‘মাছ শুধু ভাতের সঙ্গে নয় অন্যভাবেও খেতে হবে’

‘মাছ শুধু ভাতের সঙ্গে নয় অন্যভাবেও খেতে হবে’

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্যসম্পদের বহুবিদ উপযোগ সৃষ্টি ও বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় জলজ সম্পদ থেকে বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি হচ্ছে। মাছ থেকে চিপস, ফিস বল বা অন্যান্য খাবার তৈরি করা যেতে পারে। মাছের বহুবিধ ব্যবহারে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হবে।’

বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করার জন্য মৎস্যসম্পদের সর্বোচ্চ উপযোগ সৃষ্টি এবং মাছের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য জনপ্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি শুধু ভাতের সঙ্গে মাছ খাওয়া নয়, মাছ থেকে কী কী ভোগ্যপণ্য তৈরি করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে বলে জানান।

শুক্রবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মৎস্যসম্পদের বহুবিদ উপযোগ সৃষ্টি ও বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরির জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাতীয় জলজ সম্পদ থেকে বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি হচ্ছে। মাছ থেকে চিপস, ফিস বলসহ অন্যান্য খাবার তৈরি করা যেতে পারে। মাছের বহুবিধ ব্যবহারে মানুষকে আকৃষ্ট করতে হবে।

‘অনেকে স্বাভাবিকভাবে মাছ খায়না, কিন্তু রেস্তোরাঁয় মাছ দিয়ে তৈরি খাবার খেতে চায়। পুষ্টি চাহিদা পূরণে এক প্রক্রিয়ায় মাছ না খেলে মানুষকে অন্য প্রক্রিয়ায় খাওয়াতে হবে। আমরা চাই মাছের বহুমুখী পণ্যের বিকাশ হোক।’

‘মাছ শুধু ভাতের সঙ্গে নয় অন্যভাবেও খেতে হবে’

দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা মাছের খাদ্য উপকরণ দেশে তৈরির লক্ষে শিল্প স্থাপনে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী। কর অব্যাহতি সুযোগসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা লাগবে তা দেয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্যজীবী নয় এমন মানুষের কার্ড বাতিল করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কার্ড দেয়া এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করে আমরা কাজ করছি।’

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে মৎস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থে রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যাতে কোন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাল সনদ অথবা রাসায়নিক মিশ্রিত মৎস্য রপ্তানি না করে।

তিনি বলেন, ‘মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করা, উচ্ছ্বসিত করা ও কাজে সম্পৃক্ত করা, এ খাতের প্রতি জনগণকে আগ্রহী করে তোলা এবং এ খাতের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের মাধ্যমে খাতটিকে গতিশীল করার জন্য প্রতি বছর মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি এ খাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করাও মৎস্য সপ্তাহের অন্যতম লক্ষ্য।’

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ২০৪১ সালের মধ্যে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ করার প্রত্যয়ের কথা জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ।

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে

আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে

বাণিজ্যিকভাবে চাহিদা থাকায় বাংলাদেশেও অ্যাভোকাডোর চাষ দিন দিন বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা ছাড়াও, ছাদবাগানেও অ্যাভোকাডো লাগানো সম্ভব। বাড়ির উঠানে বা ছাদে এক বা দুইটি চারা লাগালে, পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি আয় করা সম্ভব।

গাড় সবুজ রঙের ফলটি দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের পেঁপের মতো। নাম অ্যাভোকাডো, মধ্য আমেরিকার এ ফল এখন দেশেই ফলছে। পুষ্টিগুণ ও উচ্চ মূল্য হওয়ায় অনেকে এখন আগ্রহী হয়েছেন অ্যাভোকাডো চাষে।

চাঁপাইনবাববগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টার, বিদেশি এ ফলের চারাকলম তৈরিসহ চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে।

