× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In school college classes that will be routine
google_news print-icon

স্কুল-কলেজে ক্লাস হবে যে রুটিনে

স্কুল-কলেজে-ক্লাস-হবে-যে-রুটিনে
প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফিরতে যাচ্ছে এমন আমেজ। ছবি: ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা একটি গাইডলাইন মূলক মৌলিক ক্লাস রুটিন তৈরি করছি। সেটি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুটিন ও ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। খুব শিগগিরই তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’

প্রায় ১৭ মাস পর খুলতে যাওয়া স্কুল-কলেজে কোন রুটিনে ক্লাস হবে তা নির্দিষ্ট করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রোববার খোলার দিন থেকেই নতুন রুটিনে হবে ক্লাস।

স্কুল-কলেজের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে মঙ্গলবার একটি ‘মৌলিক রুটিন’ প্রণয়ন করেছে মাউশি। তা শিগগিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা একটি গাইডলাইন মূলক মৌলিক ক্লাস রুটিন তৈরি করছি। সেটি অনুসরণ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুটিন ও ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। খুব শিগগিরই তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।’

মাউশি থেকে জানা যায়, নতুন ক্লাস রুটিনে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সপ্তাহে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার চারটি ক্লাস নেয়া হবে।

২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও সপ্তাহে হবে চার ক্লাস। শনিবার ও রোববার হবে ক্লাসগুলো।

এছাড়া, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস সোমবার, ৭ম শ্রেণির মঙ্গলবার, ৮ম শ্রেণির বুধবার ও ৯ম শ্রেণির ক্লাস বৃহস্পতিবার নেয়া হবে। এসব শিক্ষার্থীদের সকল স্তরে প্রতিদিন দুটি বিষয়ের চারটি করে ক্লাস করানো হবে।

ক্লাস নিয়ে অনেকটা একই তথ্য দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে ৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের তিনি জানান, যারা ২০২১ সালে এসএসসি-এইচএসসি আর আগামী বছরের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থী তারা প্রতিদিন ক্লাসে আসবে। এ ছাড়া অন্যান্য ক্লাস এক দিন চলবে। একইভাবে প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণি প্রতিদিন এবং অন্যান্য ক্লাস সপ্তাহে এক দিন চলবে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই ছুটি শেষে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পরের দিন থেকে খোলা হবে মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংবিষয়ক সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই তাগিদ দিয়ে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী বিশেষ করে শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মনোচিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

আর শিক্ষামন্ত্রী বলে আসছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সব প্রস্তুতি তাদের আছে। করোনা পরিস্থিতি আর একটু নিয়ন্ত্রণে এলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ততই বাড়বে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন:
পাঠদানে প্রস্তুত ময়মনসিংহের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষার্থী বরণে প্রস্তুত হচ্ছে ক্লাস রুম
প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে
শ্রেণিকক্ষে ক্লাস শুরু রোববার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Kota protestors march towards Bangabhavan

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল

কোটা আন্দোলনকারীদের বঙ্গভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন।’

জাতীয় সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা ব্যবস্থা যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আগামীকাল রোববার গণভবন অভিমুখে গণপদযাত্রা করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চলছে। তার পাশাপাশি গণপদযাত্রার এই কর্মসূচি আগামীকাল রোববার বেলা ১১টায় এই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত সাত কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

‘সারা দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। সেখানে তারা একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবেন।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘লজিক্যাল অ্যান্ড কনস্ট্রাক্টিভ সলিউশনের জন্য যতগুলো পথ প্রয়োজন আমরা ছাত্ররা সেই পথগুলো অবলম্বন করব। যারা আমাদেরকে ব্লেইম ও ট্যাগ দিতে চান তাদের উদ্দেশে বলব- আপনারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পালস বুঝুন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাতারে আসুন। আমরা চাই, আমাদের দাবির সঙ্গে আপনারা একাত্মতা পোষণ করে সাপ্রেশনের পরিবর্তে সলিউশনের পথ বেছে নেবেন।’

আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘সরকারের সব গ্রেডের চাকরিতে আমরা মোট পাঁচ শতাংশ কোটাকে যৌক্তিক মনে করছি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কোন কোন কোটা। সেই জায়গায় আমরা তিনটি কোটার কথা বলেছি। সেগুলো হলো- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য কোটা। কোনো পোষ্য কোটা আমরা চাই না। সুতরাং আমরা আবারও স্পষ্ট করছি, আমরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধী নই।

‘পুলিশের বক্তব্য সাংঘর্ষিক’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজ শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা বলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নাকি তাদের সাঁজোয়া যানের ক্ষতি করেছে। অথচ ওইদিন সন্ধ্যায় রমনা জোনের ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, এখানে আমাদের সাঁজোয়া যান ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন এসেছিল তারা অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছে- এই ধরনেরই একটি ঘটনা। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।’

এরপর আসিফ মাহমুদ সেই স্টেটমেন্টের অডিও সবাইকে শোনান।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা প্রত্যাহার দাবি

মামলার বিষয়ে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে অজ্ঞাত আমাদের। এখানে অজ্ঞাতনামা দেয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেটি খুব স্পষ্ট।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। যদি মামলা দিতেই হয় তাহলে যেন আমাদের নামেই মামলা দেয়া হয়। ছাত্রসমাজকে এ ধরনের মামলা দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। আর সেদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বিভিন্ন ব্লকেড কর্মসূচিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

‘আন্দোলন দমনের চেষ্টা হলে বুমেরাং হবে’

নাহিদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলাম। সরকারের উচিত ছিল প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি করা এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কোটা সমস্যার সংকট নিরসন করা।

‘কিন্তু সরকার সেটি না করে এখন আন্দোলনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন এবং নানা শক্তির মাধ্যমে এই আন্দোলনকে দমনের একটি পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। কিন্তু এ ধরনের পরিকল্পনা সরকারের জন্যই বুমেরাং হবে। তারপরও যদি সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

‘সরকার দায় এড়াতে আদালতকে ব্যবহার করছে’

নাহিদ ইমলাম বলেন, ‘প্রথম থেকেই আমাদের আন্দোলনকে বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা কেন আদালতে যাচ্ছি না। এটি কিন্তু আমরা অনেকবার স্পষ্ট করেছি। সেটি হলো, আদালতে এখন যে বিষয়টি বিচারাধীন তা হলো নির্বাহী বিভাগের জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র।

‘কিন্তু সেই পরিপত্রের প্রেক্ষাপটে আমাদের আন্দোলনটি আর সেখানে নেই, আমাদের আন্দোলনটি সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে। সেখানে প্রথম, দ্বিতীয় শ্রেণীসহ তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির কোটাও অন্তর্ভুক্ত। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বার বার দায় এড়ানোর জন্য আদালতকে ব্যবহার করছে। আদালতকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কালক্ষেপণের নাটক করছে। ১৮ সালের পরিপত্র নিয়ে কথা বলা আমাদের জন্য সাব-জুডিস হবে। কিন্তু সামগ্রিক কোটা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা কখনোই সাব-জুডিস হবে না।’

‘ছাত্রলীগ আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে

আদালতের রায়ের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ছাত্রলীগের যে দাবি সে বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের জোয়ার কমেনি বরং প্রতিদিনই বাড়ছে। আমাদের কোনো দাবিই তো পূরণ করা হয়নি, সেখানে কী কারণে শিক্ষার্থীরা ফিরে যাবে? শিক্ষার্থীরা এত বোকা নয় যে তাদের সামনে একটি মুলা ঝুলানো হবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের শুরুর দিকে এই ছাত্রলীগের কোন খোঁজখবর ছিল না। এখন যখন আন্দোলন সফলতার দিকে যাচ্ছে, তখন তারা এই আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে।’

‘শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরলেও আমরা ফিরব না’

আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের নিয়ে বলতে চাই, আপনারা যখন আপনাদের পেনশন স্কিমকে সামনে রেখে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তখন কিন্তু ছাত্ররা জোর করে ক্লাসে গিয়ে বসে থাকেনি। এখন সময় এসেছে আপনাদের প্রমাণ করার যে, যারা আপনাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, তাদের যৌক্তিক দাবিতে আপনারা কতটুকু তাদের পাশে থাকবেন।

‘আপনাদের দাবি যদি পূরণ হয়েও যায় তারপরও আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার
মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The teachers federation is silent on the discussion in the meeting

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন

বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে আপাতত চুপ শিক্ষক ফেডারেশন শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে মিডিয়ার মুখোমুখি শিক্ষক নেতারা। কোলাজ: নিউজবাংলা
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে ওনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তারপর মিডিয়াকে জানাব।’

সার্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম প্রত্যাহারসহ আরও দুই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তবে বৈঠক আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আপাতত গণমাধ্যমকে জানাবেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া।

শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক নিজামুল বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে কোনো কথা বলব না। আমাদের তিন দফা দাবি নিয়ে ওনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তারপর মিডিয়াকে জানাব।’

আপনাদের দাবি তো সরকারের কাছে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় এলেন কেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একজন জাতীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে তিনি আমাদের সঙ্গে বসেছেন।

‘ওবায়দুল কাদের, তিনি রাষ্ট্রের সেকেন্ড ম্যান। ওনার সঙ্গে আমাদের দাবি নিয়ে খুব খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। ওনাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে সেসবের অনেক কিছু নিয়েই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার বিষয় রয়েছে। আজ রাতে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা বসব। সেখানে আলোচনা হবে এরপর আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘প্রতিনিধিদের নিয়ে ফেডারেশনের বৈঠকের পর স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তাদের শিক্ষকদের সঙ্গে বসে এসব বিষয় জানাবেন। পরে ওনারা কী বলেন সেটির ওপর ভিত্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় (ওবায়দুল কাদের) আমাদেরকে বলেছেন যে প্রত্যয় স্কিমটি ২০২৪ সাল নয়, ২৫ সালের জুলাই থেকে ইমপ্লিমেন্ট হবে। এরপর আমরা আমাদের ব্যাখ্যাটা ওনাকে দিয়েছি। কারণ এটি সবাই জানে.....। আচ্ছা যাই হোক, এখন আর বেশি কথা না বলি।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক কাদেরের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ভর করেছে: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kubi students protest against police attack
কোটা সংস্কার আন্দোলন

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচার দাবি করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গিয়ে পুলিশি হামলার শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই হামলার প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিলটি আনসার ক্যাম্পে পৌঁছলে শিক্ষার্থীরা সেখানে একযোগে জাতীয় সংগীত গান এবং পুলিশি হামলার শিকারদের উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। নীরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা আনসার ক্যাম্প মোড়কে ‘ছাত্র আন্দোলন চত্বর’ ঘোষণা করা হয়।

পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবারের হামলায় জড়িতদের বিচার চান এবং সেদিনের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গোলচত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবা বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের মিছিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় সাংবাদিকসহ অনেকে আহত হন। পরবর্তীতে বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা৷

আরও পড়ুন:
সারা দেশে শুক্রবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় হামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ
জবি গেটের তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা
সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Students blocked the railway track in Rajshahi
কোটা সংস্কার আন্দোলন

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন। রাবি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী কলেজ ও রুয়েট মিলে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

সরকারি সব চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনে রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করেন।

কর্মসূচিতে রাবি, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী কলেজ ও রুয়েট মিলে পাঁচ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এই রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন রাবি শিক্ষার্থীরা। সে অনুযায়ী শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন বাজার সংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের ফলে ওই সময়ের জন্য রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।

রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

রেললাইন অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার খবর দে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, চট্টগ্রামে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

আন্দোলনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের এক দফা এক দাবি। সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করতে হবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।

‘এই ৫ শতাংশের ভেতরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য ২ শতাংশ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ১ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো নাতি-নাতনি সুযোগ পাবে না।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী বারিউল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমাদের একটা সমন্বয় কমিটি ছিলো, সেটা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ‘আমাদের দাবি, ৫ শতাংশের উপরে কোটা বহাল থাকা যাবে না। এবং এটা সংসদের নির্বাহী বিভাগের আইন পাস করার মাধ্যমে করতে হবে। এছাড়া অন্য কোনো সমঝোতা আমরা মেনে নেব না।’

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তামিম বলেন, ‘সারাদেশের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। এখন আমাদের এক দফা এক দাবি, বৈষম্যমূলক সব কোটা যৌক্তিকতার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির জন্য কোনো কোটা রাখা যাবে না, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
কোটা আন্দোলনে স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মা ভর করেছে: আইনমন্ত্রী
বেনজীরের স্ত্রীর ঘেরের মাছ চুরির মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার
মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট
সারা দেশে শুক্রবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After the stay of the students in Shahbagh the new program is announced
কোটা সংস্কার আন্দোলন

