১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর

রামপাল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৮.৮৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৯.২০ শতাংশ। ছবি:নিউজবাংলা

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে। অর্থায়ন একটি বড় সমস্যা। এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যায়।

সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি মেগা প্রকল্পের তিনটির অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও বাকি সাতটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক পিছিয়ে। যে তিন প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো, সেগুলো হচ্ছে পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর ও ঢাকা মেট্রোরেল-৬।

বিপুল ব্যয়ের এসব অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের বিশেষ মনোযোগ থাকায় এগুলোকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রকল্প বলা হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে পদ্মা সেতু। এটি প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। অন্য দুটির অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ এবং ৭২ শতাংশ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সবশেষ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

টেকসই প্রবৃদ্ধি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন করলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করে থাকে।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকে। অর্থায়ন একটি বড় সমস্যা। এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যায়।

যোগাযোগ করা হলে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্‌ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে। একটি প্রকল্পের কাজ যখন থেমে যায়, তখন পুনরায় চালু হতে সময় লাগে।’

ড. জায়েদ বখ্‌ত জানান, বেশির ভাগ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে বিদেশি অর্থায়নে। তাদের অর্থছাড়ে নানা শর্ত ও জটিলতা থাকে। এতে করে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে আইএমইডি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু অবকাঠামো পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ।

গত ডিসেম্বরে ৪১তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এর পর জুলাই মাসের শেষে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সড়কপথের মাধ্যমে নদীর উভয় পাশ সংযোগকারী সব রোড স্ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ করে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।

আগামী বছরের জুনে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসনের জন্য বাকি কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯০ কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর কাজ ২০১৪ সালের নভেম্বরে শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বন্দরটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের জুনের মধ্যে।

এই বন্দরের কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। দেশ সমৃদ্ধ হবে অর্থনৈতিকভাবে।

ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প বা মেট্রোরেল-৬-এর বাস্তবায়নের হার ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর ৭৬ শতাংশ অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকারের।

১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর
মেট্রোরেল-৬-এর বাস্তবায়নের হার ৭১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক যাত্রা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট উত্তরা থেকে পল্লবী পর্যন্ত পরীক্ষামূলক যাত্রার মধ্য দিয়ে মেট্রোরেল যুগে প্রবেশের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেল উদ্বোধনের কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে।

এ ছাড়া আরেকটি মেগা প্রকল্প মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, যা রামপাল পাওয়ার প্লান্ট নামে পরিচিত। কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চুক্তি সই করে ২০১০ সালে।

প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ২০ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৭১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় বাগেরহাটের রামপালে একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের অবকাঠামো কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বয়লার, চিমনি, পাওয়ার হাউস, জেটি ইত্যাদির নির্মাণকাজ চলছে।

কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের আরেকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। জাইকার অর্থায়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প।

প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পাকশি ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখন পর্যন্ত অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প এটি। এ প্রকল্পের আওতায় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। প্রতি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

রাশিয়ার রোসাটাম করপোরেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

সরকার চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে প্রকল্পটির জন্য ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

চলতি বছরের মার্চে প্রকল্পটি পরিদর্শন করার পর আইএমইডি সরকারের অংশের ব্যয় ত্বরান্বিত করার সুপারিশ করেছে এবং এর বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা এবং ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়নে আরও কৌশলী ও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইনের কাজে জুলাই পর্যন্ত ৩২ দশমিক ২২ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি এবং ৬১ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। আইএমইডি ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ভেতর দিয়ে রেলও চলবে। এ জন্য ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু চালুর সঙ্গে একই দিনে এর ওপর ট্রেন চলার কথা মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত। কিন্তু এটির আর্থিক অগ্রগতি ৪৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ।

১০ দ্রুতগতির মেগা প্রকল্পের ৭টিরই গতি ধীর
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ছবি: নিউজবাংলা

এ ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১-এর ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকার প্রকল্প ১ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

হেমায়েতপুর থেকে রাজধানীর ভাটারা পর্যন্ত চলা ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার এমআরটি-৫ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এমআরটি-৪ প্রকল্প জুলাই পর্যন্ত ৭১ দশমিক ৩৩ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি করেছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত সেখানে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য ৫১ হাজার ৩২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য টাকা ছাড়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে বাজেটে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারি সত্ত্বেও চীনা ও স্থানীয় শ্রমিকরা এ প্রকল্পে পুরোদমে কাজ করছেন। প্রতিবেদনে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়েকে মাসভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

