পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার আরও বড় হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

৫২ ব্রোকারেজ হাউজের কাছে ট্রেক সনদ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে না পারলে এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে। প্রত্যাশা থাকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান পুঁজিবাজার আরও বড় হবে। তবে এ জন্য বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে হবে। তারা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

শনিবার রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ৫২ ব্রোকারেজ হাউজের কাছে ট্রেক সনদ হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে না পারলে এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে। প্রত্যাশা থাকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন না পেলেও কেউ এখানে আসবে না।

‘আমরা দেখেছি, অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলেও রিটার্ন তো দূরে থাক, বিনিয়োগ পর্যন্ত তাদের হারাতে হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে এসেছে, আমাদের তা রক্ষা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল আমিন ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ‍ছিলেন ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

পুঁজিবাজারের সেবা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তিন দফায় ৫৫ ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দিয়েছে। শনিবার তাদের শেয়ার কেনা-বেচার অনুমোদনের সনদ প্রদান করা হয়।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ট্রেক হোল্ডারদেরকে সকলে মিলে সহযোগিতা করতে হবে। নতুনদেরও অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে শিখতে হবে। ব্যবসার প্রাণ হচ্ছে পুঁজিবাজার। কিছু অসাধু বিনিয়োগকারী বারবারই পুঁজিবাজারে ব্যবসায়ীদের বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে। তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসই-এর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের শেয়ারের দর বাড়লে সূচক বাড়বে। সূচক শুধু শেয়ার দরের উত্থান-পতনের চিত্র প্রকাশ করে। ফলে সূচক ২০ হাজার পয়েন্টে উঠলে সেটি কোনো বিষয় না। তবে আগামী বছর পুঁজিবাজারে ৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে।’

রকিবুর রহমান বলেন, ‘আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন উত্থানের পুঁজিবাজারে শেয়ার দর টিকবে কি না। আমি বলি শতভাগ টিকবে। তবে দর কারেকশন হবে। এটি মেনে নিতে হবে।’

সাম্প্রতিক সময়ের সূচকে দেখা গেছে, ২০১০ সালের মহাধসের প্রতিক্রিয়ায় ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি ৭ হাজারের নিচে নেমে আসার পর সূচক আর কখনও ৭ হাজারের কাছাকাছি আসেনি। ২০১১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সূচকের অবস্থা এর চেয়ে বেশি ছিল। সেদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৭ হাজার ১২৫ পয়েন্ট। বর্তমানে ডিএসইএক্স সূচক সে সময়ের ডিএসই সূচকের তুলনায় ২.৭৮ শতাংশ কম। সেটি বিবেচনা করলে অবশ্য ডিএসই সূচক সবশেষ যখন ৭ হাজার পয়েন্টের বেশি ছিল, তার চেয়ে উঁচুতে ছিল ২ সেপ্টেম্বরের পুঁজিবাজার।

ডিএসইর প্রধান সূচকের নাম এখন ডিএসইএক্স। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি চালু হয় এই সূচক।

যারা আছেন তালিকায়

মোনার্ক হোল্ডিংস, বি রিচ লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক সিকিউরিটিজ, কবির সিকিউরিটিজ, আর এ কে ক্যাপিটাল, বারাকা সিকিউরিটজ, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিস, স্মার্ট শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, সাউথ এশিয়া সিকিউরিটজ, তাসিয়া সিকিউরিটজ, এসএফআইএল সিকিউরিটজ, এনআরবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, বি এন বি সিকিউরিটজ, কলম্বিয়া শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, কে ডি এস শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটজ, সোনালী সিকিউরিটজ, আল হারমাইন সিকিউরিটজ, ক্রিস্টাল সিকিউরিটজ এবং ট্রেড এক্স সিকিউরিটজ লিমিটেড, টি কে শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটজ, আমার সিকিউরিটিজ, সোহেল সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ, ট্রিস্টার সিকিউরিটিজ, আমায়া সিকিউরিটজ, এমপেরর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট, ৩-আই সিকিউরিটজ, মির সিকিউরিটজ, বি অ্যান্ড বি এস এস ট্রেডিং, তাকাফুল ইসলামি সিকিউরিটজ, এস বি এ সি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট, এন ওয়াই ট্রেডিং, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স সিকিউরিটজ, মাহিদ সিকিউরিটজ, পটেনশিয়াল ক্যাপিটাল, এ এন সি সিকিউরিটজ, বেঙ্গ জিন (বিজি) জিইউ টেক্সটাইল, মিনহার সিকিউরিটিজ, অ্যাসোসিয়েট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ, রহমান ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট, এম কে এম সিকিউরিটিজ, বিপ্লব হোল্ডিংস, বিনিময় সিকিউরিটিজ, রিলিফ এক্সচেঞ্জ, ডাইনিস্টি সিকিউরিটজ।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দর সংশোধনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক কমেছিল ৮২১ পয়েন্ট। এর মধ্যে লকডাউন আতঙ্কে ৪ এপ্রিল হারানো ১৮২ পয়েন্ট বাদ দিলে সেটি হয় ৬৩৯ পয়েন্ট। গত ৩০ মে থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সংশোধন পর্বে সূচকের পতন আর দেখা যায়নি। তখন থেকে খাতওয়ারি সংশোধনের প্রবণতা দেখা যায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সংশোধন পর্বেও সূচকের পতন দেখা যাচ্ছে না। এই ১০ কর্মদিবসে পড়েছে কেবল ৮ পয়েন্ট। আগের আড়াই মাসে ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়া স্বল্প মূলধনি, দুর্বল, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হলেও বড় মূলধনি মৌলভিত্তির শেয়ারের দর বৃদ্ধির কারণে অবস্থান ধরে রেখেছে পুঁজিবাজার।

গত মে ৩০ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছয় হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর টানা এক মাস একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে।

৩০ মে সূচক উঠে ৬ হাজার ৮ পয়েন্ট। এরপর কোনোদিন ছয় হাজারের নিচে, কোনোদিন আবার ছয় হাজারের ওপরে, এমন করতে করতে ২৯ জুন সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪২ পয়েন্টে।

এরপর আরেক দফা উত্থান শুরু হয়ে টানা চলে গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩০ জুন থেকে ৪১ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছে ১ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

এরপর দুই সপ্তাহ আবার দেখা যাচ্ছে সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত চিত্র। ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট উঠার পর আবার সেই মে থেকে জুন পর্যন্ত এক মাসের মতো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এই দুই সপ্তাহে ১০ কর্মদিবসে সূচক পড়েছে ৮ পয়েন্ট। এর মধ্যে কমেছে ৪ দিন, বেড়েছে ৬দিন, কিন্তু বলতে গেলে কোনো দিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের উচ্ছ্বাস ছিল না।

পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক নানা ফেসবুক পেজে শত শত মানুষ বলছেন, সূচক বাড়লেও তাদের শেয়ারের দর কমে যাচ্ছে। আর যেদিন সূচক পড়ে যাচ্ছে, সেদিন আরও পড়ছে।

এর কারণ হচ্ছে, এই দুই সপ্তাহে সূচক বেড়েছে মূলত বড় মূলধনি বড় মূলধনি ও বহুজাতিক বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদরে উত্থানের কারণে। এসব শেয়ারে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সচরাচর কম থাকে।

পুঁজিবাজারে দর সংশোধনের মধ্যেও সূচকের একই বৃত্তে ঘুরপাক একেবারেই সাম্প্রতিক প্রবণতা। এই সময়ে কোনো একটি খাতে শেয়ারের পতন হলে অন্য খাতের বৃদ্ধিতে অবস্থান ধরে রাখে পুঁজিবাজার।

এবার আবার কোনো বিশেষ খাত বাড়ছে না, ব্যাংক ছাড়া মৌলভিত্তির বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিপরীতে কমছে এতদিন বেড়ে চলা স্বল্প মূলধনি, লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দর। স্বল্প মূলধনির মধ্যে যেগুলো উচ্চ মুনাফা করতে পারছে, সেগুলোর দরপতন হচ্ছে না।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

চলতি বছর দুই দফা সংশোধনে যা হয়েছে, এবার যা হচ্ছে

গত বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া উত্থানে জানুয়ারি পর্যন্ত টানা বাড়ার পর ওই মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সূচক পড়েছিল প্রায় ৮০০ পয়েন্ট। ১৪ এপ্রিল সূচক ৫ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে ওঠার পর থেকে ৪ এপ্রিল তা নেমে আসে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্ট।

এর মধ্যে ৪ এপ্রিল সূচক ১৮২ পয়েন্ট পড়ে যায় পরদিন লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় কি না, এই আতঙ্কে। সেটি বাদ দিলেও ৬০০ পয়েন্টের বেশি সূচক পড়েছিল।

আবার জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংশোধনে লেনদেনের ব্যাপক পতনের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, সেটিও এবার দেখা যাচ্ছে না।

১৭ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন ছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অথচ ৫ এপ্রিল তা নেমে আসে ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।

৩০ মে থেকে এক মাস যখন আবার সংশোধন পর্ব শুরু হয়, তখন অতটা না কমলেও লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

৩০ মে লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৪৯ কোটি ২১ লাখ টাকা আর ২৯ জুন এই সংশোধন শেষ হওয়ার দিন হাতবদল হয় ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এবার লেনদেন এতটা কমছে না। ৯ সেপ্টেম্বর লেনদেন ছিল ২ হাজার ৬৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এরপর ১০ কর্মদিবসে মোট তিন দিন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার কম, যার মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল ২০ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৭৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

সতর্কতা গায়ে না মেখে এখন হতাশা

পতন এমন কিছু নয়, তবে আগের দুই দফা সংশোধনের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা যে ধরনের হতাশার কথা বলতেন, এবারও সূচকের এক বৃত্তে ঘুরপাকের মধ্যেও তার অন্যথা হচ্ছে না।

পুঁজিবাজারে তৃতীয় দফায় উত্থানে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে লোকসানি, বন্ধ ও স্বল্প মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। এগুলোর মধ্যে কয়েকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ইস্যু ছিল, কিন্তু এগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি সহসা মুনাফায় ফিরতে পারবে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে। আবার বেশ কিছু লোকসানি কোম্পানির লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনাও একেবারেই ক্ষীণ।

এসব কোম্পানির কোনোটির শেয়ারদর দ্বিগুণ, কোনোটির তার চেয়ে বেশি বেড়েছে এই আড়াই মাসে। সঙ্গে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম, এ কারণে বেড়েছে আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বারবার এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক করেছেন, এমনকি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যানও শক্তিশালী মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগের।

কিন্তু ক্রমেই বাড়তে থাকা দুর্বল কোম্পানিতে সে সময় বিনিয়োগ বাড়িয়েই চলেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। কোনো সাবধানতা তারা কানে তোলেননি। বরং পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ফেসবুক পেজগুলোতে নানা পোস্ট আসতে থাকে যে, এগুলো আরও বাড়বে।

এসব কোম্পানির শেয়ারদর অনেক বাড়লেও সূচকে প্রভাব পড়ে না বললেই চলে। এর কারণ স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। আর লোকসানি জেড ক্যাটাগরির শেয়ার দরে উত্থান পতনে সূচকে কোনো হেরফের হয় না। ফলে এখন যখন এসব কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হচ্ছে, তখন সূচক আসলে সেভাবে পড়ছে না। আর এ কারণে এসব শেয়ারের মালিকরা প্রশ্ন তুলছেন, শেয়ারের দরপতন হচ্ছে, সূচক কীভাবে বাড়ছে বা এক জায়গায় থাকছে।

দর সংশোধনে নতুন প্রবণতায় পুঁজিবাজার

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূচকের উত্থান পতন পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক বিষয়। এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু দেখছি না। আতঙ্কের ছিল যখন খারাপ কোম্পানির ক্রমাগত দর বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচক ও লেনদেন বাড়ছিল।

‘এর আগে যখন একইভাবে বিমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে তখনও স্বাভাবিক ছিল না পুঁজিবাজার। এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। পুঁজিবাজারে খারাপ কোম্পানির দাপট কমে এখন ফান্ডামেন্টাল কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ছে। এতে সূচক ও লেনদেন যদি কিছুটা সংশোধনও হয় তাতে ক্ষতির কিছু নেই।’

বিনিয়োগকারীদের ক্রমে শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসার পাশাপাশি মার্জিন ঋণেও নিরুৎসাহিত করেছেন আবু আহমেদ। বলেন, ‘মার্জিন ঋণে শেয়ার কেনা হলে তাদের সুদ প্রদানের একটি চাপ থাকে। ফলে তারা চাইলেও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘লোন নিয়ে যারা দর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে তারাই এখন লোকসানে আছে। কিন্ত ভালো কোম্পানিতে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের এ ধরনের পুঁজিবাজারে লোকসান হওয়ার কথা নয়।’

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন কমে আসায় আতঙ্কের কিছু দেখছি না। কারণ, বিনিয়োগকারীরা যখন ডে ট্রেডিং যাবে তখন লেনদেন বাড়বে। কিন্ত ডে টেডিংয়ে বিনিয়োগকারীদের মুনাফাও কিন্তু কমে যায়। কারণ যতবার শেয়ার কেনা বেচা করবে ততবারই তাকে কমিশন দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দর সংশোধনে লেনদেন কমে আসা মানে এখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রেখেছেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।’

‘পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দর যখন বাড়ছিল তখন অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে। এখন সেসব শেয়ারের দর কমে আসায় তারা শেয়ার ক্রয় বিক্রয় না করে ধরে রেখেছে তাই লেনদেন আগের তুলনায় কমেছে। এটা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক অবস্থা। এটা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই’-এমনটিও বলেন এই বিশ্লেষক।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন দেখছেন একজন বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি

সামাজিক খাতের অনেক সূচকেই আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিশেষ করে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। কিছু সূচকে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আমরা ভারত থেকে অনেক কম এবং পাকিস্তান থেকেও কিছুটা পেছনে রয়েছি: ডিএসই চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরও অনেক দূর যাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ-ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। তিনি মনে করেন, গত এক যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, তাতে পুঁজিবাজার আরও ভালো অবস্থানে থাকা উচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার ডিএসইর সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন। এ সময় তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রভাগে রয়েছে সামাজিক খাত। সামাজিক খাতের অনেক সূচকেই আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিশেষ করে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছি। কিছু সূচকে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আমরা ভারত থেকে অনেক কম এবং পাকিস্তান থেকেও কিছুটা পেছনে রয়েছি।

‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এখন ইমারজিং টাইগার। তারপরও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো নির্ণয় করে এগিয়ে যেতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা ফিনান্সিয়াল সেক্টরে আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারিনি।

বৈঠকে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে ডিএসই ও আইডিআরও একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়। ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

সাক্ষাতে ডিএসইর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, ডিএসই আগামীতে ‘বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় বিমার ব্যবহার’ বিষয়ে একটি সেমিনার করবে।

পুঁজিবাজার: পাকিস্তান থেকে খানিকটা ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে
বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক

বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধরনের হওয়ায় অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দেশের পুঁজিবাজারে কীভাবে তা কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে তারিক আমিন কথা বলেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর নতুন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়য়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী একটি পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই। সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন ধরনের বিষয় হওয়ায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডিএসই’র এই উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমা সেক্টরসহ পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে উভয় পক্ষ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা যেমন উপকৃত হবে এবং পুঁজিবাজারের প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে।’

এ জন্য বিএসইসি, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, ডিএসই, সিএসই, সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং সিডিবিএল-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সদস্য মইনুল ইসলাম, সাধারণ বিমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান এবং ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

টানা দুই সপ্তাহ পুঁজিবাজার অনেকটা গতিহীন। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও এমনটি দেখা যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

দুই সপ্তাহ ধরে ওঠানামা করতে থাকা পুঁজিবাজারে লেনদেনে দেখা গেছে খরা। সপ্তাহে পাঁচ দিনের মধ্যে তিন দিনই লেনদেন হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে। জুলাইয়ের পর এমনটি আর দেখা যায়নি।

সূচকের পতন দিয়ে সপ্তাহ শুরু করা পুঁজিবাজার সপ্তাহের শেষ দিন শেষ করল উত্থানে। এই সপ্তাহে দুই দিনে সূচক যতটা পড়েছে, তিন দিনে বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। কিন্তু গতি হারিয়েছে লেনদেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সপ্তাহটা শুরু হয়েছিল ৭ হাজার ২২৮ পয়েন্ট নিয়ে, শেষ করেছে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্ট। সূচকে যোগ হয়েছে ২২ পয়েন্ট। কিন্তু এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।

বরং সাড়ে ১০ বছরের মধ্যে সূচক সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠার পর গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে সূচকের উঠানামার মধ্যে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে যে হতাশা শুরু হয়, চলতি সপ্তাহে তা আরও গাঢ় হয়েছে।

সপ্তাহটা শুরু হয়েছিল সূচকের ৩৭ পয়েন্ট পতনের মধ্য দিয়ে, পরের দিন তা বাড়ে ১৬ পয়েন্ট। এর পরদিন মঙ্গলবার সূচকে ৫২ পয়েন্ট যোগ হওয়ার মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে যে গতি বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছিল, তা শেষ পর্যন্ত আর পূরণ হয়নি। বুধবার আবার পতনে সূচক হারায় ১৬ পয়েন্ট। শেষ দিন বাড়ে আবার ৮ পয়েন্ট।

গতি হারানো পুঁজিবাজারে লেনদেনে দেখা গেছে ভাটা। সপ্তাহে ৫দিনের মধ্যে তিন দিনই লেনদেন হয়েছে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে। আগস্টের পর এমনকি আর দেখা যায়নি।

সপ্তাহের শেষ দিন লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৮৫২ কোটি ৪২ লাখ টাকা যা আগের দিনের তুলনায় ২৯৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন ছিল ২ হাজার ১৫০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

প্রতিটি দিনই সূচক বেড়ে শেষ বেলায় কমেছে, যার ব্যতিক্রম হয়নি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার।

সকাল ১০ টায় লেনদেন শুরুর ১৬ মিনিটেই সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু বেলা পৌনে ১২টার দিকে আবার আগের দিনের চেয়ে ৪ পয়েন্ট কমে যায়।

গত সপ্তাহ থেকেই বেলা একটার পর থেকে সূচক কমতে শুরু করার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে সে সময় আবার পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার শেষ বেলায় সূচক বাড়তে শুরু করে।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

বেলা সোয়া দুইটায় সূচকের যে অবস্থান ছিল, সেখান থেকে পরের ১৫ মিনিটে বাড়ে ১৯ পয়েন্ট। তবে শেষ বেলায় সমন্বয়ের কারণে সেই অবস্থান থেকে ১৫ পয়েন্ট কমে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্ট শেষ হয় দিনের লেনদেন।

টানা ১১ সপ্তাহ উত্থানের পর শেষে গত সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৩০ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহে সেখান থেকে ২২ পয়েন্ট ফিরে পেলেও বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে এই সপ্তাহেও।

আগের সপ্তাহে সূচকের বড় পতন ঠেকানো গেছে বড় মূলধনি ও বহুজাতিক বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে। তবে চলতি সপ্তাহে গতি হারিয়েছে এসব শেয়ারও। একদিন কমলে একদিন বাড়ে, সূচকের এমন প্রবণতা দেখা গেছে বিভিন্ন শেয়ারের ক্ষেত্রেও।

খাত হিসেবে এই সপ্তাহেও হতাশ করেছে ব্যাংক। সপ্তাহের শুরুতে ঝলক দেখিয়ে পড়ে নিভে গেছে বিমা। বস্ত্র, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, আর্থিক, খাদ্য, তথ্য প্রযুক্তি- কোনো খাতই ভালো যায়নি। তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

সপ্তাহের শেষ দিন সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ। ২.৪ শতাংশ দাম বাড়ায় কোম্পানিটি সূচকে যোগ করেছে ৯.৩৯ পয়েন্ট। এছাড়া ডেল্টালাইফ, বিএটিবিসি, শাহজিবাজার পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এনভয় টেক্সটাইল, জিপিএইচ ইস্পাত, সিটি ব্যাংক, অরিয়ন ফার্মা ও ইবিএলের শেয়ারদর বাড়ায় যোগ হয়েছে মোট ১৫.৮৪ পয়েন্ট।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটাগতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা

বৃহস্পতিবার সূচক বৃদ্ধি ও পতনে ভূমিকা রেখেছে যে ১০টি করে কোম্পানি

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছে যে ১০টি কোম্পানি, সেগুলো হলো, গ্রামীণ ফোন, ব্র্যাক ব্যাংক, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, রবি, বার্জার পেইন্টস, পাওয়ার গ্রিড, বিকন ফার্মা, সাবমেরিন কোম্পানি ও কেপিসিএল।

এই ১০টি কোম্পানির দরপতনে সূচক থেকে বাদ গেছে ৬.৬৯ পয়েন্ট।

লেনদেনের ৪২ শতাংশ ৩ খাতে

আগের দিনের চেয়ে প্রায় তিনশ কোটি টাকা লেনদেন কমে যাওয়ার দিন মোট লেনদেনের ৪২.২৭ শতাংশই হয়েছে ওষুধ রসায়ন, বস্ত্র এবং প্রকৌশল খাতে।

এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন খাত লেনদেনের শীর্ষে থাকলেও আগের দিনের তুলনায় কমেছে। এই খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, আগের দিন যা হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ২৭৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩৬১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতে লেনদেন অবশ্য বেড়েছে। এই খাতে হাতবদল হয়েছে ২০৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১৭৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে ১৮টির দর, কমেছে ১০টির আর অপরিবর্তিত ছিল দুইটির।

এই খাতের শেয়ারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬.৯৯ শতাংশ বেড়েছে সালভো কেমিক্যালের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ৫.২০ শতাংশ বেড়েছে একটিভ ফাইনের দর। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের দর বেড়েছে ৪.৩৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা গ্লোবাল গেভি কেমিক্যালের দর বেড়েছে ৩.৮১ শতাংশ।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
এই পাঁচটি খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি, যার মধ্যে প্রথম দিনটিতেই মোট লেনদেনের ৪২ শতাংশ হয়েছে

তবে বস্ত্র খাতে দরপতন হয়েছে। এই খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ২০টির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩০টির দর। অপরিবর্তিত ছিল বাকি আটটির দর।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় থাকা ইটিএলের দর বেড়েছে ৮.৮৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৬.৪৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা তজিমউদ্দিন টেক্সটাইলের দর বেড়েছে ৪.৪৭ শতাংশ।

লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়া প্রকৌশল খাতে দর বৃদ্ধি ও কমেছে-এমন কোম্পানির সংখ্যা প্রায় সমান। ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২১টির, কমেছে ২০টির দর। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬.৯৯ শতাংশ বেড়েছে কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কেডিএস অ্যাকসেসোরিজের দর বেড়েছে ৪.৬৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এসএস স্টিলের দর ৪.০৪ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা আজিজ পাইপের দর বেড়েছে ৩.৩৪ শতাংশ।

লেনদেন আরও কমল ব্যাংকে, আর্থিক খাতেও গতি নেই

১০টি ব্যাংকের শেয়ার দর কমার বিপরীতে ১২টির বৃদ্ধি এবং বাকি ১০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দারুল লভ্যাংশের পরও সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের এই খাতটিতে বিনিয়োগকারীরা যে আকর্ষণ হারিয়েছে, তার নমুনা দেখা গেল আবার।

২ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন, এই অবস্থাতেও ৩২ ব্যাংক মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারেনি বুধবার। হাতবদল হয়েছিল ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরদিন মোট লেনদেন ৩০০ কোটি টাকা কমে যাওয়ার পর এই খাতে লেনদেন আরও কমে হলো ৯০ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

ব্যাংকের শেয়ারে বরাবর যে চিত্রটি দেখা যায়, তা আবারও দেখা গেল। দাম বৃদ্ধির হার যেমন নগণ্য, তেমনি নগন্য দর পতনের হার।

সবচেয়ে বেশি ১.৩৮ শতাংশ বেড়েছে সিটি ব্যাংকের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যমুনা ব্যাংকের দর বেড়েছে ১.২২ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সাউথইস্ট ব্যাংকের দরও বেড়েছে সমপরিমাণ আর চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইউসিবির দর বেড়েছে ১.২১ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর কমা ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৫০ শতাংশ। তার পরেই আছে রূপালী ব্যাংক, যার দর কমেছে ১.০৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের দর কমেছে ১.০৩ শতাংশ।

বিমার ঢালাও পতন

৫১টি কোম্পানির মধ্যে ৩৭টির দরপতনই বলে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য দিনটি ভালো যায়নি।

দর বেড়েছে ১২টির আর অপরিবর্তিত ছির বাকি দুটির দর।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৯৫ কোটি ৮ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

গতি ফিরল না পুঁজিবাজারে, লেনদেনে আবার ভাটা
গতি হারানো ব্যাংক আর ঘুমিয়ে যাওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৬.১৪ শতাংশ বেড়েছে ডেল্টা লাইফের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.২১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফারইস্ট লাইফের দর ০.৮১ শতাংশ এবং চতুর্থ অবস্থানে থাকা সোনালী লাইফের দর বেড়েছে ০.৬৬ শতাংশ।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, যার শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৪৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ২.১৮ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থা থাকা পদ্মা লাইফের শেয়ার দর কমেছে ২ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ১২৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এই খাতের প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমার পর লেনদেনও কমে গেছে। শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা দর হারানোর পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে। কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৯৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার।

এই খাতে ১৪টি কোম্পানির মধ্যে সাতটির দর বেড়েছে। সাতটির দর কমেছে।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, কমেছে ৬টির। লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

লেনদেন কমেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতেও। আগের দিন এই খাতের ১১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছিল ৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আগের দিন ১১টি কোম্পানির সবগুলোর দরপতন হলেও আজ দুটির দর বেড়েছে। আরও কমেছে বাকি ৯টির দর।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে আগের দিন লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা চলতি বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ৩৬টি ফান্ডে হাতবদল হয়েছে কেবল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ফান্ডগুলোর মধ্যে ৬টির দর ১০ পয়সা করে এবং একটির ৩০ পয়সা বেড়েছে।

অন্যদিকে ১৩টি ফান্ড দর হারিয়েছে ১০ পয়সা করে আর একটির কমেছে সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৫০ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮১ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৫৯ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

৩১৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৬৩টির ও পাল্টায়নি ৩৪টির।

লেনদেন হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…

বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…

সঞ্চয়পত্র কিনতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভিড়। তবে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে সরকার।

যারা সরাসরি উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ না করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সঞ্চয়পত্রে টাকা রেখে মুনাফা নিয়ে চলতে চান, তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি। ব্যাংকঋণের সুদহার খুবই কম, সঞ্চয়পত্রেও ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে এখন মুনাফার হার কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তাহলে মানুষ কোথায় বিনিয়োগ করবে? এ ক্ষেত্রে বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে টাকা রাখা যায়। এতে মুনাফা বেশি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা ঝুঁকি থেকে যায়। আর সেগুলো বুঝেশুনে এগোতে হবে।

ব্যাংকে টাকা রেখে মুনাফা হয় না বললেই চলে, মূল্যস্ফীতির হিসাব করলে বছর শেষে মূল্যমান কমে যাচ্ছে টাকার।

সঞ্চয়পত্রেও ইচ্ছা করলে বিনিয়োগ করা যায় না, আবার সেখানে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি বিনিযোগ করলে মুনাফার হারও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

তাহলে যারা উদ্যোক্তা না হয়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয় করবেন, তারা কোথায় যাবেন?

এ ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ আছে, যার একটি হলো বন্ড ও অন্যটি মিউচুয়্যাল ফান্ড। এর মধ্যে বন্ডের মুনাফা পুরোপুরি আয়করমুক্ত আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত আয়করমুক্ত।

আবার এই দুটি খাতে বিনিয়োগ করলে আয়কর ছাড় পাওয়া যায়। ফলে এগুলোতে বিনিয়োগে দুই দিক থেকে লাভ হয় বিনিয়োগকারীর।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে বন্ডে বিনিয়োগ বিষয়ে তেমন ধারণা নেই্। এ জন্য তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশের মানুষ ইচ্ছা করলেই বন্ড কিনতে পারে না। কারণ, বন্ডের সেকেন্ডারি মার্কেট নেই।’

তবে এ ক্ষেত্রেও দিন বদল হতে যাচ্ছে। কারণ, পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পারপিচুয়াল বন্ড সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াভিত্তিক সুকুক বন্ড অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলোতেও আকর্ষণীয় মুনাফা হতে পারে।

সেই সঙ্গে আরেকটি বিকল্প হলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড। পুঁজিবাজারে ৩৬টি ফান্ড তালিকাভুক্ত আছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন মিউচ্যুয়াল ফান্ডও আছে এর চেয়ে বেশি। চলতি বছর অনেক ফান্ডই সঞ্চয়পত্রের সুদহারের চেয়ে বেশি হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকি আছে। কারণ, এই ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে। তাই মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হলে পুঁজিবাজার নিয়ে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

বন্ড কী

বন্ড হচ্ছে একধরনের চুক্তি বা ঋণপত্র, যার বিপরীতে কোনো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করে।

ইংরেজি ‘বন্ড’ অর্থ অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা। এটির বিপরীতে যে ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিশ্রুত সুদসহ ফেরত দেয়ার অঙ্গীকারপত্র।

এই ঋণপত্র বা অঙ্গীকারনামার বিপরীতে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি কিংবা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে। তার জন্য অবশ্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়।

বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে যে সুদের হার উল্লেখ করা থাকে, নির্দিষ্ট বিরতিতে সেই সুদ এবং মূল অর্থের অংশবিশেষ পরিশোধ করা হয়। এই সুদের হার পরিবর্তনশীলও হতে পারে।

সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, আবার বিল ও বন্ডের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহ করে। ব্যাংকগুলোও বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। এই বিল ও বন্ডও হতে পারে বিনিয়োগের অন্যতম জায়গা।

শিগগিরই এসব বিল ও বন্ড কেনা যাবে ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে। বর্তমানে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে হিসাব খুলে এই বিল ও বন্ড কেনা যায়। এসব বন্ডে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফায় কর ছাড়ও রয়েছে।

নতুন ধরনের বন্ড আসছে, যা পারপিচুয়াল বন্ড নামে পরিচিত। এ বন্ড পরিশোধের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না। কোম্পানি অবসায়িত না হওয়া পর্যন্ত এই বন্ড কার্যকর থাকে।

এ বন্ড ছেড়ে ব্যাংক বা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। সেই অর্থের বিপরীতে বছরভিত্তিক বা ষাণ্মাসিক সুদের জন্য কুপন দেয়া হয়। যারা এ বন্ড কেনেন তারা কুপনে নির্ধারিত হারে সুদ পান। তবে সময়ে সময়ে সুদের কিছুটা কমবেশি হয়।

উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করে থাকেন। কারণ, এ ধরনের বন্ডে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত। তাই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে এটিকে সাধারণ মানুষের নাগালে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ইস্যুয়ার পারপিচুয়াল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই প্রস্তাবিত পারপিচুয়াল বন্ডের কমপক্ষে ১০ শতাংশ পাবলিক অফারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

ইতোমধ্যে যে ১১টি ব্যাংককে পারপিচুয়াল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেগুলোকে সরাকরি তালিকাভুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, সাধারণত মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পারপিচুয়াল বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। বিনিময়ে উচ্চ সুদ দেয়।

নতুন ধারার বিনিয়োগ সুকুক বন্ড

সুকুক হলো ইসলামিক শরিয়াহ নীতিমালা মেনে পরিচালিত বন্ড বা আর্থিক পণ্য। প্রচলতি বন্ডের সুদের পরিমাণ নির্ধারিত থাকে, কিন্তু তার বিপরীতে কোনো সম্পদের ব্যাকআপ থাকে না। তবে সুকুক নিদির্ষ্ট সম্পদ বা প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত হয়। ওই সম্পদ ও প্রকল্পের আয়ই আনুপাতিক হারে পেয়ে থাকেন সুকুক ইউনিটধারীরা। সুদমুক্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী দুই ট্রিলিয়ন ডলারের ইসলামি আর্থিক সম্পদের ৭৩ ভাগই ব্যাংকিং সম্পদ, যার ১৭ শতাংশই সুকুক।

সম্প্রতি বেক্সিমকো লিমিটেডের তিন হাজার কোটি টাকার শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য সুকুক বন্ড অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এতে সর্বনিম্ন ৯ বা তার বেশি মুনাফা মিলবে। আবার বেক্সিমকো লিমিটেডের লভ্যাংশ ১০ শতাংশের বেশি হলে যতটুকু বেশি, তার ১০ শতাংশ যোগ হবে সুকুকের লভ্যাংশে।

আবার এক বছর শেষে বিনিয়োগের ২০ শতাংশ প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেউ চাইলে নগদ টাকা পাবেন, কেউ চাইলে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার নিতে পারবেন। আর এখানেই বাড়তি মুনাফার সুযোগ আছে।

বিনিয়োগকারীরা বেক্সিমকোর শেয়ার পাবেন শেয়ারের দুই মাসের ভরিত মূল্যের চেয়ে ৭৫ শতাংশ ছাড়ে। ফলে এই শেয়ার বিক্রি করে তারা ৩৩ শতাংশ বেশি মুনাফা করতে পারবেন। এভাবে প্রতিবছরে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মুনাফা করা সম্ভব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি বন্ডও অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এ ধরনের বন্ড বিক্রি শুরু করলে বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষমতা ও ধার শোধের সংস্কৃতি দেখেই বন্ড কেনা উচিত।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো মিউচ্যুয়াল ফান্ড দেশে দেশে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় এক সুযোগ। তবে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে মহাধসের পর থেকে এই খাত ঘুমিয়ে ছিল গত এক বছর পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আবার এই খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এই ফান্ডগুলোর একটি অংশ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত, একটি অংশ তালিকাভুক্ত নয়। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছ থেকে এই ফান্ডগুলো কেনা যায়।

ফান্ডগুলো জনগণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। দক্ষ ও অভিজ্ঞরা এর ব্যবস্থাপনায় থাকে বলে এর ঝুঁকি কম থাকে।

বছর শেষে যে মুনাফা হয়, তার কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ নগদে বিতরণ করা হয়। চলতি বছর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন ফান্ডগুলোর বেশির ভাগ সঞ্চয়পত্রের সুদহারের চেয় বেশি হারে লভ্যাংশ বিতরণ করেছে।

তার পরেও এই খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সেভাবে আগ্রহী হচ্ছেন না। এর কারণ, বিশেষ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফান্ডের লভ্যাংশ নেয়ার পর ফান্ডের দরপতন।

যে ফান্ড যত বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, তার ইউনিটপ্রতি দর কমে গেছে তত। অথচ এই দর কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কারণ, ফান্ডগুলো গত ৩০ জুনে সমাপ্ত অর্থবছর শেষে হাতে থাকা নগদ টাকার ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ দিয়েছে। এই লভ্যাংশ দেয়ার পর সেপ্টেম্বরে এসে কোনো ফান্ডের আর্থিক কোনো শক্তি ক্ষয় হয়নি।

এটি বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপের কারণে হয়ে থাকে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

তবে এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হলে পুঁজিবাজার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকা উচিত বলে মনে করেন ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান।

আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডই ভালো বিকল্প বলে মনে করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে রকিবুর রহমান বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগকারী যারাই পুঁজিবাজারে আসবে, তাদের আগে ভালো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি দেখে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ করা উচিত।’

চলতি বছর মিউচ্যুয়াল ফান্ড যে হারে লভ্যাংশ দিয়েছে, একই পরিমাণ মুনাফা করলে আগামী বছর এর চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে। এর কারণ, গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের পর পুঁজিবাজারে ছোটখাটো ধসের কারণে ফান্ডগুলোর সিংহভাগ বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েছে। আর সেই লোকসান এবারের লভ্যাংশ থেকে সমন্বয় করতে হয়েছে তাদের।

আগামী বছর যে মুনাফা হবে, তার পুরোটার ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রোথ ফান্ডগুলোকে তাদের আয়ের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ আর মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে ৭০ শতাংশ বিতরণ করতে হবে।

তবে এই বিনিয়োগ বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন ফান্ডের আয়ের প্রভাব ফেলে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি সুবিধা আছে এ কারণে যে, প্রতিটি ফান্ড প্রতি সপ্তাহ শেষে ইউনিটপ্রতি সম্পদমূল্য কত আছে, সেটি প্রকাশ করতে বাধ্য। আর তিন মাস অন্তর তাদের মুনাফা বা লোকসান কত হলো, সেটিও প্রকাশ করে।

এগুলো ছাড়াও ওয়েবসাইটে প্রতিটি ফান্ড কোন কোন শেয়ারে কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, সে তথ্য দেয়া থাকে। এগুলো পর্যালোচনা করেও বিনিয়োগকারীরা হিসাব-নিকাশ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ শিক্ষাটা জরুরি।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর

দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে শেয়ারদরের হিসাব মিলাতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। সূচক বাড়লে পোর্টফোলিওতে যত টাকা যোগ হচ্ছে, কমলে তার চেয়ে অনেক বেশি হারিয়ে যাচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

১২ সেপ্টেম্বর সূচক কমে ৫৬ পয়েন্ট, পরের দিন বাড়ে ১৬ পয়েন্ট। ১৪ সেপ্টেম্বর আবার কমে ৭৮ পয়েন্ট। পরের দুই দিন বাড়ে ৮৮ পয়েন্ট। চলতি সপ্তাহেও এভাবে সূচক উঠানামা করছে। রোববার সূচক কমে ৩৭ পয়েন্ট, পরের দুই দিন বাড়ে যথাক্রমে ১৪ ও ৫২ পয়েন্ট। কিন্তু চতুর্থ কর্মদিবসে আবার পতন দেখল পুঁজিবাজার।

লেনদেনের শুরুতেই উত্থান, কিন্তু দিন শেষে পতন। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এমন প্রবণতা আরও একদিন দেখা গেল দেশের পুঁজিবাজারে।

এই বিষয়টির পাশাপাশি আরও একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেটি হলো সূচক এক বা দুই দিন বাড়ছে, পরে এক দিন কমছে। এক বা দুই দিন কমছে, পরে এক বা দুই দিন বাড়ছে।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন সূচক পতনের পর দুই দিন উত্থান শেষে চতুর্থ কর্মদিবস বুধবার আবার পতন হলো। আবার এই পতনে গত সপ্তাহের একটি স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। পুঁজিবাজারের সূচক ১০ বছর ৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট উঠার পর ১২ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে এক ঘণ্টায় বাড়ে আরও ৭৮ পয়েন্ট। কিন্তু দিনের বাকি সময়ে সেখান থেকে ১২৪ পয়েন্ট পতন হয়।

তার পরের দিন ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে পতন হয় ১২১ পয়েন্ট।

একইভাবে বুধবার লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে সূচক বেড়ে যায় ৪৭ পয়েন্ট। কিন্তু পরে সেখান থেকে পড়তে পড়তে দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় কমে যায় ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ সূচকে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের চেয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ৬৩ পয়েন্ট।

পতনের মধ্যে স্বস্তি একটিই, দুই কর্মদিবস পর লেনদেন আবার দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে উঠল। সোমবার ৩০ কর্মদিবস পর সর্বনিম্ন লেনদেন হয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। তার পরদিন লেনদেন কিছুটা বাড়লেও তা দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নামে।

গত ২৭ জুলাইয়ের পর পর পর দুই কর্মদিবসে দুই হাজার কোটি টাকার নিচে শেয়ার হাতবদল হয় এই প্রথম।

অবস্থান ধরে রাখছে সূচক, কমছে শেয়ারমূল্য

সূচকের এই উঠানামা শুরুর হওয়ার দিন থেকে বুধবারের অবস্থান খুব একটা নিচে নয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা খুব একট স্বস্তিতে, এমন নয়। বরং বেশিরভাগ শেয়ারের দর পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এই সময়ে বড় মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির উত্থানে সূচকে পয়েন্ট যোগ হলেও স্বল্প মূলধনি আর জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। আর গত কয়েক মাসে এসব শেয়ারে বিশেষ করে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছে বেশ।

এই সময়ের মধ্যে ৯ কর্মদিবসে সূচকের একদিন পতন হলে দুই দিন উত্থান হয়েছে। আবার দুই দিন পতন হলে উত্থান হয়েছে একদিন। এভাবে সূচক অবস্থান ধরে রাখলেও সংশোধনের বৃত্তে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার।

৯ সেপ্টেম্বরের পর দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১২ সেপ্টেম্বর সূচক কমে ৫৬ পয়েন্ট, পরের দিন বাড়ে ১৬ পয়েন্ট। ১৪ সেপ্টেম্বর আবার কমে ৭৮ পয়েন্ট। পরের দুই দিন বাড়ে ৮৮ পয়েন্ট।

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর
গত ১১ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক উঠানামার চিত্র

চলতি সপ্তাহেও এভাবে সূচক উঠানামা করছে। রোববার সূচক কমে ৩৭ পয়েন্ট, পরের দুই দিন বাড়ে যথাক্রমে ১৪ ও ৫২ পয়েন্ট। কিন্তু চতুর্থ কর্মদিবসে আবার পতন দেখল পুঁজিবাজার।

১৬ পয়েন্ট সূচক হারানোর দিন ১২৫টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমে গেছে ২০৯টির দর, অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির।

ওয়ালটন, ডেল্টালাইফ, ওরিয়ন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, জিপিএইচ ইস্পাত, একটিভ ফাইন, ন্যাশনাল লাইফ, প্রাইম ব্যাংক, আরএকে সিরামিকস ও ম্যারিকোর শেয়ার দর বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।

এই ১০টি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ২৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট।

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদরউত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর

বুধবার সূচক উত্থান ও পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ২০টি কোম্পানি

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সূচক হারিয়েছে যে ১০টি কোম্পানির কারণে, সেগুলো হলো রবি, বেক্সিমকো লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, লাফার্জ হোলসিম, ইউনাইটেড পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকন ফার্মা, সামিট পাওয়ার, গ্রামীণ ফোন ও বেক্সিমকো ফার্মার কারণে।

এই ১০ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় সূচক হারিয়েছে ২৭ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

দুই খাতে এক তৃতীয়াংশ লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যে পরিমাণ লেনদেন হয়েছে তার এক তৃতীয়াংশই হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন এবং বস্ত্র খাতে।

এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন খাতে হাতবদল হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকার আর বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬১ কোটি ১৩ লাখ টাকার।

অর্থাৎ এই দুই খাতেই লেনদেন হয়েছে ৭২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেন ২ হাজার ১৫০ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ৩৩.৭২ শতাংশ।

আগের দিন এই দুই খাতে লেনদেন হয়েছিল যথাক্রমে ২০৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ২৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

লেনদেন ব্যাপকহারে বাড়লেও শেয়ারের দাম খুব বেশি বেড়েছে এমন নয়। বস্ত্র খাতে ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩০টির, কমেছে ২২টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৬টির দর।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে প্যাসিফিক ডেনিমের, ৮.৩৭ শতাংশ। শেয়ার দর ১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা ১০ পয়সা।

তসরিফার দর বেড়েছে ৭.৯১ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সা থেকে হয়েছে ২১ টাকা ৮০ পয়সা।

কাট্টালি টেক্সটাইলের দর ৬.৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৮ টাকা ৫০ হয়েছে ৩০ টাকা ৪০ পয়সা।

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এই পাঁচটি খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল দেশ গার্মেন্টস, যার দর কমেছে ৬.৩০ শতাংশ। তারপরই আছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, যার প্রতি দর কমেছে ৪.১৮ শতাংশ।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৩১ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ১১টির, একটির লেনদেন স্থগিত আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি একটির দর।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অ্যাকটিভ ফাইন ক্যামিকেলের ৮.৪৬ শতাংশ। শেয়ার দর ২৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ টাকা ৯০ পয়সা।

ওরিয়ান ফার্মার দর ৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৭.৪০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা ৪০ পয়সা।

ইমামবাটনের দর ৫.২৮ শতাংশ বেড়ে ৩৪ টাকা থেকে হয়েছে ৩৫ টাকা ৮০ পয়সা।

করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি আয় করে ৯ শতাংশ বেশি লভ্যাংশ দেয়া ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের দর কমেছে ৫.৩০ শতাংশ।

কোম্পানিটি শেয়ারধারীদেরকে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের বছর লভ্যাংশ ছিল ৩ টাকা ৮০ পয়সা।

এই খাতে বিকন ফার্মার দর ১.২৯ শতাংশ. জেএমআই সিরিঞ্জের দর কমেছে দশমিক ৯৮ শতাংশ।

কেপিসিএল চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার পর বিদ্যুৎ জ্বালানিতে পতন

মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া যে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর ফাইলে প্রধানমন্ত্রী সই করেছেন, সেগুলোর সঙ্গে মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠক হলেও বেশি কিছু বিষয়ে এখনও ঐক্যমত হয়নি।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিদ্যুৎ না কিনলে আগের মতো কেন্দ্র বসিয়ে ভাড়া দেবে না। কিন্তু কেম্পানিগুলো সে ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার গ্যারান্টি চাইছে। আবার সরকার বিদ্যুতের দাম কমাতে চাইছে, কিন্তু কোম্পানিগুলো তাতে রাজি নয়। এ নিয়ে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল বিশেষ করে কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীরা। চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে শেয়ারদর।

শেয়ার প্রতি দর এক টাকা হারিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে ৪৯ টাকা ১০ পয়সায়। বিদ্যুৎ খাতের তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারেরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অপক্ষোয় আছে। এই কোম্পানিরও দর কমেছে ৬০ পয়সা।

মেয়াদ বাড়তে যাচ্ছে আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের, যেটি অরিয়ন ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানিটির দর অবশ্য বেড়েছে, তবে এটি বিদ্যুৎখাতে তালিকাভুক্ত নয।

চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার পরদিন জ্বালানি খাতে আগ্রহ কমেছে। আগের দিন এই খাতে ১৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সেটি কমে হয়েছে ১০৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৫টি কোম্পানির, কমেছে ১৪টির আর অপরিবির্তত ছিল বাকি ৪টির দর।

তবে দর বৃদ্ধি আর পতনের হার খুব একটা বেশি ছিল না। এই খাতে সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া কেপিসিএলের শেয়ারদর কমেছে ২ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শাহজিবাজার পাওয়ারের দর কমেছে ১.৫৫ শতাংশ।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিডিওয়েলডিংয়ের দর। ২.৬৯ শতাংশ বেড়ে ২২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়েছে ২২ টাকা ৯০ পয়সা।

বিমায় হতাশা

দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে গেছে এই খাতে। ৫১টি কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে কেবল আটটির, কমেছে ৪১টির আর দুটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

লেনদেনও কমে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। আগের দিন যেখানে ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল, সেখানে আজ হয়েছে ২৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ডেল্টা লাইফের। ১৫৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭১ কোটি টাকা।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দর ৩.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ৭৩ টাকা ৩০ পয়সা।

সবচেয়ে বেশি দর পতন হওয়ার তালিকায় আছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, যেটির পতন হয়েছে ৬.১৭ শতাংশ। রূপালী লাইফের দর ৫.০২ শতাংশ আর ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪.৮৪ শতাংশ।

ব্যাংক আরও ঘুমে, আর্থিক খাতও ঝিমিয়ে

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে খাতভিত্তিক সবচেয়ে ভালো লভ্যাংশ দেয়া ব্যাংক খাতের মন্দাভাব আরও বেড়েছে। শেয়ারদর কমার মধ্যে লেনদেন এবার নেমে এসেছে একশ কোটি টাকার নিচে।

এই খাতের ৩২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে কেবল তিনটির দর। নয়টির দর ছিল অপরিবর্তিত, কমেছে বাকি ২০টির দর।

যে তিনটির দর বেড়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার যোগ হয়েছে ১.৩৩ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকে যোগ হয়েছে ০.৫৬ শতাংশ আর পূবালী ব্যাংকে ০.৩৯ শতাংশ।

উত্থান পতনের বৃত্তে সূচক স্থিতিশীল, কমছে শেয়ারদর
ব্যাংক খাতে লেনদেন বুধবার ১০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে

দর হারিয়েছে যেগুলো, শতকরা হারে, সেগুলোরও খুব একটা পতন হয়নি।

সবচেয়ে বেশি ১.৮২ শতাংশ দর কমেছে রূপালী ব্যাংকের। ফার্স্ট সিকিউরিটজ ইসলামী ব্যাংকের দর ১.৬৪ শতাংশ ও ওয়ান ব্যাংকের দর কমেছে ১.৪৬ শতাংশ।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ১০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

আর্থিক খাতেও দিনটি ভালো যায়নি। আগের দিন লেনদেন যেখানে ছিল ১৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সেটি কমে হয়েছে ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে বেড়েছে কেবল ৫টির দর, কমেছে ১৫টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ২টির।

অন্যান্য খাতের লেনদেন

প্রধান অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে বিবিধ খাতের ১৪টি লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৭২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

এই খাতের প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমার পর লেনদেনও কমে গেছে। শেয়ার প্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা দর হারানোর পাশাপাশি লেনদেনও ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

কোম্পানিটির ৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় অনেক কম।

এই খাতে ১১টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৩টির দর।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১১টির। লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

লেনদেন কমেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতে। আগের দিন এই খাতের ১১টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সেটি কমে কিছুটা কমে হয়েছে ৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

লেনদেন হওয়া ১১টি কোম্পানির মধ্যে সবকটির দাম কমেছে।

দারুণ লভ্যাংশের পর ঘুমে যাওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ২৪ কোটি টাকা। সেটি বেড়ে হয়েছে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

দামও কিছুটা বেড়েছে। ১৮টি ফান্ডের দর বাড়ার বিপরীতে ১০ পয়সা করে কমেছে ২টির আর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ১৪টির দর।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪১ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৪ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮২ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস ৩০ সূচক ১২ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে।

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৫৭ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

৩২০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৫টির, কমেছে ১৭১টির ও পাল্টায়নি ৩৪টির।

লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি টাকা, আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

করোনার বছরে বেশি আয় করে লভ্যাংশ বাড়াল ইবনে সিনা

করোনার বছরে বেশি আয় করে লভ্যাংশ বাড়াল ইবনে সিনা

এবার শেয়ার প্রতি কোম্পানিটি আয় করেছে ১৫ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১২ টাকা ৫৬ পয়সা। গত বছর শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৮০ পয়সা লভ্যাংশ দিলেও এবার প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ টাকা ৭০ পয়সা।

করোনার বছরে ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর আয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বার্ষিক প্রতিবেদনে।

আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে ৪৭ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানানো হয়েছে।

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার শেয়ার প্রতি কোম্পানিটি আয় করেছে ১৫ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১২ টাকা ৫৬ পয়সা। ওই বছর তারা শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৮০ পয়সা, অর্থাৎ ৩৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

করোনার এক বছরে শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা বা ২৪.৬৮ শতাংশ।

কোম্পানিটি চলতি বছর কর পরবর্তী চূড়ান্ত মুনাফা করেছে ৪৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ টাকা।

আগের বছর কোম্পানিটির আয় ছিল ৩৯ কোটি ২৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৫ টাকা।

অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৩ টাকা।

করোনার বছরে বেশি আয় করে লভ্যাংশ বাড়াল ইবনে সিনা
ইবনে সিনা ফার্মার আর্থিক প্রতিবেদন

আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে শেয়ার প্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ১৩ পয়সা। গত বছর শেষে এই সম্পদ মূল্য ছিল ৫৭ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ১২ টাকা ৬ পয়সা বা ২১.১৩ শতাংশ।

যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৮ অক্টোবর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এক মাস পর ১৮ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে। করোনার বছরে এই সভা হবে ভার্চুয়ালি।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৮ টাকা ২০ পয়সা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২২০ টাকা থেকে ৩০৬ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন

কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত

কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত

খুলনায় কেপিসিএলের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

বৈঠকে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার জন্য গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে এই বিষয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত না হলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের একটি ও কেপিসিএলের দুটিসহ পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির ফাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিলেও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের আলোচনায় চুক্তির শর্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সরকার আগের মতো বিদ্যুৎ না কিনলে কেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে চাইছে না। তবে কোম্পানিগুলো ন্যূনতম চার্জ চাইছে। সেটি না দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার গ্যারান্টি চাইছে তারা।

বিদ্যুতের দামসহ আরও বেশ কিছু বিষয়েও সমঝোতায় আসা যায়নি। এ কারণে আরও বৈঠক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ১৪টি বিভাগের প্রতিনিধি এবং চারটি বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই বৈঠকে মধ্যে খুলনায় কেপিসিএলের ১৫৫ মেগাওয়াটের দুটি, নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে সামিটের ১০২ মেগাওয়াটের একটি, একই জেলার মেঘনাঘাটে ওরিয়ন গ্রুপের ১০০ মেগাওয়াটের একটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জে ডাচ্‌-বাংলার পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের ১০০ মেগাওয়াটের আরও একটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।

সরকার ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা কুইক রেন্টালের মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ বাড়াতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির অনুরোধের পর সে অবস্থান থেকে সরে আসে।

কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যে আইনের অধীনে চলেছে, সেই ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন, ২০১০’ এর মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানো হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর।

জাতীয় সংসদ মেয়াদ বৃদ্ধির বিলে সায় দেয়ার পাঁচ দিন পর এই বৈঠক হয় বিদ্যুৎ ভবনে।

সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিকে কোম্পানিগুলোকে নতুন করে কেন্দ্র চালানোর অনুমতি দেবে। অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ কেনা হবে, ততটুকুর জন্য টাকা দেবে সরকার।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার জন্য গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে এই বিষয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত না হলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন।

আবার বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য বা ট্যারিফ হার নিয়েও আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকায় ট্যারিফ বেশি চেয়েছে কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ তা বর্তমান হারের চেয়ে কমাতে চেয়েছে। তাদের যুক্তি, আগের যে ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাতে কেন্দ্র স্থাপনসহ নানা ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। এখন নতুন করে কেন্দ্র স্থাপনের খরচ থাকবে না। ফলে কোম্পানির উৎপাদন খরচ কম থাকবে।

তবে বৈঠকের পর কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।

সরকারের পক্ষে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আজকে ওদের (বিদ্যুৎ কোম্পানি) কথা শুনেছি আমরা। আবার বসতে হবে, একবার না হলে দুইবার।’

অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেক কিছুই তো রেডি আছে। চার্জের বিষয়ে কিছু ন্যাগোশিয়েশন করা লাগবে। আবার বসতে হবে ওদের সঙ্গে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেপিসিএলের কোম্পানি সচিব মোজাম্মেল হোসেন কিছু বলতে বলতে পারেননি। বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনও কিছু জানি না।’

ওরিয়ন গ্রুপের কোম্পানি সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তিনি এখনও আসেননি। এলে জানা যাবে।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আজ একটি বৈঠক হয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে গেলে একটি মিটিং যথেষ্ট নয়। আজকের বৈঠকে নানা দিক নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটির আরেকটি বৈঠক হবে। সেখানে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। এসব বিষয় ঠিক করতে একের অধিক, এমনকি ৩-৪ টি মিটিং হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
স্বল্প মূলধনীর দাপট ঠেকাতে উদ্যোগী বিএসইসি
খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি
১০ বছর ৭ মাস পর সাত হাজারের হাতছানি
যেখান থেকে পতন, তার কাছাকাছি সূচক, ফের বিমাময় বাজার
পুঁজিবাজার: এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজর বিশেষ তহবিলে

শেয়ার করুন