দুই শর্তে পুঁজিবাজারে আসছে ইউনিয়ন ব্যাংক

দুই শর্তে পুঁজিবাজারে আসছে ইউনিয়ন ব্যাংক

স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

চার মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন পেল আরও একটি ব্যাংক। এবার অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকটি হলো ইউনিয়ন ব্যাংক। সর্বশেষ মে মাসে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংককে।

রোববার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৭৯০তম কমিশন সভায় ইউনিয়ন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়।

ইউনিয়ন ব্যাংক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে এক যুগের বেশি সময় পর গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংক খাতের কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংককে।

এই ব্যাংকটির আগে ২০০৮ সালে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসে।

আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন ব্যাংকে শর্ত দেয়া হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না।

ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা। উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কমিশন সভায় এসএমই সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য কৃষিবিদ ফিড লিমিটেডকে ২২ কোটি টাকা উত্তলনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি তার ২ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে।

লংকাবাংলা ফিন্যান্স লিমিটেডকে ৩০০ কোটি টাকার নন কনর্ভাটেবল জিরো কুপন বন্ড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংককে ৫০০ কোটি ও ইসলামী ব্যাংককে ৮০০ কোটি টাকার পারপিচ্যুয়াল বন্ড ছাড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন

বিভ্রান্তিতে লেনদেনে খরা, ৩০ কর্মদিবসে সর্বনিম্ন

চাঙা পুঁজিবাজারে হঠাৎ উৎসাহের অভাব দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গত ৩০ কর্মদিবসে তৃতীয়বারের মতো দুই হাজার কোটি টাকার কম লেনদেন হলো। এর চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল গত গত ২৭ জুলাই। সেদিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৫২১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার।

দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে সূচক উঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা স্পষ্ট হলো লেনদেনে। চলতি সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো আর ১৪ কর্মদিবস পর প্রথমবারের মতো লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নামল।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সূচকের পতনের পর দ্বিতীয় দিন সোমবার উঠানামা করতে করতে শেষ পর্যন্ত ১৪ পয়েন্ট যোগ হওয়ার স্বস্তি উবে যাচ্ছে লেনদেন দেখে। আগের দিনের তুলনায় ২৭১ কোটি টাকার কম শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এই লেনদেন গত ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

এর আগে শেষ দুই হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হয়েছিল গত ২৯ আগস্ট। সেদিরও দুই হাজার কোটি টাকার নিচে লেনদেন হয়েছিল ১৬ কর্মদিবস পর।

২৯ আগস্টের আগে লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকার নিচে হয়েছিল ২৭ জুলাই। সেদিন হাতবদল হয় ১ হাজার ৫২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংকের অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি তোলার পর গত সপ্তাহ থেকেই পুঁজিবাজারে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সূচকের উঠানামার ভিড়ে গত কয়েক মাসে যেসব কোম্পানির শেয়ারদর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল, সেগুলো সংশোধনে যেতে শুরু করে।

বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানির উল্লম্ফনে ওই সপ্তাহে সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেলেও চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার পতন হয় বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারদরও।

তবে একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবণ্টিত লভ্যাংশ তহবিলে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি তুলে নিয়েছে। এরপর তহবিলে ব্যাংক থেকে টাকা আসছে।

তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি আসেনি। আর এই বিষয়টি নিয়ে তাই বিভ্রান্তি এখনও রয়ে গেছে।

এমনিতেই জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সূচক টানা বেড়েছে এক হাজার পয়েন্টের বেশি। ফলে একটি দর সংশোধন এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে হতে পারে বলে ধারণা ছিল। তার ওপর এই তহবিল সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি যোগ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটি স্পষ্ট।

আগের দিন ৩৬ পয়েন্ট পতনের পর সোমবার লেনদেনের শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট বাড়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, সেই মনোস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে বিনিয়োগকারীরা বুঝি বের হয়ে এসেছেন।

তবে এরপরের সোয়া তিন ঘণ্টায় সূচক কেবল উঠানামা করতে করতে দিনের সেই সর্বোচ্চ অস্থান থেকে কমে যায় ৩৬ পয়েন্ট।

এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে তহবিল নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল। কারণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়ন্ত্রক। কোনো আইনের কারণে তহবিলের অর্থ জমা হতে সমস্যা হলে পুরো পরিকল্পনাটি দুর্বল হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এখন যে কথাগুলো বলছে সেটি আগে বলছে হয়ত এত জটিলতা হতো না। আর বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হতো না।’

সূচকের লড়াইয়ের দিন পুঁজিবাজারে ঝলমলে দিন গেছে বিমা খাতে। সাধারণ বিমা কোম্পানির শেয়ারগুলো বহুদিন পর দল বেঁধে বাড়তে দেখা গেছে। দর বৃদ্ধির হারও ছিল উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ব্যাংক খাতে আরও একটি হতাশার দিন গেল। পতন হয়েছে খাদ্য, জ্বালানি, আর্থিক, ওষুধ ও রসায়ন এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতেও।

ঝলমলে বিমা খাত

গত বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক দফায় এবং পরে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় বিমা খাতের শেয়ারগুলোর দল বেঁধে উত্থানের যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, সেটি বহুদিন পর দেখা গেল আবার।

সাধারণ বিমা খাতের ১৩টি কোম্পানির সবগুলো দর হারলেও সাধারণ বিমার ৩৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৩৭টির।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে এমন ১০টি কোম্পানির মধ্যে দুটি ছিল এই খাতের। এর মধ্যে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও বিএনআইসিএলের দর ছুঁয়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা।

এই খাতে দলের পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ২৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার। আগের দিন লেনদেন ছিল ২০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দর। ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে ১৩০ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ১৪৩ টাকা ৮০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর ১২১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯.৯২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৩৪ টাকা।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৮.২৯ শতাংশ বেড়ে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৬২ টাকা ৬০ পয়সা।

দর বৃদ্ধির তালিকায় আছে রূপালী ইন্স্যুরেন্স, নর্দান ইন্স্যুরেন্স, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স। যাদের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৪৬ শতাংশ থেকে ৭.৭৬ শতাংশ পর্যন্ত।

এই খাতে জীবন বিমা খাতের প্রতিটি কোম্পানি দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩.৬৪ শতাংশ কমেছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৩৯ শতাংশ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৩২ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ২.৯২ শতাংশ কমেছে।

দর হারিয়ে বিনিয়োগ কমছে ব্যাংকে

৩২টি ব্যাংকের মধ্যে দর কমেছে ১২টির, বেড়েছে ৮টির। আগের দিনের দামেই আছে ১২টি।

লেনদেন হয়েছে মোট ১০২ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ৩.১৬ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২ টাকা ২০ পয়সা।

তারপরেই আছে ইস্টার্ন ব্যাংক, যার দর কমেছে ২.১৫ শতাংশ। আগের দিন বড় পতনের পর এনআরবিসি ব্যাংকের দর আরও কমেছে ১.৪১ শতাংশ। ২৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৭ টাকা ৮০ পয়সা।

ইউসিবি, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে।

ব্যাংকের দর খাতের সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ২.৩৭ শতাংশ। ডাচ বাংলা ব্যাংকের ১.০৯ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের বেড়েছে ৭৭ শতাংশ।

বস্ত্র, প্রকৌশলেও ভালো দিন

বস্ত্র খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ২০৬ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৫ কোটি টাকা। লেনদেনে দর বেড়েছে ৪৪টির কোম্পানির। দর হারিয়েছে ১২ টি কোম্পানির।

এদিন বস্ত্র খাতের ‘জেড‘ ক্যাটাগরির আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে দিনের সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ। শেয়ার দর ৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা।

তারপরই আছে রিং শাইন টেক্সটাইল, যার দর ৯.৫৯ শতাংশ বেড়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৩ টাকা ৭০ পয়সা।

জাহিন স্পিনিং মিলসের দর ৯.২৭ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্সের দর ৮.৪৮ শতাংশ, এনভয় টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৭.৫৪ শতাংশ।

এ খাতে দুলামিয়া কটনের দর সবচেয়ে বেশি কমেছে ৩.৪৬ শতাংশ। দেশ গার্মেন্টসের দর বেড়েছে ৩.০৫ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪টির, কমেছে ১৭টির, আর অপরিবর্তিত ছিল একটির।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় বেশ কম। রোববার হাতবদল হয়েছিল ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এই খাতের দুই কোম্পানি খান ব্রাদার্স ও অ্যাপোলো ইস্পাতের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রথম কোম্পানির দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ, আর দ্বিতীয়টির ৯.১৭ শতাংশ। এক দিনে এর চেয়ে বেশি দাম বাড়া সম্ভব ছিল না কোম্পানি দুটির।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

আর্থিক খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৪টির। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৬৮ কোটি ০৪ লাখ টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৫৮ কোটি ৯ লাখ টাকা। ১২টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৭টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি তিনটির। আর একটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরেই স্থগিত। এই খাতে আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট লেনদেন আরও কম হয়েছে। হাতবদল হয়েছে মাত্র ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লেনদেনে এ খাতের ৩টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ৮টির।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬টির, কমেছে ৮টির দর। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ১৬৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক ০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২০৫ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ৫ দশমিক ৬০৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ০৩০ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩২৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬টির, কমেছে ১৩১টির ও পালটায়নি ৩৮টির।

লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি। দরপতনে শীর্ষ পাঁচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড

জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে হতাশা কাটিয়ে যখন উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, সে সময় লভ্যাংশের রেকর্ড ডেটের পর মূল্য পতন আবার সেই হতাশার বৃত্তে নিয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের।

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি হয়েছে, যার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

বাজারে মোট ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে। এর মধ্যে জুনে অর্থবছর শেষ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ২৯টি। এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে হাতে থাকা নগদ টাকার ভিত্তিতে।

অর্থাৎ জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

আর এই দরপতনের ক্ষেত্রে আরও একটি ঘটনা ঘটছে, যেটি বিস্ময়করই বটে।

যেমন- ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট ও পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রেকর্ড ডেট শেষে দর হারিয়েছে ৭০ পয়সা। আগের দিন যে দাম ছিল, তাতে এর চেয়ে বেশি কমতে পারত না দাম।

অন্যদিকে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া এফবিএফআইএফ দর হারিয়েছে ৪০ পয়সা।

রোববার রেকর্ড ডেট শেষে লেনদেন শুরু করা ১০টি ফান্ডের সব এভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০ পয়সা করে দর কমেছে ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এই দুটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

রেকর্ড ডেটে দুটি ফান্ডের দাম ছিল যথাক্রমে ৯ টাকা ৭০ পয়সা ও ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এক দিনে কমতে পারত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, কমেছেও সেটাই।

পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ দুই ধরনের হয়ে থাকে। বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ। যতটুকু বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রস্তাব করা হয়, রেকর্ড ডেট শেষে সেই পরিমাণ দাম আগেই সমন্বয় করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ, কিন্তু নগদ লভ্যাংশ সমন্বয় করা হয় না কখনও।

তার পরই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এই নগদ লভ্যাংশও কার্যত সমন্বয় হয়ে যাওয়ায় লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের আসলে কোনো মুনাফা থাকছে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার এর কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছেন না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমে আসার কারণ হচ্ছে, সারা বছর এ খাতের ইউনিটের দুরবস্থা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে মূলত লভ্যাংশ দেবার সময় এসেছে এ জন্য। ফলে ভালো লভ্যাংশ দেবে এমন প্রত্যাশায় বেশ কিছু মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ হয়।

‘তবে বেশির ভাগ ইউনিট হোল্ডার লভ্যাংশ না নিয়েই ইউনিটপ্রতি মুনাফা হলেই বিক্রি করে বের হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে এখানে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ হয় না। যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন তারাই শুধু এখানে থাকেন।’

‘তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম ওঠা-নামার সঙ্গে লভ্যাংশের খুব বেশি সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। এটাই হয়তো একটা কারণ।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই চিত্র হয়তো থাকবে না। তিনি বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যদি ইউনিটধারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন দিতে না পারে, তাহলে এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। তবে এখন আসছে। সর্বশেষ অর্থবছর বিবেচনায় সিংহভাগ মিউুচ্যয়াল ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে আশা করা যায়, এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে।’

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

বেশি লভ্যাংশ দিয়ে বেশি পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউনিটপ্রতি সবচেয়ে বেশি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে এনএলআই মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২৮ আগস্ট। সেদিন দর ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা।

পরের দিন এক দিনেই দাম কমে ১ টাকা ৬০ পয়সা। দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার লেনদেন হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ নেয়ার পর একেকটি ইউনিটের দাম পড়েছে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

এসইএমএল লেকটার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ইউনিটধারীদের ২০২১ সালের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। পরদিন দর কমে হয় ১১ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে ৮০ পয়সা।

সে সময় ৭০ পয়সা মুনাফা হলেও পরে তা আর থাকেনি। কারণ এরপর থেকে দাম আরও কমছে। রোববার ফান্ডটির একেকটি ইউনিট লেনদেন শেষ করেছে ১০ টাকা ৪০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ দিতে গিয়ে বিনিয়োগকারী খুইয়েছেন ২ টাকা ১০ পয়সা।

ইউনিটধারীদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। এর লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটও ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ইউনিট মূল্য ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। রেকর্ড ডেটের পর সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী দাম কমে ১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর আরও কমে রোববার লেনদেন শেষ করে ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়ে এই ফান্ডে বিনিয়োগকারী ইউনিটপ্রতি মূল্য হারিয়েছেন ১ টাকা ৬০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডে ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ নেয়ার রেকর্ড ডেট ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে প্রথম দিন কমে ১ টাকা ৩০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ নিয়ে দুই টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারী।

সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ নিয়েও লাভবান হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

ফান্ডটি লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের দিন দর ছিল ১৯ টাকা ৫০ পয়সা। রোববারের দর ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়ে একেকজন খুইয়েছেন ১ টাকা ৭০ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিটধারীরা ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে খুইয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

