টাকা ফেরত চায় এশিয়াটিক, গবেষণায় সময় চান ঢাবি অধ্যাপক

টাকা ফেরত চায় এশিয়াটিক, গবেষণায় সময় চান ঢাবি অধ্যাপক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীনের কাছে গবেষণার টাকা ফেরত চেয়েছে এশিয়াটিক সোসাইটি। ছবি: সংগৃহীত

এশিয়াটিকের ভাষ্য, তিনবার চিঠি দেয়ার পরও ফেলোশিপের অর্থ ফেরত দেননি অধ্যাপক ফিরোজা। অন্যদিকে ফিরোজার অভিযোগ, এশিয়াটিক সোসাইটি সব গবেষকদের সঙ্গে সমান আচরণ করছে না। অন্য গবেষকদের সময় বাড়িয়ে দেয়া হলেও তার ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীন।

ফেলোশিপের শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে গবেষণাকর্মটি শেষ করার কথা ছিল তার। সেটি চার বছরেও সম্পন্ন করতে পারেননি এ অধ্যাপক। এ কারণ দেখিয়ে ফেলোশিপের জন্য দেয়া অর্থ ফেরত চেয়েছে সোসাইটি।

এশিয়াটিকের ভাষ্য, তিনবার চিঠি দেয়ার পরও ফেলোশিপের অর্থ ফেরত দেননি অধ্যাপক ফিরোজা।

অন্যদিকে ফিরোজার অভিযোগ, এশিয়াটিক সোসাইটি সব গবেষকদের সঙ্গে সমান আচরণ করছে না। অন্য গবেষকদের সময় বাড়িয়ে দেয়া হলেও তার ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি এ কাজ করতে চাই। সোসাইটিকে বলেছি যেন আমাকে সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারা আমাকে সময় দিচ্ছে না।

‘অথচ আমার সাথেই যারা ফেলোশিপ পেয়েছে, তাদের মধ্যে দুইজনকে টাইম এক্সটেনশন দেয়া হয়েছে। এটি এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা।’

২০১৭ সালে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপের জন্য এশিয়াটিক সোসাইটির বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে আবেদন করেন ফিরোজা ইয়াসমীন। যাচাই-বাছাই ও ভাইভা শেষে একই বছরের ৫ এপ্রিল এ অধ্যাপককে ফেলোশিপ দেয়া হয়।

এশিয়াটিক সোসাইটি জানায়, সমাজ ও ভাষা বিজ্ঞানের ওপর ফিরোজাকে দেয়া হয় ফেলোশিপ। শর্ত অনুযায়ী ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে তার গবেষণাকর্মটি শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। কিন্তু তিনি তার গবেষণাকর্মটি এ সময়ের মধ্যে জমা দিতে পারেননি।

সোসাইটির ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ না করায় অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত তিনবার চিঠি দেয়া হয় ফিরোজাকে। এরপরও এ অর্থ ফেরত দেননি তিনি।

সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, ফেলোশিপের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কয়েক ধাপে তুলতে হয়। ফিরোজা শুধু প্রথম ধাপের অর্থই তুলেছেন। এ সংখ্যাটা ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। এ অর্থই ফেরত দিতে সোসাইটি থেকে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ফিরোজা ইয়াসমীনের গবেষণা অনুদানের অর্থ ফেরত না দেয়ার বিষয়টি অবহিতকরণের জন্য সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ গত ২৬ আগস্ট সংস্থার সব সদস্যকে চিঠি দেন।

কী আছে চিঠিতে

এশিয়াটিক সোসাইটির চিঠির একটি কপি নিউজবাংলার হাতেও এসেছে। এতে বলা হয়, ‘ফেলোশিপের শর্তানুযায়ী, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে গবেষণাকর্মটি সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও ফিরোজা ইয়াসমীন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেটি জমা দিতে ব্যর্থ হন। শর্তানুযায়ী, এই গবেষণার মেয়াদ কোনো অবস্থাতেই বাড়ানোর বিধান ছিল না।’

চিঠিতে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ফিরোজার বিষয়টি ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর সোসাইটির রিসার্চ অ্যান্ড সেমিনার কমিটির সভায় আলোচনা হয়। গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করে ফিরোজা অনুদানের অর্থ নির্ধারিত গবেষণাকর্মে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছেন মর্মে নিশ্চিত হয় সোসাইটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া অনুদান বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

এশিয়াটিকের কাউন্সিল সে সুপারিশ ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর অনুমোদন করলে ফিরোজা ইয়াসমীনকে চিঠির মাধ্যমে ফেলোশিপের অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘উক্ত গবেষণা অনুদানের সময়সীমা ছিল এক বছর, যা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনোক্রমেই বর্ধিত হতে পারে না। অধিকন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তার সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী তিনি গবেষণা কর্মের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রতিবেদন সোসাইটিতে জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে তাকে প্রদত্ত ফেলোশিপ সোসাইটির কাউন্সিলের সিদ্ধান্তক্রমে বাতিল হয়।’

ফিরোজা ইয়াসমীনের ভাষ্য

এ বিষয়ে অধ্যাপক ফিরোজা ইয়াসমীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফেলোশিপে বলা ছিল, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে গবেষণাকাজের অগ্রগতি জানার জন্য সোসাইটি আমার সাথে চার মাস পরপর মিটিং করবে, কিন্তু সেই এক বছরে তারা আমার সাথে কোনো যোগাযোগই করেনি। ২০১৯ সালে এসে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে।

‘সে সময় সোসাইটি থেকে আমাকে ডাকা হয়। আমি বলেছি, আমাকে সময় দেন; আমি কাজ করব। তারা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু যখনই আমি ২০২০ সালে সোসাইটির কাউন্সিল নির্বাচন করি এবং হেরে যাই, এরপর থেকেই তাদের আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায়।’

ফিরোজা বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় দেয়া গবেষণায় কমন নেচার। এশিয়াটিক সোসাইটিও অনেক গবেষককে অতিরিক্ত সময় দিয়েছে। এমনকি আমার সাথেই যারা ফেলোশিপ পেয়েছে তাদের মধ্যে দুইজনকে টাইম এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছে।

‘শুধু আমাকেই দেয়া হচ্ছে না। কারণ আমি সোসাইটির কাউন্সিল নির্বাচন করেছি। আমার মনে হচ্ছে, এই নির্বাচন করাই আমার অপরাধ।’

ফিরোজা বেগম আরও বলেন, ‘সোসাইটি থেকে আমাকে ব্যর্থ বলা হচ্ছে। কিন্তু আমি তো ব্যর্থ না। আমি তো বলিনি আমি কাজটি করতে পারব না।

‘চলতি বছরের গত ২৯ জুলাই আমার গবেষণাকাজের একটি খসড়া চ্যাপ্টারও সোসাইটিতে জমা দিয়েছি।’

এশিয়াটিক সোসাইটি মানসিক নির্যাতন করছে অভিযোগ করে অধ্যাপক ফিরোজা বলেন, ‘গত দুই বছর যাবত এশিয়াটিক সোসাইটি আমাকে মানসিক নির্যাতন এবং সামাজিক হেনস্তার মধ্যে রেখেছে, যেটি আমি প্রত্যাশা করি না।

‘আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি, যেদিন এশিয়াটিক সোসাইটি সকল রিসার্চারের জন্য সমান আচরণ প্রদর্শন করবে, যেটি বর্তমান কাউন্সিল করছে না।’

এশিয়াটিকের সাধারণ সম্পাদক কী বলছেন

ফিরোজার অভিযোগের বিষয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

চলতি বছরের ২৯ জুলাই গবেষণার একটি অংশ জমা দেয়া নিয়ে ফিরোজার বক্তব্যের বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘ফিরোজা ইয়াসমীন যখন একটি অংশ জমা দিয়েছেন, এর আগেই তার প্রজেক্টটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাতিল হয়ে যায়। কাউন্সিলের মিটিংয়ে কারো রিসার্চ গ্রান্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সে রিসার্চের একটি অংশ জমা দেয়া, এটি ম্যাটার করে না।’

২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোসাইটি থেকে ফিরোজার সঙ্গে যোগাযোগ না করার বিষয়ে সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সোসাইটির কাজের কারণে হয়তো উনার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। কিন্তু চার মাস পর পর রিপোর্ট জমা দেয়া উনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কনট্রাক্টে সেভাবেই লিখা আছে। সেটি তো উনি করেননি।’

সাব্বির বলেন, ‘এটি একটি মিউচ্যুয়াল কনট্রাক্ট। রিসার্চ ছাড়াও সোসাইটির অনেক কাজ থাকে। সেগুলোও আমাদের করতে হয়। কিন্তু আমরা উনাকে জানাইনি বলে উনি জমা দিবেন না, এটি কখনো কোনো রিসার্চ গ্রান্টে হয় কি না, আমি জানি না।’

দুজন গবেষকের সময় বাড়ানো নিয়ে ফিরোজা ইয়াসমীনের বক্তব্যের বিষয়ে সোসাইটির পরিচালক বলেন, ‘এটি খুবই অন্যায় এবং আপত্তিকর অভিযোগ। যে দুজনের সময় এক্সটেনশন করা হয়েছে, তাদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং অন্যজন বারডেম হাসপাতালের ডাক্তার। সে সময় উনাদের কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি ছিল।

‘তাদের কাজের অগ্রগতিতে রিসার্চ এবং সেমিনার কমিটি সন্তুষ্ট ছিল। আর উনাদের গবেষণার সুপারভাইজারও ভালো রিপোর্ট দিয়েছে। তাই আমরা তাদেরকে একবার সময় বাড়িয়ে দিয়েছি।’

টাকা ফেরতের বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির বলেন, ‘এখানে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করা হয়নি। সোসাইটির নিয়ম মেনেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উনাকে টাকা ফেরত দিতেই হবে।

‘এখন উনি যদি টাকা ফেরত না দেয়, তাহলে বিষয়টা সোসাইটির কাউন্সিলের মিটিংয়ে উঠবে। সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

নির্ধারিত জুতো না পরায় শতাধিক ছাত্র ক্লাস থেকে বহিষ্কার

মংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

নির্ধারিত জুতো না পরায় বাগেরহাটের মোংলার একটি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

মোংলার সেন্ট পলস স্কুল নামের ওই বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্লাস শুরুর সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছে।

এর আগে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, স্কুলের পোশাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপাতত চাপ দেয়া যাবে না, সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে আসে সেদিকে নজর রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি এ কথা বলেন। তারপরও সেন্ট পলস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন শিক্ষার্থী এমনকি ওই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকরাও।

শিক্ষার্থীরা নিউজবাংলাকে জানায়, সকালে বিভিন্ন ক্লাসরুম পরিদর্শনে আসেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ঠিক আছে কিনা তা দেখতে তিনি ক্লাস শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। সে সময় দেখা যায়, কয়েক ছাত্রের পোশাক ঠিক থাকলেও জুতা ছিল ভিন্ন।

এমন শতাধিক ছাত্রকে তখনই স্কুল থেকে বের করে দেন প্রধান শিক্ষক। এরপর কেউ বাড়ি ফিরে যায়, কেউ স্কুলের আশপাশে বসে থাকে।

মোংলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস এই খবর পেয়ে স্কুলে উপস্থিত হন। ওই শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর স্কুলের ধারে-কাছে থাকা শিক্ষার্থীদের ডেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক এড্রজয়ন্ত কোস্তা। তিনি মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হয়নি, সু পরে আসার নির্দেশ দিয়েছি। ইউএনও স্যার আসছেন, আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি।’

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক এই স্কুলে নতুন। যোগদানের পর থেকেই ইচ্ছেমতো স্কুলের সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। করোনাকালে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের এসব কিছু অগ্রাহ্য করা উচিত, যা তিনি করেননি।

এ বিষয়ে ইউএনও কমলেশ বলেন, ‘অভিযোগ শুনে আমি ওই স্কুলে যাই। যা বলার প্রধান শিক্ষককে বলে এসেছি। এখন সমস্যা নাই।’

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

এবারও হচ্ছে না জেএসসি-জেডিসি

এবারও হচ্ছে না জেএসসি-জেডিসি

ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মনে হয় না জেএসসি নেয়ার সুযোগ পাব। সামনেই এসএসসি-এইচএসসি আছে। তবে আমাদের শ্রেণি সমাপনীটা সব ক্লাসে হবে। সেটা অষ্টম শ্রেণিরও হবে।’

গত বছরের মতো চলতি বছরও অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষের চারা রোপণ শেষে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মনে হয় না জেএসসি নেবার সুযোগ পাব। সামনেই এসএসসি-এইচএসসি আছে। তবে আমাদের শ্রেণি সমাপনীটা সব ক্লাসে হবে। সেটা অষ্টম শ্রেণিরও হবে।’

পরীক্ষা না হলেও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘প্রত্যেক শ্রেণিতে যে মূল্যায়ন হয় সে মূল্যায়নটা হবে। অ্যাসাইনমেন্ট চলছে; সময় যা আছে আলাদা করে বোধ হয় এবার জেএসসি পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ আর থাকছে না। যদিও আমাদের প্রস্তুতি ছিল।’

শুধু জিপিএ-৫ এর পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য সবাইকে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।’

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এটির পাইলটিং চলবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২২ সাল থেকে এবং ২০২৩ সাল থেকে সেটি বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। নতুন পাঠক্রমে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। সর্বস্তরে বাস্তবায়ন হবে ২০২৫ সাল থেকে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছেন। তার জন্মদিন স্মরণীয় করে রাখতে আমরা সারা দেশে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করব।’

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরও হয়নি জেএসসি ও জেডিসি। উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় অটোপাস।

জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হয়ে থাকে বছরের নভেম্বর মাসে। করোনার কারণে গত বছর জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। নিজ নিজ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো।

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে নিয়ে সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে মুগ্ধ অর্থমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে নিয়ে সিইউবির চিত্র প্রদর্শনীতে মুগ্ধ অর্থমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে মঙ্গলবার দুপরে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) উদ্যোগে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে মঙ্গলবার দুপরে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার সময় তিনি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে এমন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি একটি বিশেষ দিন। এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথিবীতে এসেছিলেন। আজ তার ৭৫তম জন্মদিন। এই দিনটি উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি যে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তা দেখে আমি মুগ্ধ।’

‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভ কামনা করছি। তার চলার পথ যাতে আরও সহজ হয়; মসৃণ হয়- সেই কামনা করছি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার ইচ্ছা ছিল, এ দেশের মানুষকে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত করবেন, এ দেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাবেন। জাতির পিতা যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার সুযোগ্য কন্যা, আমাদের আগামী প্রজন্মের কিংবদন্তি, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সোনার বাংলাদেশ গড়ায় তিনি কতটা সফল হয়েছেন, আজকের এই উপস্থাপনা (বিশেষ চিত্র প্রদর্শনী) তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই আয়োজন থেকে আপনাদের মাধ্যমে জাতি আরও জানতে পারবে; আগামী প্রজন্ম আরও জানতে পারবে। এটাই নিয়ম, আমরা যেখানে রেখে যাব, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সেখান থেকেই শুরু করবে।’

রোববার শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী শেষ হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।

রোববার বেলা ১১টায় শেরাটন ঢাকা হোটেলে ফিতা ও কেক কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনেইট প্রিফন্টেইন।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরুর আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।

অনুষ্ঠানগুলোতে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় একই স্কুলের ২ শিক্ষার্থীর করোনা

কুষ্টিয়ায় একই স্কুলের ২ শিক্ষার্থীর করোনা

কুষ্টিয়ায় একই বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী করোনা আক্রান্ত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক অভিভবকই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার খোকসায় জানিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানে তাদের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ১৫ দিনের মাথায় ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ওই দুইজনের করোনা শনাক্ত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আক্রান্ত দুই শিক্ষার্থীই সুস্থ আছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর কারও করোনা উপসর্গ নেই।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি ক্লাসরুমে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক বলেন, ‘দুইজন শিক্ষার্থী শনাক্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সোহেল জানান, উপজেলায় গত চারদিনে ওই দুই শিক্ষার্থীসহ ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

করোনায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশের স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, নড়াইল, ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর ও বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এ পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে মানিকগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির একজন ও লক্ষ্মীপুরের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী

শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ অতিথিরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) উদ্যোগে বিশেষ চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের আয়োজন শেষ হয়েছে।

রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের শেরাটন ঢাকা হোটেলে সোমবার প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

‘বাংলাদেশ: উন্নয়নের ১ যুগ’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীতে রয়েছে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক যুগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বৈশ্বিক অঙ্গনে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকচিত্র। শেখ হাসিনার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের দুর্লভ ছবিও রয়েছে প্রদর্শনীতে।

দ্বিতীয় দিনের সমাপনী ঘোষণার আগে অতিথিরা বিভিন্ন আলোকচিত্র ঘুরে দেখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বদলে গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। সব কিছুতেই আমরা এখন অনেক এগিয়ে। এসব প্রধানমন্ত্রীর যাদুকরী নেতৃত্বের প্রভাব।’

শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের সমাপনী
দ্বিতীয় দিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ

যারা অনেক দিন আগে বিদেশে গিয়েছেন তারা এখন দেশে ফিরলে শহর ও গ্রামের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘এই আয়োজনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

এর আগে সোমবার সকালে প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরুর আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক।

রোববার বেলা ১১টায় শেরাটন ঢাকা হোটেলে ফিতা ও কেক কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রদর্শনীটি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠান হবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায়। শেরাটন ঢাকা হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

শিক্ষা বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের নামে বই বিক্রির অভিযোগ

স্কুল কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘মেয়েদের ওয়াশরুমের দরজা নষ্ট হয়ে গেছে। আব্দুল মোমিন পুরোনো কাগজপত্র আর বই বিক্রি করে ২ হাজার ১০০ টাকা পেয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে তিনি নতুন দরজা কিনে এনে লাগিয়েছেন।’

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

তাড়াশ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সরকারি বই বিক্রি করা অপরাধ। বিক্রি করা বইগুলো জব্দ করা হয়েছে। তাড়াশের রানীর হাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মোমিন শনিবার বিকেলে সাব্বির হোসেন নামে এক ফেরিওয়ালার কাছে সরকারি বিনা মূল্যের বই বিক্রি করেন। সাব্বির বইগুলো রানীর হাট বাজারে টং দোকানের সামনে রেখে দেন। স্থানীয়দের এগুলো দেখে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

সাব্বির জানান, তিনি আব্দুল মোমিনের কাছ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে ১৬৩ কেজি বই কিনেছেন। এগুলোর মধ্যে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের ৯০৩ কপি বই আছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন রোববার দুপুরে বইগুলো জব্দ করেন। তিনি এগুলো তার অফিসে নিয়ে যান।

ওই শিক্ষকের দাবি, বিদ্যালয়ের অপ্রয়োজনীয় কাগজের সঙ্গে তিনি পুরোনো বইগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। এই বই বিক্রির টাকায় ছাত্রীদের ব্যবহারের অনুপযোগী ওয়াশরুম মেরামত করা হবে।

ওয়াশরুম মেরামতের বিষয়টি নিশ্চিত করে স্কুল কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘মেয়েদের ওয়াশরুমের দরজা নষ্ট হয়ে গেছে। আব্দুল মোমিন পুরোনো কাগজপত্র আর বই বিক্রি করে ২ হাজার ১০০ টাকা পেয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে তিনি নতুন দরজা কিনে এনে লাগিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে চায় ইউজিসি

বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে চায় ইউজিসি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন বিষয়ে কর্মশালার উদ্বোধন করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। চবি: নিউজবাংলা

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অননুমোদিত জনবল নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। অস্থায়ী, মাস্টার রোল, এডহক, চুক্তি ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক চাকরি বন্ধ করতে হবে। নিয়ম বহির্ভূত সিটিং অ্যালাউন্সও দেয়া যাবে না।'

দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। তাই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে একটি অভিন্ন আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন হয়েছে সোমবার।

ইউজিসিতে আয়োজিত এ কর্মশালায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে একটি অভিন্ন আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।’

কিছু অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অননুমোদিত জনবল নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। অস্থায়ী, মাস্টার রোল, এডহক, চুক্তি ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক চাকরি বন্ধ করতে হবে। নিয়ম বহির্ভূত সিটিং অ্যালাউন্সও দেয়া যাবে না। এসব নিয়ম বহির্ভূত পদে কেউ বেতন ভাতা দিয়ে থাকলে তাদেরকে (বিশ্ববদ্যিালয়কে) এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়নে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনোযোগ দেয়া, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

কর্মশালার আলোচকরা এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় না করা, অপ্রয়োজনীয় খাতে বরাদ্দ না দেয়া, সঠিক সময়ে ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় বাড়ানো, উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সিন্ডিকেট গঠনসহ বেশ কিছু পরামর্শ দেন।

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা এবং ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর আহ্বান জানান আলোচকরা।

কর্মশালায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ ও ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান বিশেষ অতিথি ছিলেন। এছাড়া ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের প্রধান ও বাজেট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
টাকা পরিশোধ না করায় চাকরিচ্যুত ঢাবি শিক্ষক
ছাত্রলীগের জন্য ছুটির দিনেও ব্যস্ত ডাকসুর কর্মচারীরা
হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে ঢাবিতে মানববন্ধন
অধ্যাপক কার্জনের মামলা নিয়ে বক্তব্য নেই ঢাবি শিক্ষক সমিতির
ঢাবির অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

শেয়ার করুন