শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে বীরশ্রেষ্ঠ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: নিউজবাংলা

নূর মোহাম্মদ বারবার অবস্থান বদল করে পাকিস্তানি সেনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য গুলি ছুড়তে থাকেন।একপর্যায়ে একটি মর্টারের গোলায় তার ডান পা উড়ে যায়। এমন সময়েও সহযোদ্ধাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে নূর মোহাম্মদ তার শেষ বুলেটটি খরচ করেন।

সামনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, পাশে আহত সহযোদ্ধা। নিতে হয়েছিল ত্বরিত সিদ্ধান্ত। এক হাতে এলএমজি নিয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন, আরেক হাতে আহত সহযোদ্ধাকে বয়ে নিতে থাকেন নিরাপদ আশ্রয়ে। সেই সিদ্ধান্তে সহযোদ্ধারা সেদিন বেঁচেও যান, পাক বাহিনীও পিছু হটে। তবে, শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ।

এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের। মুক্তিযুদ্ধে এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নূর মোহাম্মদ পান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব।

বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই সন্তানের জন্ম ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে নড়াইলের মহিষখোলা গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসাকে অল্প বয়সেই হারান তিনি। শৈশবে তিনি ছিলেন ডানপিটে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

১৯৫২ সালে নিজ গ্রামেরই তোতাল বিবিকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ছিল দুই সন্তান। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয় তাদের প্রথম সন্তান হাসিনা খাতুন এবং ১৯৬৪ সালে দ্বিতীয় সন্তান শেখ মো. গোলাম মোস্তফা।

নূর মোহাম্মদ ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআরে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন দিনাজপুর সীমান্তে। ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই তাকে যশোর সেক্টরে বদলি করা হয়। এরপর তিনি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।

১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে যুদ্ধ করেন।


শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

একাত্তরের ৩০ মার্চ ইপিআরের যশোর সেক্টরের সদস্যরা বিদ্রোহ করেন। নূর মোহাম্মদ ছিলেন তাদের অন্যতম। বয়রা সাব-সেক্টরের অধীনে নূর মোহাম্মদকে তার সাহসিকতা এবং নেতৃত্বসুলভ গুনাবলির জন্য একটি কোম্পানি প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর পাকিস্তানি ঘাঁটি থেকে কাশীপুর হয়ে বয়রা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা ছিল দুটি। একটি হলো গঙ্গানন্দপুর-গোয়ালহাটি-আটুলিয়া-গুলবাগপুর-বেংদহ-কাশীপুর-বয়রা। অন্যটি গঙ্গানন্দপুর-বিষহরি-মৌতা-বেলতা-কাশীপুর-বয়রা। তাদের আসার দুই পথেই মুক্তিবাহিনীর তরফে কড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। চালু রাখা হয় সার্বক্ষণিক টহল ব্যবস্থাও।

৫ সেপ্টেম্বর একটি টহল দলের দায়িত্বে গোয়ালহাটিতে ছিলেন নূর মোহাম্মদ। তার সঙ্গে ছিলেন সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া ও মোস্তফা। মূল দল ছিল আরও পেছনে আটুলিয়ার দিকে।

তখন পড়ন্ত বেলা। ১৫০ জনের মতো পাকিস্তানি সেনা ও রেঞ্জারের একটি দল গঙ্গানন্দপুর থেকে গোয়ালহাটির দিকে এগোতে থাকে। ওদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে নূর মোহাম্মদ ও তার দুই সঙ্গী নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এলএমজি ছিল নান্নু মিয়ার হাতে, পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি লাগে তার শরীরে। তিনি গুরুতর আহত হন।

নূর মোহাম্মদ নিজ কাঁধে আহত সহযোদ্ধাকে তুলে নেন, হাতে নেন এলএমজি। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পেছাতে পেছাতে গুলি ছুড়তে থাকেন তিনি। এ সময় মোস্তফা কাছাকাছি এসে পড়ায় নূর মোহাম্মদ তাকে নির্দেশ দেন নান্নু মিয়াকে নিয়ে আরও পেছনে মূল অবস্থানে চলে যেতে।

শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

নূর মোহাম্মদ বারবার অবস্থান বদল করে পাকিস্তানি সেনাদের বিভ্রান্ত করার জন্য গুলি ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে একটি মর্টারের গোলায় তার ডান পা উড়ে যায়। এমন সময়েও সহযোদ্ধাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে নূর মোহাম্মদ তার শেষ বুলেটটি খরচ করেন।

নান্নু মিয়াকে নিরাপদে মূল ঘাঁটিতে রেখে আরও সহযোদ্ধাদের নিয়ে মোস্তফা ফিরে আসেন যুদ্ধে। আধা ঘণ্টার তুমুল যুদ্ধ শেষে ২৩টি লাশ পিছে ফেলে পালিয়ে যায় হানাদার বাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধারা গোয়ালহাটিতে জঙ্গলের ভেতর খুঁজে পায় ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদের দেহ। হানাদাররা নূর মোহাম্মদকে বেয়নেট দিয়ে হত্যা করে। তুলে নিয়ে ছিল তার দুটি চোখও।

নূর মোহাম্মদের দেহ কাশিপুর নেয়া হলে ক্যাপ্টেন হুদা বয়রা থেকে সেখানে ফেরেন। মাথার টুপি খুলে অভিবাদন জানান তার প্রিয় সহকর্মীকে। বয়রা সাব-সেক্টরের সাহসী অধিনায়ক ক্যাপ্টেন হুদা শিশুর মতো সেদিন চোখের পানিতে বুক ভাসান। নূর মোহাম্মদের লাশ ছুঁয়ে শপথ নেন, যেভাবেই হোক গঙ্গানন্দপুর থেকে শত্রু হটিয়ে মুক্ত করবেন।

শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

সামরিক মর্যাদায় কাশিপুর-বয়রা সড়কের পাশে নূর মোহাম্মদকে সমাহিত করা হয়।

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তঘেঁষা গ্রাম কাশিপুর। ওপারে ভারতের চব্বিশ পরগনার বয়রা। বাংলাদেশ সীমান্তের গোবিনাথপুর আর কাশিপুর মৌজার সীমানার কাশিপুর পুকুরপাড়ে চিরতরে ঘুমিয়ে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদসহ সাত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।

সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভ।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পরবর্তী সময়ে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হন নূর মোহাম্মদ। তার স্মৃতি রক্ষার্থে নড়াইলের নূর মোহাম্মদ নগরে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এবং স্মৃতিস্তম্ভ’। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়।

এ বীরশ্রেষ্ঠের ৫০তম শাহাদাতবার্ষিকী রোববার।

শেষ বুলেটেও সহযোদ্ধাদের বাঁচিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ

নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে নড়াইলের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ ট্রাস্ট।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ নগরে শোক র‌্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো, পুলিশের সশস্ত্র সালাম, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

ফরিদপুর পৌরসভা। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

দেশের সব পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের বিষয়ে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

‘এতে তারা কী করছে, মানুষকে সেবাটা দিচ্ছে কি না সেটা আমরা বুঝতে পারব। এতে মানুষ লাভবান হবে। তারা যখন লাভবান হবে তখন তারা ট্যাক্সও দিতে চাইবে। যদি কারও লাভ হয় তাহলে সে কেন দেবে না? অবশ্যই দেবে। এ জায়গায় আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।’

একই সঙ্গে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে অডিটর নিয়োগ করছি। এটি নিয়োগ করা মানে কাউকে অসম্মান করা না। এতে কাজে স্বচ্ছতা আসবে।

‘এটা হলে তাহলে জবাবদিহি বাড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসটিজিয়াস হবে, আয়বর্ধক হবে, স্বনির্ভর হবে। স্বনির্ভরতা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে প্রেসটিজিয়াস বলতে পারে না।’

‘ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা গালি ডিজার্ভ করে’

কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের যে গালিগালাজ শুনতে হয় তার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিয়নের মেম্বার বলে সারা দিন আমরা গালি দিই। সম্ভবত অনেক কারণও আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদকে আমরা গালি দিই। আমি মনে করি তারা (গালি) পাওয়ার জন্য ডিজার্বও করে। কী কারণে করে?

