চালের দাম কমবে কবে?

চালের দাম কমবে কবে?

প্রতীকী ছবি

আগামীতে চালের দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা। তারা আশ্বস্ত করেছেন, চাল আমদানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকঠাকভাবে আমদানি করলে দাম খুব একটা বাড়বে না।

শুল্ক কমেছে। আমদানি বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সরকারি গুদামে মজুত ১৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। এরপরও প্রধান খাদ্যপণ্য চালের মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না।

সরকারি হিসাবেই বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি মানের চাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজিতে। আর সরু চাল (নাজিরশাইল ও মিনিকেট) বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে চালের দাম কমাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যত সুফল মেলেনি। শেষ চেষ্টা হিসেবে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আগস্টে ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।

আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সেই সঙ্গে চলতে থাকে সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি। এরপরও দাম কমার কোনো বালাই নেই; উল্টো সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে এক-দেড় টাকা করে বেড়ে চলেছে চালের দাম।

আগামীতে চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না চাল ব্যবসায়ী, মিল মালিকরাও। তারা আশ্বস্ত করেছেন, যাদের চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে, তারা যদি ঠিকঠাকমতো আমদানি করে, তাহলে দাম আর খুব একটা বাড়বে না।

খাদ্য সচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে চালের দাম কমে আসবে। আমন মৌসুমে ধান কাটার আগেই আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

মজুত পরিস্থিতি

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৮ লাখ ২১ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৬ লাখ টন ও গম ১ লাখ ৬৪ হাজার টন। আর ধান ৮৮ লাখ টন।

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ১২ আগস্ট পণ্যটির আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

এরপর প্রথম দফায় গত ১৭ আগস্ট ৪১ প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। এরপর ১৮ আগস্ট ৬৯ প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, ২১ আগস্ট ৯১ প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৯১ হাজার টন, ২২ আগস্ট ৭৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ২২ হাজার টন, ২৩ আগস্ট ৯৪ হাজার টনের জন্য ৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে, ২৪ আগস্ট ৫৭ হাজার টনের জন্য ৩৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে এবং সর্বশেষ ৩১ আগস্ট ৭৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সব মিলিয়ে এ দফায় ৪১৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল রয়েছে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার টন। বাকি ২ লাখ ১০ হাজার টন আতপ চাল।

এ চাল আমদানি করে তা আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাজারে বিক্রি করার শর্ত দেয়া হয়েছে আমদানিকারকদের।

৭ দিনে বেসরকারি পর্যায়ে ১৬ হাজার টন আমদানি

অনুমতির পর বেসরকারি উদ্যোগে শুরু হয় চাল আমদানি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বেসরকারি পর্যায়ে কোনো চাল আমদানি হয়নি। চলতি মাসের ৭ দিনে (১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর) ১৬ হাজার ২৪০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩০ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টন সরকার সরাসরি আমদানি করে গুদামগুলোতে মজুত করেছে। বাকি ১৬ হাজার ২৪০ টন বেসরকারি উদ্যোগে আমদানি করা হয়েছে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে (১ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর) মোট ৭ লাখ ৮৬ হাজার ২৮০ টন চাল আমদানি হয়েছিল, যার পুরোটাই সরকারি পর্যায়ে। ওই সময়ে বেসরকারি উদ্যোগে কোনো চাল আমদানি হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৩৫৫ থেকে ৩৮৫ ডলারে এবং আতপ চাল ৩৬১ থেকে ৩৯৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত এক বছর ধরেই এ দাম। ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি করে বাংলাদেশ। বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে।

এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আনুমানিক প্রায় ২ কোটি টনেরও বেশি ধান কাটা হয়েছে। তবুও চালের দাম কমেনি।

বোরো মৌসুমের আগে ২০২১ সালের শুরু থেকেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে মজুত এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি গুদামে চালের মজুত ছিল মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার টন, যা ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম।

দেশে সরকারি চালের গুদামগুলোতে মজুতের ক্ষমতা প্রায় ২৫ লাখ টন। এসব গুদামে ন্যূনতম ১২ থেকে ১৫ লাখ টনের মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে। গত বছরও একই সময়ে ১৩ লাখ টনের বেশি চাল মজুত ছিল।

সরকারের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম বেড়ে ৫০ টাকায় ওঠে। সরকার স্থানীয় বাজার থেকে ৯ লাখ ৩২ হাজার টন বোরো ও ৩ লাখ ৫০ হাজার টন অন্য জাতের চাল সংগ্রহ করে মজুত বাড়ালেও বাজারে দাম আর কমেনি।

সেসময় বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হলেও শুল্ক বেশি হওয়ায় খুব বেশি চাল আমদানি করেননি ব্যবসায়ীরা।

গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের গুদামগুলোতে মোট ১৭ লাখ ২৫ হাজার টন খাদ্য মজুত ছিল। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৯ হাজার টন চাল এবং বাকিটা ধান, গম ও আটা।

গত বছরের আগস্ট শেষে এই মজুতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ১৪ হাজার টন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৮৫ হাজার টন চাল ছিল।

দাম কমার সম্ভাবনা নেই

সরকারের গুদামগুলোতে প্রচুর চাল মজুত থাকার পরও দাম কেন কমছে না, এমন প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ চাল ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জাকির হোসেন রনির কাছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী বেসরকারি পর্যায়ে আসলে খুব একটা চাল আমদানি হচ্ছে না। আগেরবার যখন ব্যবসায়ীদের কোটা নির্ধারণ করে দিয়ে আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল, সেই কোটা কিন্তু ব্যবসায়ীরা পূরণ করেনি। এবার কী হবে, জানি না।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘আসলে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। অক্টোবরের শেষের দিকে আমন ধান উঠবে তখন যদি দাম কমে যায়, তাহলে তাদের লোকসান হবে। সে ভয়ে তারা আমদানি করতে সাহস পাচ্ছেন না।

‘তবে যেহেতু সরকারের কাছে প্রচুর চাল মজুত আছে, সে কারণে চালের দাম আর বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে যে দাম আছে, আগামী কয়েক মাস সে দামই থাকবে বলে আমার মনে হয়।’

একই প্রশ্নে বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম খোরশেদ আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুল্ক কমানোর পর এখনও চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক লাগে। এত বেশি শুল্ক দিয়ে চাল আমদানি করলে ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন না; লোকসান দিতে হবে। সে কারণেই বেসরকারি উদ্যোগে চাল আমদানি করতে আগ্রহ দেখান না ব্যবসায়ীরা।’