৮ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ কমেছে দেড় টাকা।

ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা।

১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে বিনিয়োগকারীর এখন পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। রোববার ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল ৮ টাকা ২০ পয়সা।

সমপরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও একই দশা। রেকর্ড ডেট ১ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি এখন কমে হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে একেকজন হারিয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০২১ সালে ইউনিটধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ বা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বরে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম ৯০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে ৯০ পয়সার বেশি কমার সুযোগ ছিল না।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও একই অবস্থা। ইউনিটধারীদের ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ফান্ডটি। রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দর ছিল ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী কমতে পারত ৯০ পয়সা, কমেছেও তা।

ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটে দাম ছিল ৭ টাকা ৪০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। কমেছে তাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

৮৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ২০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও ততটাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্ন সীমা ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। এই একটি দামেই লেনদেন হয়েছে দিনভর।

৮০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমতে পারত সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

রেকর্ড ডেটে ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। তবে কমেছে ৬০ পয়সা।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও এফবিএফআইএফের লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের কার্যত কোনো মুনাফা হয়নি।

৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া প্রথম ফান্ডের দাম কমেছে সমপরিমাণ, আর ইউনিটে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দ্বিতীয় ফান্ডের দাম কমেছে ৪০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবির ৮ ফান্ডে মুনাফা

এবার চাঙা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আটটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো মুনাফা করতে না পারার পর লভ্যাংশ দিয়েছে তুলনামূলক কম। তবে লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, তারা অতটা হতাশ নন। এর কারণ একটির ইউনিট মূল্য লভ্যাংশের পর বেড়েছে। বাকিগুলোর কমলেও এতটা কমেনি যে লভ্যাংশ হিসাব করলে লোকসান হবে।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা অবশ্য ব্যাপক মুনাফা করেছেন। ইউনিটপ্রতি ৮০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ লভ্যাংশ নেয়ার পরও দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল অগ্রণী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এখন দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এই ফান্ডে বিনিয়োগকারীর মুনাফা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডটির ইউনিটধারীরাও মুনাফা পেয়েছেন। রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ পয়সা কমে এখন দাম ৭ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা মুনাফায় আছেন বিনিয়োগকারীরা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। রোববার দাম ৮ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৪০ পয়সা। এই ফান্ডেও ইউনিটপ্রতি মুনাফা আছে ৩০ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। রোববার দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ২০ পয়সা।

সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দেয়া ফান্ডটির বিনিয়োগকারীরাও ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা মুনাফায় আছেন।

ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফান্ডটির ইউনিটধারীদেরও মুনাফা হয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিয়েছেন, তাদের অন্তত লভ্যাংশের ৫০ পয়সা মুনাফা আছে।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা, রোববার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিট-মূল্য কমেছে ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের নয়টি উড়োজাহাজ। ছবি: নিউজবাংলা

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয়ার পর প্রথমবারের মতো পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পেল বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কর্তৃপক্ষ।

রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ৯টি উড়োজাহাজের অবস্থা পরীক্ষা করে নতুন পর্ষদ।

ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা তারা যতটা খারাপ ভেবেছিলেন তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে। তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি আমরা যেটা মনে করেছিলাম, যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ দেখিনি। আমি আরও বেশি গারবেজ মনে করেছিলাম। তবে ভেতরে কি অবস্থা এটা বোঝার উপায় নেই।

‘এরপর একটি ইঞ্জিনিয়ারিং টিম যাবে এগুলোর অবস্থা দেখতে। ইঞ্জিনিয়ারিং টিম গেলে আবার তাদের যন্ত্রপাতিও কিছু লাগবে। আজই প্রথম গেলাম। বিমানবন্দরে আমাদের যে অফিস আছে সেটা এখনো খুলতে পারিনি। আশা করছি, আগামীকাল সেটাতেও যেতে পারব। তখন আমরা ডকুমেন্টেশনগুলো দেখতে পারব।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর হিসাবে, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরে সিদ্ধান্ত হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়া হবে মালিকপক্ষকে।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উড়োজাহাজগুলো হয়তো ফ্লাইয়েবল করা যাবে কিন্তু সেটা কতটুকু ইকোনোমিক হবে সেটা এখন প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না ইঞ্জিনিয়ারিং অডিট হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বোঝা যাবে না। আমরা এটা দিয়ে যাত্রী পরিবহন করব নাকি কার্গো পরিবহন করব এটাও তখনই ঠিক হবে।

পরিত্যক্ত ৯ উড়োজাহাজ দেখল ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ

‘কার্গোর ক্ষেত্রে যে রিকোয়্যারমেন্টগুলো আছে সেগুলো অনেক রিল্যাক্সড। এটা করা অনেক সহজ হবে বলে আমার ধারণা। তবে এটি টেকনিক্যাল রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে। তবে এটাও ঠিক উড়োজাহাজগুলোর বয়স অনেক হয়েছে। এগুলো দিয়ে যাত্রী পরিবহন করাটা আমাদের কাছেও সুদুরপরাহত মনে হচ্ছে।’

ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সপেকশনের কোনো সময়সীমা আমরা ঠিক করিনি। প্রাথমিকভাবে আমাদের চেষ্টা হচ্ছে দেশীয় একটি টিম গঠন করে এগুলোর একটি নিরীক্ষা সম্পন্ন করা। এজন্য বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনসের সঙ্গে আমরা কথাও বলছি।’

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ

রিংসাইন টেক্সটাইলের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া ছবি

গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে। এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বন্ধ থাকা রিংসাইন টেক্সটাইলে প্রাণ ফেরাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উদ্যোগ আরও একটু এগিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে দুটি ইউনিটে উৎপাদন চলতে থাকা কোম্পানিটিতে আরও একটি ইউনিটে কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি পরের বছর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি গত ২৭ জানুয়ারি কোম্পানিটির বোর্ড পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের বাদ দিয়ে দেয়।

বিএসইসি এখন পর্যন্ত ১৩টি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে রিংসাইনে উৎপাদন শুরু হয়। গত ১৩ জুন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, তারা তাদের উৎপাদনক্ষমতার এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করছে।

এখন আরও একটি ইউনিট চালু হলে উৎপাদনক্ষমতার ৩৭.৫ শতাংশ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পর্যায়ক্রমে তা আরও বাড়ানো হবে।

জানতে চাইলে বিএসইসি মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক সগীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর কোম্পানিটির উৎপাদন চালু আছে। উৎপাদনও বাড়ছে।’

নতুন কোনো প্ল্যান্ট শিগগিরই চালু হবে কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে দুটি চালু করা হয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার পর প্রয়োজনে আমরা নতুন প্ল্যান্ট চালুর দিকে যাব। প্রয়োজনে আইপিওর যে টাকা রাখা আছে, সেগুলোরও ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

রিংসাইনের ক্ষেত্রে নতুন বোর্ড আরেকটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছে এ কারণে যে, আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি যে ১৫০ কোটি টাকা তুলেছিল, তার পুরোটাই ব্যাংকে রক্ষিত ছিল। এর মধ্যে বিএসইসির অনুমতি পেয়ে ৪০ কোটি টাকায় দায়দেনা পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকি অর্থে শুরু হয় উৎপাদন।

ফলে আরও ১১০ কোটি টাকা ব্যবহারের সুযোগ আছে নতুন পর্ষদের কাছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা খতিয়ে দেখে অনুমতি দেবে বিএসইসি।

শেয়ার বাতিলে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

বিএসইসির সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে টাকা ছাড়াই যে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল হবে। এ-সংক্রান্ত আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ। এখন তা কমিশন সভায় উপস্থাপন করার বাকি। আগামী মাসেই তা উপস্থাপন করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘কমিশন শেয়ার বাতিল করতে পারে না। শেয়ার বাতিলের অংশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কোম্পানিটিকে আদালতে গিয়ে অবৈধ শেয়ারগুলো বাতিল করার জন্য বলা হবে। কোম্পানি তখন সে শেয়ারগুলো বাতিল করবে।’

তবে রিংসাইনের মনোনীত পরিচালক সগীর আহমেদ বলেছেন, ‘এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএসইসি। আমাদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

আইপিওতে আসার আগে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা বা পরিচালক ও ৭৩ জন সাধারণ শেয়ারধারীর কাছে ২৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এই পরিশোধিত মূলধন ২৮৫ কোটি ৫ লাখ টাকা করা হয়। এর বিপরীতে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

রিংসাইনে চালু হচ্ছে আরও ইউনিট, ২৭ কোটি শেয়ার বাতিলের উদ্যোগ
বন্ধ হয়ে যাওয়া রিংসাইনে প্রাণ ফিরছে বিএসইসির উদ্যোগে

রিংসাইনের বোর্ড পুনর্গঠনের পর তদন্ত করে এই বিষয়টি উদঘাটন করে বিএসইসি। এর পরে এসব শেয়ার বাতিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

২৭ কোটি ৫১ লাখ শেয়ার বাতিল হলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন হবে ২২৫ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা হবে ২২ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩টি।

অর্থাৎ বর্তমানে কোম্পানিটির যে শেয়ার দেখানো হচ্ছে, তার ৫৪ শতাংশই কমে যাচ্ছে।

আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে চিঠি

বিএসইসির একজন কমিশনার জানান, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে রিংসাইনকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিএসইসি মনোনীত পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অধ্যাপক সগীর হোসাইন খন্দকার সম্প্রতি নিউজবাংলাকে বলেছেন, তারা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এজিএম করবেন। সেখানে কোম্পানির সবশেষ পরিস্থিতি জানানো হবে বিনিয়োগকারীদের।

তালিকাভুক্তির বছরে ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল রিংসাইন। ২০২০ সালে ১ শতাংশ বোনাস ও ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হলেও বার্ষিক সাধারণ সভা করে সেটি অনুমোদন করা যায়নি। এর মধ্যে করোনার সময় কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কোনো একটা কিছু হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে কোম্পানির আইপিও ফান্ড আটকে দেয় বিএসইসি।

উৎপাদন শুরু হলেও এবার জুনে অর্থবছর শেষে বোর্ডসভায় ২০২১ সালের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

উৎপাদন চালু হলেও কোম্পানির আর্থিক হিসাব প্রকাশ না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সগীর জানান, উৎপাদনে আসার পর কোম্পানি মুনাফা করছে। তবে তাদের আগের লোকসান আছে। সেগুলো সমন্বয় করে হিসাব-নিকাশ করতে একটু সময় লাগছে।

কবে নাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন সিএফও যোগদান করেছেন। তিনি এ বিষয়টিকে দেখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা একটি কোম্পানির পরিপূর্ণ হিসাব তৈরি করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে তা প্রকাশ করা হবে।’

তালিকাভুক্তির পরই ভেঙে পড়ে কোম্পানিটি

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকায় যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিওর খরচ মেটানোর কথা ছিল। তবে সেই টাকা তারা ব্যবহার করার আগেই হস্তক্ষেপ করে বিএসইসি।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করার আগেই ২০১৯ সালের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরবর্তী লেনদেনে সার্কিট ব্রেকার থাকবে কি থাকবে না, এমন অবস্থায় কোম্পানিটি নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ১২ ডিসেম্বর কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে।

পরের বছরের জন্য কোম্পানিটি ১ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করে কিন্তু বার্ষিক সাধারণ সভা আর হয়নি। ফলে বিষয়টি আর চূড়ান্ত হয়নি।

যদিও কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা করে, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও থেকে তোলা টাকার ব্যবহারের খাত পরিবর্তন।

তখন অভিযোগ ওঠে, কোম্পানিটির বিদেশি পরিচালকরা আইপিওর মাধ্যমে তোলা টাকা নিয়ে নিজ দেশে চলে গেছেন। তখন বিএসইসির অনুরোধে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক।

যেভাবে বিপাকে

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) তাইওয়ানের মালিকানাধীন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রিংসাইন একটি শক্তিশালী কোম্পানি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এর শ্রমিকসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি ছিল।

১৯৯৬ সালে ডিইপিজেডে তাইওয়ানের নাগরিক মি সাও সোয়েটার কারখানাটি চালু করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যে একে একে তিনি গড়ে তোলেন অ্যাভাস গার্ড লিমিটেড, সাইন ফ্যাশন লিমিটেড ও ইন্টার লগ লিমিটেড। এসব কারখানায় শ্রমিক ছিল আরও অন্তত সাত হাজার।

সমস্যার শুরু পাঁচ বছর আগে। বার্ধক্যজনিত কারণে মি সাও মারা গেলে তার ছেলে মি উইং থিং ও মেয়ে অ্যাঞ্জেলা কারখানাটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেননি।

মালিকদের অভিযোগ, শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমদানি করা সুতাসহ নানা উপকরণ পাচার করে দিচ্ছিলেন শ্রমিক ফেডারেশন নেতা ও কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মি সাওয়ের মতো তার সন্তানরা ব্যবসা অতটা ভালো বুঝতেন না। আর এই সুযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও তথ্য আছে। একপর্যায়ে মি সাওয়ের দুই সন্তান কাউকে না বলে বাংলাদেশ থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক

আগের সপ্তাহে দরপতনের পর নতুন সপ্তাহের শুরুটিও ভালো গেল না পুঁজিবাজারে।

আগের সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছিল দুই দিন আর বেড়েছিল তিন দিন। এই তিন দিন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকায় ছিল বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানি। অন্যদিকে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সবচেয়ে বেশি সূচক পড়েছে যে ১০টি বড় মূলধনি কোম্পানির কারণে, তার বেশির ভাগই গত সপ্তাহে ছিল তেজি।

আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় নতুন সপ্তাহের শুরুটাও ভালো গেল না পুঁজিবাজারে। আগের সপ্তাহে সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও সূচকের পতনে এবার প্রধান ভূমিকা রেখেছে বড় মূলধনি ও বহুজাতিক কোম্পানি।

এমন কোনো খাত ছিল না যেগুলোর বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারায়নি। তবে এর ভিড়েও বড় মূলধনি বহুজাতিক ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, গ্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, দেশি বড় মূলধনি কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, অলিম্পিক, বিকন ফার্মা, সাউথ বাংলা, ডেল্টা লাইফ ও বহুজাতিক রেকিট বেনকিজার সূচক পতনে রেখেছে বড় ভূমিকা।

