বোনাস শেয়ারে লাগামের আদেশে স্বল্প মূলধনীর পতন

বোনাস শেয়ারে লাগামের আদেশে স্বল্প মূলধনীর পতন

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তে স্বল্প মূলধনী লোকসানি কোম্পানির শেয়ারধারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

একদিনের ব্যবধানে ১৮০ ডিগ্রি উল্টে যাওয়ার কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরই আরেক নির্দেশনা। রোববার সংস্থাটি এক আদেশে লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়েছে। কোনো কোম্পানি চাইলেই আর বোনাস শেয়ার দিতে পারবে না। এভাবে মূলধন বাড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হবে আগেই।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে কমিটি গঠনের খবরে শেয়ার মূল্য লাফ দিলেও উল্টোচিত্র দেখা গেল পরের দিন।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার সবচেয়ে বেশি দর হারানো ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৮টিই স্বল্প মূলধনী। এর মধ্যে একটি ছাড়া সবগুলো লোকসানি।

অবশ্য দাম যেভাবে লাফ দিয়ে ১০ শতাংশ বা আশেপাশে বেড়েছিল, উল্টোযাত্রায় অতটা কমেনি। সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে সাড়ে ৫ শতাংশের মতো।

হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি উল্টে যাওয়ার কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিরই আরেক নির্দেশনা। রোববার সংস্থাটি এক আদেশে লভ্যাংশ হিসেবে বোনাস শেয়ারে লাগাম দিয়েছে। কোনো কোম্পানি চাইলেই আর বোনাস শেয়ার দিতে পারবে না। এভাবে মূলধন বাড়াতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হবে আগেই।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় সূচকে বেশিরভাগ কোম্পানির প্রভাব নগণ্য। তাই দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির চেয়ে দর হারানো কোম্পানির সংখ্যা বেশি হলেও সার্বিকভাবে সূচক বেড়েছে পুঁজিবাজারে। এ নিয়ে টানা ৫ কর্মদিবসে সূচক বাড়ল। লেনদেনও বেড়েছে।

সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বহুজাতিক বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার মূল্যে লাফ, বস্ত্র ও জ্বালানি এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের উল্লম্ফন।

বোনাস শেয়ারে লাগামের আদেশে স্বল্প মূলধনীর পতন
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৫ পয়েন্ট, যা ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। সেদিনের ডিএসই সূচক ছিল ৭ হাজার ১২৫ পয়েন্ট। এখন সূচকের নাম ডিএসইএক্স। ডিএসইর তুলনায় এর পয়েন্ট কিছুটা কম হয় অবশ্য।

দিন শেষে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের চতুর্থ সর্বোচ্চ।

আগের দিন লেনদেন ছিল ২ হাজার ৮৬৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

স্বল্প মূলধনী কোম্পানির কী চিত্র

ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরা স্বল্প মূলধনী তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকলেও শেয়ার সংখ্যা কম, এমন বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে।

এর ভিড়েও অবশ্য ফার্মা এইড, রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের শেয়ারদরও বেড়েছে একদিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

এমবি ফার্মা, শেয়ার প্রতি সবচেয়ে বেশি সম্পদমূল্যের লিব্রা ইনফিউশন, লোকসানি দুলামিয়া কটন, ওটিসি থেকে ফেরা মনস্পুল, এএমসিএল প্রাণ, রেনউইক যগেশ্বর, দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার মূল্যও বেড়েছে।

তবে দর হারানোর সংখ্যাই বেশি। লোকসানি অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৪.৭০ শতাংশ, ফাইন ফুডস ৪.৫৯ শতাংশ, মেঘনা মিল্ক ৪.৫৩ শতাংশ, মেঘনা পেট ৪.৩৬ শতাংশ, এপেক্স ফুড ৪.১৩ শতাংশ, জেমিনি সি ফুড ৪.০৮ শতাংশ, ন্যাশনাল টিউব ৩.৯৫ শতাংশ, ইমাম বাটন ৩.৯০ শতাংশ, সোনালী আঁশ ৩.৮৯ শতাংশ, উসমানিয়া গ্লাস ৩.৭৪ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলস ৩.৬৪ শতাংশ, মুন্নু সিরামিক ৩.৬১ শতাংশ দর হারিয়েছে।

তিন খাতে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার বেশি

বস্ত্র, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বিবিধ খাতে লেনদেন তিনশ কোটি টাকার বেশি হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বস্ত্র খাতে।

এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৪৫টির, কমেছে ১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দর। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা যা আগের দিন ছিল ২৮২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১০ টি কোম্পানির মধ্যে বস্ত্র খাতের ছিল ৪টি, আর ২০টি কোম্পানির মধ্যে এই খাতের ছিল ৭টি।

তসরিফা, শেফার্ড ও এনভয় টেক্সটাইলের শেয়ারদর বেড়েছে একদিনে যত বাড়া সম্ভব ততই।

বোনাস শেয়ারে লাগামের আদেশে স্বল্প মূলধনীর পতন
সোমবার চারটি খাতে তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে ডিএসইতে

এছাড়া শাসা ডেনিমের দর ৮.৬০ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৬.৪৫ শতাংশ, আলিফ টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৬.০৯ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া প্রকৌশল খাত অবশ্য দর হারিয়েছে। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ২৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুটির।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

আগের দিন এই খাত ছিল লেনদেনে সেরা। সেদিন হাতবদল হয়েছিল ৩২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার।

এই খাতের শেয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫.২৮ শতাংশ বেড়েছে রানার অটোর দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪.০৫ শতাংশ বেড়েছে সিঙ্গারের দর। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩.৯৮ শতাংশ বেড়েছে এসএস স্টিলের দর।

তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথমবারের মতো তিনশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

দরও বেড়েছে। ২৩টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ১৫টির দর, কমেছে ৭টির।

