৪ শিশুর ডুবে মৃত্যু, নিখোঁজ ২

৪ শিশুর ডুবে মৃত্যু, নিখোঁজ ২

পানিতে ডুবে ভোলার লালমোহন উপজেলায় দুই শিশুর, সদর উপজেলায় এক শিশুর ও চরফ্যাশনে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স ৪ থেকে ১১ বছরের মধ্যে।

ভোলায় এক দিনে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে দুই শিশু।

জেলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় বৃহস্পতিবার এ ঘটনাগুলো ঘটে।

লালমোহন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাটিকা দুলাবাড়িতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলো পাঁচ বছর বয়সী মো. সাইদ ও চার বছর বয়সী মীম। সাইদের বাড়ি চাটিকা দুলাবাড়ি এলাকায় আর মীমের বাড়ি পাশের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজান মিয়া নিউজবাংলাকে জানান, সাইদ ও মীম খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। অনেকক্ষণ তাদের না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখেন।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, মরদেহগুলো পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়েছে।

মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের হাজীরচর খাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

মৃত ১১ বছর বয়সী মো. জিহাদের বাড়ি মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার বিকেলে জিহাদ খালের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মনপুরা ইউনিয়নের বেতুয়া স্লুইসগেট এলাকায় খালে পড়ে দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নিখোঁজ শিশুরা হলো মনপুরা ইউনিয়নের চার বছর বয়সী চাঁদনী ও ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচ বছর বয়সী মো. সোহাগ। তারা মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা জানান, ওই দুই শিশুকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মৃত ও নিখোঁজ তিন শিশুর পরিবারকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।

চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে পুকুর থেকে পানি আনতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এক শিশুর ডুবে মৃত্যু হয়েছে।

পাঁচ বছর বয়সী মৃত মো. ফুহাদের বাড়ি চরমানিকা গ্রামে।

চরমানিকা ইউপির চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ হাওলাদার জানান, ফুহাদ বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে খেলছিল। একসময় সে বোতলে পানি নিতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।

অন্য শিশুদের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে চরকচ্ছপিয়া গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর পরকীয়াকে দায় যুবলীগ নেতার

আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর পরকীয়াকে দায় যুবলীগ নেতার

মুন্না ও তার স্ত্রী সৈয়দা সাজিয়া শারমিন উষা

ঊষা ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিনদিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না। মনে রাখিস, তোর বেইমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম..।’

কুমিল্লায় এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহানগর যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না (২৯)। তিনি সদরের বারপাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে।

প্রেমের সুবাদে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন এমরান ও ঊষা। কিন্তু এক বছর পার না হতেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অশান্তি। ঊষা ঢাকায় পড়াশোনা করেন। সেখানেই আরেকটি সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। নানাভাবে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে না পেরে অভিমানে মুন্না আত্মহত্যা করেছেন, দাবি স্বজনদের।

গত বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকায় আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে উষার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন মুন্নার বাবা মতিউর রহমান।

ঘটনাটি কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন অনেকেই। নিহতের স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তারা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা কর্মাশিয়াল ইন্সটিটিউটে (বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজ) শিক্ষার্থী ছিলেন মুন্না ও উষা। এক বছরের সিনিয়র-জুনিয়র। কলেজ জীবনেই তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

৮ বছর প্রেমের পর ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি মুন্না ও উষা বিয়ে করেন।

ঊষা ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। আর মুন্না কুমিল্লায়ই ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। দিনদিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

আত্মহত্যার আগে স্ত্রীর পরকীয়াকে দায় যুবলীগ নেতার
আট বছর প্রেমের পর বিয়ে করেছিলেন মুন্না ও উষা

মুন্নার পরিবারের অভিযোগ, ঊষা ঢাকায় সোহেল নামের এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যাওয়ার কথা বলে কটাক্ষ করতেন। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন।

গত বুধবার তিনি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি ও মেসেজ পাঠান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেননি স্ত্রী। অভিমান করে নিজের শোবার ঘরেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুন্না। পরে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ওসি আন্ওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এটা প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। তাই কেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজের চার মাস পর ঢাকা থেকে উদ্ধার স্কুলছাত্রী

নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের পর শুক্রবার লক্ষ্মীপুর আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে নিখোঁজের চার মাস পর ১০ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে রাজধানী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রাজধানীর মহাখালীর একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম রায়হান চৌধুরীর আদালতে নেয়া হয়। সেখানে তার জবানবন্দি নেন বিচারক।

গত ২৩ মে সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে তার মা অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় জিসানসহ তিন যুবকের নামে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেলে তার মা রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লক্ষ্মীপুর জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতে জিসান আলমসহ তিনজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরে গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর একটি বাসায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।

অপহরণ না প্রেম করে পালিয়ে গেছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মামলায় কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো জিসানসহ কয়েক যুবক। এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ জিসানের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পথে জিসানসহ কয়েক বখাটে তাকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে মনিকা আক্তার এখনও অবুঝ। তার বয়স ১৫ বছর। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় উত্ত্যক্ত করত জিসানসহ কয়েকজন বখাটে। ঘটনার দিন স্কুলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় তাকে অপহরণ করা হয়।

‘এরপর বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে জিসান আমার মেয়ের প্রাণনাশ এবং এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি ও হুমকিধমকি দেয়। মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় খুশি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণের নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চললক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, পল্লি চিকিৎসক কারাগারে

