এহ্‌সান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সহযোগী গ্রেপ্তার

এহ্‌সান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সহযোগী গ্রেপ্তার

পিরোজপুর সদরের খলিশাখালী এলাকায় ২০১০ সালে শুরু হয় এহ্সান রিয়েল এস্টেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুর সদর উপজেলার খলিশাখালী এলাকায় ২০১০ সালে শুরু হয় এহ্‌সান রিয়েল এস্টেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয়। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মভীরু লোকজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

এহ্‌সান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তার সহযোগীকে ১৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) ইমরান খান শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এহ্‌সান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ বিষয়ে ব্রিফ করে বিস্তারিত জানানো হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এহ্‌সান গ্রুপের আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পিরোজপুরের সদর উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের বাড়ি থেকে আবুল বাসার ও মাহমুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বাসার ও মাহমুদুল এহ্‌সান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাগীব আহসানের ভাই।

পিরোজপুর সদর উপজেলার খলিশাখালী এলাকায় ২০১০ সালে শুরু হয় এহ্‌সান রিয়েল এস্টেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পরে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ থেকে ১৪ বছর আগে একটি মসজিদে নামমাত্র বেতনে ইমামতি করতেন মুফতি রাগীব আহসান। পরে ইমামতি ছেড়ে কাজ নেন একটি এমএলএম কোম্পানিতে। সেখানকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলেন এহ্‌সান রিয়েল এস্টেট। এখন এর নাম এহ্‌সান গ্রুপ পিরোজপুর। এ গ্রুপের অধীনে রাগীব গড়ে তোলেন ১৪টি প্রতিষ্ঠান।

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মভীরু লোকজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।

গ্রাহকদের বলা হয়, এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেয়া হবে।

এভাবে ১০ হাজার জনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী দাবি করা গ্রাহকদের।

এহসান গ্রুপের জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসন একটি কমিটিও গঠন করে। সে তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সমবায় দপ্তর থেকে নেয়া লাইসেন্সের শর্ত ভেঙে সংগ্রহ করা আমানত গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ সতর্কতা উপকূলে

স্যাটেলাইট চিত্রে ঘূর্ণিঝড় ‘গোলাব’

অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।

উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগর। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যায় ওডিশার গোপালপুর ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনমের কাছে আঘাত আনতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এর প্রভাবে বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

জেলেরা জানিয়েছেন, গুলাবের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল। তবে উপকূলের স্থলভাগে এখনও কোনো প্রভাব পড়েনি। রোববার সকাল থেকে বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি চলছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ পায়রা বন্দর থেকে রোববার সকাল ৬টায় ৫৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। পায়রা বন্দরে দূরবর্তী দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মাছধরা সব নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সব ট্রলারকে তীরে ফিরতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ট্রলারকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।’

তবে অধিকাংশ ইলিশ ধরা ট্রলার এখনও তীরে ফিরতে পারেনি বলে জানিয়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মহিপুরের মৎস্য আড়ত কক্সবাজার ফিসের স্বত্বাধিকারী মনির হাওলাদার জানান, গদির বেশির ভাগ ট্রলার এখনও সাগরে রয়েছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, ‘গুলাব’-এর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। যদিও আমাদের এদিকে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবুও জেলেদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করে সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে।’

এদিকে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়

সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তারে অনুমতি কেন সংবিধানবিরোধী নয়

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অভিযোগপত্রের আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়ার বিধান সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার আসামি কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পদায়ন করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এনডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টে এসব বিষয়ে নিয়ে রিটটি করেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান। আদালতে তার আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও ইশরাত হাসান।

সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর ৪১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি বিচারকারী আদালতের গোচরীভূত হয় বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি কর্মচারী, তাহলে আদালত অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।

রিটকারীর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে হেনস্তা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরে সাংবাদিক আরিফুলের কাছে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে মধ্যরাতেই কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেন। কিন্তু আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি একজনকে বরিশালে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলা হয়, এসব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে।

এসব বিষয়ে দেখে সরকারি চাকরি আইনের ৪১ (১) ও (৩)-এর বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

সাবরিনার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজিরে ব্যর্থ ওসিকে শোকজ

করোনাভাইরাসের ভুয়া নমুনা পরীক্ষা এবং রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল রোববার। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। তাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় চিকিৎসক সাবরিনা চৌধুরীসহ ৯ জনের মামলায় সাক্ষী হাজির করতে না পারায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) শোকজ করেছে আদালত।

ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী রোববার এ আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোববার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ ধার্য ছিল। তিন জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দিতে আদালত থেকে সমন পাঠানো হয়। এর মধ্যে মশিউর রহমান নামে এক সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। অপর দুই সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। দুই সাক্ষী হাজির করতে না পারায় আদালত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কাছে, কেন সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হয়নি সে (শো-কজ) ব্যাখ্যা চেয়েছ আদালত।’

সেই সঙ্গে আগামী ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছে আদালত। ওই দিন সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মাঝে করোনার কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি৷

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় জেকেজি হেলথকেয়ার। এর বেশির ভাগই ভুয়া বলে ধরা পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের সিইও।

ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে গত বছর ২৩ জুন অভিযান চালিয়ে জেকেজি সিলগালা করে দেয় পুলিশ। পরে সাবরিনা, আরিফুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়।

অপর আসামিরা হলেন সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী, জেকেজির নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইন্সেসের স্বত্বাধিকারী জেবুন্নেছা রিমা, বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদ। তারা সবাই কারাগারে রয়েছেন।

গত বছর ৫ আগস্ট এ মামলায় ঢাকা সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি পুলিশ। ২০ আগস্ট সাবরিনাসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হয় আদালতে।

জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্ণধার আরিফুল চৌধুরীর স্ত্রী সাবরিনা চৌধুরী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের একজন চিকিৎসক। মামলার পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অভিযোগ, জেকেজির কর্ণধার স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নিয়েছেন সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা। আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি তারা নিতেন ১০০ ডলার।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

দুর্নীতি: আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নানের বিচার শুরু

দুর্নীতি: আ.লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নানের বিচার শুরু

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। ছবি: ফেসবুক

আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুটি আলাদা মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৮ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করে আদালত।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম।

রোববার অব্যাহতি চেয়ে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন মীর আহমেদ আলী সালাম।

শুনানির সময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান এবং তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা নিয়ে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের কাছে হেরে যান। গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাকে আর মনোনয়ন দেয়নি।

প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে মান্নানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তিন দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।

মান্নানের পাশাপাশি তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধেও ওঠে একই ধরনের অভিযোগ। ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। পরে ২৩ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনিও।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেখানে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মান্নান খানের আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি।

তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, তদন্তে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত

রিমান্ড: হাইকোর্টের নির্দেশনা মানছে বিচারিক আদালত

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিন দফা রিমান্ডে নেয়া হয় ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে। তাকে আদালতে নেয়ার দৃশ্য। ফাইল ছবি

সন্দেহভাজন হিসেবে যে কাউকে আটক করার ব্যাপারে পুলিশের এক্তিয়ার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া নিয়ে ১৮ বছর আগে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এতদিন সেগুলো অনুসরণ করছিলেন না বিচারিক আদালতের বিচারকরা। পরীমনির রিমান্ড শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের তিরস্কারের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেয়া ১৫ দফা নির্দেশনা ১৮ বছর পর মানতে শুরু করেছে বিচারিক আদালতগুলো। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আদালতগুলো এসব নিয়ম তাদের আদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু করেছে। এর আগে আসামিদের রিমান্ড আদেশের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি।

সম্প্রতি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শামসুন নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনিকে দেয়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনজীবী জেড আই খান পান্না একটি রিট আবেদন করেন। সেটির সূত্র ধরে রিমান্ড সংক্রান্ত পুরনো নির্দেশনার বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে।