এই খাতের শেয়ারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে নতুন তালিকাভুক্ত বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের দর। ৮.৬৬ শতাংশ বেড়ে শেয়ার মূল্য হয়েছে ৫১ টাকা ৪০ শতাংশ।

এছাড়া ডরেন পাওয়ারের শেয়ারদর ৭.২৮ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের দর ৬.২৪ শতাংশ, সাইফ পাওয়ারের দর ৫.৮০ শতাংশ, এমবি ফার্মার দর ৫.৪৪ শতাংশ বেড়েছে।

আগের দিন জ্বালানি খাতে লেনদেন ছিল ২৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

বিবিধ খাতেও লেনদেন তিনশ কোটি টাকার বেশি হয়েছে বেক্সিমকো লিমিডেটের তুমুল আগ্রহের কারণে। এই একটি কোম্পানিতেই লেনদেন হয়েছে ২৫৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর এ কারণে এই খাতের লেনদেন ৩১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ২৭১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

ব্যাংক-বিমায় আরও দরপতন

বড় মূলধনীর ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছেই না। দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। এক বেক্সিমকো লিমিটেডের যত টাকার শেয়ার বিনিয়োগকারীরা কিনেছেন, তার অর্ধেকের কিছু বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে ব্যাংক খাতের ৩২টি কোম্পানি মিলিয়ে।

এই খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ২১০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

এক দশক পর পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠার পরও সবচেয়ে ভালো লভ্যাংশ দেয়া এই খাতটির শেয়ারদর কেন বাড়ছে না, এ নিয়ে আলোচনা চলছে এক বছর ধরেই। কোনো একদিন দর বাড়লেও পরে বাড়তি দর আবার হারিয়ে ফেলে কোম্পানিগুলো।

আজও দাম বেড়েছে কেবল ৪টি ব্যাংকের আর কমেছে ২৩টির। বাকি ৫টি দর ধরে রাখতে পেরেছে। দাম বৃদ্ধি আর হারানোর অনুপাত অবশ্য খুবই কম। যেসব ব্যাংক দর হারিয়েছে, তার বেশিরভাগ হারিয়েছে ১০ থেকে ২০ পয়সা, ৩০ থেকে ৪০ পয়সা কমেছে দুই একটির আর একটির কমেছে ৬০ পয়সা।

একই চিত্র দর বাড়ার ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া ব্র্যাক ব্যাংকের দর বেড়েছে ৬০ পয়সা। ইসলামী ও পূবালী ব্যাংকের বেড়েছে ২০ পয়সা করে আর এক্সিম ব্যাংকের ১০ পয়সা।

বোনাস শেয়ারে লাগামের আদেশে স্বল্প মূলধনীর পতন
ব্যাংক খাতের শেয়ারধারীদের হতাশা আরও বাড়িয়েছে সোমবারের লেনদেন

ব্যাংকের মতো দরপতন হয়েছে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতেও। এই খাতে ৬টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৬টির দর। লেনদেন হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

আগের দিন দাম বেড়েছেল ১৮টির, তিনটির কমেছিল। লেনদেন হয়েছিল ২২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

জুন থেকে টানা দরপতনের বৃত্ত ভেঙে উত্থানের আভাস দেয়া বিমা খাতে পরপর দুই দিন কমল বেশিরভাগ শেয়ারের দর।

এই খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ২৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দর। লেনদেন হয়ে ২৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩০২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫.৭৩ শতাংশ বেড়েছে প্রগতি লাইফের দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২.৭৭ শতাংশ বেড়েছে সাইনলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর, তৃতীয় সর্বোচ্চ ২.৫৮ শতাংশ বেড়েছে পদ্মা লাইফের দর।

অন্যান্য খাতের কী চিত্র

জুনে অর্থবছর শেষ করা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১৪টির। একটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরেই স্থগিত।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে ২৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ২৭৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

লভ্যাংশ ঘোষণার সময় এগিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ঢুকেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতও। সাম্প্রতিক সময়ে প্রথমবারের মতো লেনদেন একশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে খাতটিতে। লেনদেন হয়েছে ১১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ১১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৩টির।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

প্রধান অন্য খাতগুলোর মধ্যে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ২০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭টির, কমেছে ১২টির। লেনদেন হয়েছে ১১২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ১১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

ভালো লভ্যাংশের পরেও হতাশা ছড়ানো মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত আবার দর হারিয়েছে। এই খাতের ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে ৮টির লেনদেন স্থগিত ছিল লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে। বাকি ২৮টির মধ্যে দর বেড়েছে ৮টির, কমেছে ১০টির আর দর ধরে রাখতে পেরেছে ৩৯টি।

লেনদেন হয়েছে ৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৪৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ আরও এক দিন

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন

টানা তৃতীয় সপ্তাহ ধরে দর সংশোধন চলছে পুঁজিবাজারে। বিনিয়োগকারীদের আরও একটি দিন হতাশ করেছে লেনদেন।

লেনদেন আবার কমে ২ হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। আগের দিন সূচকের পতন হলেও ১২ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। হাতবদল হয় ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা করে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বড় উত্থানের পর সংশোধনের তৃতীয় সপ্তাহে এসেও গতি ফিরে পাচ্ছে না পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পতনের পর দিন হারানো সূচক ফিরে পেলেও লেনদেন কমে গেছে আবার।

সূচক বাড়লেও বেশির ভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। ১৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২০২টি শেয়ারের দর।

দর বৃদ্ধির তুলনায় পতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা দেড় গুণ হলেও সূচক বেড়েছে গ্রামীণফোন, আইসিবি, লাফার্জ হোলসিম ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির মতো বড় মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে।

