জিয়াকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয় না: সালাম

জিয়াকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হয় না: সালাম

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, তিনি যুদ্ধ করেছেন কি না, তার কবর চন্দ্রিমা উদ্যানে আছে কি না, আওয়ামী লীগ এসব কথা বলে। তাদের কথা শুনে এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে, আসলে তারা কী চায়? …দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়?’

দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, আওয়ামী লীগ সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় মন্তব‌্য ক‌রে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচিত হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গেলে জিয়াউর রহমানের নাম আসবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ (জিসপ) নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার এক মানববন্ধনে তি‌নি এ কথা ব‌লেন। জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

আব্দুস সালাম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, তিনি যুদ্ধ করেছেন কি না, তার কবর চন্দ্রিমা উদ্যানে আছে কি না, আওয়ামী লীগ এসব কথা বলে। তাদের কথা শুনে এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে, আসলে তারা কী চায়? তারা কি মুক্তিযোদ্ধাদের খাটো করতে চায়? দেশে একটি মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়?’

তিনি বলেন, ‘ভারতের অনেকে বলে, ১৯৭১ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ ছিল, মুক্তিযুদ্ধ ছিল না। তাহলে কি আওয়ামী লীগ সেটাই চায়?’

জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের (জিসপ) কেন্দ্রীয় সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর রহমান ভুঁইয়ার পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংবাদিক আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার হোসেন, জিসপ কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আলী মন্ডল, দপ্তর সম্পাদক কাজী ফখরুল ইসলাম, জিসপ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান হীরা, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদুল হাসান, জামিল আহমেদ ভোলা, মামুনুর রহমান শুক্কুরসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংরে নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে তার ভূমিকা কী ছিল সেই প্রসঙ্গটি যেমন সামনে আসছে, তেমনি আগামী সিটি নির্বাচনের সমীকরণও সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে একজনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তুমুল আলোচনা।

প্রকাশিত রেকর্ডটিতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা ও আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের অন্যতম এই নেতা।

গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে সেই ভিডিওতে।

স্বভাবতই বিষয়টি পছন্দ হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের। তিন দিন ধরে নানাভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা।

আজমত এরই মধ্যে কথা বলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। জানিয়েছেন, কমিটিতে তার ডেপুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন শীর্ষ পর্যায় থেকে সংকেত আসার পরে।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মিছিল। ফাইল ছবি

এই ভিডিওকে বানোয়াট বলে পার পেতে চাইছেন জাহাঙ্গীর। তিনি তার অনুসারীদেরকে নিয়ে একটি সমাবেশও করেছেন, যার পাশে তার বিরোধীদের অবস্থান ছিল পুলিশ বিরোধীদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর জাহাঙ্গীর নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেছে।

বহুধাবিভক্ত গাজীপুর আওয়ামী লীগে নতুন সমীকরণ

দৃশ্যত শুক্রবার জয় হয়েছে জাহাঙ্গীরের। তবে গাজীপুরের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলে যে ফাটল ধরে গেছে, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগেই তুমুল আলোচনায় ছিলেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে সে সময় দলের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ উঠে এসেছিল, তার মধ্যে ভোট থেকে সরে গেলেও জাহাঙ্গীর অনুসারীদের তৎপর না থাকা ছিল একটি।

পরে ২০১৮ সালে যখন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ, তখন তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেন।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে 'কটূক্তির' অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মিছিল। ফাইল ছবি

এরপর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ভিড়তে শুরু করে তার কাছেই। তবে এবার তার গুণমুগ্ধদের একটি অংশই বেঁকে বসেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষরা চুপ আছি। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও যাইনি, আনন্দ মিছিলেও যাইনি। এত বড় ঘটনা ঘটছে, সেন্ট্রাল (কেন্দ্র) কিছু বলছে না। আমরা সেন্ট্রালের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

জাহাঙ্গীর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে বানোয়াট বললেও সেটা হালে পানি পাচ্ছে না। বরং এর আগে ৪ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। এবার ছড়িয়েছে ১১ মিনিটের একটি। এখানে আরও বেশ কিছু কথা আছে, যা আরও ক্ষুব্ধ করছে তার বিরোধীদেরকে।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুলে ধরেন সে কথাই। আওয়ামী লীগের প্রধান অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। তাকে নিয়ে যে বক্তব্য শুনা যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা পার্টি ফোরামে কথা বলব। কিন্তু মিটিং কে ডাকবে? সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষে অবস্থান করছে। আজকে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ ছিল। কিন্তু এতে সভাপতি আসে নাই।’

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভের সময় ঢাকা থেকে গাজীপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফাইল ছবি

মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছে তা মিথ্যে প্রমাণ করা না পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ। সে কথাও জানিয়ে দিলেন রজব আলী।

টঙ্গী পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র আজমত গাজীপুরে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে তার পরাজয় ছিল অপ্রত্যাশিত। সে সময় তিনি জাহাঙ্গীর অনুসারীদের সমর্থন পাননি বলে প্রচার আছে। এও প্রচার আছে যে, জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তার বিপক্ষে কাজ করেছে। এই বিষয়টি আট বছর পর আবার সামনে আসছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও ২০১৫ তারা দুজন এক হয়ে যান দুজন। নিজেদের মধ্যে কমিটিকে কেন্দ্র করে একটা সমঝোতা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরেই বলবৎ ছিল।

‘এই দুজনের সমঝোতার কারণে একই এলাকার একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কিছুটা পাশে পড়ে যান। যা মেয়র জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে নিয়ে যায়।’

আগামী সিটি নির্বাচনও আছে হিসেবে

আগামী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সমীকরণও আছে। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল এবার মেয়র নির্বাচনে আগ্রহী। তিনি মেয়রের শাস্তির দাবিতে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তারও একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী আছে সেখানে।

মামুন গাজীপুরের প্রভাবশালী একাধিক নেতা এমনকি আজমত উল্লাহ খানেরও সমর্থন পাচ্ছেন বলেও এলাকায় প্রচার আছে।

শুক্রবার মেয়র জাহাঙ্গীর যেখানে সমাবেশ করেছেন, তার অদূরে মামুনের কার্যালয় ঘিরে যে কর্মসূচি পালন করেন, তাতে আজমত অনুসারীদেরকেও দেখা গেছে, যদিও তিনি নিজে সেখানে যাননি।

কী করবেন জাহাঙ্গীর

দেশে ফিরেই মেয়র এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, এই ভিডিও (ভাইরাল রেকর্ড) বানোয়াট, কথা কেটে কেটে বসানো হয়েছে। ভিডিওগুলো ফেসবুক থেকে ডিলিট করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন, নইলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুক্রবারের সমাবেশেও মেয়র বলেছেন, তিনি চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচন করে দেবেন। তবে এগুলো যে মাঠের রাজনীতির কথা, সেটি নিউজবাংলাকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভে মেয়রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের অবস্থায়। ফাইল ছবি

কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন, এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।’

‘প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না’

মেয়র যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় নিউজবাংলাকে আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

গাজীপুর তিনদিন ধরে উত্তপ্ত থাকলে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় চুপ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোনো মন্তব্য করছেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন গাজীপুরের নেতারা।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা

আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভের মধ্যে বোর্ডবাজারের সমাবেশে মেয়র জাহাঙ্গীর আসেন গাড়ির সানরুফ খুলে। ছবি: নিউজবাংলা

‘মিথ্যা মিথ্যাই থাকবে। ষড়যন্ত্রকারীরা যত বড় শক্তিশালীই হোক, তাদের মুখোশ একদিন খুলবে। যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে, যত বড় ষড়যন্ত্রকারীই হোক, তাদের মুখোশ খুলে দেব।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অগ্রগতি সম্মাননা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে আনন্দ সমাবেশে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মূলত নিজের শক্তি দেখালেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ নিয়ে তার শাস্তি চেয়ে আওয়ামী লীগেরই নেতা-কর্মীদের টানা বিক্ষোভের মধ্যে তাদের কর্মসূচি স্থলের পাশে সমাবেশ করলেন মেয়র। বলছেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার সবই ষড়যন্ত্র। তিনি সব চক্রান্তকারীর মুখোশ খুলে দেবেন।

শুক্রবার বিকেলে বোর্ডবাজার ইউটিসি চত্বর বালুর মাঠে এই সমাবেশটিকে ঘিরে এলাকায় ছিল উত্তেজনা। মেয়রের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ১০০ গজ দূরেই তার শাস্তি চেয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেলও ছোড়াছুড়ি হয়। পরে পুলিশ বিরোধী পক্ষের এক নেতাকে সরিয়ে নিলে উত্তেজনার অবসান হয়।

দিন পাঁচেক আগে মেয়র যখন দেশের বাইরে, সে সময় ভিডিওটি ভাইরাল হয়। আর বুধবার থেকেই জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার, মেয়র পদ থেকে অপসারণ ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলতে থাকে।

মহানগর আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই গত দুই দিনের বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানও। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর।

আজমত জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে জানিয়েছেন আর শীর্ষ নেতারা বিষয়টি জেনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেন্দ্রের দিন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সময় মেয়র ছিলেন ভারতে। তিনি ফিরেছেন বুধবার মধ্যরাতে। আর দুই দিন পর সমাবেশ ডেকে সমর্থকদের জড়ো করে মূলত দলে নিজের অবস্থানের জানান দিয়েছেন।

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা
বোর্ডবাজারের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিকেল ৪টার কিছু সময় পর বের হন মেয়র জাহাঙ্গীর। হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে ওঠার পরপর নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন।

সমাবেশে মেয়র বলেন, ‘মিথ্যা মিথ্যাই থাকবে। ষড়যন্ত্রকারীরা যত বড় শক্তিশালীই হোক, তাদের মুখোশ একদিন খুলবে। যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে, যত বড় ষড়যন্ত্রকারীই হোক, তাদের মুখোশ খুলে দেব।

‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবিলা করব। তারা অনেককেই ভুল বুঝিয়েছে, মিথ্যা আইডি দিয়ে ফেসবুক খুলে আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা
বোর্ডবাজার ইউটিসি চত্বরে মেয়র অনুসারীদের সমাবেশের একাংশ

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ। সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মোজাম্মেল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ নয়ন, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এস এম মোকছেদুল আলম, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এস এম আলতাব হোসেন, তিন সিটি কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ, আব্দুল কাদের মণ্ডল ও হাজী মনির, মহানগর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিনা ইউনুসও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর জন্য, আওয়ামী লীগের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। বঙ্গবন্ধু আমাদের এ জন্মভূমি উপহার দিয়েছেন। আমি তাঁর ছবি দেখে, কথা শুনে… বাবা-মা যখন আমাকে কথা বলতে শিখিয়েছেন তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসতে শিখেছি। বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে আমি কোনো আপস করব না।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে কম বয়সে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে এনেছেন মানুষের সেবা করার জন্য। তিনি আমাদের গাজীপুর সিটি করপোরেশন উপহার দিয়েছেন, আমাকে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন, আমি নগরবাসীর সেবা করতে চাই।’

ভিডিরও পুরো বিষয়টিকে চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশনের উন্নতির জন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়ায় প্রতিপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক কুৎসা রটনা করে যাচ্ছে।’

দিনভর যা হয়েছে

টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে।

পাশেই বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ডবাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন মেয়র অনুসারীরা। এ সমাবেশে মেয়র জাহাঙ্গীর যে যোগ দেবেন, তা জানানো হয় আগেই।

দুই পক্ষের এই বিক্ষোভে উত্তেজনার মধ্যে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর থেকেই চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে মোতায়েন করা হয় জলকামানও। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের।

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা
এই সমাবেশকে ঘিরে মেয়র অনুসারী ও বিরোধীদের অবস্থানের কারণে মোতায়েন হয় পুলিশ, সাঁজোয়া গাড়ি

বিকেল ৪টার দিকে ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন।

জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকরা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীর অনুসারীরা।

এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আবু সাঈদ নামে মেয়রের এক সমর্থক আহত হন। আবু সাঈদ জানান, হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

‘শক্তি দেখালেন’ জাহাঙ্গীর, চক্রান্তকারীর মুখোশ খোলার ঘোষণা
জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবিতে বোর্ডবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ

এর মধ্যে কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও একে একে চলে যান।

এরপর জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

আওয়ামী লীগের নেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফাইল ছবি

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে তা নিরসনে দলীয় নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার আওয়ামী লীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতিটি পর্যায়ের কাউন্সিলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মীদের নেতৃত্বে আনতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, দল বিপদে পড়লে ‘বসন্তের কোকিলরা’ পাশে থাকবে না, থাকবে দুঃসময়ের কর্মীরা। তাই তাদেরকেই সামনে দেখতে চান কাদের।

অপকর্ম, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের মনোনয়ন পাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে আমি অনুরোধ করব, দল প্রধানের নির্দেশনা মেনে চলতে। মনে রাখতে হবে নিজের অবস্থান ভারী করার জন্য নিজের লোক দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা যাবে না। দলকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের এগিয়ে আনতে হবে। দুঃসময়ে তারাই দলের পাশে থাকে।’

সুসময়ে বন্ধুরা প্রকৃত বন্ধু নয় জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুঃসময়ের কর্মীরাই দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। আবার যখন দুঃসময় আসবে এই ত্যাগী কর্মীরাই দলের সঙ্গে থাকবে। এখন যারা বসন্তের কোকিল এরা তখন দলে থাকবে না। হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

দলকে সুসংগঠিত করতে হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানা যাবে না।’

নিজের পছন্দের লোকদের নেতা বানানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জনগণের পছন্দের ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। তা না হলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে নেতা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, আমাদের কিছু নেতার কাছে গ্রহণযোগ্য, তারা কোনোদিনও দলের পারপাস সার্ভ করতে পারবে না।’

জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যেসব জনপ্রতিনিধিরা অপকর্ম করছেন, লুটপাট করছেন, বেপরোয়া আচরণ করছেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নমিনেশন পাবেন না।’

এসময় বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করেন এই রাজনীতিক। বলেন, শেখ হাসিনার লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন আর বিএনপির লক্ষ্য নিজেদের পকেটের উন্নয়ন।

বিএনপির হাতে দেশের গণতন্ত্র নিরাপদ নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা দেশের জন্য রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে লুটপাটের জন্য।’

যারা নিজেদের নেত্রীর জন্য একটা কার্যকরী মিছিল করতে পারে না, তাদের মুখে আন্দোলনের কথা মানায় না বলেও মন্তব্য করতে ছাড়েননি কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিরিজ বৈঠক হচ্ছে সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ।’

জনগণ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেই তারা নির্বাচনকে ভয় পায় বলে মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তাই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ মিছিল। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

বিএনপির আন্দোলনের পরিকল্পনাকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের কাজ আরও বাড়িয়ে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, রাজনীতির মাঠ দখলে থাকলে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা করা কঠিন কোনো বিষয় হবে না। তবে জনগণের সম্পদের ওপর কোনো হামলা এলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগও পাল্টা জবাব দেবে। আর বিএনপি গুজব ছড়ালে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে বলছেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৃণমূল থেকে দল গোছানোর কাজে আরও মনোযোগ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দলের তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া দলের যারা ত্যাগী নেতা, তাদের নেতৃত্বে আনতে চায় দলটি।

এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় দলকে প্রস্তুত করতে তৃণমূল গোছাতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজে নেমে পড়েছেন। আট বিভাগের জন্য আটটি সাংগঠনিক দল আরও সক্রিয় হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ১ লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে দলটি। ইস্যু তৈরি করে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো অপশক্তি আন্দোলনের চেষ্টা করলে রাজপথেই তার জাবাব দিতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি তো সব সময়ই আন্দোলনের কথা বলে, মুখে মুখে আন্দোলনের কথা বলে আর মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্দোলন করতে পারেনি।’

তাহলে বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ কী করবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন তৎপর আছি। আমরা মূলত জনগণকে সচেতন করব।

‘আমরা মূলত তিনটা কাজ করব। সেগুলো হলো: বিএনপি যদি জ্বালাও-পোড়াও করে, তাহলে দলের নেতা-কর্মীরা তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেবে। আর গুজব রটালে তাদের বিষয়ে আমরা জনগণকে সচেতন করব। তাদের মিথ্যা কোনো তথ্যের বিষয়ে আমাদের নেতা-কর্মীরা সচেতন থাকবে। তৃতীয়ত, তাদের যেকোনো অসত্য বক্তব্যের বিষয় জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই কাউন্টার দেব।’

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে পৃথিবীর সকল নির্বাচন নিরপেক্ষ, যদি তারা যেত। বিএনপি নেত্রী ১৯৯৬ সালে বলেছিলেন, শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই যে কনসেপ্ট, এটা ধ্বংস করেছে বিএনপি। সুতরাং এ ইস্যুতে রাজনীতির মাঠ গরম হতে দেয়া হবে না।’

গত শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে বিএনপির কথিত আন্দোলনের অবজেক্টিভ কোনো অবস্থা নেই। করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের মানুষ এখন নিজের অবস্থান উন্নয়নে প্রাণান্ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গণ-অভ্যুত্থানের দিবাস্বপ্নে বিভোর বিএনপি। দলটি ভাবছে, আন্দোলনের ডাক দিলেই মানুষ হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসবে। প্রকৃতপক্ষে এসব তাদের আকাশ-কুসুম ভাবনা। বিএনপি নেতারা যা বলছেন, নিজেরাও সেটি বিশ্বাস করেন না।’

বিএনপির আন্দোলনকে ‘হাঁকডাক’ হিসেবে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে তো মোকাবিলা করার দরকার নেই। তারা তো সব সময় হাঁকডাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যাদের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তারা কীভাবে আন্দোলন করবে? তারা ওয়েবিনার আর ভার্চুয়ালি সীমাবদ্ধ থাকবে? আমরা তাদের নিয়ে এত ভাবছি না। আমরা ভাবছি, কীভাবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে তৃণমূলে দলকে আরও জনপ্রিয় করা যায়। এ জন্যই আমরা কাজ করছি।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো শুক্রবার-শনিবার প্রতিদিনই আন্দোলন করছে। তারপরও যদি তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। আর জনগণের ওপর আঘাত আসলে তো আমরা বসে থাকব না।’

আগামী দিনে দলের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, তা নিয়েই আমরা কাজ করে যাব। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত শনিবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।

‘করোনার কারণে দলীয় কার্যক্রমে যে ভাটা পড়েছিল, তা এখন আমাদের পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা ও জেলা কমিটিগুলোতে যারা বিতর্কিত, তাদের বাদ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। দলের মধ্য থেকে যারা দুর্নীতিমূলক কাজ করছে, তাদের বাদ নিয়ে স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের মানুষগুলোকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে চাই। দলের যারা অপেক্ষাকৃত তরুণ, তাদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে গুজব প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে দলকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা প্রতিরোধে দল কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের তথ্যপ্রমাণসহ জবাব দিতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব-অপপ্রচারের জবাব দিতে এক লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটি।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তত বেশি গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করবে। এটা সঠিক। কিন্তু সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের তৈরি করছি, যাতে কোনো তথ্য সন্ত্রাস হলে তারা তৈরি থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে।’

গুজব প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের কাজেরই একটা অংশ। আমরা দলীয় নেতা-কর্মীদের শেখাচ্ছি যে, কোনো ফেক নিউজ হলে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দ্রুত সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করবে, যাতে দলের নেতা-কর্মীরা সর্বশেষ আপডেট দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চদ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে কোনো কবর থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে তার মরদেহ নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার পর এই বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখছেন।

এর মধ্যে সরকারের পুরনো একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদ ভবন প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় ফেরানো।

এই নকশায় কোনো সমাধিস্থল ছিল না। আর এটি করতে হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও সরাতে হবে।

জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল ছাড়াও স্বাধীনতাবিরোধী নেতা খান এ সবুর এবং আরও একজন অজানা মানুষের কবর রয়েছে। এগুলো সরানোর দাবিও আছে।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তার কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়ায় আর পাকিস্তানিদের দোসর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, ৩০ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে, তাদের কবর জাতীয় সংসদসহ গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় থাকতে পারে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।’

জিয়াউর রহমানকে জাতির পিতার খুনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ কথা ধ্রুব সত্য। তাকে খুনি প্রমাণ করার জন্য সকল ধরনের দলিলাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা ছিল জিয়াউর রহমানের। কিন্তু তিনি তা না করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন এসব কুলাঙ্গারদের কবর জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে অপসারণ করতে পারব।’

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবান্তর বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অধিকার বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই দিয়েছে। আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না, সুযোগও নেই। মুখে ঘোষণা করলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াসার যদি কোন রকম অব্যবস্থাপনা থাকে, যদি সেখানে কোনো দুর্নীতি থাকে, তাহলে এটা আমরা চিহ্নিত করব। তাদের দুর্নীতির তথ্য থাকলে দেন, হাইপোথেটিক্যাল তথ্য দিয়ে তো লাভ হবে না।’

ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তর করতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহরের প্রত্যেকটি খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের দুই পাড়ে বাঁধ দিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা খালগুলো শিগগির সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের আতিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সবুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।

গাজীপুরে একটি ঘরোয়া আয়োজনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তুমুল সমালোচনার মুখে পড়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলম একে বানোয়াট ও দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে চাপ কমাতে চাইছেন।

তবে মেয়র নিউজবাংলাকে বলেছেন, মামলা কার বিরুদ্ধে করবেন, সেটি তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

এই ঘটনাটি নিয়ে তিন দিন ধরে উত্তপ্ত গাজীপুর। নিজ দলের একাংশ জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে রাজপথে সোচ্চার।

বিরোধীরা যখন শক্তি প্রদর্শন করছে, সে সময় জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। দেশে ফিরে তিনি নিজেও দিলেন সমাবেশের ডাক। তাও দুই পক্ষের অবস্থান পাশাপাশি। সংঘর্ষের আশঙ্কায় মোতায়েন হয় পুলিশ, অবস্থান নেয় জলকামানও।

তবে শুক্রবার দুই পক্ষের পাশাপাশি এই সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলেও বিরোধী এক নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার পর তার অনুসারীরাও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় সব আয়োজন।

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের অনুসারীদের ডাকা সমাবেশ

সমাবেশের আগে মেয়র কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে। তবে সামনাসামনি নয়, ফোনে।

যা বলেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর

নিউজবাংলা: আমরা যে কনভার্সেশন অনলাইনে পাচ্ছি, সেখানে বোঝা যাচ্ছে দুইজন লোক কথা বলছেন। একজন আপনার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। আরেকজন সম্ভবত আপনারই কেউ ঘনিষ্ঠ। আপনি কি চিহ্নিত করেছেন কে এটা করেছে?

এটা আমার যেটা আমি শুনতেছি এটা আমার কণ্ঠ না, বুঝছেন?

নিউজবাংলা: আসলে কীভাবে ফাঁস হলো বলে আপনার ধারণা?

এইগুলা তো দেখা যায় সব বানাইছে বুঝছেন? নিউজটা বানাইছে। আমরা অনেক সময় মাইকে বলি না, ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হইছে।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যখন দেশ স্বাধীন হইল, তখন কিন্তু বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে।

জামায়াত এবং যারা ওই সময় ছিল রাজাকার, আলবদররা ৩০ লক্ষ লোকরে শহীদ করছে। এই ৩০ লক্ষ টার ‘র’ টারে বাদ দিছে। বুঝছেন?

নিউজবাংলা: জি জি।

এরা দিয়া দিয়া দিছে বঙ্গবন্ধু মারাইছে। এটা লেখছে।

নিউজবাংলা: আচ্ছা

এডিট করে দিছে।

নিউজবাংলা: আপনি বলছেন, একটা পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি ছড়িয়েছে এবং আপনি যখন দেশের বাইরে সে সময়টা হচ্ছে গিয়ে এইটা ঘটানো হয়েছে। আপনি মামুন সাহেবকে (৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল) উদ্দেশ করে করে আলোচনা করছিলেন। আপনার সঙ্গে যিনি কথা বলছিলেন, তিনি বারবার বলছিলেন মামুনকে নিয়ে কথা বলার জন্য। এটা কি মামুনসংশ্লিষ্টদের কাজ বলে মনে হয়?

মূলত যারা যারা, আসলে নাম নিতে পারতেছি না, যারা বিপজ্জনক পরিস্থিতি করতে চায়, গত…

নিউজবাংলা: বুঝতে পারছি। এখন আপনি এটার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবেন?

এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।

নিউজবাংলা: আপনি বোর্ডবাজারে একটি কর্মসূচি ডেকেছেন। আপনার যে প্রতিপক্ষ, তারাও কর্মসূচি ডেকেছে। এতে কি কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?

না, সাংঘর্ষিক অবস্থা তো আমাদের কর্মসূচি না। এখানে নেত্রী যেটা অ্যাওয়ার্ড পাইছে, সেটা আমাদের জন্য বড় একটা অর্জন।

নিউজবাংলা: এটা দেশের জন্য একটা সম্মান।

যারা সাংঘর্ষিক কিছু করবে তারা নেত্রীর ভালো চায় না, দেশের ভালো চায় না বা আওয়ামী লীগের ভালো চায় না।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার

গাজীপুরের বোর্ডবাজারে সমাবেশে যাওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে। পাশেই বেলা সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে মেয়র অনুসারীরা। এই আয়োজন ঠিকঠাকমতো হলেও বিক্ষোভের আয়োজনে এক নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার পর তার অনুসারীরা সড়ক থেকে চলে যান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে সমাবেশস্থল থেকে হটে যেতে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

যেখানে এই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল, তার অদূরে সমাবেশ করেছে মেয়র অনুসারীরা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন করায় এই আনন্দ সমাবেশ ডাকেন মেয়র অনুসারীরা।

চার দিন আগে মেয়র ভারত সফরে যাওয়ার পর একটি ঘরোয়া আয়োজনে তার কথা বলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর বুধবার থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ গাজীপুরে বিক্ষোভ শুরু করে।

টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে।

পাশেই বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ডবাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন মেয়র অনুসারীরা। এ সমাবেশে মেয়র জাহাঙ্গীর যে যোগ দেবেন, তা জানানো হয় আগেই।

দুই পক্ষের এই বিক্ষোভে উত্তেজনার মধ্যে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর থেকেই চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে মোতায়েন করা হয় জলকামানও। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন জাহাঙ্গীরবিরোধীরা

তবে বিকেল ৪টার দিকে ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন।

জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকরা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীর অনুসারীরা।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকদের একজন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আবু সাঈদ নামে মেয়রের এক সমর্থক আহত হন। আবু সাঈদ জানান, হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও একে একে চলে যান।

এরপর জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেন। সেখানে যোগ দেন মেয়র নিজেও।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশে যোগ দেন মেয়র জাহাঙ্গীর

নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিকেল ৪টার কিছু সময় পর বের হন মেয়র জাহাঙ্গীর। হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে ওঠার পরপর নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে বেলা পৌনে ৪টার দিকে মেয়রের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার সময় দুই পক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় মেয়রের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধরা সমাবেশ ছেড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নেন।

সে সময় বোর্ডবাজার এলাকার সকল দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়।

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
বিএনপির কারণেই জিয়াকে নিয়ে বিতর্ক চলবে: আইনমন্ত্রী
বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বড় জয়, হারল স্পেন
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে আগ্রহ নেই কেন
সংসদে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের অগ্রগতি জানেন না মন্ত্রী
ফখরুলকে অভিনেত্রী নওশাবার সঙ্গে তুলনা হাছানের

শেয়ার করুন