ফখরুলের অপপ্রচারে সতর্ক থাকুন: কাদের

ফখরুলের অপপ্রচারে সতর্ক থাকুন: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের (বায়ে) ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিয়ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছেন। আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে মরিয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল নানা ধরনের অপপ্রচার রটাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসব ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে কাদের বলেন, ‘অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে মরিয়া বিএনপি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তাই বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিনিয়ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করে যাচ্ছে।

‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনায় বিশ্বাসী সকল মানুষকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে জানিয়ে কাদের বলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে নতুন নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি এখন থেকেই পরবর্তী নির্বাচন বানচালের ফন্দি আঁটছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

কাদের বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনি জিয়া-মোশতাক চক্র অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল।’

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘আজ যখন দেশে গণতান্ত্রিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ভিত্তি সুসংহত, তখন গণতন্ত্র হত্যাকারী বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি অত্যন্ত লজ্জাকর।’

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জের ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির আন্দোলনের অংশ। অর্থাৎ বিএনপি নির্বাচনে জেতার লক্ষ্যে নয়, নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল।’

কাদেরের মতে, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলও অংশগ্রহণ করে।

কাদেরের মন্তব্য, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হওয়া এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের কারণে বিএনপি জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি জনগণের ওপর দায় চাপায়।

তিনি বলেন, ‘নিজেদের পরাজয় আড়াল করার লক্ষ্যে নির্লজ্জভাবে তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করে আসছে। মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির ওপর শুরু থেকেই বিএনপির কোনো আস্থা নেই।‘

বিএনপি দেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছিল জানিয়ে কাদের বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নির্বাচন ও নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করেছিল। এর পর যতবারই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে ততবারই তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনন্দনবার্তা জাপার

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে তাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

সোমবার এক অভিনন্দনবার্তায় সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন জি এম কাদের।

বার্তায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে সকল উদ্যোগে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। তার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বিতাড়িত হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও দুর্নীতি।’

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান গোপালগঞ্জের টু্ঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

সাকি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া নির্বাচনে গিয়ে আর ধোঁকা খেতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

রংপুরের সুমি কমিউনিটি হলরুমে সোমবার দুপুরে দলটির ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাকি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন কিন্তু কথা রাখেন নাই। কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাজেই আপনার কথায় আর কেউ বিশ্বাস করে না। বাংলার মানুষ আপনার পদত্যাগ চায়।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনাকে সম্মান দিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো আপনার ডাকে গিয়েছিলাম। ২৯ তারিখ রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে, প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, নিজেদের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে রাতে ব্যালট ছাপিয়ে নিলেন। ব্যালট বাক্স ভরে নিলেন।

‘কোথাও কোথাও ভোটই আছে ১০০ সেখানে পড়েছে, ১১০ বা ১২০টা। এতই অতি উৎসাহী ছিলেন তারা। আমরা জনগণ আর ধোঁকা খেতে রাজি নই। সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা মানুষ দেখেছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশে আরেকটি নির্বাচনের জন্য লড়াইয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

‘যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে। সবাইকে আন্দোলনে নামিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পথ সৃষ্টি করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের

বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷’

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে হবেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক উপকমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে দেয়া বক্তব্যে কাদের বলেন, দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প নেতা নেই।

ওই সময় তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে পরবর্তী নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে? এর জবাব যদি টেমস নদীর পাড়ে (লন্ডন) চলে যায়, তা দেশের মানুষ কোনো দিনও গ্রহণ করবে না।

‘আমি বিএনপিকে প্রশ্ন করতে চাই, আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? আন্দোলনে আপনাদের লিডার কে? কাকে ঘিরে আন্দোলন করবেন? কাকে ঘিরে সরকার গঠন করবেন?’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমাদের লিডার হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷ একজনকে দেখাবেন; পলাতক, দণ্ডিত আসামি।

‘দণ্ডিত, পলাতক এক ব্যক্তি। তিনিই আপনাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এটা কি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে? এটা কি শেখ হাসিনার বিকল্প হতে পারে? মানুষ এত বোকা নয়। বিএনপিকে ভোট দিয়ে লাভ নেই।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

উপজেলা আ. লীগের কমিটি নিয়ে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ

উপজেলা আ. লীগের কমিটি নিয়ে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ

উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে রোববার বিকেলে পাকুন্দিয়া ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করেন একাংশের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কমিটিকে উদ্দেশ করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, ‘সোহরাব উদ্দিনের মতো লোককে কমিটিতে দিয়ে পাকুন্দিয়ায় যে আগুন লাগানো হয়েছে, সে দাবানলে আপনারাই পুড়ে ছারখার হবেন।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একাংশের নেতা-কর্মীরা।

রোববার বিকেলে ঈদগাহ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশ হয়।

উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন নারান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীরসহ অনেকে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সোহবার উদ্দিনকে বহিষ্কার এবং কমিটি বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।

নারান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। তার মাধ্যমে পুরো উপজেলার জামায়াত-বিএনপির চিহ্নিত নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন এলাকার চোর-ডাকাতদের এই কমিটিতে ঢোকার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে মানা হবে না।’

জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ বলেন, সোহরাব উদ্দিন মানবতাবিরোধী মামলার আসামি। এ কারণেই ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগ তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ঘোষণা করেছে। তাকে আহ্বায়ক ঘোষণার পর থেকেই এই কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কমিটি বাতিল করা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এ উপজেলায় বহু ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতা-কর্মী থাকতে সোহরাবের মতো লোককে আহ্বায়ক ঘোষণা করা হলো কেন?’

জেলা কমিটির নেতাদের উদ্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, ‘সোহরাব উদ্দিনের মতো লোককে কমিটিতে দিয়ে পাকুন্দিয়ায় যে আগুন লাগানো হয়েছে, সে দাবানলে আপনারাই পুড়ে ছারখার হবেন।

‘অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করা না হলে আগামী ৪ অক্টোবরের পর কঠোর আন্দোলনে নামতে হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম দেওয়ান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বোরহান উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন।

চলতি বছরের ২২ জুলাই জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করে জেলা আওয়ামী লীগ। এ দিন সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভ করে আসছে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী। কমিটি ঘোষণার এক দিন পরই তাকে অবাঞ্ছিত করে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

৯ সেপ্টেম্বর সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক রেখেই ৬৭ সদস্যের কমিটির অনুমোদন করে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। সে কমিটির তথ্য প্রচার হয় ১৩ সেপ্টেম্বর।

এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কথা হয় সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬৭ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা বিতর্কিত কোনো লোককে রাখা হয়নি। তারা এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাকুন্দিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইচ্ছা করলেই সবাইকে তো আর কমিটিতে
রাখা যায় না। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ বৃহৎ সংগঠন। এই হিসেবে নতুন কমিটি ঘোষণা হলে যারা বাদ পড়েন বা পদবঞ্চিত হন, তাদের মান-অভিমান থাকেই। অনেকে অসন্তুষ্ট হতেই পারেন।’

সবাইকে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন বলেও জানান সোহরাব উদ্দিন।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

রোববার গাজীপুরে জাহাঙ্গীর বিরোধী বিক্ষোভে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

মেয়র জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে জাহাঙ্গীরের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিনও জাহাঙ্গীরের বিচার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করেন তারা। অবরোধের কারণে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

রোববার বিকেল ৪টায় টঙ্গীর শিলমুন ও টিএন্ডটি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, মহানগর তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আমান, ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর, ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় টিএন্ডটি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘন্টা টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

একই সময়ে ৫৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলী আফজাল খান দুলুর নেতৃত্বে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুজ্জামান জামান, এনতাজ মোড়ল, হাজী কাশেম সরকার, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম স্বপন, যুবলীগ নেতা সেতু সরকার, রুমি সরকার, রাসেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পিংকু প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের
বিক্ষোভকারীদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় সড়কে যান চলাচল

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ জনসভা করবে। ওই জনসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ওই জনসভায় মেয়র বিরোধীরা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ জন্যই রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়মীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মেয়রের সমালোচনায় সরব হন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন তারা।

সভায় মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি শাহ আলম জাহাঙ্গীরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিয়ে সমালোচনা করে মেয়র জাহাঙ্গীর লাই পেয়েছে। লাই পাওয়ার কারণে সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করার সাহস পেয়েছে। তার জিহ্বা লম্বা হয়ে গেছে, সেই জিহ্বা এখনই কেটে দিতে হবে। জামাত-বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে করতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিপক্ষে বলে ফেলে।’

টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বা মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আক্রোশ নেই। আমরা সবাই মুজিব আদর্শের সন্তান। জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ন্যাক্করজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য অবশ্যই তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সহিংস কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হোসেন মেয়র জাহাঙ্গীরকে নাবালক উল্লেখ করে বলেন, ‘নাবালক একটি ছেলে এসে মাত্র সোয়া তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সেই নৌকাটি সংস্কার করবে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা যেন সবাই মিলে একটি নৌকায় উঠে আমাদের গন্তব্যে যেতে পারি।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার ও মেয়র পদ থেকে পদত্যাগেরও দাবি জানান সেলিম।

সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কটুক্তি করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, চেতনার প্রতি সে কটুক্তি করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৬৪টি জেলায় ৪৫ হাজার করে লোক মারা গেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তিনি এই গাণিতিক হিসেবটি দিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। এই হিসেবটি তার একটি প্রমাণ। খালেদা জিয়া বলেছেন, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা যায় নাই, আর সে একটা গাণিতিক হিসেব দিয়ে দেখিয়ে দিল ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার লোক মারা গেছে। সুতরাং এটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আওয়াজের প্রতিধ্বনি।’

আজমত বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আমি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি কটাক্ষ যিনি করবেন তার সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক তো নয়ই, কোন সামাজিক সম্পর্কও রাখা যাবেনা।’

তিনি জানান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার নির্বাচনী এলাকায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার কোন মিছিল মিটিংয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যাবেনা।

আজমত বলেন, ‘আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কথা বিএনপি জামাত বলতে পারে নাই, এই ধরণের বক্তব্য জাহাঙ্গীর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

আজমত উল্লাহ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মনে যে দুঃখ, সেই দুঃখের বহিঃপ্রকাশ একদিন করে, দুইদিন করে বন্ধ রাখলে চলবে না। এটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’

২৮ তারিখের জনসভায় তাই গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ওসমান আলী খান, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ জাহিদ আল মামুন, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লা, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান বিকম, ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সে রকম। কয়েক দিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েক দিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘নির্বাচনের বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতি বাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সে রকম। কয়েক দিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েক দিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েক দিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে, যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহ্‌মুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।’

রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখে সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

‘এটা জিইয়ে রেখে পশ্চিমাদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন: স্পেন, ভারত, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনা ও দোসরদের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের এ আগমনে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা পায়।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘অর্জন তার একটাই; আরও বেশি মিথ্যাচার কীভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করবেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন জাতিসংঘে দেয়া তার গোটা বক্তব্যের কোথাও তিনি তা উল্লেখ করেন নাই।’

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় যেসব লেখালেখি হয়েছে তা খণ্ডানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি অনেকগুলো নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘পাশাপাশি আমরা আশা করি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

বক্তব্য দেয়ার সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা কাদেরের
বিএনপি পরাজিত অপশক্তির মুখপাত্র: কাদের
তোয়াজ-তোষণের ফল শুভ নয়: কাদের
বিআরটি এখন গলার কাঁটা: কাদের
মীরজাফরের ভূমিকায় মোশতাক, জিয়া ‘রায় দুর্লভ’

শেয়ার করুন