× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Insect habitat in educational institutions
google_news print-icon

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোকামাকড়ের ঘরবসতি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে-পোকামাকড়ের-ঘরবসতি
ধুলার আস্তরণ পড়েছে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে। ছবি: নিউজবাংলা
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলে, ‘আমাদের ক্লাসরুমে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। রুমের অবস্থা দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। বন্ধ চলার সময় কখনোই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়নি। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠান খুললে কীভাবে আমরা ক্লাস করব?’

দেয়াল মাকড়সার জাল দিয়ে ভর্তি। বেঞ্চগুলো এলোমেলো করে রাখা। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে কয়েকটি বই। ধুলোর আস্তরণে ভরা শ্রেণিকক্ষে বাসা বেঁধেছে পোকামাকড়। দেখে মনে হয় এখানে কখনও মানুষ প্রবেশ করেনি।

মঙ্গলবার এমন দৃশ্য দেখা গেল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কক্ষে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

একই চিত্র দেখা গেছে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। এই বিদ্যালয়ের মাঠে আগাছা, পচে যাওয়া পাতা, গাছের ডালসহ ময়লা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির কক্ষ অগোছালো বেঞ্চ, পাতা আর ধুলার দখলে। প্রতিষ্ঠানের ওয়াশবক্লের চিত্র আরও ভয়াবহ। ল্যাট্রিন, বেসিন সবকিছুই অপরিষ্কার হয়ে রয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা। কক্ষের দরজার তালায় মরিচা ধরেছে।

বিদ্যালয়টির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আপেল বলে, ‘ক্লাসরুমে বৃষ্টির পানি পড়ে বেঞ্চ, মেঝে নষ্ট হয়ে গেছে। অবহেলায় পড়ে আছে সবকিছু। এমন অবস্থায় স্কুল খুললে ক্লাস করা সম্ভব নয়।’

হলোখানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলে, ‘আমাদের ক্লাসরুমে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। রুমের অবস্থা দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। বন্ধ চলার সময় কখনোই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়নি। এই অবস্থায় প্রতিষ্ঠান খুললে কীভাবে আমরা ক্লাস করব?’

পাইকেড়ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, ‘সরকার তো স্কুলের জন্য ঠিকই বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এই বন্ধের সময় বরাদ্দের টাকা কোথায় খরচ করল আমরা স্থানীয় মানুষ চোখে দেখি নাই। ঠিকমতো খরচ করলে স্কুলে ধুলাবালি জমত না।’

হলোখানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা রজব আলী বলেন, ‘স্কুল খুললেও এখানে ক্লাস করার কোনো পরিবেশ নেই। এই বন্ধের সময় কোনো শিক্ষক বা কমিটির লোকজন স্কুলের কোনো খবরই রাখেনি।’

একই এলাকার মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষকদের কাছে শিখবে সন্তানরা। অথচ স্কুলের জানালা দিয়ে দেখেন বিদ্যালয়ের বইগুলো কি নোংরা পরিবেশে রেখেছে। এমন অবস্থা যদি বিদ্যালয়ে হয় তাহলে সন্তানরা মানুষ হবে কীভাবে?’

চেরেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা শিল্পী রাণী বলেন, ‘স্কুল খুললে বাচ্চাদের জন্য সুবিধা। সরকারের স্কুল খোলার সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। কিন্তু স্কুলের ক্লাসরুম ও বাথরুমের যে অবস্থা তাতে করে বাচ্চারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। স্কুল খোলার আগে সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হোক।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোকামাকড়ের ঘরবসতি
বেসিনেও জমেছে ধুলার আস্তরণ

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত স্কুলে আসি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এরপরেও বিদ্যালয় খোলার আগে আমরা সব স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলব।’

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ১ হাজার ২৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বিদ্যালয় সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। এ জন্য পরিদর্শন কর্মকর্তা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন।

‘এ বিষয়ে শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে। এরপরেও যদি কোনো বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে সেটি তদন্তসাপেক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কুড়িগ্রামে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৭৪টি। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক ৮৯টি, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০টি, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫৪টি এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২১টি। এ ছাড়া মাদ্রাসা ২২২টি, কলেজ ৬১টির মধ্যে সরকারি ১০টি এবং বেসরকারি ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামছুল আলম বলেন, ‘সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় খোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই বিদ্যালয় খোলার এক সপ্তাহ আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হবে। সবকিছু পাঠদান উপযোগী করে তোলা হবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোকামাকড়ের ঘরবসতি
বিদ্যালয়ের কক্ষে পড়ে আছে বইপত্র

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এদিন থেকেই শ্রেণিকক্ষে শুরু হবে পাঠদান।

খোলার আগে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদান উপযোগী আছে কি না তা যাছাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংবিষয়ক সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই তাগিদ দিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী বিশেষ করে শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মনোচিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

আর শিক্ষামন্ত্রী বলে আসছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি তাদের আছে। করোনা পরিস্থিতি আর একটু নিয়ন্ত্রণে এলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ততই বাড়বে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন:
স্কুল ধোয়ামোছার খরচ নিয়ে শিক্ষক‌দের দু‌শ্চিন্তা
স্কুল-কলেজে ক্লাস হবে যে রুটিনে
পাঠদানে প্রস্তুত ময়মনসিংহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত হচ্ছে ক্লাস রুম
প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Students agitation should be stopped Home Minister

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ছবি: নিউজবাংলা
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ছাত্র ভাইদের কিছু বলার থাকলে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ না করে আদালতে এসে বলতে পারেন। রাস্তাঘাট বন্ধ করলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, হাসপাতালগামী রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। সেই সাধারণ মানুষের যে কী অভিব্যক্তি তা ছাত্রদের শোনা উচিত।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ছাত্রদের একটু অপেক্ষা করা উচিত, আন্দোলন থামানো উচিত।’

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ‘মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ: ময়মনসিংহ জেলা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র ভাইদের কিছু বলার থাকলে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ না করে আদালতে এসে বলতে পারেন। রাস্তাঘাট বন্ধ করলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, হাসপাতালগামী রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে। সেই সাধারণ মানুষের যে কী অভিব্যক্তি তা ছাত্রদের শোনা উচিত।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘পৃথিবীর সব জায়গায় কিন্তু কোটা রয়েছে। সব দেশেই কিছু অনগ্রসর জায়গা থাকে, যেমন আমাদের ক্ষুদ্র জাতি-গোষ্ঠীর জন্য কোটা রয়েছে এবং সংবিধানেও সেটি বলা আছে। এটি বাতিল করে দিলে এরা কোনো দিন সমাজের মূল স্রোতে আসতে পারবে না। আমরা মনে করছি, সবাই যেন একসঙ্গে চলতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী কোটা উঠিয়ে দিয়েছিলেন। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার বিভাগ থেকে বার্তা এসেছে, কোটা আবার চালু হবে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন আমাদের ছাত্ররা।

‘প্রধান বিচারপতি কিন্তু স্পষ্ট করে নির্দেশনা দিয়েছেন, আদালত যে রায়টি দিয়েছিলেন সেটি স্থগিত করা হয়েছে এবং ছাত্রদেরও বলেছেন, তারা যেন উচ্চ আদালতে যেখানে বিচারটি চলছে, সেখানে গিয়ে তাদের কথা বলেন। তারা বললে সে অনুযায়ী বিচারপতিদের বিচার করতে সুবিধা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার সময় যখন সন্তান বাবা-মায়ের কাছে যায়নি, তখন পুলিশ গেছে। এখানের পুলিশ সবার হৃদয় জয় করেছে। পুলিশ শুধু জনগণকে ভালোবাসে না, দেশের ইতিহাসকেও রক্ষা করে। নির্বাচনে পুলিশের কোনো পক্ষপাতিত্ব ছিল না। তার উদাহরণ বর্তমান আইজিপির ভাই নৌকা নিয়ে দাঁড়ালেও পরাজিত হয়েছেন। পুলিশ বাহিনী সব নির্বাচনে সঠিক দায়িত্ব পালন করেছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শাহ আবিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শরীফ আহমেদ এমপি, মোহাম্মদ মোহিত উর রহমান এমপি, মাহমুদুল হক এমপি, নজরুল ইসলাম এমপি, আবদুল মালেক সরকার এমপি, এ বি এম আনিছুজ্জামান এমপি, মাহমুদ হাসান এমপি, ফাহ্‌মী গোলন্দাজ এমপি, আবদুল ওয়াহেদ এমপি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমদাদুল হক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউসুফ খান পাঠান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এহতেশামুল আলম, ময়মনসিংহ চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি আমিনুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদ প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে এসে জেলা পুলিশের ১১টি প্রকল্প এবং জেলা পুলিশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
জানমালের অনিশ্চয়তা দেখা দিলে পুলিশ বসে থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর হবে না পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে পাল্টা গুলি চালাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতি জেলায় হবে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র
এমপি আনার চোরাচালানে জড়িত ছিলেন তা বলিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
50 year old shop is being swallowed by the river

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’ মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারে পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: নিউজবাংলা
দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

‘বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আইতাছি এই দোকানেই। চোখের সামনেই ৫০ বছরের সেই দোকান নদী গিলে খাইছে। এহন কই যামু এই বয়সে? কী কইর‌্যা খামু? পেটও তো বাঁচাইতে অইব।’

পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে নিজের দোকানঘর হারিয়ে এসব কথা বলেই আক্ষেপ করছিলেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডল (৭৫)।

তার ভাষ্য, কিশোর বয়সেই বাবার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ দশক ধরে বাবার রেখে যাওয়া দোকানে লোহার সঙ্গে হাতুড়ি পেটার কাজ করে আসছেন।

নদীর দুই দিনের ভাঙনে দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডলের মতোই পাঁচজন কামার দোকানঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন শুরু হয়। শুক্রবারও ভাঙন অব্যাহত ছিল। এ দুই দিনে ভাঙনের কবলে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ওই বাজারের পুরোটই এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙনের মুখে বাজারের কামারপট্টির সাতটি দোকানঘর, দুটি পাটের আড়ত, দুটি সারের দোকান ও চারটি মুদি দোকানঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েন কামার গৌতম মন্ডল, দিলীপ মন্ডল, অনীল মন্ডল, সুনীল মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, উত্তম মন্ডল ও কালু মন্ডল। এ ছাড়া ভাঙনে অলি বেপারী ও আলমাছ বেপারীর পাটের আড়ত এবং নজির হালদারের দুটি সারের দোকান বিলীন হয়েছে। দোকান হারিয়েছেন আরও চার মুদি দোকানি।

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে চলমান স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলার কারণেই এ ভাঙনের কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ বাজারের দোকানিদের।

তারা জানান, আড়াই যুগ ধরেই পদ্মা ও পদ্মার শাখা নদীতে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন চলে আসছে। এতে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় বছর দুয়েক আগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া থেকে টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজার পর্যন্ত পদ্মা তীরে ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কয়েকটি ভাগে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে।

দীঘিরপাড় বাজার ঘেষে বাঁধ নির্মাণ করছে সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলে ও ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির।

দীঘিরপাড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাইজুদ্দিন বেপারী বলেন, ‘বর্ষা এলেই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টুকিটাকি করে বাঁধ নির্মাণ কাজ করে আসছে। আমরা এক মাসে আগেও অনুরোধ করেছি ব্লক ফেলে এখানে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য।

‘আমাদের কথা কর্ণপাতই করেনি। আজকের মধ্যে যদি জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হয়, তাতেও বাজারটি রক্ষা পাবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত আমাদের কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। কাজেই যথাসময়েই বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক বরাদ্ধ দিতে না পারার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানো হয়েছে, তবে বর্তমানে আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটিকে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ট্রলারে রাখা আছে। তীব্র স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে
শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার
আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু
৭২ ঘণ্টায় পানি বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চল, সিলেটের বিভিন্ন নদীর
মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
ICU in district hospitals soon Health Minister

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শিগগিরই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। ছবি: নিউজবাংলা
মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।’

জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও কার্ডিওলজি ইউনিট স্থাপন শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন‌।

নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের দীঘলডাঙ্গি গ্রামে শনিবার সকালে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জমি অধিগ্রহণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করা হবে। সারা দেশের ৫০ শয্যা হাসপাতালগুলো ক্রমান্বয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।

‘২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল পদায়ন এবং নতুন ভবনের আসবাবপত্রের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খুব পছন্দের। আমি আশা করি এই কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করবে। আমরা সিজারিয়ান সেকশন কমানোর জন্য চেষ্টা করছি।

‘আর কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ক্লিনিকগুলোকে যদি আমরা আরও সচল করতে পারি, তাহলে অনেক রোগ কমিউনিটি ক্লিনিকই মনিটর করতে পারবে। তাই কমিউনিটি ক্লিনিকে আপনারা আসবেন এবং সবসময় যোগাযোগ রাখবেন।’

উদ্বোধন শেষে সঞ্জীব-মালতী কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সেখানে নিজের ব্লাড প্রেশার চেক করান মন্ত্রী। পরে ক্লিনিক প্রাঙ্গণে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আরও এক সপ্তাহ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত আসছে
চিকিৎসকের ওপর হামলা বা চিকিৎসায় অবহেলা কোনোটাই মেনে নেব না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘পশুপাখির মধ্যেও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিস্তার লাভ করেছে’
ঈদের দিন আকস্মিক তিন হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে দুই হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Son arrested in case of hacking mother to death in Pirojpur

পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার

পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে গ্রেপ্তার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর থেকে শুক্রবার যতীশ বালাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের এসপি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিরপুর উপজেলার উত্তর জয়পুর এলাকায় জ্যোতিকা বালা নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের বড় ছেলে যতীশ বালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর থেকে শুক্রবার যতীশ বালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল ইসলাম গতকাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান।

কোপে প্রাণ হারানো জ্যোতিকা বালা (৫০) নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের নারায়ণ বালার স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের এসপি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিরপুর উপজেলার উত্তর জয়পুর এলাকায় জ্যোতিকা বালা নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নিহতের বড় ছেলে যতীশ বালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুলিশের কাছে মাকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।

যতীশের বরাত দিয়ে এসপি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক নানা সংকট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে তার মায়ের ওপর ক্ষোভ ছিল। তাই পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।

এসপি আরও জানান, কোপে জ্যোতি নিহতের ঘটনায় তার স্বামী নারায়ণ বালা বাদী হয়ে নাজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
বাড়ির সামনে পড়ে ছিল বৃদ্ধের গলা কাটা মরদেহ
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
ভৈরবে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড
আত্মহত্যার চিরকুট লিখে আত্মগোপনে
‘কাঠের চেলার আঘাতে’ বাবা নিহত, ছেলে আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Father arrested for life sentence for daughters murder

মেয়ে হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাবা গ্রেপ্তার

মেয়ে হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাবা গ্রেপ্তার কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শ্রীমঙ্গল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে আসামি ছমিরকে গ্রেপ্তার করে। ছবি: নিউজবাংলা
ছমিরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বিপিএম, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় চলমান বিশেষ অভিযানে শুক্রবার রাতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছমির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নিজ মেয়েকে হত্যার ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

কমলগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শ্রীমঙ্গল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ছমির মিয়ার বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে।

রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০১১ সালে স্ত্রীর সঙ্গে রাগ করে নিজের তিন বছরের মেয়ে ফাহিমাকে বাড়ির পাশে ধলাই নদীতে ফেলে হত্যা করেন ছমির। সে সময় শিশুর মা রুবি বেগম বাদী হয়ে তার স্বামীর নামে কমলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

শিশু হত্যার এ ঘটনায় দীর্ঘ এক যুগ পর আদালত ছমির মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়।

ছমিরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান বিপিএম, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় চলমান বিশেষ অভিযানে শুক্রবার রাতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছমির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে শনিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাড়ির সামনে পড়ে ছিল বৃদ্ধের গলা কাটা মরদেহ
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
ভৈরবে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড
আত্মহত্যার চিরকুট লিখে আত্মগোপনে
‘কাঠের চেলার আঘাতে’ বাবা নিহত, ছেলে আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The water of Yamuna is increasing again and new areas are drowning

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফুলে-ফেঁপে উঠছে যমুনা নদী। ছবি: নিউজবাংলা
যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে যমুনা।

মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ অভ্যন্তর্রীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে।

অপরদিকে কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা।

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

দুদিন পানি কমার পর আবারও যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। জেলার নদীপারের চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষের পাশাপাশি গো-খাদ্য নিয়ে সংকটে পড়েছে মানুষ।