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের অবস্থান শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে জমায়েত থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগের অবস্থান থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী শনিবার মাঠের কোনো আন্দোলন নেই। এদিন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ও ৬৪ জেলায় অনলাইন-অফলাইনে প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারা।

সরকারি চাকরির সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আগামীকাল শনিবার কোনো মাঠের কর্মসূচি রাখেননি। তবে এদিন তারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ও ৬৪ জেলায় অনলাইন ও অফলাইনে প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে শুক্রবার প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার নতুন এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আর রোববার মাঠের কর্মসূচি থাকবে কিনা তা শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এই সমন্বয়ক।

বৃহস্পতিবার সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর ঘুরে টিএসসি হয়ে শাহবাগে গিয়ে অবস্থান নেন। রাস্তা অবরোধ করে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় ওই এলাকা ও আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

শিক্ষার্থীরা এ সময় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করে ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কুবি/চবিতে/শেকৃবি হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক আবু সাইদ বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাই-বন্ধুদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমরা যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ সেখানে হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই। এর প্রতিবাদেই আজকে আমরা ঢাবিসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করছি।’

আরও পড়ুন:
জবি গেটের তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে শিক্ষার্থীরা
সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানকে ধাওয়া
চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলা
সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারবে
আদালতের বিষয় আদালতে সমাধান হোক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Blocking the highway by lighting candles traffic jams of Kubi students

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট মহাসড়কে মোমবাতি জ্বালিয়ে অবরোধে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা পেরিয়ে বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তির শিকার হন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে চলমান ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের অনেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন কুবি শিক্ষার্থীরা।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হন বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা।

মোমবাতি জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের, যানজট

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের বাধা পেরিয়ে বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবরোধ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূল ফটক অতিক্রম করে আনসার ক্যাম্পের সামনে এলে পুলিশ ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার জন্য বলে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা কথা না মেনে মহাসড়কের দিকে এগুতে চাইলে প্রথমে লাঠিচার্জ করা হয়। পরবর্তীতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে সাংবাদিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই কতজন আহত হয়েছে। আমিও শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই আছি। তবে তিনজনকে হাসপাতালে নিতে দেখেছি।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাফি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের প্রতিপক্ষ নই। বিষয় হচ্ছে তারা যদি দেশের কোনো ব্যস্ততম রাস্তা বেআইনিভাবে আটকে রাখে সেক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব সেটিকে ক্লিন রাখা। আমরা শুধুই আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।’

প্রসঙ্গত, এর আগে একই দাবিতে ৪, ৭, ৮ ও ১০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
সরকার চাইলে কোটা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারবে
আদালতের বিষয় আদালতে সমাধান হোক
কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইবি শিক্ষার্থীরা
পুলিশি বাধা ডিঙিয়ে ববি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Paper II Questions in Physics I Paper Exam
এইচএসসি

পদার্থবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন

পদার্থবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন এই কলেজ কেন্দ্রেই বৃহস্পতিবার ভুল প্রশ্নপত্র দেয়ার ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিজয় সরণি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নপত্র নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টায় তা শুরু হয়।

এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে এসে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন পেয়ে হতভম্ব হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় হলে দায়িত্বরত শিক্ষকরাও বিব্রত হন। কারণ প্রশ্নপত্র আগে দেখার সুযোগ তাদেরও ছিল না। পরে প্রশাসনের নির্দেশে ওই প্রশ্ন ফেরত নিয়ে দুই ঘণ্টা পর পুনরায় প্রথম পত্রের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিজয় সরণি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নপত্র নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টায় তা শুরু হয়।

ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাফা আলম সরকার জানান, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবের।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রসচিব বা তাদের প্রতিনিধিকে প্রশ্নপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা ঠিকমতো হলেও লিখিত পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা শিক্ষা বোর্ড এবং জেলা প্রশাসনকে জানাই। শিক্ষা বোর্ডের পরামর্শে দ্রুত সময়ে দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন তুলে নিয়ে প্রথম পত্রের পরীক্ষা শুরু করতে বলা হয়।’

আরও পড়ুন:
বন্যার পানি ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রে
এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সময় বাড়ানোর নির্দেশ
এইচএসসিতে অসদুপায়: এক কেন্দ্র থেকে ১০ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার
বৃষ্টিস্নাত সকালে শুরু এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু রোববার

মন্তব্য

p
উপরে