‘তারা সঠিকভাবে সেবা দেয় না এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলো যে দুর্নীতিমুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা সেগুলো ঠিকভাবে পালন করে না। এটা মোটামুটি স্টাবলিস্ট।’

অবশ্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার অপ্রাপ্তির জন্য দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যর্থতা তাদের নয়, ব্যর্থতা আমার। আই হ্যাভ টু ডায়াগনোসিস ফেইলরটা কার। যে মানুষ জবাবদিহির আওতায় থাকবে না সে নষ্ট হবে। এ জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘আমরা জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করতে পারিনি, জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের। মেম্বারের পজিশন যে মর্যাদাপূর্ণ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে কাজ না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে যত বেশি, যত দ্রুত শক্তিশালী করা যাবে, দেশ তত দ্রুত শক্তিশালী হবে। মানুষগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা থেকে সচিব, মন্ত্রী গিয়ে গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।

‘ওখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে খুব ইফেকটিভ করতে পারলে কেউ আর পেছনে থাকবে না।’

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিন: দুদককে কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বলেছেন, মন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবেন না তিনি।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে সোমবার ভিডিও কনফারেন্সে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘দুদককে আহ্বান জানাচ্ছি, আমার মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো আপত্তি করব না। কোনো হস্তক্ষেপ করব না।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ সামনে এনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীদেরও এটা অনুসরণ করতে হবে। দুর্নীতি যেন না হয় সে জন্য প্রত্যেকের জায়গা থেকে যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে। যারা দুর্নীতি করে, অনিয়ম করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অনিয়ম বন্ধে বিআরটিসি কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতি কমে আসে। আমরা বিআরটিসির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সেবা অনলাইনে চালু করেছি।

‘শেখ হাসিনা সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কাজেই বিআরটিসির মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি যেন বাসা বাঁধতে না পারে সে ব্যাপারে চেয়ারম্যানসহ সব কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকতে হবে।’

যেকোনো মূল্যে বিআরটিসিকে সুনামের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী।

লকডাউন শেষে পরিবহনে আবারও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় যাত্রীদের সুবিধায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিআরটিসি রাজধানীর উত্তরায় চক্রাকার বাস সেবা চালু করেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার পর ধানমন্ডি এলাকায় চক্রাকার বাস সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে জাবির প্রস্তুতি

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত মুখ ধুয়ে হলে প্রবেশ করতে পারে।’

প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে শেষের দিকে একাডেমিক ভবন ও হল পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব হলের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওঠার জন্য সব হল প্রস্তুত। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ফুল লেয়ারের তিনটি করে মাস্ক দেয়া হবে, যা অনায়াসে তিন থেকে চার মাস ব্যবহার করতে পারবেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘হলের বাইরে বেসিন, সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা হাত-মুখ ধুয়ে হলের প্রবেশ করতে পারে। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতিটি হলে ইলেক্ট্রিক ওয়াটার ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে এই শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেহেতু বাইরে থেকে হলে উঠবে, তাই প্রথম ১৪ দিন তাদের হল থেকেই অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সশরীরে ক্লাস করতে পারবে তারা।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের খোলার বিষয়ে জাবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিন্ডিকেট সভা হবে। সে সভায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি। এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১১ সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কীভাবে ঘটল, (এ বিষয়ে) আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন একটি উৎসের কথা। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি।

‘এটি কোথা থেকে এসেছে, কী হয়েছে সেটি খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সারা দেশে ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে, তারা হলেন: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করে এই ১১ নেতা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে এই আদেশ। সেদিনই রোববার মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব অপ্রত্যাশিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘যেভাবে হিসাব চাওয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখা চাই। এর নিরসন চাই। উৎকণ্ঠা দূর করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

লেনদেনের জেরে মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রাজুকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ছবি: নিউজবাংলা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

চাঁদপুর শহরে পাওনা টাকার জেরে খুর দিয়ে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিলেট থেকে রোববার অভিযুক্ত রাজু চন্দ্র শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত ব্যবসায়ীর নাম নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ।

সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, নারায়ণ চন্দ্র ঘোষ মিষ্টি তৈরি করে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত রাজুর কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাজু নারায়ণ চন্দ্রের গলায় খুরের পোঁচ দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি পানির পাম্পের কাছে ফেলে রাখেন।

