সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে ৪৯৭ জন দালাল।
সারা দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে রোববার তাদের আটক করেছে র্যাব ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আটকের পর ২৪৮ জনকে অর্থদণ্ড ও ২৪৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন রোববার দুপুরে জানান, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা লাগিয়ে দালালরা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মনিটর করছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান শুরু করে র্যাব।
তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সারা দেশে অভিযান শুরু হয়। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন একযোগে অভিযানে নামে।
‘পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ কার্যালয় ও সরকারি হাসপাতালসহ যেখানেই দালালদের দৌরাত্ম্য, সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছে র্যাব। অভিযানে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।’
ঢাকা
দালালির অভিযোগে ঢাকা থেকে ৯৬ জন্য দালালকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
তাদের মধ্যে ১৫ জনকে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস এলাকা থেকে ও ১৫ জনকে কেরানীগঞ্জের পাসপোর্ট অফিস এলাকা থেকে আটক করে র্যাব-২ ও ১০।
কেরানীগঞ্জের বিআরটিএ অফিস থেকে র্যাব-১০ আটক করেছে ৩৬ জনকে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে দালাল সন্দেহে ৩০ জনকে আটক করেছে র্যাব-৩-এর একটি দল।
র্যাবের কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে আটকের বিষয়টি জানায়।
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর বালুচরা এলাকার বিআরটিএ অফিসে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে আটক করেছে র্যাব-৭।
র্যাব-৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিআরটিএর এই কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দালাল ও প্রতারক চক্রের ৩০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
‘তাদের কাছে লাইসেন্স সম্পর্কিত কিছু কাগজপত্র ও টাকা পাওয়া গেছে। তাদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বরিশাল
বরিশাল নগরীর বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে দালালকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীরের নেতৃত্বে রোববার সকাল থেকে অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-৮-এর উপপরিচালক মেজর জাহাঙ্গীর আলম জানান, দালাল প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঁচজনকে আটক করে একমাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
জেনারেল হাসপাতাল থেকে আটক পাঁচজনের মধ্যে একজনকে একমাসের কারাদণ্ড, একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও বাকিরা ছাত্র হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পাসপোর্ট অফিস থেকে যে সাতজনকে আটক করা হয়েছে তাদের একজনের নামে মামলা হয়েছে। বাকিদের একমাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীর বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় দালাল নির্মূলে নাগরিক কমিটির নেতারা দাবি তোলেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।’
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে বিআরটিএ অফিসে অভিযান চালিয়ে দালালির অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করেছে র্যাব।
রোববার বেলা ১১টার দিকে এক ঘণ্টার অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আখের মোহাম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস সনদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গাড়িচালক ও মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। এ সম্পর্কে আমরা তথ্য পাওয়ার পর তাদের আটক করতে অভিযান চালাই।’
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোরঞ্জন বর্মনের নেতৃত্বে চালানো অভিযানে আটক ১৪ জনের মধ্যে ১১ জনকে ১১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। বাকিরা মোটর মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
ময়মনসিংহ বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শকের দাবি, ‘আমাদের কার্যালয়ের সঙ্গে কোনো ধরনের দালালের সম্পৃক্ততা নেই। এরা সাধারণ মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল। আমরা কারো কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেই না।’
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিস থেকে ২৭ জনকে আটক করেছে র্যাব-১২।
র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুর থেকে অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১২ জনকে, পাসপোর্ট অফিস থেকে আটজনকে ও বিআরটিএ অফিস থেকে সাতজনকে দালালির অভিযোগে আটক করা হয়।
এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলা সিনিয়র সহকারী কমিশনার গোলাম মাসুম তাদের সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কুমিল্লা
কুমিল্লায় পাসপোর্ট ও বিআরটিএ অফিসে দালালির অভিযোগে ১২ জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোস্তফার ভ্রাম্যমাণ আদালত রোববার সকাল নয়টা থেকে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার সাকিব হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, বিআরটিএ অফিস, রেসকোর্স ও নোয়াপাড়া থেকে চারজন পাসপোর্ট দালাল ও আটজন বিআরটিএ দালালকে আটক করা হয়।
তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা থেকে আদায় করা হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫০ টাকা।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দালালির অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ যোবায়ের রোববার সকালে তাদের আটক করেন।
র্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উনু মং নিউজবাংলাকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। হাসপাতাল চত্বর থেকে চারজন পুরুষ ও পাঁচজন নারীকে আটক করা হয়।
এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই চার পুরুষকে সাতদিনের কারাদণ্ড ও পাঁচ নারীকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ওই নারীদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়েছে।
নোয়াখালী
নোয়াখালীতে পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে আটজনকে আটক করেছে র্যাব। র্যাব জানিয়েছে, তারা সেখানে দালালি করেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলার গাবুয়ায় রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত র্যাবের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে সে সময় পাসপোর্টের বিভিন্ন কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তারা দালালির কথা স্বীকারও করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন থেকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জের পাসপোর্ট অফিসে দালালির অভিযোগে র্যাব ও জেলা প্রশাসনের অভিযানে আটক করা হয়েছে ছয়জনকে।
শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামছুদ্দিন মো. রেজা নিউজবাংলাকে জানান, আটক ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
নীলফামারী
র্যাবের অভিযানে নীলফামারীর বিআরটিএ অফিসে দালালির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) রমিজ আলমের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে রোববার দুপুরে তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুচলেকা নেয়া হয়েছে।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ ছিল। সে কারণে আজ সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আটক পাঁচজন বিআরটিএ অফিসে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন যানবাহন মালিক ও চালকদের কাজ দ্রুত করে দেয়া ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রলুব্ধ করে অর্থ আদায় করত। সবাই জরিমানা পরিশোধ করে মুচলেকা দিয়েছে।’
ভোলা
ভোলা সদর হাসপাতালে দালালির অভিযোগে চারজনকে আটক করে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত ফাতেমা চৌধুরীর আদালত রোববার দুপুরে তাদের কারাদণ্ড দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল হাদি নিউজবাংলাকে জানান, দালালরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নানা রকম হয়রানি করছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব ও পুলিশকে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়।
জয়পুরহাট
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে র্যাব-৫ জয়পুরহাটের বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে তিনজনকে আটক করেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব-৫-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌকির নিউজবাংলাকে জানান, আটক দালালরা গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট করে দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন। অনেক সময় টাকা নিয়ে প্রতারণাও করতেন।
সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানো ও সরকারি আদেশ অমান্য করায় তাদের আটক করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য