বিদ্যুৎ-তেল ছাড়াই চলছে অলিউল্যাহর সেচযন্ত্র

বিদ্যুৎ-তেল ছাড়াই চলছে অলিউল্যাহর সেচযন্ত্র

ভোলার লালমোহনে বিদ্যুৎ ও তেলবিহীন সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন এক কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা

অলিউল্যাহ জানান, তার উদ্ভাবিত সেচযন্ত্রে খরচ কমে ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধবও। খালে স্রোত যত বেশি থাকবে, তত বেশি পানি সেচ করা যাবে।

ভোলার লালমোহনে বিদ্যুৎ ও তেলবিহীন সেচযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন এক কৃষক।

উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকার হাওলা গ্রামের মো. অলিউল্যাহ স্থানীয় একটি খালে সেচযন্ত্রটি বসিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে পানি উত্তোলন শুরু করেছেন।

এক মাস ধরে এ যন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পেরে অনেকেই আসছেন এটি দেখতে।

কীভাবে তৈরি ও কাজ করে এ সেচযন্ত্র

অলিউল্যাহ জানান, প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে লোহার অ্যাঙ্গেল, প্লেন শিট ও প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে তিনি এটি বানিয়েছেন। এতে আটটি পাখা আছে, যা পানির স্রোতের সঙ্গে ঘুরতে থাকে।

প্রতিটি পাখার ওপরে ইউপিভিসি ক্লাস ডি পাইপ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি পাইপের ভেতরে কয়েল পাইপ লাগিয়ে তা একটি কনটেইনারে সন্নিবেশন করা হয়েছে।

জোয়ারের প্রভাবে পাখাগুলো যখন ঘুরতে থাকে, তখন পাইপে পানি ভর্তি হয়ে যায়। এই পানি কয়েল পাইপের মাধ্যমে কনটেইনারে যায়।

কনটেইনারে জমা হওয়া পানি আরেকটি পাইপের মাধ্যমে জমিতে পড়ে।

বিদ্যুৎ-তেল ছাড়াই চলছে অলিউল্যাহর সেচযন্ত্র

অলিউল্যাহ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে যন্ত্রটি জোয়ারের স্রোতের ওপর নির্ভর করে তৈরি হলেও একে আরও আধুনিকায়ন করা হলে জোয়ার-ভাটা উভয় সময়ই পানি তোলা যাবে। দরিদ্র কৃষকদের এটি অনেক উপকারে আসবে।’

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৈদ্যুতিক মোটর বা ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে সেচ দিতে তাদের অনেক খরচ হয়। তবে অলিউল্যাহর সেচযন্ত্র দিয়ে খরচ একেবারেই কমে যাবে।

অলিউল্যাহ জানান, এ যন্ত্র দিয়ে খরচ কমে ছয় ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধবও। খালে স্রোত যত বেশি থাকবে, তত বেশি পানি সেচ দেয়া যাবে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এফ এম শাহাবুদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সেচযন্ত্রটির কার্যকারিতা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। কার্যকারিতা থাকলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরির চেষ্টা হবে।

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ

আবাদি জমি ছেয়ে আছে ধানের সবুজ গাছে। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সার-বীজের পর্যাপ্ত জোগানের কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে।

নেত্রকোণার আবাদি জমিগুলো গত বছরও ছিল পানিতে থইথই। টানা বৃষ্টি হওয়ায় ধান চাষে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি চাষিরা। এ বছর সেগুলো ছেয়ে আছে ধানের সবুজ গাছে। কিছু কিছু জমিতে এখনও চলছে আমনের রোপণ।

প্রত্যাশার চেয়ে আবাদ বেশি হওয়ায় এবার বাড়তি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন এ জেলার চাষিরা।

কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কনুরা গ্রামের কৃষক মনতোষ বিশ্বশর্মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই একর জমিতে রোপা আমন লাগায়াম। ৭০ ভাগ জমি লাগায়া শেষ কইরালছি। টানের জমি আগেই লাগাইছি। অহন নিচের জমি থেইক্যা পানি নাইম্যা গেছে। হেইহানে লাগাইতাছি। আবহায়াডা এইবার ভালা আছিল। গতবারের থেইক্যা ৩ কাটা জমিতে বেশি ধান লাগাইছি।’

মদনের কাইটাইল গ্রামের কৃষক আইন উদ্দিন বলেন, ‘গত দুই-তিন বছর ধইর‌্যা পানির লাইগ্যা নামার জমিতে ধান লাগাইতে পারি না। এবার জমি তেইক্যা পানি নাইম্যা গেছে তাড়াতাড়ি। তাছাড়া কৃষি অপিসের বীজ, সার পাইছি। ভালাই লাগাইতাছি। আল্লায় দেয়তো ভালাই ধান অইব।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সার-বীজের পর্যাপ্ত জোগানের কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে।

প্রত্যাশা ছাপিয়ে আমনের আবাদ
কিছু কিছু জমিতে এখনও চলছে আমনের রোপণ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোবারক আলী জানান, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমি। তবে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ হেক্টরে উফশী জাতের, ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ১৬ হাজার ৫৫৫ হেক্টরে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

এসব জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৪১০ টন ধান।

মোবারক জানান, গত বছর ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়। এতে ৫ লাখ ৫ হাজার ৫৩০ টন ধান উৎপাদিত হয়। এবার আবাদ বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে কম করে হলেও ৩১ হাজার টন বেশি ধান উৎপাদিত হতে পারে।

মোবারক আরও বলেন, এ বছর ধাপে ধাপে বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেছে। অতিবৃষ্টি বা বন্যা হয়নি। এতে কৃষকরা বাড়তি জমিতে আবাদ করতে পেরেছেন। তা ছাড়া সরকারিভাবে প্রণোদনাও কৃষকদের উৎসাহিত করেছে। এ কারণে ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

ছাদে সবজি চাষ করে লাভবান হয়েছেন সাঈদ। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা খাতুন বলেন, ‘বাসায় যাদের নিজস্ব ছাদ আছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।’

বাড়ির ছাদের পুরোটা জুড়েই মাচা। তাতে ঝুলছে ঝিঙে। মাচার উপরে হলুদ ফুলে উড়ছে ভ্রমর আর মৌমাছি।

এটি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুন্দরঘোড়া গ্রামের আবু সাঈদের বাড়ির ছাদ। সেখানে বাক্স পদ্ধতিতে ঝিঙের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, শিম ও লাউ চাষও করছেন তিনি; জানালেন ফলনও চমৎকার।

আবু সাঈদরা তিন ভাই। বড় ভাই থাকেন ইস্তাম্বুলে ও ছোটজন স্পেনে। সাঈদ থাকেন বেলারুশে।

বছরের বিভিন্ন সময় পালা করে তারা দেশে আসেন। কৃষির প্রতি সব ভাইয়েরই আছে ঝোঁক। যে যখন বাড়িতে থাকেন, বাড়ির ছাদ বাগানের পরিচর্যা করেন। এখন দেশে আছেন সাঈদ, নিউজবাংলার সঙ্গে ছাদবাগান নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আবু সাঈদ বলেন, ‘গত দুই বছর আগে বাসার ছাদে কাঠ দিয়ে বাক্স বানিয়েছি। সেখানে প্রথমে মিষ্টি কুমড়া চাষ করি। প্রচুর মিষ্টি কুমড়া হয়; আমার উৎসাহ বাড়ে। পরে ইস্তাম্বুল ও স্পেন থেকে আমার বড় ও ছোট ভাই আসে। তারাও কাজ শুরু করে।’

সাঈদ জানান, মাসখানেক আগে ছাদে দেড় ফুট উঁচুতে কাঠের বাক্স তৈরি করেন। জৈব সার দিয়ে মাটি তৈরি করে তাতে রোপন করেন ঝিঙের ৩৫টি বীজ।

তিনি বলেন, ‘মাত্র এক মাসেই ছাদ বাগান থেকে দেড় মণ ঝিঙে পেয়েছি। তার মধ্যে ৩০ কেজি আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়েছি। বাকি ৩০ কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।’

বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া

শীতকালীন বিভিন্ন সবজিও চাষ করেছেন তারা তিন ভাই মিলে।

সাঈদ বলেন, ‘দুই বছর আগে চিন্তা করি, বাসার খালি ছাদটাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়। সেই চিন্তা থেকে কাজ শুরু করি। কাঠ দিয়ে বাক্স তৈরি করি। তারপর নানা জাতের সবজির চাষ করি। এ কাজে বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা খাতুন জানান, প্রবাসী আবু সাঈদ একজন কৃষি উদ্যোক্তা। তাকে উৎসাহিত করতে উন্নত জাতের ঝিঙের বীজ দেয়া হয়েছে। পরামর্শ নিয়ে চাষে ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের বাসায় ছাদ রয়েছে তারা এখন বাক্স পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত হচ্ছে। এতে করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসির) ডিলারদের বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট স্থানে সার বিক্রি না করে বেশি দামে অন্য স্থানে সার বিক্রির অভিযোগও করছেন চাষিরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলাররা বলছেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি বা এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। আর জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, সার কারসাজি এবং কৃষক হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরে আমনের ভরা মৌসুমে দেখা দিয়েছে রাসায়নিক সারের সংকট। ডিলারর বেশি দামে সার বিক্রির জন্য কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করেছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে ধানের আবাদ। উপায় না থাকায় তারা বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়ন এবং চার পৌরসভায় বিসিআইসি ও বিএডিসির সারের ডিলার রয়েছেন ৯০ জন। আর খুচরা ডিলার রয়েছেন ৪৪৭ জন।

জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার টন।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

চররুহিতার কৃষক তোফায়েল আহমদ, চররমনী মোহনের দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারনির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি ইউরিয়া ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা, এমওপি ১৫ টাকা, ডিএপি (ড্যাব) ১৬ টাকা। তবে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি কেজিতে ৪-৭ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন।

কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের মতো একই অভিযোগ করেছেন রামগতির বড়খেরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান মাহমুদ নিজাম।

তিনি বলেন, ‘ডিলাররা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ডিলারের কাছে খুচরা বিক্রেতা ও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। সত্যিকার অর্থে কোনো ডিলার ঠিকমতো কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছে না।’

তবে বড়খেরী এলাকায় বিসিআইসির ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের দাবি, নির্ধারিত মূল্যের বেশি এবং এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। সরকারনির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ব্যবসায়ীরা ষড়যন্ত্রের শিকার।

জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির একাধিক ডিলারও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে অনেক কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও সার কারসাজি ও কৃষকদের হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

মধুপুর-ভাওয়ালে কাজুবাদাম, কফি চাষের সম্ভাবনা

মধুপুর-ভাওয়ালে কাজুবাদাম, কফি চাষের সম্ভাবনা

মধুপুর গড়। ছবি: সংগৃহীত

কৃষিমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।”

পাহাড়ি, বরেন্দ্র ও মধুপুর-ভাওয়াল অঞ্চলে কাজুবাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের বেরিবাইদে বৃহস্পতিবার বিকেলে কৃষকদের মধ্যে কফির চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ওই সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের পাহাড়ি অঞ্চল, বরেন্দ্র ও মধুপুর ভাওয়াল অঞ্চলের অনেক জায়গায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, “সারা দেশের যেসব অঞ্চলে কাজুবাদাম এবং কফির চাষাবাদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে, তা চাষের আওতায় আনতে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১১ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে।”

কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, কাজু বাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্যোগে এ অঞ্চলে ৫ জন কৃষকের ৫০ শতাংশ জমিতে কফি ও কাজুবাদামের চারা রোপণ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এক কৃষকের জমিতে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা জাতের দুটি কফির চারা রোপণ করেন।

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য

গত এক বছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গত চার বছর ধরে খাতটির রপ্তানি আয় বাড়ছে। অবশ্য করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছিল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে খাতটির রপ্তানি আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। যদিও পুরো বছরটিই করোনা মহামারির মধ্যেই কেটেছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশা জাগাচ্ছে কৃষিপণ্য। করোনা মহামারির মধ্যেই গত অর্থবছরে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে এই খাত। চলতি অর্থবছরেও সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বাজেটে কৃষিপণ্যের ছয় খাতে ১০ বছরের কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে; তার প্রভাবে রপ্তানি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ১০ বছর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ৪০ কোটি ডলার বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আড়াই গুণের বেশি বেড়ে ১০২ কোটি ৮১ লাখ ডলারে পৌঁছে।

বর্তমান বাজারদরে টাকার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের হিস্যাই বেশি।

গত চার বছর ধরে খাতটির রপ্তানি আয় বাড়ছে। অবশ্য করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশ কমেছিল। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে খাতটির রপ্তানি আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ঘর’ অতিক্রম করে। যদিও পুরো বছরটিই করোনা মহামারির মধ্যেই কেটেছে।

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
রপ্তানির জন্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে ঝুঁকছেন শিক্ষিত যুবকরা। ফাইল ছবি

গত অর্থবছরে এ খাত থেকে আশাব্যঞ্জক বিদেশি মুদ্রা আসার পর ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

ইপিবির হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছে। প্রথম দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে ২০ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় হয়েছে। টাকার হিসাবে এই অর্থ ১ হাজার ৭৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

যেসব পণ্য রপ্তানি

কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় রুটি, বিস্কুট ও চানাচুরজাতীয় শুকনা খাবার, ভোজ্যতেল ও সমজাতীয় পণ্য, ফলের রস, বিভিন্ন ধরনের মসলা, পানীয় এবং জ্যাম-জেলির মতো বিভিন্ন সুগার কনফেকশনারি।

বিস্কুট, রুটিজাতীয় শুকনা খাবার রপ্তানি করে বিদায়ী অর্থবছরে দেশীয় কোম্পানিগুলো ২৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এর বাইরে চা, শাকসবজি ও ফলমূলও রপ্তানি হয়েছে।

একসময় চা রপ্তানি করে বেশ ভালোই আয় করত বাংলাদেশ। কিন্তু এখন তা তলানিতে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে মাত্র ৩৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের চা রপ্তানি হয়েছে।

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
রপ্তানির জন্য টম্যাটো প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। ফাইল ছবি

তবে এখন শাকসবজি রপ্তানি থেকে বেশ আয় করছে বাংলাদেশ। প্রতিবছরই বাড়ছে এ খাতের রপ্তানি। গত অর্থবছরে ১১ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বিদেশি মুদ্রা এসেছিল শাকসবজি রপ্তানি থেকে। এবার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১২ কোটি ডলার। জুলাই-আগস্ট মাসে এসেছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০২ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ৩৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

জুলাই-আগস্ট সময়ে শুকনা খাবার রপ্তানি করে ৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। তামাক রপ্তানি করে এসেছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। মসলা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ডলার।

মোট রপ্তানির ১৬ শতাংশই করে প্রাণ

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তার মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান আছে ২০টি। এগুলোর সবাই কম-বেশি রপ্তানি করছে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে বর্তমানে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার।

কৃষিপণ্যের রপ্তানির বড় অংশ করে প্রাণ গ্রুপ। ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা (৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার), যা এ খাতের মোট রপ্তানির ৩৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সে খাদ্যপণ্য রপ্তানি শুরু করা এই শিল্পগোষ্ঠী বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকা, পাশের দেশ ভারতসহ ১৪৫টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ফ্রুট ড্রিংক, পানীয়, বিস্কুট, সস, নুডলস, জেলি, মসলা, সুগন্ধি চাল, পটেটো ক্র্যাকার, চানাচুর, ঝাল-মুড়ি ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রপ্তানি আরও বাড়বে

আগামী দিনে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের সম্ভাবনা ব্যাপক। তৈরি পোশাক মানুষ যেমন গ্রহণ করছে, তেমনি তৈরি খাদ্যও মানুষ কিনছে ও খাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদিত হয় না। তারা মূলত আমদানিনির্ভর। সব মিলিয়ে আগামী দিনে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের চাহিদা আরও বাড়বে। পণ্যটির রপ্তানি বাড়াতে হলে আমাদের দেশের কৃষিকে আরও বেশি উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

রপ্তানিতে নতুন আশা কৃষিপণ্য
চলতি বছর কৃষিপণ্য হিসেবে আমের রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘কেবল ধান উৎপাদন করলে হবে না। পাশাপাশি বেশি মূল্যের ফলমূল, বাদাম, মসলা, বীজজাতীয় শস্য উৎপাদনে যেতে হবে। তাছাড়া বন্দরের সক্ষমতা, অবকাঠামোর উন্নয়ন ও স্বল্প খরচের উৎপাদনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না।

‘তদারকি সংস্থাগুলোরও সচেতন হতে হবে। ভারতের মতো আমাদের দেশেও ফুড পার্ক করা যেতে পারে। তা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকা থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। তাহলে আমাদের উদ্যোক্তারা নতুন কিছু শিখবে। শিল্পটিও এগিয়ে যাবে।’

কৃষিপণ্য উৎপাদনে ১০ বছরের কর অবকাশ

করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময়ে দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং বিনিয়োগ খরা কাটাতে উদ্যোক্তাদের জন্য বেশ কিছু খাতে কর ছাড় দেয়া হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে। এর মধ্যে কৃষিপণ্যের ছয় খাতে থাকছে ১০ বছরের কর অবকাশ।

ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, সম্পূর্ণ দেশীয় কৃষি হতে শিশু খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প এবং কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগে থাকবে ১০ বছরের করমুক্তি সুবিধা।

২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যারা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন, তারা এই আয়কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন। এই করমুক্তি সুবিধা নিতে ন্যূনতম এক কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বিডার নিবন্ধন নিতে হবে। কাঁচামাল পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হতে হবে।

এর যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেশীয় কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের আমদানি বিকল্প তৈরির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ও কমর্সংস্থান সম্ভব। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের এ যুগে কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজন ও বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের দখল নেয়া সম্ভব।’

সরকারের এই করমুক্তি সুবিধা কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন কৃষি অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক এম আসাদুজ্জামান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তারা যদি সরকারের এই সুবিধা নিয়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসে, তাহলে কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকে আরও বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আম-টম্যাটোসহ আমাদের অনেক কৃষিপণ্য পচে নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো যদি ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা যায় তাহলে একদিকে যেমন বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে, অন্যদিকে কৃষকও ভালো দাম পাবেন।’

আম কূটনীতিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ

কৃষিপণ্য আম উৎপাদনে বাংলাদেশ অষ্টম থেকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এবার দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু আমের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একেবারে তলানিতে; নামমাত্র কিছু আম রপ্তানি হয়। এগুলোও আবার প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করা হয়।

গত ১৮ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়ে ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়’ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দেশে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম চাষ এবং আমের আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেয়া হয়।

ওই সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড বিশ্বের সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও পাকিস্তান ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের (৪২ লাখ টাকা) আম রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশ মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করা হয়েছে।

বিদেশে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে, রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আমের অভাব। দেশের আমের জাতগুলোর সেলফ লাইফ কম, অর্থাৎ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সংগ্রহ-পরবর্তী পর্যায়ে শনাক্তকরণের অভাব, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাব। আর দেশের আমের ব্র্যান্ডিং ইমেজ সৃষ্টি না হওয়া এবং রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব।

আম রপ্তানি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষিচর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে।’

ফলে আগামী বছর আম রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী।

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাদু আম উপহারের বিষয়টি এবার বেশ আলোড়ন তুলেছিল। শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নয়, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে ফলের রাজা আম।

এই আম উপহারের ফলে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এসেছে বিষয়টি।

‘এই এখন রপ্তানিতে কাজে লাগাতে হবে’ জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘একটা ভালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটাকে কাজে লাগাতে পারলে আম রপ্তানি থেকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে।’

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি

চাঁদপুরে মুক্তাচাষ শুরু করেছেন মাছচাষী কৃষ্ণা চন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তাচাষী কৃষ্ণা চন্দ্র জানান, ২০ হাজার ঝিনুক চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ঝিনুক নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও বাকি যা রয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এখান থেকে তার ৪০ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মুক্তা চাষ শুরু করেছেন চাঁদপুরের মতলবের চাষি কৃষ্ণা চন্দ্র। এখনো পরিপূর্ণভাবে সৃষ্টি হয়নি ঝিনুকের ভেতর মুক্তার আবরণ। সময় লাগবে বেশ কিছুটা।

তবে বাড়তি খরচ না থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষ্ণা। তাকে দেখে মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার অনেকেই।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে-বিদেশে মুক্তার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মাছ চাষের পাশাপাশি পরিকল্পিত মুক্তা চাষে ভালো লাভ পাওয়া সম্ভব।

মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কৃষ্ণা পুকুরে মাছ চাষ করেন প্রায় ১১ বছর ধরে। চার মাস আগে তিনি দুটি পুকুরে মাছের পাশাপাশি ঝিনুক চাষ শুরু করেন। ইউটিউবে ঝিনুক চাষ দেখেই তার এই কাজে আগ্রহ তৈরি হয়।

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি
বিশেষ উপায়ে ঝিনুকে ছাঁচ ঢুকিয়ে উৎপন্ন করা হয় নকশাযুক্ত মুক্তা। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষ্ণা চন্দ্র বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে মাছ চাষ শুরু করছি। প্রথমে এক লাখ টাকা দিয়া শুরু করি। এহন আমার বিনিয়োগ প্রায় ২০ লাখ। শুরুতে একটা পুকুরে চাষ করলেও এহন আমি ছয়ডা পুকুরে মাছ চাষ করি।

‘ইন্টারনেট দিয়া ইউটিউবে মাছ চাষের টেকনিকের (কৌশল) পাশাপাশি ঝিনুক চাষও দেখি। দেইখাই আগ্রহ পাই।’

প্রায় চার মাস আগে গ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করেন বলে জানান কৃষ্ণা। পরে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রতিটি ঝিনুকের ভেতর নানা ধরনের নকশার ছাঁচ ঢুকিয়ে দেন।

১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ঝিনুকের ভেতর নকশাকারে মুক্তা উৎপন্ন হবে। বর্তমানে তার ঝিনুকে মুক্তার লেয়ার খুব ভালো পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কৃষ্ণা।

তিনি জানান, ২০ হাজার ঝিনুক চাষে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ঝিনুক নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও বাকি যা রয়েছে, সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময় শেষে এখান থেকে তার ৪০ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মুক্তা চাষে ফুটবে হাসি
ঝিনুকে মুক্তার ছাঁচ। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষ্ণা বলেন, মূলত গোল মুক্তা হতে প্রায় দুই বছরের মতো সময় লাগে। তবে বিশেষ পদ্ধতির ডিজাইন মুক্তা হতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে নকশার মুক্তার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মুক্তার লেয়ারের উপর ভিত্তি করে প্রতি পিস ডিজাইন মুক্তা আড়াইশ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

স্থানীয় যুবক হানিফ মিয়া বলেন, ‘আগে পরে কখনই কাউকে আমাদের এলাকায় মুক্তা চাষ করতে দেখিনি। মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষে আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই প্রায় সময়ই কৃষ্ণাদার কাছে এসে তার চাষাবাদ পদ্ধতি দেখছি। তার কাছ থেকে অনেক বিষয় বোঝার চেষ্টা করছি, যাতে আগামীতে আমিও মুক্তা চাষ করতে পারি।’

আবুল কালাম নামের আরেক যুবক বলেন, ‘মুক্তা চাষে বাড়তি কোনো খাবার দেয়ার প্রয়োজন হয় না ঝিনুককে। মাছের খাবার থেকেই এরা খাবার সংগ্রহ করে থাকে। তাই কম খরচে লাভের আশা বেশি। কৃষ্ণা দাদার মতো আমারও ভবিষ্যতে পুকুরে ঝিনুক চাষের ইচ্ছা আছে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলায় প্রথমবারের মতো সাথী ফসল হিসেবে মাছের পাশাপাশি মুক্তা চাষ শুরু করেছেন কৃষ্ণা। তার এই কাজে মৎস্য বিভাগ থেকে আমরা কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময় শেষ না হওয়ায় মুক্তা এখনও পরিপূর্ণভাবে উৎপন্ন হয়নি। তবে আমরা আশা করছি তিনি সফলতা পাবেন। আর তিনি মুক্তা চাষে সফলতা পেলে জেলার অন্য মাছ চাষিদের মাছ চাষের পাশাপাশি মুক্তা চাষে উদ্বুদ্ধ করা যাবে।’

কৃষ্ণা চন্দ্র বলেন, ‘বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে মুক্তা চাষ একটি ভালো মাধ্যম। মাছের খাবারের বাইরে ঝিনুকের জন্য আলাদা খাবারের প্রয়োজন না হওয়ায় লাভও অনেক বেশি। সরকারি সহায়তা পেলে আমি আগামীতে আরও বড় পরিসরে মুক্তা চাষাবাদ করতে চাই। এতে নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
সোনালি আঁশে হাসছে কৃষক
প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল
সরাইলে সেচের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন

শেয়ার করুন