এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক ১৪ সেপ্টেম্বর

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক ১৪ সেপ্টেম্বর

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম সোমবার এই তারিখ ঠিক করেছেন।

মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জন আসামি রয়েছেন। নতুন ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এমডি এ কে এম শামীম ও সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন সোমবার আদালতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত বক্তব্য জমা দেন। এরপর বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২৯ আগস্ট একই আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাত আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

এ সাত আসামি হলেন- ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। এরপর তারা লিখিত বক্তব্য দেবেন বলে আদালতকে জানান। আদালত তাদের লিখিত বক্তব্য দাখিলের জন্য ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন এই মামলায় আসামি পক্ষের অন্যতম আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম অনি।

গত ২৪ আগস্ট আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ মামলায় অভিযোগপত্রের অন্তর্ভুক্ত ২১ সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ঋণ জালিয়াতি ও চার কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এস কে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

রাজধানীর কয়েকটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ছবি: অনির্বাণ বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইয়াবা কারবারিরাই মিয়ানমার থেকে নাফ নদী দিয়ে আইস নিয়ে আসছে দেশে। এ মাদকের কারবারে যুক্ত হচ্ছে বিত্তবানরা। তাদের কেউ কেউ বিবিএ করেছেন ইংল্যান্ডে, কেউ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

ইয়াবা কারবারিরা মিয়ানমার থেকে ভয়ানক মাদক আইস নিয়ে আসছে জানিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, এ কারবারে জড়িত আছে বিদেশফেরত উচ্চশিক্ষিতরা।

অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, রমনা ও ভাটারা থানা এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার কয়েক দফা অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অধিদপ্তর জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ৫৬০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১ হাজার ২০০টি ইয়াবা বড়ি এবং দুইটি প্রাইভেটকার। তাদের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে জানাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান জানান, শুধু ঢাকা বিভাগেই মাদক কারবারির সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার।

আইসের উৎস মিয়ানমার, কারবারে বিদেশফেরতরা

তিনি জানান, ইয়াবা কারবারিরাই মিয়ানমার থেকে নাফ নদী দিয়ে আইস নিয়ে আসছে দেশে। এ মাদকের কারবারে যুক্ত হচ্ছে বিত্তবানরা। তাদের কেউ কেউ বিবিএ করেছেন ইংল্যান্ডে, কেউ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা রাজধানীর অভিজাত এলাকায় করছেন মাদকের কারবার। তারা সেবনের পাশাপাশি আইস কারবারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলুর বলেন, ‘২১ আগস্ট প্রায় আধা কেজি আইসসহ বনানী-উত্তরাকেন্দ্রিক ১০ সদস্যের একটি নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গোয়েন্দা কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুলশান, ভাটারা, কুড়িল, রমনা এলাকায় আইসের আরও একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে আমরা শনাক্ত করতে সক্ষম হই।’

তিনি বলেন, ‘রমনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জাকারিয়া আহমেদ অমনকে পাঁচ গ্রাম আইসসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জাকারিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বারিধারার দূতাবাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তারেক আহম্মেদকে পাঁচ গ্রাম আইস ও ১০০টি ইয়াবা ও একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

‘জাকারিয়া ও তারেকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাদ্দাম হোসেনকে ৯০ গ্রাম আইস ও ৪০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তারের বিষয়ে ফজলুর আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শহীদুল ইসলাম খানকে একই এলাকা (কুড়িল বিশ্বরোড) থেকে ২০০ গ্রাম আইস ও ৫০০টি ইয়াবা, একটি প্রাইভেটকারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

‘আসামিদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জোয়ার সাহারা, ভাটারা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জসিম উদ্দিনকে ২৬০ গ্রাম আইস ও ২০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।’

সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারিকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলুর বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী ও প্রমাণ না থাকায় অনেককেই ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

‘তারা নিজেদের কাছে মাদক রেখে কারবার করেন না; দূর থেকে টাকা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছি।’

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত যুবক

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত যুবক

রাজধানীর আদাবরে বৃহস্পতিবার রাতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন এক যুবক। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে স্বজনরা মিরাজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার।

রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে মো. মিরাজ খান (২০) নামের এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।

বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১১টার দিকে স্বজনরা মিরাজকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা চলছে তার।

বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকার ৭২৬/১১ নম্বর বাসায় থাকেন মিরাজ। তার বাবার নাম শাহ আলম খান।

আহতের চাচা রবি খান জানান, রাতের দিকে হাউজিং এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন মিরাজ। ওই সময় দুই যুবক এসে তার কাছ থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দেয়ায় ছিনতাইকারীরা মিরাজের মাথা, হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে।

রবি আরও জানান, আহত মিরাজের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ছিনতাইকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি থেকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় এক যুবকে নিয়ে আসা হয়েছে ঢামেকে। জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

বাচ্চু আরও জানান, যুবকের মাথা, হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

এসবিএসি ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

এসবিএসি ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

দুর্নীতি দমন কমিশন। ফাইল ছবি

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে, দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলেছেন। তিনি এসবিএসি ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের সদ্য পদত্যাগী চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে ব্যাংকটির সাবেক এমডিসহ নয় কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সই করা তলবি নোটিশে তাদেরকে রোববার কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদেক বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদক নোটিশ দিয়েছে এসবিএসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশীদ মোল্লাকে।

এছাড়াও তলব করা হয়েছে ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউল লতিফ, ভিপি ও শাখা প্রধান এসএম ইকবাল মেহেদী, এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহা. মঞ্জুরুল আলম, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার মণ্ডল ও ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার তপু কুমার সাহাকে।

দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। আগস্টের মাঝামাঝি দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর মধ্যে গত মঙ্গলবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন আমজাদ হোসেন।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে, দেশে বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলেছেন। তিনি এসবিএসি ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আমজাদ হোসেনের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

ওই চিঠিতে বলা হয়, আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংকের শেয়ারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করার চেষ্টা করছেন। এসব অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করছেন, যা মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ।

গত বছরের জানুয়ারিতে এস এম আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ এবং মেয়ে তাজরিরের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।

খুলনা অঞ্চলের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের মালিক এস এম আমজাদ হোসেন। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সিফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, শম্পা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রুপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা এগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেড লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রা অটো ব্রিকস লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে জব্দ মাইক্রোবাস।

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

হাতিরঝিল এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। তার সঙ্গে আসা তিশান নামে এক ব্যক্তি জানান, লেকের মাই টিভি ভবন এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন মনির।

পরে পুলিশ জানায়, যে মাইক্রোবাসে করে মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল তারই ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন তিনি।

ততক্ষণে মাইক্রোবাসটি অ্যাম্বুলেন্স পার্কি লটে ফেলে সটকে পড়েছেন মনিরকে হাসপাতালে আনা চালক ও অন্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয় তাকে। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসাদের একজন পথচারী তিশান বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাসায় যাচ্ছিলাম। পরে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লোকটা পড়ে আছে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার (মনির) কাছে দুটি মোবাইল ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার লকমোতা গ্রামে। পিতার নাম হাজিল উদ্দিন। নিহতের মোবাইল থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তার ফুফাতো বোনের জামাই রিপন পাটোয়ারী দুঃসংবাদ পেয়ে ঢামেকে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

‘তিনি জানিয়েছেন,নিহত ব্যক্তি গাড়ির চালক ছিলেন।’

তবে তিশানের এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসটির চালক পালিয়ে যাওয়ার পর।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢামেক থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করেন হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আল ইমরান।

তিনি বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের সম্পদ তদন্তের আদেশ স্থগিত করেনি চেম্বার

রাজারবাগ পিরের সম্পদ তদন্তের আদেশ স্থগিত করেনি চেম্বার

পিরের মুরিদদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। পাশাপাশি রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়রানিমূলক কি না, সেটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রাজারবাগ দরবার শরিফের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দেয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার আদালত এ বিষয়ে নো অর্ডার দেয়। ফলে এ-সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকল বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

রোববার রাজারবাগ দরবারের পিরের সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

একই সঙ্গে পিরের মুরিদদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। পাশাপাশি রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়রানিমূলক কি না, সেটিও তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এসব তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলে আবেদন করেন পির।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান। অপর দিকে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।

গায়েবি মামলা দিয়ে অযথা মানুষকে হয়রানির অভিযোগে রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমান ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আট ভুক্তভোগী।

এর আগে অন্যের জায়গা-জমি দখলের জন্য রাজারবাগ দরবার শরিফের পিরের কাণ্ড নিয়ে বিস্ময় জানিয়েছিল হাইকোর্ট।

মুরিদদের দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৯টি মামলা দেয়ার ঘটনায় সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট দেখে আদালত এ বিস্ময় জানায়।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

৩ ফার্মেসিকে জরিমানা ৪ লাখ

গুলশানে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দেয়। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় রাজধানীর গুলশানের তিন ফার্মেসিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গুলশান-২ এলাকায় বৃহস্পতিবার র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।

র‍্যাব-৪-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, ফার্মেসিগুলো অনুমোদনহীন ও আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করছিল। সে জন্য ফার্মেসিগুলোর ম্যানেজারদের অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

অভিযানের সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে জান্নাত ফার্মার ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন রিজবুকে ২ লাখ, ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-১-এর ম্যানেজার শাহাদাত আলমকে দেড় লাখ ও ইউনাইটেড ফার্মা ব্রাঞ্চ-২-এর ম্যানেজার আব্দুল হামিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিন ফার্মেসি থেকে জব্দ করা ওষুধ ধ্বংস করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন

অবৈধ ভিওআইপি: চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অবৈধ ভিওআইপি: চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অবৈধ ভিওআইপি কারবারের সঙ্গে জড়িত চার সদস্যকে আন্তর্জাতিক কলিং কার্ডসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভিওআইপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে আসছিল। যে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড পাওয়া গেছে তা যদি ব্যবহার হতো, তাহলে সরকার আনুমানিক ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো।’

রাজধানীর ফকিরাপুলের গরমপানির গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভিওআইপি কারবারের সঙ্গে জড়িত ৪ সদস্যকে আন্তর্জাতিক কলিং কার্ডসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় র‍্যাব-১০ ও বিটিআরসির সমন্বয়ে যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

চারজন হলেন মো. আমির হামজা, মো. আলমগীর হোসেন, মো. শামীম মিয়া ও মো. সাগর মিয়া।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিওআইপি কারবারে ব্যবহৃত ২টি সিপিইউ, ২টি মনিটর, ১টি মাউস, ১টি কী-বোর্ড, ২টি প্রিন্টার, ২টি টোনার, ১টি পেপার কাটার মেশিন, ১টি ডিজিটাল ওজন মেশিন ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, আসামিরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জের কাজ চালিয়ে আসছিল। তাদের কাছ থেকে ভয়েস পাকিস্তান, পাকিস্তান ভয়েস, কাতার এক্সপ্রেস, এশিয়ান টেলিকম, এনএস এক্সপ্রেস, প্রবাসী কার্ড, স্বপন টেল, সুপার কার্ড ও কান্ডার টু-সহ মোট ১০৭টি কলিং কার্ড ক্লাইন্টের আনুমানিক দেড় লাখের বেশি কুপন পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ভিওআইপির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে আসছিল।

তিনি বলেন, যে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড পাওয়া গেছে তা যদি ব্যবহার হতো তাহলে বাংলাদেশ সরকার আনুমানিক ১৯ কোটি ৪৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এই অসাধু ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা প্রচলিত সফটওয়্যার-ভিত্তিক সুইচের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক কল রাউট করত ও স্থাপনা পরিচালনা করার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রদেয় রাজস্ব ও চার্জ ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশে যান্ত্রিক, ভার্চুয়াল এবং সফটওয়্যার-ভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করত।’

‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত ডায়ালার অ্যাপ কলের বাংলাদেশে অবৈধভাবে রাউট করত ও ওই অ্যাপে রিচার্জের জন্য বিভিন্ন অঙ্কের কলিং কার্ড বিক্রি করত। এ ছাড়া তারা অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করত।’

র‍্যাব জানায়, ‘গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা অবৈধ ভিওআইপি চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ ৭ থেকে ৮ বছর ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। প্রিন্টিং প্রেসে ভয়েস পাকিস্তান, পাকিস্তান ভয়েস, কাতার এক্সপ্রেস, এশিয়ান টেলিকম, এনএস এক্সপ্রেস, প্রবাসী কার্ড, স্বপন টেল, সুপার কার্ড ও কাতার টুসহ মোট ১০৭টি কলিং কার্ড ক্লাইন্টের দেড় লাখের বেশি কুপন পাওয়া গেছে।’

চক্রটি এখন পর্যন্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপির ব্যবসা করে আসছিল। তারা ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করতে চেয়েছিল। তবে তার আগেই আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি। তারা হুন্ডির মাধ্যমে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এসব ব্যবসা পরিচালনা করত। তাদের রিমান্ডে নেয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনস্পেকশন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর এস এম গোলাম সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তা বলেন, বিটিআরসির চোখ ফাঁকি দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে যাচ্ছিল এই চক্রটি। বিটিআরসির ব্যর্থতা এবং এখানে আমাদের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না, সেই বিষয়টি সামনে আসছে।

তিনি বলেন, অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে র‍্যাবের সঙ্গে বিটিআরসি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সেগুলো আপনারা দেখতে পারছেন, কিন্তু এর বাইরেও আমরা ধারাবাহিকভাবে অনেক কাজ করে আসছি, তবে সেগুলো ইনভিজ্যুয়াল।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রতি ১২ ঘণ্টা পর বিটিআরসির সেটআপ লজিক আছে সেগুলো আমরা প্রয়োগ করি। এর মধ্যে যেসব সিম সন্দেহজনক মনে হয়, সেই সিমগুলো ব্লক করে দেয়া হয়। অবৈধ ব্যবসায়ীদের সিম ব্লক করার পরে তারা নতুন নতুন সিমের স্টক আনে। এভাবে তারা তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

‘অবৈধ এসব ব্যবসায়ী দেশের বাইরে থেকে টেকনিক্যাল জ্ঞান অর্জন করেন। তাদের মাস্টারমাইন্ড থাকে এবং তারা টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেন। তারা সব সময় আপডেট থাকেন এবং বিটিআরসি মডুয়েলকে কীভাবে ফাঁকি দেয়া যায়, তা এনালাইসিস করে তা ইমপ্লিমেন্ট করার চেষ্টা করেন তারা।’

অনেক সময় বিটিআরসির গ্যাপের কারণেও এই অবৈধ ভিওআইপিরা সাময়িক ব্যবসা করছে, তবে আলটিমেটটি একটি সময়ে তারা ধরা পড়ছে। আমাদের টেকনোলজি আরও আপডেট ও লজিস্টিক পরিবর্তন করতে হবে বলে যোগ করেন বিটিআরসির এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইনস্পেকশন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর এস এম গোলাম সারওয়ার।

তিনি বলেন, অবৈধ ভিওআইপি নিয়ে বিটিআরসির যেসব কর্মকর্তা কাজ করেন, তারা অবৈধ কাজে জড়িয়ে যাচ্ছেন কি না অথবা তাদের অবহেলার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে কি না, সেগুলো মনিটর করতেও আমাদের একটি গ্রুপ কাজ করে। তবে এখানে বিটিআরসির কোনো ব্যর্থতা নেই।

আরও পড়ুন:
অর্থ পাচার: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ
বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ভাই-ভাতিজার সাক্ষ্য

শেয়ার করুন