এই ১০টি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক পড়েছে ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর সার্বিকভাবে সূচক পড়েছে ৩৬ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ওয়ালটনের দরপতন থামার পর কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ১৪ পয়েন্ট। নইলে ১০৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৪৪টি কোম্পানির পতনে সূচকে আরও বড় পতন হতে পারত।

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশে গত সপ্তাহের পুরোটাই পুঁজিবাজারে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। ওঠানামা করতে করতে শেষ পর্যন্ত সপ্তাহে সূচক কমে ৩০ পয়েন্ট। টানা প্রায় ১১ সপ্তাহ পর সূচকের পতন হলো।

আগের সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সূচক কমেছিল দুই দিন আর বেড়েছিল তিন দিন। এই তিন দিন বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকায় ছিল বহুজাতিক ও বড় মূলধনি কোম্পানি।

নতুন সপ্তাহে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে, এমন আশা নিয়ে রোববার লেনদেনের শুরুতেই সূচক বেড়ে যায় ২৮ পয়েন্ট। কিন্তু এই অগ্রগতি ধরে রাখা যায়নি ১৫ মিনিটও। তবে ওঠানামা করতে করতে দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত সূচক ইতিবাচকই ছিল। সে সময় আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেশি সূচকে চলছিল লেনদেন। কিন্তু সেখান থেকে ৪২ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও বিমা খাতের শেয়ারধারীরাই কিছুটা স্বস্তিতে ছিল পতনের এই দিনটিতে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, খাদ্য, প্রকৌশল, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

লেনদেনও কমে গেছে খানিকটা। বৃহস্পতিবার ২ হাজার ১৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হলেও পরের কর্মদিবসে লেনদেন হলো ২ হাজার ৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজার দরপতনের মধ্য দিয়ে গেলেও একে স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই দেখছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। গত বছরের জুলাই থেকে মূল্যসূচক ৩ হাজার পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে গত ৫ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা বেড়েছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্ট। এরপর ছয় কর্মদিবস মিলিয়ে পড়েছে ৬৬ পয়েন্ট।

বহুজাতিক ও বড় মূলধনির দর পতনের ছাপ সূচকে

বহুজাতিক বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। শেয়ার দর ৬৫৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৪৯ টাকা। এই পতনের জন্য সূচক কমেছে ৭.৫২ পয়েন্ট।

অন্য বহুজাতিকের মধ্যে ইউনিলিভারের শেয়ার দর ০.৫৬ শতাংশ, ম্যারিকোর ০.০৮ শতাংশ, গ্রামীণফোনের ০.৬৫ শতাংশ দাম কমেছে।

গ্রামীণ ফোনের শেয়ারের দাম কমায় সূচক পড়েছে ৪.৪৫ পয়েন্ট।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি

লাফার্জ হোলসিমের দর দর ২.৩৩ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ৪.০৫ পয়েন্ট।

বড় মূলধনি দেশি কোম্পানির মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর কমেছে ১.৬৫ শতাংশ। এ জন্য সূচক কমেছে ৩.৩৭ পয়েন্ট।

ব্যাংক খাতের এনআরবিসির দর কমেছে ৭.৩৩ শতাংশ। এর জন্য সূচক পড়েছে ৩.১৫ পয়েন্ট। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর কমেছে ৩.৯৮ শতাংশ যা সূচক কমায় ৩.১৪ পয়েন্ট, বিকন ফার্মার দর কমে ২.৬৭ শতাংশ, সূচক পড়ে ২.৬ পয়েন্ট।

লেনদেন এগিয়ে আর্থিক খাত, দর বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ও বিমা

প্রায় সব খাতের দরপতনের ভিড়ে তাও কিছুটা স্বস্তি গেছে বিমা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। তবে দরপতন হলেও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক খাতে, যদিও তা আগের কর্মদিবসের তুলনায় অনেকটাই কম।

আর্থিক খাতের লেনদেন হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩০৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

লেনদেনে সেরা হলেও দরপতন হয়েছে এই খাতে। ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে কেবল ৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৬টির।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
সূচকের বড় পতন ঠেকিয়েছে যে ১০টি কোম্পানি

যেগুলোর দর বেড়েছে, তার মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে মাইডাস ফাইন্যান্স। ৮.২০ শতাংশ বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। তারপরই আছে উত্থানে থাকা ন্যাশনাল হাউজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, যার দর বেড়েছে ৩.৫৪ শতাংশ।

আইডিএলইসির ১.৬৪ শতাংশ, আইপিডিসি শেয়ার দর বেড়েছে ১.০৮ শতাংশ।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সের ৭.৩২ শতাংশ। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৭ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্সের ৫.৬০ শতাংশ দর কমেছে।

বিমা খাতের ৫১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ১৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৩টির।

এই খাতে লেনদেনও সামান্য কমেছে। এদিন হাতবদল হয়েছে ২০৩ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিন ছিল ২০৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এই খাতের সবচেয়ে বেশি ৮.৯০ শতাংশ বেড়েছে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের। এছাড়া ইস্টার্ন ইন্সুরেন্সের ৫.০৯ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্সের ৪.১৪ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্সুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.০৯ শতাংশ।

এ খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, যার র কমেছে ৪.৮৯ শতাংশ। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৩.১১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের ১.১০ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১ শতাংশ।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৮টিরই আর কমেছে তিনটির। লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৯.৭৮ শতাংশ বেড়েছে আমরা টেকনোলজির শেয়ার দর। আমরা নেটওয়ার্কের শেয়ারদরও বেড়েছে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

পতনের বৃ্ত্তেই প্রকৌশল ও বস্ত্র খাত

লেনদেন ভালো হলেও প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার হারিয়েছে।

প্রকৌশল খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ১২টির, কমেছে ৩০টির দর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া খাতটিতে হাতবদল হয়েছে মোট ২১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

প্রকৌশল খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বিডিঅটোকারস লিমিটেডের ৯.৯৪ শতাংশ। দুর্বল এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮৭ টাকা ৯০ পয়সা।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে বেশি যে পাঁচ খাতে লেনদেন হয়েছে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়া আজিজ পাইপের দর বেড়েছে ৯.৮৩ শতাংশ। উৎপাদন বন্ধ থাকা এই কোম্পানিটি ১ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরুর অপেক্ষায় আছে।

রেনউইক যগেশ্বর, কেডিএস একসেসোরিজ, ওয়ালটন, কেঅ্যান্ড কিউ, মুন্নু অ্যাগ্রো এবং এসএস স্টিলের দর বেড়েছে।

বস্ত্র খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১১টির, কমেছে ৪৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি দুটির দর। এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ২০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ১৬৫ কোটি টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে তুংহাই নিটিংয়ের দর। ৭.১৩ শতাংশ কমে শেয়ার দর ৭ টাকা থেকে হয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

তারপরই আছে মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, যার শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৬.৬৮ শতাংশ। তাল্লু স্পিনিংয়ের দর ৬.৬১ শতাংশ, তজিমউদ্দিন টেক্সটাইলের দর কমেছে ৫.৮৪ শতাংশ।

