নতুন পর্ষদে কাজ হয়নি, সিএনএ, ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তা

নতুন পর্ষদে কাজ হয়নি, সিএনএ, ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তা

ট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে ফ্যামিলিটেক্সের কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিএনএ টেক্সটাইল একটি কোম্পানি কিনতে চায়। ফ্যামিলিটেক্সের জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে। যদি না পাওয়া যায় তাহলে ভালো কোনো গ্রুপের সঙ্গে মার্জ (একীভূত) করার চেষ্টা করব।’

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দুটি বন্ধ প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু আর একটি উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে থাকলেও বস্ত্র খাতের দুই প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ও ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে হতাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এখন ফ্যামিলিটেক্স বিক্রি করে দিতে তারা ক্রেতা খুঁজছে। আর সিএনএ টেক্সকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরেক কোম্পানি আলিফের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ২ শতাংশ শেয়ার আছে, এমন ব্যক্তিদের কাছে কারখানা দুটি তুলে দেয়ার বিষয়টিও তাদের ভাবনায় আছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি কোম্পানির পর্ষদ ভেঙে দিয়ে দুটি কোম্পানিকে টেনে তুলতে নতুন পর্ষদকে দায়িত্ব দেয় হয়।

কোম্পানি দুটির মধ্যে ফ্যামিলিটেক্সের পরিচালকরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ার বিক্রি করে উধাও হয়ে যান। অন্যদিকে সিএনএর পরিচালকরা ২০১৭ সালে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার পর আর চালু করেননি।

কোম্পানি দুটির নতুন পর্ষদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পেয়ে বিএসইসি প্রথমে আগের পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করার চিন্তা করেছিল। তবে সে পথে না গিয়ে এই চিন্তা করছে বলে নিউজবাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

সিএনএ টেক্সটাইলের যে পরিচালনা পর্ষদ ছিল, তাদের কেউ এখন দেশে নেই। আর ফ্যামিলিটেক্সের একজন পরিচালক দেশে আছেন, তিনি আবার অন্য কোম্পানির পাশাপাশি ফ্যামিলিটেক্স দেখভাল করেন।

ফলে নতুন করে কোম্পানিটি চালু করতে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হলেও বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বরং কোম্পানি দুটির জন্য দেশে সমজাতীয় পণ্য উৎপাদন করে এমন কোম্পানির সঙ্গে একত্রীকরণ বা ২ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার আছে এমন বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি দুটি দিয়ে আবারও চালু করার ভাবনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিএনএ টেক্সটাইল একটি কোম্পানি কিনতে চায়। ফ্যামিলিটেক্সের জন্য ক্রেতা খোঁজা হচ্ছে। যদি না পাওয়া যায় তাহলে ভালো কোনোা গ্রুপের সঙ্গে মার্জ (একীভূত) করার চেষ্টা করব।’

নতুন পর্ষদে কাজ হয়নি, সিএনএ, ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তা
বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম

এম খায়রুল হোসেন বিএসইসির চেয়ারম্যান থাকাকালে এই কোম্পানি দুটি তালিকাভুক্ত হয়েছিল পুঁজিবাজারে। কিন্তু প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে টাকা তোলার পর থেকেই সেগুলো ধীরে ধীরে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। মালিকপক্ষ আর বিএসইসির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না, বিনিয়োগকারীদেরও কোনো তথ্য দিচ্ছে না। এ অবস্থায় পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমে আলহাজ ও পরে রিংশাইন টেক্সটাইলের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। দুটি কোম্পানিই উৎপাদন শুরু করেছে। আর তৃতীয় কোম্পানি হিসেবে এমারেল্ড অয়েল উৎপাদন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে আগের পর্ষদের ব্যাংকঋণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত উৎপাদনে আসতে পারেনি। সেই জটিলতার সমাধানেও এবার উদ্যোগী হয়েছে বিএসইসি।

ফ্যামিলিটেক্সের আদ্যোপান্ত

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। ১০ টাকা মূল্যমানের সাড়ে তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে তারা সংগ্রহ করে ৩৫ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্তির পর ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তবে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

ওই বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয় ৭ টাকা ২৬ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য হয় ২১ টাকা ৭২ পয়সা। এই লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিন ১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ৬২ টাকা, যদিও একপর্যায়ে দাম ৭৪ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছিল।

বিপুল পরিমাণ বোনাস শেয়ার দেয়ার পর থেকেই ফ্যামিলিটেক্সের আয় কমতে থাকে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরে তারা সবশেষ মুনাফা করেছিল। তখন শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৮২ পয়সা। এর পরের চার বছর ধরে লোকসান দিচ্ছে তারা।

২০১৭ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় সাড়ে ৪ পয়সার মতো। পরের বছর লোকসান হয় ৭ পয়সা, ২০১৯ সালে লোকসান হয় ৮ পয়সা। আর ২০২০ সালে লোকসান হয় ১৫ পয়সা।

২০১৩ সালে ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার পরের বছর তারা দেয় আরও ১০ শতাংশ বোনাস। এর পরের তিন বছর দেয় ৫ শতাংশ করে। কিন্তু গত দুই বছর কোনো লভ্যাংশই দেয়া হয়নি।

অথচ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানির আয় ক্রমেই বাড়ছিল। তালিকাভুক্তির আগে তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয় বিএসইসিতে।

সেখানে দেখা গিয়েছিল, ২০১১ ও ২০১২ সালে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছিল চার গুণের বেশি। আর তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে মুনাফা বাড়ে আরও ৭৬ শতাংশ।

গত বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৫ পয়সা করে লোকসান দেয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিক, অর্থাৎ ছয় মাসে লোকসান দিয়েছে ১৩ পয়সার কিছু বেশি।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকরা আরেকটি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেন। পুঁজিবাজারে ঘোষণা না দিয়েই উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন।

এই বিষয়টি তদন্তে ডিসেম্বরের শেষে একটি কমিটি করে বিএসইসি। তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, সেটি এখনও জানা যায়নি। আর এ জন্য পরিচালকদের তেমন কোনো শাস্তিও পেতে হয়নি।

কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে এখন মাত্র ৪.০২ শতাংশের মালিক কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে মালিকপক্ষ।

এই কোম্পানির ৭৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার দরও একেবারে তলানিতে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের সবশেষ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা।

সিঅ্যান্ডএর শুরু থেকেই জালিয়াতি

কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজার থেকে ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ শেষে একই সালের ২১ জানুয়ারি দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার লেনদেন শুরু করে।