সারা বিশ্বের শীর্ষ সারির কয়েকটি ফলের মধ্যে অ্যাভোকাডো অন্যতম। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার স্থানীয় ফল হলেও, পুষ্টিগুণের কারণে বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে এ ফলটির। বাণিজ্যিকভাবে চাহিদা থাকায় বাংলাদেশেও অ্যাভোকাডোর চাষ দিন দিন বাড়ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের সহকারী উদ্যান উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহীন সালেহ উদ্দীনের মতে, অ্যাভোকাডো খেতে খুব স্বাদের না হলেও পুষ্টিগুণের কারণেই অনেকে ফলটি খান। দেশের বড় বড় সুপারশপে বেশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে এটি। এ ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যারা ভালো জানেন বর্তমানে তারাই বেশি খুঁজছেন অ্যাভোকাডো।

বিদেশি ফল হওয়ায় একটু বাড়তি যত্ন নিতে হয় অ্যাভোক্যাডোর। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে এ ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সেন্টারের অ্যাভোকাডোর মাতৃগাছটির পরিচর্যার দায়িত্ব পালনকারী উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব।

তিনি বলেন, বিদেশি ফল হওয়ায় অ্যাভোকাডো গাছের পরিচর্যায় একটু বেশি মনোযোগী হতে হয়। তাহলে মিলে ফল।

অ্যাভোকাডো প্রায় এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। মাঝবয়সী একটি গাছ থেকে শতাধিক ফল পাওয়া সম্ভব। একেকটি ফল প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে একটি গাছ থেকে ৭০-৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা সম্ভব বলছেন গবেষকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা ছাড়াও, ছাদবাগানেও অ্যাভোকাডো লাগানো সম্ভব। এ উদ্যানতত্ববিদের মতে, বাড়ির উঠানে বা ছাদে একটি বা দুইটি অ্যাভোকাডোর চারা লাগালে, পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও বাড়তি আয় করা সম্ভব।

অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ায়, বেড়েছে গাছের চারার চাহিদাও। চাঁপাইনবাবগঞ্জে হর্টিকালচার সেন্টারে এর চারাকলম তৈরি করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে মানুষের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত চারা তারা সরবরাহ করতে পারছে না।

কারণ হিসেবে কেন্দ্রের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ‘অ্যাভোকাডো ফলে একটি বীজ থাকে। সেই বীজ থেকে চারা তৈরির পর, সেই চারাগাছে গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে চারাকলম তৈরি করা হয়।

‘এ প্রক্রিয়ায় বেশ সময় লেগে যায়, তারপরও সর্বোচ্চ সংখ্যক চারা উৎপাদনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আগামী দুই এক বছরের মধ্যে আমাদের আরও কয়েকটি মাতৃগাছে ফল দেয়া শুরু হলে চারা তৈরি বাড়ানো সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ফল আমদানি করা হয়। তবে বর্তমানে অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরিতে অনেকের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতে করে অদূর ভবিষ্যতে ফল আমদানি নয়, বরং রপ্তানির কথা চিন্তা করবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: প্রতিমন্ত্রী

কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল: প্রতিমন্ত্রী

লৌহজংয়ে শনিবার ডাচ ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা পাট রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলার পাই। গার্মেন্টস শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয়। বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। খামার পর্যটন শিল্পেও বহুমাত্রিকতা আনবে।’

বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ডাচ ডেইরি ফার্ম পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা পাট রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলার পাই। গার্মেন্টস শিল্পে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয়। বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। খামার পর্যটন শিল্পেও বহুমাত্রিকতা আনবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ একটি সম্ভবনাময় জেলা। এ জায়গায় এমন একটি খামার হচ্ছে, যা দেখতে বিদেশিরা আসবেন। এ খামার দেখে বাংলাদেশের বহু জায়গায় এমন খামার তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রী এসব ব্যাপারে সবসময় প্রণোদনা দিচ্ছেন।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জের এমপি নূর মোহাম্মদ, মুন্সীগঞ্জের এডিসি জেনারেল আব্দুল কাদের মিয়া, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, ডাচ ডেইরি ফার্মের এমডি জিল্লুর রহমান মৃধা রিপনসহ অনেকে।

ডাচ ডেইরি ফার্ম কর্তৃপক্ষ জানায়, লৌহজংয়ে বেসরকারি উদ্যোগে ১২৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মডেলের ডাচ ডেইরি ফার্ম। খামারটিতে বর্তমানে দেশি-বিদেশি জাতের ১২০০ গরু প্রতিপালন হচ্ছে।

প্রতিদিন ২২০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয় খামারটিতে।

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

লাভের আশায় আগাম আলুতে চোখ কৃষকের

লাভের আশায় আগাম আলুতে চোখ কৃষকের

আলু চাষি শামীম হোসেন বাবু বলেন, ‘এক বিঘায় ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। জমিতেই যদি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, তাহলে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ আসে এক বিঘায়।’

ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। এরই মধ্যে কেউ জমি তৈরি, কেউ বা সার ছিটানো আবার কেউ বীজ রোপণ শুরু করেছেন।

আগাম রোপা আমন ধান কাটার পর আগাম আলু চাষের জমি তৈরিতে এখন দম ফেলার সময় নেই উপজেলার কৃষকদের।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, রোপণের ৫৫-৫৮ দিনের মধ্যে এই আলু তোলা যায়। এতে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে থাকেন কৃষকরা। এই আলু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হয় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।

তাদের দাবি, দেশে সবচেয়ে বেশি আগাম আলু উৎপাদন হয় কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। মাগুড়া ও গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আগাম আলু চাষ হলেও অন্য সাত ইউনিয়নেও অনেকে আলু ফলান।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষি সাইয়েদার রহমান জানান, এবার তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আলুর চাষ করবেন। এরই মধ্যে জমি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে বীজ রোপণ শুরু হবে। এই জমিতে আগে আগাম আউশ ধান করেছিলেন।

একই গ্রামের বসুনিয়াপাড়ার এজাজুল ইসলাম জানান, আলু চাষের জন্য তিনি তৈরি করেছেন ৩ বিঘা জমি। হালচাষ, সার ছিটানোর কাজ শেষ করেছেন। শিগগিরই আলুর বীজ রোপণ করবেন।

লাভের আশায় আগাম আলুতে চোখ কৃষকের

ওই জমিতে আগাম আউশ ধান করেও ভালো দাম পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

এজাজুল বলেন, ‘বছরে চারটি ফসল উৎপাদন করি। এর মধ্যে আউশ, আলু, তামাক ও ভুট্টা রয়েছে।’

কাজ থাকায় খুশি দিনমজুররাও। বাজে ডুমুরিয়া গ্রামের রাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘৩০০ টাকা হাজিরায় আমরা ১৬ জন কাজ করছি শামীম হোসেন বাবুর জমিতে। তার ২৫ বিঘা জমিতে আলু লাগানো হবে। হাজিরার পাশাপাশি দুপুরের খাবারও দেন।

‘আগাম আমন কাটার পর আগাম আলুতে সময় দিচ্ছি আমরা। আগাম আলু না হলে আমাদের এ সময় বসে থাকতে হতো।’

আলু চাষি শামীম হোসেন বাবু জানান, রোপণের ৫৮-৬০ দিনের মাথায় আগাম আলু জমি থেকে তোলা যায়। পাইকাররা জমিতেই ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে নিয়ে যান। স্থানীয় বাজারে ৮০-৯০ টাকা এবং ঢাকার বাজারে আগাম আলু ১২০ টাকা দরেও বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, ‘এক বিঘায় ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। জমিতেই যদি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, তাহলে ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ আসে এক বিঘায়।’

শামীম আরও বলেন, ‘বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ আলু উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার আবহাওয়া খুব ভালো। আশা করি ভালো ফলন ও লাভ পাব।’

পুটিমারী ইউনিয়নের পানিয়াল পুকুর ব্লকের উপসহকারী কর্মকর্তা নিরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘আমার ব্লকে আড়াই হাজার কৃষক। তাদের মধ্যে দুই হাজার কৃষক আলু করছেন।

‘জমি তৈরি থেকে শুরু করে রোপণ পদ্ধতি, রাসায়নিক সার ছিটানো এবং পরিচর্যার বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