বন্যায় গবাদিপশুর চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু। বন্যাদুর্গতরা নিজেদের চেয়ে গবাদি পশুর খাদ্য সংকটে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জেলার দুটি পয়েন্টে আবারও পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দুটি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ মৌসুমে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবুল কুমার সূত্রধর বলেন, ‘ইতোমধ্যে বানের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে জেলার চার হাজার ৬৩০ হেক্টর ফসলি জমি। এসব জমির পাট, তিল, কলা ও মরিচের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখনও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি।’

ফের বাড়ছে যমুনার পানি, ডুবছে নতুন নতুন এলাকা

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ৩৬২টি পরিবারের এক লাখ তিন হাজার ৮৩৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতোমধ্যে ১৩৩ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৪৪০ টন চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
যমুনার ভাঙন থামছে না, ৮ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে
যমুনায় একদিনে পানি বেড়েছে ৩৩ সেন্টিমিটার
বৃষ্টির পানিতে ডুবে রাজধানীতে শিশু নিহত
বন্যায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় যমুনা পাড়ের কৃষকরা
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Children of BNP Jamaat have entered the field in the name of quota reform
সিলেটে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নিখিল

কোটা সংস্কারের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্তানেরা মাঠে নেমেছে

কোটা সংস্কারের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্তানেরা মাঠে নেমেছে শুক্রবার সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ছবি: নিউজবাংলা
যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে জামায়াত-বিএনপি। কোটা সংস্কারের নামে নিজেদের সন্তান মাঠে নামিয়েছে তারা। এতদিন দলের ব্যানারে আন্দোলন করে সফল হতে পারেনি। এবার তারা কোটা সংস্কারের নাম নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।’

আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি বলেছেন, ‘নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে জামায়াত-বিএনপি। কোটা সংস্কারের নামে তাদের সন্তান মাঠে নামিয়েছে তারা। এতদিন দলের ব্যানারে আন্দোলন করে সফল হতে পারেনি। এবার তারা কোটা সংস্কারের নাম নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।’

শুক্রবার দুপুরে সিলেটে বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণকালে তিনি এসব বলেন।

নিখিল বলেন, ‘যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ আওয়ামী পরিবারের নেতাকর্মীরা যখন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তখন দেশবিরোধী চক্র জামায়াত-বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ৩১ কোটি টাকার বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করে। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘যুবলীগ এলিট শ্রেণির সংগঠন নয়। এটি শ্রমিক ও মেহনতি মেধাবী যুবকদের সাংগঠনিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রাজনৈতিক সংগঠন। শিক্ষিত ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে গঠিত যুবসংগঠন। এখানে কোনো অনুপ্রবেশকারী, দুষ্কৃতকারী, দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবাজদের ঠাঁই নেই।’

সিলেট মহানগর যুবলীগের উদ্যোগে শুক্রবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে, জেলা যুবলীগের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজারে ও বিকেল ৪টায় ওসমানীনগরে বন্যাদুর্গত ক্ষতিগ্রস্ত গরিব-দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট মহানগর যুবলীগ একটি সুশৃঙ্খল যুব সংগঠন। আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নেতৃত্বে যুবলীগ আজ মানবিক যুবলীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

সিলেট জেলা যুবলীগ সভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ভিপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আহমদ।

আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম জোয়ার্দার সৈকত, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. রেজাউল কবির, যুবলীগ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুকিত চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস উদ্দিন আজম, ইঞ্জিনিয়ার মো. মুক্তার হোসেন চৌধুরী কামাল, ড. বিমান বড়ুয়া, নুরুল ইসলাম নুর মিয়া, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সাধারণ সম্পাদক মুসফিক জায়গীরদার, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কাফনের কাপড়ের সঙ্গে হত্যার হুমকির চিরকুট, অভিযোগ যুবলীগ নেতার
কুমিল্লায় যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, ধারণা পুলিশের
স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে জিয়ার ‘মুখোশ উন্মোচন’ করতে হবে: শেখ পরশ
ছাত্রদল নেতা হত্যায় কুমিল্লায় ১৪ জনের যাবজ্জীবন
যুবলীগ নেতাকে মারধরের মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান জেলে

মন্তব্য

p
উপরে