১০ টাকার হিসাবধারীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা

১০ টাকার হিসাবধারীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

তহবিলটির নাম দেয়া হয়েছে, ‘১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক/ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঅর্থায়ন স্কিম’। তহবিলের মেয়াদ হবে ৫ বছর। তবে, প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলে উঠতে ১০, ৫০ ও ১০০ টাকার হিসাবধারীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিলটির নাম দেয়া হয়েছে, ‘১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক/ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঅর্থায়ন স্কিম’।

তহবিলের মেয়াদ হবে ৫ বছর। তবে, প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হবে। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাহকদের ৭ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবাভুক্তির আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ১০ টাকার হিসাবধারী ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ নিম্ন আয়ের পেশাজীবী ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, বর্তমানে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরূপ প্রভাবে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

এ অবস্থায় আর্থিক সেবাভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক, ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুদ্ধার ও অব্যাহত রাখা এবং ঋণের ব্যাপ্তি, ঋণসীমা ও তহবিলের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ঋণের শর্তাবলী সহজিকরণের মাধ্যমে এ স্কিমের সময়োপযোগী কার্যকারিতা বৃদ্ধি আবশ্যক মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিম্নোক্তভাবে তহবিলটি পুনর্গঠন করা হয়েছে:

# তহবিলটির নাম হবে ‘১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক/ভূমিহীন কৃষক, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য গঠিত পুনঅর্থায়ন স্কিম’।

# বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ যোগান দেয়া হবে।

# স্কিমের মেয়াদ হবে ৫ বছর। তবে, প্রয়োজনে মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে।

# ব্যাংকগুলো একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রে ২ থেকে ৫ সদস্যের সমন্বয়ে গ্রুপকে ৪ লাখ টাকা করে প্রতি গ্রুপে ২০ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করতে পারবে।

# এ তহবিলের অধীনে ঋণ সুবিধা গ্রহণকারী সব গ্রাহকই হবে বিদ্যমান ১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারী। অত্র স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নতুন গ্রাহকদের আবশ্যিকভাবে ১০/৫০/১০০ টাকা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমাদানপূর্বক ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে।

# পাড়া, মহল্লা ও গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র বা অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা এই তহবিল থেকে ঋণ পাবেন। যেমন: চর্মকার, স্বর্ণকার, ক্ষৌরকার, কামার, কুমার, জেলে, দরজি, হকার বা ফেরিওয়ালা, রিক্সাচালক বা ভ্যানচালক, ইলেক্ট্রিক বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র মেরামতকারী, ইলেক্ট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রী, রংমিস্ত্রী, গ্রিলমিস্ত্রী, প্লাম্বার, আচার বা পিঠা প্রস্তুতকারী, ক্ষুদ্র তাঁতী, পশু চিকিৎসক ইত্যাদি।

এ ছাড়া, যেকোনো ধরনের আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি (যেমন: মুদি ও মনোহরী পণ্যের দোকানি, ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকানি, ফ্লেক্সিলোড সেবা প্রদানকারী বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অ্যাজেন্ট, তথ্য সেবা প্রদানকারী বা ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, ভাসমান খাবারের দোকানি, চা-পান বিক্রেতা, বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন বিক্রেতা, ঠোঙা বা মোড়ক প্রস্তুতকারী, ফুল-ফল, শাক-সবজি বিক্রেতা, হাঁস, মুরগী, কবুতর, কোয়েল, গরু, ছাগল, ভেঁড়া ইত্যাদি গবাদিপশু পালনকারী, চিংড়ি, মৎস্য, কাঁকড়া, কুঁচে চাষি, কেঁচো সারসহ যেকোনো জৈব সার উৎপাদনকারী, সবজি চাষি, উদ্যোক্তা- নার্সারি, বৃক্ষরোপণ, সূঁচিশিল্প, ব্লক-বাটিক, ক্ষুদ্র-কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, কনফেকশনারিসহ অন্যান্য খাবার প্রস্তুতকরণ এবং অন্য যেকোনো সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভিডিপি সদস্য) এ ঋণ সুবিধার আওতাভুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।

# যেকোনো দুর্যোগে (প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট) ক্ষতিগ্রস্ত (যেমন: নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, মঙ্গা, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, ভবনধ্বস, কোভিড-১৯ এর ন্যায় অতিমারি ইত্যাদি) প্রান্তিক/ভূমিহীন কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী, এবং চর ও হাওর এলাকায় বসবাসকারী স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ ঋণ সুবিধা পাবেন।

# বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও মহিলা উদ্যোক্তারা যেকোনো ধরনের আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ ঋণ সুবিধা পাবেন।

# স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সুবিধাবঞ্চিত ও অসচ্ছল স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারীদের (শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীসহ) বৃত্তিমূলক/কারিগরি/তথ্য প্রযুক্তিসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ উক্ত স্কিমের আওতায় অভিভাবকের পরিশোধ গ্যারান্টির ভিত্তিতে ঋণ সুবিধা প্রদান করতে পারবে। ১৮ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারীদের আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ডে এবং প্রশিক্ষণলব্ধ দক্ষতা ভিত্তিক পেশা ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য উক্ত স্কিমের আওতায় ব্যাংকসমূহ ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

# খেলাপী ঋণগ্রহীতা এ স্কিমের আওতায় ঋণসুবিধা প্রাপ্য হবেন না।

# এ তহবিলের আওতায় ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা জামানত নেয়া যাবে না। তবে, প্রত্যেক ঋণ গ্রহীতার ঋণের বিপরীতে ঋণ গ্রহীতাসহ অনধিক দুই জনের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণ করা যাবে। ৩ লাখ টাকা ও তার বেশি ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজস্ব বিবেচনায় সম্পূর্ণ ঋণের বিপরীতে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে, ব্যাংক নিজস্ব উৎস হতে গ্যারান্টি ফি পরিশোধ করবে।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

কর্মসংস্থানে জোর দিন, বাংলাদেশকে আঙ্কটাড

প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা। ফাইল ছবি

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে, এটিকে দ্বিগুণ করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশকে ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। এটা করতে হবে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার রাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত ৪৬টি দেশ নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে বলেছে আঙ্কটাড।

সংস্থাটি বলেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নতুন করে অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। মহামারির বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশকে ওই অর্থ খরচের কথা বলেছে।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা বাড়ছে। এখন যে সক্ষমতা আছে, এটিকে দ্বিগুণ করতে হলে ১০ বছরে আরও ২৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে এ খাতে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে আঙ্কটাড।

অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি হাতে গোনা কিছু খাত ও পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য না আনতে পারলে বাংলাদেশকে একসময় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

তাই সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি খাতে আগামী ১০ বছরে ১১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হবে, যা মোট জিডিপির ৩১ শতাংশ।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের সংখ্যা বর্তমানে ৪৬টি। অন্যদিকে ছয়টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। দেশগুলো হলো বতসোয়ানা, কেপভার্দে, মালদ্বীপ, সামোয়া, ভানুয়াতু ও ইকোয়েটরিয়াল গিনি।

বাংলাদেশ, ভুটান, সাও টোমে প্রিনসিপে, অ্যাঙ্গোলা, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, কিরিবাতি ও টুভালু দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি) সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা।

আঙ্কটাড প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অম্ভ্যন্তরীণ সম্পদ তথা রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করা।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ করা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করা।

এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে মনে করে আঙ্কটাড।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

ই-কমার্স আইন ও কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় কমিটি গঠন

ই-কমার্স আইন ও কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় কমিটি গঠন

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়, গঠিত কমিটির কার্যপরিধি হবে চারটি। কমিটি ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

ই-কমার্স আইন প্রণয়ন এবং পৃথক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় আইনি দিক পর্যালোচনা করতে ১৬ সদস্যের একটি আইনি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ডিজিটাল কমার্স সেল) মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত সোমবার এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। দাপ্তরিক আদেশের একটি মঙ্গলবার নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

আদেশে জানানো হয়, গঠিত কমিটির কার্যপরিধি হবে চারটি। কমিটি ডিজিটাল কমার্স সেক্টরের উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

এ ছাড়া কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে ডিজিটাল কমার্স পরিচালন ও নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করবে। পাশাপাশি কমিটি আগামী দুই মাসের মধ্যে শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার কাঠামো এবং এর কার্যপ্রণালী প্রণয়ন করবে।

তবে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়, ই-কমার্সের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য গত ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্রমবিকাশ ডিজিটাল কমার্স নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী আইন ও শক্তিশালী একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

দুটি বিষয়ে আইনি দিক পর্যালোচনা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৬ সদস্যের একটি আইনি কমিটি গঠন করেছে।

আদেশে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য) এ এইচ এম সফিকুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (ডিজিটাল কমার্স সেল) মুহাম্মদ সাঈদ আলীকে।

কমিটিতে বাকিরা সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

হিসাবে স্বচ্ছতা এলে করের বোঝা কমবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

হিসাবে স্বচ্ছতা এলে করের বোঝা কমবে: এনবিআর চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিবিএস সিস্টেম চালুর ফলে হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। ভুয়া অডিট ও জাল রিপোর্ট প্রতিরোধ হবে। এতে করে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি কমবে, অন্যদিকে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে।’

হিসাবে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হলে করের বোঝা কমবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও আইসিএবির সঙ্গে মঙ্গলবার ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিবিএস) সফটওয়ার বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিবিএস সিস্টেম চালুর ফলে হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ভুয়া অডিট ও জাল রিপোর্ট প্রতিরোধ হবে। এতে করে একদিকে রাজস্ব ফাঁকি কমবে। অন্যদিকে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একই সঙ্গে সরকার সঠিক রাজস্ব পাবে। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি পাবে।’

অনুষ্ঠানে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান খশরুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন। আর এনবিআরের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সদস্য আলমগীর হোসেন, সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মাসুদ সাদিক ও আব্দুল মান্নানসহ আরও অনেকে।

আইসিএবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন মাহমুদুর রহমান খশরু। আর এনবিআরের পক্ষে সই করেন সদস্য (ভ্যাট নীতি) মাসুদ সাদিক।

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

চাল আমদানি: এলসি খোলার সময় বাড়ল

চাল আমদানি: এলসি খোলার সময় বাড়ল

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতী সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার সময়সীমা পত্র জারির তারিখ থেকে ৭ দিন বাড়ানো হলো।

দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে সরকার।

সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের (সচিবালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখা) সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারিভাবে নন-বাসমতী সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বরাদ্দপ্রাপ্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলার সময়সীমা পত্র জারির তারিখ থেকে সাত দিন বাড়ানো হলো।

এলসি সম্পর্কিত তথ্য (পোর্ট অব এন্ট্রিসহ) তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে ([email protected]) জানাতে বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে যেসব প্রতিষ্ঠানকে চাল আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছিল, তাদের এলসি খোলার সময়সীমাও বাড়িয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।
চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সরকার বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমোদন দেয়। দাম সহনীয় রাখতে আমদানি শুল্কও কমানো হয়েছে।

চাল আমদানির অনুমতি দেয়া শুরু হয় গত ১৭ আগস্ট থেকে। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়ানোসহ শর্ত শিথিল করে মোট ১৪টি আদেশ জারি করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

প্রথম আদেশে বলা হয়েছিল বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খুলতে হবে এবং আমদানিকারকদের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।

প্রথম দুই দফায় ছয় লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হলেও পরবর্তী আদেশগুলোতে নতুন আমদানিকারকদের অনুকূলে বরাদ্দ বাড়ানো হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ ও সরবরাহ অনুবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসরকারিভাবে প্রায় ১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৯৮ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এ সময়ে সরকারি পর্যায়ে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার টন।

সবমিলিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ লাখ ৯২ হাজার টন, গম ১ লাখ ৩৭ হাজার টন আর ধান ৪০ হাজার টন।

চাল আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ক কমিয়েছে সরকার। গত ১২ আগস্ট আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে এখন মোট শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

রোববার অপর এক আদেশে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করেছেন বা করবেন, তারা সেই চাল ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাজারজাত করতে পারবেন। আগে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি করা চাল বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

টিকটক, রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব

টিকটক, রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব

বিএফআইইউ-এর চিঠিতে টিকটক, স্ট্রিমকার ছাড়াও আরও চারটি অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করা রিং আইডির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক, ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্ট্রিমকারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থাকলে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সম্প্রতি ব্যাংকগুলোতে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে রিং আইডি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এবং রিং আইডি বিডি লিমিটেডের নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে, তা জানাতে বলা হয়েছে। রিং আইডি ডিস্ট্রিবিউশনের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে গুলশানে নিকেতনের ৫৭ নম্বর বাড়ি। আর রিং আইডি বিডির ঠিকানা দেয়া হয়েছে রাজধানীর মহাখালীর খাজা টাওয়ার।

বিএফআইইউর চিঠিতে টিকটক, স্ট্রিমকার ছাড়াও আরও চারটি অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এসব অ্যাপ হলো তিনপাত্তি, ট্রেজার হান্ট, লাকি পয়সা ও ক্রিকেট স্টারস।

অ্যাপভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব থাকলে সেসব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ফরম ও শুরু থেকে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী পাঠাতে বলা হয়েছে।

