সিনেমায় ‘আপত্তিকর’ সংলাপ: ফের ব্যবস্থা চাইল বিজিএমইএ

সিনেমায় ‘আপত্তিকর’ সংলাপ: ফের ব্যবস্থা চাইল বিজিএমইএ

দি লাস্ট মার্সেনারি চলচ্চিত্রের পোস্টার। ছবি: আইএমডিবি

চিঠিতে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং আপনার বেঞ্চের মাধ্যমে ফরাসি সরকার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নবিদ্ধ সংলাপটি শিগগিরই অপসারণের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

নেটফ্লিক্সের একটি সিনেমায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক সম্পর্কে ‘অসম্মানজনক ও অবমাননাকর’ সংলাপ সরানোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে আবারও চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

এরপরও বিতর্কিত এই সংলাপটি সরানো না হলে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে যত ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ব্যাপারে বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ফরাসি সিনেমার একটি সংলাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়া হয়েছে। সেটি প্রত্যাহার করার জন্য আমরা ৭ থেকে ৯ আগস্ট বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নেটফ্লিক্সের সিইও, চলচ্চিত্র পরিচালক, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও আশাব্যঞ্জক কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আমরা আবারও ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে আমরা চিন্তা করব।’

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘তবে এ ধরণের অবমাননাকর সংলাপ জাতি হিসেবে আমাদের বাংলাদেশিদের অনুভূতি ও গর্বকে আহত করে। এ ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই ছেড়ে দেব না। বিতর্কিত সংলাপটি সরানোর আগ পর্যন্ত যত ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেব আমরা।’

৩০ জুলাই নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ভ্যান ড্যাম অভিনীত সিনেমা দি লাস্ট মার্সেনারি। সিনেমাটি এখন ওই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তার তালিকায় সেরা দশে রয়েছে। দর্শকপ্রিয় হওয়া সিনেমাটির একটি সংলাপে বাংলাদেশি পণ্যবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।

অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ডেভিড শ্যারন পরিচালিত ফ্রেঞ্চ ভাষার এই সিনেমায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে নিম্নমানের বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সিনেমাটির ১ ঘণ্টা ৪১ মিনিটে শুরু হওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, একজন অভিনয়শিল্পী বলছেন, ‘হ্যাঁ, এটা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট (Ah, yes. Bulletproof tuxedo)’।

উত্তরে আরেকজন বলেন, ‘এটা মেড ইন ফ্রান্স। তবে এটি বাংলাদেশ থেকে আসলে আমি শেষ হয়ে যেতাম (Made in France. If it was from Bangladesh, I,d be gone.)।

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক সম্পর্কে ‘অসম্মানজনক ও অবমাননাকর’ এই সংলাপ সরানোর আগ পর্যন্ত দি লাস্ট মার্সেনারি সিনেমাটির সম্প্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট নেটফ্লিক্সকে ৭ আগস্ট চিঠি দিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।

একই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ৯ আগস্ট চলচ্চিত্রটির পরিচালক, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকেও চিঠি লিখেছিলেন তিনি।

কিন্তু এক মাস পার হলেও এখনও চলচ্চিত্রটি থেকে ওই সংলাপ সরানো হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ কারণেই হতাশা প্রকাশ করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বুধবার আবারও আলাদা আলাদা চিঠি লিখেছেন ফারুক হাসান। চিঠি দুটির ভাষা একই।

নতুন চিঠিতে ফারুক হাসান লিখেছেন, ‘ব্যবসা, অর্থনীতি আর সামাজিক বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশক ধরেই বিরাজমান। আপনার এ সমর্থন দেয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে ২০২১ সালের ৭ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে চিঠি দিয়েছিলাম। একটি বিষয়, যা কি না বাংলাদেশিদের হৃদয়কে ‘ভেঙেচুরে’ দিয়েছে, চিঠিতে সেটি উপস্থাপন করেছিলাম।

ডেভিড শ্যারন পরিচালিত দি লাস্ট মার্সেনারি নামে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ফরাসি মুভিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে।

চিঠিতে ফারুক হাসান বলেছেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ শুধুমাত্র যে আমাদের জাতির জন্য গর্বের বিষয়, সেটি নয়; এর বিস্তৃতি আরও বেশি। এর মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবময় আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরের ধারাবাহিকতায় পোশাকশিল্প আজ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গত তিন দশক ধরে অর্থনীতির অন্যান্য খাতগুলোতেও এ শিল্পের সরব পদচারণা প্রশংসিত হয়েছে।’

চিঠিতে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে সব দিক থেকে নিরাপদ, সুরক্ষিত, সবুজ এবং টেকসই করার জন্য সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। সুরক্ষার জন্য সব নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করেছি এবং সেরা ব্যবসায়িক অনুশীলনগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। করোনা মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আন্তর্জাতিক বাজার যখন তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছে, তখন আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড নিয়ে এ ধরনের অযৌক্তিক ও আপত্তিকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘এর আগে আমরা নেটফ্লিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই চলচ্চিত্রের পরিচালককে আমাদের এ উদ্বেগের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি। চলচ্চিত্রটি এখনও নেটফ্লিক্সের প্লে লিস্টে রয়েছে এবং চলচ্চিত্র থেকে সেই আপত্তিকর সংলাপগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়নি।

‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং আপনার বেঞ্চের মাধ্যমে ফরাসি সরকার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নবিদ্ধ সংলাপটি অনতিবিলম্বে অপসারণের জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা মানবাধিকার আইন ১৯৯৮ এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তবে এটি অবশ্যই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে। এরপরও জনপ্রতিনিধিরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সীমাবদ্ধ রাখার ক্ষমতা রাখেন, যদি কি না সেটি কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত খ্যাতিকে বিনষ্ট করে। এরপরও বলা যায় যে, চলচ্চিত্রে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে যে মন্তব্য আছে, সেটি পুরোপুরি ভুল। কারণ, বাংলাদেশ বুলেট প্রুফ জ্যাকেট তৈরি করে না। গত চার দশক ধরে আমরা যে পোশাক তৈরি করছি, সেটি বিশ্বব্যাপী ক্রেতা ও ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে তার গুণগত মান ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য দিয়ে।’

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এ কারণে বিজিএমইএ ও পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন এবং আপনার (রাষ্ট্রদূত) মাধ্যমে ফরাসি কর্তৃপক্ষকে চলচ্চিত্রটি থেকে প্রশ্নবিদ্ধ সংলাপটি সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, একই বিষয় অবহিত করে এবং সহযোগিতা চেয়ে বিজিএমইএ থেকে উল্লিখিত চলচ্চিত্রটির পরিচালক, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

এক রিটের ওপর শুনানির একপর্যায়ে ই-ভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা নিয়ে বিচারক বলেন, ‘সরকারতো ব্যবস্থা নিচ্ছেন, কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়।’

ই-ভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর সরকারের পদক্ষেপ দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

দেশের গ্রাম পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা প্রণয়নে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের ওপর শুনানির সময় বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এসব কথা বলে।

এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি কেন অরক্ষিত। আমার বাড়ি মানে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ দরজা জানালা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাবে, কিন্তু আমার ঘর কেন অরক্ষিত। মানুষের টাকা কেন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এগুলো বন্ধ করা কাদের দায়িত্ব? এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা এটা পরীক্ষা করতে চাই।’

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, ‘মাই লর্ড, সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা কিন্তু নয়। এহসান গ্রুপের তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছ; ই-ভ্যালির তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তখন বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘সরকারতো ব্যবস্থা নিচ্ছে কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়। আমার টাকাটা নিয়ে গেল আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছি। সে থানায় যাবে, জেলে যাবে যাক, কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেল সেটা কোথায়। আমরা মামলার করার পর চোর ধরা পড়ছে। চুরিতো ঠেকানো যাচ্ছে না।’

এই বিচারক আরও বলেন, ‘সরকারের কাজ কি? এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, তাদের আইনের শাসন সমস্ত কিছু…। সেখানে সরকার ঠিক মত কাজ করছে কি না আমরা দেখব।’

এই রিটের ওপর আরও শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন রাখে বেঞ্চ।

গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সুদ কারবারিদের তালিকা করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

