চমক দেখিয়েই চলছে বেক্সিমকো

চমক দেখিয়েই চলছে বেক্সিমকো

বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পিপিই রপ্তানির লক্ষ্যে পিপিই পার্ক উদ্বোধনের পর বেক্সিমকো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে মোট ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭১১টি। দিনভর দাম উঠানামা করেছে ১১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকৈ ১২০ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে। দিন শেষে এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

এক বছরের বেশি সময় ধরে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে ব্যাপক আগ্রহের মধ্যে সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে যা ঘটেছে, তা পুঁজিবাজারে সচরাচর দেখা যায় না।

এক দিনে এই একটি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে আড়াইশ কোটি টাকার বেশি, যা গোটা লেনদেনের ৮.৮০ শতাংশ।

গত এক বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই লেনদেনের শীর্ষে বেক্সিমকো লিমিডেট। তবে এক দিনে দুইশ কোটি টাকার বেশি শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সহসা হয়নি।

সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয়েছে মোট ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭১১টি। দিনভর দাম উঠানামা করেছে ১১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকৈ ১২০ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে। দিন শেষে এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৫৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

গত এক বছরে এক দিনে আজই সবচেয়ে বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, এমন নয়। গত ৪ জানুয়ারি ৪ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৩৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। তবে সেদিন শেয়ারদর ছিল ৬৫ টাকা ৭০ পয়সা। সেদিন হাতবদল হয়েছিল ২৬০ কোটি টাকার বেশি।

গত এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ১২০ টাকা ৬০ পয়সা।

২০১০ সালের মহাধসে ক্রমাগত দর হারাতে থাকা কোম্পানিটির মুনাফা ২০১২ সাল থেকে ক্রমেই নিম্নমুখী ছিল। তবে করোনার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পিপিই পাঠাতে শিল্পপার্ক করার পর থেকে ঘুরে দাঁড়ায়।

২০১৫-১৬ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৬ পয়সা, পরের বছর ১ টাকা ২৩ পয়সা, ২০১৮ সাল আবার ১ টাকা ৫৫ পয়সা, পরের বছর ১ টাকা ৬৩ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ৫১ পয়সা।

চমক দেখিয়েই চলছে বেক্সিমকো
গত এক বছরে বেক্সিমকো লিমেডেটের শেয়ারদর বাড়ার চিত্র

২০১০ সালে তিন থেকে চারশ টাকায় লেনদেন হওয়া শেয়ার দর এক পর্যায়ে নেমে আসে ১১ টাকা ৮০ পয়সায়।

করোনার মধ্যে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বাড়তে থাকে। এর পেছনে ব্যবসা সম্প্রসারণে কোম্পানির বেশ কিছু উদ্যোগ কাজ করেছে।

সরকারি তিনটি প্রকল্পে ৩৫৭ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে কোম্পানিটি। তবে সবচেয়ে বড় চুক্তিটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পিপিই ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির লক্ষ্যে শিল্পপার্ক করা হয়েছে। এই রপ্তানির পরেই তাদের আয় ক্রমাগত বাড়ছে।

গত তিন বছর মিলিয়েও কোম্পানিটি যত আয় করতে পারেনি, তার চেয়ে বেশি আয় করে ফেলেছে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে। এই সময়ে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৩০ পয়সা আয় হয়েছে। অথচ ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির সম্মিলিত আয় ছিল ৩ টাকা ৫৯ পয়সা।

চমক দেখিয়েই চলছে বেক্সিমকো
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বেক্সিমকোর আয়ের তথ্য। এই আয় আগের তিন বছরের সম্মিলিত আয়ের চেয়ে বেশি

এই ৪ টাকা ৩০ পয়সা আয়ের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল ১৪ পয়সা। অর্থাৎ এর পরের দুই প্রান্তিকে আয় হয়েছে ৪ টাকা ১৬ পয়সা। ফলে অর্থবছর শেষে শেয়ার প্রতি আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশা করা হচ্ছে।

পিপিই পার্ক ছাড়াও কোম্পানিটি দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে যাচ্ছে। ইসলামী সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তুলে তারা দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেড, যার ৩৫ শতাংশ শেয়ার কিনেছে বেক্সিমকো লিমিটেড।

এসব উদ্যোগ কোম্পানির আয় ক্রমেই বাড়াবে-এমন আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলছেন বিনিয়োগকারীরা। কেবল ব্যক্তিশ্রেণির নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। গত জুলাই মাসে চার কোটির বেশি শেয়ার কিনেছেন তারা।

অবশ্য এই সুকুক বন্ডে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আগ্রহ দেখিয়েছেন, এমন নয়। বন্ডে বিনিয়োগের জন্য বেক্সিমকোর শেয়ারধারীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল কোম্পানি। গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৭৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের লক্ষ্য নেয়া হলেও ৭১ জন বিনিয়োগকারী ৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার আবেদন করে। পরে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়।

চমক দেখিয়েই চলছে বেক্সিমকো
সুকুক বন্ড ছেড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তুলে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে যাচ্ছে বেক্সিমকো, যা তার আয় বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে

কেবল এই কোম্পানি নয়, বিনিয়োগকারীদের তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের সব কটি কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য।

গ্রুপের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদর দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে এই সময়ে। সেই সঙ্গে ওষুধ ও রসায়ন খাতের অন্য যে কোনো কোম্পানির তুলনায় বেশি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে।

বেক্সিমকো লিমিটেডের আড়াইশ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের দিন বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৭২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার।

এই খাতের ৩০টি কোম্পানিতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মার ৪৪ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকার।

গত এক বছরে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারে সর্বনিম্ন দর ছিল ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ২১৬ টাকা ৯০ পয়সা।

ব্যাংক খাতে অনাগ্রহের মধ্যেও বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানা থানা আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার।

এই খাতের ৩২টি কোম্পানিতে এদিন লেনদেন হয়েছে মোট ১৬৪ কোট ৪৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে নতুন তালিকাভুক্ত সাউথবাংলায় ১২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

গত এক বছরে আইএফআইসি ব্যাংকের সর্বনিম্ন দর ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা, সর্বোচ্চ দর ছিল ১৭ টাাক ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকো গ্রুপের অপর কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকে লেনদেন অবশ্য এই খাতের সবচেয়ে বেশি ছিল না। লেনদেন হয়েছে মোট ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফুওয়াং সিরামিকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

গত এক বছরে শাইনপুকুরের সর্বনিম্ন দর ছিল ১৩ টাকা ৯০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪১ টাকা ১০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’

এক বছর ধরে চাঙাভাবে থাকা পুঁজিবাজারের সূচক সাড়ে ১০ বছর পর সাত হাজার পয়েন্টে পৌঁছার পর দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাসের ঘাটতি। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আগের দিন হাতবদল হয়েছিল এক হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯১০ কোটি ৩ লাখ টাকা। পরপর দুই দিন দুই হাজার কোটি টাকার লেনেদেন গত ২৮ ও ২৯ জুলাইয়ের পর আর দেখা যায়নি।

পরপর দুই দিন বাড়ল সূচক। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে উত্থান হলো আরও বেশি। কিন্তু লেনদেনে গতি ফেরেনি। আড়াই মাস পর প্রথমবারের মতো পরপর দুই দিন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হলো। যদিও আগের দিনের তুলনায় দেড়শ কোটি টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংক থেকে অবণ্টিত টাকা আসতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তিকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে দেখা যায় বিভ্রান্তি। বিএসইসির সঙ্গে আলোচনার পর এই আপত্তি তুলে নেয়ার সংবাদ এসেছে গণমাধ্যমে। এরপর তহবিলে ব্যাংক থেকে টাকা আসছে।

তবে এখন যোগ হয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বিএসইসির হিসাব চাওয়া। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে লেনদেনে দেখা যাচ্ছে মন্দাভাব।

১৪ কর্মদিবস পর সোমবার প্রথমবারের মতো লেনদেন নামে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে। আর এই লেনদেন ছিল ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আগের দিন হাতবদল হয়েছিল এক হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৯১০ কোটি ৩ লাখ টাকা।

পরপর দুই দিন দুই হাজার কোটি টাকার লেনেদেন গত ২৮ ও ২৯ জুলাইয়ের পর আর দেখা যায়নি।

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

মঙ্গলবার সূচকের ৫২ পয়েন্ট উত্থানে প্রধান ভূমিকায় বড় মূলধনি কোম্পানির পাশাপাশি বস্ত্র খাতে উত্থান। আগের দিন চাঙা থাকা বিমা খাত দিনের প্রথম ভাগে চাঙা থাকলেও শেষ ভাগে এসে দর হারিয়েছে অর্ধেকের মতো কোম্পানি। বেশ কয়েকটিনের হতাশা কাটিয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত কিছুটা হলেও আশা দেখাল।

কেপিসিএল, সামিটের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া তিনটিসহ মোট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বৈঠক ডাকার খবরে চাঙাভাব দেখা গেছে এই খাতেও। তথ্য প্রযুক্তি খাতেও বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর।

ব্যাংক খাতে দীর্ঘ যে হতাশা, তা থেকে বের হওয়ার যেন কোনো লক্ষণ নেই। তবে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রকৌশল খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।

লেনদেনে সেরা আগের মতোই বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানি।

সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ওয়ালটন, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণ ফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, স্কয়ার ফার্মা, রবি, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি, কেপিসিএল ও পাওয়ার গ্রিড।

এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৩৮.৭২ পয়েন্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩.৩৭ পয়েন্ট যোগ করেছে ওয়ালটন একাই।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সূচক হারিয়েছে যে ১০টি কোম্পানি, সেগুলো হলো রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, লিনডে বিডি, ডাচ্বাংলা ব্যাংক, ইবিএল, ডরেন পাওয়ার, ন্যাশনাল হাইজিং ফাইন্যান্স, কোহিনূর কেমিক্যাল, এনভয় টেক্সটাইল ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।

তবে কোম্পানিগুলোর দর হারানোর হার খুব একটি বেশি নয়। এই ১০টি কোম্পানির জন্য সূচক কমেছে মোট ৫.৬৪ পয়েন্ট।

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’

মঙ্গলবার ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধি ও কমার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে যে ১০টি করে কোম্পানি

লেনদেনে সেরা বিমা, উত্থানে বস্ত্র

আগরে দিন বিমা খাতের ঝলমলে দিন গেলেও আজ তা ধরে রাখতে পারেনি এই খাতটি। দিনের প্রথমভাবে উত্থানে থাকলেও ‍দ্বিতীয় ভাগে কমে যায় অর্ধেক কোম্পানির শেয়ারদর।

শেষ পর্যন্ত ২৫টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে ২৩টির, পাল্টায়নি বাকি তিনটির দর।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের দিন তা ছিল ২৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সাধারণ বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের ৭.৬৮ শতাংশ। শেয়ার দর ১৩৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৩০ পয়সা।

তারপরই আছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে কোম্পানি, যার দর বেড়েছে ৭.১৫ শতাংশ। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.৫০ শতাংশ।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য।

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই পাঁচ খাতে

পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রগতি লাইফযার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১.৭৭ শতাংশ। শেয়ার দর ১১৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১৫ টাকা ৬০ পয়সা।

দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১.৬২ শতাংশ কমে ৪৯ টাকা থেকে হয়েছে ৪৮ টাকা ২০ পয়সা।

বিমার পরেই লেনদেন বেশি হয়েছে বস্ত্র খাত। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ২৭৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪৩টির, কমেছে ১১টির আর পাল্টায়নি বাকি চারটির।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় এই খাতের কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য দেখা গেছে।

এর মধ্যে দর বৃদ্ধিতে বস্ত্র খাতের শীর্ষে ছিল প্যাসিফিক ডেনিম যার দর বেড়েছে ৯.৮৬ শতাংশ। শেয়ার দর ১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সা।

তারপরই ছিল আলিফ ম্যানুফেকচারিং, যার দর ৯.৫১ শতাংশ বেড়ে ১৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সা।

‘জেড’ ক্যাটাগরির তুং হাইয়ের দর ৮.৮১ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা।

প্রকৌশলে মিশ্র প্রবণতা

এই কাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৩টির, কমেছে ১৮টির। অপরিবর্তি ছিল বাকি তিনটির দর।

খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৬২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এই খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বেঙ্গল উইসডমের ৫.৮৫ শতাংশ। শেয়ার দর ২৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮ টাকা ৯০ পয়সা।

সূচকের উত্থানেও উচ্ছ্বাসের ঘাটতিতে লেনদেনে ‘খরা’
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে কম

বিবিএসের দর ৪.৯৭ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ২১ টাকা ১০ পয়সা।

অ্যাপোলো ইস্পাতের দর বেড়েছে ৩.৩৫ শতাংশ। বিবিএস ক্যাবলের দর বেড়েছে ৩.১৫ শতাংশ।

ব্যাংকের চিত্র

৩২টি ব্যাংকের মধ্যে দর বেড়েছে ১২টির, কমেছে ৬টির। আগের দিনের দামেই আছে ১২টি।

সোমাবার লেনদেন হয়েছিল মোট ১০২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ১০৩ কোটি ৮০ লাাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রূপালী ব্যাংকের ২.৩৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৩৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সা।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের বেড়েছে ২.৩৭ শতাংশ। শেয়ার দর ২১ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১ টাকা ৫০ পয়সা।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে।

দর কমেছে এনসিসি ব্যাংকের ১.২৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১.২২ শতাংশ, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ১.১৯ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

আর্থিক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫টির। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৬৮ কোটি ৪ লাখ টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয়েছে ২০৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের দিন তা ছিল ১৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির। বিপরীতে কমেছে ১২টির, অপরিবর্তিত ছিল একটির আর একটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত আছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট লেনদেন আগের দিন বেড়েছে। সোমবার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

দর বেড়েছে ২২ টির। কমেছে ৫টির। বাকি ৯টি ফান্ডের দর পাল্টায়নি।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এই খাতে ৩টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে, বেড়েছে বাকি ৮টির।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ১৭২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৫০ কোটি টাকা।

লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১১ টির। দর কমেছে ৩টির।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫২ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮৫ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২১০ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ২৪০ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৪টির, কমেছে ১০০টির ও পালটায়নি ৩৩টির।

লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর

কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর

খুলনায় কেপিসিএলের বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফাইল ছবি

খুলনা পাওয়ারসহ চার কোম্পানির পাঁচটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মঙ্গলবার সভা ডেকেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো বিল’ নীতিতে এসব কেন্দ্রকে অনুমোদন দেয়া হবে। তবে কেপিসিএল জানিয়েছে, তারা ন্যূনতম ক্যাপাসিটি চার্জ রাখার চেষ্টা করবে।

প্রথমে দুই বছরের জন্য আলোচনায় থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ তিন বছর বাড়তে যাচ্ছে।

এই কোম্পানিটি ছাড়াও সামিট পাওয়ার ও ওরিয়ন গ্রুপের মালিকানাধীন ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনা ঘাট এবং অপরটি ডাচ্-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসেরও একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

এর মধ্যে কেপিসিএলের দুটি কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ১৫৫ মেগাওয়াটের, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে সামিটের কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ১০২ মেগাওয়াট, ওরিয়নের মেঘনা ঘাট ও ডাচ্‌-বাংলার পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের সিদ্ধিরগঞ্জের উৎপাদনক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট করে।

কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয় যে আইনে, তার মেয়াদ বাড়ানোর পর পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার বেলা তিনটায় বিদ্যুৎ ভবনে এই বৈঠক আহ্বান করেছে মন্ত্রণালয়। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ১৪টি বিভাগের প্রতিনিধি এবং পাঁচটি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রতিনিধিদের থাকতে বলা হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর অসহনীয় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভাড়াভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে। প্রথমে পাঁচ বছরের জন্য এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হয়। পরে তা আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি এই পাঁচটি কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীরা হতোদ্যম হয়ে পড়েন। সামিটের বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি সেই তুলনায় কম। কারণ, কোম্পানিটির আরও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। ওরিয়ন গ্রুপের অন্য ব্যবসা আছে।

কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর

কিন্তু কেপিসিএলের দুই কেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা বলতে সহযোগী কোম্পানি ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

এই অবস্থায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১০ পাস হয়।

আইনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোয় ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়াতে আইনি বাধা দূর হয়। আর এতে উৎসাহী হয়ে ওঠেন কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ অন্তত দুই বছর বাড়বে বলে নিউজবাংলাকে একাধিকবার নিশ্চিত করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে রোড শোতে যাওয়ার আগেও তিনি বলেন, ‘সময় দুই বছর বাড়িয়ে দেয়া হবে বলে খবর পেয়েছি। আশা করি সেটি হবে। করোনার কারণে লোকজন অফিসে কম এসেছেন। ফলে কাজ কিছুটা কম হয়েছে। আমি আশ্বাস পেয়েছি এটি হবে।’

তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

কী শর্ত থাকছে, তাও জানান তিনি। বলেন, ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো বিল-এই নীতিতে কেন্দ্রগুলো চলবে।‘

অর্থাৎ, এতদিন বিদ্যুৎ না কিনলে কেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে যে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হতো, সেটি আর দেয়া হবে না। তবে পুরোটা নির্ভর করছে মঙ্গলবারের বৈঠকের ওপর।

কেপিসিএলের একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা এই শর্তে রাজি আছেন। তবে চেষ্টা করবেন ন্যূনতম একটি ক্যাপাসিটি চার্জ রাখার।

খুলনায় কেপিসিএলের ৪০ ও ১১৫ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সেখানকার স্থানীয় চাহিদা পূরণে জরুরি। সেখানে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র রামপাল ও রূপসা এখনও উৎপাদনে আসতে দেরি হবে। তাই কেপিসিএল থেকে বিদ্যুৎ কিনতেই হবে।

সতর্ক বার্তাও ছিল কেপিসিএল ও ওরিয়নের

যে আইনের অধীনে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে, সেই আইনের মেয়াদ বৃদ্ধির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার আগেই শেয়ারমূল্য বেড়ে যাওয়া নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএল ও ওরিয়ন ফার্মা।

কোম্পানি দুটি সেদিন জানায়, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়েনি। আইন সংশোধন আর মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি দুটি আলাদা বিষয়।

কেপিসিএল সেদিন বলে, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইনের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হলেও কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের কোনো চুক্তি হয়নি।

‘বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির জন্য এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হতে পারে। আপনাদের আগেই জানানো হয়েছিল, কেপিসিএলের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল ইউনিট টু ও ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া কেন্দ্র) মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

‘তবে আমরা বিদ্যুৎ বিভাগ বা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত যথাসময়ে আপনাদের জানানো হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা কোম্পানির আর্থিক হিসাবে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’

তবে মেয়াদ বৃদ্ধির বৈঠক ডাকার বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো বার্তা বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়নি।

কেপিসিএলের পূর্বাপর তথ্য

কোম্পানির হাতে ছিল তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে একটির মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হওয়ায় আর নবায়ন করা হয়নি।

বাকি দুটির মধ্যে খানজাহান আলী পাওয়ার লিমিটেডের ৪০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ৩১ মে। কেপিসিএলে ইউনিট-টু ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ না বাড়লে এই ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানার
ওপর নির্ভর করতে হতো কেপিসিএলকে

এই দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেপিসিএলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা প্লান্টই বিনিয়োগকারীদের একমাত্র ভরসার জায়গা।

গত ২১ জানুয়ারি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পটুয়াখালীর খোলিশখালীতে অবস্থিত এই কেন্দ্র থেকে ১৫ বছর বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এখানে কেপিসিএলের মালিকানা ৩৫ শতাংশ।

শেয়ার নিয়ে হতাশা

২০১০ সালে চাঙা পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১৪ টাকা করে। ছয় বছর বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

গত ৩১ আগস্টের তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির ৬৯.৯৯ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ০.২১ শতাংশ আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ২১ দশমিক ০৬ শতাংশ শেয়ার।

দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাতে থাকা প্রায় সব শেয়ার বিক্রি করে দিলেও জুলাই মাসে তারা কিনে নেন সোয়া তিন কোটির বেশি শেয়ার।

আয়ের হিসাব

কোম্পানিটির দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত ৩০ জুলাই সমাপ্ত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে বেশিও হতে পারে, আবার কমও হতে পারে।

মার্চে শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিক অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা। গত বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৬২ পয়সা।

তবে চতুর্থ প্রান্তিকের তিন মাসের জায়গায় দুই মাস চলেছে কোম্পানিটির দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই হিসাবে আয় কিছুটা কম হতে পারে। তবে ইউনাইটেড পাওয়ারের আয় যোগ হলে তা আবার গত বছরের আয়কে ছাড়িয়েও যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

সাত কারণে বিনিয়োগে আকর্ষণীয় বাংলাদেশ, জুরিখে রোড শো

সাত কারণে বিনিয়োগে আকর্ষণীয় বাংলাদেশ, জুরিখে রোড শো

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে রোড শোতে বক্তব্য রাখছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে উচ্চ রিটার্ন পাওয়া যায়। তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়াজাত শিল্প, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, ব্যাংক ও আর্থিক, গার্মেন্টস এবং ইলেকট্রনিক ও খাদ্য শিল্পে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য কেন ব্যাপক সম্ভবনাময়, সেই বিষয়টি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির রোড শোতে তুলে ধরা হয়েছে।

বলা হয়েছে, সাতটি কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যাপক লাভজনক। এগুলো হলো: আর্থসামাজিক অবস্থা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো ও দেশীয় বাজার, উচ্চ রিটার্ন, মানবসম্পদ এবং বিদেশে রপ্তানির সুযোগ।

সুইজারল্যান্ডে তিন দিনব্যাপী অর্থনীতিবিষয়ক রোড শোর প্রথম দিন ছিল সোমবার। সুইস নাগরিকদের উপস্থাপনায় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জুরিখের ডোলডার গ্রান্ড হোটেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা, পুঁজিবাজার এবং বন্ড মার্কেটকে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি।

সাত কারণে বিনিয়োগে আকর্ষণীয় বাংলাদেশ, জুরিখে রোড শো

এক দশকের হতাশা কাটিয়ে গত এক বছর ধরে চাঙা পুঁজিবাজার ও দেশে নানা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে এর আগে দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে রোড শো করেছে বিএসইসি।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তির বিবেচনায় ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিদেশি ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বিশেষ করে প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার’।

অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ৬৫ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে মার্কুজ স্কিলটার, সিলভান স্টিটলার, আলেক্সান্ডার ক্লিংকম্যান প্রমুখ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন এবং বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ব্যাস্টিক অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসী আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে শ্রমশক্তি বিশাল। এই শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে আমরা গবেষণায় জোর দিয়েছি।

‘আমাদের উৎপাদন বিস্ময়করভাবে বাড়ছে। ইতিমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। চীন-ভারত থাইল্যান্ডের মতো দেশে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। সামগ্রিক বিবেচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।’

সাত কারণে বিনিয়োগে আকর্ষণীয় বাংলাদেশ, জুরিখে রোড শো
জুরিখে বিএসইসির রোড শো শুরু হয় সুইস নাগরিকদের কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে

সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের এই সুযোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন এবং বিনিয়োগ করুন, আমরা প্রস্তুত।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কিছু কারণে বিনিয়োগের জন্য উত্তম জায়গা বাংলাদেশ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের মানবসম্পদ। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের যথেষ্ট শ্রমশক্তি রয়েছে। এই শ্রমশক্তির দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার।

‘দ্বিতীয়ত, আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী। যেসব পণ্য উৎপাদন করবেন বাংলাদেশে তার বড় একটি বাজার রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন করে চীন ও ভারতের মতো দেশে রপ্তানি করা যায়।

‘এখানে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে উচ্চ রিটার্ন পাওয়া যায়। তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়াজাত শিল্প, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, ব্যাংক ও আর্থিক, গার্মেন্টস এবং ইলেকট্রনিকস ও খাদ্য শিল্পে বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টি উঠে এসেছে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘করোনার পরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এগুলো হলো সরকারি ব্যয় বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ঋণ, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং বাজারের টাকার প্রবাহ বাড়ানো।

‘ইতিমধ্যে সরকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই প্যাকেজ বাস্তবায়নে ২২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। এই সবকিছুর মূল উদ্দেশ্য একটাই, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। ইতিমধ্যে তা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।‘

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালে আমাদের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ, যা বর্তমানে ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। অতিদরিদ্রের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

‘মানুষের গড় আয়ু ৬৭ বছর থেকে ৭২ দশমিক ৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। শিক্ষার হার, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচক এর উন্নতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। এসব বিবেচনায় আপনারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন।’

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ন কুমার ঘোষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নকিব উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক সাদ ওমর ফাহিম, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উৎসাহের অভাব দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গত ৩০ কর্মদিবসে তৃতীয়বারের মতো দুই হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হলো। এর চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল গত গত ২৭ জুলাই। সেদিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৫২১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার।

দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে সূচক উঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা স্পষ্ট হলো লেনদেনে। চলতি সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো আর ১৪ কর্মদিবস পর প্রথমবারের মতো লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নামল।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সূচকের পতনের পর দ্বিতীয় দিন সোমবার উঠানামা করতে করতে শেষ পর্যন্ত ১৪ পয়েন্ট যোগ হওয়ার স্বস্তি উবে যাচ্ছে লেনদেন দেখে। আগের দিনের তুলনায় ২৭১ কোটি টাকার কম শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই লেনদেন গত ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

এর আগে শেষ দুই হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হয়েছিল গত ২৯ আগস্ট। সেদিরও দুই হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কর্মদিবস পর।

২৯ আগস্টের আগে লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে হয়েছিল ২৭ জুলাই। সেদিন হাতবদল হয় ১ হাজার ৫২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংকের অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি তোলার পর গত সপ্তাহ থেকেই পুঁজিবাজারে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সূচকের উঠানামার ভিড়ে গত কয়েক মাসে যেসব কোম্পানির শেয়ারদর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল, সেগুলো সংশোধনে যেতে শুরু করে।

বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানির উল্লম্ফনে ওই সপ্তাহে সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেলেও চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার পতন হয় বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারদরও।

তবে একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবণ্টিত লভ্যাংশ তহবিলে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি তুলে নিয়েছে। এরপর তহবিলে ব্যাংক থেকে টাকা আসছে।

তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আর এই বিষয়টি নিয়ে তাই বিভ্রান্তি এখনও রয়ে গেছে।

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক উঠানামার চিত্র

এমনিতেই জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সূচক টানা বেড়েছে এক হাজার পয়েন্টের বেশি। ফলে একটি দর সংশোধন এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে হতে পারে বলে ধারণা ছিল। তার ওপর এই তহবিল সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি যোগ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি স্পষ্ট।

আগের দিন ৩৬ পয়েন্ট পতনের পর সোমবার লেনদেনের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট বাড়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, সেই মনোস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে বিনিয়োগকারীরা বুঝি বের হয়ে এসেছেন।

তবে এরপরের সোয়া তিন ঘণ্টায় সূচক কেবল উঠানামা করতে করতে দিনের সেই সর্বোচ্চ অস্থান থেকে কমে যায় ৩৬ পয়েন্ট।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে তহবিল নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল। কারণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়ন্ত্রক। কোনো আইনের কারণে তহবিলের অর্থ জমা হতে সমস্যা হলে পুরো পরিকল্পনাটি দুর্বল হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এখন যে কথাগুলো বলছে সেটি আগে বলছে হয়ত এত জটিলতা হতো না। আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হতো না।’

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বৃদ্ধি ও কমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে যে ১০টি কোম্পানি

সূচকের লড়াইয়ের দিন পুঁজিবাজারে ঝলমলে দিন গেছে বিমা খাতে। সাধারণ বিমা কোম্পানির শেয়ারগুলো বহুদিন পর দল বেঁধে বাড়তে দেখা গেছে। দর বৃদ্ধির হারও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ব্যাংক খাতে আরও একটি হতাশার দিন গেল। পতন হয়েছে খাদ্য, জ্বালানি, আর্থিক, ওষুধ ও রসায়ন এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতেও।

ঝলমলে বিমা খাত

গত বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক দফায় এবং পরে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিমা খাতের শেয়ারগুলোর দল বেঁধে উত্থানের যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, সেটি বহুদিন পর দেখা গেল আবার।

সাধারণ বিমা খাতের ১৩টি কোম্পানির সবগুলো দর হারলেও সাধারণ বিমার ৩৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন ১০টি কোম্পানির মধ্যে দুটি ছিল এই খাতের। এর মধ্যে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও বিএনআইসিএলের দর ছুঁয়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা।

এই খাতে দলের পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ২৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন ছিল ২০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দর। ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৩০ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ১৪৩ টাকা ৮০ পয়সা।

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন
সোমবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই পাঁচটি খাতে

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর ১২১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯.৯২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩৪ টাকা।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৮.২৯ শতাংশ বেড়ে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৬২ টাকা ৬০ পয়সা।

দর বৃদ্ধির তালিকায় আছে রূপালী ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স। যাদের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৪৬ শতাংশ থেকে ৭.৭৬ শতাংশ পর্যন্ত।

এই খাতে জীবন বিমা খাতের প্রতিটি কোম্পানি দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩.৬৪ শতাংশ কমেছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৩৯ শতাংশ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৩২ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ২.৯২ শতাংশ কমেছে।

বস্ত্র, প্রকৌশলেও ভালো দিন

বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ২০৬ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৫ কোটি টাকা। লেনদেনে দর বেড়েছে ৪৪টির কোম্পানির। দর হারিয়েছে ১২ টি কোম্পানির।

এদিন বস্ত্র খাতের ‘জেড‘ ক্যাটাগরির আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে দিনের সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ। শেয়ার দর ৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।

তারপরই আছে রিং শাইন টেক্সটাইল, যার দর ৯.৫৯ শতাংশ বেড়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

জাহিন স্পিনিং মিলসের দর ৯.২৭ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্সের দর ৮.৪৮ শতাংশ, এনভয় টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৭.৫৪ শতাংশ।

এ খাতে দুলামিয়া কটনের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ৩.৪৬ শতাংশ। দেশ গার্মেন্টসের দর বেড়েছে ৩.০৫ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪টির, কমেছে ১৭টির, আর অপরিবর্তিত ছিল একটির।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় বেশ কম। রোববার হাতবদল হয়েছিল ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই খাতের দুই কোম্পানি খান ব্রাদার্স ও অ্যাপোলো ইস্পাতের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রথম কোম্পানির দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ, আর দ্বিতীয়টির ৯.১৭ শতাংশ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি দাম বাড়া সম্ভব ছিল না কোম্পানি দুটির।

দর হারিয়ে বিনিয়োগ কমছে ব্যাংকে

৩২টি ব্যাংকের মধ্যে দর কমেছে ১২টির, বেড়েছে ৮টির। আগের দিনের দামেই আছে ১২টি।

লেনদেন হয়েছে মোট ১০২ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন
বিনিয়োগকারীদেরকে আরও হতাশ করল ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত

লেনদেনে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ৩.১৬ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২ টাকা ২০ পয়সা।

তারপরেই আছে ইস্টার্ন ব্যাংক, যার দর কমেছে ২.১৫ শতাংশ। আগের দিন বড় পতনের পর এনআরবিসি ব্যাংকের দর আরও কমেছে ১.৪১ শতাংশ। ২৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৭ টাকা ৮০ পয়সা।

ইউসিবি, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে।

ব্যাংকের দর খাতের সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ২.৩৭ শতাংশ। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ১.০৯ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৭৭ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

আর্থিক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪টির। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৬৮ কোটি ০৪ লাখ টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৫৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। ১২টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৭টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি তিনটির। আর একটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরেই স্থগিত। এই খাতে আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট লেনদেন আরও কম হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লেনদেনে এ খাতের ৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ৮টির।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬টির, কমেছে ৮টির দর। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ১৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২০৫ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ৫ দশমিক ৬০৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ০৩০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬টির, কমেছে ১৩১টির ও পালটায়নি ৩৮টির।

লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি। দরপতনে শীর্ষ পাঁচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড

জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে হতাশা কাটিয়ে যখন উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, সে সময় লভ্যাংশের রেকর্ড ডেটের পর মূল্য পতন আবার সেই হতাশার বৃত্তে নিয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের।

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি হয়েছে, যার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

বাজারে মোট ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে। এর মধ্যে জুনে অর্থবছর শেষ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ২৯টি। এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে হাতে থাকা নগদ টাকার ভিত্তিতে।

অর্থাৎ জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

আর এই দরপতনের ক্ষেত্রে আরও একটি ঘটনা ঘটছে, যেটি বিস্ময়করই বটে।

যেমন- ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট ও পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রেকর্ড ডেট শেষে দর হারিয়েছে ৭০ পয়সা। আগের দিন যে দাম ছিল, তাতে এর চেয়ে বেশি কমতে পারত না দাম।

অন্যদিকে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া এফবিএফআইএফ দর হারিয়েছে ৪০ পয়সা।

রোববার রেকর্ড ডেট শেষে লেনদেন শুরু করা ১০টি ফান্ডের সব এভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০ পয়সা করে দর কমেছে ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এই দুটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

রেকর্ড ডেটে দুটি ফান্ডের দাম ছিল যথাক্রমে ৯ টাকা ৭০ পয়সা ও ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এক দিনে কমতে পারত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, কমেছেও সেটাই।

পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ দুই ধরনের হয়ে থাকে। বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ। যতটুকু বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রস্তাব করা হয়, রেকর্ড ডেট শেষে সেই পরিমাণ দাম আগেই সমন্বয় করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ, কিন্তু নগদ লভ্যাংশ সমন্বয় করা হয় না কখনও।

তার পরই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এই নগদ লভ্যাংশও কার্যত সমন্বয় হয়ে যাওয়ায় লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের আসলে কোনো মুনাফা থাকছে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার এর কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছেন না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমে আসার কারণ হচ্ছে, সারা বছর এ খাতের ইউনিটের দুরবস্থা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে মূলত লভ্যাংশ দেবার সময় এসেছে এ জন্য। ফলে ভালো লভ্যাংশ দেবে এমন প্রত্যাশায় বেশ কিছু মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ হয়।

‘তবে বেশির ভাগ ইউনিট হোল্ডার লভ্যাংশ না নিয়েই ইউনিটপ্রতি মুনাফা হলেই বিক্রি করে বের হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে এখানে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ হয় না। যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন তারাই শুধু এখানে থাকেন।’

‘তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম ওঠা-নামার সঙ্গে লভ্যাংশের খুব বেশি সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। এটাই হয়তো একটা কারণ।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই চিত্র হয়তো থাকবে না। তিনি বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যদি ইউনিটধারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন দিতে না পারে, তাহলে এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। তবে এখন আসছে। সর্বশেষ অর্থবছর বিবেচনায় সিংহভাগ মিউুচ্যয়াল ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে আশা করা যায়, এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে।’

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

বেশি লভ্যাংশ দিয়ে বেশি পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউনিটপ্রতি সবচেয়ে বেশি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে এনএলআই মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২৮ আগস্ট। সেদিন দর ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা।

পরের দিন এক দিনেই দাম কমে ১ টাকা ৬০ পয়সা। দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার লেনদেন হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ নেয়ার পর একেকটি ইউনিটের দাম পড়েছে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

এসইএমএল লেকটার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ইউনিটধারীদের ২০২১ সালের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। পরদিন দর কমে হয় ১১ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে ৮০ পয়সা।

সে সময় ৭০ পয়সা মুনাফা হলেও পরে তা আর থাকেনি। কারণ এরপর থেকে দাম আরও কমছে। রোববার ফান্ডটির একেকটি ইউনিট লেনদেন শেষ করেছে ১০ টাকা ৪০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ দিতে গিয়ে বিনিয়োগকারী খুইয়েছেন ২ টাকা ১০ পয়সা।

ইউনিটধারীদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। এর লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটও ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ইউনিট মূল্য ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। রেকর্ড ডেটের পর সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী দাম কমে ১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর আরও কমে রোববার লেনদেন শেষ করে ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়ে এই ফান্ডে বিনিয়োগকারী ইউনিটপ্রতি মূল্য হারিয়েছেন ১ টাকা ৬০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডে ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ নেয়ার রেকর্ড ডেট ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে প্রথম দিন কমে ১ টাকা ৩০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ নিয়ে দুই টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারী।

সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ নিয়েও লাভবান হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

ফান্ডটি লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের দিন দর ছিল ১৯ টাকা ৫০ পয়সা। রোববারের দর ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়ে একেকজন খুইয়েছেন ১ টাকা ৭০ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিটধারীরা ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে খুইয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

৮ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ কমেছে দেড় টাকা।

ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা।

১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে বিনিয়োগকারীর এখন পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। রোববার ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল ৮ টাকা ২০ পয়সা।

সমপরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও একই দশা। রেকর্ড ডেট ১ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি এখন কমে হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে একেকজন হারিয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০২১ সালে ইউনিটধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ বা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বরে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম ৯০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে ৯০ পয়সার বেশি কমার সুযোগ ছিল না।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও একই অবস্থা। ইউনিটধারীদের ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ফান্ডটি। রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দর ছিল ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী কমতে পারত ৯০ পয়সা, কমেছেও তা।

ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটে দাম ছিল ৭ টাকা ৪০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। কমেছে তাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

৮৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ২০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও ততটাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্ন সীমা ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। এই একটি দামেই লেনদেন হয়েছে দিনভর।

৮০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমতে পারত সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

রেকর্ড ডেটে ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। তবে কমেছে ৬০ পয়সা।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও এফবিএফআইএফের লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের কার্যত কোনো মুনাফা হয়নি।

৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া প্রথম ফান্ডের দাম কমেছে সমপরিমাণ, আর ইউনিটে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দ্বিতীয় ফান্ডের দাম কমেছে ৪০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবির ৮ ফান্ডে মুনাফা

এবার চাঙা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আটটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো মুনাফা করতে না পারার পর লভ্যাংশ দিয়েছে তুলনামূলক কম। তবে লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, তারা অতটা হতাশ নন। এর কারণ একটির ইউনিট মূল্য লভ্যাংশের পর বেড়েছে। বাকিগুলোর কমলেও এতটা কমেনি যে লভ্যাংশ হিসাব করলে লোকসান হবে।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা অবশ্য ব্যাপক মুনাফা করেছেন। ইউনিটপ্রতি ৮০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ লভ্যাংশ নেয়ার পরও দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল অগ্রণী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এখন দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এই ফান্ডে বিনিয়োগকারীর মুনাফা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডটির ইউনিটধারীরাও মুনাফা পেয়েছেন। রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ পয়সা কমে এখন দাম ৭ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা মুনাফায় আছেন বিনিয়োগকারীরা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। রোববার দাম ৮ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৪০ পয়সা। এই ফান্ডেও ইউনিটপ্রতি মুনাফা আছে ৩০ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। রোববার দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ২০ পয়সা।

সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দেয়া ফান্ডটির বিনিয়োগকারীরাও ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা মুনাফায় আছেন।

ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফান্ডটির ইউনিটধারীদেরও মুনাফা হয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিয়েছেন, তাদের অন্তত লভ্যাংশের ৫০ পয়সা মুনাফা আছে।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা, রোববার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিট-মূল্য কমেছে ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের নয়টি উড়োজাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পেল বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কর্তৃপক্ষ।

রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ৯টি উড়োজাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করে নতুন পর্ষদ।

ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা তারা যতটা খারাপ ভেবেছিলেন তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি আমরা যেটা মনে করেছিলাম, যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ দেখিনি। আমি আরও বেশি গারবেজ মনে করেছিলাম। তবে ভেতরে কি অবস্থা এটা বোঝার উপায় নেই।

‘এরপর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম যাবে এগুলোর অবস্থা দেখতে। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম গেলে আবার তাদের যন্ত্রপাতিও কিছু লাগবে। আজই প্রথম গেলাম। বিমানবন্দরে আমাদের যে অফিস আছে সেটা এখনো খুলতে পারিনি। আশা করছি, আগামীকাল সেটাতেও যেতে পারব। তখন আমরা ডকুমেন্টেশনগুলো দেখতে পারব।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর হিসাবে, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়া হবে মালিকপক্ষকে।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উড়োজাহাজগুলো হয়তো ফ্লাইয়েবল করা যাবে কিন্তু সেটা কতটুকু ইকোনোমিক হবে সেটা এখন প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আমরা এটা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করব নাকি কার্গো পরিবহন করব এটাও তখনই ঠিক হবে।

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

‘কার্গোর ক্ষেত্রে যে রিকোয়্যারমেন্টগুলো আছে সেগুলো অনেক রিল্যাক্সড। এটা করা অনেক সহজ হবে বলে আমার ধারণা। তবে এটি টেকনিক্যাল রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। তবে এটাও ঠিক উড়োজাহাজগুলোর বয়স অনেক হয়েছে। এগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাটা আমাদের কাছেও সুদুরপরাহত মনে হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের কোনো সময়সীমা আমরা ঠিক করিনি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চেষ্টা হচ্ছে দেশীয় একটি টিম গঠন করে এগুলোর একটি নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। এজন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আমরা কথাও বলছি।’

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইন টেক্সটাইলের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া ছবি

গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে। এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বন্ধ থাকা রিংসাইন টেক্সটাইলে প্রাণ ফেরাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্যোগ আরও একটু এগিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে দুটি ইউনিটে উৎপাদন চলতে থাকা কোম্পানিটিতে আরও একটি ইউনিটে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পরের বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি গত ২৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের বাদ দিয়ে দেয়।

বিএসইসি এখন পর্যন্ত ১৩টি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রিংসাইনে উৎপাদন শুরু হয়। গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে।

এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

জানতে চাইলে বিএসইসি মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক সগীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিটির উৎপাদন চালু আছে। উৎপাদনও বাড়ছে।’

নতুন কোনো প্ল্যান্ট শিগগিরই চালু হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে দুটি চালু করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার পর প্রয়োজনে আমরা নতুন প্ল্যান্ট চালুর দিকে যাব। প্রয়োজনে আইপিওর যে টাকা রাখা আছে, সেগুলোরও ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

রিংসাইনের ক্ষেত্রে নতুন বোর্ড আরেকটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছে এ কারণে যে, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি যে ১৫০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার পুরোটাই ব্যাংকে রক্ষিত ছিল। এর মধ্যে বিএসইসির অনুমতি পেয়ে ৪০ কোটি টাকায় দায়দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকি অর্থে শুরু হয় উৎপাদন।

ফলে আরও ১১০ কোটি টাকা ব্যবহারের সুযোগ আছে নতুন পর্ষদের কাছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা খতিয়ে দেখে অনুমতি দেবে বিএসইসি।

শেয়ার বাতিলে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

বিএসইসির সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে টাকা ছাড়াই যে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হবে। এ-সংক্রান্ত আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ। এখন তা কমিশন সভায় উপস্থাপন করার বাকি। আগামী মাসেই তা উপস্থাপন করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশন শেয়ার বাতিল করতে পারে না। শেয়ার বাতিলের অংশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কোম্পানিটিকে আদালতে গিয়ে অবৈধ শেয়ারগুলো বাতিল করার জন্য বলা হবে। কোম্পানি তখন সে শেয়ারগুলো বাতিল করবে।’

তবে রিংসাইনের মনোনীত পরিচালক সগীর আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি। আমাদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

আইপিওতে আসার আগে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা বা পরিচালক ও ৭৩ জন সাধারণ শেয়ারধারীর কাছে ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা করা হয়। এর বিপরীতে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ
বন্ধ হয়ে যাওয়া রিংসাইনে প্রাণ ফিরছে বিএসইসির উদ্যোগে

রিংসাইনের বোর্ড পুনর্গঠনের পর তদন্ত করে এই বিষয়টি উদঘাটন করে বিএসইসি। এর পরে এসব শেয়ার বাতিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

২৭ কোটি ৫১ লাখ শেয়ার বাতিল হলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ২২৫ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা হবে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩টি।

অর্থাৎ বর্তমানে কোম্পানিটির যে শেয়ার দেখানো হচ্ছে, তার ৫৪ শতাংশই কমে যাচ্ছে।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে চিঠি

বিএসইসির একজন কমিশনার জানান, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে রিংসাইনকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি মনোনীত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক সগীর হোসাইন খন্দকার সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তারা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এজিএম করবেন। সেখানে কোম্পানির সবশেষ পরিস্থিতি জানানো হবে বিনিয়োগকারীদের।

তালিকাভুক্তির বছরে ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল রিংসাইন। ২০২০ সালে ১ শতাংশ বোনাস ও ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলেও বার্ষিক সাধারণ সভা করে সেটি অনুমোদন করা যায়নি। এর মধ্যে করোনার সময় কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কোনো একটা কিছু হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে কোম্পানির আইপিও ফান্ড আটকে দেয় বিএসইসি।

উৎপাদন শুরু হলেও এবার জুনে অর্থবছর শেষে বোর্ডসভায় ২০২১ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

উৎপাদন চালু হলেও কোম্পানির আর্থিক হিসাব প্রকাশ না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সগীর জানান, উৎপাদনে আসার পর কোম্পানি মুনাফা করছে। তবে তাদের আগের লোকসান আছে। সেগুলো সমন্বয় করে হিসাব-নিকাশ করতে একটু সময় লাগছে।

কবে নাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন সিএফও যোগদান করেছেন। তিনি এ বিষয়টিকে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা একটি কোম্পানির পরিপূর্ণ হিসাব তৈরি করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে তা প্রকাশ করা হবে।’

তালিকাভুক্তির পরই ভেঙে পড়ে কোম্পানিটি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকায় যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ মেটানোর কথা ছিল। তবে সেই টাকা তারা ব্যবহার করার আগেই হস্তক্ষেপ করে বিএসইসি।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করার আগেই ২০১৯ সালের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তী লেনদেনে সার্কিট ব্রেকার থাকবে কি থাকবে না, এমন অবস্থায় কোম্পানিটি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ১২ ডিসেম্বর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে।

পরের বছরের জন্য কোম্পানিটি ১ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করে কিন্তু বার্ষিক সাধারণ সভা আর হয়নি। ফলে বিষয়টি আর চূড়ান্ত হয়নি।

যদিও কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও থেকে তোলা টাকার ব্যবহারের খাত পরিবর্তন।

তখন অভিযোগ ওঠে, কোম্পানিটির বিদেশি পরিচালকরা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকা নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন। তখন বিএসইসির অনুরোধে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেভাবে বিপাকে

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) তাইওয়ানের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রিংসাইন একটি শক্তিশালী কোম্পানি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর শ্রমিকসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি ছিল।

১৯৯৬ সালে ডিইপিজেডে তাইওয়ানের নাগরিক মি সাও সোয়েটার কারখানাটি চালু করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যে একে একে তিনি গড়ে তোলেন অ্যাভাস গার্ড লিমিটেড, সাইন ফ্যাশন লিমিটেড ও ইন্টার লগ লিমিটেড। এসব কারখানায় শ্রমিক ছিল আরও অন্তত সাত হাজার।

সমস্যার শুরু পাঁচ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত কারণে মি সাও মারা গেলে তার ছেলে মি উইং থিং ও মেয়ে অ্যাঞ্জেলা কারখানাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেননি।

মালিকদের অভিযোগ, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানি করা সুতাসহ নানা উপকরণ পাচার করে দিচ্ছিলেন শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মি সাওয়ের মতো তার সন্তানরা ব্যবসা অতটা ভালো বুঝতেন না। আর এই সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও তথ্য আছে। একপর্যায়ে মি সাওয়ের দুই সন্তান কাউকে না বলে বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
যমুনা-বেক্সিমকো এলপিজি চুক্তির সুফল আপাতত পাবে না কেউ
জুলাইয়ে বেক্সিমকোর ৪ কোটি শেয়ার কিনল প্রতিষ্ঠান
আকর্ষণীয় সুকুকে অনাগ্রহ যেসব কারণে, বাড়ল আবেদনের সময়
সুকুক নয়, তুমুল আগ্রহ বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ারে
সুকুক বন্ড: ১ লাখে ৫ বছরে ৭৮ হাজার টাকা মুনাফা সম্ভব

শেয়ার করুন