাসে অভ্যস্ত করতে রাজিও ছিলেন না তার বাবা-মা।

ভোরের মায়ের এ উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে। সেখানে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষার স্তর পর্যন্ত ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব শিশু শুরুর বছরগুলোতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, তারা প্রায় ক্ষেত্রেই স্কুলে কাটানো অবশিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে থাকে এবং বছরের পর বছর এই ব্যবধান বাড়তে থাকে। একটি শিশুর প্রাপ্ত শিক্ষাবছরের সংখ্যা তার ভবিষ্যতের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা জান্নাত আক্তারের দুশ্চিন্তা আরও বেশি। তার ছেলে আরিয়ান হোসেনের বয়স এখন ৬ বছর। কিন্তু সে এখনও স্কুলে যায়নি। ফলে তার শিক্ষাজীবন আরও পিছিয়ে যাবে।

নিউজবাংলাকে জান্নাত বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল ৫ বছরে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করার। কিন্তু করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এখন কোন ক্লাসে ভর্তি করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। তাছাড়া আমরা চাইলেই স্কুলগুলো ওপরের ক্লাসে ভর্তি নেবে কি না, তাও জানি না।’

মগবাজারের বাসিন্দা অর্পিতা সাহা বলেন, ‘করোনার কারণে ৫ বছরের ছেলে শুভ্র সাহাকে সঠিক সময়ে স্কুলে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ছেলে প্রতিদিনই স্কুলের ড্রেস পরে তৈরি হয়ে বাসায় বসে থাকে। আর সব বিষয়ে জেদ করে।’

মেয়ের শিক্ষার বয়স পিছিয়ে যাওয়ায় চিন্তিত মা নাহিদা খানম। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া শুরু করলে মেয়ের সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হতো, এখন ঘুম থেকে ওঠে বেলা করে।

‘ঘরে একা থাকার কারণে কথা বলাতে তার জড়তাও রয়ে গেছে। মোবাইল ফোন আর টেলিভিশনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সে খেলাধুলা করতে চায়, তবে ঘরে তো সুযোগ কম। আগে পার্কে গেলেও করোনায় কয়েক মাস বন্ধ থাকায় অনভ্যস্ততার কারণে এখন আর যেতে চায় না।’

নাহিদা খানম বলেন, ‘জীবনের শৃঙ্খলা স্কুলে যাওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়। স্কুলে না যাওয়ায় মেয়েটা পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষাজীবন শুরু হতে না হতেই মেয়েটার জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেল।’

সমাধান কী?

শুরুতেই পিছিয়ে পড়া এ শিশুদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার তাগিদ এসেছে শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে।

প্রাক-প্রাথমিকে পড়াশোনার চাপ কম থাকায় শিক্ষাবর্ষ ১২ মাসের বদলে কমিয়ে আনার পরামর্শ এসেছে। আবার ক্লাসে চাপ না দিয়ে শিশুদের সংবেদনশীলতার সঙ্গে যত্ন নিয়ে পড়ানোর তাগিদও এসেছে। প্রাক-প্রাথমিকে সনাতন পরীক্ষাপদ্ধতি ‍তুলে নেয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে
ছয় বছর বয়সী আরিয়ান হোসেন এখনও স্কুলে যায়নি। তাকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত তার বাবা-মা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশেই বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বিষয়টিকে বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।

‘আর যেসব শিশুর জীবন থেকে এক অথবা দুটি বছর হারিয়ে গেল, তাদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। কেননা দীর্ঘদিন বাসায় থাকার ফলে তাদের মানসিক ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিভিন্ন পরির্বতন এসেছে। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামও মনে করেন, ‘যে সময়টুকু চলে গেছে তা মেনে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।’

শিশুদের শিক্ষাজীবনের গ্যাপ কমানোর জন্য শিক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘গ্যাপ কমাতে শিক্ষকদের একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তবে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেয়ার বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। আর পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক (শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিশুর জীবন থেকে কয় বছর অথবা কোন ক্লাস পার হলো, এটাকে বিবেচ্য না করে শিক্ষার্থী এই সময়ে কতটুকু শিক্ষা অর্জন করল, সেদিকে নজর দেয়া উচিত।’

তার মতে, প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো যেতে পারে। এক বছরের বদলে ৮ বা ৯ মাস করা যায়। এ জন্য আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলে যাদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেছে, সেটি ফিরে পাবে।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি শিশুদের ক্লাসমুখী করতে বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রাদার লিও পেরেরা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগ প্রাক‌-প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রেই (কিছু ইংরেজি মাধ্যম ছাড়া) বইনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু শিক্ষাবিদরা চান শিক্ষার্থীরা যতটা বই পড়বে তার চেয়ে বেশি খেলাধুলা/গানবাজনা, চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি করবে। এগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার সঙ্গে তাদের পরিচয় করে দেয়া ও প্রস্তুত করা। এ বিষয়গুলোর প্রতি এখন বেশি করে জোর দিতে হবে।’

