২০২০ সালের ২ মে দলটির যাত্রা শুরু হয় ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি নামে, যা সংক্ষেপে ‘এবি পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়। দলটির বর্তমান সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান মঞ্জু এককালে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।
নিউজবাংলা: জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কেমন? আপনাদের দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই অনেকের মধ্যে ধারণা ছিল, জামায়াত ভেঙ্গে দলটির সৃষ্টি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আপনারা মূলধারায় আসতে পারছেন না। কেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: জামায়াতের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্কের প্রশ্ন আসে না এ কারণে যে, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল করেছি। আমি কিংবা আরও দুই-একজন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে, যাদের অনেকেই জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছে, আবার কাউকে কাউকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা ক্লোজ চ্যাপটার। আমরা যে দল শুরু করেছি, সেটি সম্পূর্ণ নতুন চিন্তা আদর্শ, নতুন কর্মসূচি, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। এটার সঙ্গে জামায়াতের কোনোই সম্পর্ক নাই। বরং নতুন দল করার পর জামায়াত আমাদের বিরুদ্ধে বলছে যে, আমরা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেছি, আমরা ধর্মকে বাদ দিয়ে দিয়েছি। এ ধরনের অপপ্রচার জামায়াত আমাদের বিরুদ্ধে করছে। সুতরাং আমি মনে করি, আমাদের রাজনৈতিক উদ্যোগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, পৃথক। শুধু জামায়াত নয়, কোনো দলের সঙ্গেই আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ স্বাধীন চিন্তার আলোকে নতুন একটা উদ্যোগ।
দলের প্রতিষ্ঠার শুরুতে আমরা এ ধরনের প্রচার দেখেছি যে, আমাদের উদ্যোগকে অনেকে জামায়াতের ভাঙ্গণ হিসেবে দেখেছেন। আমরা তখন বলেছি যে, এটা একটা ভুল ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং এটা একটা অপপ্রচার।
আমাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক সাহেব ওনার ব্যাখ্যা দিয়ে দল থেকে বের হয়ে গেছেন। আর সোলেমান চৌধুরী সাহেবও জামায়াত থেকে বের হয়েছেন। আমরা যখন জামায়াতে ছিলাম, তখন একটি বিষয় নিয়ে আমরা দলে ফাইট করেছি কেউ কেউ।
আর মূলধারায় আসার বিষয়ে আমি বলব, একটা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠা তো এক দিনের ব্যাপার না। বাংলাদেশে সত্যিই এখন রাজনীতির একটি বৈরি পরিবেশ যাচ্ছে। তার ওপর চলছে করোনা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে রাজনীতিই তো কঠিন পরিস্থিতিতে আছে। আমরা মনে করি, যারা দেশকে নিয়ে ভাবে, তাদের যে কোনো পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়। এ জন্যই আমরা বৈরি পরিস্থিতিতেও রাজনৈতিক দলের সূচনা করেছি।
নিউজবাংলা: বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর নিয়ে কী বলবেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
নিউজবাংলা: এখন কীভাবে দলকে সংগঠিত করছেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমরা ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টি জেলায় কমিটি করেছি। প্রায় ৮০টার মতো উপজেলায় আমরা কমিটি করেছি। আমরা আমাদের দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছি। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, পরিস্থিতি সব কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের দল সময়ের ব্যবধানে এগিয়ে যাবে। আমরা কোনো চমক সৃষ্টি করার জন্য দল তৈরি করিনি। বাংলাদেশের রাজনীতির অতীতের যে ব্যর্থতা, সেটা থেকে উদ্ধার করে নতুন একটা দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আমরা দল করেছি।
নিউজবাংলা: অনেকে বলেন, তুরস্কের আধ্যাত্মিক নেতা ও ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লা গুলেনের মতাদর্শে আপনারা এবি পার্টি সৃষ্টি করেছেন এবং দলকে সংগঠিত করছেন। কী বলবেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: এটাও একটা অপপ্রচার। আমাদের দলের ১০ জন কর্মীকে যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে দেখবেন ফেতুল্লা গুলেনের নামই শোনেন নি তারা। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দার্শনিকের জন্ম হয়েছে, আমরা সবার রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করছি। তবে ফেতুল্লা গুলেনের কোনো রাজনৈতিক দর্শন-চিন্তা যদি আমাদের রাজনৈতিক কাজে লাগে, তবে আমরা সেটা ব্যবহার করব, অসুবিধা কী? কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চিন্তাধারায় আমরা প্রভাবিত না। আমি মনে করি, এটা রাজনীতির জন্য ঠিকও না। দেশ ও বিশ্ব রাজনৈতিক বিবেচনায় আমরা আমাদের রাজনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছি। আমরা দলের রাজনীতিতে অধিকারভিত্তিক, কর্মসূচিভিত্তিক দল করতে চাই। আমরা মানুষের সমস্যার সমাধান, সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি চালু করতে চাই দেশে। আর দেশের মৌলিক জায়গা ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ – এ দুটোকে বিতর্কের উর্ধ্বে রেখে আমরা আমাদের রাজনীতি করতে চাই। এ দুটোর চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের জায়গা আমরা তৈরি করতে চাই।
নিউজবাংলা: আপনি বলছেন, আপনার দল সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি করতে চায়। কিন্তু সেটার জন্য তো প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সেটা কীভাবে সংগ্রহ হচ্ছে?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: রাজনৈতিক দলের তহবিল দলের কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়েই হয়। দল যত বড় হবে, তার অর্থের শক্তিটাও সাথে সাথে বাড়বে। আমি মনে করি, অবশ্যই আমরা সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতি করতে চাই। আমি আপনাকে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই: করোনা যখন প্রথম শুরু হয়, যখন লকডাউন শুরু হয়েছিল, প্রাথমিক অবস্থা দেখে আমরা খুব ব্যথিত ছিলাম, যে এই যে মানুষজন, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কী হবে। তখন আমাদের মধ্যে থেকে একজন প্রস্তাব দিল যে, আমরা ‘ফুড ব্যাংক’ চালু করতে পারি কীনা। মানে যাদের খাদ্য আছে, তারা অতিরিক্ত খাদ্য জমা করবে, আর যাদের নেই, সেই খাদ্য তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। আমরা এটি নিয়ে কাজ শুরু করলাম। আমরা দেখলাম ২২ হাজার টাকার মতো প্রথম দিনে আমাদের যোগাড় হয়েছে। আমরা সেই টাকায় খাদ্য কিনে দুস্থদের মাঝে দিয়েছি। আমি মনে করি, সার্ভিস ওরিয়েন্টেড রাজনীতির একটা শক্তি হচ্ছে, সেটা প্রতিষ্ঠা হলে মানুষ তার সামর্থ্য নিয়ে পাশে দাঁড়াবে।
নিউজবাংলা: অনেকে বলেন, সরকারের সঙ্গে আপনাদের ভালো সম্পর্কের কারণে আপনারা রাজনীতি করতে পারছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমাদেরকে অনেকে অনেকভাবে বলছে। রাজনীতির জায়গাটা হলো, আপনাদের নানা ধরনের ব্লেম, নানা ধরনের মানুষের ধারণার ওপর কাজ তো হবেই। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, সেটার বেসিস কী? আপনি শুনলে অবাক হবেন, আমরা যখন প্রথম রাজনৈতিক দল ঘোষণা করলাম, সেদিনই পুলিশ এসে আমাদের বলেছে, আমরা মিটিং করতে পারব না। কারণ আমরা পারমিশন নেইনি। আমরা বলেছি, মিটিং করতে হলে পারমিশন নিতে হবে এটা কোথায় বলা আছে, সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে এটা বলা আছে? আমরা যে কমিটি করছি, সেখানে আমরা গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের ঘরোয়া মিটিংয়েও পুলিশ বাধা দিয়েছে।
এগুলো হচ্ছে অপপ্রচার। আমরা মনে করি, সরকারের সহযোগিতা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো দিন কোথাও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। দালালি করে অন্যের স্বার্থ নিয়ে রাজনীতি করে কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। আমরা এটা করতে চাইব না।
আমাদের একই দিকে দুই ধরনের ব্লেইম শুনতে হচ্ছে। কেউ বলছে, আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) বি টিম। কেউ বলছে, আমরা সরকারের বি টিম। ওরা বলছে, আমরা সরকারের দালাল, আবার সরকারের লোকেরা সন্দেহ করছে, আমরা অন্য দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নতুন দল খুলেছি কীনা।
কাজেই, আমরা চ্যালেঞ্জ দিতে চাই। কেউ যদি আমাদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রমাণ করতে পারে আমরা কারও পক্ষ হয়ে, সুবিধা নিয়ে, সাহায্য নিয়ে দল হিসেবে কাজ করছি, তাহলে আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি আছি।
নিউজবাংলা: আপনারা কি বিএনপির সঙ্গে সরকারবিরোধী জোটে থাকবেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: আমাদের দলের এখনও নিবন্ধন হয় নি। আমরা নিবন্ধনের জন্য চেষ্টা করছি। দলের কমিটিগুলোর নিবন্ধনের জন্য কাজ করছি। আমরা এখন পর্যন্ত রাজপথে কোনো কর্মসূচি নিয়ে নামিনি। আমাদের বেশিরভাগ কাজ হচ্ছে ঘরোয়াভাবে। রাজপথে নামার সুযোগও তৈরি হয় নি। লকডাউনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ বৈরি। আমাদের এখন কাজই হচ্ছে দলটাকে শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যাওয়া। এরপর আমরা জোটবদ্ধ হব কিনা, পরে দেখা যাবে।
নিউজবাংলা: আপনাদের দলের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দেশে আসছেন না কেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: উনি পেশার কারণে প্রথমে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন। যাওয়ার পর দেখা গেল, ওনার বিরুদ্ধে দুটো মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ওনার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে যে, উনি দেশে এলে ওনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি তখন বিরাজমান ছিল। সে কারণে সে সময় তিনি আর দেশে আসেননি।
দেশে না ফেরার কারণে উনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সেখানেই উনি ল প্র্যাকটিস করছেন। মাঝখানে তিনি অসুস্থও হয়েছেন, ওনার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। উনি ট্রিটমেন্টে আছেন। সার্বিক বিষয় মিলিয়ে ওনার বিরুদ্ধে এই যে হুমকি, যে উনার মতো একজন বিখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, উনি দেশে এলে ষড়যন্ত্র হতে পারে, এ কারণে উনি দেশে আসছেন না। সব মিলিয়ে একটা সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে উনি দেশে ফিরে আসবেন।
নিউজবাংলা: আপনি বলছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দেশের একটি শক্তি। কিন্তু আমরা দেখেছি, যুদ্ধাপরাধীদের প্রসিকিউটর হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন। তিনিই এখন আপনাদের দলের উপদেষ্টা। কী বলবেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: রাজ্জাক সাহেবকে এই প্রশ্ন অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও করেছিল। এটা উনি ক্লিয়ার করেছিলেন। উনি একজন প্রফেশনাল আইনজীবী হিসেবে সেটা করেছেন। তিনি যখন জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছেন, তখন কিন্তু স্পষ্টভাবে ওনার পজিশন ক্লিয়ার করেছেন। সুতরাং উনি যুদ্ধাপরাধের সহায়ক, এটা মিন করে না।
নিউজবাংলা: আফগানিস্তানে বর্তমান যে পরিস্থিতি চলছে, সেটিকে কীভাবে দেখছেন? বাংলাদেশের ওপর এটার প্রভাব কেমন হবে বলে মনে করেন?
মুজিবুর রহমান মঞ্জু: প্রভাব তো অবশ্যই বাংলাদেশের ওপর পড়বে। প্রত্যেক দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সে দেশের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। আমি মনে করি, দক্ষিণ এশিয়ার একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে একটা প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটা পুতুল সরকারের বিরুদ্ধে বিজয়ের বিষয় সামনে আসছে। আর একটা বিষয় আসছে, ওখানে (আফগানিস্তানে) যে একটা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, এটাও একটা সীমা তৈরি করে যে, পটপরিবর্তন সম্ভব।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেকের জন্য ১০ কেজি ওজনের একটি করে সুদৃশ্য উপহার প্যাকেট পাঠানো হয়েছে। স্পিকার থেকে শুরু করে সংসদের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছেও এই উপহারগুলো সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকেই সংসদ ভবনের করিডোরগুলোতে এই ১০ কেজির প্যাকেটে কী আছে, তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল দেখা দেয়। পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে জানা যায়, বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পাঠানো এই সুদৃশ্য প্যাকেটে ছিল মূলত চলতি মৌসুমের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুস্বাদু আম।
অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদের প্রতিটি দপ্তরে গিয়ে এই উপহার পৌঁছে দেন।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা জানান, এই উপহার বিতরণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনন্য দিক ছিল এর সমবণ্টন নীতি, যার ফলে সংসদের কোনো স্তরের মানুষই এই তালিকা থেকে বাদ যাননি।
সাধারণত দেখা যায় ভিআইপি বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই বিভিন্ন ধরনের উপহার পেয়ে থাকেন, কিন্তু ড. শফিকুর রহমানের এই বিশেষ উপহার তালিকায় সংসদের ঝাড়ুদার, পিয়ন, লিফটম্যান ও গাড়িচালকরাও সমভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
আকস্মিক এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সংসদ সচিবালয়ের একজন সাধারণ অফিস সহায়ক বলেন যে, তাঁরা ছোট চাকরি করার কারণে বড় বড় নেতাদের উপহার বা সুযোগ-সুবিধা কেবল দূর থেকেই দেখে অভ্যস্ত। আজ বিরোধীদলীয় নেতা নিজে তাঁদের মতো সাধারণ কর্মচারীদের কথা মনে করে ১০ কেজির এই উপহার পাঠিয়েছেন, যা তাঁদের জন্য অত্যন্ত বড় সম্মানের ও আনন্দের বিষয়।
বাংলাদেশের চেনা ও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি ও বিরোধীদলের সম্পর্কের বরফ যেখানে সহজে গলতে চায় না এবং দলগুলোর মধ্যে তীব্র দূরত্ব বজায় থাকে, সেখানে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্যও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ ধারা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।
সোমবার (২২ জুন) সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যকালে জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দলটি ১৯৭১ সালে এদেশের মহান স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল, তারা এই স্বাধীন দেশে রাজনীতি করতে পারে না।
তিনি সংসদের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিও বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণার তীব্র সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, শুধু নামের পরে ইসলাম থাকলেই প্রকৃত ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করেন এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশত দেওয়ার মতো কথা বলেছেন, তাদের কর্মকাণ্ড সবাই দেখেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও সকল পাপ মওকুফ হওয়া যাবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এভাবে ইসলামের নামে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারের সময় ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক মন্তব্য করেছিলেন যে বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন, যে কারণে পরবর্তীতে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।
একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ পবিত্র মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর এবং সেখানে মানুষ কেবল নামাজ ও কোরআন শরিফ পড়বে, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
তিনি দেশের কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় যেন রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে রেজা আহমেদ আরও বলেন, অন্য সব রাজনৈতিক দল যেভাবে প্রকাশ্যে মাঠে, স্কুলে বা কোনো হলরুমে কর্মীসভা ও জনসভা করে, তাদেরও ঠিক সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং পবিত্র মসজিদে বসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সভা তারা করতে পারবে না।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শাসনমলে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় একযোগে দেশের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২২ জুন) এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দীনা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নির্দেশনার মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড, গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চালানো গণহত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। সংগঠনের সকল জেলা ও মহানগর কমিটিকে নিজ নিজ এলাকায় নির্ধারিত সময়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, গত দেড় দশকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথের আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না।
দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং বিগত সরকারের দুঃশাসনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে থেকে তাদের অতীত অপকর্মের বিচারের দাবি জোরালো করাই এই বিক্ষোভের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সোমবার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে গণমাধ্যম।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, গত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোনো ঝটিকা মিছিল বা শোডাউন করতে না পারে, তা ‘ঠেকাতে’ এবং রাজপথ নিজেদের দখলে রাখতেই মূলত এই কৌশলগত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিজয়নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং আগামী ৪ জুলাই সারাদেশের জেলা শহরগুলোতে মিছিল ও সমাবেশ পালন করবে জোটটি। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই বিচার শেষ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।” আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি এবং কোনো নিষিদ্ধ দলের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের।
অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করে অবিলম্বে দুর্নীতির অবসানের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষায় আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করবে এই ১১ দলীয় জোট। এই কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী ২৫ জুন বৈঠকের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১৬ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকার বিষয়ে মুখ খুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে বিনা জামানতে আপনার স্ত্রী ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন, আসলেই কি বিষয়টা এমন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ঋণ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অত্যন্ত নিয়ম মেনেই তিনি এই হোম লোন নিয়েছেন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটা ব্যাংক থেকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তার এই দুই কোটি টাকার লোন নেওয়াটা তো আলোচনার মধ্যে আসার বিষয়ই না।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংকের একটি প্রকল্প থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এদিকে নির্বাচনের আগে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার স্ত্রীর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন লিখেন, জামায়াতের নেতারা নিজের নামে নয় বরং আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু বান্ধব বা দলের সাধারণ কর্মীদের নামে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। এজন্য তাদেরকে ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপী দেখানোর কোন সুযোগ নেই। আবার তাদের ক্ষমতা দেখেন, বিনা জামানতে তারা কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়, কিন্তু আমি আপনি কি পাবো?
মাসুদ দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে রাজপথে আন্দোলনের আগ্নেয়গিরি তৈরি করা হবে এবং আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য জাতিকে প্রস্তুতি নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১১ দলের বৃহৎ বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত নির্বাচনে চুরি, ডাকাতি ও নানা রকম ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের নিশ্চিত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এত বড় অন্যায়ের পরও দেশে যাতে কোনো ধরনের গৃহযুদ্ধ বা চরম বিশৃঙ্খলা শুরু না হয়, মূলত সেই বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই সনদ যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে এবার আর সংসদে নয়, বরং রাজপথেই চূড়ান্ত ফয়সালার ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিভাগীয় সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক এবং এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। এমনটাই দাবি করেছেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে অংশ নিয়ে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে যেয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে নিয়ে দুটি কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোথাও ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাস্টারমাইন্ড শব্দটি সাধারণত একটি নেতিবাচক বা কুখ্যাত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিতে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বা নেপথ্যের চিন্তাকারী শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন।
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশে এটিকে ভিন্নভাবে এবং ভুল অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সাথে তিনি তাঁর দাবি প্রসঙ্গে বলেন, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। পরিশেষে মাহফুজ আলম আক্ষেপ প্রকাশ করে দাবি করেন, তাঁকে ঘিরে তৈরি করা সমস্ত ব্যাখ্যা বা ন্যারেটিভগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নভাবে ফ্রেম বা সাজানো হয়েছে, যার সাথে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বাস্তব বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
মন্তব্য