সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে

সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে

ইএফডি হচ্ছে এক ধরনের হিসাব যন্ত্র। ছবি: সংগৃহীত

করোনা মহামারিসহ নানা কারণে গত জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৩৯৩টি দোকানে ভ্যাটের মেশিন বসেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে আরও ১০ হাজার ইএফডি মেশিন বসানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি বন্ধে যোগ্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর পরিকল্পনা নেয়া হয় দুই বছর আগে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কাঙ্ক্ষিত হারে এই মেশিন বসাতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এনবিআর।

রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখন কাজ পুরোদমে চলছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ইএফডি হচ্ছে এক ধরনের হিসাব যন্ত্র। এটি ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার বা ইসিআরের উন্নত সংস্করণ।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন ব্যবহার করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাটের টাকার হিসাব এনবিআরের মূল সার্ভারে চলে যাবে। এ ব্যবস্থায় তথ্য গোপন বন্ধ হবে এবং প্রতিদিনের লেনদেনের প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। ফলে কমবে ফাঁকি। বাড়বে রাজস্ব আয়।

রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ হাজার দোকানে ইএফডি মেশিন বসানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বছর মেশিন আমদানি করা যায়নি বলে একটাও বসাতে পারেননি ভ্যাট কর্মকর্তারা।

পরবর্তীকালে গেল ২০২০-২১ অর্থবছরেও ১০ হাজার মেশিন বসানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণসহ নানা কারণে জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার ৩৯৩টি দোকানে ভ্যাটের মেশিন বসেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ।

এমন বাস্তবতায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ হাজার ইএফডি মেশিন বসানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালে ভ্যাট আইন চালুর সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিনা মূল্যে এক লাখ ইএফডি মেশিন বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

দেশে বর্তমানে আড়াই লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন আছে। অথচ দুই বছরে মাত্র সাড়ে ৩ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট মেশিন বসানো সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, অবশিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ইএফডির আওতায় আনতে আর কত বছর সময় লাগবে?

বর্তমানে ২৫ ধরনের ব্যবসায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হিসাব রাখা বাধ্যতামূলক, যাদের বার্ষিক টার্নওভার বা মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫ কোটি টাকার বেশি। ফলে ভ্যাট নিবন্ধিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে ইএফডির আওতায় আনতে হবে।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে চলমান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তা ছাড়া দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতাও তৈরি হয়। এসব জটিলতা নিরসন হচ্ছে। এ বছরের ডিসেম্বরে একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

এদিকে ভ্যাট মেশিন বসানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছু আপত্তি আছে। বর্তমানে একটি মার্কেটে ১০ শতাংশ মেশিন বসানো হয়। অর্থাৎ একটি মার্কেটে ১০০ দোকান থাকলে মাত্র ১০টি দোকানে ভ্যাট কর্মকর্তারা ইএফডি মেশিন বসান।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এতে করে পণ্যের দামের ক্ষেত্রে অসমতা তৈরি হয়। কারণ, যেসব দোকানে ইএফডি মেশিন বসানো হয়, সেসব দোকানে ভ্যাটসহ পণ্যের দাম বেশি পড়ে, যে কারণে ক্রেতারা ওই সব দোকান এড়িয়ে চলেন। সে জন্য ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে: একটি মাকের্টে যত দোকান আছে, সবগুলোতে একসঙ্গে ইএফডি মেশিন বসানো হোক।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বলেছি যদি ইএফডি মেশিনের সংকট থাকে, তা হলে খাতভিত্তিক যেমন স্বর্ণের দোকান কিংবা চশমার দোকানে একসঙ্গে বসানো হোক। তা হলে জটিলতা নিরসন হবে এবং ব্যবসায় সমতা আসবে।’

এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘এটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ভ্যাটের মেশিন না থাকলে ভ্যাটের চালান কাটা যাবে না, আইন তা বলে না।

আইন হচ্ছে, যেকোনো পণ্য বিক্রিতে চালান ইস্যু করা বাধ্যতামূলক। আসল কথা হলো, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ভ্যাটের আইন পরিপালন করছেন না।’

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত এক বছরে বিভিন্ন সময়ে বিধিনিষেধ দিয়েছে। তখন দোকানপাট বন্ধ ছিল।

তাই লক্ষ্য অনুয়ায়ী ইএফডি মেশিন বসানো সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরে আরও ১০ হাজার মেশিন বসানো সম্ভব হবে। যারা মেশিন সরবরাহ করবে, তাদের দিক থেকে মেশিন আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই।

দেশে ভ্যাট আইন চালুর পর একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট মেশিন আমদানির কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষের দিকে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ায় মেশিন আমদানির বিষয়টি আটকে যায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর জন্য ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে চীন থেকে ১০০টি মেশিন আনা হয়। কিন্তু তখন দেশে করোনার কারণে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ফলে চীনা প্রকৌশলীরা আসতে পারেননি।

এর চার মাস পর আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে ইএফডি মেশিন বসানো হয়। পরে তা নিয়মিত করা হয়। আমদানি করা ইএফডি মেশিনের সিংহভাগ দেয়া হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর এবং আশপাশের এলাকায়।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য

তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে এক ওয়েবিনারে বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। 

দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবসমাজ। কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্গে মিলছে না মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব। এখনও শিক্ষা এবং কাজের ধরনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। ফলে তরুণদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হচ্ছে চাকরির বাজার।

এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোতে নিয়ে আসা দরকার।

শনিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনার মূল প্রবন্ধে এমন তাগিদ উঠে আসে।

ওয়েবিনার তরুণদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও শ্রম উৎপাদনশীলতা, আয় এবং দারিদ্র্য সম্পর্কিত সমস্যা ও নীতি এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন কৌশল আলোচনা করা হয়।

বলা হয়, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে, সে হারে হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। এ ছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুব সমাজের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হলেও এখনও বাস্তবায়নে রয়েছে জটিলতা। তাই সুফল পেতে পরিকল্পনার সমন্বিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত শারমীন।

সানেমের সিনিয়র গবেষণা সহযোগি ইশরাত হোসাইনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য (সচিব) মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

নাসিমা বেগম বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং এর অধীনে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। নীতি নির্ধারণে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশে বাল্য বিয়ে বেড়ে গেছে, শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। এসব ব্যাপারে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ই-কমার্স খাতে দুর্নীতির ফলে এই খাতের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে এবং এই খাতের সৎ তরুণ উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।’

ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ের জনমিতি পার করছে। এর সুবিধা ভালোমতো নিতে আমাদের অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি সামজিক নীতিও গ্রহণ করে দুটির সমন্বয় করতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শুধু সরকার নয়, সুশীল সমাজ ও গবেষকরাও ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণদের সামাজিক আন্দোলন এবং তরুণ নারীদের জন্য সমতা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।’

মূল প্রবন্ধে ইশরাত শারমীন বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এমন সময় বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যখন দেশ কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থ-সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অর্জিত সাফল্য কোভিডের কারণে আশংকার সম্মুখীন। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্তমানে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন ও নির্মাণখাতে কর্মসংস্থান ২০১৩ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে হ্রাস পেয়েছে। তৃতীয়ত, অনানুষ্ঠানিক খাতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তারুণ্যের প্রত্যাশা থাকবে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন, বেকারদের জন্য বিমা প্রকল্প প্রণয়ন, বাল্য বিয়ে, শিশু শ্রম ও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে বিদ্যমান বৃত্তি প্রদান প্রকল্পগুলোর আওতা বৃদ্ধি। সেই সাথে শ্রম বাজারে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখবে।