এসব নিয়মের মধ্যে আছে, আসামিকে রিমান্ডে নেয়ার আগে সরকারি ডাক্তার অথবা মেডিক্যাল বোর্ড দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া রিমান্ড শেষে একইভাবে ওই আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সে প্রতিবেদনসহ আসামিকে আদালতে হাজির করতে হবে। রিমান্ড আদেশকারী সব বিচারিক হাকিম এখন তাদের আদেশের সঙ্গে এসব বাধ্যবাধকতা উল্লেখ করছেন।

১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড ট্রাস্টসহ (ব্লাস্ট) কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা রিমান্ড প্রশ্নে হাইকোর্টে ১৫টি নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট করে। এটি করা হয় সন্দেহজনক গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারার অপব্যবহাকে চ্যালেঞ্জ করে।

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সংশোধনের নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশনা আপিল বিভাগ স্থগিত করেনি। তবে নির্দেশগুলো মানার ব্যাপারে শিথিলতা দেখা যাচ্ছিল বলে জানান আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না, কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে, গ্রেপ্তারের কারণ একটি পৃথক নথিতে পুলিশকে লিখতে হবে, গ্রেপ্তারকৃতদের শরীরের আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারি সনদ আনবে পুলিশ, গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে পুলিশকে, বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যদি কাউকে আটক করা হয় তাহলে আটক ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া আটক ব্যক্তিকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের কাঁচ নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে এবং কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকটাত্মীয় থাকতে পারবেন। কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিন দিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ থাকতে হবে।

জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবেন এবং বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে, পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে, পুলিশ বা কারা হেফাজতে কেউ মারা গেলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে তা তদন্তের ব্যবস্থা করবেন, মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত করা হবে, ময়নাতদন্তে বা তদন্তে যদি মনে হয়, ওই ব্যক্তি কারা বা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে তা হলে ম্যাজিস্ট্রেট মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্তের নির্দেশ দেবেন।

১৯৯৮ সালে ডিবি অফিসে হেফাজতে মারা যান ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেল। এর সূত্র ধরেই ব্লাস্ট ওই রিট আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল এক রায়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ফৌজদারি আইন সংশোধন করতে সরকারকে ১৫ দফা নির্দেশনা দেয়। ২০১৬ সালের ২৫ মে ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এই ধারাগুলো সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রায় ঘোষণার পর থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে নির্দেশ দেয় আদালত।

কিন্তু বিচারিক আদালতের বিচারিক হাকিমরা এতদিন এ নির্দেশনা মেনে তাদের আদেশ দিচ্ছিলেন না। হাকিমরা আদালতে অনেক আদেশ না দিয়ে বলেন, আদেশ পরে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হাসেম বলেন, এসব ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে কারো দোষ দিলে চলবে না। যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে কৌসুলি হয়ে আইনজীবীদেরকেও বিষয়টি আদায় করে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট আইনি অবস্থান গ্রহণ করতে চান।

আইনজীবীরা বলছেন, উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনা যাতে পালন হয়, সে বিষয়ে আদালতগুলোর অভ্যেস গড়ে তোলারও একটি বিষয় রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

পাঠ্যপুস্তকে ভুল: এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

পাঠ্যপুস্তকে ভুল: এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

আইনজীবী আলী মোস্তাফা খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে ভুল। সেই ভুলের বিষয়ে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সে ভুলগুলো সংশোধনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।’

পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভুল থাকায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১০ নভেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আলী মোস্তাফা খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে ভুল। সেই ভুলের বিষয়ে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সে ভুলগুলো সংশোধনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।’

তার সঙ্গে কারিকুলাম বোর্ডের সদস্যকেও আদালত তলব করেছে। একই দিনে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন

প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে

প্রতি উপজেলায় ফায়ার স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে

ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ৪১তম ব্যাচের অফিসার্স ফাউন্ডেশন কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ। ছবি: নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে ফায়ার স্টেশন ছিল মাত্র ২০৪টি। এখন সারা দেশে চালু ফায়ার স্টেশন ৪৫৬টি। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৬৫টি এবং জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার।’

দেশে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বলেছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রাজধানীর মিরপুর ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ৪১তম ব্যাচের অফিসার্স ফাউন্ডেশন কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম একটি করে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে ফায়ার স্টেশন ছিল মাত্র ২০৪টি। এখন সারা দেশে চালু ফায়ার স্টেশন ৪৫৬টি। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা হবে ৫৬৫টি এবং জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১৬ হাজার।

‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী এই জনবলকে ২৫ হাজারে উন্নীত করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এখন আর আগের দমকল বাহিনী নয়। আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সকল দিক থেকে সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। প্রতিষ্ঠানটি এখন বহুমাতৃক সেবাকাজে নিয়োজিত।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর জন্য নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘সারা বিশ্বে প্রতিনিয়ত দুর্যোগ-দুর্ঘটনার চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। দুর্ঘটনাগুলো আমাদের সামনে নতুন নতুন চরিত্রে আবির্ভূত হচ্ছে; আবার নতুন নতুন দুর্ঘটনাও যোগ হচ্ছে আমাদের জীবনে। প্রকৃতিগতভাবে দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে আপনাদের সবসময় দুর্যোগ প্রশমনের জন্য যেমন কাজ করতে হবে; তেমনি উদ্ভাবনী বিবেচনা শক্তি দিয়ে সংঘটিত দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতিও সীমিত রাখতে হবে।

‘আমি আশা করব, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রশিক্ষনলব্ধ জ্ঞানকে ধরে রাখবেন এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে তা আরও শাণিত করবেন। আরেকটি বিষয় সব সময় মনে রাখতে হবে, এটি একটি ইউনিফর্মধারী সুশৃঙ্খল বিভাগ। প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাদেরকে শৃঙ্খলার মান বজায় রাখতে হবে।’

সবসময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলতে হবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘আমি আশা করি, আগামী দিনে আপনারাই হবেন ফায়ার সার্ভিসের মূল চালিকা শক্তি। সুন্দর মন-মানসিকতা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ দিয়ে এই বিভাগের সুনাম ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে আপনারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করছি।’

ফায়ার অ্যাকাডেমি নির্মাণের জন্য মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১০০ একর জায়গা নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এই বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধাও অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিভাতা প্রদান, পূর্ণাঙ্গ রেশন ইউনিট চালু, ৩ রঙের মর্যাদাপূর্ণ কমব্যাট পোশাক প্রবর্তন, রাষ্ট্রীয় পদক সংখ্যা ও সম্মানি বৃদ্ধি এবং ফায়ারফাইটার ও অফিসারসহ পাঁচটি পদের বেতন গ্রেড বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজের সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এই বাহিনীকে বিশ্বমানের একটি সেবা বাহিনীতে পরিণত করা হবে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিসিএস নন-ক্যাডারের সুপারিশ অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের যোগ দেয়া স্টেশন অফিসারসহ মোট ৪৪ জন অফিসারের প্রশিক্ষণ সমাপ্তি শেষে তাদের পদায়নের আগে এই সমাপনী কুচকাওয়াজ হয়।

দীর্ঘ ১১ মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সকল দুর্যোগে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ৪৪ জন অফিসারের মধ্য থেকে শারীরিক যোগ্যতা, বুদ্ধিমত্তা, শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, আচার-ব্যবহার, লিখিত পরীক্ষা, ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দক্ষতার ভিত্তিতে তিনজনকে চৌকস নির্বাচিত করা হয়। চৌকস অফিসারদের পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অধিদপ্তরের উপ সহকারী পরিচলক মো. আনোয়ারুল হক। প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট ছিলেন ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. নাজিম উদ্দিন সরকার।

এসময় পতাকাবাহী দলের নেতৃত্ব দেন জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মো. শামীম আহম্মেদ, প্রথম কনটিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন প্যারেড অ্যাডজুটেন্ট এবং দ্বিতীয় কনটিনজেন্টটির নেতৃত্ব দেন স্টেশন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান।

আরও পড়ুন:
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’
কোটি কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, কোম্পানি উধাও
‘ঘুষের’ ভিডিও ভাইরাল, এলজিইডির ফোরম্যান চাকরিচ্যুত
এসপি কার্যালয়ের ১০ কোটি টাকা লোপাটে দুদকের মামলা

শেয়ার করুন