রিটে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিবাদী করা হয়। ওই রিটের শুনানিতে আদালত এসব কথা বলে।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  

চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  

চীনকে রুখতে চিপ তৈরিতে জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে চার দেশ। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক চিপ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। চিপ তৈরিতে সেই চীনকে ঠেকাতে জোট বাঁধছে চার দেশ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জোট তৈরি করে সেমিকন্ডাক্টার উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বে গত কয়েক বছর থেকেই সেমিকন্ডাক্টার বা চিপ সংকট দেখা দিয়েছে। গাড়ি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্য তৈরিতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদানটির চাহিদা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বেড়ে যায় বহুগুন।

বৈশ্বিক চিপ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। চিপ তৈরিতে সেই চীনকে ঠেকাতে জোট বাঁধছে চার দেশ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জোট তৈরি করে সেমিকন্ডাক্টার উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।

জাপানের পত্রিকা নিক্কেই-এর বরাত দিয়ে সোশ্যাল নিউজের এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ বৈঠকে বসছে। সেখানেও অন্যতম এজেন্ডা হবে চিপ উৎপাদনে সেই জোট নিয়ে।

ধীরে ধীরে চিপের ক্ষেত্রে বিশ্ব নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে চীনের ওপর। সে নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে দেশগুলো। আর সে কারণে এমন জোট গঠন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জো বাইডেনের আমন্ত্রণে চার জাতি জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে।

এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, খসড়া ওই প্রস্তাবে চার দেশ যতটা দ্রুত সম্ভব উৎপাদনে যেতে চাওয়ার কথা জানায়। এ ক্ষেত্রে চার দেশ তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করবে।

চিপের স্বল্পতা বিশ্বব্যাপীই। সেটা ভারতের মতো চাহিদাসম্পন্ন দেশে আরও প্রকট হয়েছে। যে কারণে দেশটিতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় গাড়ি, স্মার্টফোন তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চিপের উৎপাদন বাড়াতে ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এরইমধ্যে ১৯০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রযুক্তি বিশেষ করে চিপের উৎপাদন বাড়াতে এটি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে সে বরাদ্দ দেশটিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব গিনা রেইমন্ডো বলেন, এটি এমন একটি বরাদ্দ যা দিয়ে ৭ থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টার কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হবে।

চীনের প্রযুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘটনা এটা প্রথম নয়। জো বাইডেনের আগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে দেশটিতে কালো তালিকাভুক্তি করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।

তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বাইডেন। তিনিও চীনের অর্ধশত কোম্পানিকে দেশটিতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কড়াকাড়ি আরোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতেও চীনের শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করে আদেশ দিয়েছে। ২০২০ সালের মে মাসে লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সেনাদের মধ্যে এক সংঘর্ষের পর ভারত চীনের বেশ কিছু অ্যাপ নিষিদ্ধ করে।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট অংশ পর্যন্ত অন্তত আরও ১০০টি লাইটার জাহাজ নোঙর করার সুবিধা দিতে নতুন ৪৮টি বয়া বসাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জায়গায়টি দুটি ব্লকে ভাগ করে এসব বয়া বসানো হবে, যার মধ্যে ১৬টি বয়া বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে বসবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বয়া বসানোর ফলে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বিদেশি জাহাজের সঙ্গে লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে।

এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল, কোস্টগার্ডের নতুন স্থাপনা, নৌবাহিনীর নতুন বেইস স্টেশনের কারণে বেশ কটি বয়া কর্ণফুলী নদী থেকে তুলে ফেলতে হয়েছে। এতে করে নদীতে জাহাজ রাখার স্থান কমেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলী সেতু হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত মোট ৪৮টি বয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। শাহ আমানত সেতুর উজান থেকে ইতোমধ্যে ১৬টি বয়া বসানো শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি ছোট জাহাজ নিরাপদে নোঙর করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশপথ বা চ্যানেল থেকে শাহ আমানত সেতুর উজান পর্যন্ত ছোট বা লাইটার জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা থাকে। সম্প্রতি নৌ বাণিজ্য দপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ মালিকদের সংগঠন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় গুপ্তবাঁক থেকে চ্যানেল পর্যন্ত কোনো জাহাজ নোঙর করতে পারবে না। মূলত জাহাজ চলাচলের পথ নির্বিঘ্নে রাখতেই এই উদ্যোগ। আর একারণেই নতুন ৪৮ বয়া বসিয়ে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

