যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক থেকে জিয়ার নাম মুছল যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের সড়ক থেকে জিয়ার নাম মুছল যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরে জিয়াউর রহমানের নামে হওয়া সড়ক থেকে নামফলক মুছে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা এ প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, তবে তাদের দাবিগুলো ছিল মৌখিক। আর আমাদের ছিল দালিলিক প্রমাণসহ বক্তব্য। প্রবাসী নেতারা প্রায় সাড়ে ৩০০ সই সংগ্রহ করে সাদামাটাভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের মতো কৌশলে রায়, রায়ের পর্যবেক্ষণ এবং যুক্তিতর্ক দিতে পারেনি। এটা অবশ্য তাদের জানার কথাও না। তারা তো আর বিশেষজ্ঞ না।’

যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে ঠান্ডা মাথার খুনি জিয়াউর রহমানের নামে কোনো সড়কের নামকরণ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর সিটিতে যে সড়কটির নাম ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ ছিল, সেটির নামকরণ বাতিলে নিজের ভূমিকা ও কৌশল জানিয়ে নিউজবাংলাকে বিচারপতি মানিক এ কথা বলেন।

জিয়ার নামে সড়কের নামকরণ বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘খুবই ভালো একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিটি মেয়র। একটি গণতান্ত্রিক দেশে একজন স্বৈরশাসকের নামে একটি সড়কের নামকরণ হতে পারে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘গত জুনে বিএনপির কিছু লবিস্ট টাকা-পয়সা খরচ করে সেখানে জিয়াউর রহমান ওয়ে নামে একটি সড়কের নামকরণ করেন। এটা জানতে পেরে আওয়ামী লীগের অফিস সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া কাজ শুরু করেন। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিমও ছিলেন। তারা আমাদের দেশের উচ্চ মহলে খবরটি জানান।

‘আওয়ামী লীগের বিপ্লব, সেলিম ছাড়াও কুমার দেবুল দে নামে আরেকজন আমার বাসায় আসেন। আমরা বসে বিষয়টি বাতিলের জন্য কৌশল ঠিক করি।’

জিয়াকে ঠান্ডা মাথার খুনি অভিহিত করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যায় জড়িত, খুনিদের বিচার বন্ধ করতে ইনডেমনিটি আইন প্রনয়ণ করেছিল। তাকে নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে পর্যবেক্ষণ আছে, যেখানে জিয়াকে ঠাণ্ডা মাথার খুনি বলা হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ও সপ্তম সংশোধনীতে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট বহু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে জিয়াকে নিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে জিয়া গণতন্ত্র ধ্বংস করে সাংবিধানিক শাসন ধ্বংস করেছে।

‘আমরা সব তথ্য যোগ করে আমেরিকার বাল্টিমোর সিটি মেয়রকে পাঠিয়েছি। এর সঙ্গে আমরা উচ্চ আদালতের রায়কে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে দিয়েছি। এরপর তারা কমিটি গঠন করেছে।’

নিজেদের অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারাও এ প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিলেন, তবে তাদের দাবিগুলো ছিল মৌখিক। আর আমাদের ছিল দালিলিক প্রমাণসহ বক্তব্য। প্রবাসী নেতারা প্রায় সাড়ে ৩০০ সই সংগ্রহ করে সাদামাটাভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের মতো কৌশলে রায়, রায়ের পর্যবেক্ষণ এবং যুক্তিতর্ক দিতে পারেননি। এটা অবশ্য তাদের জানার কথাও না। তারা তো আর বিশেষজ্ঞ না।’

নাম বাতিলের সিদ্ধান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর সিটির মেয়র সাহেব আমাদের ডাকেন। আমরা একটি ওয়েবিনারে যুক্ত হই। সেখানে আমি ও প্রফেসর এম এ আরাফাত ঢাকা থেকে যুক্ত ছিলাম। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক আলাপ-আলোচনা শেষে সড়কটির নাম জিয়ার নামে রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।’