চাল আমদানিতে শুল্ক আরও কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমার পরামর্শ হচ্ছে, চালের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনুন। তাহলে দেখবেন প্রচুর চাল আমদানি হবে। চালকল মালিকরাও তাদের মজুত করা চাল বাজারে ছেড়ে দেবেন। তখন চালের দাম এমনিতেই কমে আসবে।

‘এভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল আমদানির অনুমতি দিয়ে উল্টো চালকল মালিকদেরই লাভের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে আমি মনে করি। কেননা সরকারিভাবে যে চাল আমদানি করা হচ্ছে, তা সরকারের গুদামে চলে যাচ্ছে, বাজারে আসছে না। দামে প্রভাব পড়ছে না। সে সুযোগে মিলমালিকরা তাদের কাছে থাকা চাল বাজারে না বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আরও দাম বাড়িয়ে দিয়ে তারপর বিক্রি করছে।’

খোরশেদ আলম জানান, মিলমালিকরা আগেই ধান কিনে মজুত করে রাখেন। এ কারণে চালের দাম বাড়লেও কৃষক তার মূল্য পান না। ধান চাষে খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করতে হয়। তাই কৃষক ধান চাষ থেকে সরে আসছেন। সরকার যে ধান সংগ্রহ করে সেখানে সবাই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। তাই কম দামে মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করতে হয়।

মানুষকে আর কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে?

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক কৃষি অর্থনীতিবিদ এম আসাদুজ্জামানের মতে, চালের দাম না কমায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন চাল ব্যবসায়ী এবং চালকল মালিকরা। আবার তাদেরই চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। তারা দ্রুত চাল আমদানি করলে দাম কমে যেতে পারে। সে কারণেই তারা আমদানিতে গড়িমসি করেন।

তিনি বলেন, ‘এরা সবাই মিলে একটা বড় সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সরকার, দেশের মানুষ। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোনোভাবেই চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামনো যাবে না।’

আক্ষেপ করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার খুবই অবাক লাগে, মহামারির এই সংকটকালেও চালের দাম এক পয়সা কমল না। অথচ ধান উৎপাদন হয়েছে পর্যাপ্ত; মজুত আছে প্রচুর। মানুষকে আর কত দুর্ভোগ পোহাতে হবে?’

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাইসাইকেল চলছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ছবি: সংগৃহীত

রপ্তানির ক্ষেত্রে ওষুধ শিল্পকে প্রায় ধরে ফেলেছে বাইসাইকেল। সারা বিশ্বে সাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ এখন অষ্টম; ইউরোপে তৃতীয়। রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি হয়ে দেখা দিচ্ছে সাইকেল। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করে চলেছে; কমছে আমদানি নির্ভরতা। কর্মসংস্থান বাড়ছে এ খাতে।

ওষুধের মতো নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে আরেক খাত বাইসাইকেল। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যেও এ পণ্য শক্ত অবস্থান করে নিচ্ছে দিন দিন; আনছে বিদেশি মুদ্রা। করোনাভাইরাস মহামারি এ খাতের জন্য আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। পরিবেশবান্ধব বলে সবাই এখন এর দিকে ঝুঁকছেন; দেশে-বিদেশে সবখানে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে ১ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা দেশে এনেছে বাংলাদেশ। আর বাইসাইকেল রপ্তানি করে এসেছে ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা।

ওষুধের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গেছে সাইকেল। বেশ কিছুদিন ধরেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বাইসাইকেল চলছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাস্তায় রাস্তায়।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ দেশে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে এখন তৃতীয় অবস্থানে উঠে গেছে। এখানেই শেষ নয়, গোটা বিশ্বে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

পরিবেশবান্ধব বলে ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে সাইকেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় গত কয়েক বছর ধরেই দুই চাকার এ বাহন রপ্তানি আশা দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। রপ্তানি বাজার ধরতে উদ্যোক্তারা মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন; গড়ে তুলেছেন বিশ্বমানের কারখানা।

এর সুফল আসতে শুরু করেছে। রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি হয়ে দেখা দিচ্ছে সাইকেল। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পূরণ করে চলেছে; কমছে আমদানি নির্ভরতা। কর্মসংস্থান বাড়ছে এ খাতে।

মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সাইকেলের চাকায় আরও উপরে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের পুরো চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছেন তারা। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার অংশ হিসেবে সরকার অন্যান্য খাতের মতো সাইকেলের ক্ষেত্রে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিলে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মহামারির কারণে দেশে-বিদেশে বাড়ছে সবচেয়ে সহজ ও তুলনামূলক কম দামের ব্যক্তিগত বাহন সাইকেলের ব্যবহার। করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন ‘সামাজিক দূরত্ব’ রক্ষা করে চলাচলসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। তাই চলাচলে পারতপক্ষে গণপরিবহন এড়িয়ে চলছেন অনেকে; বেছে নিচ্ছেন ব্যক্তিগত যানবাহনকে।

আর তাতেই রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিয়ে নতুন আশা জাগাচ্ছে বাইসাইকেল। রপ্তানি বাড়াতে সরকার ও উদ্যোক্তারা নতুন ছক কষছেন।

দেশের চাহিদার অর্ধেকের মতো পূরণ করে এখন রপ্তানিও বাড়ছে। প্রতি বছরই অল্প অল্প করে বাড়ছিল রপ্তানি। গত অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

আরও বাড়াতে ১ জুলাই থেকে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা ঘোষণা করেছে সরকার। অর্থাৎ কোনো রপ্তানিকারক ১০০ টাকার সাইকেল রপ্তানি করলে সরকারের কোষাগার থেকে তাকে ৪ টাকা দেয়া হবে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি করে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ বেশি।

গত বছরের সেই ইতিবাচক ধারা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সাইকেল রপ্তানি থেকে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। টাকার হিসাবে সংখ্যাটা ৩৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরে বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা (১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আসবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার।

রপ্তানিকারকরা আশা করছেন, এবার সাইকেল রপ্তানি থেকে লক্ষ্যের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০০ সাল থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু হয়। প্রথম দিকে এ খাত থেকে তেমন আয় না হলেও ২০০৮ সাল থেকে বাড়তে শুরু করে রপ্তানি।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে তৈরি পোশাকের মতো গোটা ইউরোপের বাজারও দখল করে নেবে বাংলাদেশের সাইকেল।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া বাইসাইকেলের ৮০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। বাকিটা যায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে।

সাইকেলে বিশ্ববাজার দখলের একটি সুযোগ বাংলাদেশের সামনে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে শ্রমের মজুরি কম। আমরা যে দামে সাইকেল রপ্তানি করতে পারব, তা কেউ পারবে না। মানের দিকটি মাথায় রেখে এই সুযোগটিই আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

সাইকেল রপ্তানি বাড়লেও তার গতি এখনও ধীর বলে মনে করেন ফরাসউদ্দিন। গতি বাড়াতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের এখনই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

‘করোনার কারণে এই যে পরিবেশবান্ধব যানবাহন সাইকেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে, এই সুযোগটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে।’

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

শুরু থেকে এখন

২০ বছর আগে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে তাইওয়ানের কোম্পানি আলিতা বাংলাদেশ লিমিটেড স্বল্প পরিসরে বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করে। পরে এ ধারায় যুক্ত হয় মেঘনা গ্রুপ। বর্তমানে দেশের মোট বাইসাইকেল রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ২০১৪ সালে ‘দুরন্ত’ ব্র্যান্ড নিয়ে আসে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

মেঘনা, প্রাণ-আরএফএল ছাড়াও জার্মান বাংলা, আলিতা ও নর্থবেঙ্গল নামের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে তাদের কারখানা থেকে উৎপাদিত সাইকেল রপ্তানি করছে।

রপ্তানিকারকরা জানান, বর্তমানে ফ্রিস্টাইল, মাউন্টেন ট্র্যাকিং, ফ্লোডিং, চপার, রোড রেসিং, টেন্ডমেড (দুজনে চালাতে হয়) ধরনের বাইসাইকেল রপ্তানি হচ্ছে।

এসব সাইকেল তৈরির জন্য কিছু যন্ত্রাংশ বাংলাদেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে হলেও বেশির ভাগ যন্ত্রাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে। বিশেষত চাকা, টিউব, হুইল, প্যাডেল, হাতল, বিয়ারিং, আসন তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

১৯৯৬ সালে তেজগাঁওয়ে সরকারি বাইসাইকেল তৈরির প্রতিষ্ঠানটি কিনে নেয় মেঘনা গ্রুপ। এরপর ১৯৯৯ সাল থেকে রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে রেড, ফেরাল ও ইনিগো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ইউরোপ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার কঙ্গো, গ্যাবন ও আইভরি কোস্টে সাইকেল রপ্তানি করছে তারা।

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২১ সালে মেঘনা গ্রুপের বাইসাইকেল রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১০ লাখ পিস। ৪০০ থেকে শুরু করে ৬০০ ডলার মূল্যের সাইকেল রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৩ সালে রপ্তানি শুরু করে মেঘনা গ্রুপ। বাইসাইকেল ছাড়াও তাদের কারখানায় উৎপাদিত টায়ার ও টিউব বিশ্বের ১৮ দেশে সরাসরি রপ্তানি হচ্ছে।

৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামের বাইসাইকেলও রয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল রপ্তানি হয় জার্মানিতে। এরপর ডেনমার্ক ও যুক্তরাজ্যে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ইতালি, বুলগেরিয়া ইত্যাদি দেশে বেশি বাইসাইকেল রপ্তানি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বাইসাইকেল অ্যান্ড পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন ইউরোপের বাজারেই বাইসাইকেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইউরোপে আগের চেয়ে বাহন হিসেবে সাইকেলের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। সরকারও উৎসাহ দিচ্ছে এসবের ব্যবহার বৃদ্ধিতে, যার প্রতিফলন হিসেবে সড়কগুলোতে বাইসাইকেলের আলাদা লেন দেখা দিচ্ছে।

‘অতিমারি করোনায় সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি বিবেচনায় অনেকেই এখন ব্যক্তিগত যানবাহন হিসেবে সাইকেলকেই বেছে নিচ্ছেন। সে কারণে চাহিদা বেড়েছে; বেশ ভালো অর্ডার পাচ্ছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য আমাদের আলাদা ইউনিট আছে। বিদেশি বায়াররা বেশি দামের সাইকেল অর্ডার দিলে আমরা তা তৈরি করে দিই। তবে মূলত আমরা ৪০০ থেকে ৬০০ ডলার দামের সাইকেল রপ্তানি করে থাকি।’

সরকারের সহায়তা পেলে বাইসাইকেল খাতটি আরও টেকসই করা সম্ভব উল্লেখ করে লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে কিছু নীতি সহায়তা চেয়েছিলাম। যেমন: বন্ড ফ্যাসিলিটি পেলে এ খাতের অনেক উপকার হবে। বন্ড ফ্যাসিলিটির পাশাপাশি নগদ সহায়তা চেয়েছিলাম। সরকার আমাদের অনুরোধ রেখেছে। চলতি অর্থবছরে সাইকেল রপ্তানির ওপর ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

‘আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এই ঘোষণা রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এবার বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘মোটা দাগে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে একটি কথা বলতে চাই, পোশাক রপ্তানিতে যে নীতি সহায়তাগুলো দেয়া হয়, সেগুলো দেয়া হলে বাইসাইকেলেও তৈরি হতে পারে নানা সফলতার গল্প।’

মেঘনা গ্রুপের সঙ্গে জার্মানির একটি যৌথ অংশীদারত্বভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাইসাইকেল প্রস্তুতকারক ওই কোম্পানিটির নাম টিউব।

ঢাকার কাছে গাজীপুরে ছয়টি কারখানায় মেঘনা সাইকেল তৈরি করা হয়। এসব কারখানায় উৎপাদিত সাইকেল রপ্তানি করা হয়। মাঝে কিছুদিন স্থানীয় বাজারে বাজারজাত বন্ধ রাখা হলেও এখন আবার তা পুরোদমে চালু করা হয়েছে।

সাইকেলের রপ্তানি ও স্থানীয় বাজার সামনে রেখে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ করেছে প্রাণ-আরএফএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত এই কারখানাটিতে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই কারখানায় উৎপাদিত ‘দুরন্ত’ বাইসাইকেল দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এ মুহূর্তে বিশ্বের ১০টি দেশে এ কোম্পানির বাইসাইকেল রপ্তানি হয়। এর মধ্যে প্রধান বাজারগুলো হলো যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও বেলজিয়াম।

আন্তর্জাতিক বাজারে যে বাইসাইকেলগুলো যাচ্ছে, তা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি হয়ে (কাস্টমাইজড) রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তৈরি হয় বাজারভিত্তিক। সে হিসেবে লো-এন্ড বাইসাইকেলগুলো দেশের বাজারে বিক্রি হয়। অন্যদিকে বহির্বিশ্বে যায় উচ্চমানের বা হাই-এন্ড বাইসাইকেলগুলো, যেগুলোর দামই শুরু হয় ১ লাখ টাকা থেকে।

এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে করোনাকালে সাইকেলের চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। অনেক সময় চাহিদা মেটানোও সম্ভব হচ্ছে না। তবে এখন আমরা সক্ষমতা বাড়িয়েছি।

‘সব মিলিয়ে বছরে সাত লাখ পিস বাইসাইকেল তৈরির সক্ষমতা এখন আমাদের। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে চাহিদাও বেশ ভালো।’

চাহিদা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার প্রবণতার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, ‘রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২২ সাল থেকে আমরা বছরে ১০ লাখ পিস সাইকেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছি।’

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

ইউরোপের বাজার

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালে যেখানে ইউরোপের বাজারে বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল নবম, সেখানে ২০১০ সালে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে উঠে আসে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেই পঞ্চম স্থানেই ছিল বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে এক ধাপ এগিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার রপ্তানির মধ্য দিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

২০০৮ ও ২০০৯ সালে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৩ লাখ ৭১ হাজার ও ৪ লাখ ১৯ হাজারটি বাইসাইকেল রপ্তানি করে। ২০০৭ সালে সে সংখ্যাটি ছিল ৩ লাখ ৫৫ হাজার।

২০১০ সালে রপ্তানি বেড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ ও ২০১২ দুই বছরেই সাড়ে ৫ লাখের মতো সাইকেল রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে রপ্তানি ছাড়িয়ে যায় ৬ লাখ।

২০২০-২১ অর্থবছরে সেই রপ্তানি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১০ লাখ পিসে পৌঁছেছে।

ইউরোপের বাজারে রপ্তানির শীর্ষে আছে তাইওয়ান। এর পরের অবস্থানে আছে থাইল্যান্ড। গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ।

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

থেমে নেই আমদানি

রপ্তানি বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে থেমে নেই সাইকেল আমদানি। এখনও দেশের চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করে বিদেশি সাইকেল। এ জন্য আগের প্রবণতাকে দায়ী করেছেন উৎপাদকরা।

মেঘনা গ্রুপের লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমদানি করা সাইকেলের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় সেগুলোর চাহিদা বেশি। এ ছাড়া আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমদানি করা সাইকেল বিক্রি করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’

ঢাকায় মেঘনা সাইকেলের বিক্রয়কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, সাড়ে ১৩ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা দামের সাইকেল বিক্রি হচ্ছে।

ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে সোমবার দুপুরে মেঘনা গ্রুপের সাইকেল লাইফ এক্সক্লুসিভ বিক্রয়কেন্দ্রের একজন এক্সিকিউটিভ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের শোরুমে মেঘনার ভেলোস ব্র্যান্ডের ছয় ধরনের সাইকেল বিক্রি হয়। এগুলোর দাম ১৩ হাজার ৫০০ থেকে ২৪ হাজার ৫০০ টাকা।’

লায়ন গ্রুপ স্থানীয় বাজারের জন্য সাইকেল তৈরি করে। এখন পর্য‌ন্ত তারা কোনো সাইকেল রপ্তানি করেনি।

ধানমন্ডি লায়ন সাইকেল স্টোরের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, তাদের সাইকেলের দাম সাড়ে ১১ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।

মূলত পুরান ঢাকার বংশালের ব্যবসায়ীরা দেশের বাইরে থেকে বাইসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে তা সংযোজন করে বিক্রি করেন।

বংশালে সাইকেলের বড় প্রতিষ্ঠান ‘সাইকেল হ্যাভেন’। প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মোট বিক্রি তেমন বাড়েনি। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনার কারণে ছোটদের সাইকেল বিক্রি অনেক কমে গেছে। তবে দৈনন্দিন প্রয়োজনে যেসব সাইকেল ব্যবহার হয়, সেগুলোর বেচাকেনা বেড়েছে।’

দেশের অনেক ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের সাইকেল থাকতে কেন আমদানি করেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমদানি করা সাইকেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সেগুলোই বেশি বিক্রি হয়। চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমদানি করি।’

বর্তমানে মূলত চীন ও ভারত থেকেই সাইকেল আমদানি হয়ে থাকে।

‘আমাদের রাস্তাঘাট, আবহাওয়া ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর লক্ষ রেখে আমরা সাইকেল আমদানি করি’, বলেন জাহিদ।

দেশের বাজারের কথা চিন্তা করে উদ্যোক্তারা যদি কম মূল্যের টেকসই সাইকেল তৈরি করেন, তাহলে আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মনে করেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ বাজার

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বাজারে বাইসাইকেলের চাহিদা বেড়েছে। একসময় চলাচল, হালকা পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনেই মানুষ সাইকেল ব্যবহার করতেন। সময় বদলাচ্ছে। শৌখিন ও স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই এখন সাইকেলকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বর্তমানে দেশে শৌখিন সাইকেলচালকের সংগঠনও গড়ে উঠেছে। ‘বিডি সাইক্লিস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য লাখখানেক। এ ধরনের সাইকেলপ্রেমীদের জন্য কোম্পানিগুলোও নতুন ডিজাইনের ও আধুনিক প্রযুক্তির সাইকেল নিয়ে আসছে।

বাইসাইকেল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশে সাইকেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০১৪ সালে বার্ষিক চাহিদা ছিল ৫ লাখ পিস। বর্তমানে তা ২০ লাখের বেশি। টাকার হিসাবে বাজারের আকার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

স্থানীয় বাজারের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জোগান দিচ্ছেন দেশীয় উৎপাদকরা। ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানিনির্ভর। ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে সাইকেল কিংবা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে বাজারজাত করতেন।

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দেশীয় প্রতিষ্ঠান মেঘনা ইনোভা রাবার কোম্পানি দেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাইকেল বাজারজাত শুরু করে। অবশ্য অনেক আগে থেকেই তারা বিদেশে বাইসাইকেল রপ্তানি করে আসছিল। ১৯৯৬ সালে সরকারি সাইকেল তৈরির একটি কারখানা কেনার মাধ্যমে এ খাতে প্রথম বেসরকারি উদ্যোক্তা হিসেবে নাম লেখায় মেঘনা। ১৯৯৯ সাল থেকে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি শুরু করে তারা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বেশি বাইসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এই কোম্পানি।

