বনকর্মীদের ওপর হামলা মামলা: আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান

বনকর্মীদের ওপর হামলা মামলা: আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান

শনিবারের হামলায় আহত বন বিভাগের কর্মীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজনের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এরইমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

কক্সবাজারের রামুতে উচ্ছেদ অভিযানে বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ বলছে, হামলার ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

রামু থানায় শনিবার রাতে মামলাটি হয় বলে জানান উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, উপজেলার জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের মুরাপাড়া ভিআইপি টিলা এলাকায় বনের জায়গা দখল করে মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন স্থানীয় ফয়সাল।

শনিবার সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে যায় বনকর্মীরা। অভিযানের এক পর্যায়ে ফয়সাল ও তার সহযোগী ওবাইদুল, কালাম, রুবেল, আরিফ, মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জন বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এতে আহত হন জোয়ারিয়ানালার রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ, পিএমখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার, বন বিভাগের বিশেষ টহল দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আতাহার এলাহী, বনপ্রহরী বাসু দেব বণিক ও বাগান মালী অসিত কুমারসহ আটজন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রশাসনের লোকজন তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, ‘বন বিভাগের লোকজনের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এরইমধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের ধরতে চলছে অভিযান।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাপের কামড়ে প্রাণ গেল প্রতিবন্ধী শিশুর

সাপের কামড়ে প্রাণ গেল প্রতিবন্ধী শিশুর

চুয়াডাঙ্গা সদরে সাপের কামড়ে মারা গেছে ১০ বছরের আবদুল আলিম। ছবি: নিউজবাংলা

শিশু আলিমের মা সাবিনা খাতুন বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কাল (রোববার) ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসি। গত রাতে আমার মা সাহেদা বেগমের সঙ্গে ঘুমায় আমার ছেলেটা। রাত ৩টার দিকে ওর ডান হাতে সাপে কামড় দেয়।’

চুয়াডাঙ্গা সদরে সাপের কামড়ে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে সোমবার বেলা ২টার দিকে মারা যায় শিশুটি।

রোববার রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাতিকাটা গ্রামের মাঠপাড়ায় নানার বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) এএসএম ফাতেহ আকরাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মৃত শিশুর নাম আবদুল আলিম। ১০ বছরের আলিম আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের নাজমুল হকের ছেলে।

আলিমের মা সাবিনা খাতুন বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় কাল (রোববার) ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসি। গত রাতে আমার মা সাহেদা বেগমের সঙ্গে ঘুমায় আমার ছেলেটা। রাত ৩টার দিকে ওর ডান হাতে সাপে কামড় দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে ওরে দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাই। কবিরাজ কিছু করতে পারে না। সেখান থেকে ওরে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। দুপুরে ছেলেটা আমার মরে গেল।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আরএমও ফাতেহ আকরাম বলেন ‘সঠিক সময়ে আলিমকে হাসপাতালে আনলে তাকে বাঁচানো যেত।’

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা কারাগারে

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জাপা নেতা কারাগারে

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস বলেন, কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার দেখায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। তখন বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা হোসেন আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

হোসেন আলী জাতীয় পার্টির সহযোগী সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক ইমাম হাসান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি বলেন, কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার দেখায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। তখন বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার রাত ১২টার দিকে নগরীর কৃষ্টপুর এলাকা থেকে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল তাকে আটক করে। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এ

ঘটনায় কিশোরীর বাবার করা ধর্ষণ মামলায় হোসেন আলীসহ তার তৃতীয় স্ত্রী তামান্না বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলার বরাত দিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন,

নগরীর কৃষ্টপুর এলাকায় হোসেন আলীর বাড়ি। তার বাড়ির পাশে ভাড়া থাকত কিশোরীর পরিবার। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে হোসেন প্রায়ই কিশোরীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এ সময় কিশোরীর সঙ্গে তার কথাবার্তা হতো। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সকালে হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী তামান্না বেগম কিশোরীকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। পরিকল্পিতভাবে কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ সেবন করান। পরে তাকে ধর্ষণ করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরীকে টানা পাঁচ মাস ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি কিশোরী তার মাকে জানালে মান-সম্মানের ভয়ে তারা ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। কিন্তু হোসেন আলী সেখানেও সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া দেন। পরে কিশোরীকে অপহরণ করে হত‍্যার হুমকি দেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, গ্রেপ্তার হোসেন আলীকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হলেও মামলার অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা দুজন পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্ত থেকে বিএসএফের ফেরত পাঠানো দুই রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ।

পাটগ্রাম থানা পুলিশ সোমবার দুপুর একটার দিকে তাদের ফেরত পাঠায়।

ওই দুই নারী হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুন্সিপাড়া ২২ নম্বর ক্যাম্পের সেতুফা বেগম ও একই ক্যাম্পের মো. আনাস।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার কক্সবাজার থেকে ওই দুই রোহিঙ্গা বাসে করে পাটগ্রাম আসেন। দালালের মাধ্যমে তারা বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়ে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে বিএসএফ তাদের আটক করে শনিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তবে তারা বিজিবিকে বিষয়টি জানায়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পাটগ্রাম রেলস্টেশনে তাদের দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পৌর মেয়র রাশেদুল ইসলাম সুইটের কাছে। সেখান থেকে রোববার ভোররাতে তাদের থানায় নেয়া হয়।

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

ওসি ওমর ফারুক জানান, তারা নেপালে যাওয়ার উদ্দেশেই ভারতে গেছিলেন। সেখান থেকে বিএসএফ তাদের ফেরত পাঠায়। দুজনকেই আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