শিশুটির বাবা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক মাসুম তাকে হার্টের চিকিৎসা দিলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে এক পল্লি চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বরগুনা আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার দুপুরে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম বরগুনা থানায় চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার মামলা করেন। ওই দিন রাতেই তাকে আটক করে পুলিশ।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল জানান, তার ৯ মাসের ছেলে ইয়ামিন জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে রোববার বরগুনার চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর কাছে নিয়ে যান। মাসুম প্রাথমিকভাবে দেখে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা দেন।

তিন হাজার টাকায় পরীক্ষাগুলো করানোর পর মাসুম রিপোর্ট দেখে তাদের জানান, ইয়ামিনের হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তাকে পরপর চার দিন চারটি ইনজেকশন দিতে হবে। পরে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাসুম নিজ হাতে একটি ইনজেকশন দেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও জানান, ইনজেকশন পুশ করার পর থেকেই ইয়ামিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। রাত ৮টার দিকে চিকিৎসক মাসুমকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তিনি ব্যবস্থাপত্র অনুসারে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে খিঁচুনি দিয়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।

সাইদুল বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান মাসুম বিল্লাহর অপচিকিৎসায় মারা গেছে। আমি এবং আমার পরিবার ওই ডাক্তারের বিচার চাই।’

চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অবশ্য অপচিকিৎসার অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২২ জানুয়ারি বরগুনার নলটোনা এলাকার হাসান নামের একজন তার মায়ের হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক মাসুমের কাছে নিয়ে যান।

হাসানের অভিযোগ, মাসুম তার মায়ের অপচিকিৎসা করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে মাসুম উল্টো তাকে হুমকিধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। মাসুমের চিকিৎসায় তার মায়ের হাত প্রায় অচল হয়ে গিয়েছিল। পরে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে তার মা সুস্থ হন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক মাসুমকে জেলার টাউন হল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যম কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

জিনের আসর রয়েছে অজুহাতে গৃহবধূকে পিটুনি

শরীয়তপুর সদরে জ্বিনের আছর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে। আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

শরীয়তপুর সদরে জিনের আসর আছে এমন কথা বলে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার খিলগাঁও গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে নির্যাতন করা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুক্রবার সকালে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত দুলাল গাজীর বাড়ি ওই এলাকাতেই। তামান্না আক্তার নামের ওই নারী ভত্তাইসার গ্রামের তোতা মিয়ার মেয়ে।

তামান্নার বাবা তোতা মিয়া জানান, ২০১৮ সালে দুলালের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মেয়ের। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই তাকে মারধর করা হয়। এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে তামান্নাকে টয়লেটে আটকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন দুলাল।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

তামান্না আক্তার বলেন, ‘আমাকে শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে পারে না। সংসারের কোনো কাজে ভুল হলেই আমাকে মারধর করা হয়। আর তারা অপবাদ দেন আমাকে নাকি জিনে আসর করেছে।

‘আমার তিন বছর বয়সি একটি সন্তান রয়েছে। এসব কারণে সেও আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।’

এ বিষয়ে দুলাল গাজী বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে মারধর করিনি। তাকে জিনে আসর করেছে। সে বিভিন্ন সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। আবার ফিরে আসে। তাকে কে মারধর করে আমি জানি না।’

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ‘তামান্না নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী মারধর করছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ওই নারীকে ফোন করি। তার বাবার বাড়ির লোকজনকে বলেছি লিখিত অভিযোগ দিতে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান মেয়েটিকে জিনে আসর করেছে। এমন ভিত্তিহীন কথা তারা কেন বলছেন তা খতিয়ে দেখা হবে।’

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আগুন

আগুনে পুড়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কাগজপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ইচ্ছা করে কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের চেষ্টায় আধ ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বরুমচড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ২ বছর স্থায়ী কার্যালয়ে অফিস করেছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর বসা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন ভবন যে তৈরি করব, তার জন্য জমি, বাজেটও নাই। তাই আমার বাসভবনে অস্থায়ী কার্যালয় করেছি।

তার অভিযোগ, ‘আমার বদনাম ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতিকারীরা আমার অস্থায়ী কার্যালয়ের ভেন্টিলেটর দিয়ে কাগজপত্রে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। কিছু কাগজপত্র পুড়ে যাওয়া ছাড়া প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেবো।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের দুটি প্রিন্টার, একটি ফটোকপি মেশিন, একটি ল্যাপটপ, একটি ডিজিটাল ক্যামেরাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ঘরের আড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ঘরের আড়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

পরিবারের লোকজন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নাজমা বেগমকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে তার মেয়ে ঝুমুর। তার চিৎকারে লোকজন এসে নাজমাকে নিচে নামায়। শুক্রবার সকালে মরদেহ থানায় নেয় পুলিশ।

ভোলার লালমোহনে ঘরের আড়া থেকে গলায় ফাঁস দেয়া নাজমা বেগম নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মহেশখালী গ্রামের ফরাজি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

৪০ বছর বয়সী নাজমা বেগম ওই বাড়ির মো. সিদ্দিকের স্ত্রী। তিনি চার সন্তানের জননী।

পরিবারের লোকজন জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে নাজমা বেগমকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখে তার মেয়ে ঝুমুর। তার চিৎকারে লোকজন এসে নাজমাকে নিচে নামায়। শুক্রবার সকালে মরদেহ থানায় নেয় পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সাগরে গোসলে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যু
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল শিশুর মরদেহ
৫ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৭ মৃত্যু
খেলার সময় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন