প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে

প্রাথমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ডিসেম্বরে

প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রিকভারি প্ল্যান করা আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। বার্ষিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্কশিটও চলতে থাকবে।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ডিসেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাসহ সব ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী রোববার থেকে খুলে দেয়ার ঘোষণার পরের দিন সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

প্রাথমিক পর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের রিকভারি প্ল্যান করা আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। বার্ষিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্কশিটও চলতে থাকবে।’

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হলেও প্রাক-প্রাথমিক বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

চার বছরের নিচের শিশুদের নিয়ে সরকার ঝুঁকি নিতে চায় না জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘ওয়ান, টু, থ্রি ও ফোর আসুক, পরিস্থিতি বুঝে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের আনা হবে।’

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার রোধে ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এই ছুটি আর না বাড়িয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরের দিন থেকে খুলবে মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিংবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী বিশেষ করে শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন মনোচিকিৎসকরা। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

সম্প্রতি জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের ৪ কোটির বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত বেশি সময় বন্ধ থাকবে, ততই বাড়বে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

দেশে জনগোষ্ঠীর ২৪.৪ শতাংশ নিরক্ষর

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৫.৬ শতাংশ। নিরক্ষরের সংখ্যা ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মসূচির কারণে পূর্বের তুলনায় সাক্ষরতার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও প্রায় ২৪.৪ শতাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। এসব নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভবপর নয়।’

জাকির হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সবার আগে প্রয়োজন সাক্ষরতা জ্ঞান। দেশের সকল মানুষকে সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন করা গেলে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের ফলে নিরক্ষর ও সাক্ষরতা জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৃষ্ট বিভাজন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিবর্গকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন’

রোববার জবিতে ছয়টি পাণ্ডুলিপির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

ছয়টি পাণ্ডুলিপি প্রকাশে লেখকদের সঙ্গে চুক্তি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি লেখকদের এই চুক্তি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ।

স্বাক্ষরিত ছয়টি পান্ডুলিপি হলো সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শিপ্রা সরকার রচিত ‘বাংলাদেশের একটি গ্রাম: জাতিবর্ণ ব্যবস্থা’, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোস্তফা কামাল রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটি মূল্যায়ন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মো. নাসির উদ্দিন রচিত ‘Taxation in Bangladesh’।

এছাড়া অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোছা. শামীম আরা রচিত ‘মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের কবিতা: বিষয় বৈচিত্র ও শিল্পরূপ’, সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী এফ এম রেজোয়ান রচিত ‘রাগ-সন্দর্শন’ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস রচিত ‘সাব- অল্টার্ন তত্ত্ব: উদ্ভব, বিকাশ ও প্রভাব’।

পাণ্ডুলিপি লেখকদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল ‘বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কর্মসূচি: কুরআন সুন্নাহর আলোকে একটু মূল্যায়ন’ বইটি সম্পর্কে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বইটি পড়লে বাকশাল সম্পর্কে বিস্তারিত এবং কেন গঠন করা হয়েছিল সেটি জানা যাবে। বইটিতে বাকশালকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেন না থাকে। সেই আলোকেই বইটি লেখা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নূরে আলম আব্দুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামীমা বেগম।

এছাড়াও জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের প্রধান ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গবেষণা অধ্যাপক পরিমল বালা, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনে মুগ্ধ তরুণ প্রজন্ম

শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনে মুগ্ধ তরুণ প্রজন্ম

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনীতে প্রথম দিন দর্শনার্থীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই দেখা গেছে দর্শনার্থীর ভিড়। প্রধানমন্ত্রীর জীবনের দুর্লভ ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তারা। খুঁজে পেয়েছেন শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের নানান দিক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের শেরাটন ঢাকা হোটেলে রোববার বেলা ১১টায় ফিতা ও কেক কেটে উদ্বোধন করা হয় তিন দিনের এই আয়োজন।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই দেখা গেছে দর্শনার্থীর ভিড়। প্রধানমন্ত্রীর জীবনের দুর্লভ ছবি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তারা। খুঁজে পেয়েছেন শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের নানান দিক।

শেখ হাসিনার ছোটবেলা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন ধাপের ছবিতে সাজানো হয়েছে এই চিত্র প্রদর্শনী। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্ম থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, ভাই-বোনদের মাঝে তার বেড়ে ওঠা; শিক্ষাজীবন; সাংসারিক জীবন; পারিবারিক জীবন; সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের দুর্লভ ছবি রয়েছে প্রদর্শনীতে।

শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনে মুগ্ধ তরুণ প্রজন্ম
দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রীর জীবনের দুর্লভ সব ছবি

এ ছাড়া, ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, সামরিক শাসনের সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন, নব্বই-পরবর্তী সময়ের সংগ্রাম, ২০০১ সালে গ্রেনেড হামলার পাশাপাশি গত ১২ বছরে দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ছবিও স্থান পেয়েছে চিত্র প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনী দেখতে আসা কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী শাকিলা মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠার ছবিগুলো দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আমরা সাধারণত গুগল বা যেকোনো মাধ্যমে এই ছবিগুলো সাধারণত পাই না। এখানে এসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।’

শাকিলার বন্ধু আবদুল্লাহ আফ্রিদী বলেন, ‘এখানে এসে প্রধানমন্ত্রীর জীবনের শুরুর দিকের ছবি দেখে ভালো লাগছে। অনেক বড় বড় সংগ্রামের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। আমার খুব ভালো লেগেছে কবি সুফিয়া কামালের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি।

‘এখানে প্রতিটি ছবিতে বাংলাদেশের কোনো কোনো না ইতিহাস রয়েছে। এভাবে একসঙ্গে ছবিগুলো দেখতে পেয়ে রোমাঞ্চিত বোধ করছি।’

দর্শনার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, ‘এখানকার সব ছবিই আমাদের প্রজন্মের কাছে অচেনা। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে এখন দেখি, তার বাইরেও যে ওনার এত অবদান সেটি এখানে উঠে এসেছে।’

নব্বই-পরবর্তী সময়ে সংগ্রাম ও ২০০১ সালে গ্রেনেড হামলার সময়ের ছবি বেশি টেনেছে দর্শনার্থী রাজিয়া ফেরদৌসীকে। তিনি বলেন, ‘এই প্রদর্শনী আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের সামনে অনুপ্রেরণাদায়ী।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নদর্শন তরুণদের সামনে তুলে ধরে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

প্রদর্শনীটি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

‘বিশেষ পরীক্ষা’ দেবে চতুর্থ বর্ষের অকৃতকার্যরা

‘বিশেষ পরীক্ষা’ দেবে চতুর্থ বর্ষের অকৃতকার্যরা

স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলে ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করার যে তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তা সত্য নয়, দাবি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের।

অনার্স চতুর্থ বর্ষে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনা মহামারি বিবেচনায় নভেম্বরে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ৯৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।

এর আগে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলে ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করার অভিযোগ ওঠে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ নাকচ করে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলে অসন্তোষ জানিয়ে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অনশনে বসলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, লাঠিচার্জের পর স্বাভাবিক হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

সে সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেছিলেন ‘স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত ফলাফলে ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করার যে তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তা সত্য নয়। কারণ আমরা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছি, ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আর ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি, অর্থাৎ তারা অনুপস্থিত ছিলেন। এ হিসাবে ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করেছেন। আর এই ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী কিন্তু সব বিষয়ে ফেল করেননি। কেউ হয়তো এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছেন। ফেলের এ হার অস্বাভাবিক নয়। তারপরও আমরা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।’

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অনার্স প্রথম বর্ষে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার দেয়া, কোভিডকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ কলেজে এই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ ছাড়া করোনার কারণে যেসব শিক্ষার্থীর মনোবল ভেঙে পড়েছে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি কাটানোর জন্য নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যারা করোনাভাইরাসের টিকাকেন্দ্র হিসেবে হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্বাচন করেছেন তারা টিকা পেতে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে মঙ্গলবার থেকে টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তারা টিকা নিতে পারবেন।

প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা টিকার জন্য হাটহাজারী কেন্দ্র নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে।

টিকার জন্য সবাইকে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দুই কপি নিয়ে যেতে হবে। তারা চীনের তৈরি সিনোফার্ম টিকা পাবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতে ৪৮ হাজার টিকা চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিকা নিতে পারেন সেই উদ্যোগও নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫৫০। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া জরিপের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণের জন্য সার্বিক তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

এর মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৭। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ১৩৪ জন। নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষারত ৪ হাজার ৪০০ জন। এনআইডি না থাকায় টিকা নিতে পারেননি এমন শিক্ষার্থী ২ হাজার ২৬৭ জন।

পরীক্ষার কারণে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসায় অনেক শিক্ষার্থী টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। তাদের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘তাদের বিষয়টাও আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউজিসিতে জানিয়েছি। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে

এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাহমিদা খাতুন বলে, ‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পরে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

স্কুলের পোশাক পরে বিষণ্ণ মুখে বিদ্যালয়ের সামনে বসে আছে রিমন। আটসাট জামাটি বলে দিচ্ছে এটি বেশ পুরোনো।

রিমনের এখন থাকার কথা কলেজে। এবার এসএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় সে আর কলেজে উঠতে পারেনি। করোনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় তাকে আসতে হয়েছে স্কুলে।

মাগুরা শিবরামপুর স্কুলের রিমনের মতো প্রায় সব হাইস্কুল পর্যায়ে এই চিত্র উঠে এসেছে। করোনার কারণে এসএসসি পিছিয়ে যাওয়ায় বিমর্ষ পরীক্ষার্থীরা।

রিমন বিশ্বাস বলে, ‘আমার আগের ব্যাচ অটোপাসে এখন কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কদিন পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যাবে। অথচ আমরা অটোপাস পাইনি, আবার এসএসসি পরীক্ষাটাও সময়মতো পেলাম না। স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানে আসতে হলো হাজিরা দিতে। আমরা প্রস্তুতি ক্লাস পাচ্ছি। তবু মনের ভেতরে কলেজের ওঠার ইচ্ছা ভর করে আছে।’

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের মধ্য নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। আপাতত সেই লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে মাগুরার হাইস্কুল পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলো। তবে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ব্যবধান নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী অর্পিতা জানায়, স্কুলে গেলেও পড়ায় মন বসছে না। বছরের শুরুতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো ছিল। সেই পরীক্ষাটা বছর শেষের দিকেও না হওয়ায় সে হতাশ।

অর্পিতা বলে, ‘যেখানে এতদিনে আমাদের কলেজে পড়ার করার কথা, নতুন করে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করার কথা, সেখানে আমরা স্কুলেই পড়ে আছি। এটা খুবই বিব্রতকর।’

ফাহমিদা খাতুন নামে আরেক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের কলেজে যাওয়ার কথা এখন থেকে তিন মাস আগে। অন্তত শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ধরলে এটাই সময়। কলেজে এখন প্রথম বর্ষ নামে কোনো বিভাগ নাই। কারণ আমরাই এই প্রথম বর্ষ।

‘আমার বোন কলেজে এখন দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। ও যখন কলেজে যায় তখন আমার স্কুলের পোশাক পড়ে আসতে হচ্ছে। অথচ আমরা দুইবোন এক বছরের ছোট-বড়। শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে আমাদের মাঝে প্রায় দুই বছরের ব্যবধান করে দিয়েছে। যা মন থেকে মেনে নিতে পারছি না।’

থাকার কথা কলেজে, হাজিরা স্কুলে


মাগুরা সরকারি মডেল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিরব বলে, ‘এসএসসি পরীক্ষা সময় মতো না নেয়ায় আমাদের বয়সের সময় তো আর থেমে নেই। আমার বন্ধুরা দেখেন সবাই বড় হয়ে গেছে। আমাদের আর স্কুলের মতো আচার-আচরণ নেই। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আমরা কলেজে যেতে চাই। ঠিক সময় পরীক্ষা এবার না হলে স্কুল ছেড়ে দেব ভাবছি।’

শিক্ষাবর্ষের এই জটে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা শিক্ষকদেরও।

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘করোনার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বয়স অনুসারে ক্লাসে পড়াশোনা নিয়ে কিছুটা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যেমন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কলেজে যাবার কথা আগেই। হয়তো সামনেই পরীক্ষা। এরপর ফল বের হয়ে কলেজে যেতে সামনের বছর হয়ে যেতে পারে। তখন আবার আর একটি এসএসসি ব্যাচ আমরা পেয়ে যাব। এভাবে কলেজে গিয়েও একটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।’

মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোর্য়াদ্দার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার এসএসসি ব্যাচ নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে শক্ত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

‘প্রাণঘাতী করোনা থেকে বেঁচে থাকাটাই আসলে আমাদের প্রধান কাজ হয়ে গেছে। সেখানে শিক্ষা জীবনে একটু পরিবির্তন মেনে নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব মোহাম্মদ অনলাইন পরীক্ষায় বসে জানলেন তার মা আর নেই। ছবি: নিউজবাংলা

অনলাইন পরীক্ষার পরিদর্শক এবং বিভাগের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা নেহরীর খান বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষার ভেতর রাজীব জানায়, সে মায়ের কাছে যাবে। তারপর সে লিভ নিল। পরীক্ষা শেষে আমরা জানতে পারি তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।’ রাজীবের পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শরীফ মিয়া ও তার অন্য বন্ধুরা। শরীফ মিয়া জানান, বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পরীক্ষার ফল পেতে রাজীবের কোনও সমস্যা হবে না।

সহপাঠীদের সঙ্গে ভিডিও অন রেখে অনলাইনে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব মোহাম্মদ। পরীক্ষায় থাকা অবস্থায় রাজীব টের পেয়েছেন, মায়ের কিছু হয়েছে। জুম প্ল্যাটফর্মেই কেঁদে ফেলেন রাজীব। দায়িত্বরত শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা থেকে বের হওয়ার পর জানলেন, মা আর পৃথিবীতে নেই।

রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাজীবের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। সেখানে বসেই তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফ মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ সাড়ে ৯টা থেকে আমাদের অনলাইন পরীক্ষা শুরু হয়। আধা ঘণ্টা পর রাজীব হঠাৎ ম্যামকে ডাকা শুরু করে। ম্যাম হয়তো কিছুক্ষণের জন্য অনলাইনের বাইরে ছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ আমরা একটা চিৎকার শুনতে পাই। রাজীব কেঁদে ফেলে। পরে ম্যাম এসে জিজ্ঞাসা করেন, রাজীব, তোমার কী হয়েছে? রাজীব জানায়, ম্যাম আমার আম্মুর কী যেন হয়েছে। আমাকে লিভ নিতে হবে। পরে ম্যাম কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে রাজীবকে বের হওয়ার অনুমতি দেন।’

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা। ফাইল ছবি

শরীফ মিয়া বলেন, পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার পরে শুনতে পাই রাজীবের আম্মু মারা গেছেন। আসলে এটা কঠিন পরিস্থিতি।

অনলাইন পরীক্ষার পরিদর্শক এবং বিভাগের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা নেহরীর খান বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষার ভিতর রাজীব জানায়, সে মায়ের কাছে যাবে। তারপর সে লিভ নিল। পরীক্ষা শেষে আমরা জানতে পারি তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।’

রাজীবের পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শরীফ মিয়া ও তার অন্য বন্ধুরা। শরীফ মিয়া জানান, বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পরীক্ষার ফল পেতে রাজীবের কোনও সমস্যা হবে না।

রাজীবের মায়ের মৃত্যুর পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন রাজীবের অন্য এক সহপাঠী আল আমিন সরকার। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘অনলাইন পরীক্ষা চলছিল। প্রায় ৩০ মিনিট অতিক্রান্ত হয়েছে এমন অবস্থায় হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। ডিসপ্লেতে তাকিয়ে দেখি বন্ধু রাজীবের চোখে পানি। রাজীব বলতেছে, ম্যাম, ম্যাম..., ম্যাম, আমি কি লিভ নিতে পারি! আমার মায়ের কী যেন হয়েছে।

‘এক মিনিট পর লিভ নেয়ার অনুমতি পেলেন তিনি। এই তো কিছুক্ষণ আগে শুনলাম তার মা আর ইহজগতে নেই! আমরা পরীক্ষা শেষ করে কেবলই একটা ফুরফুরে মেজাজে হাসিখুশিতে মেতে উঠছিলাম আর বন্ধুর জীবনে কত বড় পরীক্ষা হয়ে গেল। মৃত্যু কত নিষ্ঠুর, কখন ডাক আসবে কেউ জানে না। আল্লাহ ওনাকে মাগফিরাত দান করে জান্নাত দান করুক এবং আমার বন্ধু ও তার পরিবারকে যেন ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন, আমিন।’

রাজীব মোহাম্মদের মায়ের জানাজা কখন হবে, সেটি এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা

জোর করে ঢাবির বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করেন প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রন্থাগারের দরজা খোলার পর শুরুতে শৃঙ্খলা দেখা গেলেও মুহূর্তেই বিশৃঙ্খল পরিবেশ দেখা যায়। নিয়মের তোয়াক্কা না করে লাইব্রেরিতে ঢুকতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এ সুযোগে চাকরিপ্রত্যাশীরাও ঢুকে পড়েন। এ সময় দায়িত্বে নিয়োজিত লাইব্রেরির কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলেও দেন তারা।

দেড় বছর পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের দরজা। অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থাগার খোলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে জোর করে ঢুকে পড়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

এ সময় তাদের রোখার চেষ্টা করে আঘাত পেয়েছেন গ্রন্থাগারের কয়েকজন কর্মচারী।

রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে বরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত মাস্ক নিয়ে তারা গ্রন্থাগারের গেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। মাপা হয় শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা। এরপর তাদের হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে এবং করোনা সনদ যাচাই করে ঢুকতে দেয়া হয় গ্রন্থাগারে।

শুরুতে কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা গেলেও খানিক পরই নিয়মের তোয়াক্কা না করে জোর করে গ্রন্থাগারে ঢুকে যায় অনেক শিক্ষার্থী। এ সুযোগে চাকরিপ্রত্যাশীরাও ঢুকে পড়েন। এ সময় দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মচারীকে ধাক্কা এবং ঘুষি দিয়ে ফেলে দেন তারা।

বাইরের কোনো বই নিয়ে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করা যাবে না, এমন নিয়ম থাকলেও তাও মানেননি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন বিসিএস পরীক্ষার বই হাতে নিয়ে ঢুকে পড়েন তারা।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি।

তারা চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বললে কিছু শিক্ষার্থী প্রক্টরের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রক্টর গোলাম রাব্বানী।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের সহযোগিতা করে কি আমরা ভুল করেছি। তোমরা আমাদের এমন স্মৃতি দিও না যে স্মৃতি আমাদের কষ্ট দেয়। তোমাদের প্রতি আমাদের যে মমত্ববোধ সেটি কি আমরা এই দেড় বছরে প্রমাণ করিনি! তোমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী আছ তারা পড়ো। আর যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী না তোমরা আমাদের সহযোগিতা করো। তোমাদের বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

লাইব্রেরিয়ান নাসির উদ্দীন মুন্সি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরাও তোমাদের কাছ থেকে শিখব। তোমরা এমন কোনো আচরণ করে সেটি নষ্ট করে দিও না।’

কথা শেষ করেই শিক্ষার্থীদের সেখানে রেখেই বের হয়ে যান প্রক্টর এবং গ্রন্থাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকরা।

পরে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লাইব্রেরি সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়তে চায়, এটি ইতিবাচক দিক। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।’

গ্রন্থাগারিক নাসির উদ্দীন মুন্সি বলেন, ‘আমাদের সকল আয়োজন থাকার পরও শিক্ষার্থীরা জোর করে ঢুকে পড়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই চাকরিপ্রত্যাশী। যেহেতু ঢুকে পড়েছে তাই আমরা আজ বের করে দিইনি। সামনের দিনে এটি নজরে রাখা হবে।’

বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জোর করে প্রবেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের সচেতনতার জায়গাটি খুবই প্রখর। এটি আমাদের শক্তি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সচেতনতা ছিল। আশা করি, এই ধরনের ভূমিকা সবাই পালন করবেন। আমরা শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল। প্রত্যেকেই যদি আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করি তাহলে কিন্তু একটি শিক্ষা অনুকূল পরিবেশ আমরা নিশ্চিত করতে পারব।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে বৈঠক শুরু
ছাত্রলীগের ‘আধিপত্য’ বন্ধের দাবি আনু মুহাম্মদের
শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলের সব ক্লাস কি একযোগে খুলবে

শেয়ার করুন