এই চারটি কোম্পানির কারণেই সূচকে যোগ হয়েছে ১১.০৪ পয়েন্ট।

অন্যদিকে দরপতন বেশি হয়েছে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির। সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া সাতটি কোম্পানির সবগুলোই লোকসানি, স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। এর মধ্যে একটি ২০১৯ সালের পর হিসাবও দিচ্ছে না। গত কয়েক মাসে এসব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছিল অস্বাভাবিক হারে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রবণতা শুরু হয়েছে। সূচক এক দিন বাড়লে পরদিন কমে- লেনদেনেও একই প্রবণতা।

টানা তিন সপ্তাহ রোববার সূচকের পতনে লেনদেন শুরু হলেও পরদিনই আবার বেড়েছে সূচক।

আগের দিন সূচক পড়েছিল ১৩ পয়েন্ট আর সোমবার বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের চিত্র

তবে লেনদেন আবার কমে ২ হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। আগের দিন সূচকের পতন হলেও ১২ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। হাতবদল হয় ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রায় ৩০০ কোটি টাকা করে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

পতন দিয়ে সপ্তাহ শুরুর পর দ্বিতীয় দিন সূচক বাড়ার ঘটনা আগের ‍দুই সপ্তাহেও হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর রোববার সূচক কমে ৫৬ পয়েন্ট, পরদিন বাড়ে ১৬ পয়েন্ট।

১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচক পড়ে ৩৭ পয়েন্ট, পরদিন বাড়ে ১৪ পয়েন্ট।

স্বল্প মূলধনির পতন

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই পতনের মধ্যে থাকা স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানিগুলো আরও খানিকটা দর হারিয়েছে।

বারবার সতর্কতার পরেও জুলাই ও আগস্ট মাসে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সংশোধনের তৃতীয় সপ্তাহে এসব কোম্পানির শেয়ারদরই বেশি কমছে।

সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে দেশ গার্মেন্টস। ৭.৮১ শতাংশ কমেছে এই কোম্পানিটির শেয়ার।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিনসংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন

সোমবার সূচক বৃদ্ধি ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি করে কোম্পানি

এক দশকেও লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস না থাকার পরেও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলা মেঘনা মিল্কের দর কমেছে ৬.৩৩ শতাংশ।

লোকসানি স্বল্প মূলধনি শ্যামপুর সুগারের দর কমেছে ৪.৯৯ শতাংশ। সংশোধন শুরু হওয়ার পর এই কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২০ টাকার বেশি।

আগের দুই দিন বেড়ে যাওয়া ইভেন্স টেক্সটাইল দর হারিয়েছে ৪.৭৩ শতাংশ। ৪.২৬ শতাংশ কমেছে আরেক স্বল্প মূলধনি লিবরা ইনফিউশনের দর।

লোকসানি দুলামিয়া কটনের দর ৪.২৩ শতাংশ, বন্ধ থাকা মিথুন নিটিংয়ের দর ৩.৯২ শতাংশ, লোকসানি নর্দার্ন জুটের দর ৩.৭৩ শতাংশ, অ্যামবি ফার্মার দর ৩.৪৩ শতাংশ কমেছে।

লেনদেনে সেরা ওষুধ, দর বৃদ্ধিতে প্রকৌশল

সবচেয়ে বেশি লেনদেন আবার দেখা গেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। তবে তা আগের দিনের তুলনায় বেশ কম।

আগের দিন লেনদেন ৩৬৮ কোটি টাকা হলেও তা কমে হয়েছে ২৮৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি সেন্ট্রাল ফার্মার দর বেড়েছে ৭.৭২ শতাংশ। তারপরেই আছে একটিভ ফাইন, যার দর বেড়েছে ৬.০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাডভেন্ট ফার্মার দর বেড়েছে ২.৬৭ শতাংশ।

এ খাতের মোট ১২টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১৭টির, পাল্টায়নি একটির দর আর একটির লেনদেন ছিল অপরিবর্তিত।

দর পতনের দিক দিয়ে এগিয়ে ছিল লিব্রা ইনফিইশন লিমিটেড, যার শেয়ার দর ৯৭৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯৩২ টাকা ৪০ পয়সা।

তারপরেই আছে অ্যামবি ফার্মা, যার দর কমেছে ৩.৪৩ শতাংশ।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সোমবার এই পাঁচটি খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি

প্রকৌশল খাতে ১৩ টি কোম্পানির দর পতনের বিপরীতে বেড়েছে ২৮টির, অপরিবর্তিত ছিল একটির দর।

এই খাতে লেনদেনও বেড়েছে। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ২৭৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৪.৫৭ শতাংশ বেড়েছে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৪.০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জিপিএইচ ইস্পাতের দর বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বিএসআরএম স্টিলের দর বেড়েছে ৩.২৫ শতাংশ।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৩.০৯ শতাংশ দর হারিয়েছে দেশবন্ধু পলিমার। নাভানা সিএনজির দর কমেছে ২.২৯ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে এ খাতের।

আগের দিনের তুলনায় দর কমেছে। আগের দিন লেনদেন ছিল ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সেটি কমে হয়েছে ২২৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। বেড়েছে ১৬টির। চারটি কোম্পানির শেয়ার দর ছিল আগের মতোই।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি মতিন স্পিনিংয়ের দর বেড়েছে ৭.০১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ২.৬০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিএসএফ থ্রেডের দর ২.২৫ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ২.১৩ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হারানো ৭টি কোম্পানির মধ্যে চারটিই বস্ত্র খাতের।

ব্যাংক ও বিমার নিস্তার নেই

গত অর্থবছরে দারুণ লভ্যাংশ আর চলতি অর্থবছরের অর্ধবার্ষিকে আরও বেশি আয় করার পরেও ব্যাংক খাতের ঝিমিয়ে থাকা নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই খাতের শেয়ারগুলো আরও দর হারিয়েছে।

তবে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। সোমবার এই খাতের লেনদেন হয়েছিল ৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ১০৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ খাতের ১৪টি কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। বিপরীতে দর বেড়েছে নয়টির, আর পাল্টায়নি নয়টির।

তবে দর বাড়া ও কমার হার শতকরা হিসেবে খুবই কম।

সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ২.৮৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইবিএলের দর বেড়েছে ১.৫১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংক ১.১৬ শতাংশ ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাউথবাংলা ব্যাংকের দর বেড়েছে ০.৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে রূপালী ও মার্কন্টাইল ব্যাংকের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ১.৮৮ শতাংশ করে, আইএফআইসি ব্যাংকের ১.২৭ শতাংশ ও এনবিএলের দর কমেছে ১.১৯ শতাংশ।

সংশোধনের পুঁজিবাজারে নিষ্প্রভ  আরও এক দিন
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন কম হয়েছে সোমবার

বিমা খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ২১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এই খাতের ২০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, চারটির পাল্টায়নি কমেছে বাকি ২৭টির দর।

বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ৯.৯৮ শতাংশ বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়া বিএনআইসিএলের দর ২.৬৯ শতাংশ, তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পাওয়া রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ২.০৪ শতাংশ এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ ০.৯৭ শতাংশ বেড়েছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর।

আর সবচেয়ে বেশি ৩.২৯ শতাংশ দর হারিয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া প্রাইম লাইফের দর ৩.২৮ শতাংশ, গ্রোগ্রেসিভ লাইফের দর ২.৬০ শতাংশ, রূপালী লাইফের দর ২.৮৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দরপতনের সঙ্গে লেনদেন ও কমেছে।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে ১৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৪টির দর কমেছে, ৮টির বেড়েছে আর একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

আর্থিক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৯৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এ খাতের আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দর।

বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ৮২ কোটি ৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে আটটির দর বেড়েছে। ছয়টির দর কমেছে।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছেও সমপরিমাণ।

লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইউনিটগুলোর মধ্যে ২৩টি ফান্ডের দর কমেছে। ৬টির দর বেড়েছে আর বাকি ৭টির দর আগের দিনের মতোই আছে।

হাতবদল হয়েছে কেবল ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার, আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৫১ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৬২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৬ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এক দিনে লেনদেন কমেছে ২৭৭ কোটি টাকা।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২১ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৪৮ দশমিক ৩০ পয়েন্টে।

৩২১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ১৬৫টির ও পাল্টায়নি ২৫টির।

লেনদেন হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৫ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট

কেপিসিএলের দুটিসহ মোট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সামিট, কেপিসিএল, ওরিয়ন ও ডাচ্-বাংলা পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বৈঠকের পর এই প্রথম কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এল। সামিট জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে তাদের ১০২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে গত ৩১ মার্চ। এ কারণে সেখানে উৎপাদন বন্ধ আছে। মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাব ‘বিদ্যুৎ নেই-বিল নেই’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিনটিসহ মোট চারটি কোম্পানির পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য জানাল সামিট পাওয়ার।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারের সঙ্গে চার বিদ্যুৎ কোম্পানির বৈঠকের পর এই প্রথম কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এল।

সোমবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জকে এই অগ্রগতির তথ্য জানায় সামিট। সেটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।

যদিও সামিট কেবল তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে, তার পরও এই তথ্যটি খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কেপিসিএল, ওরিয়ন ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনাঘাট এবং ডাচ্‌-বাংলা পাওয়ার অ্যাসোসিয়েটের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বিশেষ করে কেপিসিএলের ৪০ ও ১১৫ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদর বৃদ্ধির বিষয়ে অগ্রগতি জানতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা মুখিয়ে আছেন।

সামিট জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে তাদের ১০২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে গত ৩১ মার্চ। এ কারণে সেখানে উৎপাদন বন্ধ আছে। মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাব ‘বিদ্যুৎ নেই-বিল নেই’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে।

গত মে মাসে কেন্দ্র দুটির মেয়াদ পেরিয়ে পাওয়ার পর সেগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়। শুরুতে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর অনুমোদন দেয়া হবে না। এ কারণে কেপিসিএলের শেয়ারধারীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল।

এর কারণ, ডাচ্‌-বাংলার বিদ্যুৎকেন্দ্র পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। ফলে সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হিস্যা নেই। আর সামিট পাওয়ারের আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। সেখানে ১০২ মেগাওয়াটের একটি বন্ধ হয়ে গেলেও কোম্পানির আয়ে তেমন প্রভাব পড়ার কারণ নেই। আর ওরিয়ন ফার্মার মূল ব্যবসা ওষুধ, ফলে তাতেও বিনিয়োগকারীদের অতটা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।

অন্যদিকে কেপিসিএলের দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন কেবল সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রার ১৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের ৩৫ শতাংশের মালিকানার ওপর নির্ভর করতে হতো।

এই অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সরকারের কাছে কেপিসিএলের কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা তুলে ধরে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। সরকারপ্রধানও তাকে আশ্বাস দেন বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদনের।

এর মধ্যে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে যে আইনে, সেই ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১০’ এর মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নে পেমেন্ট’ ভিত্তিতে পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিলে সায় দেন।

এর মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর চার কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ ১৪টি সংস্থার বৈঠক হয় চুক্তির শর্তের বিষয়ে।

সেই বৈঠকের বিষয়ে কোনোপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট ভিত্তিতে’ কেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির ফাইলে প্রধানমন্ত্রীর সায় দেয়ার কথা জানানো হয়।

অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ কেনা হবে, ততটুকুর জন্য টাকা দেবে সরকার।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার জন্য গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে এই বিষয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত না হলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন।

আবার বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য বা ট্যারিফ হার নিয়েও আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকায় ট্যারিফ বেশি চেয়েছে কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ তা বর্তমান হারের চেয়ে কমাতে চেয়েছে। তাদের যুক্তি, আগের যে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাতে কেন্দ্র স্থাপনসহ নানা ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। এখন নতুন করে কেন্দ্র স্থাপনের খরচ থাকবে না। ফলে কোম্পানির উৎপাদন খরচ কম থাকবে।

পরে আরও বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয় বিষয়টি নিয়ে। সেই বৈঠক হবে হবে, সেই তারিখ অবশ্য জানানো হয়নি।

এই বৈঠকের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে গেলে একটি মিটিং যথেষ্ট নয়। আজকের বৈঠকে নানা দিক নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির আরেকটি বৈঠক হবে। সেখানে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এসব বিষয় ঠিক করতে একের অধিক, এমনকি ৩-৪ টি মিটিং হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

৫ দিন বন্ধ মার্কেন্টাইল ব্যাংক, চালু কেবল মাইক্যাশ

এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে। এই সময় কেবল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশ চালু থাকবে।

গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার টি-টোয়েন্টিফোর (আর-টেন) থেকে (আর-নাইনটিন) আপগ্রেডেশনের কারণে এটি হবে বলে রোববার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ সময় ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা, এটিএম বুথ, ডেবিট কার্ড সেবা, ডিজিটাল ব্যাংকিং (এমবিএল রেইনবো), ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সব সেবা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তবে ক্রেডিট কার্ড ও প্রিপেইড কার্ড গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন বা কেনাকাটা করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মাইক্যাশও চালু থাকবে।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কামরুল ইসলাম চৌধুরী গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যাংকিং সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের ফলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধুনিক ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

তৃতীয় প্রজন্মের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দেশব্যাপী ১৫০টি শাখা ও ১৯টি উপশাখা রয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি শাখায় সাধারণ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে।

ব্যাংকের ১৮৭টি এটিএম বুথ, ২০টি সিডিএম এবং ১২৬টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

সাউথ বাংলার নতুন চেয়ারম্যান কাদির মোল্লা

সাউথ বাংলার নতুন চেয়ারম্যান কাদির মোল্লা

আবদুল কাদির মোল্লা পোশাক ও বস্ত্র খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থার্মেক্স গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ফাইল ছবি

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের একটি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল কাদির মোল্লা ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অন্যতম। আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন টিএস ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তিনিও ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের একজন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন থার্মেক্স গ্রুপের কর্ণধার আবদুল কাদির মোল্লা। এ ছাড়া নতুন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন।

রোববার ব্যাংকটির ১২৬তম পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের একটি সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া আবদুল কাদির মোল্লা ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের অন্যতম। আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিন টিএস ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। তিনিও ব্যাংকটির উদ্যোক্তাদের একজন।

আবদুল কাদির মোল্লা পোশাক ও বস্ত্র খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান থার্মেক্স গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শতভাগ রপ্তানিকারক এই বৃহৎ শিল্প গ্রুপে থার্মেক্স টেক্সটাইল মিলস্, থার্মেক্স স্পিনিং, থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন, থার্মেক্স ইয়ার্ন ডাইং, থার্মেক্স ওভেন ডাইং, আদুরী অ্যাপারেলস্, আদুরী নিট কোম্পোজিটসহ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ১৬টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকারের সিআইপি (রপ্তানি) মর্যাদা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘কর বাহাদুর’ পরিবারের সম্মাননা পেয়েছেন কাদির মোল্লা।

ব্যবসায় প্রশাসনে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এই শিল্পপতি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের আওতায় আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, এনকেএম হাইস্কুল অ্যান্ড হোমস, আবদুল কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও পাঁচকান্দি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসবিএসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন এস এম আমজাদ হোসেন। তিনি লকপুর গ্রুপের কর্ণধার।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে অর্থ পাচার, এসবিএসি ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণ, রপ্তানি না করেও রপ্তানি দেখানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এস এম আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা।

এ বছরের মার্চে আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ ও পালিত মেয়ে তাজরির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর আগে এস এম আমজাদ হোসেনের দেশত্যাগ এবং সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

৭ সেপ্টেম্বর পরিচালনা পর্ষদ বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন আমজাদ হোসেন।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার

সামিট পাওয়ারের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র

গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা। এর মধ্যে সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা। ২০১৯ সালে আয় ছিল ৪ টাকা ৭৮ পয়সা। তখনও লভ্যাংশ ৩৫ শতাংশই ছিল।

মহামারির বছরে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করলেও লভ্যাংশ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পাওয়ার।

শেয়ার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা বা ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের দুই বছরও একই পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সামিট পাওয়ারের কোম্পানি সচিব স্বপন কুমার পাল।

তিনি জানান গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৮ পয়সা।

কেবল গত বছরের চেয়ে বেশি আয় নয়, সামিটের এই আয় গত চার বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ।

২০১৮ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ৪০ পয়সা আর ২০১৯ সালে ছিল ৪ টাকা ৭৮ পয়সা।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের চেয়ে কম আয় করেও শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

আয় বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি সামিট পাওয়ার
সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি

আয়ের পাশাপাশি সামিটের সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৪ টাকা ৪৫ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ছিলো ৩১ টাকা ৫০ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরে সম্পদমূল্য বেড়েছে ২ টাকা ৯৫ পয়সা বা ৯.৩৬ শতাংশ।

লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে তারা পাবেন লভ্যাংশ।

আগামী ৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে। করোনাকালে এই সভা হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যে সংশোধন শুরু হয়েছে, তা থামেনি আজও। একটি ব্রোকারেজ হাউজে হতাশা নিয়ে শেয়ার মূল্য দেখছেন বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট। ১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট। তবে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

টানা তৃতীয় রোববার পতন নিয়ে শুরু হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন।

জুলাই থেকে টানা এক হাজার দুইশ পয়েন্টে বেশি সূচক বাড়ার পর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সূচকের পতন না ঘটলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন ঘটছে।

দুই সপ্তাহ এভাবে চলার পর চলতি সপ্তাহ থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা, তা পূরণ হলো না।

তবে আগের দুই সপ্তাহের তুলনায় সূচকের পতন হয়েছে কম। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর দিন সূচক পড়েছিল ৫৬ পয়েন্ট।

১৯ সেপ্টেম্বর পরের রোববার সূচকের পতন হয় ৩৭ পয়েন্ট। আর এক সপ্তাহ পর সূচক পড়ল ৭ পয়েন্ট।

আগের দুই পতনের মতোই এবারও সূচক বেড়ে গিয়ে শেষ বেলায় পড়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর সূচক এক পর্যায়ে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ৭৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ১২৪ পয়েন্ট পতন হয় বেলা শেষে।

১৯ সেপ্টেম্বর লেনদেনের শুরুতে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ২৮ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৬৫ পয়েন্ট পতনে শেষ হয় লেনদেন।

আর টানা তৃতীয় রোববার সূচক এক পর্যায়ে বেড়ে যায় ২৯ পয়েন্ট। সেখান থেকে পতন হয় ৩৬ পয়েন্ট।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

তবে সূচকের পতন হলেও লেনদেন বেড়েছে অনেকটাই। আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবারের ‍তুলনায় চারশ কোটি টাকা বেড়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশোধন শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আজই।

তলানিতে থাকা ব্যাংক খাত আরও দর হারিয়েছে, বিমা খাতের পতন ছিল আরও বেশি। জ্বালানি এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেও গেছে বাজে দিন। প্রকৌশল খাতেও ভালো গেছে এমন নয়।

অন্যদিকে ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। আর সবচেয়ে ভালো দিন গেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে।

সব মিলিয়ে ১১৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৩০টির দর। আর দাম ধরে রাখতে পেরেছে ৩৩টি।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনেদীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে

রোববার সূচকের উত্থান ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি কোম্পানি

ওষুধ রসায়নে আগ্রহ তুঙ্গে, এরপরই বস্ত্র

মোট লেনদেনের প্রায় ১৭ শতাংশই হয়েছে ওষুধও রসায়ন খাতে। গত কয়েকদিন ধরেই এই খাতটির শেয়ার কিনে চলেছেন বিনিয়োগকারীরা। এবার বিনিয়োগ বাড়ল আরও।

৩৬৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এই একটি খাতেই। বৃহস্পতিবার খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে থাকার দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

আগের দিনের তুলনায় ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন বেড়েছে ২২.৯০ শতাংশ।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর যে খুব বেশি বেড়েছে এমন নয়। ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত, বেড়েছে ১৬টির, কমেছে ১২টির। দুটির শেয়ার দর ছিল অপরিবর্তিত।

শতকরা হিসেবে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সিলভা ও অরিয়ন ফার্মার দর। দুটির শেয়ারদরই বেড়েছে ৮.৭৬ শতাংশ করে।

এছাড়া অরিয়ন ইনফিউশনের দর ৪.৭৯ শতাংশ এবং ফার কেমিক্যালের দর বেড়েছে ২.৫০ শতাংশ।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪.৪৩ শতাংশ দর হারিয়েছে এএফসি এগ্রো। বড় মূলধনি বেক্সিমকো ফার্মা দর হারিয়েছে ৩.১৩ শতাংশ।

বস্ত্র, প্রকৌশলে মিশ্র প্রবণতা

বস্ত্র খাতের সমান সংখ্যাক কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ও কমেছে। এই খাতে লেনদেন হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছেও সম সংখ্যক, আর অপরিবর্তিত ছিল ৬টির দর।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
রোববার মোট লেনদেনের প্রায় অর্ধেক হয় চারটি খাতে

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন তালিকায় যেমন বেশ কিছু বস্ত্র খাতের কোম্পানি দেখা গেছে, তেমনি দরপতনের তালিকাতেও ছিল আরও বেশ কিছু কোম্পানি।

বস্ত্র খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের ৯.৯০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯.৬৩ শতাংশ বেড়েছে ইভেন্স টেক্সটাইলের দর।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ৯.৫২ শতাংশ বেড়েছে জাহিন টেক্সটাইলের আর চতুর্থ সর্বোচ্চ ৬.৬২ শতাংশ বেড়েছে নিউলাইন টেক্সটাইলের।

আবার সবচেয়ে বেশি দরপতনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই ছিল তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল। অস্বাভাবিকভাবে দর বৃদ্ধি পাওয়া এই কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৭.৪০ শতাংশ।

এছাড়া দেশ গার্মেন্টসের দর ৫.০৫ শতাংশ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের ৪.৪০ শতাংশ, মিথুন নিটিংয়ের দর ২.৮৫ শতাংশ কমেছে।

হঠাৎ আগ্রহের কেন্দ্র তথ্যপ্রযুক্তি খাত

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক লাফে তা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। দিন শেষে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই খাতে মোট কোম্পানি ১১টি। পতনের বাজারেও দাম কমেনি একটিরও, বেড়েছে ১০টির। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া আমরা নেটওয়ার্ক এই খাতেরই কোম্পানি। এর দর বেড়েছে ৯.৯২ শতাংশ।

এ ছাড়া আমরা টেকনোলজির দর ৫.৬৪ শতাংশ, ডেফোডিল কম্পিউটারের দর ৫.০৩ শতাংশ, বিডিকমের দাম ৪.১২ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিসের দর ৩.৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যাংক-বিমা ধরাশায়ী