জাগো ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক এশা ফারুক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণে যথাযথ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দেশে উদ্যোক্তা তৈরি হলেও তারা টিকে থাকতে পারছে না, কারণ তাদের দক্ষতা থাকলেও যথাযথ অংশীজনের সাথে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়া হচ্ছে না। ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলতে হবে। সে জন্য উন্নত মানের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা দরকার।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ম্যানেজার নাজমুল আহসান বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যুব অধিদপ্তরের জন্য বাজেট অত্যন্ত নগণ্য, যার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য যথেষ্ট কর্মসূচি হাতে নেয়া সম্ভব হয় না। প্রযুক্তিগত বিভাজন কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন।

ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) যুগ্ম পরিচালক ফাল্গুনি রেজা জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তরুণদের যে দাবি আছে, সেটা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।

ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের অপারেশনস লিড সামাঞ্জার চৌধুরী বলেন, দেশে চাকরিপ্রার্থী তৈরি হলেও চাকরি তৈরি হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা শ্রমবাজারের জন্য তৈরি নন। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নারী অধিকার ও জেন্ডার সমতার ম্যানেজার মরিয়ম নেসা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া যে স্বপ্নকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তরুণদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার বিভিন্ন অংশকে চিহ্নিত করে সকলের চাহিদা পূরণের জন্য সচেষ্ট হতে হবে।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

সেরা পারফরমারদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক

সেরা পারফরমারদের পুরস্কৃত করল পদ্মা ব্যাংক

সেরা পারফর্মারদের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু।

‘২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ভিন্নমাত্রার আধুনিক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর অনেক পন্থার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পারফরমারদের স্বীকৃতি এবং পুরস্কার।’

‘অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ক্যাম্পেইনে’ সফল ১০ কর্মীকে পুরস্কৃত করেছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড। অ্যাকাউন্ট ওপেনিংয়ের পাশাপাশি ডিপোজিট সংগ্রহে সেরাদেরও ক্রেস্টের সঙ্গে পুরস্কারের চেক তুলে দেয়া হয়।

শনিবার রাজধানীর মিরপুরে পদ্মা ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুপ্রেরণাদায়ী এই পুরস্কার তুলে দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহসান খসরু।

এ সময় তিনি বলেন, ‘২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ভিন্নমাত্রার আধুনিক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর অনেক পন্থার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে পারফরমারদের স্বীকৃতি এবং পুরস্কার। পাশাপাশি তাদের বিশেষ রিওয়ার্ড এবং পদোন্নতির পরিকল্পনাও রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে এহসান খসরু ব্যাংকের নতুন ‘মার্কেটিং এডভাইজার’ কনসেপ্টের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পদ্মা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আহসান চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার জাবেদ আমিন, হেড অফ আইসিসিডি এ টি এম মুজাহিদুল ইসলাম, এসইভিপি হেড অফ আরএএমডি অ্যান্ড ল ফিরোজ আলম, সিএফও মো. শরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

ডেসটিনি কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেছে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এক দশক নিষ্ক্রিয় থেকে আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে আলোচিত এ সমবায় প্রতিষ্ঠান। তবে পুরনো বিনিয়োগকারীদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেয়া হবে সে বিষয়ে সবাই নীরব।

আর্থিক খাতের আঁতকে ওঠা প্রতিষ্ঠানের নাম ডেসটিনি। প্রলোভন দেখিয়ে লুট করা হয়েছে গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা। অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানের অনেক শীর্ষ কর্তাই এখন জেলে। তবে প্রায় ১০ বছর পর আবার মাঠে নেমেছে বিতর্কিত সমবায় প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি।

দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থেকে আবারও আলোচনায় ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদনে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। পুরনো কমিটিতে যারা ছিলেন, তারা এখন নতুন কমিটিতে নেই। বলা হচ্ছে, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাই নতুন কমিটিতে তাদের স্থান হয়নি।

সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসিটিনি। তিনি বলেন, ডেসটিনি কো-অপারেটিভে কোনো সমস্যা হয়নি। যে ১২ জন নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ জন্য তারা আবার নিবন্ধন নিয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারবে।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন জানান, সরকারের সকল নিয়মনীতি মেনে আবারও ব্যবসা করতে চায় ডেসটিনি। এ ক্ষেত্রে কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের দায়দেনা পরিশোধ করা হবে। তিনি জানান, এমএলএম ব্যবসা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে, এই আইনটি যুগপযোগী করতে হবে।

সমবায় বিশেষজ্ঞ এমদাদ হোসেন মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলএমএম কোম্পনি লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডেসটিনি আবার কোন ফর্মে নিবন্ধন করে ব্যবসা করবে? আগে যে কযেক হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের পকেট থেকে বের করে নিয়েছে, তারা তো এখনও টাকা ফেরত পায়নি।’

কমিটি অনুমোদন দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর

গত ২৮ জুন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমবায় অধিদপ্তর। ১২ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন অর রশিদ (অব.)। সহ-সভাপতি হয়েছেন মো. জাকির হোসেন, আর সম্পাদক হয়েছেন আজম আলী।

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৭ মে সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪-এর ২৬(২) বিধি অনুসারে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। ১২টি পদের বিপরীতে ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ‍পরে ১৩ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সীমিত ব্যবস্থাপনা কমিটির ১২টি পদে ১২ জন প্রার্থীই থাকেন। একই পদের বিপরীতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সবাই।

নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদে একজন করে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য হিসেবে ৭ জনসহ মোট ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসটিনি

দীর্ঘদিন পর আবার অনুমোদন পেয়ে নড়চেড়ে বসেছে ডেসটিনি। এতোদিন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় তৈরি হয় স্থবিরতা। ডেসটিনির মালিকানাধীন সকল সম্পদ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কাকরাইল মোড়ে আলিস টাওয়ারের কয়েকটি ফ্লোরে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব পাওয়া সকলেই প্রতিদিন ওই অফিসে বসছেন। অফিস চালু হবার খবরে বিনিয়োগকারী অংশীদাররাও আসতে শুরু করেছে।

আবারও মাঠে সেই ডেসটিনি

রাজধানীর কাকরাইলের মাহতাব প্লাজায় ডেসটিনির যে তিনটি অফিস ছিল, সেই অফিসগুলো এখন বন্ধ। এতোদিন চালু থাকলেও কয়েকদিন আগে পুলিশ অফিস গেইটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। কো-অপারেটিভের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি অফিস নিয়ন্ত্রণে নেবার চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, ডেসটিনির যে সব সম্পত্তি এখন পুলিশের জিম্মায়, সেগুলো এই কমিটির নিয়ন্ত্রণে নেবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাল্টিপারপাসের নামে থাকা সম্পত্তি নিতে চায় কমিটি।

গ্রাহকের হা-হুতাশ

কেউ দিয়েছে হাজার, কেউ লাখ লাখ টাকা। কোটি টাকাও দিয়েছে অনেক পরিবার। দশ বছর আগের দেয়া সেই টাকার জন্য আক্ষেপ এখনও স্পষ্ট। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ বা অপ্রকাশ্যে চাহিদা তুলে ধরছেন। কিন্তু কোথায় গেলে মিলবে টাকা, তা কেউ জানে না।

ডেসটিনির অফিসে অফিসে এখনও খোঁজ নেন গ্রাহকরা। কবে চালু হবে, বিনিয়োগকৃত টাকার কোনো হদিস কি মিলেবে? কিন্তু কোনো সদুত্তর নেই। সমবায় অধিদপ্তর থেকে নতুন কমিটি করে দেবার পর আলিস টাওয়ারে গ্রাহকদের ভীড় বাড়ছে।

ডেসটিনি কো-অপারেটিভে অনিয়ম

সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক অমিয় কুমার চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ডেসটিনি কো-অপারেটিভে ১ হাজার ৪৪৮ কোটি ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫২ টাকার অনিয়ম খুঁজে পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধকের অনুমোদন না নিয়ে সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ, অনুমোদনহীনভাবে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণ ও সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা, সম্পদের মূল্য বেশি দেখানো, বাজেটবহির্ভূত এবং অনুমোদনহীন বিভিন্ন ব্যয়ের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করা হয়।

বিশ্লেষক মন্তব্য

সমবায় বিশ্লেষক এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘পুরনো বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কি বর্তমান কমিটি দেখবে নাকি নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সেটি স্পষ্ট নয়। তারা যদি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন নেয়, তাহলে আগের বিনিয়োগকারীরা অর্থ কি ফেরত পাবেন? যদি ফেরত পান, কী উপায়ে পাবেন? এগুলো স্পষ্ট না করে ব্যবসা কাজ শুরু করলে জনমনে সন্দেহের জায়গা তৈরি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ডেসটিনির পরে ইউনি পে টু ইউ এসেও একই কাজ করেছে। প্রায় হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে তারা। এ ছাড়া যুবক নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠানও কয়েক হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা দেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা কেউ এখনও করেনি।

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলে নতুন আইনের আওতায় না নিয়ে এসে কোনোভাবেই এসব ব্যবসাকে অনুমোদন করা উচিত নয়। আগে নিয়ন্ত্রকমূলক জায়গায় নিয়ে তারপর অনুমতি নিতে হবে। না হলে ডেসটিনি আবার নতুন আঙ্গিকে এসে গ্রাহক ঠকাবে।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

করোনায় বন্ধ ৩১১টি গার্মেন্টস

করোনায় বন্ধ ৩১১টি গার্মেন্টস

বিজিএমইএ সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ ৩৯৮টি। আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ১৯০টি। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় ২৮১টি ও চট্টগ্রামে ৩০টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।’

করোনা পরিস্থিতিতে ৩১১টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর বিজিএমইএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে শনিবার বেলা ২টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২ হাজার ৭৩৪টি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ১ হাজার ৯৬৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি আমদানি-রপ্তানিতে নিয়োজিত।

‘চট্টগ্রামে ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধ ৩৯৮টি। আমদানি-রপ্তানি কাজে নিয়োজিত ১৯০টি। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকায় ২৮১টি ও চট্টগ্রামে ৩০টি পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দর কাস্টমস পরিবহনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের ধর্মঘটের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী এটি করছে। আমদানি-রপ্তানির প্রবাহ ঠিক রাখতে এই অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।’

সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্র্যান্ডিং ছাড়া পোশাকশিল্পকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি।’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর ও আনোয়ারা ইকোনমিক জোনে পোশাকশিল্পের কারখানা স্থাপনে স্বল্পমূল্যে ভূমি বরাদ্দ, সহজ ও স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ দেয়া, চট্টগ্রামে কিছু ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন, চট্টগ্রামস্থ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, বস্ত্র অধিদপ্তর, ইপিবি, বিনিয়োগ বোর্ড, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিকে সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতায়ন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

বিজিএমইএর পরিচালক এম এ সালাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দেয়ায় আমরা করোনায় শ্রমিকদের বেতন দিতে পেরেছি। ভিয়েতনাম, ভারতের চেয়ে আমাদের সরকার পোশাকশিল্প নিয়ে অনেক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল হলে তৈরি পোশাকশিল্পে বিপ্লব ঘটাবে।’

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি করতে চাই না। দুর্নীতির শিকারও হতে চাই না। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অটোমেশন চাই। পোশাকশিল্পে লুকানোর মতো কোনও জায়গা নেই। ইজি অব ডুয়িং বিজনেস চাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসিরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সাহাবুদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

রপ্তানির খবরে ইলিশে আগুন

রপ্তানির খবরে ইলিশে আগুন

রপ্তানির খবরে মোকাম ও আড়তে বেড়েছে ইলিশের দাম। ছবি: নিউজবাংলা

মাছ ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা ১ কেজির ওপরের মাছ ১৪০০ টাকায় কিনছেন। তাই আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। গত বছর এ সময় ইলিশের আমদানি ছিল বেশি, দামও ছিল কম। তখন সব শ্রেণির ক্রেতারাই কিনতে পেরেছেন, এবার অনেকেই দাম বেশির কারণে কিনতে পারছেন না।’

ভরা মৌসুমেও বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে দাম। যার প্রভাব পড়েছে পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে। এতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ।

হঠাৎ ইলিশের দাম বৃদ্ধিকে অবশ্য খুলনার কয়েকটি বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা রপ্তানিকে দায়ী করছেন।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ৮০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর ময়লাপোতা সন্ধ্যাবাজারের মাছ বিক্রেতা ফারুক বলেন, ‘এবার ইলিশ গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তারপরে আবার ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লোকজন এসে আড়ত থেকে ইলিশ কিনছে বেশি দামে।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা ১ কেজির ওপরের মাছ ১৪০০ টাকায় কিনছেন। তাই আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। গত বছর এ সময় ইলিশের আমদানি ছিল বেশি, দামও ছিল কম। তখন সব শ্রেণির ক্রেতারাই কিনতে পেরেছেন, এবার অনেকেই দাম বেশির কারণে কিনতে পারছেন না।’

উচ্চমূল্যে মাছ রপ্তানিকে দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানান একই বাজারের আরেক ব্যবসায়ী। তার দাবি, ‘গত বছরের তুলনায় এবার মাছের সরবরাহ পাঁচ ভাগের এক ভাগ। তার ওপর আবার ইলিশ ভারতে যাচ্ছে। তাহলে দেশের মানুষ খাবে কী?’

নগরীর মিস্ত্রিপাড়া বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মোজাম্মেল বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার কারণে ইলিশের দাম এখন বাড়তি। শুক্রবার পাইকারি আড়ত থেকে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের মণ কিনেছি ৫০ হাজার টাকায়। গত বছরের তুলনায় যা অনেক বেশি। দাম শুনে কিনতে চাচ্ছে না বেশির ভাগ ক্রেতা।

‘আড়তে এসে এলসি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে মাছ কিনে নিচ্ছেন। দুই দিন আগেও মাছের দাম কম ছিল। রপ্তানির খবরে বাজার চড়েছে।’

মিস্ত্রিপাড়া বাজারের এক ক্রেতা সজীব বলেন, ‘বাজারে এসেছিলাম ইলিশ কিনতে। কিন্তু দাম শুনে হতাশ হয়েছি। কদিন আগেও ৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ কিনেছি ৪০০ টাকায়। এখন তো সেটাই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি চাচ্ছেন। তাই ইলিশ না কিনে অন্য মাছ কিনলাম।’

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

ইভ্যালির সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় চান তানজীব

ইভ্যালির সুবিধাভোগীর কাছ থেকে টাকা আদায় চান তানজীব

ব্যারিস্টার তানজীব বলেন, ‘পাওনা পরিশোধের একটি উপায় আছে। ইভ্যালিকে দীর্ঘদিন দেশে নানাভাবে প্রমোট করা হয়েছে। সেটি হয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। তাই এ সময়ে যারা ইভ্যালির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সুবিধা নিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করতে হবে, যা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়া যেতে পারে।’

ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের পাওনা হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাবে এখন জমা ৩০ লাখ টাকা।

পাওনা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে গ্রাহক চিন্তিত, সরকার বিব্রত। এমন বাস্তবতায় টাকা উদ্ধারে নতুন ফর্মুলা দিলেন দেশে ব্যবসা নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব–উল-আলম।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে শনিবার আয়োজিত এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে তিনি এ ফর্মুলা দেন।

তানজীব বলেন, ‘পাওনা পরিশোধের একটি উপায় আছে। ইভ্যালিকে দীর্ঘদিন দেশে নানাভাবে প্রমোট করা হয়েছে। সেটি হয়েছে সরকারি-বেসরকারিভাবে। তাই এ সময়ে যারা ইভ্যালির কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নানাভাবে সুবিধা নিয়েছে, তাদের কাছ থেকেই সেই টাকা উদ্ধার করতে হবে, যা গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়া যেতে পারে।

‘কিন্তু কোনোভাবেই গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের দায় সরকারের হতে পারে না। সরকার জনগণের করের টাকা থেকে সে দায় পরিশোধ করতেও পারে না। সেটি সাংবিধানিকও হবে না।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বিডি জবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর, চালডাল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম, শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক, অ্যাসিক্স বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফসানা আসিফ, ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহিদ তমালসহ অনেকে।

ইভ্যালি নিয়ে ব্যারিস্টার তানজীব বলেন, ‘ইভ্যালির লেনদেন হয়েছে অনলাইনে। তাদের কাছ থেকে কারা কত টাকা নিয়েছে সেগুলো নিশ্চয়ই অনলাইন লেনদেনের হিসাবে ডকুমেন্ট রয়ে গেছে। মোটা দাগে আমরা ক্রিকেট বোর্ডে ইভ্যালিকে স্পন্সর হতে দেখেছি। সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাও টাকা নিয়েছে। গণমাধ্যমেও এর বিজ্ঞাপন প্রচার হয়েছে।

‌‘এসব খাতে লেনদেনে অস্বাভাবিকতা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের ডিটেইল তদন্ত করতে হলে সবার আগে ইভ্যালিতে একজন লিক্যুইডিটর নিয়োগ দিতে হবে। সেটি নিয়োগ দিতে পারে একমাত্র আদালত। আদালত সেটি স্বেচ্ছায় করতে পারবে না। পাওনা উদ্ধার প্রক্রিয়ার উপায় হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তরা আদালতে রিট করতে পারেন। তখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।’

তানজীবের দাবি, ‘এ প্রক্রিয়া পাওনাদারদের সব পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দেয় না। লিক্যুইডিটর বসার পর কোনো অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানোর পর কোথায় কোথায় তার টাকার উৎস রয়েছে এবং টাকা কোথায় গেছে সেটি বের হতে পারে।

‌‘এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সব মিলে দেড়-দুই বছর লেগে যেতে পারে। তবে কিছু টাকা আসবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা পুরোপুরি না পাক, কিছু টাকা ফেরত পেতে পারেন।’

নতুন আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ‌না

ওয়েবিনারে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং এ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন, দেশে প্রচলিত বিভিন্ন আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যায়। তাই ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। এখন সরকারের উচিত প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে নজর দেয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া।

ওয়েবিনারের শুরুতে চালডাল ডটকমের সিইও ওয়াসিম আলিম বলেন, ‘আলাদা আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলে ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এ খাত পরিচালনায় আলাদা কোনো সংস্থা নেই।’

বিডি জবসের সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘ই–কমার্সে শৃঙ্খলা আনতে হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর করতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি। প্রয়োজনে তাদের শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু দেশে নতুন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাই না।’

শপআপের চিফ অব স্টাফ জিয়াউল হক বলেন, ই–কমার্সকে যদি নজরদারি করা হয়, তাহলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে না।

তানজীব উল আলম বলেন, ‘যখন সংকট হয়, তখন কাউকে না কাউকে দোষ দেয়া হয়। সাথে বলা হয় আইন নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই। তখন সরকার সেদিকেই নজর দেয়। আমার বক্তব্য হচ্ছে আইন করে যদি প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে সে আইন দিয়ে কী হবে?

‘আমার বক্তব্য স্পষ্ট। প্রচলিত আইনেই ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনার সমাধান রয়েছে। নতুন আইনের দরকার নেই।’

আবদুল ওয়াহিদ বলেন, ‘ই-কমার্স খাতে সৃষ্ট ঘটনায় দায়িত্বশীল বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা প্রতিযোগিতা কমিশন এদের সবারই কিছু না কিছু দায় আছে। কারণ এদের প্রত্যেকের মধ্যেই সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এখন আগের জমানা নেই। যখন যেটা ঘটে, তখন সেটার পুনরাবৃত্তি রোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দিতে হয়।

‌‘দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোকে ঘটনার কার্যকর রেন্সপন্স দেখাতে হয়। ই–কমার্সে যে স্বচ্ছতা নেই, ইভ্যালিসহ অন্যদের বিজনেস মডেল নিয়ে অনেক সমস্যা আছে, এ ধরনের একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে, সরকারকে আমরা তা তিন বছর আগেই বলেছিলাম। কিন্তু তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের নতুন মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেলকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে ধানমন্ডি থানার করা ওই মামলাটিতে রিমান্ড ও জামিন নাকচ করে দেন আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. হাসিবুল হকের আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলাটির শুনানি হয়।

ধানমন্ডি থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামিকে গ্রেপ্তারের আবেদনসহ ৫ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার বিরোধিতা করেন সিএমএম আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন

করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

করোনার ক্ষতি কাটাতে ২ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

করোনা মহামারির ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে এ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে এ অর্থ দেবে এডিবি। টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো মহামারির ক্ষতি যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে ওঠা।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বর্তমান বিনিময়মূল্য হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে এই অর্থ দেবে এডিবি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অবস্থিত সংস্থাটির সদরদপ্তর থেকে শনিবার এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় এডিবি বাংলাদেশকে মোট ৫০ কোটি ডলার ঋণ-সহায়তা দেবে। এর প্রথম কিস্তির ২৫ কোটি ডলার শনিবার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বাকি ২৫ কোটি ডলার আগামী বছরের প্রথম দিকে অনুমোদন করা হবে বলে এডিবি ঢাকা কার্যালয়ের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করেনা মহামারির ক্ষতি দ্রুত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে। টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো মহামারির ক্ষতি যত দ্রুত সম্ভব কাটিয়ে ওঠা। এতে বলা হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র-উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাহলেই টেকসই পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হবে।

এডিবি বলেছে, ‘এই কর্মসূচি এমনভাবে পরিচালিত হবে, যাতে বাংলাদেশের মানুষের ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষমতা বাড়ে। ক্ষুদ্র, কুটির এবং মাঝারি শিল্পখাতে (সিএমএসএমই) করোনার যে ক্ষতি হয়েছে তা দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়।’

সংস্থাটি বলেছে, এ সহায়তা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামো খাতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বেগবান করতে সহায়তা করবে।

এডিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ সহায়তার আওতায় যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে, তা সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যগুলোর সাথেও সম্পর্কিত। সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা করছে, তা পূরণেও সহায়তা করবে।’

এডিবির প্রিন্সিপাল ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট শ্রীনিবাসন জনার্দনম বলেন, ‘এ কর্মসূচি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো খাতে সরকারের ব্যয় বাড়াবে।বিনিয়োগ বাড়াতে অবদান রাখবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ পেতে সহায়তা করবে।’

এডিবি আগামী ৫ বছরে (২০২১-২০২৫) বাংলাদেশকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে। বর্তমান বিনিময় মূল্য হিসাবে টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। গত মঙ্গলবার নতুন এই কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্যাটেজি (সিপিএস) ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে যে ঋণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে তা নতুন সিপিএসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেয়া হচ্ছে।

এ ​নিয়ে এডিবি ঢাকা কার্যালয়ের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর বলেন, গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই এডিবি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন এবং আর্থিক খাতসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এডিবি তার কর্মসূচির অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমন্বয় করেছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের জুনে সামাজিক সুরক্ষার জন্য ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেয় এডিবি। সম্প্রতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কিনতে দেয়া হয় ৯৪ কোটি ডলার। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলার জন্য আরও কয়েকটি প্রকল্পে এডিবি ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
সব দোকানে ভ্যাট মেশিন বসবে কবে
নাসির গ্লাসের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ইলেকট্রনিক বই-জার্নাল আমদানিতে ভ্যাট লাগবে না
ভ্যাট ফাঁকির টাকা জমা দিল পপুলার গ্রুপ
মাসে ১ কোটি টাকা লেনদেন হলেই অনলাইনে ভ্যাট

শেয়ার করুন