টিসিবি পণ্য বিক্রি ফের শুরু

টিসিবি পণ্য বিক্রি ফের শুরু

টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তেল, ডাল ও চিনি বিক্রির এ কার্যক্রম আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরই মাঝে যেকোনো দিন যোগ হবে আরেক নিত্যপণ্য পেঁয়াজ।

সারা দেশে ফের শুরু হচ্ছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিক্রি কর্মসূচি।

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তেল, ডাল ও চিনি বিক্রির এ কার্যক্রম আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরই মাঝে যেকোনো দিন যোগ হবে আরেক নিত্যপণ্য পেঁয়াজ।

প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিসিবি ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিক্রি করে। এর আগে প্রায় এক মাস টানা কার্যক্রমের পর ২৭ আগস্ট থেকে বিক্রি বন্ধ থাকে।

টিসিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে জানান, করোনাকালীন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সাধারণ আয়ের জনগণের কাছে ভর্তুকি মূল্যে চিনি, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রথম কয়েক দিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রায় ৩০০ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করা হবে। ক্রমান্বয়ে তা ৪৫০ ট্রাকে উত্তীর্ণ করা হবে। শিগগিরই পেঁয়াজ বিক্রিও শুরু হবে। আমদানি করা পেঁয়াজ এখনও বন্দরে পৌঁছেনি, তাই পেঁয়াজ একটু দেরিতে যোগ হতে পারে।

টিসিবি জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন টিসিবি নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৫৫ টাকা এবং সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হবে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৫ লিটার তেল এবং দুই কেজি মশুর ডাল কিনতে পারবেন। তবে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য বিক্রি হবে ঢাকা সিটির ৮০টি স্থানে এবং চট্টগ্রামে ২০টি স্থানে।

প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি পণ্য দেয়া হবে। এর মধ্যে সয়াবিন তেল সর্বনিম্ন ৬০০ লিটার, ৫০০ কেজি চিনি এবং ৪০০ কেজি মসুর ডাল থাকবে। পরে এর সঙ্গে ৫০০ কেজি করে পেঁয়াজ যোগ হবে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া জরুরি নোটিশ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের তৃতীয় দিন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের অফিসে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

নোটিশে ইভ্যালি বলেছে, ‘সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালি এমপ্লয়িগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

‘হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘দারুণ ভদ্রতার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া যেতে পারে। ইভ্যালি এই ঘোষণার সঙ্গে এটা শিখিয়ে দিলো। আপনারা সবাই বাসায় অফিস করেন। শুভ কামনা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আস্তা না রেখে কি পারি! ৭-৪৫ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবেন বলে অর্ডার নিয়ে ছয় মাস গেল কোনো খবর নাই। এখানেইতো আস্তা রাখার জায়গা। পুরা কপাল আমার কেন যে টাকাটা দিলাম!’

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

যে কারণে বন্ধ বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

চিলির সমাজতান্ত্রিক সরকারের বদনাম করতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট’ তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রিপোর্ট আর না করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

এক ঘোষণায় বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর দেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাংকের সদস্য দেশগলোর ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরি করে।

ব্যবসা শুরু, বিদ্যুৎ-সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, কর ব্যবস্থাসহ কয়েকটি নির্দেশক বা মানদণ্ডের প্রতিটির ওপর ১০০ নম্বরের মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ণয় করা হয়। স্কোরের ভিত্তিতে দেশগুলোর অবস্থানের তালিকা করা হয়।

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অবস্থান ছিল ৩৪তম। ২০১৭ সালে এসে সেই চিলি পিছিয়ে চলে যায় ৫৫তম অবস্থানে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি চিলির তখনকার রাষ্ট্রপতি মিশেল বাশলে। ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জেরে বিশ্বব্যাংকের এ সূচক তৈরির অনিয়ম প্রথম ধরা পড়ে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে চিলি ৩৪তম অবস্থানে ছিল। ২০১৭ সালে তা পিছিয়ে ৫৫তম অবস্থানে নেমেছে। এরপর চিলির রাষ্ট্রপতি ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চিলির কর্মকর্তারা বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে বলেন, সংস্থাটি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ক্ষেত্রে তাদের বার্ষিক ‘ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিযোগিতামূলক র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্যায় আচরণ করেছে।

২০১৪ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট হন মিশেল বাশলে। এরপরে তার শাসনামলের পরবর্তী তিন বছরই ডুয়িং বিজনেস সূচকে চিলির অধঃপতন হয়। ২০১৫ সালে ৪১, ২০১৬ সালে ৪৮ ও ২০১৭ সালে ৫৫তম হয় চিলির অবস্থান।

চিলির প্রেসিডেন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনায় নেয়া হয়। পরে বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রোমার অসংগতির কথা জানান। তার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যাতে চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়।

পল রোমার প্রতিবেদনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য চিলির কাছে ক্ষমা চান। তিনি স্বীকার করেন বাশলের অধীন ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এই র‌্যাঙ্কিং রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত। তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ফলে প্রতিবেদনে চিলির অবনমন হতে পারে।

সেসময় এ বিষয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে বক্তব্য দেন পল রোমার। তিনি বলেন, ‘আমি চিলি এবং অন্য যেকোনো দেশে যেখানে আমরা ভুল ধারণা দিয়েছি, তাদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাই। আমার দায় রয়েছে। কারণ, আমরা বিষয়গুলো যথেষ্ট পরিষ্কার করিনি। বিশ্বব্যাংক অতীতের রিপোর্টগুলো সংশোধন করার পদ্ধতি শুরু করছে এবং পদ্ধতি পরিবর্তন না করে র‍্যাঙ্কিং কেমন হবে, তা পুনরায় প্রকাশ করবে।’

রোমার বলেন, সংশোধনগুলো চিলির জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কারণ, তাদের অবস্থান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্থিতিশীল ছিল। বিশ্বব্যাংকের কর্মীদের রাজনৈতিক প্রেরণার কারণে বিষয়টি কলঙ্কিত হয়েছে। কারণ, বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদন ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কাভারেজ পায়।

এমন মন্তব্য করায় পল রোমারকে পদত্যাগ করতে হয়।

প্রতিবেদনের পদ্ধতিগত পরিবর্তন করা সেই সাবেক পরিচালক ছিলেন অগাস্টো লোপেজ-ক্লারোস। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক লোপেজ-ক্লারোস সে সময় বিশ্বব্যাংকের দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়ে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় তার ওই কাজের জন্য প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

২০১৮ সালে মার্চে দায়িত্ব থেকে সরে যান মিশেল বাশলে। সমাজতান্ত্রিক দল থেকে ক্ষমতা চলে যায় কনজারভেটিভ দলের কাছে। দায়িত্ব পান প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা।

পল রোমারের ক্ষমা চাওয়ার পর ওই সময় এক টুইটে মিশেল বাশলে লেখেন, ‘বিশ্বব্যাংকের প্রতিযোগিতামূলক র‌্যাঙ্কিং তৈরিতে যা ঘটেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে র‌্যাঙ্কিং পরিচালনা করে, তা নির্ভরযোগ্য হওয়া উচিত। কারণ, তারা বিনিয়োগ ও দেশগুলোর উন্নয়নে প্রভাব ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে সম্পূর্ণ তদন্তের অনুরোধ জানাবে।’

গত বছরের আগস্টে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অসংগতি থাকতে পারে, কিন্তু তা এখনও চিহ্নিত হয়নি।

তাই প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য সংগ্রহে পদ্ধতিগত পরিবর্তন এবং অসংগতির কারণে যেসব দেশ অধিক প্রভাবিত হয়েছে, সেসব দেশের সঠিক তথ্য পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আর এ কারণে গত বছরের অক্টোবরে ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স তৈরি স্থগিত করে তারা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতাল থেকে ফের থানায় ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল। ফাইল ছবি

চিকিৎসকের বরাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

চিকিৎসা শেষে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে ফের থানায় নেয়া হয়েছে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার রাসেলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মিডফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাতে তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার বাইরে থাকায় তার পেটে গ্যাস ও বমির সমস্যা হয়। চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি সুস্থবোধ করায় এখন হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর করবে না বিশ্বব্যাংক

ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর করবে না বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক। ফাইল ছবি

বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বহুল আলোচিত ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বা ব্যবসা করার সূচকবিষয়ক প্রতিবেদন আর করবে না।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় সংস্থাটি জানায়, ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট আর দেবে না বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতিও দিয়েছে সংস্থাটি।

এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের গবেষণায় আস্থা অত্যাবশ্যক। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের গবেষণা নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করে, দেশগুলোকে আরও ভালোভাবে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং স্টেকহোল্ডারদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতিগুলো আরও সঠিকভাবে পরিমাপ করার সুযোগ দেয়।

