স্বেচ্ছায় ঋণখেলাপিদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই

স্বেচ্ছায় ঋণখেলাপিদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই

রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এফবিসিসিআই। ছবি: মৌসুমী ইসলাম/নিউজবাংলা

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই খাতের বিকল্প নেই। এ জন্য প্রণোদনার ঋণ ঠিকমতো বিতরণের পাশাপাশি সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণও দরকার।

যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, তাদের শাস্তি চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভায় এমন দাবি তুলে ধরা হয়।

এফবিসিসিআই বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ কেন বাড়ছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এ সময় শিল্পঋণের ডাউন্ট পেমেন্টের হার ২ শতাংশ রাখার দাবি জানানো হয়।

রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার। এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। সরকারি-বেসরকারি ৩২টি ব্যাংকের এমডি এতে উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসএমই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এই খাতের বিকল্প নেই। এ জন্য প্রণোদনার ঋণ ঠিকমতো বিতরণের পাশাপাশি সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণও দরকার।

তিনি বলেন, এসএমই খাতে ৫ থেকে ৭ বছর মেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পঋণ পুনঃতফসিলে ডাউন পেমেন্টের হার সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ শতাংশ নির্ধারণ করলে দেশের শিল্পায়ন সহজ হবে।

সভা থেকে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয়করের হার সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে প্রয়োজনে এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করার আহ্বান জানান আলী রেজা ইফতেখার। তিনি বলেন, ঋণ সবার জন্য ক্ষতির কারণ।

এফবিসিসিআইয়ের দাবি

সভায় মেয়াদি ঋণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, ‘এসএমইদের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণে চলমান ঋণ দেয়া অব্যাহত রাখার এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মেয়াদি ঋণের সময়সীমা ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর পর্যন্ত রাখার বিধান রয়েছে।

‘তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়াদি ঋণের সময়সীমা এক বছর হয়ে থাকে, যার ফলে ঋণ পরিশোধে সমস্যা দেখা দেয়। এসএমই খাতের টার্ম লোনের (মেয়াদি ঋণ) মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি (৭-১০ বছর) করার পাশাপাশি গ্রেস পিরিয়ড দুই বছর করা জরুরি।

‘ঋণ দীর্ঘমেয়াদি করা হলে কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানার জন্য ১৫ বছর মেয়াদি ঋণ দরকার। কিন্তু তা ব্যাংক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন করে ৩০ থেকে ৩৫টি সুতার মিল হচ্ছে। এসব ঋণের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি না হলে সব খেলাপি হয়ে পড়বে।’

এক্সপোর্ট বিল অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো পরিশোধ করা হয় না অভিযোগ করে ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ নেতা দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় প্রয়োজনে ফোর্স লোন করে যথাসময়ে এক্সপোর্ট বিল পরিশোধের প্রস্তাব দেন।

জসিম উদ্দীন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিট দেয়ার বিশেষ সার্কুলার জারি করলেও ২ শতাংশ টাকা জমা দেয়ার পরও ব্যাংকের সিদ্ধান্তহীনতায় অনেক গ্রাহকই এ সুবিধা নিতে পারেননি। এতে শিল্পায়নে সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সরকারের লক্ষ্য বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও রুগন্‌ শিল্পগুলোকে এ সুবিধা দিতে ব্যাংকের অনীহার কারণে সেগুলো এক্সিট নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমছে না।

এফবিসিসিআই সভাপতির অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার থাকার পরও অধিকাংশ ব্যাংক নন-টেক্সটাইল খাতের রুগন্‌ শিল্পের দায়-দেনা নিষ্পত্তিতে অনাগ্রহী হওয়ায় বিষয়টি অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে। এতে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী অর্থ আদায়ে দেরি হচ্ছে। যেসব শিল্পের ঋণ হিসাব রাইট অফ করা আছে সেগুলো এমনিতেই মৃত। সেগুলোকে সহজ-শর্তে এক্সিট দেয়ার সুযোগ দিলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেকাংশে কমে যাবে।

ব্যাংকের সার্ভিস চার্জের বিষয়েও কথা বলেন এফবিসিসিআই সভাপতি। বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজার পরিস্থিতিতে সরকার কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসার খরচ কমানোর জন্য সব ব্যাংকের সার্ভিস চার্জের হার একই হওয়া প্রয়োজন।’

এসব বিষয়ে এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এটা আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে।

‘ব্যবসা চালু রাখার জন্য ব্যাংকাররা সব উদ্যোগ নেবে। তবে যেসব ইচ্ছাকৃত খেলাপি রয়েছে তাদের ঋণ আদায়ে এফবিসিসিআই যেন সহযোগিতা করে।’

সার্ভিস চার্জ বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের ব্যাংকগুলোতে সার্ভিস চার্জ অনেক কম। সব ব্যাংকের চার্জ সমান হবে না। আমরা সেবা দেব, বিনিময়ে কিছু তো আপনাদের দিতে হবে।’

এবিবির সেক্রেটারি মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘যে দেশে সব ঋণের সুদহার এক, সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার এটাও একটি কারণ। ঋণের খরচের ওপর নির্ভর করে সুদ ঠিক করা প্রয়োজন। এখন যেভাবে বিভিন্ন সেবা মাশুল নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে, তাতে ব্যাংক খাতের আয় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ কমে আসবে।’

প্রণোদনা অনুদান নয়, ঋণ

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, এসএমই খাতে প্রণোদনার ৭৭ শতাংশ ঋণ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সহজ শর্তে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতের জন্য ব্যাংকগুলোতে ডেডিকেটেড ডেস্ক চালু, এসএমই সার্ভিস সেন্টার, নতুন ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রবর্তনসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

‘তবে বাস্তবতা হচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংকে এসব ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনীহা দেখা গেছে। আমরা আহ্বান করছি, যাতে সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে এসএমইদের সহায়তায় হেল্প ডেস্ক কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হয়।’

এবিবির চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রণোদনা কোনো অনুদান না; এটা ঋণ। ব্যাংকগুলোকেই এই টাকা ফেরত আনতে হবে। ফলে ব্যাংকগুলো দেখেশুনে ঋণ দেবে এটাই স্বাভাবিক। আর বড় ঋণ যত সহজে দেয়া যায়, এসএমই ঋণ তত সহজে দেয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসএমইসহ সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদ নির্ধারণের পর খরচ বিবেচনায় অনেকে এ খাতে ঋণ দিতে হয়তো অনীহা দেখাচ্ছে। কটেজ, এসএমই ও রিটেইল ঋণে ৯ শতাংশ সুদ খুব চ্যালেঞ্জিং। বড় ও ছোট ঋণের সুদ সমান হয় না। এ জন্য সুদহার নির্ধারণ ঠিক না। এরপরও প্রণোদনার আওতায় প্রায় ৮০ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে। এটা সন্তোষজনক।’

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনার মধ্যেও সব সময় ব্যাংক খোলা রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনায় আমাদের ১৬০ জন ব্যাংকার প্রাণ হারিয়েছেন। ৩০ হাজারের ওপরে কর্মী কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন।’

সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি এসএমই ঋণ বিতরণের জন্য স্থানীয় চেম্বারের সহায়তায় গ্রাহক নির্বাচন করার আহ্বান জানান। ব্যাংকগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ যত বেশি, মুনাফা তত কম

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ যত বেশি, মুনাফা তত কম

সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংকে গ্রাহকদের ভিড়

১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফার হার আগের মতোই থাকবে। ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়েছে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানো হয়েছে বেশি। তবে নতুন হারে মুনাফা নতুন সঞ্চয়পত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এই আদেশ জারি হওয়ার আগেই যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তারা আগের হারেই মুনাফা পাবেন।

ব্যাংকে আমানতের সুদহার ক্রমেই কমতে থাকার মধ্যে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে ১৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগ যাদের, তাদের মুনাফার হার আগের মতোই থাকছে।

সঞ্চয়পত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে মুনাফার হার তিন ধাপে করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে মুনাফা পাবেন যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

যাদের বিনিয়োগ ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে, তাদের মুনাফার হার থাকবে এর চেয়ে কিছুটা কম।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম হারে মুনাফা পাবেন তারা, যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ছয় বছর পর সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। এর আগে ২০১৫ সালে এক ধাপে কমানো হয়।

বাংলাদেশে মোট ৬ ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয়ের ব্যাংক-সাধারণ হিসাব ছাড়া সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে জানানো হয়, নতুন হারে মুনাফা নতুন সঞ্চয়পত্রের ওপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ এই আদেশ জারি হওয়ার আগেই যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তারা আগের হারেই মুনাফা পাবেন।

ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বছরে ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক আদেশে মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেও ব্যাংকে টাকা রাখা এখন লাভজনক না হওয়ার কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে লাভজনক হিসেবে দেখে এসেছেন বিনিয়োগকারীরা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি হওয়ায় বছর শেষে সরকারের ওপর সুদের চাপ বেশি পড়ে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে সঞ্চয়পত্রের সুদহার ২ শতাংশ করে কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হলেও জাতীয় সংসদে প্রবল বিরোধিতার কারণে তা করতে পারেননি সে সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

করোনার সময় বিনিয়োগে মন্দার মধ্যে এক বছরের ব্যবধানে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি বেড়ে তিন গুণ হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফা-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সে হিসাবে গত অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মোট বিক্রি থেকে মুনাফা ও আসল বাবদ পরিশোধ করা অর্থ বাদ দিয়ে এ নিট হিসাব করা হয়।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়।

কোন সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফা

৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৩৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৯৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৭১ শতাংশ।

এই সঞ্চয়পত্রে দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ৯.৮০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৮.৯৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.০৮ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.২৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৩৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪৫ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১০.৭৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৮২ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮৬ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.২৮ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৩০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩০ শতাংশ।

মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

এই সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ১০.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.০৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.১৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৫০ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৫১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৫৬ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১১.০৪ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি সুদ হার ১০.০০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.০০ শতাংশ।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

অবসরভোগীদের সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৮.৮৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.০৪ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.১৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.২৮ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪২ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৬৫ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ৯.৭৪ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮৩ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১১.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.২৪ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.২৯ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.৭৬ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৭৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৭৫ শতাংশ।

পরিবার সঞ্চয়পত্র

বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ৯.৫০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৮৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৮৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.২৫ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৫০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৫৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৬৬ শতাংশ।

চতুর্থ বছরে মুনাফার হার ১১.০০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.০৩ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.০৭ শতাংশ।

পঞ্চম বছরে মুনাফার হার ১১.৫২ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি মুনাফার হার হবে ১০.৫০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৫০ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক- সাধারণ হিসাব

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের বর্তমান হার ৭.৫০ শতাংশ, যা অপরিবর্তিত থাকবে।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক- মেয়াদি হিসাব

বর্তমানে প্রথম বছরে মুনাফার হার ১০.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৩১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪১ শতাংশ।

দ্বিতীয় বছরে মুনাফার হার ১০.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৭৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৮২ শতাংশ।

তৃতীয় বছরে মুনাফার হার ছিল ১১.২৮ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.৩০ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩০ শতাংশ।

কমেছে একটি বন্ডের মুনাফার হারও

সঞ্চয়পত্র ছাড়াও তিনটি বন্ডে বিনিয়োগ করা যায়।

এর মধ্যে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে ৬ মাস পর কিন্তু ১২ মাসের আগে মুনাফার হার ৮.৭০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৭.৯৮ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.২৫ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে ৬.৫৩ শতাংশ।

১২ মাস পর কিন্তু ১৮ মাসের আগে মুনাফার হার ছিল ৯.৪৫ শতাংশ যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৮.৬৬ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৮৮ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.০৯ শতাংশ।

১৮ মাসের পর কিন্তু ২৪ মাসের আগে মুনাফার হার ছিল ১০.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ৯.৩৫ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৫০ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৭.৬৫ শতাংশ।

২৪ মাস পর কিন্তু ৬০ মাসের আগে মুনাফার হার ১১.২০ শতাংশ, যা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে।

বিনিয়োগ ১৫ লাখের বেশি হলে মুনাফার হার হবে ১০.২৭ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে হবে ৯.৩৩ শতাংশ, ৫০ লাখের বেশি হলে হবে ৮.৪০ শতাংশ।

মেয়াদ শেষে এ হার হবে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ, ১৫ লাখের বেশি হলে ১১ শতাংশ, ৩০ লাখের বেশি হলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ লাখের বেশি হলে ৯ শতাংশ।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টেমন্ট বন্ডের মুনাফার হার পরিবর্তন করা হয়নি।

প্রিমিয়াম বন্ডে প্রথম বছর শেষে ৬.৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৭ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ৭.৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে আগের মতোই।

আর ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রথম বছর শেষে ৫.৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৬ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৬.৫০ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা

প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক সমিতির সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বৈঠকের পর নতুন করে সিদ্ধান্ত হবে কর্মবিরতি চলবে কি না।’

চট্টগ্রাম ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এবং প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়ন ১৫ দফা দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করায় চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে এই পরিবহন সংগঠন কর্মবিরতি শুরু করে। ধর্মঘটের কারণে সকাল ৬টা থেকে পণ্যবাহী কোনো গাড়ি ঢুকতে পারেনি বন্দরে।

কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। কর্মবিরতির কারণে ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

কনটেইনার পরিবহনকারী প্রাইম মুভার ট্রেইলর গাড়িতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নেয়া হয়। আবার আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে আনা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ডিপো ও বন্দরে নিয়মিত আনা-নেয়া হয় এসব গাড়িতে। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন এখন বন্ধ রয়েছে।

গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। কনটেইনার পরিবহনের জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত গাড়ি আছে প্রায় ৯ হাজার।

কনটেইনার ডিপো সমিতির সচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবাহী দেড় হাজার কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কর্মবিরতির কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার আমদানি পণ্যবাহী যেসব কনটেইনার ডিপোতে খুলে খালাস করা হয় তাও বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না।

এই বিষয়ে জানতে বন্দর সচিব ওমর ফারুককে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।

বন্দরের পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার পরিবহন প্রায় বন্ধ আছে। তবে কনটেইনার খুলে পণ্য খালাসসহ অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক সমিতির সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বৈঠকের পর নতুন করে সিদ্ধান্ত হবে কর্মবিরতি চলবে কি না।’

ধর্মঘটের কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানির লিড টাইম, বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থান ইত্যাদিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও, ফার্মগেট দিয়ে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্জন হল, জাতীয় প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে মেট্রোরেল। ছবি: সাইফুল ইসলাম

বিশ্ব ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংক। আর সেই মুগ্ধতা থেকে সোমবার একটি প্রচ্ছদ গল্প প্রকাশ করেছে বিশ্ব আর্থিক খাতের মোড়ল এই সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গল্পে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত তরুণ দেশটির স্বাধীনতার বয়স মাত্র ৫০। এই অল্প সময়ে দারিদ্র্য কমিয়ে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানুষের ভাগ্য বদলাতে একে বলা হচ্ছে বড় অর্জন।

‘একটি লক্ষ্যে রাষ্ট্র: বাংলাদেশের উন্নয়নের ঐতিহাসিক যাত্রা’ শিরোনামের এই গল্পের শুরুটা সাদিয়া আফরিন নামের এক ছাত্রীর স্বপ্ন দিয়ে।

সাদিয়ার স্বপ্ন পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবেন। লক্ষ্যে পৌঁছাতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, কার্টুন ও তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন। অথচ সাদিয়াদের আগের প্রজন্মের কাছে এমন ভাবনা ছিল কল্পনাতীত।

সাদিয়ার বাবা সৌদি প্রবাসী, মা গৃহিনী।

সাদিয়া বলেন, ‘প্রথম কম্পিউটার দেখার পর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে তা চালানো শিখি।’

সেখানেই সাদিয়া প্রথম শেখেন কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্টুন তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একদিন জাপান যাব, অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করব।’

সাদিয়ার মতো দেশের নিম্ন আয়ের ৪০ হাজার ছাত্রী বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইএফ) এর আওতায় ৪৫টি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠছেন। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

সাদিয়ার কথা শেষ না হতেই গল্পে বাংলাদেশের জন্মের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন এটি ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশ। পরবর্তী ৫০ বছরে রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নয়নের অনেক গল্প যুক্ত হয়েছে দেশটির ইতিহাসে।

সেই থেকে রেকর্ড গতিতে দেশের দারিদ্র্য কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। প্রাথমিক শিক্ষা এখন সবার নাগালে। লাখো নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে দারুন অগ্রগতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটি এখন অনেক দক্ষ।

বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে অনেক কিছু। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে দেশটি। শিল্প ও সেবা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, অবকাঠামোসহ অন্য খাতেও বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং অন্য সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এখন অনেকটাই প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এর ফলে দেশের অর্থনীতি মজবুত একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের এই প্রচ্ছদ গল্পে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে (উন্নত দেশ) পরিণত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার জন্য এখন আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা সেই স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করব।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কথা স্বীকার করে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক অবশ্যই আমাদের এই উন্নয়ন যাত্রায় একটি ভালো অংশীদার।’

গল্পে বাংলাদেশের এই সাফল্যে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার কথা বার বার উল্লেখ করা হয়। কোন খাতে কতো ঋণ-সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি সে বিষয়েও বিশদ আলোকপাত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ঋণ-সহায়তা দিয়ে আসছে ১৯৭২ সাল থেকে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের প্রধান মার্শি টেম্বন বলেছেন, ‘যখন আমরা বাংলাদেশে কাজ শুরু করি তখন আইডিএ একটি তরুণ প্রতিষ্ঠান ছিল। আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। এই সম্পর্ককে অনেক দূর নিয়ে গেছি; বাংলাদেশ সফল হয়েছে।’

‘সেই অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান অন্য অনেক দেশে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করেছে।’

গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চমৎকার সব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার হয়েছে গল্পে।

বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশংসা করে এমন কাহিনী বা গল্প এবারই প্রথম প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণ আদায়ে সহজ হলো বন্ধকি সম্পদ বিক্রি

খেলাপি ঋণ আদায়ে সহজ হলো বন্ধকি সম্পদ বিক্রি

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদ মালিকানায় আনার পর সেই সম্পদ ব্যাংকগুলো কীভাবে ব্যবহার করবে- সে বিষয়ে একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদে মালিকানা প্রতিষ্ঠার পর তা দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

সোমবার এই নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘অ-ব্যাংকিং সম্পদ (নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট বা এনবিএ) সংক্রান্ত নীতিমালা’ শীর্ষক সার্কুলারটি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংকের কোনো দাবি বা প্রাপ্য পরিশোধের সূত্রে অর্জিত সম্পদকে ব্যাংকের ব্যালেন্সশিটে অ-ব্যাংকিং সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়। সাধারণত ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ অনাদায়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঋণের বিপরীতে নেওয়া জামানত বা বন্ধকি সম্পদের মালিকানা লাভ করলে এ ধরনের সম্পদ সৃষ্টি হয়।

‘ঋণের বিপরীতে এই বন্ধকি সম্পদের মালিকানা ব্যাংকের অনুকূলে পাওয়ার পর দ্রুত তা ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশন করে দখলি স্বত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই এ ধরনের সম্পদ বেশি দিন নিজ অধিকারে রাখা যাবে না। সম্পদ অর্জনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে হবে।’

ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়পূর্বক প্রাপ্ত সম্পদ ব্যাংকের হিসাবে `নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে হবে-

সম্পদের মূল্যায়ন

`নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ ব্যাংকের হিসাবে অন্তর্ভুক্তিকালে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কমপক্ষে তিনজন কর্মকর্তা/নির্বাহীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

মূল্যায়ন কমিটি সম্পদের যে মূল্য নির্ধারণ করবে, তার সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্য হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এর যৌক্তিকতা থাকতে হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তা/নির্বাহীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দিয়ে সম্পদ মূল্যায়নের পাশাপাশি ভ্যালুয়ার ফার্ম বা পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।

পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান এবং কমিটির মূল্যের মধ্যে যেটি কম সেটিকে সম্পদের বাজার মূল্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সম্পদের বাজার মূল্য ঠিক হওয়ার পর তা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী অনুমোদন করবেন।

সম্পদের বাজার মূল্য নির্ধারণের সময় টিন/সেমি পাকা দালান, ব্যবহার অযোগ্য স্থাপনা ও মেশিনারি যতদূর সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে বিক্রি করে ঋণের বিপরীতে জমা করতে হবে।

কোনোভাবেই এ সম্পদকে `নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ হিসেবে অন্তভুর্ক্ত করা যাবে না। তবে যে জমির উপর টিন/সেমি পাকা দালান, ব্যবহার/বিক্রয় অযোগ্য স্থাপনা ও মেশিনারি থাকবে সে জমির বাজার মূল্য থেকে সেই স্থাপনা বা যন্ত্রপাতি অপসারণ করার ব্যয় বাদ দিতে হবে।

ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে হিসাবে অন্তভুর্ক্ত করতে হবে

‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ এর দ্বারা ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়ের পূর্বে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে ব্যাংকের মোট পাওনা হিসাব করে ঋণের স্থিতি নিরূপণ করতে হবে। অনারোপিত সুদকে অবশ্যই ‘ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে’ স্থানান্তর করতে হবে।

সম্পদের বাজার মূল্য ঋণের মোট স্থিতির সমান বা বেশি হলে ঋণ স্থিতির সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা সংশ্লিষ্ট ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’কে (খাত-ভিত্তিক) ডেবিট করে ঋণের স্থিতি সমন্বয় করতে হবে।

বন্ধকি সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট করতে হবে। আর সম্পদমূল্য কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

অবলোপনকৃত ঋণ

অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে প্রাপ্ত ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ দ্বারা অবলোপন করা ঋণগ্রহীতার ঋণ সমন্বয়ের আগে ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অনারোপিত সুদসহ সব পাওনা অন্তভুর্ক্ত করে (আদালতে ভিন্নরূপ নির্দেশনা না থাকলে) ব্যাংকের মোট পাওনা নিরূপণ করতে হবে।

সম্পদের মূল্য অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে মোট পাওনার সমান বা বেশি হলে ব্যাংকের মোট পাওনার সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা সংশ্লিষ্ট ‘নন-ব্যাংকিং অ্যাসেট’ কে (খাত-ভিত্তিক) ডেবিট করে সমপরিমাণ অর্থ এনবিএ এর বিপরীতে প্রভিশন হিসেবে ক্রেডিট করতে হবে।

এক্ষেত্রে ঋণ স্থিতির সম্পূর্ণ অংশ সমন্বিত হওয়ায় ঋণগ্রহীতাকে ঋণের দায় হতে অব্যাহতি দিতে হবে এবং সিআইবিতে উক্ত ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না।

আর সম্পদের মূল্য অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে মোট পাওনার তুলনায় কম হলে কম হলে অনাদায়ী অংশ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে হবে।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

৪৮ ঘণ্টায় রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

৪৮ ঘণ্টায়  রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নামিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার বেসরকারি ডিপােতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার এক চিঠিতে সব আমদানিকারককে এ নির্দেশনা দেয়।

রেফার কন্টেইনার সংকটের কারণে দেশ থেকে মাছ-মাংস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত রেফার কন্টেইনার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। পরিস্থিতি উত্তরণে বাণিজ্য ও নৌ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দরকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতি উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এরপরই আমরা ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে সুফল মিলবে।’

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়েছি। তবে সবক্ষেত্রে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রেফার কন্টেইনার থেকে পণ্য খালি করা সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত খালাসের।’

বন্দর সূত্র জানায়, রেফার কন্টেইনারে সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ফলমূল আমদানি হয়। জাহাজে সেই কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে রাখার সময় থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক তার সুবিধামতো কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় নেয়ায় ইয়ার্ডে জট লেগে যায়।

বেসরকারি ডিপােতে খালি রেফার কন্টেইনারে মাছ, ফলমুল, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য ভর্তি করে বন্দরে নিয়ে জাহাজীকরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২-এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

১৮৩ কোটি টাকা ঋণখেলাপি মামলায় মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (এমইবি) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল আলমসহ ৫ পরিচালককে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২-এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার করা মামলায় এ আদেশ দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলা করে ব্যাংকটি।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে এমইবি গ্রুপের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের আবেদন করে।
এমইবির এখন এক ডজন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে। প্রায় সব ঋণ এখন খেলাপি।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন

ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

ট্রাকের চাকা ঘুরবে না ৩ দিন

অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পণ্যবাহী পরিবহনের শ্রমিকরা। দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।

মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপ করা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পণ্যবাহী পরিবহনের শ্রমিকরা।

দাবি মানা না হলে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক সামশুজ্জামান সুমন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের কদমতলীতে আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছিল।

ওই দিন সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলম বলেন, ‘রোববারের মধ্যে ১৫ দফা দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে আমাদের কর্মবিরতি সারা দেশে শুরু হবে। দাবিগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।

‘তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সমাধান হয়নি। দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের আগামী ২০ বছর আর কোনো আন্দোলনে যেতে হবে না।’

অ্যাসোসিয়েশনের ১৫ দাবির মধ্যে রয়েছে, মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়করে (এআইটি) চাপানো বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার, যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছে তাদের সবাইকে সহজ শর্তে এবং সরকারি ফির বিনিময়ে লাইসেন্স দেয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নবায়নের হয়রানিমূলক ফিটনেস ও পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা এবং সরকার নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল সংগ্রহের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করা।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা শ্রমিকদের প্রস্তাব বা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক, প্রাইমমুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় সারা দেশে দুই লাখের বেশি যানবাহন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক কোটি মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী দেবে এফবিসিসিআই
বাজেটে অসুবিধা নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে: এফবিসিসিআই সভাপতি
রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতার আহ্বান এফবিসিসিআইর
‘রাজস্ব আদায়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে’
বাজেট ভালো, অগ্রিম আয়কর বেআইনি: এফবিসিসিআই

শেয়ার করুন