লাভের আশায় আগাম আলুতে চোখ কৃষকের

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, এ বছর উপজেলায় রোপা আমন চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। বিঘাপ্রতি অন্তত ১৬ মণ ধান হয়েছে এসব জমিতে।

আর আগাম আমনের পর আগাম আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে। এটি লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে যাবে। গতবার উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়েছিল ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, দেশের মধ্যে একমাত্র কিশোরগঞ্জেই আগাম আলু হয়ে থাকে, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়।

তিনি বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে রয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সেপ্টেম্বরজুড়ে আলু বীজ রোপণ করা হবে। এবার সাত জাতের আলু বীজ লাগানো হচ্ছে। অন্যান্যবারের মতো এবারও ভালো ফলন ও দাম পাবেন কৃষক।’

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

হাঁসে হাসি; ডিম বিক্রির টাকায় সফল সাংবাদিক

হাঁসে হাসি; ডিম বিক্রির টাকায় সফল সাংবাদিক

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিশাল মৎস্য ও হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন ইমন। ছবি: নিউজবাংলা।

ইমনের গড়ে তোলা খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেও খামার তৈরির পরিকল্পনা করছেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত সদস্য লিপি বেগম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইমন ভাইয়ের দেখাদেখি অন্যরা খামার দেয়ার চেষ্টা করতিছে। অনেকে দেখতে এসেও বুদ্ধি নিয়ে খামার দিচ্ছে। আমিও চিন্তে-ভাবনা করতিছি; একটা হাঁসের খামার দেব।’

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন দৈনিক ভোরের ডাকের স্টাফ রিপোর্টার ইমরুল কাওছার ইমন। ২০১৯ সালে স্বল্প পরিসরে ‘খাকি ক্যাম্পেবেল’ জাতের হাঁস পালনের পরিকল্পনা করেন। তা বাস্তবায়নে করোনা মহামারির মাঝামাঝি সময়ে গড়ে তোলেন হাঁসের খামার।

হাঁসের ডিম বিক্রির ‍‍আয়ে ৪ একর জমির তিনটি পুকুরে তিনি এখন পরিকল্পিতভাবে চাষ করছেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। চার মাস পর পর মাছ বিক্রি থেকে আয় হচ্ছে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা।

ইমনের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম খামার দশলিয়া গ্রামে। নিজস্ব জমিসহ কয়েক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মাছ চাষ ও হাঁসের খামার করেছেন তিনি। খামারে এক হাজার হাঁসের মধ্যে প্রতিদিন তিনি সাত থেকে আটশ ডিম সংগ্রহ করছেন। এই ডিম বিক্রির টাকায় হাঁস ও মাছের দৈনিক ছয় হাজার টাকার খাদ্যসহ শ্রমিকদের বেতন দিয়েও মাসে তার আয় হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজ এলাকায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিশাল মৎস্য ও হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন ইমন। খামারে হাঁসের সংখ্যা হাজারেরও বেশি। সমন্বিতভাবে ১২ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন দেশি-বিদেশী মাছ। দুই খামারে প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার টাকা। যার বেশিরভাগই আসে ডিম বিক্রির টাকা থেকে।

ছোট বেলা থেকেই ইমনের মন টানতো কৃষিতে। ভিন্ন বিষয়ে পড়ালেখা করেও কৃষিভিত্তিক কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিল তার। ঢাকায় চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এই তরুণ উদ্যোক্তা।

হাঁসে হাসি; ডিম বিক্রির টাকায় সফল সাংবাদিক

তবে তার একটা গল্প আছে। হঠাৎ বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে তার চারটি প্রতিষ্ঠান যখন অন্ধকারে; ঠিক তখনই কৃষিতে সফলতা এসেছে তার। এই খামারই এখন তার টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন।

বাণিজ্যিকভাবে হাঁস ও মাছ চাষের পাশাপাশি ইমরুল কাওছার ইমন ২০১৫ সালে ঢাকার গুলিস্থানে নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটি ছোট্ট শার্ট তৈরির কারখানা শুরু করেন। তিন জন কর্মচারী নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ৫০ জনের বেশি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে তার কারখানায়। শান্তিনগরে একটি ট্রাভেল এজেন্সিও আছে। তাছাড়া ব্যবসার লাভের টাকায় বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস কিনে রাজধানীতে উবারেও চালান তিনি।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ক্লাব ভিত্তিক টুর্নামেন্টসহ বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়ারদের জার্সি ও গ্যালারিতে ব্র্যান্ডিংয়ের (বিজ্ঞাপন) কাজ করেও সফলতা পেয়েছেন তিনি।

তবে চলতি বছরের মার্চে এসে তার জীবনের হিসেব এলোমেলো হয়ে যায়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ক্ষতি শুরু হতে থাকে একের পর এক ব্যবসায়। লকডাউনে গার্মেন্টস-কারখানা বন্ধ। উবারের গাড়ির চাকাও ঘোরেনি। সারা বিশ্বে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা ও ক্রিকেট ব্র্যান্ডিংও বন্ধ হয়ে যায়।


ঠিক তখনই ইমরুল উপলব্ধি করতে পারেন, কয়েক বছরের চেষ্টার ফল করোনার এক ধাক্কায় স্থবির হয়ে গেল। এই হতাশার মধ্যে কৃষি ভিত্তিক কিছু করার পরামর্শ দেন তার সহধর্মিণী।

পরবর্তীতে সমন্বিতভাবে হাঁস ও মাছ চাষের পরিকল্পনা করেন ইমন। গুগল ও ইউটউব দেখে ও স্থানীয় খামারিদের কাছে পরামর্শ নিয়ে ‘হামিদা ডাক এন্ড ফিস ফার্ম’ গড়ে তোলেন। খামার দেখভাল করেন ছোট ভাই নাহিদ আনছারী।

হাঁসে হাসি; ডিম বিক্রির টাকায় সফল সাংবাদিক

তিনি বলেন, ‘আমরা এই খামারটি তৈরি করেছি মূলত আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে। তাছাড়া এই খামার করে আমরা লাভবানও হচ্ছি।’

স্থানীয়রা জানায়, ইমরুল কাওছার ইমনের খামারে চার-পাঁচ জন শ্রমিক রয়েছে। একটি পুকুরে এক পাশে চাষ করছেন তেলাপিয়া ও আরেক পাশে থাই জাতের পাংগাস। তার পাশে পানির উপরে বাঁশ ও টিন দিয়ে মাচা বানিয়ে হাঁসের খামার করেছেন।

এছাড়া আরেকটি পুকুরে চাষ হচ্ছে ভিয়েতনামী কই, হাইব্রিড সিং, বিদেশি মৃগেল, কালিবাউশ, মিরকার্প ও সরপুঁটি। অপরটিতে চাষ হচ্ছে দেশী মাছ। এর সবগুলোই বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এই খামারে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহিন মিয়া বলেন, ‘ইমন ঢাকায় সাংবাদিকতা করলেও এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন। মূলত বেকারদের কর্মমূখী করার চিন্তা থেকেই তার এই হাঁস ও মাছের খামার করা। এরই মধ্যে তার সফলতা দেখে আশেপাশে প্রায় ১০-১৫টি নতুন খামার সৃষ্টি হয়েছে।’

ইমনের গড়ে তোলা খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেও খামার তৈরির পরিকল্পনা করছেন নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত সদস্য লিপি বেগম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইমন ভাইয়ের দেখাদেখি অন্যরা খামার দেয়ার চেষ্টা করতিছে। অনেকে দেখতে এসেও বুদ্ধি নিয়ে খামার দিচ্ছে। আমিও চিন্তে-ভাবনা করতিছি; একটা হাঁসের খামার দেব।’

এ বিষয়ে খামারি ইমরুল কাওছার ইমন বলেন, ‘করোনা মহামারিতে সব ব্যবসায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ি। এরপর গ্রামে কিছু করার চিন্তা থেকেই খামারের পরিকল্পনা করি।

সম্প্রতি খামারটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্টটি দেখে আমি অভিভূত। যুবকরা যে পারে, এটা তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ।’

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

সিরাজদিখানের শাপলা সংগ্রহকারী দনিয়া গ্রামের আফজাল মিয়া জানান, তিনি ১০ বছর ধরে শাপলা উঠিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। শাপলায় তার জীবন চলে। আগে বাজারে শাপলা বিক্রি করতেন। এখন গাড়ি এসে শাপলা নিয়ে যায়। শাপলা বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছেন, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন।

শাপলা ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু। দাম কম হওয়ায় নিম্নবিত্তদের কাছে এর চাহিদা অনেক। সুস্বাদু হওয়ায় ধনীরাও খায়।

বর্ষা মৌসুমে আগে গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্তরা শাপলা তুলে তা দিয়ে ভাজি ও ভর্তা করে খেত। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে এখন শহরের বাজারেও সহজলভ্য শাপলা। সুস্বাদু হওয়ায় শহরেও তাই চাহিদা বাড়ছে।

খাবার হিসেবে যেমনই হোক বর্ষা মৌসুমে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাজারো পরিবারের জীবিকার প্রধান মাধ্যম এই শাপলা। বিল থেকে শাপলা তুলে এসব পরিবার সংসারের নিত্য খরচ মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করে। বছরে দুই থেকে তিন মাস শাপলা বিক্রি করেই চলে এসব পরিবার।

জেলার সিরাজদিখান, শ্রীনগর (আড়িয়াল বিল) হাসারা, টঙ্গিবাড়ী ও সদরের চরাঞ্চলের কৃষক ও দিনমজুররা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জমিতে জন্মানো শাপলা তুলে নৌকায় করে নিয়ে আসে। এরপর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে বিক্রি করেন।

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

আরেকটি দল সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া, ইমামগঞ্জ, চোরমর্দন, লতব্দীসহ সিরাজদিখান-নিমতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখেন তুলে আনা শাপলা। বিকেলের দিকে পাইকাররা গিয়ে সেগুলো কিনে রাজধানীর বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান।

শাপলা ফুল সাধারণত জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। বহু বছর ধরে জেলার প্রতিটি উপজেলায় এ পেশাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন অনেকেই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সিরাজদিখানের শাপলা সংগ্রহকারী দনিয়া গ্রামের আফজাল মিয়া জানান, তিনি ১০ বছর ধরে শাপলা উঠিয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। শাপলায় তার জীবন চলে। আগে বাজারে শাপলা বিক্রি করতেন। এখন গাড়ি এসে শাপলা নিয়ে যায়। শাপলা বিক্রির টাকায় সংসার চালাচ্ছেন, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন।

নিয়ামত হোসেন জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ আঁটি শাপলা সংগ্রহ করেন। এবার বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হওয়ায় শাপলা উৎপাদন কম হয়েছে। যত পানি বেশি হবে শাপলাও বেশি হবে।

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

তিনি আরও জানান, পাইকাররা তাদের কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে এক জায়গায় করেন। রাতে রওনা দিয়ে সকালে ঢাকার পাইকারি বাজারে এগুলো বিক্রি করেন।

শ্রীনগর উপজেলার রয়েছে আড়িয়াল বিল। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকে দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিলটি। এ বিলে কয়েক শ পরিবার শাপলা কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।

আড়িয়াল বিল মূলত কয়েকটি উপজেলাজুড়ে রয়েছে। এর মধ্যে শ্রীনগর, সিরাজদিখান, ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ অন্যতম। আড়িয়াল বিলের গাদিঘাট, হাঁসাড়া ইউনিয়নের আশলিয়া, আলমপুরসহ অনেক স্থান থেকে নিয়মিত শাপলা তোলা হয়।

বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বিলে শাপলা তোলা হয়। প্রায় ৬০-৭০টি শাপলায় করা হয় একটি আঁটি। এসব আঁটি পাইকাররা কেনেন ৫০-৬০ টাকায়।