ব্যাংক খাত হতাশা আরও বাড়াল। যমুনা, আইসিবি ইসলামী, পূবালী ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে যৎসামান্য। দর ধরে রাখতে পেরেছে আটটি ব্যাংক। কমেছে বাড়ি ১৯টির দরই।

এসব শেয়ারের মধ্যে কেবল যমুনা ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে ৫০ পয়সা, বাকি চারটির দাম বেড়েছে ১০ পয়সা করে।

মোট লেনদেন চারশ কোটি টাকা বাড়লেও ব্যাংক খাতে বেড়েছে অল্পই। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৯০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, সেটি সামান্য বেড়ে ৯২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

দীর্ঘ হচ্ছে সংশোধন, আবার সপ্তাহ শুরু পতনে
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন সবচেয়ে কম হয়েছে

ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি কমেছে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের দর, ৩.২৫ শতাংশ। এনআরবিসি ব্যাংকের ২.৫০ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের দর কমেছে ১.৯৫ শতাংশ।

বিমা খাতেও ঢালাও পতন হয়েছে। এই খাতে কেবল ৫টির দর বেড়েছে ৫টির দর, দর ধরে রাখতে পেরেছে তিনটি, কমে গেছে বাকি ৪৩টির দর।

তবে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৯৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তা বেড়ে হয়েছে ২১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩.৭৬ শতাংশ। মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের দর ১.৬৮ শতাংশ, কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ৬৪ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দশমিক ১৬ শতাংশ, আর ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে দশমিক ০৭ শতাংশ।

পতন হওয়া কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে আছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৫.৭৮ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রগতি লাইফের দর ৪.৯৭ শতাংশ, ফারইস্ট লাইফের ৪.৩২ শতাংশ কমেছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দরপতন হলেও লেনদেন বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল ১০৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সেটি এক লাফে বেড়ে হয়েছে ১৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দর কমেছে, ৬টির বেড়েছে আর দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

প্রকৌশল খাতেও লেনদেন বেড়েছে। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ২০৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ২২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, একটির দর পাল্টায়নি আর কমেছে ২৪টির দর।

আর্থিক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা, আগের কর্মদিবসে যা ছিল ১৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

এ খাতের আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে, বেড়েছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দর।

বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে চারটির দর বেড়েছে। নয়টির দর কমেছে, একটির দর ছিল অপরিবর্তিত

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২টির, কমেছে ১৬টির, দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ইউনিটগুলোর মধ্যে ৩১টি ফান্ডের দর কমেছে। দুটির দর বেড়েছে। তিনটির দর আগের দিনের মতোই আছে।

হাতবদল হয়েছে কেবল ২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এক দিনে লেনদেন বেড়েছে ৪০৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৯ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১২৬ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।

৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৩টির, কমেছে ১৭২টির ও পাল্টায়নি ৩২টির।

লেনদেন হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দর সংশোধনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক কমেছিল ৮২১ পয়েন্ট। এর মধ্যে লকডাউন আতঙ্কে ৪ এপ্রিল হারানো ১৮২ পয়েন্ট বাদ দিলে সেটি হয় ৬৩৯ পয়েন্ট। গত ৩০ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সংশোধন পর্বে সূচকের পতন আর দেখা যায়নি। তখন থেকে খাতওয়ারি সংশোধনের প্রবণতা দেখা যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সংশোধন পর্বেও সূচকের পতন দেখা যাচ্ছে না। এই ১০ কর্মদিবসে পড়েছে কেবল ৮ পয়েন্ট। আগের আড়াই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া স্বল্প মূলধনি, দুর্বল, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হলেও বড় মূলধনি মৌলভিত্তির শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে অবস্থান ধরে রেখেছে পুঁজিবাজার।

গত মে ৩০ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছয় হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর টানা এক মাস একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে।

৩০ মে সূচক উঠে ৬ হাজার ৮ পয়েন্ট। এরপর কোনোদিন ছয় হাজারের নিচে, কোনোদিন আবার ছয় হাজারের ওপরে, এমন করতে করতে ২৯ জুন সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪২ পয়েন্টে।

এরপর আরেক দফা উত্থান শুরু হয়ে টানা চলে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩০ জুন থেকে ৪১ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে ১ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

এরপর দুই সপ্তাহ আবার দেখা যাচ্ছে সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত চিত্র। ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট উঠার পর আবার সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত এক মাসের মতো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এই দুই সপ্তাহে ১০ কর্মদিবসে সূচক পড়েছে ৮ পয়েন্ট। এর মধ্যে কমেছে ৪ দিন, বেড়েছে ৬দিন, কিন্তু বলতে গেলে কোনো দিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস ছিল না।

পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক নানা ফেসবুক পেজে শত শত মানুষ বলছেন, সূচক বাড়লেও তাদের শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে। আর যেদিন সূচক পড়ে যাচ্ছে, সেদিন আরও পড়ছে।

এর কারণ হচ্ছে, এই দুই সপ্তাহে সূচক বেড়েছে মূলত বড় মূলধনি বড় মূলধনি ও বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদরে উত্থানের কারণে। এসব শেয়ারে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সচরাচর কম থাকে।

পুঁজিবাজারে দর সংশোধনের মধ্যেও সূচকের একই বৃত্তে ঘুরপাক একেবারেই সাম্প্রতিক প্রবণতা। এই সময়ে কোনো একটি খাতে শেয়ারের পতন হলে অন্য খাতের বৃদ্ধিতে অবস্থান ধরে রাখে পুঁজিবাজার।

এবার আবার কোনো বিশেষ খাত বাড়ছে না, ব্যাংক ছাড়া মৌলভিত্তির বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিপরীতে কমছে এতদিন বেড়ে চলা স্বল্প মূলধনি, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দর। স্বল্প মূলধনির মধ্যে যেগুলো উচ্চ মুনাফা করতে পারছে, সেগুলোর দরপতন হচ্ছে না।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

