প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি লক্ষীপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি লক্ষীপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়

লক্ষীপাশা কলকাকলি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করার পরও জাতীয়করণের তালিকা থেকে বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়েছে। মাঠপর্যায় থেকে ঠিকমতো তথ্য পাঠানো না হওয়ার কারণে এটি হতে পারে।

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় লক্ষীপাশা কলকাকলি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে। তবে প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পরও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আওতায় আসেনি।

২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় প্রথমও হয় বিদ্যালয়টি। এরপরও ২০১৩ সালে জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়া ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা থেকে বাদ পড়ে এটি।

বিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০১৩ সালের ওই তালিকার ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে তিন ধাপে জাতীয়করণ করার কথা। কলকাকলি বিদ্যালয়টিকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করার জন্য আবেদন করা হয়। তবে তালিকা ঘোষণার পর বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করার পরও তালিকা থেকে বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়েছে। মাঠপর্যায় থেকে ঠিকমতো তথ্য পাঠানো না হওয়ার কারণে এটি হতে পারে।

২০১৩ সালের তালিকা থেকে বাদ পড়লেও ২০১৮ সালে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ করা ৫৬০টি বিদ্যালয়ের তালিকায় রয়েছে লক্ষীপাশা কলকাকলি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও অবস্থার কার্যত কোনো উন্নতি হয়নি। সুপারিশেই আটকে আছে জাতীয়করণ।

বিদ্যালয়টি অবিলম্বে জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর।

তিনি জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৫ সালে। তখন প্রি-ক্যাডেট স্কুল হিসেবে চালু ছিল এটি। ১৯৯৫ সালে ১ জানুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে চালু করার আবেদন করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে জমি হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ২৭ মে ২০১২ সালের আগে স্থাপন ও চালুর অনুমতির জন্য আবেদন করা বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি বিদ্যালয়টির নাম জাতীয়করণের জন্য জেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠায়।

২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের (বিদ্যালয়) কাছে পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উপসচিবের স্বাক্ষরে জেলা প্রশাসকের কাছে বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

একই বছরের ২৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে জাতীয়করণের জন্য বিদ্যালয়ের বাস্তব প্রতিবেদন পাঠান। তবে জাতীয়করণের তালিকা থেকে বিদ্যালয়টির নাম বাদ পড়ে।

প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘জাতীয়করণের সব শর্ত পূরণ করা বিদ্যালয়টি কেন জাতীয়করণ হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ২০১২ সালের আগে স্থাপন। ২০১২ সালের সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর জমি হস্তান্তর করা।

‘সবগুলো শর্ত পূরণের পাশাপাশি ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলা পর্যায়ের মেধা তালিকায় প্রথম হয় বিদ্যালয়টি। তারপরও তালিকা থেকে বাদ পড়ার কারণ জানা নেই।’

তিনি জানান, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করা ওই তালিকায় বাদ পড়ে দেশের ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৮ সালে আন্দোলন ও অনশনের পর শিক্ষাসচিব আশ্বাস দিয়েছিলেন, এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ হবে, তবে অপেক্ষা করতে হবে।

একই বছর সংসদীয় কমিটি ৫৬০টি বিদ্যালয়ের বিষয়ে সুপারিশ করে। সেই তালিকায় লক্ষীপাশা কলকাকলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম আছে। তবে এরপর আর বিষয়টি এগোয়নি।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৮০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা দিচ্ছেন চারজন শিক্ষক। করোনা মহামারিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এতে আমরা খেয়ে না খেয়ে পরিবার নিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছি।’

নড়াইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান খান জানান, কলকাকলি বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের আবেদনের সময় তিনি এ উপজেলায় দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি ২০১৯ সালে নড়াইলে আসেন।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে সরকার থেকে তাদের কাছে একটি নির্দেশনা যায়, আর কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় আপাতত জাতীয়করণ করা হবে না। সেই নির্দেশনার পর এ ধরনের সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, তিনি ২০২০ সালে নড়াইলে এসেছেন। ওই স্কুলের জাতীয়করণের বিষয়ে কিছু জানেন না। বর্তমানে জাতীয়করণের কোনো কার্যক্রম না থাকায় এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়ির সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের পাশে দোয়ানী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মালেকের বাড়ি গড্ডিমারী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দোয়ানী এলাকাতেই।

মালেকের পরিবারের দাবি জমি সংক্রান্ত মামলার জেরে তাকে হত‌্যা করা হয়েছে।

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) তাপস সরকার নিউজবাংলাকে জানান, আব্দুল মালেক রোববার রাতে বাড়ির সামনে একটু অন্ধকারে একা বসে ছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হত্যার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, মালেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নিহত ৩

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে অসুস্থ্য ছেলেকে হাসপাতালে নেয়ার পথে বাসচাপায় অটোরিকশার তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় উম্মেতুনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিস্তারিত আসছে…

শেয়ার করুন

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, রাজমিস্ত্রি নিহত

জামালপুরে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যায় ট্রাকের চালক ও হেলপার। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

জামালপুরের মেলান্দহে অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

উপজেলার চরবানি পাকুরিয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজমিস্ত্রি রকিবুল টিকাদারের বাড়ি মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর গ্রামে।

আহতরা হলেন একই গ্রামের নুরু শেখ, সুরুজ মিয়া ও মিলন মিয়া। তারা সবাই জেলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) এম এম মঈনুল ইসলাম জানান, সকালে মেলান্দহের ঝিনাই ব্রিজের পরে দেওয়ানগঞ্জগামী একটি ট্রাক জামালপুরগামী অটোরিকশাটিকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশার চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. অনিক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে রকিবুল মারা যান। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।

ওসি মঈনুল জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়ে যান ট্রাকের চালক ও হেলপার।

এই ঘটনায় পুলিশ কোনো অভিযোগ পায়নি বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

সাপের কামড়ে নারীসহ মৃত ২

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। আর দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগমকে গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপ কামড় দেয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার রঘুনন্দনপুর ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামে রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন, রঘুনন্দনপুর গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের আজগার আলির স্ত্রী রোকসানা বেগম।

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে গোখড়া সাপ তাকে দংশন করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকাল ৮টার দিকে তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মোকাদ্দেসকে মৃত ঘোষণা করেন।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যালের অফিসার কনক জানান, তার পায়ে দুটি দংশনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় কবিরাজ দেখিয়ে রোগীকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলাই কুমার বিশ্বাস জানান, দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তাকে সাপ কামড় দেয়।

পরে যন্ত্রণা শুরু হলে স্বজনরা তাকেও প্রথমে গ্রাম্য ওঝার কাছে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

শেয়ার করুন

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

পানের বরজে বানের পানি, প্রণোদনা চান চাষিরা

মাদারীপুরে পানের বরজ বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় প্রণোদনা চেয়েছেন চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাদারীপুরে আড়িয়াল খাঁ নদে পানি বেড়ে বন্যার দেখা দিয়েছে। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পানি নদীর দুই তীর উপচে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এতে কালকিনি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে পানের বরজে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি প্রণোদনার দাবি পানচাষিদের। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, পানচাষিদের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে নাকি।

পানচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, গেল কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী, উত্তর রাজদী, পাতাবালি ঠেঙ্গামারা, বাশঁগাড়ি, এনায়েতনগর, রমজানপুরসহ অন্তত ১১টি ইউনিয়নে ফসলি জমিতে পানি উঠেছে।

এসব এলাকার পানের বরজে পানি ঢুকে গেছে। এ ছাড়া এসব এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। রোপা আমন ধানের চারা এখন পানিতে তলিয়ে আছে। তবে এসব অঞ্চলের প্রধান কৃষি ফসল পানের বরজে পানি ঢুকে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের।

কালকিনি পৌরসভার উত্তর রাজদী গ্রামের পানচাষি ইকবাল হাওলাদার বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানের বরজে উজানের পানি ঢুকছে। সেচ পাম্প দিয়া বরজ থেইকা পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু পানির চাপ অনেক বেশি।

‘আমার দুই বিঘা জমির পানের বরজ নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে লোকজন এসেও দেখে যায় নাই। এমনিতে একটু উচুঁ জমিতে পান চাষ করা হলেও পানি বেশি হওয়ায় ক্ষতিটা হয়েছে।’

পানচাষি মজিবুর শেখ বলেন, ‘আমাদের পানের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায় তাইলে আমরা শেষ। আমাদের এলাকা পান চাষ করেই টিকে আছি। যদি আমরা আর চাষ না করতে পারি তাইলে এই অঞ্চলে আর পানচাষি থাকবে না।’