২০টি শাপলার আঁটিও বিক্রি করা হয়। এগুলো মূলত স্থানীয় লোকজন কেনেন ১২ টাকায়। দৈনিক একজন কমপক্ষে ৫০ আঁটি শাপলা তুলতে পারেন।

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

শ্রীনগর থেকে প্রতিদিন শাপলা সংগ্রহ করে ৮-১০টি পিকআপ ভ্যান রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে যায়।

শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম জানান, তারা দলবেঁধে ডিঙি নৌকায় শাপলা তোলেন প্রতিদিন। একটি ডিঙিতে দুই বা তিনজন থাকেন। দুপুরের দিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে শাপলা বিক্রি করেন।

সোনারগাঁও গ্রামের শরীফ জানান, পাঁচটি শাপলা দিয়ে ছোট একটি মুঠা করা হয়। ছোট চারটি মুঠা দিয়ে বড় একটি মুঠা তৈরি হয়। প্রতিটি বড় মুঠা বিক্রি হয় ১২ টাকায়।

হাঁসাড়া ইউনিয়নের আলামপুরের রুমান জানান, লকডাউনে তেমন কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি তারা। অনেকটা বাধ্য হয়েই শাপলা কুড়াতে হচ্ছে। এখানে ৩০-৪০টি পরিবারের সংসার চলছে শাপলা বিক্রি করে।

শাপলা তুলে চলে হাজারো সংসার

উপজেলার সদরে ডাকবাংলাে মার্কেটের সামনে শাপলা বিক্রি করেন আবুল হোসেন। তিনি জানান, অন্য সময় দিনমজুরের কাজ করেন। বর্ষায় শাপলা তুলছেন প্রায় ২০ বছর ধরে। লকডাউনের মধ্যে বেকার হয়ে পড়েছিলেন। এখন কামারখোলা বিল থেকে শাপলা তুলে প্রতিদিন ডাকবাংলাে মার্কেটের সামনে বিক্রি করছেন।

ঢাকার পাইকারি ক্রেতা জামাল শেখ জানান, তারা মূলত গদিঘাট, আলমপুর ও আশলিয়া থেকে শাপলা কিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ী নিয়ে বিক্রি করেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খুরশীদ আলম জানান, বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবেই শাপলা ফোটে। যেহেতু বর্ষায় জেলার অধিকাংশ জমিতেই পানি থাকে, এ জন্য প্রচুর শাপলা হয়। বহু কৃষক এসব শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন। যদি ঠিকমতো সংগ্রহ করে বাজারজাত করা যায়, তবে এটিও আয়ের ভালো উৎস হতে পারে।

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

শখের মাল্টায় ইউনুসের আয় লাখ টাকা 

শখের মাল্টায় ইউনুসের আয় লাখ টাকা 

শখের মাল্টা বাগানে পেকুয়ার ইউনুস। ছবি: নিউজবাংলা।

পেকুয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোকাদ্দেস মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘ইউনুস আহমদই পেকুয়ায় একমাত্র মাল্টা চাষি। ফলন হবে না ভেবে স্থানীয় কৃষক ধান বা মৌসুমি শাক-সবজি চাষাবাদের বাইরে যান না।’

তিন থেকে চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছে ঝুলছে ৫০ থেকে ৮০টি ফল। গাঢ় সবুজ রঙের ফলগুলোর কোনো কোনোটিতে হলুদাভ ভাব।

ছিমছাম ও পরিপাটি মাল্টা বাগানটির মালিক ইউনুস আহমদ। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি।

আড়াই বছর আগে শখের বশে শুরু করা বাগানটিই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস। ৪০ শতক জমির বাগান পরিচর্যার কাজ করছিলেন ইউনুস। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, বাগানের জন্য আমের চারা কিনতে সাতক্ষীরা গিয়ে মাল্টার চারা কিনে বাড়ি ফেরেন তিনি। সৌখিন কিছু মানুষ তার কাছ থেকে এসব চারা কিনে লাগিয়েছিলেন। তবে চারা বাঁচাতে পারেননি কেউ।

ইউনুস আরও জানান, শুরুতে ইউনিয়নের ঝিরি এলাকায় দুই একর জমিতে মাল্টার ৪০০ চারা লাগিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সবগুলো মারা যায়। তখন কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেন তিনি।

শখের মাল্টায় ইউনুসের আয় লাখ টাকা

এরপর টইটংয়ের জুম পাড়া এলাকার বর্তমান জমিতে চারা রোপণ করেন। পরিচর্যার মাধ্যমে ১০০ চারা বড় করতে সক্ষম হন। বাকি ৬টি চারা কলমের মাধ্যমে তৈরি করেন। চলতি মৌসুমে ১০৬টি গাছের মধ্যে ১০০টি গাছে মাল্টা ধরেছে।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকার বেশি মাল্টা বিক্রি করেছেন৷ আরও অন্তত ৫০ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করা যাবে। পাইকারি দরে ৮০ টাকা কেজিতে বাগান থেকে তার মাল্টা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বাগানের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন জানিয়ে ইউনুস বলেন, ‘বাগানটি প্রস্তুতে আমার তিন-চার লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছরের ফলনের মাধ্যমে মূলধন তুলে আমি লাভের মুখ দেখব বলে আশা করছি। গাছগুলো অন্তত ১০-১২ বছর ফলন দেবে। এতে প্রতি বছর দেড়-দুই লাখ টাকা আয় করা যাবে।’

শখের মাল্টায় ইউনুসের আয় লাখ টাকা

পেকুয়া উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোকাদ্দেস মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘ইউনুসই পেকুয়ায় একমাত্র মাল্টা চাষি। ফলন হবে না ভেবে স্থানীয় কৃষক ধান বা মৌসুমি শাক-সবজি চাষাবাদের বাইরে যান না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক পরিচর্যা পেলে মাল্টা গাছ ২০-৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এই পর্যন্ত তিনি দুইবার ফলন পেয়েছেন। প্রথমবার এক-তৃতীয়াংশ গাছে ফল এসেছিল। এবার প্রায় প্রতিটি গাছে ফল এসেছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন বলেন, ‘মাল্টা বাংলাদেশের বাজারে বেশ জনপ্রিয় ফল। পাহাড়ি ঢালু জমিতে মাল্টা চাষ ভালো হয়।

‘এক মৌসুমে প্রতি গাছে ৮০-১০০ কেজি ফলন হয়। মাল্টা গাছ খুবই স্পর্শকাতর। সার-কীটনাশক দেয়ায় তারতম্য হলে গাছে নানা সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় গাছ মারা যায়।’

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় বক্তব্য দেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় স্বার্থ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মৎস্য অধিদপ্তরে বুধবার ইলিশসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ কথা বলেন তিনি।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় স্বার্থ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

‘এ ক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিনতর পদক্ষেপ নিতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করব না। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যত কঠিন হওয়া লাগে, তত কঠিন হতে হবে। কাউকে এ বিষয়ে ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই।’

তিনি বলেন, ‘মৎস্য খাতকে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনার নির্দেশনা, নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতায় মাছে-ভাতে বাঙালির বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

‘মৎস্যসম্পদ রক্ষার মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, বেকারত্ব দূর হচ্ছে, উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে এবং দেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, চলতি বছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পাশাপাশি ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য শিকার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে ও মা-ইলিশ সংরক্ষণে এ কার্যক্রম নেয়া হয়েছে বলে জানায় টাস্কফোর্স।

সাধারণত আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে। তাই এই সময়ে সাগরের নোনা জল ছেড়ে নদীমুখে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

মা-ইলিশ রক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিবছর এ সময়টাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইলিশ ধরা বন্ধ রেখে আসছে সরকার। মূলত মা-ইলিশ যেন নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। এর ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।

আরও পড়ুন:
কাতলের দাম ২০ হাজার টাকা
জাহাঙ্গীরের জালে উঠে এলো ৭টি পাখি মাছ
তিস্তায় প্রথমবারের মতো ৩৪ কেজির বাগাড়
১ বোয়ালের দাম ৩৫ হাজার টাকা

শেয়ার করুন