‘ওয়েবিনারে আমাদের বক্তব্য ছিল, যেখানে বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট জিয়াকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলেছে, ঠান্ডা মাথার খুনি বলেছে, সংবিধান লঙ্ঘনকারী বলেছে, স্বৈরশাসক বলেছে, সেখানে আব্রাহাম লিংকনের দেশে তার নামে কোনো সড়ক হতে পারে না। এই বিবেচনায় তারা সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে মেয়রের সিদ্ধান্ত বদলের মূল কাজটি আমরা এখান থেকেই করেছি। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের চেষ্টা ছিল হালকা, সাদামাটা। আর আমাদের পদক্ষেপ ছিল আইনগত। তাহের হত্যার মামলার রায়ে জিয়াকে নিয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলাম। আমরা সেগুলো তাদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

বিচারপতি মানিক বলেন, ‘জিয়াকে নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের রায়, বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলামের রায় যুক্ত করে বিশেষ অংশটুকু পাঠিয়েছি। যেখানে বলা আছে, জিয়া অবৈধভাবে বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখল করেছে। প্রায় পাঁচ-ছয় পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট আমরা পাঠিয়েছিলাম।

‘আমাদের ভূমিকাই ছিল মূল। আমেরিকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতারা যে বলছেন, তারাই সব কিছু করেছেন, ব্যাপারটি আসলে তা নয়। বরং আমরাই দেশ থেকে মূল ভূমিকা রেখেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ম্যারিল্যান্ডের বাল্টিমোরের একটি সড়ক থেকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামফলক সরিয়ে দেয়া হয়। নামফলক সরানোর এ সিদ্ধান্ত নেয় বাল্টিমোর সিটি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানালেন তিনি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

রোহিঙ্গা সংকট পঞ্চম বছরে পড়লেও কোনো অগ্রগতি নেই জানিয়ে এই বিশ্বসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি।’

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেয়া পদক্ষেপ আসিয়ানের নেতারা আরও গতিশীল করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহিতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।’

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ‘সাময়িক অবস্থানকে’ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ভাসানচরে স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

‘আফগানের উন্নয়নে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ’

‘আফগানের উন্নয়নে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ’

১৫ আগস্ট কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান গোষ্ঠী। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের ওপরই নির্ভর করে।’

আফগানিস্তানের উন্নয়নে দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ করতে প্রস্তুত বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শুক্রবার ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে নিজের ভাষণে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ বছরের এপ্রিলে আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধের ইতি টেনে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা ফেরত নেয়ার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেই ঘোষণার পর থেকে উজ্জীবিত তালেবানরা। একের পর এক দখলে নিতে শুরু করে আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ।

সবশেষ গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কট্টর ইসলামপন্থি দলটি। তবে সরকার গঠনে সময় নিচ্ছিল তালেবান। সেই অপেক্ষার অবসান হয় ৭ সেপ্টেম্বর।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের কথা জানিয়ে নারীসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে জানায় তালেবান। কিন্তু পাল্টে যায় সুর। জানায়, এককভাবেই সরকার গঠন করবে তারা। রাখা হবে না কোনো নারী নেতৃত্বও। অন্তবর্তী সরকারেও তাই দেখা গেল।

দীর্ঘ যুদ্ধে দেশের ভগ্নদশা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পর্ক স্থাপন করাকে তালেবান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠনের পরদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো অনুমোদন না দিলে আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারকে বাংলাদেশও স্বীকৃতি দেবে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তানের উন্নয়নে জাতিসংঘ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) উদ্যোগ নিলে সে বিষয়ে সমর্থন দেবে বাংলাদেশ।’

তার ঠিক এক দিন পর ৯ সেপ্টেম্বর তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে ভারত কিংবা পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আফগানিস্তান আমাদের সার্কের সদস্য। তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে, কিন্তু গত টার্মে আমরা দেখেছি আমাদের দেশের অনেক মানুষ সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসে অংশ নিয়েছে। আমরা এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স। কোনোভাবেই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেব না।’

মোমেন জানান, আফগানিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন পর্যবেক্ষণে আছে। সে দেশের জনগণ যে সরকার গঠন করবে, ঢাকাও সেই সরকারকে স্বীকৃতি দেবে।

তার দুই সপ্তাহ পর জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশটির জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যেতে বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।’

তবে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আফগানিস্তানের ভাগ্যও দেশটির জনগণের হাতে বলেও নিজের মত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আফগানিস্তানের বিনির্মাণ এবং ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ আফগানিস্তানের জনগণের ওপরই নির্ভর করে।’

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজনে প্রযুক্তি চান প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ ও অভিযোজনে প্রযুক্তি চান প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ধনী অথবা দরিদ্র-কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।’

করোনাভাইরাস মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

এ জন্য ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে শুক্রবার দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘এ (করোনা) মহামারি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে অধিকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের ওয়ার্কিং গ্রুপ-১-এর প্রতিবেদনে আমাদের এ গ্রহের ভবিষ্যতের এক ভয়াল চিত্র ফুটে উঠেছে।’

দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ধনী অথবা দরিদ্র-কোনো দেশই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া থেকে নিরাপদ নয়। তাই আমি ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং টেকসই অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন ও প্রযুক্তির অবাধ হস্তান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং ভালনারেবল-২০ গ্রুপ অব মিনিস্টার্স অফ ফাইন্যান্স-এর সভাপতি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজ দেশে নেয়া পদক্ষেপগুলো বিশ্ব সভায় তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা- দশক ২০৩০-এর কার্যক্রম শুরু করেছি। এ পরিকল্পনায় বাংলাদেশের জন্য জলবায়ুকে ঝুঁকির কারণ নয়, বরং সমৃদ্ধির নিয়ামক হিসেবে পরিণত করার কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে।’

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় ‘কনফারেন্স অব পার্টিজ’-এর ২৬তম শীর্ষ সম্মেলন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ের অপার সুযোগ করে দিতে পারে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এ সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাই।’

বিপর্যস্ত শিক্ষা

করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় নেমে আসা বিপর্যয় নিয়েও কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। আর তাই শিক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে জাতিসংঘকে পাশে চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সরঞ্জামাদি ও সেবা, ইন্টারনেটের সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য আমরা জাতিসংঘকে অংশীদারিত্ব ও প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই।’

জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে আংশিক বা পুরোপুরি বিদ্যালয় বন্ধের কারণে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিম্ন আয়ের দেশগুলোর লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর দূরশিক্ষণে অংশগ্রহণের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি না থাকায় ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার ইত্যাদি অর্জনগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।’

উন্নয়নশীল দেশে ‍উত্তরণে বাধা মহামারি

স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করোনা মহামারির কারণে বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিমত প্রধানমন্ত্রীর। তাই টেকসই উন্নয়নে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে প্রণোদনার দাবি রাখেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ অতিমারির নজিরবিহীন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে রয়েছি। তবে, এ মহামারি অনেক দেশের উত্তরণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপন্ন করেছে।

‘স্বল্পোন্নত দেশের টেকসই উত্তরণ ত্বরান্বিত করার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আমরা প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণ কাঠামো প্রণয়নে আরও সহায়তা আশা করি।’

এলডিসি-৫ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি যে, দোহা সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট ফলাফল আরও বেশি সংখ্যক দেশকে সক্ষমতা দান করবে, যেন তারা স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে টেকসইভাবে উত্তরণ করতে পারে।’

প্রবাসীদের চাকরিচ্যুত না করার আহ্বান

করোনা মহামারিকালে প্রবাসী কর্মীদের চাকরিচ্যুতি, বেতন কাটা, বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকটকালে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে অভিবাসনগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মহামারিকালে প্রবাসীরা অপরিহার্য কর্মী হিসেবে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তাদের অনেকে চাকুরিচ্যুতি, বেতন কাটা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবার সহজলভ্যতার অভাব ও বাধ্যতামূলক প্রত্যাবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই সংকটকালে অভিবাসীগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভিবাসীদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করার এবং তাদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং কল্যাণকে নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

শান্তির সপক্ষে বাংলাদেশ

সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি।’

বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারির নজিরবিহীন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে কঠিনতম পরিবেশে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশকে ‘নিরস্ত্রীকরণের অবিচল সমর্থক’ হিসেবে বিশ্বসভায় তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সম্পূর্ণ নির্মূলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

আর তাই বাংলাদেশ ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ অনুস্বাক্ষর করেছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের শুরুতে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

জাতিসংঘ হোক ‘ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল’

সার্বজনীন বিষয়গুলোতে বিশ্বের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং নতুন নতুন অংশীদারত্ব ও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য দেশগুলো এই জাতিসংঘের মঞ্চ থেকেই তা শুরু করতে পারে। তবেই আমরা সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উত্তরণের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ সহযোগিতা অর্জন করতে পারব।’

ক্রান্তিকালে জাতিসংঘকে ‘ভরসার সর্বোত্তম কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেই ভরসাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রত্যয়ে আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে একযোগে কাজ করি।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাতের কথা। জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে পিতা হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার এই মহান সংস্থার সামনে বিগত প্রায় ৪৬ বছর আগে আমার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় উঠে আসে সেই কালরাতের কথা। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী ঘাতক আমার পিতা, বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আমার স্নেহময়ী মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ১০ বছরের শেখ রাসেল, চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য ও নিকটাত্মীয়কে নির্মমভাবে হত্যা করে।’

ছোটবোন শেখ রেহানাসহ তিনি ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ৬ বছর দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি।’

দেশে ফিরে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরুর করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আজও আমি কাজ করে যাচ্ছি।’

যতদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাবেন বলে নিজের প্রত্যয় জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

জাতিসংঘে টিকা প্রযুক্তি চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘে টিকা প্রযুক্তি চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ । ছবি: নিউজবাংলা

করোনাভাইরাসকে বিশ্বের ‘অভিন্ন শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই অণুজীব মোকাবিলায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টিকা বৈষম্য রেখে টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমদানি করে টিকা নিশ্চিত করা সব দেশের পক্ষে সম্ভব নয়- এমন ধারণা থেকে কোভিডমুক্ত বিশ্ব গড়তে টিকা প্রযুক্তি উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনাভাইরাসকে বিশ্বের ‘অভিন্ন শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই অণুজীব মোকাবিলায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও এই মহামারি আরও বেশ কিছুদিন স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে। সেজন্য এ অভিন্ন শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের অনেক বেশি নতুন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

কোভিডমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে টিকার সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী মূল্যে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘে টিকা প্রযুক্তি চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, “গত বছর এ অধিবেশনে আমি কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক সম্পদ’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। বিশ্বনেতাদের অনেকে তখন এ বিষয়ে সহমত পোষণ করেছিলেন। সে আবেদনে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং আমরা ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে টিকা বৈষম্য বাড়তে দেখেছি।”

উৎপাদিত টিকার ৮৪ শতাংশ উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের কাছে পৌঁছেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন আয়ের দেশগুলো এক শতাংশেরও কম টিকা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে এ টিকা বৈষম্য দূর করতে হবে। লাখ লাখ মানুষকে টিকা থেকে দূরে রেখে কখনই টেকসই পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। আমরা পুরোপুরি নিরাপদও থাকতে পারবো না।’

সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবিলম্বে টিকা প্রযুক্তি হস্তান্তর টিকার সমতা নিশ্চিত করার একটি উপায় হতে পারে। প্রযুক্তি সহায়তা ও মেধাস্বত্ত্বে ছাড় পেলে বাংলাদেশও ব্যাপক পরিমাণে টিকা তৈরি করতে সক্ষম।’

কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ আশঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশে অনেক কম হয়েছে। এমনটি জাতিসংঘকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায় থেকে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, এ মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সময়োচিত, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করতে শুরুতে আমাদের বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’

অর্থনীতিকে সচল রাখতে দেয়া ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেটে ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের সংস্থান রাখা হয়েছে।’

অতি দরিদ্র, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশ-ফেরত প্রবাসী ও অসহায় নারীদের মতো সমাজের দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর জন্যে তার সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘গত বছর মহামারির প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আমরা প্রায় ৪ কোটি মানুষকে নগদ অর্থসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংরে নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে তার ভূমিকা কী ছিল সেই প্রসঙ্গটি যেমন সামনে আসছে, তেমনি আগামী সিটি নির্বাচনের সমীকরণও সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে একজনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তুমুল আলোচনা।

প্রকাশিত রেকর্ডটিতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা ও আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের অন্যতম এই নেতা।

গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে সেই ভিডিওতে।

স্বভাবতই বিষয়টি পছন্দ হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের। তিন দিন ধরে নানাভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা।

আজমত এরই মধ্যে কথা বলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। জানিয়েছেন, কমিটিতে তার ডেপুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন শীর্ষ পর্যায় থেকে সংকেত আসার পরে।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মিছিল। ফাইল ছবি

এই ভিডিওকে বানোয়াট বলে পার পেতে চাইছেন জাহাঙ্গীর। তিনি তার অনুসারীদেরকে নিয়ে একটি সমাবেশও করেছেন, যার পাশে তার বিরোধীদের অবস্থান ছিল পুলিশ বিরোধীদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর জাহাঙ্গীর নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেছে।

বহুধাবিভক্ত গাজীপুর আওয়ামী লীগে নতুন সমীকরণ

দৃশ্যত শুক্রবার জয় হয়েছে জাহাঙ্গীরের। তবে গাজীপুরের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলে যে ফাটল ধরে গেছে, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগেই তুমুল আলোচনায় ছিলেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে সে সময় দলের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ উঠে এসেছিল, তার মধ্যে ভোট থেকে সরে গেলেও জাহাঙ্গীর অনুসারীদের তৎপর না থাকা ছিল একটি।

পরে ২০১৮ সালে যখন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ, তখন তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেন।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে 'কটূক্তির' অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মিছিল। ফাইল ছবি

এরপর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ভিড়তে শুরু করে তার কাছেই। তবে এবার তার গুণমুগ্ধদের একটি অংশই বেঁকে বসেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষরা চুপ আছি। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও যাইনি, আনন্দ মিছিলেও যাইনি। এত বড় ঘটনা ঘটছে, সেন্ট্রাল (কেন্দ্র) কিছু বলছে না। আমরা সেন্ট্রালের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

জাহাঙ্গীর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে বানোয়াট বললেও সেটা হালে পানি পাচ্ছে না। বরং এর আগে ৪ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। এবার ছড়িয়েছে ১১ মিনিটের একটি। এখানে আরও বেশ কিছু কথা আছে, যা আরও ক্ষুব্ধ করছে তার বিরোধীদেরকে।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুলে ধরেন সে কথাই। আওয়ামী লীগের প্রধান অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। তাকে নিয়ে যে বক্তব্য শুনা যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা পার্টি ফোরামে কথা বলব। কিন্তু মিটিং কে ডাকবে? সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষে অবস্থান করছে। আজকে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ ছিল। কিন্তু এতে সভাপতি আসে নাই।’

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভের সময় ঢাকা থেকে গাজীপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফাইল ছবি

মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছে তা মিথ্যে প্রমাণ করা না পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ। সে কথাও জানিয়ে দিলেন রজব আলী।

টঙ্গী পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র আজমত গাজীপুরে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে তার পরাজয় ছিল অপ্রত্যাশিত। সে সময় তিনি জাহাঙ্গীর অনুসারীদের সমর্থন পাননি বলে প্রচার আছে। এও প্রচার আছে যে, জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তার বিপক্ষে কাজ করেছে। এই বিষয়টি আট বছর পর আবার সামনে আসছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও ২০১৫ তারা দুজন এক হয়ে যান দুজন। নিজেদের মধ্যে কমিটিকে কেন্দ্র করে একটা সমঝোতা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরেই বলবৎ ছিল।

‘এই দুজনের সমঝোতার কারণে একই এলাকার একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কিছুটা পাশে পড়ে যান। যা মেয়র জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে নিয়ে যায়।’

আগামী সিটি নির্বাচনও আছে হিসেবে

আগামী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সমীকরণও আছে। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল এবার মেয়র নির্বাচনে আগ্রহী। তিনি মেয়রের শাস্তির দাবিতে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তারও একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী আছে সেখানে।

মামুন গাজীপুরের প্রভাবশালী একাধিক নেতা এমনকি আজমত উল্লাহ খানেরও সমর্থন পাচ্ছেন বলেও এলাকায় প্রচার আছে।

শুক্রবার মেয়র জাহাঙ্গীর যেখানে সমাবেশ করেছেন, তার অদূরে মামুনের কার্যালয় ঘিরে যে কর্মসূচি পালন করেন, তাতে আজমত অনুসারীদেরকেও দেখা গেছে, যদিও তিনি নিজে সেখানে যাননি।

কী করবেন জাহাঙ্গীর

দেশে ফিরেই মেয়র এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, এই ভিডিও (ভাইরাল রেকর্ড) বানোয়াট, কথা কেটে কেটে বসানো হয়েছে। ভিডিওগুলো ফেসবুক থেকে ডিলিট করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন, নইলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুক্রবারের সমাবেশেও মেয়র বলেছেন, তিনি চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচন করে দেবেন। তবে এগুলো যে মাঠের রাজনীতির কথা, সেটি নিউজবাংলাকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভে মেয়রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের অবস্থায়। ফাইল ছবি

কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন, এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।’

‘প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না’

মেয়র যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় নিউজবাংলাকে আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

গাজীপুর তিনদিন ধরে উত্তপ্ত থাকলে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় চুপ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোনো মন্তব্য করছেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন গাজীপুরের নেতারা।

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

রাবির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মেস

রাবির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মেস

রাজশাহী মহানগরীর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেয়া হবে না। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হলে তারও সমাধান করা হবে। আশা করি সকল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিরাপদে মেসে থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২১ সেশনে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মেসে থাকতে পারবে।

রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক শেষে শুক্রবার সন্ধায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যায়ের প্রক্টর লিয়াকত আলী।

তিনি বলেন, ‘মহানগর মেস মালিক সমিতির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের বিনামূল্যে মেসে রাখা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে মেস মালিকরা।’

প্রক্টর লিয়াকত জানান, যদি কোনো মেস মালিক টাকা চায় বা টাকার জন্য চাপ দেয়, তাহলে ভুক্তভোগীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানাবেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা হলে মেসের নাম ও মালিকের নম্বর আমাকে (প্রক্টর) পাঠালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

রাজশাহী মহানগরীর মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেয়া হবে না। তাদের কোনো ধরনের সমস্যা হলে তারও সমাধান করা হবে। আশা করি সকল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী নিরাপদে মেসে থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।’

করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল। এ কারণে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তাদের রাজশাহীতে অবস্থান করা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহী মেস মালিক সমিতিগুলো ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের তাদের মেসে বিনামূল্যে রাখার ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

ধর্মঘটের ধকল সামাল দিতে ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একসঙ্গে ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ৩৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট জট সামলে বহির্নোঙরে জাহাজের লাইন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘বহির্নোঙরে জাহাজের জট আছে বলা যাবে না। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যে আমরা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিলাম, সেটাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

‘গত দেড় মাস ধরে আমরা ৫০ শতাংশ জাহাজ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভেড়াতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৃহস্পতিবার ১১টি কনটেইনার জাহাজ ছিল। যার মধ্যে একটি জাহাজ চার দিন অপেক্ষায় ছিল। ৭টি জাহাজের মধ্যে তিন দিন, দুই দিন করে অপেক্ষমাণ ছিল। বাকি তিনটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ ছিল। বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। রপ্তানি পণ্য বন্দর জেটিতে না পৌঁছানোয় ও আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে না পারায় নির্ধারিত দুটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ছাড়তে পারেনি।

কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। কর্মবিরতির কারণে ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া বন্ধ ছিল।

কনটেইনার পরিবহনকারী প্রাইম মুভার ট্রেইলর গাড়িতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নেয়া হয়। আবার আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে আনা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ডিপো ও বন্দরে নিয়মিত আনা-নেয়া হয় এসব গাড়িতে। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ ছিল। গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন:
বাল্টিমোরে সড়ক থেকে সরল জিয়ার নাম

শেয়ার করুন