ভারত সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

ভারত সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান

ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আইএসপিআর

সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) বিনোদ জি খান্ডারে, প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমার, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান।

বাংলাদেশ ও ভারতের সেনাবাহিনীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা জোরদারের আশ্বাস নিয়ে ভারত সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সরকারি সফর শেষে বুধবার দেশে ফিরেন সেনাপ্রধান।

বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

সফরে ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) বিনোদ জি খান্ডারে, প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমার, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত, ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান।

এ ছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫০ স্বতন্ত্র প্যারাশুট ব্রিগেড, ওয়ারগেমিং ডেভলপমেন্ট সেন্টার, ডিফেন্স ইমেজ প্রসেসিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টার এবং ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) পরিদর্শন করেন জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ।

সফরের প্রথম দুই দিন সেনাপ্রধান দিল্লি এবং আগ্রায় বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। সাক্ষাৎ করেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ।

ভারতের আগ্রায় অবস্থিত দেশটির সেনাবাহিনীর ৫০ স্বতন্ত্র প্যারাশুট ব্রিগেড পরিদর্শন করেন। এই ব্রিগেডটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বপ্রথম টঙ্গী হয়ে ঢাকায় আসে। ব্রিগেডটির সক্ষমতা, কার্যক্রম এবং প্রশিক্ষণ সম্পর্কে ধারণা নেন সেনাপ্রধান।

সেনাবাহিনী প্রধান ভারতের ওয়ারগেমিং ডেভলপমেন্ট সেন্টার এবং ডিফেন্স ইমেজ প্রসেসিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টার পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম ও কারিগরি বিষয় সম্পর্কে অবগত হন। আলোচনা করেন আগামীতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে।

রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পরিষদ সচিবালয়ের সামরিক উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) বিনোদ জি খান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সেনাপ্রধান।

বিকেলে ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পররাষ্ট্র নীতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ক আয়োজিত এক সেমিনারে এনডিসি কোর্স মেম্বার এবং অনুষদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। সেমিনার শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় এনডিসি কোর্স মেম্বারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

ভারত সফরের শেষ দিনে সেনাপ্রধান ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র বাহিনীর জীবন উৎসর্গকারীদের নাম খচিত স্থান ঘুরে দেখেন এবং আলাদাভাবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এরপর তিনি সাউথ ব্লকে পৌঁছালে তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। গার্ড অফ অনারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে এবং প্রতিরক্ষা সচিব অজয় কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান।

সাক্ষাৎ শেষে তাকে ভারতের নিরাপত্তা চিন্তাধারা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন বিষয়ে দুটি আলাদা ব্রিফিং প্রদান করা হয়।

বৈঠক শেষে ভারতের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সঙ্গে তাদের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান। এরপর তিনি সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে।

সেনাপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এমপি জাফরকে এলাকায় না থাকতে ইসির চিঠি

এমপি জাফরকে এলাকায় না থাকতে ইসির চিঠি

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

ইসির চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু এমপি জাফর বিধি বহির্ভূতভাবে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই তাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়া কক্সবাজার-১-এর আওতাধীন নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে না দেয়ার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে এলাকা ছাড়ার চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চিঠিতে তাকে ভোট দেয়া ছাড়া নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার রাতে ইসির উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরে চিঠিটি এমপি জাফর আলমের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, এমপি জাফরের বিরুদ্ধে কক্সবাজার-১ আসনের আওতাধীন চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৫-এর ২২ বিধি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়- সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচনি প্রচারে বা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। তবে ভোটার হলে তিনি শুধু ভোট দিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।

এ ছাড়া ভোটের আগে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনি কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, যানবাহন, অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের ব্যবহার করতে পারবেন না।

চিঠিতে আরও বলা হয়, যেহেতু এমপি জাফর বিধি বহির্ভূতভাবে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাই তাকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়া কক্সবাজার-১-এর আওতাধীন নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে না দেয়ার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় সোমবার ভোট হবে। নির্বাচনি প্রচার শেষ হওয়ার পর ভোটের আগের রাতে এমপি জাফরকে এ চিঠি পাঠানো হলো।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে রোজিনার আবেদন খারিজ

পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে রোজিনার আবেদন খারিজ

রোজিনা ইসলাম

পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামকে জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হলে আগের সেই শর্ত ভঙ্গ হয়, বলেন বিচারক।

ব্যক্তিগত পাসপোর্ট, প্রেস এক্রিডিশন কার্ড ও দুটি মুঠোফোন ফেরত চেয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের আবেদন নাকচ করেছে আদালত। দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় এসব মাল জব্দ করেছিল পুলিশ।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবু বক্কর ছিদ্দিক আবেদনটি নাকচ করে দেন।

গত ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর পর গত ২৩ মে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ঠিক করা ছিল। এদিন আদালতে হাজির হয়ে জব্দকৃত মালামাল ফেরত চেয়ে আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীর মাধ্যমে আবেদন করেন রোজিনা।

শুনানিতে সেদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন খানকে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ রোববার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হন।

রোজিনার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী আদালতকে বলেন, ‘রোজিনা ইসলামের পাসপোর্টটি জব্দ করা হয়েছিল। তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। প্রেস এক্রিডিশন কার্ডটিও জব্দ রয়েছে। জব্দ রয়েছে তার দুটি মুঠোফোন। এসব জব্দ থাকার ফলে তিনি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।’

এ সময় আদালতে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ খান আদালতকে বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা রোজিনা ইসলামের দুটি মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রিপোর্টও এসেছে।

‘তাই তার জিনিসপত্র এখনই ফেরত না দেয়ার জন্য বিনীত আবেদন করছি।’

এ সময় বিচারক রোজিনা ইসলামের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে রোজিনা ইসলামকে জামিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হলে আগের সেই শর্ত ভঙ্গ হয়।’

তখন রোজিনার আইনজীবী বলেন, ‘আদালত রোজিনা ইসলামের পাসপোর্ট জমা নিয়েছে। কিন্তু রোজিনা ইসলাম কোথাও যেতে পারবেন না, এমন কোনো শর্ত আদেশে দেয়া হয় নাই।’

আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রোজিনা ইসলামের করা আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

তবে সিএমএম আদালতের নাকচ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

৩ মাস পর বাংলাদেশের জন্য খুলছে জাপানের দুয়ার

নতুন নিয়ম অনুযায়ী জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ছবি: জাপান টাইমস

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারিকালীন বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের ওপর জারিকৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জাপান। সোমবার থেকে এসব দেশের নাগরিকরা জাপানে ঢুকতে পারবেন।

জাপান টাইমসের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে চলতি বছরের জুনে ছয়টি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল টোকিও। গত প্রায় তিন মাস এসব দেশের নাগরিকদের জন্য জাপান ভ্রমণ প্রায় পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল।

দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তান। করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া কিংবা জাপানে বসবাসের বৈধ অনুমতি থাকা ব্যক্তিদেরও এসব দেশ থেকে জাপানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।

এমনকি এসব দেশ থেকে জাপানগামী বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য পৌঁছানোর পরের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়।

ছয়টি দেশের ওপর থেকে এসব বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেয় টোকিও। জাপানের করোনাকালীন কোয়ারেন্টিন নীতিমালায় এর ফলে বড় ধরনের সংস্কার এলো। পরিবর্তিত নীতি অনুযায়ী ৪০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের ভ্রমণেচ্ছুদের জাপানে পৌঁছানোর পর সরকারি ব্যবস্থায় কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস ও এর ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আওতায় জাপানে পৌঁছানোর পর এবং কোয়ারেন্টিনের তৃতীয় দিনে ভ্রমণকারীদের করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।

দুটি টেস্টে নেগেটিভ হলেই সেলফ-আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে জাপানে নিজ বাড়িতে অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্থানে বাকি ১১ দিনের কোয়ারেন্টিন সম্পন্ন করতে হবে। তারপর জাপানে উন্মুক্ত চলাচলের সুযোগ পাবেন তারা।

বাংলাদেশ ছাড়াও ৪০টি দেশের নতুন তালিকায় আছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

অ্যাসিড ছুড়ে, ঘাড় মটকে ভাইকে হত্যা

অ্যাসিড ছুড়ে, ঘাড় মটকে ভাইকে হত্যা

স্বপনকে হত্যার ঘটনায় তার ছোট ভাইসহ গ্রেপ্তার তিন আসামি। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআই বলছে, গত ২৬ জুলাই রাতে স্বপন মিয়াকে হত্যা করে তারই ছোট ভাই রিপন মিয়া ও তার সঙ্গীরা। ২৮ জুলাই স্বপনের লাশ উদ্ধার হয়। পরের দিন ভৈবর থানায় মামলা করেন রিপন। মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মাদক সেবনে বাধা দেয়ার বড় ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। হত্যার দায় অন্যের ওপর চাপাতে ছোট ভাই হন মামলার বাদী। তবে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত বলছে, বাদী রিপন মিয়া বড় ভাই স্বপন মিয়াকে হত্যা করেছেন।

হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে।

সংস্থাটির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, গত ২৬ জুলাই রাতে স্বপন মিয়াকে হত্যা করে তারই ছোট ভাই রিপন মিয়া ও তার সঙ্গীরা। ২৮ জুলাই স্বপনের লাশ উদ্ধার হয়। পরের দিন ভৈবর থানায় মামলা করেন রিপন। মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউছুফ জানান, স্বপনকে হত্যার পর রিপন বাদী হয়ে ৩ জনকে সন্দেহভাজন আসামি উল্লেখ করে মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, রিপন নিজে উপস্থিত থেকে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে বড় ভাইকে প্রথমে অ্যাসিড মারেন। শরীর ঝলসে গেলে স্বপন দৌড়ে গিয়ে বিলের পানিতে নামেন। তখন রিপনসহ অন্য আসামিরা স্বপ্নকে পানির নিচে চেপে ধরেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার ঘাড় মটকে দেন রিপন।

আবু ইউছুফ জানান, স্বপন মিয়ারা ৪ ভাই ও ১ বোন। ভাইদের মধ্যে স্বপন স্থানীয় বাজারে চা বিক্রেতা। রিপন ২-৩ বছর আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন। ফিরে মাছের খামারসহ কৃষি জমি আবাদ করতেন তিনি।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (পিবিআই) শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর রিপন মিয়া, আব্দুর রব, ইমান আলী, সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন তার ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিবিআই জানায়, রিপন নিয়মিত তার বন্ধুদের সঙ্গে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করতেন। স্বপনের সঙ্গে তার পৈতৃক জমিজমা বণ্টন নিয়ে বিরোধ ছিল। রিপনকে মাদক সেবন ছাড়াতে বাধা দিতেন। এসব কারণে স্বপনকে মেরে প্রতিশোধ নিতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হত্যার পর আসামিরা মিলে স্বপনের লাশ ঘটনাস্থল থেকে ৫০-৬০ গজ দূরে নিয়ে একটি কালভার্টের নিচে রেখে আসেন। সেখান থেকেই দুদিন পর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানায়, স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করার সময় আসামি সবুজকে পাঁচ হাজার টাকা দেন রিপন। এ ছাড়া ‘অপারেশন সফল’ হলে প্রত্যেক আসামিকে খুশি করে দেয়ার কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

রোববার সন্ধ্যায় দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার মো. জহুরুল হক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘উন্নয়নের এ ধারাকে টেকসই করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ খুবই প্রয়োজন।’

দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং কমিশনার মো. জহুরুল হক রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাতকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘উন্নয়নের এ ধারাকে টেকসই করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ খুবই প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যাতে দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও পরিবার থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।’

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধেও দুদক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা রাষ্ট্রপতির।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম এবং সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

অটোপাস হলেও ফাইনাল দিতে হবে প্রথম বর্ষকে

অটোপাস হলেও ফাইনাল দিতে হবে প্রথম বর্ষকে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লগো

কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সে ক্ষেত্রে তার শর্ত সাপেক্ষে দেয়া প্রমোশন বা অটোপাস বাতিল গণ্য হবে।

অটোপাস হলেও প্রথম বর্ষের ফাইনাল দিতেই হবে শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন পাওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। আগামী নভেম্বরে এই ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামানের সই করা এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আদেশে জানানো হয়, ২০২০ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন ফরম পূরণ করেছে, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে যথাসময়ে তাদের পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে এসব পরীক্ষার্থীকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে শর্ত সাপেক্ষে প্রমোশন দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে না গেলে ২০২০ সালের অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

বলা হয়, এই পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে গত ১৬ জুন ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর আওতায় ওই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন দিয়ে ক্লাস করার অনুমতি দেয়া হয়।

২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেন ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬, অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫০। আর মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৬ শিক্ষার্থী।

প্রমোশন পাওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব শিক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রথম বর্ষের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি এই পরীক্ষায় অংশ না নেয় বা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নট প্রমোটেড’ হয় সে ক্ষেত্রে তার শর্ত সাপেক্ষে দেয়া প্রমোশন বা অটোপাস বাতিল গণ্য হবে।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন

নিউ ইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিউ ইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম। ফাইল ছবি

ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে যাত্রাবিরতি শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান ফিনল্যান্ডে অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত নাজমুল ইসলাম।

জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে যাত্রাবিরতি শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটির স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৬ মিনিটের দিকে হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানাতে আসেন ফিনল্যান্ডে অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত নাজমুল ইসলাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উপ-প্রেসসচিব হাসান জাহিদ তুষার।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা তার। সেখানে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সফরকালীন আবাসস্থল লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেসে যাবেন।

২০ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ৯টায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

বেলা সাড়ে ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তরের লনে বাগানে বৃক্ষরোপণ এবং একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরকালীন আবাসস্থলে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের সভাপতি চার্লস মিশেলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বেলা পৌনে ৩টায় একই স্থানে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

বিকেল ৪টায় সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে তার।

২১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ করবেন শেখ হাসিনা।

এদিন বিকেলে সফরকালীন আবাসস্থলে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় সফরকালীন আবাসস্থল থেকে ‘হোয়াইট হাউস গ্লোবাল কোভিড-১৯ সামিট: ইন্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার’ শীর্ষক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

দুপুর ১২টার দিকে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বিকেলে ‘রোহিঙ্গা সংকট: টেকসই সমাধান অত্যাবশ্যক’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে (ভার্চুয়াল) অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় ‘ইভেন্ট অব লিডারস নেটওয়ার্ক অন ডেলিভারিং অন দ্য ইউএন কমন এজেন্ডা: অ্যাকশন টু অ্যাচিভ ইকুয়্যালিটি অ্যান্ড কনক্লুশন’ শীর্ষক আয়োজনে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা।

বেলা ১টায় জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে ‘ফুড সিস্টেমস সামিট অ্যাজ পার্ট অব দ্য ডিকেড অব অ্যাকশন টু অ্যাচিভ দ্য সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজিএস) বাই ২০৩০’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পর্যায়ক্রমে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুইয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিন দুপুরে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন সরকারপ্রধান।

২৫ সেপ্টেম্বর সকালে নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন তিনি।

৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১৯০৪যোগে ফিনল্যান্ডের হেলসিংকির উদ্দেশে ওয়াশিংটন ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী।

১ অক্টোবর সকাল পৌনে ৮টায় হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পৌনে ১০টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৯০৫ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

১ অক্টোবর রাত সোয়া ১০টায় দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

করোনা মহামারি শুরুর টানা ১৯ মাস পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসা-যাওয়ার পথে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করবেন তিনি।

শুক্রবার ফিনল্যান্ডের স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ৩৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট হেলসিংকির ভানতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান দেশটিতে অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত নাজমুল ইসলাম। হেলসিংকির হোটেল ক্যাম্পে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
ভারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরলেন সেনাপ্রধান
তুরস্ক সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাড়বে সহযোগিতা: সেনাপ্রধান

শেয়ার করুন