ঢাকা ডায়িং, আলিফ, এআইএল, পিটিএলের দর বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।

ব্যাপকভাবে হতাশ করল মিউচ্যুয়াল ফান্ড

এই খাতে ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে কেবল ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে কেবল একটির দর বেড়েছে ১০ পয়সা। ৯টির দর ছিল অপরিবর্তিত। আর কমেছে আবি ২৬টির দাম।

আগের কর্মদিবস বৃহস্পতিবার এই খাতে লেনদেন ছিল ৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ১০টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবার বেশ ভালো নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে প্রথম দিনের লেনদেনে দরপতন হয়েছে।

পুঁজিবাজারে নগদ লভ্যাংশে শেয়ারের দরে সমন্বয় না হলেও বাংলাদেশে দাম পড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। যেসব ফান্ড বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, সেগুলোর দরপতন হয়েছে বেশি।

এবার বহুজাতিক ও বড় মূলধনির পতনে কমল সূচক
প্রধান খাতগুলোর মধ্যে এই ছয়টিতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে কম

তবে শতকরা হিসেবের কারণে সবগুলো ফান্ড ইউনিটপ্রতি যত টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, ততটুকু কমেনি।

জনতা ব্যাংক ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডে তাও লভ্যাংশ নিয়ে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা মুনাফা হয়েছে। ১ টাকা ৩০ পয়সা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু রেকর্ড ডেট শেষে দাম কমেছে ৯০ পয়সা।

সার্কিট ব্রেকারের সুবিধার কারণে এই লভ্যাংশ হয়েছে তাদের। ফান্ড দুটির দাম রেকর্ড ডেটে ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা ও ৯ টাকা ৯০ পয়সা। ফলে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা দর কমতে পারত।

অন্য ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৮৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পিএইচপি ও পপুলার ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ৮০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে ৭০ পয়সা করে। সার্কিট ব্রেকারের কারণে এর চেয়ে বেশি কমার সুযোগ ছিল না।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও এফবিএফআইএফের লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের কার্যত কোনো মুনাফা হয়নি। ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া প্রথম ফান্ডের দাম কমেছে সমপরিমাণ, আর ইউনিটে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দ্বিতীয় ফান্ডের দাম কমেছে ৪০ পয়সা।

সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা কমার সুযোগ থাকলেও ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে ৬০ পয়সা।

অন্যান্য ফান্ডের মধ্যে সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ৬০ পয়সা, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৪০ পয়সা। ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও দর কমেছে সম পরিমাণ।

কেবল ১০ পয়সা দর বেড়েছে আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের।

পতনের ভিড়ে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি প্রাইম ফাইন্যান্স, আইসিবি সোনালী, এলআর গ্লোবাল ওয়ান, এসইএমএলএফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, ভ্যানগার্ড বিডি ফাইন্যান্স ও ভ্যানগার্ড রূপালী ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ধরে রাখাটা তাও ইউনিটধারীদের জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

ওষুধ ও রসায়ন খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ২০৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬টি কোম্পানির, দর হারিয়েছৈ ২৪টি কোম্পানি।

বিবিধ খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৮৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। লেনদেনে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ৫টি কোম্পানির, দর হারিয়েছৈ ৮টি কোম্পানির।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মোট লেনদেন হয়েছে ১৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৫৪ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এই খাতে দর বেড়েছে ৯টি কোম্পানির, হারিয়েছে ১২ টি আর পাল্টায়নি ২টি কোম্পানির দর।

ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১৫৪ কোটি ২ লাখ টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬টির। দর কমেছে ১৬টির। দর পাল্টায়নি ১০টি কোম্পানির।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতে লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এ খাতে ৪টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে ১৬টির।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯১ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৫৮ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৮২ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ৩১৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮টির, কমেছে ২১৩টির ও পালটায়নি ১৫টির। মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি

গত ৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার পর এই ৫টি কোম্পানির শেয়ারদর আরও বেড়েছে।

পুঁজিবাজারে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে গত ৯ আগস্ট ৯টি কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত করতে ডিএসইকে নির্দেশ দেয় বিএসইসি। ১৩ সেপ্টেম্বর আসে আরও চারটির বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ। এর মধ্যে একটির বিষয়ে আদেশ ছিল আগের নির্দেশেই।

পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হলেও সেসব কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এমন নয়।

বরং গত আগস্ট ও পরে সেপ্টেম্বরে মোট ১২টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার মধ্যে বেশির ভাগ কোম্পনির শেয়ার দর আরও বেড়েছে। এর মধ্যে একটির দর আছে অপরিবর্তিত। আর চারটির দর সামান্য কমেছে।

এই তিনটি কোম্পানির শেয়ার দরই তদন্তের আদেশ দেয়ার আগে থেকেই সংশোধনের মধ্যে ছিল।

গত ৯ আগস্ট ৯টি এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৪টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এর মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর যে চারটি কোম্পানি নিয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে একটির নাম ছিল ৯ আগস্টের আদেশে। বিএসইসির সেই আদেশের পর দাম বেড়েছে আরও ৩০ শতাংশের বেশি।

দুবারই দেখা গেছে, আদেশ আসার পরপর বিনিয়োগকারীদের একাংশ আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে আফসোস করেছেন।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
বিএসইসির আদেশে অস্বাভাবিকভাবে মোট ১২টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্ত করছে ডিএসই

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দর বৃদ্ধির তদন্তের খবরে স্বাভাবিকভাবে সেই কোম্পানির শেয়ার কিছুটা প্রভাব পড়ে সত্য। কিন্তু তদন্ত করলেই যে শেয়ার দর কমবে, সেটি সত্য নয়। বরং পুঁজিবাজারে শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই শেয়ার দর নির্ধারিত হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ তদন্ত করতে বলা হয়েছে, সেগুলোর সবগুলোই দুর্বল ও স্বল্প মূলধনি। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগাকরীদের আগ্রহ পুঁজিবাজারের জন্য খবুই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ না করাই উত্তম।’

ডিএসই যে তদন্ত করছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য এখনও প্রকাশ হয়নি। জানতে চাইলে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্তের জন্য ডিএসইর আলাদা বিভাগ আছে। তারই এটি দেখভাল করে থাকে। আরএনডি বিভাগ এ সম্পর্কে বলতে পারবে।’

তবে আরএনডি বিভাগ সাধারণত গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে না।

সেই কোম্পানির চিত্র

৯ আগস্ট যে ৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ আসে, তার মধ্যে ৫টির দাম আরও বেড়েছে। সামান্য কমেছে তিনটি দর। তবে এই আদেশ দেয়ার আগেই কোম্পানি তিনটির শেয়ার দর সংশোধনের মধ্যেই ছিল।

আনোয়ার গ্যালভানাইজিং

এই কোম্পানিটির শেয়ার দরও গত এক বছরে বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এ সময়ে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৯২ টাকা ৮০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ৪৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত দুই বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৭ টাকা ৮০ পয়সা।

তবে উত্থান শুরু হয় মূলত গত ১১ এপ্রিল থেকে। সেদিন শেয়ার দর ছিল ৯৫ টাকা ২০ পয়সা। এরপর থেকে তেজি ষাঁড়ের মতো ছুটতে ছুটতে ৯ আগস্ট ৩১৯ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে যাওয়ার পর আসে তদন্তের আদেশ।

পরদিন শেয়ারপ্রতি দর ৯ টাকা ৩০ পয়সা কমে ৩১০ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু এরপর আবার বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫২ টাকা ২০ পয়সা।

পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং

ওটিসি থেকে ১৩ জুন মূল মার্কেটে আসার পর চারটি কোম্পানির শেয়ার দর যে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে, তার একটি এটি।

ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরার দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৬ টাকা। তদন্তের আদেশ আসার দিন দর ছিল ১৬৪ টাকা ৭০ পয়সা। আদেশ আসার খবরে পরদিনই দাম কমে হয়ে যায় ১৫৫ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু পরে আবার বাড়তে থাকে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় তদন্তের আসার আদেশ আসার দিন শেয়ারপ্রতি দর ছিল ২১৮ টাকা। সেটি আরও বেড়ে এখন হয়েছে ২২৫ টাকা ৩০ পয়সা।

গত এক বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ১৭ টাকা ৬০ পয়সা হলেও এই দরে শেয়ার বিক্রি হয়েছে খুবই কম। ওটিসি মার্কেট থেকে আসার পর গত ১৪ এপ্রিল ৩০ হাজারের কিছু বেশি শেয়ার বিক্রি হয়। সেদিন এর দাম ছিল ১১৫ টাকা ৮০ পয়সা।

পরের দিন ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৯৪টি শেয়ার বিক্রি হয়, সেদিনই মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেনার সুযোগ পেয়েছেন। সেদিন দর ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা।

এমারেল্ড অয়েল

তদন্তের জন্য এই কোম্পানিটিকে বাছাই করা নিয়েই ছিল প্রশ্ন। স্পষ্টত কোম্পানিটির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল আর সেটি ছিল প্রকাশিতই।

বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারিতে ২০১৬ সালে কোম্পানি বন্ধ করে গিয়ে মালিকপক্ষ লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিল। সেই কোম্পানিটিতে প্রাণ ফেরাতে বিএসইসির উদ্যোগে ব্যবস্থাপনায় এসেছে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশির কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন শুরু হওয়ারও কথা ছিল। তবে বেসিক ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে জটিলতা এবং আরও কিছু লাইসেন্সের কাজ শেষ না হওয়ায় সেই উৎপাদন শুরু করা যায়নি।

তবে ব্যাংকের সঙ্গে জটিলতার অবসান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ, আগের পর্ষদের নেয়া ঋণের সুদ মওকুফে অনুরোধ করেছে বিএসইসি। আর ব্যাংকটি তা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে আবার উৎপাদন শুরু হতে পারে।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
ডিএসইর তদন্ত চলাকলে এই চারটি কোম্পানির শেয়ার দর সামান্য কমেছে

তদন্তের আদেশ আসার দিন এমারেল্ডের শেয়ার দর ছিল ৩৬ টাকা ৫০ পয়সা। পরে তা কমে একপর্যায়ে ৩১ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। তবে পরে সেখান থেকে বেড়ে ৪৪ টাকাও উঠে যায় গত বৃহস্পতিবার। তবে শেষ পর্যন্ত সেদিন লেনদেন শেষ করেছে ৪২ টাকায়।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪৪ টাকা।

জিবিবি পাওয়ার

গত এক বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটির শেয়ার দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এক বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ৫১ টাকা ১০ পয়সা। গত ২ বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ার দর ছিল ৩৭ টাকা ১০ পয়সা। পরের দিন দাম কমে হয় ৩৫ টাকা ৬০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে ছাড়ায় ৫০ টাকা। সেখান থেকে খানিকটা কমে গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৮০ পয়সা।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স

এই কোম্পানিটির শেয়ার দর এক বছরে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১৬৯ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ১৪ টাকা ৭০ পয়সা।

শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ১১৯ টাকা। সে সময় সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এই কোম্পানিটির পাশাপাশি গোটা খাত। তদন্ত চলাচালেই দাম গত ৫ সেপ্টেম্বর একপর্যায়ে বেড়ে ১৬১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। এরপর ৯ কর্মদিবসের মধ্যে ৮ কর্মদিবস দরপতন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৪০ পয়সা। এটিও তদন্তের আদেশ দেয়ার দিনের চেয়ে ১১ টাকা ৪০ পয়সা বেশি।

যেগুলোর দর সামান্য কমেছে

বিকন ফার্মা

এই কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টিও বিস্ময়কর। গত দুই বছরে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ২৫ টাকা আর সর্বোচ্চ দর ২২৪ টাকা ৯০ পয়সা। এক বছরে সর্বনিম্ন দর ৬৫ টাকা ৯০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়ার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ২২২ টাকা ১০ পয়সা। এই আদেশ আসার পর দুই কর্মদিবস কমে ১৯৯ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। পরে আবার বাড়তে থাকে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর ৯ সেপ্টেম্বরের দামকে ছাড়িয়ে শেয়ার দর দাঁড়ায় ২২৭ টাকা ৯০ পয়সা। সেখান থেকে কিছুটা কমে বৃহস্পতিবার দর দাঁড়িয়েছে ২১৭ টাকা ৩০ পয়সা।

ঢাকা ডাইং

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ দর ২৯ টাকা ৫০ পয়সা। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত বছরের এপ্রিল থেকেই বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। ২০১৫ সালের পর ২০২০ সালের জন্য প্রথমবারের মতো ১ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগের দুই বছর আয় ব্যয়ের হিসাব না দেয়া কোম্পানিটি চলতি বছর তিন প্রান্তিকেও মুনাফায় ফিরেছে।

কোম্পানিটি গত বছর যে মুনাফায় ফিরেছে, সেই ইঙ্গিতও ছিল না। তার পরেও এই সময়ে ৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায় তদন্তের আদেশ আসার দিন।

বিএসইসির নির্দেশ আসার পর দাম কমে ২৩ টাকায় নেমে এলেও পরে তা আবার বাড়তে শুরু করে। সবশেষ দাম দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭০ পয়সা। যদিও একপর্যায়ে দাম ২৬ টাকা ৭০ পয়সাকে ছাড়িয়ে ২৮ টাকায় উঠেছিল। এখন গোটা বস্ত্র খাতের শেয়ার দরই সংশোধনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ন্যাশনাল ফিড মিলস

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ছিল ৯ টাকা ২০ পয়সা। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে গিয়েছিল। পরে কমতে শুরু করে।

তদন্তের আদেশ আসার দিনও দাম ১০ পয়সা কমে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায়। এরপর ২ কর্মদিবসে আরও কমে দাঁড়ায় ৩১ টাকা।

পরে ওঠানামা করতে করতে গত বৃহস্পতিবারও এই দামেই লেনদেন শেষ করেছে। মাঝে একবার অবশ্য তদন্তের নির্দেশ আসার দিনের দামকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর লেনদেন শেষ করে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সায়।

ফুওয়াং সিরামিক

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২৮ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছে। গত ২ বছরের সর্বনিম্ন দর ৫ টাকা ৭০ পয়সা।

৯ আগস্ট তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ারমূল্য ছিল ২৬ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর ওঠানামা করে সর্বোচ্চ দাম হয় ৫ সেপ্টেম্বর ২৬ টাকা ২০ পয়সা।

এরপরের ৯ কর্মদিবসের মধ্যে ৮ কর্মদিবস দরপতন হয়েছে। এক দিন বেড়েছে। সবশেষ শেয়ারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪০ পয়সা।

অস্বাভাবিক শেয়ার দর: তদন্তের মধ্যেই আরও বৃদ্ধি
ওটিসি থেকে ফেরা চারটি কোম্পানির তদন্তের আদেশ দেয়ার পর তিনটি দর আরও বেড়েছে, একটির কমে আবার সমান হয়েছে

ওটিসিফেরত কোম্পানির কী চিত্র

এই চারটির মধ্যে পেপার প্রসেসিংয়ের নাম আগের ৯ কোম্পানির মধ্যেই ছিল।

বাকি তিনটির মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তের আদেশ আসার দিন তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর ছিল ১৮০ টাকা ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানিটি ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেছে ১৩ টাকায়। তবে শুরুতে শেয়ার বিক্রি হয়নি বললেই চলে। প্রথমবারের মতো এক দিনে ৫০ হাজারের বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে গত ১২ জুলাই। সেদিন দর ছিল ৭১ টাকা ৭০ পয়সা।

১৫ জুলাই শেয়ার দর ৯০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন ওঠানামা করতে থাকে। ওটিসিফেরত চারটি কোম্পানির মধ্যে একটি নিয়ে তদন্তের আদেশ আসার দিন এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা। পরদিন ২ টাকা ৪০ পয়সা কমে দাম দাঁড়ায় ৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।

এরপর রীতিমতো উড়তে থাকে শেয়ারটি। গত ৯ সেপ্টেম্বর তা ২০২ টাকায় পৌঁছে।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের আদেশ আসার দিন দাম কিছুটা কমে হয় ১৮০ টাকা ৪০ পয়সা। পরের কর্মদিবসে সেখান থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে ১৬২ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়ায় শেয়ার দর। কিন্তু তার পরের দুই কর্মদিবসে আবার বেড়ে হয় ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা।

ওটিসি থেকে মনোস্পুল পেপার ফিরেছে ৫০ টাকা দর নিয়ে। তবে ১০০ টাকার নিচে শেয়ার বিক্রি হয়েছে কমই। গত ২৭ জুন ২৫ হাজার ১৯৫টি শেয়ার হাতবদলের দিন দাম ছিল ১৪২ টাকা ১০ পয়সা। তার পরদিন ২ লাখ ২৮ হাজার ৬১৭টি শেয়ার বিক্রি হয় ১৫৬ টাকা ৩০ পয়সায়। সেদিনই মূলত ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ারটি পেয়েছেন।

গত ৯ আগস্ট ৯টি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে তদন্তের নির্দেশ আসার দিন ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা দর ছিল কোম্পানিটির। যদিও সেই তদন্তে এই কোম্পানিটির নাম ছিল না, তারপরেও পরের দিন শেয়ার দর খানিকটা কমে হয় ১৬৮ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর তা বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরে একপর্যায়ে ২৪৯ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের নির্দেশ আসার দিন শেয়ার দর ছিল ২২৩ টাকা ৯০ পয়সা। পরের দিনই দরপতন হয় ২০৮ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয় শেয়ার। কিন্তু এরপরের দুই কর্মদিবস বেড়ে গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২২৯ টাকা ৫০ পয়সা।

ওটিসিফেরত চারটি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে কম বেড়েছে মুন্নু ফেব্রিক্সের দর। ১০ টাকা দিয়ে কোম্পানিটি ফিরেছে মূল মার্কেটে। আর আসার পর টানা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে উঠে যায় ৩৭ টাকা ২০ পয়সায়।

মূল মার্কেটে ফেরার দিন প্রথম উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার বিক্রি হয়েছে গত ২১ জুন। সেদিন হাতবদল হয় ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৩৫টি শেয়ার। সেদিন দর ছিল ১৯ টাকা ৩০ পয়সা।

গত ৯ আগস্ট ওটিসির একটিসহ ৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির বিষয়টি তদন্তের আদেশ আসার দিন দর ছিল ২৬ টাকা ১০ পয়সা। পরের দিন দাম সামান্য কমে ২৫ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়। একপর্যায়ে দাম কমে ২৪ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। পরে তা বাড়ার বেড়ে ৩১ টাকা ৬০ পয়সা হয়ে যায়।

১৩ সেপ্টেম্বর তদন্তের নির্দেশ আসার দিন দর ছিল ২৯ টাকা ৯০ পয়সা। আদেশের খবরে পরদিনই দাম কমে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে যায়। এরপর দুই দিন দাম বেড়ে গত বৃহস্পতিবার আবার ২৯ টাকা ৯০ পয়সা হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

প্রাইমারি ডিলারে সেরা ব্যাংক এনআরবিসি

সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংককে সেরা প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক হিসেবে নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয় করায় ব্যাংকটিকে এই মনোনয়ন দেয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে ব্যাংকটিকে নগদ কমিশন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছে, এনআরবিসি ব্যাংককে অক্টোবর-ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে সেরা প্রাইমারি ডিলার নির্বাচন ও আন্ডাররাইটিং কমিশন হিসেবে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪২০ টাকা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি সিকিউরিটিজ ট্রেজারি বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোকে প্রাইমারি ডিলার ব্যাংক বলা হয়। এই ব্যাংকগুলো বিল ও বন্ড ক্রয়ের জন্য সরাসরি নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টি ব্যাংক প্রাইমারি ডিলার হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত। প্রাইমারি ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠনের নাম ‘প্রাইমারি ডিলারস্ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিডিবিএল)।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল বলেন, ‘স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক। সরকার উন্নয়ন কাজ গতিশীল রাখতে দেশিয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে। সেই ঋণ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সক্রিয়ভাবে ঋণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছি আমরা। পাশাপাশি আয়কর, ভ্যাট, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব সংগ্রহ এবং বিআরটিএ, পল্লী বিদ্যুৎ, ভূমি রেজিস্ট্রেশন ফিসহ সরকারি বিভিন্ন সেবার ফি আদায় করছে এনআরবিসি ব্যাংক।’

উল্লেখ্য, এনআরবিসি ব্যাংকের ৮৩টি শাখার পাশাপাশি সারাদেশে প্রায় ৫৩০টি উপশাখা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস ও বিআরটিএ ফিস কালেকশন বুথ। এর বাইরে আছে ৫৯৫টি এজেন্ট পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
গভীর সংকটে বেসিক ব্যাংক, টাকা ঢেলেও ফল শূন্য
খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে অর্ধেকই এনবিএলের
ব্যাংকে ‘পুরোনো রোগের উপশম’, চাঙা বিমা-জ্বালানি
লভ্যাংশই বলে ব্যাংক খাত ভালো অবস্থানে: অর্থমন্ত্রী
ব্যাংকের ‘পুরোনো রোগ’, উত্থানের পুঁজিবাজারে ছন্দপতন

শেয়ার করুন