সদরঘাট থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

চট্টগ্রামে নালা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকা থেকে রোববার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় জানা যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। পরনে শুধু লুঙ্গি ছিল।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন সকালে নালায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ওই এলাকার কেউ তার পরিচয় জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয়রা তাকে সারা দিন খালি গায়ে এলাকায় ঘুরতে দেখতেন। তাদের ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে বনভূমির লিজ বাতিল দাবিতে আন্দোলন

কক্সবাজারে বনভূমির লিজ বাতিল দাবিতে আন্দোলন

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বাপা কক্সবাজারের সভাপতি বলেন, ‘কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

কক্সবাজারের কলাতলীর দরিয়া নগরের শুকনাছড়ির ৭০০ একর বনভূমিতে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পরিবেশবাদীরা।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরসহ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুকনাছড়িতে মুখে কালো পতাকা বেঁধে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী।

মানবপ্রাচীর কর্মসূচি শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপা কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী।

বক্তব্য দেন বাপা কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে এরই মধ্যে হাতিসহ পশুপাখির বিশাল আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে হাতি।

‘নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

কক্সবাজারে বনভূমির লিজ বাতিল দাবিতে আন্দোলন
মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন শুকনাছড়ির রক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘বিপন্ন এশীয় বন্যহাতিসহ দেশের অনেক বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বসতি কক্সবাজারের এই বনভূমি। এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্টত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এডমিন একাডেমির নামে দেয়া বন্দোবস্ত শিগগিরই বাতিল করতে হবে।’

সমাবেশে বলা হয়, ১৯৯০ সালে জারি করা ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় ও পাহাড়ের ঢাল বন্দোবস্তযোগ্য নয়। ওই জমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করবে বনবিভাগ। বন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের রক্ষিত বনে কোন ধরনের স্থাপনা করা নিষিদ্ধ।

কলিম উল্লাহ আরও বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ সংরক্ষিত এ বনভূমিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খাসজমি হিসেবে দেখিয়েছে। ঝিলংজা মৌজার এ বনভূমি যে খাসজমি নয়, তা সরকারি নথি ও রেকর্ডেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ছাড়া যেকোন জমি কাউকে দিতে হলে তা আগে অধিগ্রহণ করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭০০ একর জমি মাত্র এক লাখ টাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কাজে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

বাপা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা যথেচ্ছভাবে ক্ষমতা, সরকারি অর্থ ও সম্পদের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন নতুন পথ নির্মাণ করছেন। কক্সবাজারে নতুন প্রশাসন একাডেমি এমন আরেকটি উদ্যোগ।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা সভাপতি ওমর ফয়েজ হৃদয়, বাপা নেতা সমীর পাল, জসিম উদ্দিন, ঈসমাইল সাজ্জাদ, এম ওসমান আলী, আজিম নিহাদ, মোহাম্মদ হোসাইন, দোলন ধর, পারভেজ মোশাররফ, শহিদুল ইসলাম শাহেদসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

রোববার জবিতে ছয়টি পাণ্ডুলিপির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

ছয়টি পাণ্ডুলিপি প্রকাশে লেখকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি লেখকদের এই চুক্তি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

স্বাক্ষরিত ছয়টি পান্ডুলিপি হলো সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিপ্রা সরকার রচিত ‘বাংলাদেশের একটি গ্রাম: জাতিবর্ণ ব্যবস্থা’, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দিন রচিত ‘Taxation in Bangladesh’।

এছাড়া অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. শামীম আরা রচিত ‘মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কবিতা: বিষয় বৈচিত্র ও শিল্পরূপ’, সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী এফ এম রেজোয়ান রচিত ‘রাগ-সন্দর্শন’ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস রচিত ‘সাব- অল্টার্ন তত্ত্ব: উদ্ভব, বিকাশ ও প্রভাব’।

পাণ্ডুলিপি লেখকদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটু মূল্যায়ন’ বইটি সম্পর্কে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামীমা বেগম।

এছাড়াও জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের প্রধান ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা অধ্যাপক পরিমল বালা, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ফেরাতে রেডক্রসকে সক্রিয় হতে বলল বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরা। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য কাজ করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেডক্রসকে (আইসিআরসি) আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন রোববার নিউ ইয়র্কে রেডক্রসের সভাপতি পিটার মাউরার সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউ ইয়র্কের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য সঠিক উপায় বের করতে হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইন রাজ্যে আইসিআরসিকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। যেন সেখানে রোহিঙ্গাদের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

‘রোহিঙ্গারা যেন মর্যাদার সঙ্গে স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, আইসিআরসিকে সে জন্য একটি টেকসই উপায়ে কাজ করতে হবে।’

আইসিআরসির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

এর আগে ৪ মিনিটের ভিডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের তোপের মুখে আছেন মেয়র। তিনি সে ভিডিওটিকে কারসাজি বলেছেন। তবে এবার ৫০ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, তাতে তার এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।

৪ মিনিটের একটি ঘরোয়া আলোচনার ভিডিও ফাঁসের পর বেকায়দায় পড়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এবার ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৪ মিনিটের ভিডিওটি এই ৫০ মিনিটের ভিডিও থেকেই কেটে ফেসবুকে ছাড়া হয়। তাতে মুক্তিযুদ্ধের শহিদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য থাকার অভিযোগ তুলে মেয়রের শাস্তির দাবিতে গত বুধবার থেকে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওতে গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে।

সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। বুধবার রাতে দেশে ফিরে এক ভিডিওবার্তায় তিনি ভিডিওটিকে বানোয়াট বলে দাবি করেন। পরে শুক্রবার এক সমাবেশে তিনি ‘চক্রান্তকারীদের’ মুখোশ উন্মোচনের ঘোষণা দেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিরোধীরা সমাবেশ ডাকলে নিজের শক্তি দেখান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

তবে মেয়রবিরোধী বিক্ষোভ থামছে না আর এর অংশ হিসেবে শনিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ৫০ মিনিটের পুরো রেকর্ডটি। এই রেকর্ডে আগের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন কিছু কথা মেয়রবিরোধী সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

মেয়র জাহাঙ্গীর এই ভিডিওটিকেও বানোয়াট বলে চাপ এড়াতে চাইছেন।

যা আছে ৫০ মিনিটের নতুন ভিডিওতে

ভিডিওটির ২৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন মেয়র। ২৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের দিকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায় জাহাঙ্গীরকে।

২৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সেই ব্যক্তি মেয়রকে বলেন, ‘আপনি আগুনকে (আজমত উল্লাহ খান) পানি বানাইয়া ফেলছেন। কীভাবে করলেন?

তখন মেয়র আজমত উল্লাহ খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

৩২ মিনিটের সময় মেয়র বলেন, তিনি ৭০০ কিলোমিটার সড়ক করেছেন, ড্রেন ও এলইডি লাইট লাগিয়েছেন।

ভিডিওর ৩৩ মিনিটে মেয়র সেদিনকার তারিখ ও সময় বলেন। ভিডিওটি যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ধারণ করা হয় সেটি এখানে স্পষ্ট বোঝা যায়।

৩৩ মিনিটের দিকে প্রতিমন্ত্রী রাসেলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর।

৩৪ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলর মামুন মন্ডলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। মামুন পৃথিবিতে সবচেয়ে অসুখি মানুষ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সে যে কোনো সময় মানুষের দ্বারা বা দুর্ঘটনায় মারা যাবে।’

মামুন মণ্ডল নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়রবিরোধী সাম্প্রতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘তার কাউন্সিলর পদ আমি ৫ মিনিটে ডইলা দিতে পারি। এমনকি ভিডিওর ১৭ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলরের জন্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলম যার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি নাম প্রকাশ করবেন না।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
মেয়রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

তার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর কার্যত তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বলেন, ‘আমাকে প্রত্যেকদিন মাইরা ফেলানো উচিত, আমাকে মাইরা ফেলা দরকার, অথবা আমাকে অন্য মানুষ মাইরা ফালাইব। আমি মারা যাব। হেয় কি ভাড়াটিয়া খুনি নিয়োগ করছে কি না যে খুনিরা আমারে মারব সে নিশ্চিত জানে। আল্লাহতাআলা ভবিষ্যৎ জানে। সে তো জানার কথা না। তিনি কি ভবিষ্যৎ জানার জন্য আবার নতুন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করছে কি না?’

মামুন বলেন, ‘কথা পরিষ্কার, আমার কিছু হলে দায়ভার তার নিতে হবে। আমি বহু আগেই তার (মেয়র) বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় জিডি করে রাখছি।’

জাহাঙ্গীর যা বলছেন

৫০ মিনিটের এই ভিডিওটির ব্যাপারে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন ভিডিওটি শুনিনাই। এগুলা কারা করতেছে, কী করতেছে আমি তো জানি না৷

‘অনেকের মেয়র হওয়ার খায়েশ, তারা এগুলো করতেছে হয়ত। তবে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের বলেছি জিনিসটা বাহির করুক।’

ভিডিওতে কণ্ঠে পুরোপুরি মিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘অনেকে দেখা যায় কণ্ঠ মিলাইয়া ফেলে। হুবহু শব্দ দেখা যায় মিলায়। এগুলো যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা এটা যাচাই-বাছাই করুক।’

ভিডিওটিতে মেয়র যার সঙ্গে কথা বলছেন, তিনি গাছা এলাকার এক তাঁতী লীগ নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘আমি কনফার্ম না হয়ে কিছু বলতে পারছি না। আমি আরেকজনের যে বলব তার কিনা সেটাও জানি না। আমার নির্বাচনকে ধরে আমার পার্টির সেক্রেটারি ও মেয়র হওয়া নিয়ে তারা এটা সবসময় করে। আজকে এটা নতুন না।‘

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার ঢাকা-গাজীপুর রেল চলাচল বন্ধ ছিল বেশ কিছু সময়। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমার জানা মতে তিনি ৩০-৩৫টি মামলার আসামি। আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মীর হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। তার সঙ্গে আমার তেমন একটা কথা হয় না।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অনুসারীরাও বিক্ষোভ করেছেন, এই বিষয়টি তুলে ধরলে মেয়র বলেন, ‘উনি সবাইকে ফোন করে আসতে বলছেন বলে আমি জেনেছি। বাকিটা উনারাই জানে, আমি সঠিকটা জানি না।’

বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানাবেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। দলের সভাপতিও (শেখ হাসিনা) দেশের বাহিরে। এখন বিষয়টি কেন্দ্রে জানানোর জন্য প্রস্তুত আছি। সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাব।’

শেয়ার করুন

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

করোনায় দেশের পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবার নতুন কৌশল অবলম্বণের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটক টানতে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২১’ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার পর পর্যটন আকর্ষণে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা, পর্যটনকে নিয়ে একটা প্ল্যানড ওয়েতে অগ্রসর হওয়া।

‘করোনা শুরুর আগে আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে তা বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে। মাস্টার প্ল্যান শেষ হওয়ার পরই আমরা কাজে হাত দেব।’

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যটন দিবসে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে আলোচনা ও পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে কুকিং শো অনুষ্ঠিত হবে। একটি ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রা পর্যটন ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিভ্রমণ করে পর্যটন বিষয়ক প্রচারণা চালাবে। ২০টি সুসজ্জিত রিকশার একটি শোভাযাত্রা হবে রাজধানীর গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায়। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।

এ ছাড়া ২ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর একটি পর্যটন। বর্তমানে দেশে করোনার সংক্রমণ কমার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পট গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ কারণে পর্যটন সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এ শিল্পেও গতি ফিরছে।’

প্রস্তুতি সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আ. হান্নান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. কাইয়ুম ও হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করোনায় পর্যটন খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণের জটিলতার বিষয়ে এক প্রশ্নের পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যটন শিল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন খাত, উপখাতে ভাগ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে এটা দ্রুত দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব সহসাই এটা প্রদান করা হবে।’

শেয়ার করুন

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশ চালু থাকবে।

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার টি-টোয়েন্টিফোর (আর-টেন) থেকে (আর-নাইনটিন) আপগ্রেডেশনের কারণে এটি হবে বলে রোববার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন বা কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশও চালু থাকবে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের ফলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তৃতীয় প্রজন্মের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেশব্যাপী ১৫০টি শাখা ও ১৯টি উপশাখা রয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি শাখায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকের ১৮৭টি এটিএম বুথ, ২০টি সিডিএম এবং ১২৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।

শেয়ার করুন