১৬ সেপ্টেম্বর শহরের বিপনীবাগ মার্কেটের পৌর পানির পাম্প স্টাফ রুমের পাশ থেকে নারায়ণ চন্দ্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি।

তিনি আরও বলেন, হত্যার পর দোকানের রক্ত পরিষ্কারের সময় বাজারের নৈশপ্রহরী ইসমাইল বকাউল অভিযুক্তকে প্রশ্ন করলে রাজু জানায়, ‘ধর্মীয় উৎসবের কারণে দোকান পরিষ্কার করে পুরোনো কাপড়সহ ময়লা জিনিসপত্র বস্তায় করে নিয়ে যাচ্ছি।’

মুক্তা ধর আরও বলেন, ‘ঘটনার রাত থেকে রাজু পলাতক। প্রথমে ঢাকা ও হবিগঞ্জ এবং পরে সিলেট শহরে গিয়ে গা-ঢাকা দেন তিনি।’

কত টাকার লেনদেন ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদে খুব অল্প টাকার কথা বলেছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাকে রিমান্ডে নিলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

দূষিত পানি: হাইকোর্টে পরিকল্পনা জানাবে ওয়াসা

ওয়াসার দূষিত পানি দিয়ে বানানো শরবত সংস্থাটির এমডিকে পান করাতে চেয়েছিলেন মিজানুর রহমান (ডানে) নামের এক অধিকারকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডিকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা হাইকোর্টকে জানাবে ওয়াসা।

আগামী ২ নভেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে ওয়াসা তাদের পরিকল্পনা জানাবে।

ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ কিংবা পানি পানের উপযোগী না থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংস্থাটির পানি দিয়ে এমডি তাকসিম এ খানকে শরবত পান করাতে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক অধিকারকর্মী।

দূষিত পানি নিয়ে করা রিটের আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে আজ শুনানির জন্য মামলাটি তালিকায় আসে। এরপর আদালতে বলেছি, ২ বছর ধরে তারা কী করেছে, দূষিত পানি রোধে ওয়াসা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, নিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা কী- এসব বিষয় উপস্থাপনের পর ওয়াসা জানিয়েছে, তারা আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে বিষয়গুলো আদালতকে জানাবে।’

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে চার সদস্যের কমিটি গঠনের আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

কমিটির সদস্যরা হলেন আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মনিরুল আলম, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সাবিতা রিজওয়ানা রহমান।

পানি পরীক্ষায় গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ২০১৯ সালের ৭ জুলাই আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ১০টি বিতরণ জোনের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ৮টিতে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ওই সময় ওয়াসার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাসুম বলেছিলেন, সমন্বিত প্রতিবেদন আসার পর জোন-১ ও জোন-৪-এর একটি এবং পাতলা খান লেনে পাওয়া একটি নমুনায় যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়, তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। সেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া হলো ফেকেল ও ই-কোলাই।

প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন ব্যারিস্টার মাসুম।

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন

১৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাজে যোগ দিতে বাধা নেই

১৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাজে যোগ দিতে বাধা নেই

এই নিয়োগে কোটা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ না করে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছিলেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৪ প্রার্থী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ১ হাজার ৬৫০ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের খারিজ আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। এর ফলে নিয়োগ পাওয়াদের কাজে যোগ দিতে কোনো বাধা নেই।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আবেদনটি সোমবার খারিজ করে দেয়।

এর আগে শনিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আবেদনের শুনানির জন্য আজকের তারিখ ঠিক করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোর্শেদ।

রিট থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি ১ হাজার ৬৫০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের পরীক্ষা শেষে ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি ফল প্রকাশ করা হয়।

তবে এতে কোটা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ না করে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৪ প্রার্থী।

পরে ফল না পেয়ে চাকরিপ্রার্থী ৩৪ জন রিট আবেদন করে। এরপর একে একে ২০ রিট হয়। এ সংক্রান্ত ২০ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।

পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের পর আপিল বিভাগে আবেদন করেন রিটকারীরা। চেম্বার বিচারপতি সেই আবেদনের শুনানির জন্য আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে আবেদনটি ডিসমিস (খারিজ) করে দেয়।

আরও পড়ুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী পালন
শাহাদতবার্ষিকীতে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরকে শ্রদ্ধা
অবহেলায় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বসতভিটা

শেয়ার করুন