সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে অসহায় বিটিআরসি: জব্বার

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে অসহায় বিটিআরসি: জব্বার

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

মন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আমরা অসহায়ত্বে আছি। তারা তাদের কমিউনিটি মান বিবেচনায় কাজ করে; কথা শোনে না। তবে আগের চেয়ে অবস্থা ভালো হয়েছে। এখন ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত কথা হয়।’

ফেসবুক-ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট নিজ নিজ দেশের আইনে চলে। চাইলেই এ প্ল্যাটফর্মগুলোর কোনো কনটেন্ট সরিয়ে নিতে পারে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। কমিশনের সে সক্ষমতাও নেই।

এ ক্ষেত্রে বিটিআরসি অনেকটা অসহায় বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বিটিআরসি কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়া, কন্টেন্ট ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো. আফজাল হোসেন।

ওই সময় বক্তব্য দেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, কমিশনের মহাপরিচালক (সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।

সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ডিজিটাল কর্মকাণ্ড প্রতিদিন বাড়ছে। ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে ওঠার পাশাপাশি অপরাধও বাড়ছে। বর্তমানে আমরা ওয়েবসাইটগুলো বাংলাদেশের সীমানায় বন্ধ করতে পারি।

‘ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম ও সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্সের (সিটিডিআর) মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২২ হাজারের বেশি পর্ন সাইট ও অনলাইন জুয়ার সাইটে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে আমরা অসহায়ত্বে আছি। তারা তাদের কমিউনিটি মান বিবেচনায় কাজ করে; কথা শোনে না। তবে আগের চেয়ে অবস্থা ভালো হয়েছে। এখন ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত কথা হয়।’

এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও অপসারণ ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিটিআরসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাইকোর্ট।

কলেজশিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়া, চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন সব ছবি, ভিডিও ও প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা এক রিটের শুনানিতে এ প্রশ্ন তোলা হয়।

শুনানিতে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বলে, ‘বিটিআরসি কী করে? এই ধরনের ভাইরাল ভিডিও বন্ধ করতে কি বিটিআরসিকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিতে হবে? কেন এই ধরনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়?’

হাইকোর্টের মন্তব্যের পরদিনই কেন সংবাদ সম্মেলন, এমন প্রশ্নের জবাবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত কী বক্তব্য দিয়েছে তা গণমাধ্যমে দেখেছি। আদালতের বক্তব্যের জন্য আমরা এ সংবাদ সম্মেলন করিনি। আমাদের অবস্থান আমরা তুলে ধরেছি, যাতে জনগণ আমাদের কর্মকাণ্ড ও সক্ষমতা বুঝতে পারে।

‘যারা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে আইন-আদালতের কাছে যান, তারা অন্ততপক্ষে আমাদের অবস্থাটা বুঝবেন। যে জায়গাতে কাজ করার ক্ষমতা রাখি না, সে দায় দিলে অবিচার করা হবে। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে নতুন প্রযুক্তি আনতে হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ করছি। বিটিআরসি কীভাবে চলবে তার আইন রয়েছে।

‘আইন আমাদের অনেক ক্ষমতা দিয়েছে। তবে সে ক্ষমতার মধ্যেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সব ক্ষমতা বিটিআরসির নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার সুতা বিটিআরসির হাতে নেই। ফেসবুক ও ইউটিউবের সহযোগিতা ছাড়া কিছু করা যায় না।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে তাদের (ফেসবুক-ইউটিউব) অফিস নেই। ফলে তাদের বিভিন্ন লিংক, ভিডিও বন্ধ করতে অনুরোধ পাঠাতে হয়। কিছু অনুরোধ তারা রাখে; কিছু অনুরোধ রাখে না। এ দেশে তাদের অফিস থাকলে বাধ্য করা যেত।

‘তাদের বলেছি দেশে অফিস করতে, তবে এখনও রাজি করাতে পারিনি। কিছু আপত্তিকর কনটেন্ট অনুরোধ করে সরানো হয়েছে; অনেক সরানো হয়নি। কারণ তারা তাদের আইন অনুযায়ী চলে। তারা বলছে, তাদের দেশের আইন অনুযায়ী এটি সরানো যায় না।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, পরীমনি ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং ডা. সাবরিনা ও আরিফ চৌধুরীর ব্যক্তিগত ভিডিও অপসারণ করার বিষয়ে কেউ বিটিআরসিতে আবেদন করেননি। তবু এরই মধ্যে ফেসবুকের কাছে ৫০টি এবং ইউটিউবের কাছে ৩৫টি লিংক সরানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির শিকার হয়ে অনেক নারী বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে আমরা অনুরোধ করি, একটি জিডি করে আমাদের কাছে আসুন।

‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে আসলেও দেখি। আমরা হার্ড কপি, ই-মেইলে বা হটলাইন নম্বরে অভিযোগ পাচ্ছি। বিটিআরসি চাইলেই সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট রিমুভ করতে পারে না। এটাই অনেকে বোঝে না।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্মার্টফার্মিংয়ে আসবে হাজার গ্রাম: পলক

স্মার্টফার্মিংয়ে আসবে হাজার গ্রাম: পলক

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: ফেসবুক

জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ গ্রামকে স্মাটফার্মিংয়ের জন্য ডিজিটালাইজ করতে চাই। এতে ২০ হাজার কৃষক, তাদের জন্য ২০ হাজার আধুনিক কৃষি ডিভাইস, সাড়ে ৩ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি হবে। এভাবে ফেইজ ওয়ান, টু, থ্রি করে ২০৪১ সালের মধ্যে এক হাজার গ্রামের ২০ লাখ কৃষক এবং সাড়ে ৩ লাখ উদ্যোক্তা স্মার্টফার্মিংয়ের আওতায় আসবে।’

২০৪১ সালের মধ্যে দেশের এক হাজার গ্রামকে স্মার্টফার্মিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এতে ২০ লাখ কৃষক ও সাড়ে ৩ লাখ উদ্যোক্তা যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির উদ্যোগে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে রোববার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এন জিয়াউল আলম ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেসবাহুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল হাসান।

পলক বলেন, ‘উন্নত সমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা স্মার্টফার্মিংয়ে উৎসাহিত করতে চাই, উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই। বিভিন্ন ধাপে এ লক্ষ্য পূরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের মধ্যে ১০ গ্রামকে স্মাটফার্মিংয়ের জন্য ডিজিটালাইজ করতে চাই। এতে ২০ হাজার কৃষক, তাদের জন্য ২০ হাজার আধুনিক কৃষি ডিভাইস, সাড়ে ৩ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি হবে।

‘এভাবে ফেইজ ওয়ান, টু, থ্রি করে ২০৪১ সালের মধ্যে এক হাজার গ্রামের ২০ লাখ কৃষক এবং সাড়ে ৩ লাখ উদ্যোক্তা স্মার্টফার্মিংয়ের আওতায় আসবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ ইকোসিস্টেমের জন্য আমাদের ডিজিটাল ভিলেজ সেন্টার, ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার, ডিজিটাল ভিলেজেস, এমএফএস, ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল ট্রান্সজেকশন প্লাটফর্মসহ অন্যান্য অনুষঙ্গগুলোকে একত্র করে কাজ করব।

‘কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষিবিদ অর্থনীতি সমিতি এবং আইসিটি ডিভিশন মিলে সমন্বিতভাবে এ কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে এই ২০৪১ সাল পর্যন্ত যে টার্গেট, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশের আধুনিক রূপ, প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত সমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ তৈরি হবে।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম পাওয়ার অ্যান্ড মেশিনারি বিভাগের অধ্যাপক মো. মঞ্জুরুল আলম। আলোচক ছিলেন এসিআই অ্যাগ্রো লিংক লিমিটেডের এমডি ও সিইও এফএইচ আনসারী।

শেয়ার করুন

লাখ লাখ ফোনে বন্ধ হচ্ছে ইউটিউব, জিমেইল, প্লে স্টোর

লাখ লাখ ফোনে বন্ধ হচ্ছে ইউটিউব, জিমেইল, প্লে স্টোর

গুগল বলছে, এসব হ্যান্ডসেটের মধ্যে যাদের অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ থেকে ৩.০ সংস্করণে আপগ্রেড করার সুবিধা থাকবে, সেগুলোতে সেবাটি অব্যাহত থাকবে।

লাখ লাখ স্মার্টফোনে গুগলের ইউটিউব, জিমেইল, ম্যাপসহ আরও বিছু সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল সোমবার থেকে সেসব ফোনে আর এই সেবাগুলো পাওয়া যাবে না।

সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ডট কো ডট ইউকে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। গুগল নিজেও সম্প্রতি দাপ্তরিক পোস্টে এই তথ্য জানায়।

সেখানে বলা হয়, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে টেক জায়ান্টটি।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যেসব ব্যবহারকারী অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ বা জিঞ্জারব্রেড সংস্করণ ব্যবহার করছেন, তারা আর গুগলের এসব সেবা পাবেন না।

জিঞ্জারব্রেড মূলত অ্যান্ড্রয়েরে খুবই পুরাতন একটি সংস্করণ। ২০১০ সালে সেটি ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারে ছাড়া হয়। শুরুর দিকের সপ্তম সংস্করণ সেটি।

নিরাপত্তার জন্যই মূলত জিঞ্জারব্রেড সংস্করণে সেবাগুলো বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে গুগল। ইউটিউব, জিমেইল, গুগল ম্যাপের পাশাপাশি প্লে স্টোর, ক্যালেন্ডার ও অন্যান্য গুগল সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে সেসব হ্যান্ডসেটে।

বিশ্বে এখন অ্যান্ড্রয়েডের সেই সংস্করণের ১০ লাখের বেশি হ্যান্ডসেট রয়েছে।

গুগল বলছে, এসব হ্যান্ডসেটের মধ্যে যাদের অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ থেকে ৩.০ সংস্করণে আপগ্রেড করার সুবিধা থাকবে, সেগুলোতে সেবাটি অব্যাহত থাকবে।

সেসব হ্যান্ডসেটে অ্যান্ড্রয়েড ওএস আপডেট পেতে সেটিংস অপশন থেকে সিস্টেম > অ্যাডভান্সড > সিস্টেম আপডেট-এ গিয়ে ট্যাপ করতে হবে।

২০১৭ সালে অ্যান্ড্রয়েড ২.৩ চালিত হ্যান্ডসেটের গুগল পে থেকে কন্টাক্টলেস পেমেন্ট বন্ধ করে দেয় গুগল।

যেসব হ্যান্ডসেটে সেবাগুলো বন্ধ হবে

গুগল একটি তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে কোন সেটগুলোতে এই সেবা বন্ধ হবে। সেসব হলো:

সনি এক্সপেরিয়া অ্যাডভান্স, লেনেভো কে৮০০, সনি এক্সপেরিয়া গো, সনি এক্সপেরিয়া পি, সনি এক্সপেরিয়া এস, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২, ভোডাফোন স্মার্ট ২, এলজি স্পেকট্রাম, এলজি প্রাডা ৩.০, এইচটিসি ভেলোসিটি, এইচসিটি ইভো ৪জি, মটোরোলা ফায়ার ও মটোরোলা এক্সটি৫৩২।

শেয়ার করুন

বৈশ্বিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের সেরা ছয়ে রিয়েলমি

বৈশ্বিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের সেরা ছয়ে রিয়েলমি

রিয়েলমি স্মার্টফোন।

রিয়েলমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্কাই লি এক বলেন, ‘৩ বছরে আমরা শাবক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে এখন সত্যিকারের বাঘে পরিণত হয়েছি। তরুণদের কাছে পছন্দের মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছি।’

বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের তালিকার শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিয়েছে রিয়েলমি। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সবশেষ মার্কেট রিপোর্ট অনুসারে, বৈশ্বিকভাবে সেরা ৬ স্মার্টফোন বিক্রেতার তালিকায় উঠে এসেছে চীনের প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেড় কোটি রপ্তানি ও ১৩৫ দশমিক ১ শতাংশ বছরপ্রতি প্রবৃদ্ধি নিয়ে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে। ৩ বছরের মধ্যে রিয়েলমি এ সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিয়েলমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী স্কাই লি এক বলেন, ‘৩ বছরে আমরা শাবক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে এখন সত্যিকারের বাঘে পরিণত হয়েছি।তরুণদের কাছে পছন্দের মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছি।’

স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিটিক্স চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য অনুসারে, গত মাসে দ্রুততম সময়ে ১০ কোটি স্মার্টফোন ডেলিভারি দেয়া স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে রিয়েলমি। খুব অল্প কয়েক বছরের মধ্যে রিয়েলমি বিশ্বব্যাপী ৬১টিরও বেশি বাজারে কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। এ বাজারগুলোর মধ্যে রিয়েলমি অন্তত ১৮টি বাজারে শীর্ষ পাঁচ ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে।

রিয়েলমি বাংলাদেশের বাজারেও শীর্ষ ব্র্যান্ড। ক্যানালিসের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিয়েলমি।

রিয়েলমি জানায়, ৩ বছরের মধ্যে তরুণ ব্যবহারকারীদের কাছে ১০ কোটি ফাইভজি ফোন সরবরাহের লক্ষ্যে, ফাইভজি পণ্যের এক বিস্তৃত পোর্টফলিও তৈরিতে কাজ করছে তারা।

পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটি তাদের উন্নত ‘১+৫+টি’ কৌশলের সাথে এআইওটি ২.০ বিকাশের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতে সাশ্রয়ী মূল্যে তরুণরা আইওটি পণ্য পাবেন।

শেয়ার করুন

দেশে অ্যামেজফিট স্মার্টওয়াচের পরিবেশক হলো সেলেক্সট্রা

দেশে অ্যামেজফিট স্মার্টওয়াচের পরিবেশক হলো সেলেক্সট্রা

দেশে অ্যামেজফিটের স্মার্টওয়াচ পাওয়া যাবে সেলেক্সট্রায়।

এসব স্মার্টওয়াচে সর্বোচ্চ ১০০টি পর্যন্ত স্পোর্টস মোড রয়েছে। আপনি কত স্টেপ হাঁটলেন, হার্ট রেট, কত ক্যালোরি বার্ন হলো, ঘুমের সময় পরিমাপ, স্ট্রেস মনিটর, রক্তে অক্সিজেন পরিমাপক, সাইক্লিং, সাঁতার, ফোনের নোটিফিকেশন, স্পিকার, মিউজিক স্টোরেজসহ আরও অনেক সুবিধা রয়েছে অ্যামেজফিট স্মার্টওয়াচে।

স্মার্টওয়াচে বিশ্বের অন্যতম ব্র্যান্ড অ্যামেজফিট। সম্প্রতি সেলেক্সট্রা দেশের বাজারে অ্যামেজফিটের পরিবেশক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে আকার, ডিজাইন ও ফাংশন বিবেচনায় ১১টি মডেলের স্মার্টওয়াচ পাচ্ছেন এনেছে। অ্যামেজফিট ব্যান্ড, নিও, অ্যামেজফিট বিপ সিরিজ, জিটিআর সিরিজ, জিটিএস সিরিজ এবং অ্যামেজফিট টি-রেক্স সিরিজ।

সবগুলো স্মার্ট ওয়াচ বাজেট অনুসারে আপনার চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসব স্মার্টওয়াচে সর্বোচ্চ ১০০টি পর্যন্ত স্পোর্টস মোড রয়েছে। আপনি কত স্টেপ হাঁটলেন, হার্ট রেট, কত ক্যালোরি বার্ন হলো, ঘুমের সময় পরিমাপ, স্ট্রেস মনিটর, রক্তে অক্সিজেন পরিমাপক, সাইক্লিং, সাঁতার, ফোনের নোটিফিকেশন, স্পিকার, মিউজিক স্টোরেজসহ আরও অনেক সুবিধা রয়েছে অ্যামেজফিট স্মার্টওয়াচে।

এ ছাড়া উন্নতমানের সেন্সর রয়েছে যা সর্বোচ্চ ১০০ মিটার পর্যন্ত পানির গভীরতায় কোনো ক্ষতি সমস্যা হয় না এতে।

অ্যামেজফিটের স্মার্টওয়াচগুলোর দাম ২ হাজার ৭৯০ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৯৯০ টাকা পর্যন্ত। এগুলোতে রয়েছে এক বছরের ওয়ারেন্টি।

শেয়ার করুন

পরীক্ষামূলক ফাইভজি চালু করবে টেলিটক

পরীক্ষামূলক ফাইভজি চালু করবে টেলিটক

প্রতীকী ছবি

ঢাকার ২০০ স্থানে ফাইভজি চালু করতে প্রকল্প প্রস্তাব করেছে টেলিটক। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে অপারেটরটির।

আগামী বছরই দেশে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি চালুর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক শুরুতে রাজধানীর ২০০টি স্থানে পরীক্ষামূলক ফাইভজি সেবা চালু করবে।

প্রথম ধাপে ১ লাখ গ্রাহককে পাঁচটি সেবার আওতায় আনতে চায় টেলিটক। এ পরিষেবা দিতে আড়াই শ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে অপারেটরটি।

প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, গণভবন, বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ থানা ও বেশ কিছু বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার গ্রাহক ফাইভজির আওতায় আসবে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ১০০ মেগাবাইট (১০০ এমবিপিএস) গতির ইন্টারনেট সেবা পাবে তারা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি সুদান ও উগান্ডার মতো দেশের চেয়েও কম। ইন্টারনেটে গতির হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭ দেশের মধ্যে ১৩৫তম। বাংলাদেশের পেছনে আছে শুধু আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।

ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস কোম্পানির তথ্য বলছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গতির ইন্টারনেট রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ডাউনলোডের গতি সেখানে ১৯৩ এমবিপিএসের বেশি। আর বাংলাদেশে এর গতি ১২.৪৮ এমবিপিএস। গ্রাহকদের এবার কমপক্ষে আট গুণ বেশি গতি দিতে চায় টেলিটক।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষামূলক ফাইভজি নেটওয়ার্কের জন্য প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরই ফাইভজির যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। টেলিটক ফাইভজি নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য শুরুতে ঢাকায় কিছু অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

‘এটি শেষ হলে সারা দেশের জন্য বড় প্রকল্প নেয়া হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাব বলছে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। জুলাই শেষে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৭ লাখে। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটি ৩৬ লাখ। আর ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখের কিছু বেশি।

টেলিটক বলছে, দেশের প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ মোবাইল সেবার আওতাভুক্ত। এদের মধ্যে ২৮ শতাংশ গ্রাহক স্মার্টফোনে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশ ও কিছু উন্নয়নশীল দেশে ফাইভজি সেবা চালু হয়েছে।

বাংলাদেশে এ প্রযুক্তি দেশব্যাপী চালুর আগে স্বল্প মাত্রায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা প্রয়োজন। এমন বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় মোবাইল কোম্পানি হিসেবে টেলিটক ঢাকার উত্তরা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, রমনা ও শাহবাগের মতো কিছু এলাকায় সীমিত আকারে ২০০টি এজি বিটিএল স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।

‘ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্কে বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক পাঁচটি প্রযুক্তি চালুকরণ’ নামে এই প্রকল্পে খরচ হবে ২৫৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ বছর শুরু হয়ে আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

টেলিটকের প্রকল্প প্রস্তাব পেয়ে তা যাচাই-বাছাই করছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশন বলছে, এ প্রকল্পে বিশদ কোনো সমীক্ষা হয়নি। ফাইভজি একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক কারিগরি প্রযুক্তি। এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার আগে ইন-হাউজ সমীক্ষার পরিবর্তে এ বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তৃতীয় কোনো পক্ষ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হওয়া প্রয়োজন।

ফাইভজির আগে শক্তিশালী ফোরজি সেবা দেয়া উচিত জানিয়ে কমিশন আরও বলছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে টেলিটকের ফোরজি সেবা শুরু হলেও এর কাভারেজের আওতায় এসেছে শুধু বিভাগীয় এবং জেলা শহরগুলো। এ ক্ষেত্রে ফাইভজি সেবা শুরু করার আগে ফোরজির কাভারেজ এরিয়া আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ হওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া ফাইভজি প্রযুক্তিনির্ভর টেলিকম যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে গিয়ে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হবে কি না, তা পরীক্ষা করাও দরকার।

কমিশন আরও বলছে, সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফাইভজি প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারবে না। এটি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই ফাইভজি উপযোগী মোবাইল ডিভাইস থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগীদের আনুমানিক কত শতাংশের কাছে ফাইভজি উপযোগী মোবাইল ডিভাইস আছে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

অন্যান্য মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সীমিত ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ছাড়া ফাইভজি প্রযুক্তি গ্রহণ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, সে বিষয়টিও আলোচনার বিষয়।

এর আগে গত মাসে একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত ও অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন আল রশীদ বলেন, ‘ঢাকার অন্তত ২০০টি স্থানে ফাইভজি সেবা চালুর জন্য টেলিটকের একটি প্রকল্প প্রস্তাব আগস্ট মাসে আমরা পেয়েছি। আমরা সেটা যাচাই করছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকায় এ সেবা চালু হবে।’

শেয়ার করুন

‘ইন্টারনেট নির্ভরতার সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে’

‘ইন্টারনেট নির্ভরতার সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে’

প্রতীকী ছবি

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইন্টারনেট নির্ভরতা যত বাড়ছে, ডিজিটাল অপরাধও তত বাড়ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ডিজিটাল অপরাধ শনাক্ত ও তা দমন করার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তিই ব্যবহার করতে হবে।’

দেশে ইন্টারনেট নির্ভরতা যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে। এমন মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বুধবার ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) কম্পিউটার কৌশল বিভাগের উদ্যোগে ‘নিরাপদ ইন্টারনেট : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিজিটাল অপরাধ শনাক্ত ও তা দমন করার জন্য ‍ডিজিটাল প্রযুক্তিই ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি, জনগণের মধ্যেও ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট নির্ভরতা যত বাড়ছে, ডিজিটাল অপরাধও তত বাড়ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ডিজিটাল অপরাধ শনাক্ত ও তা দমন করার জন্য ‍ডিজিটাল প্রযুক্তিই ব্যবহার করতে হবে।

ডিজিটাল অপরাধের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে এখন ১১ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে খুব সামান্য মানুষ প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা রাখেন। মাত্র কয়েক বছর আগেও ডিজিটাল নিরাপত্তা বলতে কোন প্রযুক্তি কিংবা অন্য কোন কৌশল বা সুনির্দিষ্ট আইন ছিল না।

‘ইন্টারনেট নির্ভরতার সঙ্গে ডিজিটাল অপরাধও বাড়ছে’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাইবার থ্রেড ডিটেকশন ও রেসপন্স কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২২ হাজার পর্নো সাইট এবং ৪ হাজার অনলাইন জুয়ার সাইটসহ আরও সহস্রাধিক আপত্তিকর সাইট বন্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্ষতিকর বেশ কিছু গেম বন্ধ করা হয়েছে। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ক্ষতিকর কন্টেন্ট পৃথিবীর কোন দেশই বন্ধ করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পারেনি। তবে আমাদের দৃঢ় প্রচেষ্টায় তাদের সঙ্গে সু-সম্পর্ক তৈরি করার ফলে কিছুটা সুফলতা পাচ্ছি।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আরও বেশি দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের জন্য প্রযুক্তিগত সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

জব্বার বলেন, বাংলাদেশে ১৭ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে, শতকরা ৯৮ ভাগ এলাকা নেটওয়ার্কের আওতায় এবং প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

আইইবি’র কাউন্সিল হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইইবি কম্পিউটার কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. তমিজ উদ্দীন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। কম্পিউটার কৌশল বিভাগের সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় কুমার নাথের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, আইইবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) ইঞ্জিনিয়ার মো. নূরুজ্জামান এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহাব উদ্দিন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইবি কম্পিউটার কৌশল বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার খান মোহাম্মদ কায়ছার ও আইইবির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাদাৎ হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইঞ্জিনিয়ার সাইদ নাসিরুল্লাহ।

শেয়ার করুন

বছরের শেষ দিকে আসছে ফাইভজি: জয়

বছরের শেষ দিকে আসছে ফাইভজি: জয়

সজীব ওয়াজেদ জয়। ফাইল ছবি

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘চলতি বছরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

চলতি বছরের শেষের দিকে দেশে পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বা ফাইভজি সেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত ‘বিজনেস রাউন্ড টেবিল: ইউএস বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

জয় বলেন, ‘চলতি বছরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

সরকার প্রান্তিক মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ব্যান্ডউইথের ঘাটতিও নেই।’

প্রান্তিক লোকজন ফিক্সড লাইনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার না করে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন বলেও জানান জয়।

তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমরা স্পেকট্রাম ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। ঘন জনবসতির কারণে আমাদের ব্যাপক জায়গায় এই সংযোগ দিতে হবে এবং অতিরিক্ত সংযোগ নিলামের মাধ্যমে দিতে হবে। আর এ জন্য আমরা মোবাইল অপারেটরদের জন্য অধিক স্পেকট্রাম অবাধ করে দিচ্ছি।’

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর বিষয়ে জয় বলেন, ‘আমরা আশা করছি অতিরিক্ত স্পেকট্রাম ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরগুলো দুর্গম গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ফোরজি চালু করতে পারবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে জয় বলেন, ‘গত দুই বছরে তারা অনলাইন আইডেন্টিটি (কেওয়াইসি) চালু করেছে এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই আরেকটি সেবা চালু করেছে, যার ফলে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করা যাবে।’

এ সেবা চালুর আগে পেমেন্ট করতে দুই দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত বলেও জানান জয়।

বৈঠকের অংশীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আরও কিছু ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমও পরীক্ষামূলক চালুর প্রক্রিয়া রয়েছে, যার একটি হচ্ছে আইডিপিপির মধ্য দিয়ে দেশে আন্তসংযোগের জন্য এমএফএস করা।

শেয়ার করুন