চলতি বছর দুই দফা সংশোধনে যা হয়েছে, এবার যা হচ্ছে

গত বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া উত্থানে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা বাড়ার পর ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সূচক পড়েছিল প্রায় ৮০০ পয়েন্ট। ১৪ এপ্রিল সূচক ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে ওঠার পর থেকে ৪ এপ্রিল তা নেমে আসে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্ট।

এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সূচক ১৮২ পয়েন্ট পড়ে যায় পরদিন লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় কি না, এই আতঙ্কে। সেটি বাদ দিলেও ৬০০ পয়েন্টের বেশি সূচক পড়েছিল।

আবার জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংশোধনে লেনদেনের ব্যাপক পতনের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, সেটিও এবার দেখা যাচ্ছে না।

১৭ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অথচ ৫ এপ্রিল তা নেমে আসে ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

৩০ মে থেকে এক মাস যখন আবার সংশোধন পর্ব শুরু হয়, তখন অতটা না কমলেও লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

৩০ মে লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৪৯ কোটি ২১ লাখ টাকা আর ২৯ জুন এই সংশোধন শেষ হওয়ার দিন হাতবদল হয় ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এবার লেনদেন এতটা কমছে না। ৯ সেপ্টেম্বর লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এরপর ১০ কর্মদিবসে মোট তিন দিন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার কম, যার মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল ২০ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সতর্কতা গায়ে না মেখে এখন হতাশা

পতন এমন কিছু নয়, তবে আগের দুই দফা সংশোধনের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা যে ধরনের হতাশার কথা বলতেন, এবারও সূচকের এক বৃত্তে ঘুরপাকের মধ্যেও তার অন্যথা হচ্ছে না।

পুঁজিবাজারে তৃতীয় দফায় উত্থানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লোকসানি, বন্ধ ও স্বল্প মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। এগুলোর মধ্যে কয়েকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ইস্যু ছিল, কিন্তু এগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি সহসা মুনাফায় ফিরতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে। আবার বেশ কিছু লোকসানি কোম্পানির লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনাও একেবারেই ক্ষীণ।

এসব কোম্পানির কোনোটির শেয়ারদর দ্বিগুণ, কোনোটির তার চেয়ে বেশি বেড়েছে এই আড়াই মাসে। সঙ্গে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম, এ কারণে বেড়েছে আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বারবার এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক করেছেন, এমনকি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগের।

কিন্তু ক্রমেই বাড়তে থাকা দুর্বল কোম্পানিতে সে সময় বিনিয়োগ বাড়িয়েই চলেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কোনো সাবধানতা তারা কানে তোলেননি। বরং পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ফেসবুক পেজগুলোতে নানা পোস্ট আসতে থাকে যে, এগুলো আরও বাড়বে।

এসব কোম্পানির শেয়ারদর অনেক বাড়লেও সূচকে প্রভাব পড়ে না বললেই চলে। এর কারণ স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। আর লোকসানি জেড ক্যাটাগরির শেয়ার দরে উত্থান পতনে সূচকে কোনো হেরফের হয় না। ফলে এখন যখন এসব কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হচ্ছে, তখন সূচক আসলে সেভাবে পড়ছে না। আর এ কারণে এসব শেয়ারের মালিকরা প্রশ্ন তুলছেন, শেয়ারের দরপতন হচ্ছে, সূচক কীভাবে বাড়ছে বা এক জায়গায় থাকছে।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূচকের উত্থান পতন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু দেখছি না। আতঙ্কের ছিল যখন খারাপ কোম্পানির ক্রমাগত দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচক ও লেনদেন বাড়ছিল।

‘এর আগে যখন একইভাবে বিমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে তখনও স্বাভাবিক ছিল না পুঁজিবাজার। এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। পুঁজিবাজারে খারাপ কোম্পানির দাপট কমে এখন ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে। এতে সূচক ও লেনদেন যদি কিছুটা সংশোধনও হয় তাতে ক্ষতির কিছু নেই।’

বিনিয়োগকারীদের ক্রমে শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার পাশাপাশি মার্জিন ঋণেও নিরুৎসাহিত করেছেন আবু আহমেদ। বলেন, ‘মার্জিন ঋণে শেয়ার কেনা হলে তাদের সুদ প্রদানের একটি চাপ থাকে। ফলে তারা চাইলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘লোন নিয়ে যারা দর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে তারাই এখন লোকসানে আছে। কিন্ত ভালো কোম্পানিতে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের এ ধরনের পুঁজিবাজারে লোকসান হওয়ার কথা নয়।’

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন কমে আসায় আতঙ্কের কিছু দেখছি না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা যখন ডে ট্রেডিং যাবে তখন লেনদেন বাড়বে। কিন্ত ডে টেডিংয়ে বিনিয়োগকারীদের মুনাফাও কিন্তু কমে যায়। কারণ যতবার শেয়ার কেনা বেচা করবে ততবারই তাকে কমিশন দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দর সংশোধনে লেনদেন কমে আসা মানে এখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রেখেছেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।’

‘পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর যখন বাড়ছিল তখন অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে। এখন সেসব শেয়ারের দর কমে আসায় তারা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় না করে ধরে রেখেছে তাই লেনদেন আগের তুলনায় কমেছে। এটা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা। এটা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই’-এমনটিও বলেন এই বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন:
জেএমআই এবার শেয়ার কেনাবেচার ব্যবসায়
সাত হাজার ছোঁয়ার দিন দাপট স্বল্প মূলধনী কোম্পানিরই
পুঁজিবাজারে ১০ বছর পর সূচক ৭ হাজারে
পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি

শেয়ার করুন