বার কাউন্সিল অ্যাডহক কমিটি বিল সংসদে

বার কাউন্সিল অ্যাডহক কমিটি বিল সংসদে

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, তিন বছর মেয়াদের কমিটির জন্য বছরের ৩১ মের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন হবে। মহামারি, দৈব দুর্বিপাক অথবা অন্য কোন অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন করা না গেলে সরকার একটি ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করবে। এই কমিটির প্রধান হবেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

বার কাউন্সিলে নির্বাচন করা না গেলে অ্যাডহক কমিটি চেয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে জাতীয় সংসদে। শুক্রবার বিকেলে একাদশ সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের তৃতীয় সেশনে এই প্রস্তাব তোলা হয়।

এতে বলা হয়, মহামারি, দৈব দুর্বিপাক অথবা অন্য কোনও অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন করা না গেলে অ্যাডহক কমিটির সুযোগ তৈরি করে বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হোক।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১ নামে এই প্রস্তাব সংসদে তোলেন।

বিদ্যমান আইনটি ১৯৭২ সাল থেকে কার্যকর আছে।

করোনাভাইরাসের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না করতে পারায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করে গত ২৮ জুলাই একটি অধ্যাদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি।

অধ্যাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই সেটি উত্থাপনের নিয়ম রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর সেই অধ্যাদেশটি নিয়ম অনুযায়ী সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী। অধ্যাদেশের বিধানগুলো বিদ্যমান আইনে সংযোজন করতেই এবার সরকার বিলটি এনেছে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, তিন বছর মেয়াদের কমিটির জন্য বছরের ৩১ মের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন হবে। মহামারী, দৈব দুর্বিপাক অথবা অন্য কোন অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার কাউন্সিলের নির্বাচন করা না গেলে সরকার একটি ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করবে। এই কমিটির প্রধান হবেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

বিলে বলা হয়েছে, এই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর। এই কমিটির মেয়াদ বাড়বে না বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৮ মার্চ বার কাউন্সিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফসিল অনুযায়ী গত ২৫ মে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি সভা করে গত ৩ এপ্রিল বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অর্থাৎ অ্যাটর্নি জেনারেল। তাকে নিয়ে ১৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি বার কাউন্সিলের।

ভোটের মাধ্যমে দেশের সনদপ্রাপ্ত প্রায় অর্ধলাখ আইনজীবী তিন বছরের জন্য ১৪ জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। তার মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে সাতজন ও দেশের সাতটি অঞ্চল থেকে বাকি সাতজনকে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করেন।

২০১৮ সালের বার কাউন্সিল নির্বাচনে ১৪ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রার্থীরা ১২টি পদে এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দুটি পদে বিজয়ী হন।

পরে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন। বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয় জুন মাসে।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

ফেসবুক লাইভে গাঁজা সেবন: যুবককে খুঁজছে পুলিশ

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়। 

দিনাজপুর শহরের রামনগরে ফেসবুকে লাইভে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে গাঁজা সেবন করানোর অভিযোগে এক যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

দিনাজপুর কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি লাইভ পুলিশের নজরে এসেছে। “Saddam K” নামের আইডি থেকে এক যুবক লাইভে এসে এক ব্যক্তিকে গাঁজা সেবনে সাহায্য করছেন। তারা খোঁজ নিয়ে দেখেছেন ওই স্থানটি রামনগর এলাকায়।

আসাদুজ্জামান জানান, ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে ভিডিওতে যাকে গাঁজা দেয়া হচ্ছে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন, রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ান।

এ ঘটনার পর লাইভ করা সাদ্দাম নামের ওই আইডির মালিককে আটক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন।

এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার আসিক আলীকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার কানসাটে গোপালনগর মোড় এলাকায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের রেনুয়ারা বেগম ও দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের হারুন আলী।

শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদের দিকে যাওয়ার পথে উপজেলার কানসাট গোপালনগর মোড় এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন।

আহত তিনজনকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখান থেকে ২ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিদর্শক আরও জানান, হেলপার ট্রাকটি চালাচ্ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

পিকআপ-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে দাদা-নাতি নিহত

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জে পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তার এক বছর বয়সী নাতি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বিয়ানীবাজার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলঢুপ পাতন গ্রামের ৭০ বছরের সফিক উদ্দিন ও তার নাতি আরিয়ান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, সকালে ফাজিলপুর এলাকায় বিয়ানীবাজার থেকে যাওয়া প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় কানাইঘাটমুখী পিকআপ ভ্যানের। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে হুছনা বেগম, ফাতেমা আক্তার পপি, তামান্না ও নাসির উদ্দিনকে। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহদুটিও সেখানে নেয়া হয়েছে।

ওসি হারুনূর রশীদ জানান, হতাহতরা সবাই ছিলেন প্রাইভেট কারে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে আহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য রয়েছেন। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে গেছেন পিকআপচালক।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলব সাংবাদিকদের মাঝে ‘ভীতি ছড়াতে’

ব্যাংক হিসাব তলবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছেন।’

সাংবাদিকদের মাঝে ভীতি ছড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর শীর্ষ ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বলে মনে করছেন এসব নেতা।

ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সম্মানহানির প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ১১ সাংবাদিক নেতা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবে সাংবাদিকদের মনে গভীর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসিউর রহমান বলেন, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব এভাবে তলব করা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনোদিন এরকম ঘটনা ঘটেনি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি।

‘নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কেন, কী কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে নানা ধরনের আশঙ্কারও সৃষ্টি করেছে। অনেকে বিএফআইইউর এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টির কৌশল বলেও মনে করছে।’

বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন মসিউর রহমান। বলেন, ‘কারণ, গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশের সরকার ও সচেতন সমাজ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি কিংবা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল মেনে নেয় না, নিতে পারেনা।’

বিএফআইইউ সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে যে চিঠি দিয়েছে তাতে তথ্য পাওয়ার আগেই তথ্য চাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার উদ্দেশ্যও জানতে চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মশিউর রহমান বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএফআইইউর দেয়া চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশ করায় সমাজের মানুষের কাছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ তথা সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করছি। কেননা এতে করে সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যা কারো কাম্য নয়।’

সাংবাদিক সমাজ ও দেশবাসীর সামনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বলে জানান মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের ভোটে নির্বাচিত। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের কাছে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করি। সে বিবেচনায় আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন কিংবা কোনো ধরনের মানি লন্ডারিং কিংবা জঙ্গি অর্থায়নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায় তা যেন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আর যদি তা না হয় তবে সেটাও যেন যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।’

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমাজকে পাশে চেয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লড়াই-সংগ্রাম, নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংকটে আপনারা আমাদের পাশে থেকেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা আপনাদের পাশে চাই। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের হুমকি ধামকিতে আমরা অতীতে যেমন পিছপা হইনি, ভবিষ্যতেও হব না।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘ইন্টেলিজেন্স ইউনিট যে কারণে ব্যাংক হিসেব তলব করে তার কিন্তু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। যদি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন থাকে বা জঙ্গি অর্থায়নে সাস্পেক্ট করা হয়…তবে আমাদের এমন কোনো অভিযোগের কারণ নেই। আমি সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে তারা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তথ্যমন্ত্রী ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলনে এসেছিলেন। ওনাকে জিজ্ঞেসা করেছি। উনিও বলছেন উনি কিছুই জানেন না।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিকে উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আমরা বিস্মিত যে এভাবেও কোনো চিঠি হয়। তারা ১২ তারিখে চিঠি জারি করেছে। আমরা জেনেছি গণমাধ্যমে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএনপিপন্থি) বিএফইজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএনপিপন্থি) ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

কহিনূর ভিলার মূল ফটক। ছবি: নিউজবাংলা

মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে স্বাধীনতার পক্ষে থাকায় পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও তাদের স্মৃতি রক্ষায় নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বাড়ির সামনে যে স্মৃতিফলক আছে সেখানে অস্পষ্ট হয়ে গেছে শহীদদের নাম। উত্তরসূরি ও স্থানীয় লোকজন বাড়িটি সংস্কারের দাবি জানালেও প্রশাসন এখনও দ্বিধায়।

কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালীপাড়ায় রজব আলী খান চৌধুরী লেনের ৪৭ নম্বর বাড়িটি কহিনূর ভিলা। একতলা এ বাড়িটি এখন বেহাল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই বাড়ির ১৬ জনকেই গলা কেটে হত্যা করে রাজাকার ও বিহারিরা। সেই থেকে এ দিনটি ‘কহিনূর ভিলা গণহত্যা দিবস’ হিসেবে জেলায় পালিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করে স্বাধীনতার পক্ষে থাকায় নিশ্চিহ্ন করা হয় পরিবারটিকে। তাদের স্মৃতি রক্ষায় এত বছরেও নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বাড়ির সামনে যে স্মৃতিফলক আছে, সেখানে অস্পষ্ট হয়ে গেছে শহীদদের নাম।

উত্তরসূরি ও স্থানীয় লোকজন বাড়িটি সংস্কারের দাবি জানালেও প্রশাসন এখনও দ্বিধায়।

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

দেশওয়ালীপাড়ার বাসিন্দা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন আহমেদের বর্ণনায় উঠে আসে সেদিনের ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘কহিনূর ভিলার মালিক রবিউল হক একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তার বেকারির ব্যবসা ছিল। মা কহিনূরের নামে বাড়ির নাম রাখেন তিনি। এই বাড়িকে তখন মানুষ রুটি বাড়ি হিসেবেও ডাকতেন।

‘স্থানীয় বিহারিদের সঙ্গেও রবিউল হকের ভালো সম্পর্ক ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর বেকারি বন্ধ করে তিনি পরিবার নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে কমলাপুর গ্রামে চলে যান। পরে বিহারিরাই তাদের ডেকে নিয়ে আসে বেকারি চালানোর জন্য। হঠাৎ করেই ওই রাতে বিহারিরাই বাড়ির ১৬ জনকে জবাই করে হত্যা করে।’

মুক্তিযোদ্ধা নাসির আরও বলেন, ‘সাফিয়া নামের এক নারী এই ১৬ জনের দাফন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ঘটনার কিছুটা দেখেছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা যান তিনি।’

সাফিয়ার বরাত দিয়ে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘বিহারিরা প্রথমে এসেই বাড়ির বারান্দায় চা-পানি খায়। পরে বাড়িতে ঢুকে ছোট বাচ্চাদেরও গলা কেটে হত্যা করে। পাশের পুকুরেও দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। বাড়ির মালিক রবিউল ইসলামের দুই স্ত্রী ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। ঘাতকরা তাকেও ছাড়েনি।’

‘১৮ সেপ্টেম্বর সকালে সবাই বাড়ির সামনের ড্রেনে রক্ত দেখে ঘটনা আঁচ করে।’

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

নাসির উদ্দীন জানান, নিহত ১৫ জনই একই পরিবারের সদস্য আর আসাদ নামের একজন ছিল কর্মচারী। এর মধ্যে রবিউল হক, তার ভাই আরশেদ আলী, ছেলে আব্দুল মান্নান ও আব্দুল হান্নানের মরদেহ পাওয়া যায় নফর শাহ মাজারের কাছে হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায়। অন্যদের মরদেহ ছিল ওই বাড়িতেই।

স্থানীয় লোকজনের ধারণা, ওই চারজন কোনোভাবে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের ধাওয়া করে নফর শাহ মাজারের কাছে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়।

মরদেহগুলো বাড়ির পেছনেই কবর দেন স্থানীয় লোকজন।

দেশ স্বাধীনের পর এই পরিবারের উত্তরসূরিরা ভারত থেকে এসে কহিনূর ভিলায় বসবাস শুরু করেন। তাদের পুনর্বাসন করে বাড়িটি অধিগ্রহণ করে স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়া তোলার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন।

পরিবারের সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘কহিনূর ভিলা এখন ভেঙে পড়ছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে আমরা বাস করছি। কেউ কোনো খোঁজই নেয় না।’

নিহতদের শহীদের মর্যাদা দেয়া ও তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান পরিবারের আরেক সদস্য আকলিমা খাতুন হাসি।

একাত্তরে ১৬ হত্যার সাক্ষী কহিনূর ভিলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল বলেন, ‘কহিনূর ভিলার মতো দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গণহত্যার জায়গাগুলো সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব জায়গা থেকে ইতিহাস জানতে পারবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হতে পারবে।’

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য হাজি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ আমাদের নেই। তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তবে বিষয়টি হৃদয়বিদারক।’

কহিনূর ভিলা সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তিনি দেখবেন।

আরও পড়ুন:
বার কাউন্সিলে ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি
ভোট না হলে বার কাউন্সিলে থাকবে অ্যাডহক কমিটি

শেয়ার করুন