গতানুগতিক ক্লাস নেয়ার বিপক্ষে কথা বলেন এই শিক্ষক। বলেন, ‘প্রথমে তাদের স্কুলে আসার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। লম্বা সময় ধরে ক্লাস না নিয়ে আগে তাদের পড়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’

এসওএস হারমান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তার বর্তমান বাস্তবতা মেনে দ্রুত প্রাক‌-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সুযোগ দেয়ার পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ক্লাসের মতো এক দিনের জন্য হলেও প্রাক‌-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার সুযোগ দিতে হবে।’

দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় শিশুরা মানসিকভাবে চাপে থাকে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক। তিনি বলেন, ‘তারা ঘন ঘন বিরক্ত ও হতাশ হতে পারে, আবার তাদের দুষ্টুমিও বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।’

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কর নয়: হাইকোর্ট

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ শতাংশ কর নয়: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কর আদায় আপাতত বন্ধ রাখতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তাহমিনা পলি।

আইনজীবী চৌধুরী ইশরাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকার বাজেটের মাধ্যমে নতুন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর যে ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেছে, সে বিষয়টি আমরা ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করেছি। তখন আদালত আমাদের আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল দিয়েছেন এবং ১৫ শতাংশ করের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগেও একবার ১৫ শতাংশ কর আরোপ করেছিল। সেটা ছিল এসআরও মাধ্যমে। আর এখন এসআরও বাদ দিয়ে অর্থ বিলের মাধ্যমে নতুন করে আবার দিয়েছে। সেই আইনটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি। আদালত শুনানি নিয়ে আদেশ দেয়।’

১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায় থেকে আপাতত বিরত থাকতে নির্দেশনা চেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ রিট করা হয়। রিটে আইনসচিব, অর্থসচিব, এনবিআরের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে বিবাদী করা হয়।

বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ হলে উচ্চশিক্ষায় ব্যয় বাড়বে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কারণ বাড়তি করের বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ধরনের কর আরোপ উচ্চশিক্ষার ব্যয়ই শুধু বাড়াবে না, উচ্চশিক্ষার সুযোগকেও সংকুচিত করবে। ফলে সবার পক্ষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো আইন মোতাবেক সরকার করতে পারে না। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে, যা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠানগুলো চলে, সেখানে কর আরোপ করা যায় না। তাই এটি বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

প্রাইম ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষা কি কোনো পণ্য? তাহলে কেন বাজেটে বেসরকারি শিক্ষায় কর আরোপের প্রস্তাব করা হলো? এর ফলে আমরা যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তারা তো উচ্চশিক্ষা গ্রহণই করতে পারব না।’

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘এর আগেও সরকার একবার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমার ভাবতে অবাক লাগে সরকার কেন বারবার শিক্ষাকে পণ্য ভাবে?’

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু পিএইচডি ছাত্রবৃত্তির দরখাস্ত চায় ঢাবি

বঙ্গবন্ধু পিএইচডি ছাত্রবৃত্তির দরখাস্ত চায় ঢাবি

কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রত্যেক গবেষককে মাসিক ৩০ হাজার টাকা গবেষণাবৃত্তি প্রদান করা হবে।

বঙ্গবন্ধু পিএইচডি ছাত্রবৃত্তির জন্য পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত আহ্বান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের পিএইচডি গবেষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার অফিসের ৩২৩ নং কক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গবেষণাকর্মের বিষয়বস্তু ও পরিধি অবশ্যই বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের জীবন ও অবদানসহ বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও আন্দোলনভিত্তিক হতে হবে। পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির অনুমতিপ্রাপ্ত যেসব প্রার্থীর আবেদন রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে তারাও এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে প্রত্যেক গবেষককে মাসিক ৩০ হাজার টাকা গবেষণাবৃত্তি প্রদান করা হবে। এ ছাড়া গবেষণা থিসিস জমা দেয়ার পর তাদের এককালীন সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

শেয়ার করুন

জবি ছাত্রী হলে ‘গোলকধাঁধায়’ প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী উঠবেন কীভাবে?

জবি ছাত্রী হলে ‘গোলকধাঁধায়’ প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী উঠবেন কীভাবে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হল। ছবি: নিউজবাংলা

প্রভোস্ট বলেন, ‘প্রভোস্টের অফিস রুমে বসে কাজ করতে পারছি না। আমাকে ডিপার্টমেন্টের অফিসে থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। জনবল না থাকায় ডিপার্টমেন্টের অফিস সহায়ককে দিয়েই হলের কাজগুলো করাতে হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একমাত্র হলের নির্মাণকাজ শেষ হলেও হয়নি হস্তান্তর। এরই মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫তম সিন্ডিকেটে পাস হয়েছে হলের নীতিমালা। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পরই বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর নামে করা বেগম ফজিলাতুন নেছা হলে ছাত্রী তুলতে চলছে আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কাজ।

এমন বাস্তবতায় নিজের কক্ষের সার্বিক কাজ শেষ না হওয়া, জনবলশূন্যতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ছাত্রী হলের প্রতি তলাতেই একজন করে হাউস টিউটর দরকার। সেই হিসেবে ১৩ তলায় ১৩ জন হাউস টিউটর প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হলে একজন হাউস টিউটর আছেন। প্রভোস্টের রুমে আমার বসার জন্য টেবিল-চেয়ারসহ অন্যান্য আসবাবপত্র, পর্দা, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীর ছবি লাগানোর জন্য চিঠি দিয়েছিলাম গত মার্চের ১৬ তারিখ, যাতে সেখানে বসে ঠিকমতো কাজ করতে পারি।’

তিনি বলেন, “এই যে অফিসের কাজ করতে, টাইপ করতে কম্পিউটার, প্রিন্টারের দরকার হয়, এগুলো করার জন্য অ্যাসিস্ট্যান্টের দরকার। সেখানে বসে কাজ করলে একটা টেলিফোন দরকার। এসব চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তৎকালীন উপাচার্য মীজান স্যার স্বাক্ষর করে লিখেও দিয়েছিলেন ‘জরুরি ব্যবস্থা নিন।’ সেটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেয়াও হয়েছিল। তবু কাজ হয়নি।”

‘আবেদন জানানোর পরও কিছু পাই নাই’

প্রভোস্ট বলেন, ‘নতুন ভিসি স্যার আসার পর প্রথম মিটিংয়েই আমি আমার বক্তব্যে এসব বলেছি যে, আবেদন জানানোর পরও এখনও কিছু পাই নাই। তারপর তড়িঘড়ি করে কয়েকটা কাজ হয়েছে। এখনও আমাকে কম্পিউটার দেয়া হয় নাই, পর্দা লাগানো হয় নাই। আমার নেমপ্লেটও লাগানো হয় নাই। গত সপ্তাহে টিঅ্যান্ডটির লাইন লাগানো হইছে। এরপর আবার নতুন করে কিছুদিন আগে আলাদা আলাদা চিঠি দিয়েছি। এখনও পর্যন্ত সবকিছু পাইনি। বাকি কাজগুলো কবে হবে, সেটাও বলতে পারছি না।

‘প্রভোস্টের অফিস রুমে বসে কাজ করতে পারছি না। আমাকে ডিপার্টমেন্টের অফিসে থেকেই কাজ করতে হচ্ছে। জনবল না থাকায় ডিপার্টমেন্টের অফিস সহায়ককে দিয়েই হলের কাজগুলো করাতে হচ্ছে। তারপরও চেষ্টা করে যাচ্ছি ঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার।’

হল নির্মাণের কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ প্রভোস্টের।

জগন্নাথে কাজ দেরিতে হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই, তিন বছরের মধ্যে ২০-২২ তলা বিল্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়ে যায়৷ আমাদের এখানেই শুধু ৮-৯ বছর সময় লাগে। আমাদের নতুন একাডেমিক বিল্ডিংয়েরও একই অবস্থা। এতদিনেও কাজ শেষ হয় না। অন্যান্য জায়গায় এত সময় লাগে না; দ্রুতই বিল্ডিং উঠে যায়।

‘জগন্নাথেই শুধু এতটা সময় কেন লাগে জানি না। ছাত্রী হলের কাজটা আরও আগে শেষ হলে আমাদের ছাত্রীদের জন্য অনেকটাই সুবিধা হতো।’

হলের সিটের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়েও কথা বলেন প্রভোস্ট।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রীদের তথ্য আইটি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর। কাজ চলছে। কাজ শেষ হলেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিন-চার দিনের মধ্যেই হয়তো কাজ শেষ হয়ে যাবে। ছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। ৬২৪ জন ছাত্রী হলে সিট পাবে।

‘আমাদের প্রায় ৬-৭ হাজার ছাত্রী। প্রতিটি সিটের জন্য ১০০ জন দাবিদার। আমাদের চেষ্টা থাকবে দূরত্ব ও মেধা অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দেয়া। আমার পছন্দ ছিল যেন প্রতিটি রুমে ব্যাচ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সিট দিতে পারি। তারা তো নিজেদের সমস্যার কথা ভালো বুঝতে পারবে। কিন্তু অন্য কোথাও তো এমন নিয়ম নেই। তাই সিনিয়র জুনিয়র মিলিয়েই রুমে সিট বরাদ্দ হবে।’

জবির ছাত্রী হলটি নির্মাণের কথা ছিল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। এ সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর তৃতীয় দফায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। পরে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও গত বছরের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে হলের উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এরপর বাকি থাকা কাজ ২০২১ সালে এসে শেষ হয়।

শেয়ার করুন