২০০১ সালে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা মূলধনের কোম্পানি ছিল সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল। এরপর ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বরে ৯ লাখ ৯২ হাজার নতুন শেয়ার ইস্যু ও প্রাক-আইপিও প্লেসমেন্টের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানো হয় ৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আবারও নতুন শেয়ার ছেড়ে ১২০ কোটি টাকার বেশি মূলধন বাড়ানো হয়। এরপর বিএসইসির কাছে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন জমা দেয়া হয়।

অর্থাৎ আইপিও আবেদনের আগের দুই মাসে পাঁচ লাখ টাকার কোম্পানিটি হয়ে যায় ১৩০ কোটি টাকা মূলধনের কোম্পানি। আইপিওর ৪৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ার পর সেটি হয়ে যায় ১৭৫ কোটি টাকা মূলধনের কোম্পানি।

তালিকাভুক্তির পর তিন বছরে যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানির মূলধন দাঁড়ায় ২৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

সিঅ্যান্ডএর আরও অনিয়মের খবর সে সময় আসে গণমাধ্যমে। আইপিও আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও হয়। তবে এম খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এসব অভিযোগ বিবেচনায় আনেনি।

শেয়ার লেনদেন শুরুর ২৭ মাস পর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১ মে হঠাৎ উৎপাদন বন্ধ করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক তৈরি পোশাক ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানির কারখানা সংস্কার করার কথা বলে উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রায় চার বছরেও আর উৎপাদনে ফেরেনি কোম্পানিটি।

ঘটনার পরে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কারখানা পরিদর্শনে যায়। তবে কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে পারেনি বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) লিখিত জানায়।

তালিকাভুক্তির প্রথম দিনেই সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারের দাম এক লাফে ১২০ শতাংশ বেড়ে ২২ টাকায় উন্নীত হয়েছিল।

২০১৬ সালের ৩০ জুন কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে শেয়ার ছিল ৩০.২৯ শতাংশ। পরে এক-চতুর্থাংশ বিক্রি করেন দেন তারা। এখন পরিচালকদের শেয়ার সংখ্যা ২২.১৪ শতাংশ।

গত জুলাইয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুখসানা মোর্শেদ, পরিচালক শারমিন আকতার ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচালক বাংলাদেশ শু ইন্ডাস্ট্রিজকে ১৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল বিএসইসি। আইন লঙ্ঘন করে কোনো ঘোষণা ছাড়া তাদের হাতে থাকা বিপুল শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ১২ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করায় এ জরিমানা করা হয়। তবে সে টাকা পরিশোধ করেননি তারা।

নতুন পর্ষদে যারা আছেন

ফ্যামিলিটেক্সের জন্য বিএসইসির মনোনীত পরিচালক হলেন কাজী আমিনুল ইসলাম, ড. সামির কুমার শীল, ড. গাজী মোহাম্মদ হাসান জামিল, ড. মো. জামিল শরিফ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ এহসান এবং ড. মো. ফরজ আলী। এই ছয়জন স্বতন্ত্র পরিচালকের মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী আমিনুল ইসলাম।

আর সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের দায়িত্ব পেয়েছেন সাতজন। চেয়ারম্যান করা হয় অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথকে। অন্যরা হলেন ড. মোহাম্মদ শরিয়ত উল্লাহ, ড. এ বি এম শহীদুল ইসলাম, ড. রেজওয়ানুল হক খান, ড. এ বি এম আশরাফুজ্জামান, ড. তৌফিক ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ এহসান।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পেলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ৯টি উড়োজাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করে নতুন পর্ষদ।

ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা তারা যতটা খারাপ ভেবেছিলেন তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি আমরা যেটা মনে করেছিলাম, যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ দেখি নি। আমি আরও বেশি গারবেজ মনে করেছিলাম। তবে ভেতরে কি অবস্থা এটা বোঝার উপায় নেই।

‘এরপর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম যাবে এগুলোর অবস্থা দেখতে। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম গেলে আবার তাদের যন্ত্রপাতিও কিছু লাগবে। আজই প্রথম গেলাম। বিমানবন্দরে আমাদের যে অফিস আছে সেটা এখনো খুলতে পারিনি। আশা করছি আগামীকাল সেটাতেও যেতে পারবো। তখন আমরা ডকুমেন্টেশনগুলো দেখতে পারবো।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর হিসাবে, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইন্সটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়া হবে মালিকপক্ষকে।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উড়োজাহাজগুলো হয়তো ফ্লাইয়েবল করা যাবে কিন্তু সেটা কতটুকু ইকোনোমিক হবে সেটা এখন প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আমরা এটা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করবো নাকি কার্গো পরিবহন করবো এটাও তখনই ঠিক হবে।

‘কার্গোর ক্ষেত্রে যে রিকোয়্যারমেন্টগুলো আছে সেগুলো অনেক রিল্যাক্সড। এটা করা অনেক সহজ হবে বলে আমার ধারণা। তবে এটি টেকনিক্যাল রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। তবে এটাও ঠিক উড়োজাহাজগুলোর বয়স অনেক হয়েছে। এগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাটা আমাদের কাছেও সুদুরপরাহত মনে হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের কোনো সময়সীমা আমরা ঠিক করি নি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চেষ্টা হচ্ছে দেশীয় একটি টিম গঠন করে এগুলোর একটি নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। এজন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের সাথে আমরা কথাও বলছি।’

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইন টেক্সটাইলের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া ছবি

গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে। এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বন্ধ থাকা রিংসাইন টেক্সটাইলে প্রাণ ফেরাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্যোগ আরও একটু এগিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে দুটি ইউনিটে উৎপাদন চলতে থাকা কোম্পানিটিতে আরও একটি ইউনিটে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পরের বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি গত ২৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের বাদ দিয়ে দেয়।

বিএসইসি এখন পর্যন্ত ১৩টি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রিংসাইনে উৎপাদন শুরু হয়। গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে।

এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

জানতে চাইলে বিএসইসি মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক সগীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিটির উৎপাদন চালু আছে। উৎপাদনও বাড়ছে।’

নতুন কোনো প্ল্যান্ট শিগগিরই চালু হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে দুটি চালু করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার পর প্রয়োজনে আমরা নতুন প্ল্যান্ট চালুর দিকে যাব। প্রয়োজনে আইপিওর যে টাকা রাখা আছে, সেগুলোরও ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

রিংসাইনের ক্ষেত্রে নতুন বোর্ড আরেকটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছে এ কারণে যে, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি যে ১৫০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার পুরোটাই ব্যাংকে রক্ষিত ছিল। এর মধ্যে বিএসইসির অনুমতি পেয়ে ৪০ কোটি টাকায় দায়দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকি অর্থে শুরু হয় উৎপাদন।

ফলে আরও ১১০ কোটি টাকা ব্যবহারের সুযোগ আছে নতুন পর্ষদের কাছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা খতিয়ে দেখে অনুমতি দেবে বিএসইসি।

শেয়ার বাতিলে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

বিএসইসির সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে টাকা ছাড়াই যে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হবে। এ-সংক্রান্ত আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ। এখন তা কমিশন সভায় উপস্থাপন করার বাকি। আগামী মাসেই তা উপস্থাপন করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশন শেয়ার বাতিল করতে পারে না। শেয়ার বাতিলের অংশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কোম্পানিটিকে আদালতে গিয়ে অবৈধ শেয়ারগুলো বাতিল করার জন্য বলা হবে। কোম্পানি তখন সে শেয়ারগুলো বাতিল করবে।’

তবে রিংসাইনের মনোনীত পরিচালক সগীর আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি। আমাদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

আইপিওতে আসার আগে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা বা পরিচালক ও ৭৩ জন সাধারণ শেয়ারধারীর কাছে ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা করা হয়। এর বিপরীতে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ
বন্ধ হয়ে যাওয়া রিংসাইনে প্রাণ ফিরছে বিএসইসির উদ্যোগে

রিংসাইনের বোর্ড পুনর্গঠনের পর তদন্ত করে এই বিষয়টি উদঘাটন করে বিএসইসি। এর পরে এসব শেয়ার বাতিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

২৭ কোটি ৫১ লাখ শেয়ার বাতিল হলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ২২৫ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা হবে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩টি।

অর্থাৎ বর্তমানে কোম্পানিটির যে শেয়ার দেখানো হচ্ছে, তার ৫৪ শতাংশই কমে যাচ্ছে।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে চিঠি

বিএসইসির একজন কমিশনার জানান, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে রিংসাইনকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি মনোনীত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক সগীর হোসাইন খন্দকার সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তারা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এজিএম করবেন। সেখানে কোম্পানির সবশেষ পরিস্থিতি জানানো হবে বিনিয়োগকারীদের।

তালিকাভুক্তির বছরে ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল রিংসাইন। ২০২০ সালে ১ শতাংশ বোনাস ও ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলেও বার্ষিক সাধারণ সভা করে সেটি অনুমোদন করা যায়নি। এর মধ্যে করোনার সময় কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কোনো একটা কিছু হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে কোম্পানির আইপিও ফান্ড আটকে দেয় বিএসইসি।

উৎপাদন শুরু হলেও এবার জুনে অর্থবছর শেষে বোর্ডসভায় ২০২১ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

উৎপাদন চালু হলেও কোম্পানির আর্থিক হিসাব প্রকাশ না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সগীর জানান, উৎপাদনে আসার পর কোম্পানি মুনাফা করছে। তবে তাদের আগের লোকসান আছে। সেগুলো সমন্বয় করে হিসাব-নিকাশ করতে একটু সময় লাগছে।

কবে নাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন সিএফও যোগদান করেছেন। তিনি এ বিষয়টিকে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা একটি কোম্পানির পরিপূর্ণ হিসাব তৈরি করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে তা প্রকাশ করা হবে।’

তালিকাভুক্তির পরই ভেঙে পড়ে কোম্পানিটি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকায় যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ মেটানোর কথা ছিল। তবে সেই টাকা তারা ব্যবহার করার আগেই হস্তক্ষেপ করে বিএসইসি।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করার আগেই ২০১৯ সালের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তী লেনদেনে সার্কিট ব্রেকার থাকবে কি থাকবে না, এমন অবস্থায় কোম্পানিটি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ১২ ডিসেম্বর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে।

পরের বছরের জন্য কোম্পানিটি ১ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করে কিন্তু বার্ষিক সাধারণ সভা আর হয়নি। ফলে বিষয়টি আর চূড়ান্ত হয়নি।

যদিও কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও থেকে তোলা টাকার ব্যবহারের খাত পরিবর্তন।

তখন অভিযোগ ওঠে, কোম্পানিটির বিদেশি পরিচালকরা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকা নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন। তখন বিএসইসির অনুরোধে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেভাবে বিপাকে

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) তাইওয়ানের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রিংসাইন একটি শক্তিশালী কোম্পানি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর শ্রমিকসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি ছিল।

১৯৯৬ সালে ডিইপিজেডে তাইওয়ানের নাগরিক মি সাও সোয়েটার কারখানাটি চালু করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যে একে একে তিনি গড়ে তোলেন অ্যাভাস গার্ড লিমিটেড, সাইন ফ্যাশন লিমিটেড ও ইন্টার লগ লিমিটেড। এসব কারখানায় শ্রমিক ছিল আরও অন্তত সাত হাজার।

সমস্যার শুরু পাঁচ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত কারণে মি সাও মারা গেলে তার ছেলে মি উইং থিং ও মেয়ে অ্যাঞ্জেলা কারখানাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেননি।

মালিকদের অভিযোগ, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানি করা সুতাসহ নানা উপকরণ পাচার করে দিচ্ছিলেন শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মি সাওয়ের মতো তার সন্তানরা ব্যবসা অতটা ভালো বুঝতেন না। আর এই সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও তথ্য আছে। একপর্যায়ে মি সাওয়ের দুই সন্তান কাউকে না বলে বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক

আগের সপ্তাহে দরপতনের পর নতুন সপ্তাহের শুরুটিও ভালো গেল না পুঁজিবাজারে।

আগের সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছিল দুই দিন আর বেড়েছিল তিন দিন। এই তিন দিন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকায় ছিল বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানি। অন্যদিকে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সবচেয়ে বেশি সূচক পড়েছে যে ১০টি বড় মূলধনি কোম্পানির কারণে, তার বেশির ভাগই গত সপ্তাহে ছিল তেজি।

আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় নতুন সপ্তাহের শুরুটাও ভালো গেল না পুঁজিবাজারে। আগের সপ্তাহে সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও সূচকের পতনে এবার প্রধান ভূমিকা রেখেছে বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানি।

এমন কোনো খাত ছিল না যেগুলোর বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারায়নি। তবে এর ভিড়েও বড় মূলধনি বহুজাতিক ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, গ্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, দেশি বড় মূলধনি কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, অলিম্পিক, বিকন ফার্মা, সাউথ বাংলা, ডেল্টা লাইফ ও বহুজাতিক রেকিট বেনকিজার সূচক পতনে রেখেছে বড় ভূমিকা।

এই ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক পড়েছে ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সার্বিকভাবে সূচক পড়েছে ৩৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ওয়ালটনের দরপতন থামার পর কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ১৪ পয়েন্ট। নইলে ১০৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৪৪টি কোম্পানির পতনে সূচকে আরও বড় পতন হতে পারত।

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশে গত সপ্তাহের পুরোটাই পুঁজিবাজারে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ওঠানামা করতে করতে শেষ পর্যন্ত সপ্তাহে সূচক কমে ৩০ পয়েন্ট। টানা প্রায় ১১ সপ্তাহ পর সূচকের পতন হলো।

আগের সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছিল দুই দিন আর বেড়েছিল তিন দিন। এই তিন দিন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকায় ছিল বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানি।

নতুন সপ্তাহে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, এমন আশা নিয়ে রোববার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বেড়ে যায় ২৮ পয়েন্ট। কিন্তু এই অগ্রগতি ধরে রাখা যায়নি ১৫ মিনিটও। তবে ওঠানামা করতে করতে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত সূচক ইতিবাচকই ছিল। সে সময় আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেশি সূচকে চলছিল লেনদেন। কিন্তু সেখান থেকে ৪২ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও বিমা খাতের শেয়ারধারীরাই কিছুটা স্বস্তিতে ছিল পতনের এই দিনটিতে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, খাদ্য, প্রকৌশল, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনও কমে গেছে খানিকটা। বৃহস্পতিবার ২ হাজার ১৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হলেও পরের কর্মদিবসে লেনদেন হলো ২ হাজার ৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজার দরপতনের মধ্য দিয়ে গেলেও একে স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। গত বছরের জুলাই থেকে মূল্যসূচক ৩ হাজার পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে গত ৫ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা বেড়েছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্ট। এরপর ছয় কর্মদিবস মিলিয়ে পড়েছে ৬৬ পয়েন্ট।

বহুজাতিক ও বড় মূলধনির দর পতনের ছাপ সূচকে

বহুজাতিক বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। শেয়ার দর ৬৫৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৪৯ টাকা। এই পতনের জন্য সূচক কমেছে ৭.৫২ পয়েন্ট।

অন্য বহুজাতিকের মধ্যে ইউনিলিভারের শেয়ার দর ০.৫৬ শতাংশ, ম্যারিকোর ০.০৮ শতাংশ, গ্রামীণফোনের ০.৬৫ শতাংশ দাম কমেছে।

গ্রামীণ ফোনের শেয়ারের দাম কমায় সূচক পড়েছে ৪.৪৫ পয়েন্ট।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি

লাফার্জ হোলসিমের দর দর ২.৩৩ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ৪.০৫ পয়েন্ট।

বড় মূলধনি দেশি কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর কমেছে ১.৬৫ শতাংশ। এ জন্য সূচক কমেছে ৩.৩৭ পয়েন্ট।

ব্যাংক খাতের এনআরবিসির দর কমেছে ৭.৩৩ শতাংশ। এর জন্য সূচক পড়েছে ৩.১৫ পয়েন্ট। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর কমেছে ৩.৯৮ শতাংশ যা সূচক কমায় ৩.১৪ পয়েন্ট, বিকন ফার্মার দর কমে ২.৬৭ শতাংশ, সূচক পড়ে ২.৬ পয়েন্ট।

লেনদেন এগিয়ে আর্থিক খাত, দর বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ও বিমা

প্রায় সব খাতের দরপতনের ভিড়ে তাও কিছুটা স্বস্তি গেছে বিমা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। তবে দরপতন হলেও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে, যদিও তা আগের কর্মদিবসের তুলনায় অনেকটাই কম।

আর্থিক খাতের লেনদেন হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে সেরা হলেও দরপতন হয়েছে এই খাতে। ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে কেবল ৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৬টির।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
সূচকের বড় পতন ঠেকিয়েছে যে ১০টি কোম্পানি

যেগুলোর দর বেড়েছে, তার মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে মাইডাস ফাইন্যান্স। ৮.২০ শতাংশ বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। তারপরই আছে উত্থানে থাকা ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, যার দর বেড়েছে ৩.৫৪ শতাংশ।

আইডিএলইসির ১.৬৪ শতাংশ, আইপিডিসি শেয়ার দর বেড়েছে ১.০৮ শতাংশ।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সের ৭.৩২ শতাংশ। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৭ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্সের ৫.৬০ শতাংশ দর কমেছে।

বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ১৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৩টির।

এই খাতে লেনদেনও সামান্য কমেছে। এদিন হাতবদল হয়েছে ২০৩ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ২০৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এই খাতের সবচেয়ে বেশি ৮.৯০ শতাংশ বেড়েছে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের। এছাড়া ইস্টার্ন ইন্সুরেন্সের ৫.০৯ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্সের ৪.১৪ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্সুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.০৯ শতাংশ।

এ খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, যার র কমেছে ৪.৮৯ শতাংশ। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৩.১১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ১.১০ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১ শতাংশ।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮টিরই আর কমেছে তিনটির। লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৯.৭৮ শতাংশ বেড়েছে আমরা টেকনোলজির শেয়ার দর। আমরা নেটওয়ার্কের শেয়ারদরও বেড়েছে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

পতনের বৃ্ত্তেই প্রকৌশল ও বস্ত্র খাত

লেনদেন ভালো হলেও প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার হারিয়েছে।

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ১২টির, কমেছে ৩০টির দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া খাতটিতে হাতবদল হয়েছে মোট ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

প্রকৌশল খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বিডিঅটোকারস লিমিটেডের ৯.৯৪ শতাংশ। দুর্বল এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি যে পাঁচ খাতে লেনদেন হয়েছে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া আজিজ পাইপের দর বেড়েছে ৯.৮৩ শতাংশ। উৎপাদন বন্ধ থাকা এই কোম্পানিটি ১ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায় আছে।

রেনউইক যগেশ্বর, কেডিএস একসেসোরিজ, ওয়ালটন, কেঅ্যান্ড কিউ, মুন্নু অ্যাগ্রো এবং এসএস স্টিলের দর বেড়েছে।

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১১টির, কমেছে ৪৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি দুটির দর। এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ১৬৫ কোটি টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে তুংহাই নিটিংয়ের দর। ৭.১৩ শতাংশ কমে শেয়ার দর ৭ টাকা থেকে হয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

তারপরই আছে মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, যার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৬.৬৮ শতাংশ। তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৬.৬১ শতাংশ, তজিমউদ্দিন টেক্সটাইলের দর কমেছে ৫.৮৪ শতাংশ।

ঢাকা ডায়িং, আলিফ, এআইএল, পিটিএলের দর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।

ব্যাপকভাবে হতাশ করল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

এই খাতে ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে কেবল ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে কেবল একটির দর বেড়েছে ১০ পয়সা। ৯টির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর কমেছে আবি ২৬টির দাম।

আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবার এই খাতে লেনদেন ছিল ৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ১০টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবার বেশ ভালো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে প্রথম দিনের লেনদেনে দরপতন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে নগদ লভ্যাংশে শেয়ারের দরে সমন্বয় না হলেও বাংলাদেশে দাম পড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। যেসব ফান্ড বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর দরপতন হয়েছে বেশি।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে কম

তবে শতকরা হিসেবের কারণে সবগুলো ফান্ড ইউনিটপ্রতি যত টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, ততটুকু কমেনি।

জনতা ব্যাংক ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডে তাও লভ্যাংশ নিয়ে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা মুনাফা হয়েছে। ১ টাকা ৩০ পয়সা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু রেকর্ড ডেট শেষে দাম কমেছে ৯০ পয়সা।

সার্কিট ব্রেকারের সুবিধার কারণে এই লভ্যাংশ হয়েছে তাদের। ফান্ড দুটির দাম রেকর্ড ডেটে ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা ও ৯ টাকা ৯০ পয়সা। ফলে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা দর কমতে পারত।

অন্য ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৮৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পিএইচপি ও পপুলার ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ৮০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে ৭০ পয়সা করে। সার্কিট ব্রেকারের কারণে এর চেয়ে বেশি কমার সুযোগ ছিল না।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও এফবিএফআইএফের লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের কার্যত কোনো মুনাফা হয়নি। ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া প্রথম ফান্ডের দাম কমেছে সমপরিমাণ, আর ইউনিটে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দ্বিতীয় ফান্ডের দাম কমেছে ৪০ পয়সা।

সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা কমার সুযোগ থাকলেও ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে ৬০ পয়সা।

অন্যান্য ফান্ডের মধ্যে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৬০ পয়সা, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৪০ পয়সা। ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও দর কমেছে সম পরিমাণ।

কেবল ১০ পয়সা দর বেড়েছে আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের।

পতনের ভিড়ে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি প্রাইম ফাইন্যান্স, আইসিবি সোনালী, এলআর গ্লোবাল ওয়ান, এসইএমএলএফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, ভ্যানগার্ড বিডি ফাইন্যান্স ও ভ্যানগার্ড রূপালী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ধরে রাখাটা তাও ইউনিটধারীদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

ওষুধ ও রসায়ন খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ২০৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬টি কোম্পানির, দর হারিয়েছৈ ২৪টি কোম্পানি।

বিবিধ খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। লেনদেনে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৫টি কোম্পানির, দর হারিয়েছৈ ৮টি কোম্পানির।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৫৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এই খাতে দর বেড়েছে ৯টি কোম্পানির, হারিয়েছে ১২ টি আর পাল্টায়নি ২টি কোম্পানির দর।

ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১৫৪ কোটি ২ লাখ টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬টির। দর কমেছে ১৬টির। দর পাল্টায়নি ১০টি কোম্পানির।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতে লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এ খাতে ৪টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে ১৬টির।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯১ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৫৮ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৮২ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩১৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ২১৩টির ও পালটায়নি ১৫টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি

গত ৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার পর এই ৫টি কোম্পানির শেয়ারদর আরও বেড়েছে।

পুঁজিবাজারে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গত ৯ আগস্ট ৯টি কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করতে ডিএসইকে নির্দেশ দেয় বিএসইসি। ১৩ সেপ্টেম্বর আসে আরও চারটির বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ। এর মধ্যে একটির বিষয়ে আদেশ ছিল আগের নির্দেশেই।

পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হলেও সেসব কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এমন নয়।

বরং গত আগস্ট ও পরে সেপ্টেম্বরে মোট ১২টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পনির শেয়ার দর আরও বেড়েছে। এর মধ্যে একটির দর আছে অপরিবর্তিত। আর চারটির দর সামান্য কমেছে।

এই তিনটি কোম্পানির শেয়ার দরই তদন্তের আদেশ দেয়ার আগে থেকেই সংশোধনের মধ্যে ছিল।

গত ৯ আগস্ট ৯টি এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৪টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এর মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর যে চারটি কোম্পানি নিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটির নাম ছিল ৯ আগস্টের আদেশে। বিএসইসির সেই আদেশের পর দাম বেড়েছে আরও ৩০ শতাংশের বেশি।

দুবারই দেখা গেছে, আদেশ আসার পরপর বিনিয়োগকারীদের একাংশ আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে আফসোস করেছেন।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
বিএসইসির আদেশে অস্বাভাবিকভাবে মোট ১২টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করছে ডিএসই

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দর বৃদ্ধির তদন্তের খবরে স্বাভাবিকভাবে সেই কোম্পানির শেয়ার কিছুটা প্রভাব পড়ে সত্য। কিন্তু তদন্ত করলেই যে শেয়ার দর কমবে, সেটি সত্য নয়। বরং পুঁজিবাজারে শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই শেয়ার দর নির্ধারিত হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ তদন্ত করতে বলা হয়েছে, সেগুলোর সবগুলোই দুর্বল ও স্বল্প মূলধনি। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগাকরীদের আগ্রহ পুঁজিবাজারের জন্য খবুই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ না করাই উত্তম।’

ডিএসই যে তদন্ত করছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ হয়নি। জানতে চাইলে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্তের জন্য ডিএসইর আলাদা বিভাগ আছে। তারই এটি দেখভাল করে থাকে। আরএনডি বিভাগ এ সম্পর্কে বলতে পারবে।’

তবে আরএনডি বিভাগ সাধারণত গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে না।

সেই কোম্পানির চিত্র

৯ আগস্ট যে ৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ আসে, তার মধ্যে ৫টির দাম আরও বেড়েছে। সামান্য কমেছে তিনটি দর। তবে এই আদেশ দেয়ার আগেই কোম্পানি তিনটির শেয়ার দর সংশোধনের মধ্যেই ছিল।

আনোয়ার গ্যালভানাইজিং

এই কোম্পানিটির শেয়ার দরও গত এক বছরে বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এ সময়ে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৯২ টাকা ৮০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ৪৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত দুই বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তবে উত্থান শুরু হয় মূলত গত ১১ এপ্রিল থেকে। সেদিন শেয়ার দর ছিল ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। এরপর থেকে তেজি ষাঁড়ের মতো ছুটতে ছুটতে ৯ আগস্ট ৩১৯ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে যাওয়ার পর আসে তদন্তের আদেশ।

পরদিন শেয়ারপ্রতি দর ৯ টাকা ৩০ পয়সা কমে ৩১০ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু এরপর আবার বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫২ টাকা ২০ পয়সা।

পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং

ওটিসি থেকে ১৩ জুন মূল মার্কেটে আসার পর চারটি কোম্পানির শেয়ার দর যে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে, তার একটি এটি।

ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরার দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৬ টাকা। তদন্তের আদেশ আসার দিন দর ছিল ১৬৪ টাকা ৭০ পয়সা। আদেশ আসার খবরে পরদিনই দাম কমে হয়ে যায় ১৫৫ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু পরে আবার বাড়তে থাকে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় তদন্তের আসার আদেশ আসার দিন শেয়ারপ্রতি দর ছিল ২১৮ টাকা। সেটি আরও বেড়ে এখন হয়েছে ২২৫ টাকা ৩০ পয়সা।

গত এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ১৭ টাকা ৬০ পয়সা হলেও এই দরে শেয়ার বিক্রি হয়েছে খুবই কম। ওটিসি মার্কেট থেকে আসার পর গত ১৪ এপ্রিল ৩০ হাজারের কিছু বেশি শেয়ার বিক্রি হয়। সেদিন এর দাম ছিল ১১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

পরের দিন ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৯৪টি শেয়ার বিক্রি হয়, সেদিনই মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেনার সুযোগ পেয়েছেন। সেদিন দর ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা।

এমারেল্ড অয়েল

তদন্তের জন্য এই কোম্পানিটিকে বাছাই করা নিয়েই ছিল প্রশ্ন। স্পষ্টত কোম্পানিটির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল আর সেটি ছিল প্রকাশিতই।

বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারিতে ২০১৬ সালে কোম্পানি বন্ধ করে গিয়ে মালিকপক্ষ লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিল। সেই কোম্পানিটিতে প্রাণ ফেরাতে বিএসইসির উদ্যোগে ব্যবস্থাপনায় এসেছে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশির কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ারও কথা ছিল। তবে বেসিক ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে জটিলতা এবং আরও কিছু লাইসেন্সের কাজ শেষ না হওয়ায় সেই উৎপাদন শুরু করা যায়নি।

তবে ব্যাংকের সঙ্গে জটিলতার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ, আগের পর্ষদের নেয়া ঋণের সুদ মওকুফে অনুরোধ করেছে বিএসইসি। আর ব্যাংকটি তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আবার উৎপাদন শুরু হতে পারে।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
ডিএসইর তদন্ত চলাকলে এই চারটি কোম্পানির শেয়ার দর সামান্য কমেছে

তদন্তের আদেশ আসার দিন এমারেল্ডের শেয়ার দর ছিল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা। পরে তা কমে একপর্যায়ে ৩১ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। তবে পরে সেখান থেকে বেড়ে ৪৪ টাকাও উঠে যায় গত বৃহস্পতিবার। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিন লেনদেন শেষ করেছে ৪২ টাকায়।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৪ টাকা।

জিবিবি পাওয়ার

গত এক বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটির শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এক বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ৫১ টাকা ১০ পয়সা। গত ২ বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ার দর ছিল ৩৭ টাকা ১০ পয়সা। পরের দিন দাম কমে হয় ৩৫ টাকা ৬০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে ছাড়ায় ৫০ টাকা। সেখান থেকে খানিকটা কমে গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটির শেয়ার দর এক বছরে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১৬৯ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ১৪ টাকা ৭০ পয়সা।

শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ১১৯ টাকা। সে সময় সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এই কোম্পানিটির পাশাপাশি গোটা খাত। তদন্ত চলাচালেই দাম গত ৫ সেপ্টেম্বর একপর্যায়ে বেড়ে ১৬১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। এরপর ৯ কর্মদিবসের মধ্যে ৮ কর্মদিবস দরপতন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৪০ পয়সা। এটিও তদন্তের আদেশ দেয়ার দিনের চেয়ে ১১ টাকা ৪০ পয়সা বেশি।

যেগুলোর দর সামান্য কমেছে

বিকন ফার্মা

এই কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টিও বিস্ময়কর। গত দুই বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ২৫ টাকা আর সর্বোচ্চ দর ২২৪ টাকা ৯০ পয়সা। এক বছরে সর্বনিম্ন দর ৬৫ টাকা ৯০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়ার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ২২২ টাকা ১০ পয়সা। এই আদেশ আসার পর দুই কর্মদিবস কমে ১৯৯ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। পরে আবার বাড়তে থাকে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ৯ সেপ্টেম্বরের দামকে ছাড়িয়ে শেয়ার দর দাঁড়ায় ২২৭ টাকা ৯০ পয়সা। সেখান থেকে কিছুটা কমে বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা ৩০ পয়সা।

ঢাকা ডাইং

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ২৯ টাকা ৫০ পয়সা। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত বছরের এপ্রিল থেকেই বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। ২০১৫ সালের পর ২০২০ সালের জন্য প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগের দুই বছর আয় ব্যয়ের হিসাব না দেয়া কোম্পানিটি চলতি বছর তিন প্রান্তিকেও মুনাফায় ফিরেছে।

কোম্পানিটি গত বছর যে মুনাফায় ফিরেছে, সেই ইঙ্গিতও ছিল না। তার পরেও এই সময়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায় তদন্তের আদেশ আসার দিন।

বিএসইসির নির্দেশ আসার পর দাম কমে ২৩ টাকায় নেমে এলেও পরে তা আবার বাড়তে শুরু করে। সবশেষ দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭০ পয়সা। যদিও একপর্যায়ে দাম ২৬ টাকা ৭০ পয়সাকে ছাড়িয়ে ২৮ টাকায় উঠেছিল। এখন গোটা বস্ত্র খাতের শেয়ার দরই সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল ফিড মিলস

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ছিল ৯ টাকা ২০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে গিয়েছিল। পরে কমতে শুরু করে।

তদন্তের আদেশ আসার দিনও দাম ১০ পয়সা কমে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায়। এরপর ২ কর্মদিবসে আরও কমে দাঁড়ায় ৩১ টাকা।

পরে ওঠানামা করতে করতে গত বৃহস্পতিবারও এই দামেই লেনদেন শেষ করেছে। মাঝে একবার অবশ্য তদন্তের নির্দেশ আসার দিনের দামকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষ করে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

ফুওয়াং সিরামিক

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২৮ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ৫ টাকা ৭০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ২৬ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর ওঠানামা করে সর্বোচ্চ দাম হয় ৫ সেপ্টেম্বর ২৬ টাকা ২০ পয়সা।

এরপরের ৯ কর্মদিবসের মধ্যে ৮ কর্মদিবস দরপতন হয়েছে। এক দিন বেড়েছে। সবশেষ শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪০ পয়সা।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
ওটিসি থেকে ফেরা চারটি কোম্পানির তদন্তের আদেশ দেয়ার পর তিনটি দর আরও বেড়েছে, একটির কমে আবার সমান হয়েছে

ওটিসিফেরত কোম্পানির কী চিত্র

এই চারটির মধ্যে পেপার প্রসেসিংয়ের নাম আগের ৯ কোম্পানির মধ্যেই ছিল।

বাকি তিনটির মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তের আদেশ আসার দিন তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর ছিল ১৮০ টাকা ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানিটি ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে ১৩ টাকায়। তবে শুরুতে শেয়ার বিক্রি হয়নি বললেই চলে। প্রথমবারের মতো এক দিনে ৫০ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে গত ১২ জুলাই। সেদিন দর ছিল ৭১ টাকা ৭০ পয়সা।

১৫ জুলাই শেয়ার দর ৯০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন ওঠানামা করতে থাকে। ওটিসিফেরত চারটি কোম্পানির মধ্যে একটি নিয়ে তদন্তের আদেশ আসার দিন এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা। পরদিন ২ টাকা ৪০ পয়সা কমে দাম দাঁড়ায় ৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এরপর রীতিমতো উড়তে থাকে শেয়ারটি। গত ৯ সেপ্টেম্বর তা ২০২ টাকায় পৌঁছে।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের আদেশ আসার দিন দাম কিছুটা কমে হয় ১৮০ টাকা ৪০ পয়সা। পরের কর্মদিবসে সেখান থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১৬২ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায় শেয়ার দর। কিন্তু তার পরের দুই কর্মদিবসে আবার বেড়ে হয় ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা।

ওটিসি থেকে মনোস্পুল পেপার ফিরেছে ৫০ টাকা দর নিয়ে। তবে ১০০ টাকার নিচে শেয়ার বিক্রি হয়েছে কমই। গত ২৭ জুন ২৫ হাজার ১৯৫টি শেয়ার হাতবদলের দিন দাম ছিল ১৪২ টাকা ১০ পয়সা। তার পরদিন ২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৭টি শেয়ার বিক্রি হয় ১৫৬ টাকা ৩০ পয়সায়। সেদিনই মূলত ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটি পেয়েছেন।

গত ৯ আগস্ট ৯টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে তদন্তের নির্দেশ আসার দিন ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা দর ছিল কোম্পানিটির। যদিও সেই তদন্তে এই কোম্পানিটির নাম ছিল না, তারপরেও পরের দিন শেয়ার দর খানিকটা কমে হয় ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর তা বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরে একপর্যায়ে ২৪৯ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ার দর ছিল ২২৩ টাকা ৯০ পয়সা। পরের দিনই দরপতন হয় ২০৮ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয় শেয়ার। কিন্তু এরপরের দুই কর্মদিবস বেড়ে গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২২৯ টাকা ৫০ পয়সা।

ওটিসিফেরত চারটি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে মুন্নু ফেব্রিক্সের দর। ১০ টাকা দিয়ে কোম্পানিটি ফিরেছে মূল মার্কেটে। আর আসার পর টানা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে উঠে যায় ৩৭ টাকা ২০ পয়সায়।

মূল মার্কেটে ফেরার দিন প্রথম উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার বিক্রি হয়েছে গত ২১ জুন। সেদিন হাতবদল হয় ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫টি শেয়ার। সেদিন দর ছিল ১৯ টাকা ৩০ পয়সা।

গত ৯ আগস্ট ওটিসির একটিসহ ৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্তের আদেশ আসার দিন দর ছিল ২৬ টাকা ১০ পয়সা। পরের দিন দাম সামান্য কমে ২৫ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়। একপর্যায়ে দাম কমে ২৪ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। পরে তা বাড়ার বেড়ে ৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়ে যায়।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের নির্দেশ আসার দিন দর ছিল ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। আদেশের খবরে পরদিনই দাম কমে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। এরপর দুই দিন দাম বেড়ে গত বৃহস্পতিবার আবার ২৯ টাকা ৯০ পয়সা হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংককে সেরা প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক হিসেবে নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয় করায় ব্যাংকটিকে এই মনোনয়ন দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ব্যাংকটিকে নগদ কমিশন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এনআরবিসি ব্যাংককে অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সেরা প্রাইমারি ডিলার নির্বাচন ও আন্ডাররাইটিং কমিশন হিসেবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪২০ টাকা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, ‘স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক। সরকার উন্নয়ন কাজ গতিশীল রাখতে দেশিয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে। সেই ঋণ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সক্রিয়ভাবে ঋণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি আয়কর, ভ্যাট, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব সংগ্রহ এবং বিআরটিএ, পল্লী বিদ্যুৎ, ভূমি রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সরকারি বিভিন্ন সেবার ফি আদায় করছে এনআরবিসি ব্যাংক।’

উল্লেখ্য, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮৩টি শাখার পাশাপাশি সারাদেশে প্রায় ৫৩০টি উপশাখা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও বিআরটিএ ফিস কালেকশন বুথ। এর বাইরে আছে ৫৯৫টি এজেন্ট পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

আগস্টে বেক্সিমকোর ৭ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান

আগস্টে বেক্সিমকোর ৭ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান

সাভারে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পিপিই পার্কের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে দর বাড়তে শুরু করে বেক্সিমকোর। ছবি: নিউজবাংলা

গত বছরের জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে, তার অন্যতম হলো বেক্সিমকো লিমিটেড। এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ দর উঠে ১৩৫ টাকা ৫০ পয়সা। দিন শেষে দাম দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা ২০ পয়সা।

জুলাই মাসে চার কোটির পর আগস্টে বেক্সিমকো লিমিটেডের প্রায় সাত কোটি শেয়ার কিনল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। দুই মাসে তারা কিনেছে ১১ কোটির কিছু কম।

গত ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় কোম্পানির যত শেয়ার তাদের হাতে ছিল, এখন আছে তার প্রায় দ্বিগুণ। এর পুরোটাই বিক্রি করেছেন ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা।

৩০ জুন শেষে বেক্সিমকোর মোট শেয়ারের ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। সে সময় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ছিল ৫৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার।

আগস্ট শেষে মোট শেয়ারের ২৬.০৯ শতাংশ আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। জুন শেষে তা ছিল ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়ে চললেও কোম্পানিটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়া বা কমার ঘটনা ঘটেনি। জুলাই থেকেই তা শতকরা ১.৪৭ শতাংশ রয়ে আছে।

এই দুই মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৪ কোটির কিছু বেশি শেয়ার কেনার মাসে বেক্সিমকোর শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৮৯ টাকা। ওই মাসে সর্বোচ্চ দর ছিল ৯৭ টাকা ৯০ পয়সা।

আগস্টে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৯২ টাকা আর সর্বোচ্চ ছিল ১১১ টাকা ৩০ পয়সা।

তবে সেপ্টেম্বরের অর্ধেক যেতে না যেতে শেয়ার দর দিয়েছে আবার লাফ। এই মাসে সর্বনিম্ন দর ছিল ১১১ টাকা ৩০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ দর ১৩৫ টাকা ২০ পয়সা।

বড় মূলধনি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেক্সিমকোর দর

গত বছরের জুলাই থেকে পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে, তার অন্যতম হলো বেক্সিমকো লিমিটেড।

এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দাম ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ দর উঠে ১৩৫ টাকা ৫০ পয়সা। দিন শেষে দাম দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা ২০ পয়সা।

এই এক বছরে এর চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দর। তবে সেগুলোর সিংহভাগই স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। বেক্সিমকোর পরিশোধিত ৮৭৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

২০১০ সালের মহাধস শুরুর পর কোম্পানি ব্যাপকহারে দর হারায়। সেই সঙ্গে কমতে থাকে এর শেয়ার প্রতি আয়। ২০১০ সালে শেয়ার প্রতি ৪০ টাকারও বেশি আয় করা কোম্পানিটি গত অর্থবছরে সর্বনিম্ন আয় দেখায় ৫১ পয়সা।

আগস্টে বেক্সিমকোর ৭ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
গত এক বছরে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা, সর্বোচ্চ দর ১৩৫ টাকা ৫০ পয়সা

তবে চলতি অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকেই ব্যাপকভাবে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে এর দাম।

এত বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে নানা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কাজ করেছে এই সময়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা করার পর দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র করার কাজ পাওয়ার ঘোষণায় বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদরে উত্থান হচ্ছে গত বছরের এপ্রিল থেকে।

কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পিপিই ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করবে বলে জানানো হয়েছে। আর এই পিপিই রপ্তানি করেই তাদের আয়ের সিংহভাগ এসেছে।

সম্প্রতি কোম্পানিটি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে সুকুক বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার অনুমতি পেয়েছে। বন্ড কিনতে প্রথমে অগ্রাধিকার পেয়েছেন বিদ্যমান শেয়ারধারীরা। তবে তারা খুব একটা আগ্রহ দেখাননি।

৭৫০ কোটি টাকার বন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা থাকলেও বিনিয়োগের জন্য আবেদন পড়েছে ৫৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

বন্ডে বিনিয়োগ করলে প্রতিবছর নিশ্চিতভাবেই ৯ শতাংশ মুনাফা মিলবে। আরও নানা সুযোগ-সুবিধা থাকায় সেটি ১৬ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে সেটি বিবেচনায় নিচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা; বরং পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক নানা ফেসবুক পেজে এই বন্ড না নিতে লেখালেখি করছেন তারা।

বিনিয়োগকারীরা বিশেষ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইনসে প্লেসমেন্ট শেয়ারে বিনিয়োগ করে টাকা ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরছেন।

বেক্সিমকোর সুকুক বন্ডে আগ্রহ না দেখালেও কোম্পানিটির শেয়ারে তুমুল আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার সুযোগ দিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা তা বিক্রি করছেন, আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিনেই চলেছেন।

জুলাই ও আগস্ট শেষে শেয়ারের হিস্যা কার কত

গত জুলাই মাসে মোট শেয়ারের ৪.৬ শতাংশ হিসেবে ৪ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার ৬৬৮টি শেয়ার কিনেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

আগস্টে তা আরও বেড়েছে। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী এই এক মাসে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৫টি শেয়ার কিনেছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

শতকরা হিসেবে বেক্সিমকোর শেয়ারের মোট ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে।

জুন শেষে মোট শেয়ারের ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।

আগস্টে বেক্সিমকোর ৭ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
গত তিন মাসে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের মালিকানার হিস্যার হিসাবনিকাশ

জুলাই শেষে তা আরও খানিকটা বেড়ে হয় ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ। আগস্টে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হিস্যা বেড়েছে আরও ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কোনো কোম্পানিতে মোট শেয়ারের কত শতাংশ কার হাতে আছে, সেই তথ্য প্রতি মাস শেষে জানাতে হয়।

প্রায়ই দেখা যায়, চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসইসে এই তথ্য আগে প্রকাশ হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে এই হিসাব প্রকাশ করতে কিছুটা দেরি করে।

গত মাসেও বেক্সিমকোর শেয়ারের হিস্যার খবর সিএসই আগে প্রকাশ করেছিল। ডিএসইতে তা প্রকাশ হয় পরে।

কার কাছে কত শেয়ার

বেক্সিমকো লিমিটেডের বর্তমানে মোট শেয়ার আছে ৮৭ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৭৯টি।

শেয়ারের মধ্যে ৩০.৫৫ শতাংশ বা ২৬ কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪১৭টি আছে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, যা জুলাই ও আগস্ট মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গত দুই মাসে ব্যাপকহারে বিক্রি করলেও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার সংখ্যা এখনও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বেশি আছে।

মোট শেয়ারের ৪১.৮৯ শতাংশ বা ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৮টি শেয়ার আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

আগস্ট শেষে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ২৬.০৯ শতাংশ বা ২২ কোটি ৮৬ লাখ ৩১ হাজার ৫৯৫টি শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।

মোট শেয়ারের ১.৪৭ শতাংশ বা ১ কোটি ২৮ লাখ ৮১ হাজার ৮৮৭টি শেয়ার আছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কারা

পুঁজিবাজারে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পুঁজিবাজারে তাদের সবচেয়ে দক্ষ বিনিয়োগকারী হিসেবে দেখা হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হচ্ছে মূলত অনুমোদিত স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য বা ব্রোকারেজ হাউস।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, কাস্টডিয়ান, ট্রাস্টি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোও পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিত।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক বা তফসিলি ব্যাংক পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করে থাকে, তাদেরও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন

ছোট উদ্যোক্তাদের পাশে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এসআইবিএল

ছোট উদ্যোক্তাদের পাশে এসএমই ফাউন্ডেশন ও এসআইবিএল

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এবং এসআইবিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাজুল ইসলাম চুক্তিতে সই করেন। ছবি: নিউজবাংলা

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের ৪ শতাংশ সুদে দ্বিতীয় দফায় আরও ২০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। প্রান্তিক ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ দেয়া হচ্ছে। এ ঋণের ৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে এসআইবিএল।

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)।

করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের ৪ শতাংশ সুদে দ্বিতীয় দফায় আরও ২০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দিচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন। প্রান্তিক ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এ ঋণের ৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে এসআইবিএল। বৃহস্পতিবার এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ব্যাংকটির এ বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে বলে এসআইবিএলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এবং এসআইবিএলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাজুল ইসলাম চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানসহ অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২০২০-২১ অর্থবছর ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ বিতরণ করেছে এসএমইএ ফাউন্ডেশন। এবার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ (রাকাব) কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা বিতরণের জন্য চুক্তি করেছে।

ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে বলে জানিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

আরও পড়ুন:
‘পুঁজিবাজার অতি মূল্যায়িত নয়’
স্বল্পমূলধনী দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজার অনেক দূর যাবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
‘আরও ভালো হবে পুঁজিবাজার, ভয়ে শেয়ার বিক্রি নয়’
‘সব খাত মুভিং, আর পেছনে তাকাতে হবে না’

শেয়ার করুন