অন্যদিকে ১৯৯৫ সালে প্রথম বিদেশি কোম্পানি হিসেবে মালয়েশিয়ার আলিটা (বিডি) চট্টগ্রাম ইপিজেডে কারখানা স্থাপন করে। এটি পুরোপুরি রপ্তানিমুখী একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর তাইওয়ানের কোম্পানি ‘করভো’ ওই ইপিজেডে কারখানা করতে বিনিয়োগ করে। তাদের তৈরি সাইকেল রপ্তানির পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।

বহু দূর যাবে দেশের সাইকেল

রপ্তানিতে ইউরোপে তৃতীয় বাংলাদেশ

মেঘনা ও আরএফএল ছাড়াও জার্মান বাংলা, আলিটা, করভো নামের তিন প্রতিষ্ঠান ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে রপ্তানিমুখী সাইকেল তৈরির কারখানা করেছে। করোনার কারণে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমে এলেও সাইকেল রপ্তানি বেড়েছে।

বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বছরে ৬ কোটি ইউনিট বাইসাইকেল বিক্রি হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৮ লাখ ইউনিট রপ্তানি করে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগামীতে শুধু স্থানীয় নয়, রপ্তানি বাজারেও বাংলাদেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ চীনের পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক থাকায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের ক্রেতারা বর্তমানে কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে সাইকেল কিনতে আগ্রহী। এসব দেশের মধ্যে অবকাঠামোগত দিক থেকেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানির সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

কাঁচামাল

সাইকেল তৈরিতে ব্যবহত কাঁচামালের ৫০ শতাংশ আসে চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে। মূলত চেইন, হুইল ও ব্রেকের উপকরণ আমদানি করা হয়। দেশে এখন ফ্রেম, ফর্ক, রিং, টায়ার, টিউবসহ বিভিন্ন উপকরণ পুরোদমে উৎপাদন হচ্ছে। বাইসাইকেলে ব্যবহৃত রং আমদানিতে প্রায় ৯০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। উৎপাদকরা বলছেন, এই শুল্কহার অস্বাভাবিক। স্থানীয় শিল্পের বিকাশ চাইলে এ শুল্কহার কমাতে হবে। তা না হলে আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে না। রপ্তানি বাজারেও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে না।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই সক্ষম

দেশের বাজারে বছরে বাইসাইকেলের চাহিদা কত, তার সঠিক কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। বাংলাদেশ বাইসাইকেল অ্যান্ড পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও মেঘনা গ্রুপের পরিচালক লুৎফুল বারী বলেন, ‘আমাদের কাছে আসলেই কোনো তথ্য নেই দেশে বছরে সাইকেলের চাহিদা কত, তবে এটা বলতে পারি, এখনও অর্ধেকের মতো আমদানি করা সাইকেল দিয়ে মেটানো হয়।

‘আমাদের মেঘনাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়ে রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় চাহিদার পুরোটাই মেটানো সম্ভব।’

একই কথা বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল। তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ বাইসাইকেল রপ্তানিতে শাপে বর হয়েছে। রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটানোরও ক্ষমতা রয়েছে আমাদের।’

ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ার পেছনে জিএসপি সুবিধা পাওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করেন কামাল।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

১ টাকায় পাকিস্তানি ২ রুপি

১ টাকায় পাকিস্তানি ২ রুপি

পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ১ টাকায় এখন মিলছে পাকিস্তানের ১ দশমিক ৯৯ রুপি। যা স্বাধীনতার পরপরই পাকিস্তানের ১ রুপিতে মিলত বাংলাদেশের ১ দশমিক ৬৫ টাকা।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে অর্থনৈতিক নানান সূচকে পাকিস্তানের তুলনায় বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি রুপির চেয়ে এখন দ্বিগুণ হয়েছে বাংলাদেশি টাকার মান।

বাংলাদেশের ১ টাকায় এখন মিলছে পাকিস্তানের ১ দশমিক ৯৯ রুপি। যা স্বাধীনতার পরপরই পাকিস্তানের ১ রুপিতে মিলত বাংলাদেশের ১ দশমিক ৬৫ টাকা।

গেল কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান খানিকটা কমলেও বাংলাদেশি মুদ্রার মান পাকিস্তানের মুদ্রা রুপির দ্বিগুণ হয়েছে।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের জন্য ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা গুণতে হয়েছে। আর প্রতি ডলারের জন্য খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৭০ পাকিস্তানি রুপি। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের ১০০ টাকার জন্য এখন ১৯৯ দশমিক ২৯ পাকিস্তানি রুপি খরচ হচ্ছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন আর নতুন কোনো তথ্য নয়। দু’দেশের মধ্যে নানা সূচকে বাড়ছে ব্যবধান। আর এর প্রভাব পড়েছে দুই দেশের মুদ্রার মানেও।

‘এক সময়ের শূন্য হাতে শুরু হওয়া বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে আপন গতিতে। বেকারত্ব দূর, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মমুখী শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ থেকেই এখন এগিয়ে বাংলাদেশ।’

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে। এ দেশের তুলনা চলে ভারতের মতো দেশের সঙ্গে। পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করার দিন শেষ।

‘আমাদের এখন সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হবে। তবে আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই আরও সংস্কার করতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে; কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে।’

বর্তমানে রুপির দর

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রথম মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় যুক্তরাজ্যের ১ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে পাওয়া যেত বাংলাদেশি ১৮ দশমিক ৯৬ টাকা। তখন পাউন্ডের বিপরীতে পাকিস্তানের মুদ্রার মান ছিল ১১ দশমিক ৪৩ রুপি।

সেই হিসাবে তখন ১ পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে বাংলাদেশকে খরচ করতে হতো ১ দশমিক ৬৫ টাকা। এখন ঠিক এর উল্টো চিত্র।

২০১২ সালে ফেব্রুয়ারিতে ১ টাকায় পাওয়া যেত ১ দশমিক ০৭ পাকিস্তানি রুপি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তা দাঁড়ায় ১ দশমিক ২৫ রুপিতে।

