বিমান চালুর দিনে ভারতে গেল দুই ফ্লাইট

বিমান চালুর দিনে ভারতে গেল দুই ফ্লাইট

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সকাল সাড়ে ১০টায় ১৩৫ জন যাত্রী নিয়ে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়। সকাল ১১টায় কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট।

প্রায় চার মাস পর খুলল ভারতের সঙ্গে আকাশপথ। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হলো।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ থেকে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ে ফ্লাইট শুরু করেছি। সকাল সাড়ে ১০টায় ১৩৫ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইটটি ছেড়ে গেছে। এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন চেন্নাইয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করব।’

একই দিন সকাল ১১টায় কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার থেকে ফ্লাইট শুরুর খবর নিশ্চিত করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচলের বিষয়ে সম্মতি জানায় বেবিচক।

২৮ আগস্ট বেবিচককে দেয়া ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক চিঠিতে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার চিঠির জবাব দেয় বাংলাদেশ। এতে সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ১৪টি ফ্লাইট চলাচলে দিল্লির প্রস্তাবে সম্মতি জানায় ঢাকা।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে দিল্লি রুটে সপ্তাহে দুটি এবং কলকাতা রুটে দুটি ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেয়া হয়।

বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলাকে দেয়া হয় চেন্নাই রুটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট। আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ার কোনো ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ পায়নি।

একই সঙ্গে সপ্তাহে প্রত্যেক দেশের বিমান সংস্থাগুলো ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে কিনা তাও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেয়া হয় চিঠিতে।

বেবিচকের চিঠিতে আরও বলা হয়, কোভিড প্রতিরোধী টিকা নেয়া সত্ত্বেও ভারত থেকে আসা যাত্রীকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলো তাদের উড়োজাহাজের আসন সংখ্যার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে বলেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতা রুটে ফ্লাইট শুরু করবে তারা। প্রতি মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এই রুটে চলবে ফ্লাইট।

অন্যদিকে দিল্লি রুটে বিমানের ফ্লাইট শুরু হবে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে। এই রুটে ফ্লাইট চলবে প্রতি রবি ও বুধবার।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চেন্নাই রুটে ফ্লাইট শুরু করবে তারা। রবি, বুধ ও শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ইউএস বাংলার ফ্লাইট।

গত ২৮ আগস্ট বেবিচককে ভারত যে চিঠি দেয়, তাতে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলোকে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট স্লট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছিল। এতে স্পাইস জেটকে সপ্তাহে তিনটি, ইন্ডিগো এয়ারকে দুটি এবং এয়ার ইন্ডিয়াকে দুটি করে ফ্লাইট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়।

এর আগে ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চালু করতে গত ৪ আগস্ট বেবিচক সে দেশের কর্তৃপক্ষকে যে চিঠি দিয়েছে, তাতে ভ্রমণকারীদের করোনা টিকার দুটি ডোজ নেয়ার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাপ্রত্যাশী, শিক্ষার্থী ও তৃতীয় দেশে যেতে ভিসা গ্রহণের উদ্দেশে ভ্রমণকারী এবং এমপ্লয়মেন্ট ভিসাধারীদের জন্য ভ্রমণের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল চিঠিতে।

দেশে দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ১৪ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ১মে থেকে ১২টি দেশ ছাড়া অন্যদের সঙ্গে আকাশপথ খুলে দেয়া হয়। এই ১২ দেশের মধ্যে ছিল ভারত।

পরে বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশের তালিকা সংযোজন-বিয়োজন হলেও ভারতের সঙ্গে আকাশপথ বন্ধই থাকে।

বেবিচক গত ৫ জুলাই থেকে ভারতসহ ৮টি দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

গত বছর দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে বেশ কয়েক মাস বন্ধ ছিল ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ। তারপর গত বছর ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তির আওতায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়।

সম্প্রতি ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল শুরুর বিষয়ে আগ্রহ দেখায় তারা।

দেশি তিনটি এয়ারলাইনস- বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার ছাড়াও ভারতের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা স্বাভাবিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালিয়ে থাকে।

ভারতের এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইনডিগো, স্পাইসজেট, ভিস্তারা ও গোএয়ার।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বরিশাল নগরীতে সড়ক অবরোধ করে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সপ্তাহ উপলক্ষে এলায়েন্স ফর ইয়ুথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শুক্রবার দুপুরে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিভাগীয় প্রশাসন এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল, ফ্রেন্ডস ফর ফিউচার এর বাংলাদেশ কো-অরডিনেটর ফারিয়া হোসেন অমি, সিভিল সোসাইটির মো. আনোয়ার, ইউনিসেফের বরিশাল প্রধান তৌফিক আহমেদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমছে। গাছ কেটে উজাড় হচ্ছে বন, বিলুপ্ত হচ্ছে বন্য প্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে বিশ্ব। বাড়ছে সাইক্লোন, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাড়েছে নদী ভাঙন।
পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শূন্যের কোটায় আনতে হবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে ৩৫টি যুব সংগঠনের কর্মীরা শোভাযাত্রা করে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পাঁচ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

ধর্মঘটের ধকল সামাল দিতে ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একসঙ্গে ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ৩৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট জট সামলে বহির্নোঙরে জাহাজের লাইন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘বহির্নোঙরে জাহাজের জট আছে বলা যাবে না। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যে আমরা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিলাম, সেটাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

‘গত দেড় মাস ধরে আমরা ৫০ শতাংশ জাহাজ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভেড়াতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৃহস্পতিবার ১১টি কনটেইনার জাহাজ ছিল। যার মধ্যে একটি জাহাজ চার দিন অপেক্ষায় ছিল। ৭টি জাহাজের মধ্যে তিন দিন, দুই দিন করে অপেক্ষমাণ ছিল। বাকি তিনটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ ছিল। বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। রপ্তানি পণ্য বন্দর জেটিতে না পৌঁছানোয় ও আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে না পারায় নির্ধারিত দুটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ছাড়তে পারেনি।

কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। কর্মবিরতির কারণে ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া বন্ধ ছিল।

কনটেইনার পরিবহনকারী প্রাইম মুভার ট্রেইলর গাড়িতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নেয়া হয়। আবার আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে আনা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ডিপো ও বন্দরে নিয়মিত আনা-নেয়া হয় এসব গাড়িতে। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ ছিল। গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

এবার ৩ শিক্ষকের করোনায় বন্ধ স্কুল

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

বেশ কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

বিয়ের আসরে শোকের হানা

বিয়ের আসরে শোকের হানা

নোয়াখালী সদরে গাছে ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের ১৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিল। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শুনে নাই। এক পর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

বিয়ের আনন্দে হঠাৎ শোকের ছায়া। পণ্ড হয়ে গেল আয়োজন।

বিয়ের আসরে যাওয়ার পথে বরবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লাগলে নিহত হন বরের বোন। নিজেও আহত হন বর।

এ ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়ন সমিতি মসজিদ এলাকায় মান্নাননগর-আলেকজান্ডার সড়কে শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় আহত চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । অন্যদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন।

নিহত গৃহবধূর নাম সুমি আক্তার। তিনি সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে ও বর মো. রাব্বির বোন।

আহতদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে।

ওসি সাহেদ জানান, আহতদের মধ্যে এওজবালিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মুন্নি বেগম ও মমতাজ উদ্দিনের ছেলে মো. দুলালকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেক হাসপাতালে এবং মো. রাসেলের স্ত্রী পপি আক্তার ও মো. খোকনের নয় বছরের শিশু সিফাতকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত অন্যরা হলেন বর মো. রাব্বি, সোনাদিয়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন শিহাব উদ্দিন, মাইন উদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তাদের ১২ বছরের মেয়ে বৃষ্টি আক্তার, পাঁচ বছরের মেয়ে সামিয়া আক্তার, তিন বছরে মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার এবং দুই বছরের ছেলে মো. শাওন, খোকনের মেয়ে রোজিনা আক্তার ও ছেলে তিন বছরের কাউছার আহম্মেদ, মোমিন উল্যার ছেলে ১৩ বছরের আবদুর রহমান ও ১২ বছরের বিজয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার মো. রাব্বির সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার গুচ্ছগ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। দুপুরে একটি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসে বরসহ ২০ বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাইক্রোবাসটি এওজবালিয়া ইউনিয়নের সমিতি মসজিদ এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। এ সময় বরের বোন সুমি আক্তার ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

বর মো. রাব্বি বলেন, ‘হানিফ চেয়ারম্যান বাজার পার হলে মাইক্রোবাসের চালক গাড়িটি এলোমেলোভাবে চালাচ্ছিল। তাকে দুইবার সতর্ক করার পরও সে শুনে নাই। এক পর্যায়ে একটি সিএনজি অটোরিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। আমার বোন ওখানেই মারা যায়।’

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।’

সুধারাম থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। পরেবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়ে হবে।

এ ঘটনায় বিয়ের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছ বলে জানিয়েছেন মো. রাব্বি।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৮৯ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১৮৯ রোগী

ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তির পর সেবা করছেন মা। ফাইল ছবি

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

দেশে ডেঙ্গু নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১৮৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮৯৪ জনে। মারা গেছে ৫৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য জানায়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৬৪ রোগী। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ২৫ জন।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ৮৯৪ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ৭৮৭ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮২৭ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৫৩৮ জন।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন, যার হার ২০ বছরে সর্বোচ্চ। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চদ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে কোনো কবর থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে তার মরদেহ নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার পর এই বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখছেন।

এর মধ্যে সরকারের পুরনো একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদ ভবন প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় ফেরানো।

এই নকশায় কোনো সমাধিস্থল ছিল না। আর এটি করতে হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও সরাতে হবে।

জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল ছাড়াও স্বাধীনতাবিরোধী নেতা খান এ সবুর এবং আরও একজন অজানা মানুষের কবর রয়েছে। এগুলো সরানোর দাবিও আছে।

মেয়র কথা বলছিলেন ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা: সমস্যা ও প্রতিকার’ বিষয়ে।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তার কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়ায় আর পাকিস্তানিদের দোসর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, ৩০ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে, তাদের কবর জাতীয় সংসদসহ গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় থাকতে পারে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।’

জিয়াউর রহমানকে জাতির পিতার খুনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ কথা ধ্রুব সত্য। তাকে খুনি প্রমাণ করার জন্য সকল ধরনের দলিলাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা ছিল জিয়াউর রহমানের। কিন্তু তিনি তা না করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন এসব কুলাঙ্গারদের কবর জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে অপসারণ করতে পারব।’

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবান্তর বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অধিকার বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই দিয়েছে। আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না, সুযোগও নেই। মুখে ঘোষণা করলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াসার যদি কোন রকম অব্যবস্থাপনা থাকে, যদি সেখানে কোনো দুর্নীতি থাকে, তাহলে এটা আমরা চিহ্নিত করব। তাদের দুর্নীতির তথ্য থাকলে দেন, হাইপোথেটিক্যাল তথ্য দিয়ে তো লাভ হবে না।’

ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তর করতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহরের প্রত্যেকটি খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের দুই পাড়ে বাঁধ দিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা খালগুলো শিগগির সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের আতিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সবুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন

আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।’

দেশের আরও ছয় বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

খুলনায় শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।

‘বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দেশে যে চলচ্চিত্রশিল্পের যাত্রা, তাকে নতুন জীবন দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি এ অঞ্চলের পত্রিকাগুলোর স্বার্থে আবার চালুর জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার কেন্দ্র রয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও সম্প্রচার কেন্দ্র করা হলে এর সংখ্যা হবে আটটি।

এ সময় রাজনৈতিক নানা ইস্যুতেও কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা জনগণের ভোট ও রায়ের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য নির্বাচন বর্জন আত্মহনের মতো সিদ্ধান্ত, কিন্তু যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা নির্বাচন বর্জন করতে পারে।

‘পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যায়নি, কিন্তু নির্বাচন হয়েছে এবং দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে-যাবে না করে গাধার জল ঘোলা করে খাওয়ার মতো শেষে গেছে। তাই তাদের এ সিদ্ধান্তই থাকবে কিনা জানি না, কিন্তু বিএনপির জন্য এ সিদ্ধান্ত আত্মহননমূলক। অবশ্য বিএনপির সবসময় পেছনের দরজাটাই পছন্দ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। গত সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের রাজনীতিটা ছিল জনগণের বিপক্ষে।

‘জনগণের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, হরতাল-অবরোধের নামে জনগণকে বন্দী করে রাখা এসবের মধ্যেই বিএনপির রাজনীতিটা সীমাবদ্ধ ছিল। এ কারণে প্রতিনিয়ত তারা জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে এবং এই প্রেক্ষাপটে তারা সিরিজ বৈঠক করেছে। তাদের উচিত জনগণের সঙ্গে বৈরিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম-ওমান ফ্লাইট চালু শনিবার
ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল শুরু ৪ সেপ্টেম্বর
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রস্তাব ভারতের
আকাশপথে যুক্ত হচ্ছে দেশের উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম
ঢাকা-কায়রো সরাসরি ফ্লাইট শুরু ১ নভেম্বর

শেয়ার করুন