আরও বলা হয়, এ ধরনের অনুসন্ধান বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও অন্যদের জন্যও মূল্যবান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা পাওয়া যায়।

তবে ২০১৮ ও ২০২০ সালে যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক প্রকাশ করা হয়, সেখানে তথ্য-উপাত্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করা হয় অক্টোবর ২০১৭ ও ২০১৯ সালে। তাতে তথ্য-উপাত্তের যে পরিবর্তন পাওয়া যায়, তা ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরপর বিশ্বব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিষদ পরের ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরির বিষয়টি স্থগিত করে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করতে শুরু করে।

সব পর্যালোচনা, নিরীক্ষার ফলাফল এবং ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদের যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তার সঙ্গে ডুয়িং বিজনেসের জন্য পাওয়া সব তথ্য পর্যালোচনা করার পর বিশ্বব্যাংকের গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট বৃহস্পতিবার এ সূচক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছরের আগস্টে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি টের পায় বিশ্বব্যাংক। এ কারণে ওই বছরের অক্টোবরের ‘ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না বলে জানায় তারা। এ ছাড়া গত পাঁচটি প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্যও ফরেনসিক অডিটরকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয় সে সময়।

ব্যবসা করার পরিবেশ কোথায় সবচেয়ে অনুকূল, তার নিরিখে ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বের ১৯০ দেশের একটি তুলনামূলক তালিকা ও রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে বিশ্বব্যাংক। এ রিপোর্টকে ভিত্তি করেই বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী কোন দেশে বিনিয়োগ করবেন বা কোন দেশ থেকে সরে আসবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেন। এমন গুরুত্ব থাকলেও সে প্রতিবেদনেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

২০১৮ সালে ওই রিপোর্টে গলদের কথা প্রথম উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ পল রোমার।

তখন তিনি বলেছিলেন, “বিশ্বব্যাংকের একজন সাবেক পরিচালক এমনভাবে জালিয়াতি করে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক নির্ণয়ের পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন, যা চিলির ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়ে ব্যবহার করা হয়। ওই পরিচালকের কারণে চিলির র‌্যাঙ্কিং পিছিয়ে দেয়া হয়।”

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশের উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’

‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

আইনজীবী এম মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘অন্য গ্রাহকের যে অর্ডার রয়েছে সেটি অবশ্যই সরবরাহ করবে বা পণ্য দিয়ে দেবে। এজন্য তো তাদের ফ্রি হতে হবে। ফ্রি না হলে কোনো কাস্টমারের অর্ডার তারা সরবরাহ করতে পারবেন না। তাদের ফ্রি করে দেন। এরপর যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে তাহলে তাদের মামলা চলতে পারে।’

তিন লাখ গ্রাহকের অর্ডার সরবরাহ করেছে ইভ্যালি। অন্য গ্রাহকের যে অর্ডার রয়েছে সেটি অবশ্যই সরবরাহ করবে তারা। এজন্য ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের মুক্তি দরকার। তারা মুক্ত না হলে কোনো কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে পারবেন না।

শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিতে এ কথা বলেন রাসেল ও নাসরিনের আইনজীবী এম মনিরুজ্জামান আসাদ।

এদিকে আদালত রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তিন দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

এর আগে এদের দুজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুল ইসলাম।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, ‘২৯ মে ইভ্যালি চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেয়। ওই বিজ্ঞাপন দেখে এ মামলার বাদী আরিফ বাকের ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকার পণ্য অর্ডার করেন। সাত দিনের মধ্যে সেটি পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেটা করেনি।

‘অনলাইনে ব্যবসার নাম করে তারা মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিন্তু পণ্য দেয় না। তারা চিট করে। এ সম্পর্কে আমরা ইতোমধ্যে জেনে গেছি। বাদী টাকা চাইলে না দিয়ে তাকে হুমকিধামকি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন তারা। এ কাজে শুধু এ দুই আসামিরা না, অন্যরাও জড়িত। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

আসামিদের পক্ষে এম মনিরুজ্জামান আসাদ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালি পণ্যের অর্ডার নেয়। এরপর তারা পণ্যটি উৎপাদনের জন্য অন্য কোম্পানির কাছে অর্ডার দেয়। তারা নির্দিষ্ট সময়ে অর্ডার কমপ্লিট করতে পারেনি। এ কারণে ইভ্যালি নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য সরবারহ করতে পারেনি। এ মামলার বাদী টাকা চাইতে গেলে টাকা দেয়নি এটা অস্বীকার করছি না।

‘কিন্তু তারা যে টাকা দিবে না এটা তো কখনও বলিনি। তিন লাখ গ্রাহকের অর্ডার তারা সরবরাহ করেছে। উৎপাদিত কোম্পানি নির্দিষ্ট সময়ে অর্ডার কমপ্লিট করতে পারেনি। এজন্য ইভ্যালি পণ্য সরবরাহ করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য গ্রাহকের যে অর্ডার রয়েছে সেটি অবশ্যই সরবরাহ করবে বা পণ্য দিয়ে দেবে। এজন্য তো তাদের ফ্রি হতে হবে। ফ্রি না হলে কোনো কাস্টমারের অর্ডার তারা সরবরাহ করতে পারবেন না। তাদের ফ্রি করে দেন। এরপর যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে তাহলে তাদের মামলা চলতে পারে।’

আইনজীবী এম মনিরুজ্জামান জানান, শামীমা নাসরিনের শিশু সন্তান রয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন তিনি।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘তারা পণ্যের জন্য টাকা নিয়েছে। অথচ পাঁচ মাসেও পণ্য পৌঁছে দিতে পারেনি। টাকা ফেরত চাইলে গেলে সেটি নিয়ে হুমকি দিল। এভাবে তারা হাজার হাজার গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন, যা আগামি পাঁচ কার্যদিবসে শেষ করতে বলা হয়ছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রাসেল ও শামীমাকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিকেল ৩টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইভ্যালি এমডি রাসেলের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযান শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহক ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা প্রতারণা করে আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন

‘বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে’

‘বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতির সুযোগ করে দিচ্ছে’

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বড় আকারের বাজেট রয়েছে। এ কারণে সেগুলো দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। আমাদের বাজেট দেখেন, বর্তমান বাজেট আকারে কত বড়। কত ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে দেশে। এগুলোতে দুর্নীতির সুযোগ থাকে।’

দুর্নীতি একটি ব্যাধি। বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বড় অংকের বাজেট বরাদ্দ দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। একই সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে দুর্নীতিকে বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন তিনি।

শুক্রবার ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান, এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এফডিসিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পগুলোতে বড় আকারের বাজেট রয়েছে। এ কারণে সেগুলো দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। আমাদের বাজেট দেখেন, বর্তমান বাজেট আকারে কত বড়। কত ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে দেশে। এগুলোতে দুর্নীতির সুযোগ থাকে।

‘দুর্নীতি আমাদের জন্য একটি ব্যাধি। সমাজে দুর্নীতি আছে এবং আমরা এটি নিয়ে চিন্তিত। সময় নিয়ে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটা মোকাবেলা করতে হবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বস্তরের দুর্নীতি প্রতিকার করা জরুরি। শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষার প্রসারে সরকার আন্তরিক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অটোমেশন বা যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়ার উপর জোর দেয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। একুশ শতকের আহ্বান জ্ঞান-বিজ্ঞানের আহ্বান। এদিকে হাত বাড়াতে হবে। এ জন্য শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দ্রুতগতির চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে বাংলাদেশ কতখানি যুক্ত হতে পারছে সেটি হচ্ছে আলোচনার বিষয়। এর সঙ্গে দ্রুতগতির ইন্টারনেট, মেশিন টু মেশিন যোগাযোগ, বিগ ডাটা, রিয়েল টাইম ডাটা, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, আধুনিক রোবটিক্স, ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, থ্রিডি প্রিন্টিং, স্বয়ংক্রীয় গাড়ি ইত্যাদি বিষয় চলে আসে। কিন্তু আমরা এখনও প্রযুক্তিতে আশানুরূপ অবস্থান তৈরি করতে পারিনি। ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশ সুদান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডার মতো দেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে।’

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হন।

বিচারক ছিলেন উন্নয়নকর্মী ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রুহুল আমিন, রিয়াদ হোসাইন, দৌলত আক্তার মালা ও আরিফুর রহমান।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে ২৫টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি টিসিবির
টিসিবির মাসব্যাপী পণ্য বিক্রি শুরু সোমবার

শেয়ার করুন