২০২০ সালের আগস্টে ১ টাকার বিপরীতে ১ দশমিক ৯৭ রুপি পাওয়া যেত।

মাঝে রুপি কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় চলতি বছরের মে মাসে ১ দশমিক ৭৯ রুপিতে বিনিময় হতো ১ টাকা। তবে তারপর থেকে আবারও দর হারানোয় ১ টাকায় বর্তমানে বিনিময়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৯ রুপি।

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের রুপির দরপতন অব্যাহত আছে। কমতে কমতে এখন ডলারের বিপরীতে দাম ১৭০ রুপি ছুঁইছুঁই হয়ে গেছে। এর আগে কখনও দেশটির মুদ্রা এতটা মান হারায়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের জন্য ৮৫ দশমিক ৬০ টাকা গুণতে হয়েছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ১০০ টাকার জন্য এখন ১৯৯ দশমিক ২৯ পাকিস্তানি রুপি খরচ হচ্ছে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ১৬৭ রুপি ঠিক করে দিলেও স্থানীয় মুদ্রাবাজারে দাম আরও বেশি।

মে মাসে রুপির বিপরীতে ডলার সর্বনিম্ন স্পর্শ করেছিল যখন এটি ১৫১ দশমিক ১ রুপি। আগস্টে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রাবাজারে বিনিময় হার দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ১৬৮ দশমিক ২ রুপি। গত চার মাসে রুপির দর কমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আশরাফ আলী মুদ্রা বিনিময় হার নিয়ে কাজ করতেন। ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ’ শিরোনামে একটি বইও লিখেছেন তিনি।

সেই বইতে তিনি লিখেন, ‘ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হার নির্ধারণ হয় আশির দশকের শুরুর দিকে। তবে ১৯৭২ সালেও আমরা ডলারের সঙ্গে টাকার একটি বিনিময় হার বের করেছিলাম। তখন এক ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ৮৬ টাকা এবং পাকিস্তানের ৪ দশমিক ৭৬ রুপি ছিল।’

তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির দীর্ঘকাল পরও পাকিস্তানের মুদ্রা বেশ শক্তিশালী ছিল। তবে সেই অবস্থানে এখন আর নেই দেশটি। বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ ও মূল্যস্ফীতির চাপে রুপির অবস্থান এখন বেশ নাজুক। টাকা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।

সৈয়দ আশরাফ আলী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেশে নিজস্ব মুদ্রার প্রচলন শুরু ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ। এর আগে পাকিস্তানের রুপি দিয়েই হতো লেনদেন। তবে বৈদেশিক লেনদেনের জন্য বিনিময় হার নির্ধারণ করতে হয়েছিল টাকা প্রচলনের আগেই।

পাকিস্তানি রুপির পতন

২০০৮ সালকে ধরা হয় পাকিস্তানের রুপির বিনিময় হারের পতনের বছর। ওই বছর মূল্যস্ফীতি ও চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৬১ থেকে এক ধাক্কায় ৭৯ রুপিতে পৌঁছায়।

ওই বছরের আগস্টে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রুপির পতনের সাময়িক অবসান ঘটে।

গত এক দশকে মুদ্রার মান অর্ধেকে নেমেছে পাকিস্তানে।

২০১১ সালের নভেম্বরেও পাকিস্তানি ৮৬-৮৭ রুপিতে মিলতো ১ মার্কিন ডলার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এক ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানকে ব্যয় করতে হয়েছে ১০৪ থেকে ১০৫ রুপি।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এক ডলারের দর ছিল ১০৯ রুপি।

আর বর্তমানে ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রাবাজারে বিনিময় হার দাঁড়ায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৭০ রুপি।

গত তিন অর্থবছরেই পাকিস্তান প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির বাজেট হয়েছে। প্রতিবারই ৩ লাখ কোটি রুপির বিশাল ঘাটতি ধরা হয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকার মতো।

পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্ধেকের কম। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ

ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ

প্রতীকী ছবি

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুনরায় দ্রুত সার্ভার চালু করে দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অংশীদার হয়ে দেশের অনলাইন কেনাকাটাকে সবার হাতের মুঠোয় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি অবিরাম। আমরা এই কাজকে এগিয়ে নিতে চাই।

‘চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে চালিয়ে যেতে। আর এই সুযোগ পেলে সকলের সব ধরনের অর্ডার ডেলিভারি দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম; আছি, থাকব।’

এতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আমাদের সকল এমপ্লয়ি শঙ্কার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। আমাদের সম্মানিত সিইও এবং চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় আমাদের ব্যাংকিংও সাময়িকভাবে বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভারসহ অফিসের খরচ চালানো এবং আমাদের এমপ্লয়িগণের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

‘আমাদের উকিলের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত সিইওর বক্তব্য হলো সুযোগ এবং সময় পেলে আমাদের পক্ষে ৪ মাসের মধ্যেই সকল জটিলতা গুছিয়ে ওঠা সম্ভব।’

ভেরিফায়েড পেজে বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুনরায় দ্রুত সার্ভার চালু করে দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

‘গ্রাহক এবং সেলারদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট। দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে আমাদের এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে পেয়েছি সবসময়। আপনাদের এই ভালোবাসায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ। সামনের দিনগুলোতেও আমরা এভাবে আপনাদের পাশে চাই।’

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মাঝে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

চার দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল ও পেট্রোপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দুই বন্দর এলাকাতেই।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

ভারতের পেট্রাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে এই চার দিন বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান বেনপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সুজন।

বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর হয়ে পণ্য বাংলাদেশে আসতে সময় কম লাগায় আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়েই অধিকাংশ পণ্য আমদানি করেন।

গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মোটর পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়।

বাংলাদেশ থেকেও পাট ও পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, সয়াবিনজাতীয় পণ্য, ভুসিসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

চার দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই পাশের বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় পণ্যজট। শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে এটি কমতে শুরু করে।

বেনাপোল কাস্টমস কার্গো কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মামুন জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৮৫টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল হয়ে দেশে এসেছে। এ সময়ে ৩৫টি ট্রাক রপ্তানি পণ্য নিয়ে পেট্রপোল বন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার রেকর্ড

পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। ছবি: জি নিউজ

পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্য এক লাফে রেকর্ড ১০ রুপির বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। শনিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে জ্বালানিপণ্যের পুননির্ধারিত দাম।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে গ্রাহক পর্যায়ে এক লিটারের পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৭ দশমিক ৭৯ রুপি। প্রতি লিটার হাইস্পিড ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ দশমিক ৪৮ রুপি এবং প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ধরা হয়েছে ১১০ দশমিক ২৬ রুপি।