প্রতীকী ছবি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন। এতে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

দেশে ই-কমার্স ব্যবসা তদারকি করতে একটি ই-কমার্স রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন।

রিটে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

এদিকে রোববার এক মামলার শুনানিতে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়টা এমন যে, প্রথমে তারা অফার দিবে একটা মোটরসাইকেলের টাকায় দুইটা মোটরসাইকেল। এরপর গ্রাহকরা টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল পাবে এবং টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে চলে যাবে।

‘এরপর আবার দুইটা কিনলে আরও দুইটা ফ্রি, চারটা কিনলে আরও চারটা ফ্রি পাবে, এমন অফার আসে এবং গ্রাহক সে মোটরসাইকেল পায়। কিন্তু একপর্যায়ে যখন গ্রাহক অধিকসংখ্যক যেমন, আটটা মোটরসাইকেল কিনলে আরও আটটা মোটরসাইকেল পাওয়ার জন্য টাকা দেয়, তখন সে টাকা চলে যায়, কিন্তু মোটরসাইকেল আর আসে না।’

আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে আরও বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের এখানে লোভের শিকার হয়ে এবং ই-কমার্সের প্রতিষ্ঠানের প্রতারণায় গ্রাহকেরা প্রতারিত হচ্ছে।’

তখন হাইকোর্ট বলে, ‘আপনারা তো পাবলিক ইন্টারেস্টের মামলা করেন। আপনাদের উচিত পাবলিকদের সচেতন করা, তারা যেন এ ক্ষেত্রে লোভ কমান।’

দেশের একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন গ্রাহকরা। তাদের কেউ কেউ অর্থ আত্মসাতের মামলাও করেছেন।

এমন একটি মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের সা‌র্বিক প‌রিচালনায় এ বিমার আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং‌য়ে করা যা‌বে। ত‌বে এ জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া বিমাসংক্রান্ত অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থের অভাবে কোমলম‌তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ পলিসির আওতায় প্রিমিয়াম মাসে ২৫ টাকা, বছরে ৩০০ টাকা, বিমার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ফের গতি

রেমিট্যান্সে ফের গতি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আবার গতি ফিরেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ দিনেই ১০৯ কোটি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গত তিন মাস ধরে রেমিট্যান্সের গতি নিম্মমুখি। ২ বিলিয়ন ডলারের কম এসেছে। জুনে এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার। পরের দুই মাস জুলাই ও আগাস্টে আসে যথাক্রমে ১৮৭ কোটি ও ১৮১ কোটি ডলার।

সেক্ষেত্রে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহের গতি আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসে ২১ তারিখ কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের পর ওই মাসের বাকি দিনগুলোতে খুবই কম রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। সে কারণে জুলাই মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের কম রেমিট্যান্স দেশে আসে। তার রেশ আগস্ট মাসেও থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে তার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।’

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সে ফের গতি

টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১২ মাসের সাত মাসই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬০ কোটি ডলার এসেছিল ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। যা এখন পর্যন্ত এক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

বেসরকারি ৪০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪০ লাখ ডলার।

মহামারির মধ্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ওই মাসে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাঠান প্রবাসীরা, যা এক মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসেই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার করে এসেছে।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে।

ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। এরপর আর রেমিট্যান্স কমেনি, প্রতি মাসেই বেড়ে চলেছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্সপ্রবাহে গতি ফেরায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি বাড়ার পরও গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অত্রিকম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন:
টিকার জন্য অনুদান দিল পোশাক ব্র্যান্ড ‘কিক’
পোশাকশিল্পের মালিকদের এবার নতুন দাবি
সিনেমা সরানোর দাবি জানিয়ে নেটফ্লিক্সকে বিজিএমইএর চিঠি
নেটফ্লিক্সের সিনেমায় বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ‘আপত্তিকর’ সংলাপের প্রতিবাদ
পোশাক শিল্পে দক্ষতা বাড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

শেয়ার করুন