অ্যাপভিত্তিক এসব প্রতিষ্ঠানের একটিরও অফিসের ঠিকানা পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ছাড়া সংকল্প ট্রাস্টসহ আট প্রতিষ্ঠান এবং এসব প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সাত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবও তলব করেছে বিএফআইইউ।

প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেসরকারি সংস্থা সংকল্প ট্রাস্ট, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ সিকিউরিটি ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ প্রভিডেন্ট ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট স্টাফ জেনারেল ফান্ড, সংকল্প ট্রাস্ট এলনাহ প্রজেক্ট, টাফুন ট্রাস্ট এবং আমিরাবাদ হাফিজিয়া মাদ্রাসা এতিম খানা।

এসব প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, মনিরুজ্জামান হিরু, আব্দুর রহিম, মিসেস তাছলিমা ও সাইফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়

বেনাপোল স্থলবন্দর অটোমেশনের আওতায়

বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়্যার হাউজ সুপার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রিতে অটোমেশন সুবিধার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রদান করা যাবে।’

দীর্ঘদিন পর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল অটোমেশন সেবার আওতায় এসেছে।

প্রায় দেড় বছর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর এবার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় এসেছে স্থলবন্দরটি অটোমেশন চালু হওয়ায় ঘরে বসেই কম্পিউটার আর মোবাইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে আরও গতি আসবে। নিশ্চিত হবে স্বচ্ছতা, কমবে হয়রানি। স্বস্তি পাবেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়। চলতি মাসে এসে পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় অটোমেশন সম্পন্ন হলো।

বন্দরের প্রশাসনিক ভবন, রাজস্ব দপ্তর, এন্ট্রি শাখা, ওয়্যার হাউজ সবকছিু অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।

অটোমেশন হওয়ার ফলে মোবাইলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই তাদের পণ্যের তথ্য জানতে পারবেন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, প্রতিবছর বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি হয়। তবে এই বন্দরটি এতদিন আধুনিকায়নে পিছিয়ে ছিল। আগে শুল্ক ফাঁকি থেকে শুরু করে একজনের পণ্য অন্যজন নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অটোমেশনের ফলে এখন আর সেই সুযোগ নেই। এতে করে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ওয়্যার হাউজ সুপার আবুল হোসেন বলেন, ‘আমদানি পণ্যের তথ্য আগে খাতা-কলমে এন্ট্রি করে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারে ডাটাবেজ এন্ট্রিতে অটোমেশন সুবিধার মাধ্যমে দ্রুত তথ্য প্রদান করা যাবে।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, কাস্টমসের পাশাপাশি বন্দর অটোমেশন হওয়াতে বাণিজ্যে গতি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। আমদানিকারকেরা তথ্য চাইলে দ্রুত সরবরাহ করা যাবে। তারা ইচ্ছে করলে নিজেরাও আমদানির তথ্য মোবাইলে দেখতে পারবেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, ‘চট্রগ্রামের পর প্রথম বেনাপোল বন্দর অটোমোশনে যুক্ত হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে রাজস্ব পরিশোধ পর্যন্ত সব তথ্য নজরদারিতে থাকবে। এতে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন

‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানি বন্ধের দাবি

‘সয়াবিন মিল’ রপ্তানি বন্ধের দাবি

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘এখনই গোখাদ্যের দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে খামার বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।’

খামারিদের স্বার্থে দ্রুত প্রাণীখাদ্যের উপকরণ সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন। সংগঠনটির মতে, এটি বন্ধ না হলে দেশের পোল্ট্রি ও মৎসসহ প্রাণিসম্পদ খাতের খাদ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে খামারিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়বে। তাই সয়াবিন মিল রপ্তানি দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধ করুন, ডেইরি পোল্ট্রি ও মৎস শিল্প রক্ষা করুন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সয়াবিন রপ্তানি দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের কারণে দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাত ব্যাপক লোকসানে পড়বে। ইতিমধ্যে সয়াবিন মিল রপ্তানির খবরে স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন মিলের দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি করেছে। সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনই গোখাদ্যের দাম বাড়ার লাগাম টেনে ধরতে হবে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে খামার বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহ-সভাপতি আলী আজম রহমান শিবলী, সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান, অর্থ সম্পাদক জাফর আহমেদ পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজিব উল্লাহ প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের ১০ শতাংশ নারীদের জন্য  
ব্যাংকের সিএফও হওয়ার যোগ্যতা শিথিল
প্রণোদনার ঋণ যথাযথ খাতে যাচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার করুন