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মূল্য এখন প্রায় ৮৫ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর এটাই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

জ্বালানির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের পুরো জ্বালানি খাতেই ব্যাপক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ও বিক্রয় কর সর্বনিম্ন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাতেও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

পেট্রোলিয়ামজাতীয় সব পণ্যের নতুন মূল্য শনিবার থেকে কার্যকরের কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়।

এসব পণ্যের মূল্য না বাড়াতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও সিনেটের সাবেক চেয়ারম্যান মিঞা রেজা রাব্বানি।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য ৯ রুপি বাড়ানো হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম এখন সর্বোচ্চ। পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সরকারকে দ্রুত বাতিল করতে হবে।’

রাব্বানি বলেন, ‘পেট্রোলিয়ামজাতীয় পণ্যের বর্ধিত মূল্য জনসাধারণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাবে। সরকারে থাকা অভিজাত শ্রেণি জনগণকে আত্মহত্যা বা বিদ্রোহের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দাবি মেনে সরকার বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতি ইউনিটে ১.৩৯ রুপি বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের ওপর ৭৭ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি বাতিলের পর ওই শুল্ক এ পরিমাণে বাড়ানো হয়। সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে পিপিপি।’

পিপিপির এই নেতা জানান, রান্নার তেল ও ঘি ৪০ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার। এখন প্রতি কেজি রান্নার তেল ও ঘিয়ের মূল্য যথাক্রমে ৩৯৯ ও ৪০৯ রুপি। টমেটো, আলু, খাসির মাংস, এলপিজিসহ ২২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য সম্প্রতি অনেক বেড়েছে।

রাব্বানি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘গত কয়েকদিন মার্কিন ডলারের মান রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। আইএমএফের ঋণ পরিশোধের বিনিময়ে পণ্যের ওপর আরও কর বসাতে সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে সংস্থাটি।’

পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিরোধী দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরীফ। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ শুল্ক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর জনগণের ওপর ‘পেট্রোল বোমা’ ‘মিনি বাজেটের’ ধারাবাহিকতা।

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তার পদত্যাগ জাতিকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। ‘মিনি বাজেট’ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতার প্রমাণ।”

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

ঘোষণার মধ্যেই আটকে পর্যটনের প্রণোদনা

ঘোষণার মধ্যেই আটকে পর্যটনের প্রণোদনা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

ট্যুর অপারেটররা ঋণ পাবেন না। হোটেল-মোটেল-রিসোর্টগুলো শর্তের কারণে ঋণ নিতে পারছে না। এ কারণে পর্যটনশিল্পকে বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন খাত। ব্যাপক জনসমাগম এড়াতে শুরু থেকেই বন্ধ ছিল পর্যটনকেন্দ্রগুলো। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধীরে ধীরে খুলতে থাকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো। তবে বিদেশি পর্যটক আসা এখনও শুরু হয়নি।

করোনায় অনিশ্চয়তার কারণে পর্যটন পেশায় থাকা অন্তত ৬০ ভাগ কর্মী বিকল্প পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনও অনেক সময় লাগবে।

এ পরিস্থিতিতে এ খাতকে খাদের কিনার থেকে তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৩ জুলাই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এতে এ খাতের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। এর আওতায় পর্যটন খাতের হোটেল, মোটেল, থিম পার্কগুলো তাদের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সহায়তা পাওয়ার কথা।

তবে প্রণোদনা ঘোষণার দুই মাস পরও এখনও এর সুফল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে শুধু হোটেল, মোটেল, থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য। এর বাইরে যারা আছেন তাদের এ সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি রাফিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, এটা মূলত হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য। এ কারণে আমাদের পাওয়া না-পাওয়ার কোনো প্রশ্ন আসছে না।

‘এই টাকা মালিকরা অন্য কাজে লাগাতে পারবে না। এ কারণে ট্যুর অপারেটররা কোনো সহযোগিতা পায়নি।’

এদিকে হোটেল-মোটেলগুলো বলছে, প্রণোদনার কঠিন শর্তে তারাও প্রণোদনাবঞ্চিত। বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিহা) তথ্য মতে, দেশে এখন ১৭টি পাঁচ তারকা হোটেলসহ তিন ও চার তারকাবিশিষ্ট মোট ৫০টি হোটেল আছে। এদের কেউই এই প্রণোদনা পায়নি।

বিহার সাধারণ সম্পাদক মহাসিন হক হিমেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রণোদনার সুফল এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, কোনো হোটেলই এখন পর্যন্ত টাকা পায়নি।

‘এর কারণ হলো, এতে একটি ক্লজ আছে যে যাদের ঋণ আছে, তারা নতুন করে লোন পাবে না। বেশির ভাগ হোটেলই তো ব্যাংক লোন নিয়ে তৈরি করা। এ কারণে প্রণোদনা পায়নি। কেউই পায়নি।’

বিহার এই নেতা মনে করেন, প্রণোদনার শর্ত সহজ করা হলে সুফল পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মত হলো, যেহেতু বড় হোটেলগুলো ব্যাংক লোন নিয়ে করা হয়েছে, সেগুলোকে যদি সহজ কোনো শর্তে প্রণোদনা দেয়া হতো, তাহলে আমরা সুফলটা পেতাম। প্রণোদনা এখনও ঘোষণার মধ্যেই আছে। কঠিন শর্তের কারণে ইমপ্লিমেন্টেশন হচ্ছে না।’

ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটনশিল্পকে গোছাতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে দাবি করেছেন পর্যটনসচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটনশিল্প কোভিডের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ জন্য এ সময়ে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেখানে খুব স্বল্প সুদে তারা লোন পাচ্ছেন, আমরা সেটি সমন্বয় করে দিচ্ছি।

‘কোভিডের কারণে অনেক কর্মী যারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে এনে কীভাবে সহায়তা দেয়া যায়, সেটিও আমরা বিবেচনা করছি। কোভিডকালীন সমস্যার জন্য আমরা একটি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি করে দিয়েছি। তারাও কাজ করছে।’

এর বাইরেও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে একটি সার্ভে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পর্যটনসচিব বলেন, ‘কীভাবে কোভিড আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাবটা কীভাবে পড়বে বা আমরা কীভাবে এর থেকে উত্তরণ পেতে পারি, সে দিকগুলো খুঁজতে আমরা কাজ করছি।’

দেশে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় পর্যটন মৌসুম। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও টোয়াবের হিসাবে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর দেশে গড়ে বিদেশি পর্যটক আসে ৫ লাখের মতো। অবশ্য করোনার কারণে গত বছরের মার্চ থেকে এই সংখ্যা শূন্যের কোঠায়।

এর বাইরেও বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আনাগোনা থাকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ অভ্যন্তরীণ পর্যটকের। গত বছর করোনার মধ্যেও ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আয় করেছে পর্যটন খাত।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা

প্রতীকী ছবি

ই-কমার্সে পেমেন্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু’একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টারের দাবি, অর্থ তছরুপ হয়নি, ব্যাংকে জমা আছে গ্রাহকের অর্থ।

ক্রেতার অর্থের সুরক্ষায় নতুন নিয়ম করেও কমছে না দুশ্চিন্তা। ই-কমার্স থেকে পণ্য কিনে অর্থ পরিশোধের টেকসই উপায় বের করা যায়নি। সরাসরি ই-কমার্সে অর্থ না দিয়ে, গেটওয়ে বা এসক্রো পদ্ধতি চালু করা হলেও তাতেও নিশ্চিত হয়নি সুরক্ষা। শৃংখলা আনতে কি করা প্রয়োজন তাও বের করতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

ই-কমার্সে পেমেন্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু’একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টারের দাবি, অর্থ তছরুপ হয়নি, ব্যাংকে জমা আছে গ্রাহকের অর্থ।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘এসক্রো পদ্ধতিই এখন পর্যন্ত শক্তিশালী পেমেন্ট করার উপায়। তবে এই পদ্ধতিতে কিছু স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি বলেন, অটোমেশন না করা গেলে ধীর গতির কারণে পণ্য পৌঁছানো যাবে না।

গেটওয়ে পদ্ধতি কী?

নতুন নিয়মে, গ্রাহক পণ্যের জন্য অর্থ পরিশোধ করলে প্রথমে পাবে পেমেন্ট গেটওয়ে বা পিএসও। গ্রাহক পণ্য পেয়ে নিশ্চিত করার পর সার্ভিস চার্জ কেটে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করবে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান। তারপর সেই টাকা পেয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান উৎপাদনকে অর্থ পরিশোধ করবে। কিন্তু অর্থ পরিশোধ করা নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বলছে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান অর্থ ছাড় করছে না। আর গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের দাবি, দ্রুত সময়ে অর্থ ছাড় করা কঠিন।

কিউকমের অভিযোগ

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম বরাবরই অভিযোগ করছে, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান ফস্টার পেমেন্ট-এর কাছে আটকে আছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। যে টাকাগুলো গ্রাহক পণ্য কেনার জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। কিন্তু ফস্টার পণ্য ছাড়ে সংকেত না দেয়ায় আটকে গেছে ডেলিভারি। ক্ষুব্ধ হচ্ছে গ্রাহক।

কিউকম-এর ডেলিভারি এক্সিকিউটিভ তানভীর চৌধুরী জানান, কিউকমের হাতে কিছুই নেই। ফস্টার সব অর্থ আটকে রেখেছে। তারা ছাড় করলেই পণ্য পাবে গ্রাহক।

অর্থ আছে বলছে ফস্টার

গ্রাহকের একটি অর্থও তছরুপ হয়নি বলে দাবি করেছে ফস্টার পেমেন্ট। প্রতিষ্ঠানের হেড অব পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের একটি টাকাও দেশের বাইরে যায়নি। সব টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে রক্ষিত আছে’।

পেমেন্ট সিস্টেমে গলদ আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘এসক্রো পদ্ধতি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার একটা ভালো উপায়। পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবস্থায় ব্যাংকে টাকা রক্ষিত আছে। ভ্যারিফিকেশনের মাধ্যমে টাকা ছাড় করা হচ্ছে। টাকা অন্য কোনো দেশে যায়নি। দেশের ব্যাংকেই আছে। গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রেগুলেটর অথরিটির নির্দেশনায় টাকা বিতরণ করা হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে সময় লাগছে। এ সময়টা আমাদের দিতে হবে।’

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের সব কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা কাজ করছি। নির্দশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টাকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের চুক্তি করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রাহক পেয়ে যাবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দেরি হচ্ছে।’

অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা

অভিযোগ উঠেছে ফস্টার পেমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেয়নি। অভিযোগের সত্যতাও স্বীকার করেছে এই প্রতিষ্ঠান।

ফস্টার পেমেন্ট-এর হেড অব পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালে লাইসেন্স অনুমোদেনের জন্য আবেদন করা হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আশা করছি শিগগির লাইসেন্স পাওয়া যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনওসির (নো অবজেকশন লেটার) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

ফস্টারের সন্দেহজনক লেনদেন

ফস্টার পেমেন্ট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও এখনও তা বিবেচনায় নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই লাইসেন্স দেয়া হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠায়, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুরোধে গেল ৯ সেপ্টেম্বর ফস্টারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। শুধু ফস্টারই নয়, অন্য আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ।

গেটওয়ে ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

ই-পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই-ওয়ালেট সেবা দিতে বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেশনস-২০১৪-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। এখন পর্যন্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর বা ই-পেমেন্ট গেটওয়ে সেবার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। আর চারটি প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা ই-ওয়ালেট সেবার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর হিসেবে লাইসেন্স পেয়েছে পোর্টোনিক্স লিমিটেড।

কে দেবে গ্রাহকের টাকা

প্রশ্ন হচ্ছে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে কে? কিউকম, আলিশামার্ট কিংবা ই-অরেঞ্জ। যারা এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ করেছে তাদের টাকা কে ফেরত দেবে?

ই-কমার্সে এসক্রো ব্যবস্থাতেও শঙ্কা
ই-কমার্স। ফাইল ছবি

গ্রাহকরা অভিযোগ করছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বলে টাকা আছে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে। আর গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান বলে ব্যাংকে আছে টাকা। তাহলে টাকা দেবে কে?

বাংলাদেশ ই-কমার্স কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশন ও কিউকম কাস্টমার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসক্রো সিস্টেম চালু করা হলেও এটিই এখন গ্রাহক ভোগান্তির মূল কারণ।

সরকারের তরফ থেকে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা জমা অর্থ ফিরিয়ে দেবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। অথবা আদৌ টাকা আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশাচালক নিহত
তিন দশকে চাল উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য
ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স চান চালকরা
চালের বাজার অস্থিতিশীল কেন
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার, আটক ১

শেয়ার করুন