আ. লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ঘোষণা গয়েশ্বরের

আ. লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ঘোষণা গয়েশ্বরের

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধি। ছবি: সংগৃহীত

‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। যারা জিয়াউর রহমানের খেতাব ও মরদেহ নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন, এতে সব মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা হচ্ছে। যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবিষ্যতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খেতাব ও কবরে তার মরদেহ আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার সমাধিতে মরদেহ আছে কি না তা নিয়ে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা প্রশ্ন তোলার পর এ ঘোষণা দিলেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। যারা জিয়াউর রহমানের খেতাব ও মরদেহ নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন, এতে সব মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা হচ্ছে। যারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভবিষ্যতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার হবে।’

তারেক রহমানের ১৪তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত ‘ওয়ান ইলেভেনের ষড়যন্ত্র এবং আজকের বাংলাদেশ’-শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

গত কয়েক দিন ধরেই জিয়ার সমাধিতে মরদেহ থাকা না থাকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি কথা বলেছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ নিয়ে কথা বলেছেন।

সম্প্রতি দলীয় এক সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছেন সেই প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নেই বলেও মন্তব্য করেন।

আ. লীগ নেতাদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ঘোষণা গয়েশ্বরের
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার জানাজার বিষয়টি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের জানাজার সঙ্গে তুলনা করে কাদের বলেন, ‘মানুষ একজন প্রেসিডেন্টের জানাজা পড়েছে, কিন্তু কফিনে যে লাশ ছিল, তা তো দেখাতে পারেননি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের জানাজায়ও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল, কিন্তু কফিনে তো তার লাশ ছিল না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে নাকি জিয়াউর রহমানকে প্রথম কবর দেয়া হয়েছিল। সেখানেও জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি, একটা বাক্স দেখেছিল।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের এসব কথার জবাবে গয়েশ্বর বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়ে সার্টিফিকেট দেয়ার অধিকার কারও নেই। এই কথার মাধ্যমে তারা নোংরা রাজনীতির চর্চা করছে। জিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এক চিরন্তন সত্য। এইসব নিয়ে নোংরা কথা বলে তারা জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চায়।’

শেখ হাসিনা না থাকলে আওয়ামী লীগ ‘ফুলস্টপ’ হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার অস্তিত্বের কারণে আওয়ামী লীগ টিকে আছে, কিন্তু দিনে দিনে তাদের ভিত দুর্বল হয়ে গিয়েছে। তাদের পতনে সময় ঘনিয়ে এসেছে।

‘শেখ হাসিনা না থাকলে আওয়ামী লীগ নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই দল টিকিয়ে রাখতেই শেখ হাসিনা জোর করে ক্ষমতায় থাকছেন। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসতে শেখ হাসিনার পতনের কোনো বিকল্প নেই।’

তারেক রহমানের কারামুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া এখনও বন্দি। তাই তাদের পরিপূর্ণ মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। দেশের গণতন্ত্র উদ্ধারে তাদের মুক্তির কোনো বিকল্প নেই।’

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বাংলাদেশ নাগরিক আন্দোলনের মহাসচিব এম জাহাঙ্গীর আলম ও এলডিপির মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

সেলিমা-আমান-শিমুলসহ বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিচার শুরু

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

রাজধানীর রামপুরা থানায় করা বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বিচার শুরু হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ নেতা সেলিমা রহমান, আমান উল্লাহ আমান, শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, বরকত উল্লাহ বুলু, মীর সরাফত আলী সফু, আজিজুল বারী হেলাল, শওকত মাহমুদ এবং রাজিব আহসান।

এ মামলার অন্যতম আসামি শফিকুল বারী বাবু মারা গেছেন। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৯ অক্টোবর সাক্ষ্য নেয়ার তারিখ ঠিক করেছে আদালত।’

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৪৫ জন বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রামপুরার ডিআইটি রোডের ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন।

তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে কর্তব্যেও বাধা দেন।

এ ঘটনায় রামপুরা থানার এসআই বাবুল শরীফ ওইদিনই মামলাটি করেন। মামলা তদন্ত করে খিলগাঁও জোনাল টিমের এসআই আশরাফুল আলম ৪১ জনকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে দুটি আলাদা অভিযোগপত্র দেন।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন।’

সংবিধান মেনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগও মতামত কমিশনে দেবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেমন গায়ের জোরে আইন লঙ্ঘন করতে চায়, তেমনি সংবিধানও জানতে চায় না। জাতীয় নির্বাচন কীভাবে, কার অধীনে হবে- এটা মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানসম্মতভাবে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।’

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য কাদেরের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন। সময় হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও নির্বাচন কমিশনে মতামত দেবে।’

‘গত ১৩ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলনের নিষ্ফল আহ্বান যেমনি ব্যর্থ হয়েছে, বর্তমান প্রয়াসও নিষ্ফল হবে’, যোগ করেন কাদের।

শেখ হাসিনার উদারতা দুর্বলতা নয়

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উদারতা’, এটাকে ‘দুর্বলতা’ ভাবলে বিএনপি ভুল করবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে মনগড়া কথা বলাই বিএনপির স্বভাব। তারা অভিযোগ করেছে, সরকার নাকি বেগম জিয়াকে ভয়ে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপিই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চায় কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে।’

বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজনীতি করছেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপারে যতটা নজর দিচ্ছেন, তার চেয়ে তাদের চিন্তা বেগম জিয়াকে ইস্যু করে রাজনীতি করা।’

বেগম জিয়া কিংবা ক্ষয়িষ্ণু বিএনপিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভয় পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিয়ে সাজা স্থগিত করেছে চতুর্থবারের মতো। এ উদারতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। বিএনপি শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে।’

ভাবনায় এবং চর্চায় বিএনপির একমুখী দর্শন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের শিকড়কে দিন দিন দুর্বল করছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মীমাংসিত। বিএনপি সব সময় মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার অপপ্রয়াস চালায়। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশ গমন বিদ্যমান আইনে সুযোগ আছে কি না, এটা বিএনপিও ভালো করে জানে।’

আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেও বিএনপি জেনে-শুনে না জানার ভান করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ কাদেরের।

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রীর জন্য তারা এত মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য একটা কার্যকর বিক্ষোভ মিছিলও তারা বাংলাদেশের কোথাও এ যাবৎ করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

নির্বাচনে জাতিসংঘের সহযোগিতা লাগবে না: তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে। আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন সম্পন্নের বিষয়ে জাতিসংঘের সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সোমালিয়া বা ইথিওপিয়ার নয় যে, এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহায়তা লাগবে।

‘আমি মনে করি নির্বাচনের এখনও অনেক বাকি। নির্বাচন কমিশন অনেক শক্তিশালী। এখানে কারও সহযোগিতা প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’

বাংলাদেশ চাইলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে রোববার এক অনুষ্ঠানে জানান ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ কোনো দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে না। তবে কোনো দেশের সরকার নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় সহায়তা চাইলে জাতিসংঘ তা দিয়ে থাকে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা সেই সহযোগিতা দেবো।’

সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টায় জাতিসংঘ মধ্যস্থতার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি মিয়া সেপ্পো।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠান একান্তই হোস্ট কান্ট্রির স্টেকহোল্ডারদের বিষয়। তারা চাইলে জাতিসংঘ যেকোনো ধরনের সহায়তা করে। কোনো দেশ চাইলেই তাদের নির্বাচনে সহযোগিতা দেয় জাতিসংঘ। সেটা বাংলাদেশেও ঘটতে পারে।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বহুল আলোচিত নির্বাচনের আগে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে রাজনীতি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতায় দুই দফা ঢাকা এসেছিলেন। কিন্তু সেই সিরিজ সংলাপ সফল হয়নি।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

২২ বছর পর কৃষক দলের কমিটি

২২ বছর পর কৃষক দলের কমিটি

কৃষক দলের নতুন সভাপতি হাসান জাফির তুহিন (বাঁয়ে) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল। ছবি: সংগৃহীত

সংগঠনটির আংশিক কমিটিতে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি ও শহীদুল ইসলাম বাবুলকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক। আর সহসভাপতি হিসেবে আছেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

২২ বছর পর গঠিত হলো জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

সংগঠনটির নেতা হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহীদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কমিটির অনুমোদন দেন বলে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

আংশিক কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে আছেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সহসভাপতি গৌতম চক্রবর্তী, যুগ্ম সম্পাদক পদে টি এস আইয়ুব, মোশারফ হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন শফিকুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২

কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় ২ জন নিহত হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালীন কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার দুই কেন্দ্রে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। দুটি এলাকায় আহত হয়েছে সাতজন। দুই কেন্দ্রেই সংঘর্ষের পর বন্ধ রাখা হয়েছে ভোট গ্রহণ।

কুতুবদিয়ার বড় ঘোপ ইউনিয়নের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষে নিহত হন আব্দুল হালিম। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চারজন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জামশেদুল ইসলাম সিকদার।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন তিন নারী।

কুতুবজোম ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম। তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থক বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাই।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, ভোট চলাকালীন ওই কেন্দ্রে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামালের সমর্থকদের সঙ্গে চশমার প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হন চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় কালামের।

গুলিবিদ্ধ তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন ইসলামাবাদী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কুতুবজোম দাখিল মাদ্রাসা ও কুতুবজোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট নেয়া বন্ধ আছে।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচনে ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন করেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন পূর্ব সহিংসতা, সংঘর্ষসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বাগেরহাটে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬৫টি ইউনিয়নে ভোট চলছে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে সোমবার বেলা ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ‘আমার জয় নিশ্চিত জেনে তারা নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল করে দোষ চাপাচ্ছে।’

এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ রানা লালন ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন।

মাসুদ রানা লালন বলেন, ‘সকাল থেকেই আমার কর্মী-সমর্থকদের চাপ দিচ্ছিল নৌকার সমর্থকরা। পরে আমার এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়। ভেবেছিলাম নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, ভাবাই সারা হল আমাদের।’

ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়া, ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলাসহ এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন।

এ ছাড়া চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকটি জায়গায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

ভোটের আগেরদিন রোববার রাতে নির্বাচনি সহিংসতায় মোংলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে, বাগেরহাটের ৯ উপজেলার মোট ৬৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হচ্ছে। তবে ভোট হচ্ছে ৬৫টি ইউনিয়নে। কারণ কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১৩টি পদের সব কয়টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

চান্দিনার সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত

চান্দিনার সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার জানান, ‘১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। তিন বৈধ প্রার্থীর দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়ায় ৭ অক্টোবর ভোট গ্রহণের সুযোগ থাকছে না। তাই ২০ সেপ্টেম্বর একমাত্র প্রার্থী প্রাণ গোপাল দত্তকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল।’

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রাণ গোপাল দত্তকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল তালুকদার সোমবার বেলা ১১টায় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। তিন বৈধ প্রার্থীর দুইজন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয়ায় ৭ অক্টোবর ভোট গ্রহণের সুযোগ থাকছে না। তাই ২০ সেপ্টেম্বর একমাত্র প্রার্থী প্রাণ গোপাল দত্তকে বিজয়ী ঘোষণা করা হল।’

প্রাণ গোপাল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সে সময় দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন অধ্যাপক আলী আশরাফ।

ওই আসনের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ ৩০ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আসন শূন্য হলে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা-৭ আসনে উপনির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
এত কথা বলেন কেন: কাদেরকে গয়েশ্বর
সরকার পতনে আন্দোলনের ডাক দিতে বললেন গয়েশ্বর
বিএনপিতে সবাই নেতা, কর্মী নেই কেউ: গয়েশ্বর
আমরা চাইলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন: গয়েশ্বর
সরকার গায়ের জোরে খালেদাকে মারতে চায়: গয়েশ্বর

শেয়ার করুন