সরকারি সহযোগিতার জন্য একই কথা বলেন আরও কয়েকজন পানচাষি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানান, কালকিনি উপজেলায় মূলত পান আবাদ করা হয়। উপজেলায় এ বছর ১৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। সম্প্রতি বন্যায় পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে পানের বরজ একটু উচুঁ জমিতে হওয়ায় তেমন প্রভাব পড়বে না। তারপরেও চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

করোনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বেলা ১টার দিকে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ফেরদৌসি বেগম রোববার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি হাটহাজারীর ছিপাতলী আলী মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের সমুরা এলাকায়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা আলম বলেন, ‘ফেরদৌসি বেগম ১৫ সেপ্টেম্বর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে আমাকে জানান। আমরা তাকে স্কুলে না যাওয়ার পরামর্শ দিই। ২০ সেপ্টেম্বর তার করোনা পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এর আগেই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও জানান, ফেরদৌসি বেগম ছাড়াও উপজেলার আরও তিন সহকারী শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

তারা হলেন হাটহাজারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিনা আক্তার, উত্তর বুড়িশ্চর রশিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি দত্ত এবং উত্তর মাদার্শা মাহলুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা বড়ুয়া।

তারা সবাই এখন পর্যন্ত সুস্থ আছেন। তাদেরকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরও স্কুল বন্ধ ঘোষণা না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম সিরাজী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুল খোলার পর ফেরদৌসি বেগম সম্ভবত দুদিন স্কুলে এসেছিলেন। এরপর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় আর স্কুলে আসেননি।

‘তখন থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। স্কুলের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সুস্থ আছেন। এ ছাড়া অন্য যে শিক্ষকরা করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন, তাদের স্কুলও চলছে।’

শেয়ার করুন

পিটিয়ে জখমের পর পায়ের ‘রগ কর্তন’

পিটিয়ে জখমের পর পায়ের ‘রগ কর্তন’

মান্নান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বোন হাসি যখন লোকজন নিয়া আমারে রাস্তায় আটকাইয়া দাড়াইছে তহন চেয়ারম্যান পল্টু হাসিরে ফোনে কইতেছিল, ওর হাত পায়ের রগ কাইট্টা দে, তাইলেই মইরা যাইবে আনে। হেইয়ার পরই মোর মাতায় পিছন দিয়া পিডান দেয়। আর কিছু মনে করতে পারছি না।’

বরগুনার পাথরঘাটায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখমের পর পায়ের রগ কেটে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি গ্রামে সোমবার সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জেনেছেন।

আহত আবদুল মান্নান ফকিরকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মান্নান কাকচিড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাইনচটকি গ্রামের লেহাজ উদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইক চালক।

মান্নানের মেয়ে মুন্নি আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে বাবা ইজিবাইক চালাতে কাকচিড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। জহির জোমাদ্দারের বাড়ির সামনে পৌঁছতে কাকচিড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন পল্টুর বোন হাসি বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন তার গতিরোধ করেন। এ সময় একজন লাঠি দিয়ে পেছন থেকে বাবাকে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মান্নান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বোন হাসি যখন লোকজন নিয়া আমারে রাস্তায় আটকাইয়া দাড়াইছে তহন চেয়ারম্যান পল্টু হাসিরে ফোনে কইতেছিল, ওর হাত পায়ের রগ কাইট্টা দে, তাইলেই মইরা যাইবে আনে। হেইয়ার পরই মোর মাতায় পিছন দিয়া পিডান দেয়। আর কিছু মনে করতে পারছি না।’

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক তারেক রহমান বলেন, মান্নানের মাথার পেছনে আঘাত রয়েছে। উভয় পায়ের গোড়ালিতে ধারাল অস্ত্রের জখম হয়েছে। ডান পায়ের জখম গুরুতর। রগ কেটেছে কিনা পরীক্ষা না করে বলা যাচ্ছে না।

ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন পল্টু বলেন, ‘মান্নাকে কে বা কারা মেরেছে আমার জানা নেই। সে বরাবরই আমার বিরোধীতা করে আসছে। এখন তাকে মারধরের বিষয়েও দোষারোপ করে ফায়দা নিতে চাইছে।’

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি, সেখানে আমাদের ফোর্স পাঠানো হয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। হামলার শিকার মান্নানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন