এমপি বাবলু: বিতর্কই যার সঙ্গী

এমপি বাবলু: বিতর্কই যার সঙ্গী

পিস্তল হাতে সাংসদ রেজাউল করিম বাবলুর এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

উপজেলা নির্বাচনে ১৭ ভোট পাওয়া এই প্রার্থী গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পেয়ে যান অপ্রত্যাশিতভাবেই। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও পরে বিএনপির আরেক নেতার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর আসনটি বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয়ভাবে গোলবাগী হিসেবে পরিচিত বাবলুকে সমর্থন জানায় বিএনপি। ভোটের পরেই ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। বিএনপির শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।

চাকরিজীবী নারী-পুরুষের মধ্যে বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তোলপাড় ফেলা আসা বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম ওরফে বাবলুকে নিয়ে বিতর্ক কোনো নতুন ঘটনা নয়।

হঠাৎ করেই ঘটনাচক্রে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে যাওয়া, যারা তাদেরকে জিতিয়েছিলেন, ভোটের পর পরই তাদেরকে অস্বীকার করা, বেফাঁস মন্তব্য, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বারবার সমালোচনা হচ্ছে তাকে নিয়ে।

অভিযোগ আছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের দাখিল করা হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন।

তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা আছে বগুড়ার বিচারিক আদালতে। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেয়া হয়েছে। এই তথ্য তিনি চেপে গেছেন।

স্থানীয়ভাবে গোলবাগী নামে পরিচিত এই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুই মাসের মাথায় মোটরসাইকেল থেকে নোয়াহ হাইব্রিড গাড়ি কিনে আলোচনায় আসেন। পিস্তল উচিয়ে ফেসবুকে ছবি দেয়া আর বক্তব্য দিয়ে বারবার আলোচনায় এসেছেন তিনি।

তিনি এমপি যেভাবে

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলী ও পাশের উপজেলা শাজাহানপুর নিয়ে গঠিত বগুড়া-৭। আসনটি ‘জিয়া পরিবারের আসন’ হিসেবেই পরিচিত।

বিএনপির দূর্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও কখনও ভাগ বসাতে পারেনি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব জাতীয় নির্বাচনেই এ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান গাবতলীর বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন। কিন্তু তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আসনটিতে নির্বাচন হয় বিএনপির প্রার্থী ছাড়া।

এ অবস্থায় ভোটের এক দিন আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম গোলবাগীকে সমর্থন দেয় গাবতলী ও শাজাহানপুর বিএনপি। ট্রাক প্রতীক নিয়ে তিনি জয়ী হন। এ জন্য স্থানীয়রা বলে থাকেন, রেজাউল করিম গোলবাগী সংসদ সদস্য হয়েছেন কপাল গুণে।

বাবলুর ব্যক্তিগত সমর্থন ওই এলাকায় কতটা, সেটি বোঝা যায় উপজেলা নির্বাচনের ফলাফলে। সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় ওই নির্বাচনে তিনি ১৭ ভোট পেয়েছিলেন।

ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনা বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা সে সময় শপথ না নেয়ার ঘোষণা দিলেও বাবলু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

হলফনামায় তথ্য গোপন

নির্বাচন কমিশনের হলফনামার ৩ এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, অতীতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা আছে কী না, থাকলে তার ফলাফল উল্লেখ করতে হবে। উল্লেখ করতে হবে যে আইন ও ধারায় মামলা হয়েছে। কোন থানায় মামলা হয়েছিল। মামলার নম্বর এবং মামলার ফলাফল।

বাবুল হলফনামায় দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা ছিল না। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এই বিষয়টি তিনি গোপন করেছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২ (৩ বি) অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে আটটি তথ্য এবং কোনো কোনো তথ্যের সাপেক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এই আইন মতে, হলফনামায় প্রদত্ত কোনো তথ্য মিথ্যা বা ভুল বলে প্রমাণিত হলে তা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮১ ধারা অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেয়া মানেই তো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য ব্যক্তি। এখন বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ আছে। ওই সাংসদের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে প্রমাণ করা গেলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।’

বাবুলের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের মামলা করেন আবু হায়াত নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার গোয়ালগাছা গ্রামে। মামলার আসামি করা হয় শওকত আলী গোলবাগী ওরফে বাবলুকে। তার বাবা মৃত মুইন উদ্দিন গোলবাগী। গ্রাম ডোমনপুকুর। শাজাহানপুর উপজেলা। এই শওকত আলী গোলাবাগী ওরফে বাবলুই বর্তমান সাংসদ মো. রেজাউল করিম গোলবাগী।

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে থেকে জানা গেছে, শওকত আলী গোলবাগী ওরফে বাবলু (শওতক আলী গোলবাগী) ২০০৭ সালে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

মামলায় বলা হয়, চাকরি দেয়ার নাম করে আবু হায়াতের কাছ থেকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন গোলবাগী। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। টাকাও ফেরত দেননি তিনি।

২০০৭ সালে শওকত আলীর বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন আবু হায়াত। এরপর ২০০৭ সালে আদালতে ৪০৬/৪২০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে শওকত আলী গোলবাগী ওরফে বাবলুকে একমাত্র আসামি হিসেবে পলাতক দেখানো হয়।

মামলার বিষয়ে আবু হায়াত বলেন, ‘এই বাবলু চাকরি দেওয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছেন। টাকা উদ্ধারের মামলা করে মামলা চালাতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে।’

আগের জায়গাতে মাঝিড়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ও আর নেই। এখানে ‘দারুল ফাতাদ মাদ্রাসা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক বলেন, তার মাদ্রাসা হওয়ার আগে মাঝিড়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় ছিল।

হলফনামায় মামলার তথ্য গোপনের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ রেজাউল করিম বলেন, ‘হলফনামায় আমি তথ্য দিয়েছি কিনা এ বিষয়ে আমার এখন কিছু মনে নেই। কাগজপত্র দেখে বলতে পারব।’

হলফনামায় এমন তথ্য দেয়ার বিষয়ে তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার সাবেক জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হলফনামা যাচাইকালে কেউ অভিযোগ করেনি। রেজাউল করিম এখন সাংসদ হয়েছেন। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আমাদের মামলা করার সময়ও শেষ হয়েছে। এখন আমাদের কিছু করার নেই। তবে এই বিষয়ে অন্য কেউ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন। তখন বিষয়টি আদালত দেখবে।’

শওকত আলী গোলবাগীই রেজাউল করিম গোলবাগী

সাংসদ রেজাউল করিম শাজাহানপুরের বাড়ির নাম ‘গোলবাগী মঞ্জিল’। সাংসদের বাড়ি ডোমনপুকুর মৌজায়। এই মৌজায় পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি সাংসদ কিনেছেন ২০০৩ সালে। জমির সাবেক দাগ নম্বর ১২১৬। হাল দাগ ১৩৭৭। ধরন ভিটা। ১৯ শতাংশ জমির কাতে সাংসদ কিনেছেন পৌনে পাঁচ শতাংশ জমি।

জমির মূল মালিকরা হলেন ডোমনপুকুর এলাকার মোছা. শাহনাজ বেগম ওরফে নমিতা, মোছা. আছমা বেগম, মোছা. আছিয়া বেগম ও মোছা. রাজিয়া সুলতানা।

জমি ক্রেতারা হলেন, মো. রেজাউল করিম গোলবাগী ওরফে শওকত আলী গোলবাগী (বাবলু)। রেজাউল করিমের পিতা মৃত ময়েন উদ্দিন গোলবাগী। জমির আরেকজন ক্রেতার নাম মোছা. বিউটি বেগম। তিনি রেজাউল করিম গোলবাগী ওরফে শওকত আলী গোলবাগীর স্ত্রী। তাদের বাড়ি ডোমনপুকুর এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৩ সালে শাজাহানপুরে কোনো জমি নিবন্ধন কার্যালয় ছিল না। তখন বগুড়া সদরে জমি নিবন্ধন কার্যালয়ে শাজাহানপুরের জমি নিবন্ধন করা হতো। এই দলিল সত্যতা বগুড়া সদর নিবন্ধন কার্যালয়ের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শাজাহানপুর প্রেস ক্লাবের বর্তমান সভাপতি শাহাদত হোসেন। সাংসদ রেজাউল করিম এই প্রেস ক্লাবের সদস্য ছিলেন কি না জানতে চাইলে শাহাদত হোসেন বলেন, ‘শাজাহানপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা শওকত আলী গোলবাগী ওরফে বাবলু। তিনিই বর্তমান সাংসদ রেজাউল করিম বাবলু। সভাপতির তালিকায় এখনো তাঁর নাম টাঙানো রয়েছে।’

দুই মাসেই ভাগ্য বদল

গত সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় মাসিক আয় ৪১৭ টাকা দেখান রেজাউল করিম বাবলু। নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হওয়ার দুই মাসের মধ্যে গাড়ি (নোয়াহ হাইব্রিড) কিনে আলোচনায় আসেন তিনি।

এই বিষয়টি আমলে নিয়ে গত মার্চ মাসের শুরুতে তার সম্পদের প্রাথমিক তথ্য চেয়ে নোটিশ পাঠায় দুদকের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়। চিঠিতে ১৪ মার্চের মধ্যে হাজির হয়ে সম্পদের প্রাথমিক হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।

নোটিশের পরে ১৪ মার্চ তিনি বগুড়ার দুদক কার্যালয়ে যান। তবে সেদিন কোনো তথ্য জমা দেননি। রেকর্ডপত্র গোছানো না থাকার অজুহাত দেখিয়ে সম্পদের হিসাব জমা দিতে দুদকের কাছে সময় চান তিনি।

সেদিন তিনি বলেন, ‘আমি কাগজপত্র প্রমাণসহ আগামী তারিখে লিখিত জবাব দাখিল করব। দুদক কর্মকর্তারা আপাতত মৌখিকভাবে সময় দিয়েছেন।’

পরে দুদক তাকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয় সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দেয়ার জন্য। এরপর তিনি তার সম্পদের প্রাথমিক নথি দুদকে জমা দেন।

জানতে চাইলে রেজাউল করিম বাবলু বলেন, ‘সর্বশেষ আমি যে সাত দিনের সময় নিয়েছিলাম তখনই সম্পদের হিসাব দিয়েছি।’

বগুড়া দদুকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাংসদ তার সম্পদের প্রাথমিক হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন। এই রিপোর্ট খুব দ্রুত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জমা দেয়া হবে।’

আগের বেফাঁস মন্তব্য

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সংসদে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০০০’ সংসদে পাস হওয়ার সময় রেজাউল করিম বলেছিলেন, ‘নারীবাদীরা নারী স্বাধীনতার কথা বলে নারীদের উন্মুক্ত করে চলছে। এ কারণেই ধর্ষকেরা ধর্ষণের অনুভূতিকে এতটা একসেপ্ট করেছে, ধর্ষণে উৎসাহিত হচ্ছে।’

অস্ত্র হাতে ভাইরাল

রেজাউল করিম গোলবাগীর একটি ছবি গত বছরের অক্টোবরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ছবিতে দেখা যায়, হাতে অস্ত্র নিয়ে হাসিমুখে একটি চেয়ারে বসে আছেন তিনি। পাশের টেবিলে আছে গুলির ম্যাগজিন। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন গোলবাগী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

১৬ কেজির কাতল বিক্রি ২৩৭০০ টাকায়

সাগর হালদারের জালে ১৬ কেজি ওজনের কাতল মাছটি ধরা পড়ে। ছবি: নিউজবাংলা

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে প্রায় ১৬ কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ ধরা পড়েছে।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মা নদী থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে জেলে সাগর হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে।

তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে ১৫ কেজি ৮০০ গ্রামের মাছটি পেয়ে বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে শাকিল সোহান মৎস্য আড়তে নিয়ে আসেন। আড়ত মালিক শাজাহান শেখ মাছটি ১ হাজার ৪৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন।

পরে মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ মোবাইলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে ঢাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে ২৩ হাজার ৭০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন।

মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলে সাগর হালদার মাছটি দুপুরে বিক্রির জন্য আনলে আমি মাছটি কিনে নিই। পরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।’

শেয়ার করুন

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের পাশে দোয়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মালেকের বাড়ি গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ানী এলাকাতেই।

মালেকের পরিবারের দাবি জমিসংক্রান্ত মামলার জেরে তাকে হত‌্যা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, মালেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অসুস্থ ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে বাবাসহ বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয় আরও দুজন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় উম্মেতুনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো, ৩ বছর বয়সী শিশু মোশারফ মিয়া, ৮ বছর বয়সী রূপা আক্তার ও জব্বার মিয়া। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

আহত তিনজনের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম জানান, অসুস্থ শিশু মোশারফকে নিয়ে একই পরিবারের তিনজন অটোরিকশায় করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। পথে অটোরিকশাটি আন্দিউড়া এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে সিলেটগামী সাগরিকা বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু মোশারফ ও জব্বার মিয়া মারা যান।

পরে মাধবপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রূপা আক্তার মারা যায়।

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

জামালপুরে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যায় ট্রাকের চালক ও হেলপার। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

জামালপুরের মেলান্দহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

উপজেলার চরবানি পাকুরিয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজমিস্ত্রি রকিবুল টিকাদারের বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর গ্রামে।

আহতরা হলেন একই গ্রামের নুরু শেখ, সুরুজ মিয়া ও মিলন মিয়া। তারা সবাই জেলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) এম এম মঈনুল ইসলাম জানান, সকালে মেলান্দহের ঝিনাই ব্রিজের পরে দেওয়ানগঞ্জগামী একটি ট্রাক জামালপুরগামী অটোরিকশাটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

ওসি মঈনুল জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যান ট্রাকের চালক ও হেলপার।

এই ঘটনায় পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। আর দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগমকে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপ কামড় দেয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার রঘুনন্দনপুর ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের আজগার আলির স্ত্রী রোকসানা বেগম।

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৮টার দিকে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মোকাদ্দেসকে মৃত ঘোষণা করেন।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যালের অফিসার কনক জানান, তার পায়ে দুটি দংশনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় কবিরাজ দেখিয়ে রোগীকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলাই কুমার বিশ্বাস জানান, দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তাকে সাপ কামড় দেয়।

পরে যন্ত্রণা শুরু হলে স্বজনরা তাকেও প্রথমে গ্রাম্য ওঝার কাছে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

শেয়ার করুন

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

মাদারীপুরে পানের বরজ বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় প্রণোদনা চেয়েছেন চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়ে বন্যার দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পানি নদীর দুই তীর উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে কালকিনি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে পানের বরজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনার দাবি পানচাষিদের। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, পানচাষিদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে নাকি।

পানচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, গেল কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী, উত্তর রাজদী, পাতাবালি ঠেঙ্গামারা, বাশঁগাড়ি, এনায়েতনগর, রমজানপুরসহ অন্তত ১১টি ইউনিয়নে ফসলি জমিতে পানি উঠেছে।

এসব এলাকার পানের বরজে পানি ঢুকে গেছে। এ ছাড়া এসব এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোপা আমন ধানের চারা এখন পানিতে তলিয়ে আছে। তবে এসব অঞ্চলের প্রধান কৃষি ফসল পানের বরজে পানি ঢুকে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

কালকিনি পৌরসভার উত্তর রাজদী গ্রামের পানচাষি ইকবাল হাওলাদার বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানের বরজে উজানের পানি ঢুকছে। সেচ পাম্প দিয়া বরজ থেইকা পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পানির চাপ অনেক বেশি।

‘আমার দুই বিঘা জমির পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে লোকজন এসেও দেখে যায় নাই। এমনিতে একটু উচুঁ জমিতে পান চাষ করা হলেও পানি বেশি হওয়ায় ক্ষতিটা হয়েছে।’

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

সরকারি সহযোগিতার জন্য একই কথা বলেন আরও কয়েকজন পানচাষি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানান, কালকিনি উপজেলায় মূলত পান আবাদ করা হয়। উপজেলায় এ বছর ১৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে পানের বরজ একটু উচুঁ জমিতে হওয়ায় তেমন প্রভাব পড়বে না। তারপরেও চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বেলা ১টার দিকে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ফেরদৌসি বেগম রোববার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি হাটহাজারীর ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের সমুরা এলাকায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বলেন, ‘ফেরদৌসি বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে আমাকে জানান। আমরা তাকে স্কুলে না যাওয়ার পরামর্শ দিই। ২০ সেপ্টেম্বর তার করোনা পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এর আগেই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা হলেন হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তার, উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি দত্ত এবং উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা বড়ুয়া।

তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও স্কুল বন্ধ ঘোষণা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম সিরাজী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল খোলার পর ফেরদৌসি বেগম সম্ভবত দুদিন স্কুলে এসেছিলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর স্কুলে আসেননি।

‘তখন থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। স্কুলের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছেন। এ ছাড়া অন্য যে শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন, তাদের স্কুলও চলছে।’

শেয়ার করুন