হবিগঞ্জ-ইকরাম মাত্র ১৮ কিলোমিটারের একটি সড়কের জন্য ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

সংস্কারের অভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে আঞ্চলিক সড়কটিতে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। আরসিসি অংশের ঢালাইও উঠে গেছে; সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে পানি। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

তবু ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কারে নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। এতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং আর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আর ঝুঁকিকে সঙ্গী করেই চলাচল করতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি অংশ সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তবে হবিগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের দাবিতে আমরা পদযাত্রা করেছি। বিভিন্ন বাজার ও পয়েন্টে পথসভা করেছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাতই করছে না।’

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৮ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাতেই বড় বড় খানাখন্দে ভরা। আরসিসি অংশে ঢালাই উঠে গিয়ে রড় বের হয়ে গেছে।

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি হলে সড়কটির অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠে। গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকার দুর্ঘটনার শিকার হয় যানবাহন। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

সাঙ্গ এলাকার বাসিন্দা আয়ুব আলী বলেন, ‘এই সড়কটি মক্রমপুর, সুজাতপুর, পৈলারকান্দি, নোয়া পাথারিয়া, হিয়ালা, বাল্লা মধুপুর, বিথঙ্গল, পাহারপুর, কাকিয়ারআব্দা, টুপিয়াজুড়ি, সাঙ্গর, সুজাতপুর, রহমতপুর, গানপুর, মাখনিয়া, রায়পুর, আগুয়া, বিয়জপুর, মন্দরী, মুরাদপুর, বাগতলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি গ্রামসহ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। তবে সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। অথচ সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।’

ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী সুবিনয় দাস বলেন, “ভাঙা সড়ক দিয়েই ব্যবসার জন্য পণ্য আনতে হয়। অনেক সময় মালবাহী ছোট ছোট গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে মালামাল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আমাদের। এ ছাড়া গাড়ির ঝাকুনির কারণে বিভিন্ন পণ্য ভেঙে যায়। এ সড়কের কারণে ‘গুড়ের লাভ পিঁপড়ায় খাইলায়’।”

বাল্লা মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা সজল দাস বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে জেলা শহরসহ ঢাকা-সিলেট যেতে হয়। প্রসূতি নারীদের নিয়মিত হবিগঞ্জ শহরে ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়, কিন্তু এই সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।’

এই সড়কের সিএনজি অটোরিকশাচালক তারেক মিয়া বলেন, ‘এই মাসেও আমার টমটম তিনবার উল্টাই গেছে। ভাঙা জায়গাত পানি জইম্মা থাকে, যে কারণে ইখান দিয়ে চাক্কা (চাকা) গেলেই গাড়ি উইল্টা যায়গা। এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন পার্টসও দুই দিন পর পর ভাইঙ্গা যায়।’

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ কিলোমিটার সড়কের ৭ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ৩ কোটি টাকার দরপত্র তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাসেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করা যায়, দুই মাসের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

বাকি ১১ কিলোমিটারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই স্থানটিও সংস্কারের জন্য খুব শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এ বছরই এটি একনেকে পাস হবে।’

শেয়ার করুন

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

পাবনার ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির।

নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামের ওয়াছেদ আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র সরকারের ছেলে মাধব চন্দ্র সরকার।

হতাহতরা ‘টেস্ট রোসেম’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করতেন।

রূপপুর প্রকল্পে সোমবার দুপুর ১টার দিকে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এ সময় শিফাত নামে আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট অফিস কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে।’

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, ৭ বছর জেল বিএনপি নেতার

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, ৭ বছর জেল বিএনপি নেতার

দণ্ডিত আক্তার হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাণীনগর শেরকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শেরকোল ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার অপরাধে নাটোরের এক বিএনপি নেতাকে সাত বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক জিয়াউর রহমান সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আক্তার হোসেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার রাণীনগর শেরকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শেরকোল ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

আদালত তাকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন। অনাদায়ে আরও তিন মাস জেল খাটতে হবে তাকে।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা জানান, ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে আক্তার হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। এতে তিনি আপত্তিকর কথাবার্তা লেখেন।

এ ঘটনায় পরদিন শেরকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সিংড়া থানায় ২০০৬ সালের তথ্য-প্রযুক্তি আইনের (সংশোধন-২০১৩) ৫৭ ধারায় একটি মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৮ মার্চ সিংড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবব্রত দাস আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রশাসনের অভিযানে ৩০০ মিটার চায়না জাল ধ্বংস

প্রশাসনের অভিযানে ৩০০ মিটার চায়না জাল ধ্বংস

৩০০ মিটার চায়না জাল জব্দ করে পুড়িয়েছে প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

বাসাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে জানান, নিষিদ্ধ এসব চায়না জালের যত্রতত্র ব্যবহার রুখতে ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ২০ মিটারের ১৫টি জাল আটক করে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নিষিদ্ধ চায়না জালের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস।

কাশিল ও ফুলকী ইউনিয়নে সোমবার বেলা ২টার দিকে অবৈধ চায়না জালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাসাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এর নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ঢুকেছে। আর নতুন পানি দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুম। এ সময় সহজেই সব ধরনের মাছ ধরতে জেলে থেকে মৌসুমি মৎস্য শিকারিরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পাশাপাশি চায়না জাল ব্যবহার করছেন।

এতে ডিম থেকে শুরু করে সব ধরনের মাছ সহজেই চায়না জালে ধরা পড়ছে। আর হুমকিতে পড়েছে দেশি সব ধরনের মাছ।

মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, নিষিদ্ধ এসব চায়না জালের যত্রতত্র ব্যবহার রুখতে ৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ২০ মিটারের ১৫টি জাল আটক করে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন