বিশ্বাসঘাতক, খুনি হিসেবে জিয়ার নাম থাকবে

বিশ্বাসঘাতক, খুনি হিসেবে জিয়ার নাম থাকবে

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত থাকবে বলে মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নাম সব সময় জড়িত থাকবে অ্যাজ অ্যা ট্রেইটর, অ্যাজ অ্যা বিট্রেয়ার অ্যান্ড অ্যাজ অ্যা কিলার। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জিয়ার নাম সব সময় জড়িত থাকবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নাম বিশ্বাসঘাতক, বেঈমান ও খুনি হিসেবে দেশের ইতিহাসে সব সময় থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অ্যাটকো, টিভি চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটর, কেব্‌ল অপারেটর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত থাকবে বলে মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নাম সব সময় জড়িত থাকবে অ্যাজ অ্যা ট্রেইটর, অ্যাজ অ্যা বিট্রেয়ার অ্যান্ড অ্যাজ অ্যা কিলার। সেই হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জিয়ার নাম সব সময় জড়িত থাকবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার কড়া সমালোচনা করে হাছান বলেন, ‘যে পরিমাণ বিশ্বাসঘাতকতা, যে পরিমাণ হঠকারিতা, যে পরিমাণ খুনের রাজনীতি জিয়াউর রহমান করেছেন এটি বাদ দিয়ে তো বাংলাদেশের ইতিহাস হবে না। মির্জা ফখরুল সাহেব কথাটা সেভাবে বললে সঠিক হতো।’

দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই প্রধান কাজ বলে ফখরুলের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল, সেটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, যদি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে তখনকার আধা সামরিক সরকার, এরশাদ সরকারের পতন না হতো। খালেদা জিয়া ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রী থাকতেন।’

জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র হরণ করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পরবর্তীতে দেশে তিনি সামরিকতন্ত্র চালু করেছেন। এবং পরবর্তী সময়ে মার্শাল ডেমোক্রেসি চালু করেছিল। দেশে যদি গণতন্ত্র হরণ করে থাকে সেটি জিয়াউর রহমান করেছেন।’

দেশে গণতন্ত্র নেই বলে বিএনপির যে অভিযোগ তার প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র নাই সকাল-বিকাল তিন বেলা কীভাবে তারা এমনটি বলতে পারে যদি দেশে গণতন্ত্র নাই থাকে। মির্জা ফখরুল যে উঁচু গলায় কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন তাতেই প্রমাণিত হচ্ছে যে দেশে গণতন্ত্র আছে এবং বাকস্বাধীনতাও আছে।’

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগের মেশকাতের পাশে ইশা ছাত্র আন্দোলন

ছাত্রলীগ নেতা মেশকাতকে দেখতে বুধবার তার বাড়িতে যান ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

ইশা ছাত্র আন্দোলনের নেতা কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’  

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরও নিজ সংগঠন থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ জানান ছাত্রলীগের উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসেন।

অসুস্থতার খবর পেয়ে শয্যাশায়ী এই ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

বুধবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কেএম শরীয়াতুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান ঢাকা থেকে মাদারীপুর পৌঁছান। মেশকাতের বাসায় গিয়ে তার জন্য দোয়ার আয়োজন করেন তারা।

এসময় সংগঠনটির মাদারীপুর জেলা সভাপতি রেজাউল করীম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ও মাদারীপুর সদর থানা সভাপতি হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দেখতে যাওয়ার বিষয়ে কেএম শরীয়াতুল্লাহ বলেন, ‘মেশকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যাম্পাসে তিনি আমাদের সবার সঙ্গে মিশতেন, গল্প করতেন। এছাড়া উনি কোরআনের হাফেজ এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, যা ওনার সংগঠনে বিরল। এছাড়া কেউ অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও। সেজন্যই আমরা ওনাকে দেখতে গিয়েছি।’

ইশা ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আহসান মারজান বলেন, ‘উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা জানতে পেরেছি, তার অসুস্থতার খোঁজ নেয়ার কেউ ছিল না। শুধুমাত্র ওনার সেবার জন্য আমরা গিয়েছি। অসুস্থের সেবা নবী (সা.) এর সুন্নত।’

গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পর নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ায় এবং ফোন না ধরার অভিযোগ তুলে ১৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে পোস্টে ক্ষোভ জানান মেশকাত।

অনুরোধ করেন, তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে যেন কোনো দোয়ার আয়োজন করা বা প্রেস রিলিজ দেয়া না হয়।

এছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন সেই অনুরোধও জানান মেশকাত।

পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর: জি এম কাদের

শনিবার জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

জি এম কাদের বলেন, ‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।’

যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে জাতীয় পার্টি (জাপা) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের। যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করবে, তারা কখনোই সফল হতে পারবে না।’

শনিবার বনানীতে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সব ধর্মের অধিকার রক্ষায় পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

‘এরশাদ শুভ জন্মাষ্টমীর দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। জাপার শাসনামলে প্রায় চার যুগ পরে রাজধানীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বিভিন্ন পূজা ও উৎসবে নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এরশাদ। তার হাতে গড়া হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এখন শতকোটি টাকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে পল্লীবন্ধু বরাদ্দ রেখেছেন সব সময়।’

মতবিনিময় সভায় জাপা চেয়ারম্যানের হাতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা খসড়া আইন তুলে দেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতারা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, সিলেট শাখার সভাপতি দীপক রায়, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিত্র, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ মাছা, সিলেট জেলার সমন্বয়ক মলয় তালুকদার, সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি অমর চক্রবর্তী এবং পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য শুভ্রদেব বড়াল।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

থ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করেছেন। আমরা এখন নানা দুর্যোগে বিভিন্ন দেশকে খাদ্যসহায়তা করি। তারপরও বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়।’

৬ বছর পর শনিবার সকালে থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান।

দলীয় কার্যালয় চত্বরে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, হাইব্রিডদের দিন শেষ। এখন ত্যাগী ও দলের দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়নের সময় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশিবার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ১৭ বার বক্তব্য রেখে রেকর্ড গড়েছেন। তার সুযোগ্যে নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, আব্দুল আওয়াল শামীম, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন,
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রহমান, বিমল দাস, আবু ইউসুফ সূর্যসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী।

পরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোটে ডা. আবদুল হাই সরকার এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজগর আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কামাল হোসেনকে নেতা মানায় নিথর বিএনপি: এনপিপি চেয়ারম্যান

কামাল হোসেনকে নেতা মানায় নিথর বিএনপি: এনপিপি চেয়ারম্যান

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে অতিথিরা।

ছালাউদ্দিন ছালু বলেছেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এবং ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে যে নির্বাচন করেছে এর মধ্য দিয়ে বিশ দলীয় জোট নিস্তব্ধ ও মৃতপ্রায় একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনও বাংলার জনগণ বিএনপিকে বিরোধী দল মনে করে। জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল মনে করে না।’

বিএনপি ও বিশ দলীয় জোট নির্বাচনে না যাওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু। একই সঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে নেতা মানায় দলটি মৃতপ্রায় সংগঠনে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ছালাউদ্দিন ছালু বলেছেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে এবং ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে যে নির্বাচন করেছে এর মধ্য দিয়ে বিশ দলীয় জোট নিস্তব্ধ ও মৃতপ্রায় একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখনও বাংলার জনগণ বিএনপিকে বিরোধী দল মনে করে। জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল মনে করে না।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির অঙ্গ সংগঠন ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ছালাউদ্দিন বলেন, ‘বিরোধীদল আজ রাজনৈতিক ভাবে অনেকটাই অকার্যকর। আপনারা দেখেছেন বিএনপি গত তিন দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে মিটিং করছে, যাতে আন্দোলন করতে পারে। আমি বলতে চাই, একটা নিথর ও নিস্তব্ধ দল দ্বারা আন্দোলন সংঘটিত করা সম্ভব না। এনপিপি ও এনডিএফের নেতাদের কাছে আবেদন, আসুন সময় অপচয় না করে এখনই দলকে সংগঠিত করি ও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তৎপর হই।’

তিনি বলেন, ‘এনপিপি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ৮২টি আসনে নির্বাচন করেছে। এনপিপি আগামী ২০২৩ সালের নির্বাচনে যাতে ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছি আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছালু বলেন, ‘আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম এবং দূর্নীতি, টেন্ডারবাজিসহ সব অনাচারের লাগাম টেনে ধরতে হবে। আপনারা জানেন, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল সাহেব আমলাতন্ত্রের কথা সংসদে তুলে ধরেছিলেন। সে কথা কোনো কাজে আসেনি। এই আমলাতন্ত্রের দৌরাত্মের কারণে দুর্নীতি ও মাদক বাণিজ্য বেড়ে দেশ ধ্বংসের দিকে পৌঁছেছে।’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এনপিপির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই মণ্ডল, ন্যাশনাল পিপলস যুব পার্টির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার কে এম শামছুল আলম মিশুক, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রহুল আমিন রাহুল ও এনপিপির খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক শেখ ইকবাল হাসান স্বপনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দুঃসময় বয়ে এনেছে সরকার: ফখরুল

দুঃসময় বয়ে এনেছে সরকার: ফখরুল

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘একটি মুক্ত সমাজ, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আওয়ামীলীগ আমাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এর আগেও বাকশাল গঠন করেছিল এবং এখনও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে বিভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আমাদের সমস্ত অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে।’

বর্তমান সরকার পুরো জাতির জন্য ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, ৫০ বছরে বাংলাদেশের সব অর্জন এই সরকারের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করছি। আজকে একটি সরকার জবরদখল করে বসে আছে। যারা আমাদের ৫০ বছরের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুঃসময় শুধু সংবাদমাধ্যমের নয়, এই দুঃসময় শুধু বিএনপির নয়। এই দুঃসময় পুরো জাতির জন্য।

‘একটি মুক্ত সমাজ, দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম। আওয়ামীলীগ আমাদের সেই আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এর আগেও বাকশাল গঠন করেছিল এবং এখনও গণতন্ত্রের মুখোশ পরে বিভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আমাদের সব অধিকারগু কেড়ে নিয়েছে।’

দেশে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব জানান, দেশ এখন রাজনীতিবিদরা পরিচালনা করছে না। একজন রাজনীতিবিদকে (শেখ হাসিনা) সিকিউরিটি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে দিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে। তারা রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংসদে জনগণের কোনো প্রতিনিধিত্ব নাই। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৪ জনকে নির্বাচিত করেছে। ২০১৮ সালে তারা আগের রাতেই ভোট ডাকাতি করেছে। আপনারা জানেন এই আওয়ামী লীগই ৭২-৭৫ এ চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া সব সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করেছিল।

‘সংবাদমাধ্যমকে পুরোপুরি দলীয়করণ করা হয়েছিলেন। আমি ধন্যবাদ জানাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যিনি স্বৈরাচার এরশাদের হাত থেকে একটি গণতন্ত্র ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। আমাদের বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।’

দেশে এখন কোনো নির্বাচন ব্যবস্থা নেই বলে মন্তব্য বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার। বলেন, ‘আপনারা জানেন ২০১২ সালে বিচারপতি খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সেটাকে লুফে নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। যার ফলে আজকে নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।’

‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আজকে আবার শোনা যাচ্ছে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। কেউ বলছে এটার জন্য একটি আইন করা দরকার, কিন্তু আইনটা করবে কে? সংসদে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যকিছু নেই। যারা এদেশে গণতন্ত্রকে হরণ করে এদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে তারাই আজকে এই আইনটি করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে মুক্ত গণতন্ত্র ও মুক্ত গণমাধ্যম কখনও একসঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ মানেই হলো ভয়ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নেয়া। গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে অস্ত্রের মুখে টিকে থাকা। আর এসব কৌশলই আওয়ামী লীগ বেছে নিয়েছে।

সভায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমও। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালে আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। এই সরকার সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বর্তামান সভাপতি ইলিয়াস খানসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী

সমালোচকদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই: প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের দেয়া সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

সমালোচনাকারীদের ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কীভাবে খাটো করবে। আওয়ামী লীগ সরকারকে কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে অবৈধ সরকার যারা বলে, তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে?’

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, তার সরকারের সমালোচনাকারীদের জন্য করুণা ছাড়া কিছুই নেই, তাদের প্রতি জাতি একসময় ঘৃণা দেখাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে শুক্রবার প্রবাসীদের দেয়া এক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার পর রাতে নিউ ইয়র্কের ম্যারিয়ট হোটেলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

তাতে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। আর সেই ভোটে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়েছে। বিএনপির যদি সেই শক্তি থাকত, তাহলে তো তারা ইলেকশন করত। তারা তো ইলেকশনের নামে মাঝপথে কাট মারে। মাঝ পথে যে তারা পিছু হটে চলে যায়, যখনই মনে করে যে জিতবে না, তখনই পেছনের দিকে পালায়। তারপর বলে এই ভোট হয়নি, এটা হয়নি, ওটা হয়নি।’

‘বিএনপি সরকারের আমলে যেসব ইলেকশন হয়েছে, তারা কী ভুলে গেছে?’-এ প্রশ্নও ছোঁড়েন প্রধানমন্ত্রী।

সমালোচকদের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন কাজ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছি, আর এদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশকে কীভাবে খাটো করবে। আওয়ামী লীগ সরকারকে কেউ কেউ অবৈধ সরকার বলে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে অবৈধ সরকার যারা বলে, তারা এই যে কথাগুলো বলার সুযোগটা পাচ্ছে, এই সুযোগটা কোত্থেকে পাচ্ছে?’

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে বলেই সমালোচনাকারীরা এসব কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বৈধ আর অবৈধ যা-ই হই, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি বলেই তো, সেই সুযোগটা পাচ্ছে। এতই যদি তাদের নীতি আদর্শ থাকে, আমাদের করা এই সমস্ত ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কেন? এটা তো করা ঠিক না তাদের।’

এসব সমালোচনকারীরা বিএনপি, জামায়াত এবং ৭৫-এর খুনিচক্রের অর্থ দিয়েই চলে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় আছে, জিয়াউর রহমানের সরকার অবৈধ, এরশাদের সরকার অবৈধ। কারণ মার্শাল ল দিয়ে তারা সরকার গঠন করেছে। আর জিয়াউর রহমানের স্ত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত। আর তার ছেলে ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মামলায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ধরা পড়েছে। এমনকি বিদেশেও, শুধু আমাদের দেশে না। আমেরিকার এফবিআইয়ের হাতে তাদের দুর্নীতি ধরা পড়েছে।’

বর্তমান সরকার নিয়ে কেন এই সমালোচনা, সে ব্যাখ্যাও উঠে আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল সমালোচনায় মুখর বলেও মনে করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের যে পরিবর্তন, যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, খুনি, যারা পাকিস্তানিদের দালালি করেছে, হানাদার বাহিনীর দালাল, তাদের বাংলাদেশের উন্নতিটা ভালো লাগে না। সেজন্যই তারা বদনামটা করে থাকে।

‘কাজেই তাদের করুণা করা ছাড়া আর কিছুই নেই। তাদের প্রতি জাতি একসময় ঘৃণা দেখাবে। আর আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’

এসময় দেশের উন্নয়নের অংশীদার হতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি একটা কথা বলব, আমাদের প্রবাসী যারা তারা কিন্তু বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগ করতে পারেন।’

বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশে তার সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। আবারও জানালেন, সারা দেশে গড়ে তোলা হচ্ছে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা।

তিনি বলেন, ‘শুধু আমেরিকাই করবে তা না, আমাদের প্রবাসী আমেরিকানরা যতদূর পারেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।’

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশের অর্থনীতি, মানুষের জীবন ও জীবিকার গতি সচল রাখতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপও প্রবাসীদের জানান শেখ হাসিনা।

বক্তব্যে দেশের গণমাধ্যম নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পত্রিকা শুধু নেতিবাচক কথা লিখবে, আর ভালো কথা লিখবে না, সেটা তো হয় না। পত্রিকা অপবাদ ছড়াবে শুধু, আর কনস্ট্রাকটিভ কথা বা যেটা দেশের উন্নতি বা দেশের জন্য ভালো হবে, সেগুলো বলবে না, এটা তো হতে পারে না। কাজেই দায়িত্বশীলতাটা সবদিক থেকে সমান থাকা দরকার।

‘মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত যেন না করা না হয়, সেদিকটাও দেখতে হবে। সেই দায়িত্বশীল ভূমিকাটা পালন করতে হবে।’

৭৫ পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্রও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। শোনালেন, ৬ বছরের শরণার্থী জীবন ছেড়ে ঝুঁকি নিয়েও তার দেশে ফিরে আসার গল্প।

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বলেন, ‘ওই অবস্থার ভেতরেই কিন্তু আমি বাংলাদেশে ফিরে আসি। আমি জানতাম, আমি যখন ফিরব আমাকে যেকোনো সময় হয়তো আমার ভাগ্যে একইরকম ঘটনা ঘটতে পারে। যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারেনি। সেজন্য কিন্তু পিছিয়েও যায়নি, থেমেও থাকিনি। সেটা আমি চিন্তাও করি না।’

ন্যায় আর সত্যের কথা বললে, জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলেই মানেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘সেজন্য সত্য কথা বলব না, আর ন্যায়সঙ্গত কথা বলব না-এটা তো হয় না। কাজেই আমি বলে যাচ্ছি। বার বার গেরিলা হামলা, গুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে, কারাগারে বন্দি হতে হয়েছে, সেগুলো জানি আমি। জেনেই আমার পথ চলা।’

বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন কোনোদিন ছিনিমিনি খেলতে না পারে সেদিকেও সজাগ থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ফাইল ছবি

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে তার ভূমিকা কী ছিল সেই প্রসঙ্গটি যেমন সামনে আসছে, তেমনি আগামী সিটি নির্বাচনের সমীকরণও সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে একজনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে তুমুল আলোচনা।

প্রকাশিত রেকর্ডটিতে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা ও আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের অন্যতম এই নেতা।

গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে সেই ভিডিওতে।

স্বভাবতই বিষয়টি পছন্দ হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের। তিন দিন ধরে নানাভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা।

আজমত এরই মধ্যে কথা বলেছেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। জানিয়েছেন, কমিটিতে তার ডেপুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন শীর্ষ পর্যায় থেকে সংকেত আসার পরে।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের মিছিল। ফাইল ছবি

এই ভিডিওকে বানোয়াট বলে পার পেতে চাইছেন জাহাঙ্গীর। তিনি তার অনুসারীদেরকে নিয়ে একটি সমাবেশও করেছেন, যার পাশে তার বিরোধীদের অবস্থান ছিল পুলিশ বিরোধীদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর জাহাঙ্গীর নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেছে।

বহুধাবিভক্ত গাজীপুর আওয়ামী লীগে নতুন সমীকরণ

দৃশ্যত শুক্রবার জয় হয়েছে জাহাঙ্গীরের। তবে গাজীপুরের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলে যে ফাটল ধরে গেছে, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগেই তুমুল আলোচনায় ছিলেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে সে সময় দলের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ উঠে এসেছিল, তার মধ্যে ভোট থেকে সরে গেলেও জাহাঙ্গীর অনুসারীদের তৎপর না থাকা ছিল একটি।

পরে ২০১৮ সালে যখন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ, তখন তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেন।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে 'কটূক্তির' অভিযোগে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মিছিল। ফাইল ছবি

এরপর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ভিড়তে শুরু করে তার কাছেই। তবে এবার তার গুণমুগ্ধদের একটি অংশই বেঁকে বসেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষরা চুপ আছি। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও যাইনি, আনন্দ মিছিলেও যাইনি। এত বড় ঘটনা ঘটছে, সেন্ট্রাল (কেন্দ্র) কিছু বলছে না। আমরা সেন্ট্রালের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

জাহাঙ্গীর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে বানোয়াট বললেও সেটা হালে পানি পাচ্ছে না। বরং এর আগে ৪ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। এবার ছড়িয়েছে ১১ মিনিটের একটি। এখানে আরও বেশ কিছু কথা আছে, যা আরও ক্ষুব্ধ করছে তার বিরোধীদেরকে।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুলে ধরেন সে কথাই। আওয়ামী লীগের প্রধান অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। তাকে নিয়ে যে বক্তব্য শুনা যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা পার্টি ফোরামে কথা বলব। কিন্তু মিটিং কে ডাকবে? সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষে অবস্থান করছে। আজকে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ ছিল। কিন্তু এতে সভাপতি আসে নাই।’

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভের সময় ঢাকা থেকে গাজীপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফাইল ছবি

মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছে তা মিথ্যে প্রমাণ করা না পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ। সে কথাও জানিয়ে দিলেন রজব আলী।

টঙ্গী পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র আজমত গাজীপুরে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে তার পরাজয় ছিল অপ্রত্যাশিত। সে সময় তিনি জাহাঙ্গীর অনুসারীদের সমর্থন পাননি বলে প্রচার আছে। এও প্রচার আছে যে, জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তার বিপক্ষে কাজ করেছে। এই বিষয়টি আট বছর পর আবার সামনে আসছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও ২০১৫ তারা দুজন এক হয়ে যান দুজন। নিজেদের মধ্যে কমিটিকে কেন্দ্র করে একটা সমঝোতা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরেই বলবৎ ছিল।

‘এই দুজনের সমঝোতার কারণে একই এলাকার একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কিছুটা পাশে পড়ে যান। যা মেয়র জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে নিয়ে যায়।’

আগামী সিটি নির্বাচনও আছে হিসেবে

আগামী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সমীকরণও আছে। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল এবার মেয়র নির্বাচনে আগ্রহী। তিনি মেয়রের শাস্তির দাবিতে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তারও একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী আছে সেখানে।

মামুন গাজীপুরের প্রভাবশালী একাধিক নেতা এমনকি আজমত উল্লাহ খানেরও সমর্থন পাচ্ছেন বলেও এলাকায় প্রচার আছে।

শুক্রবার মেয়র জাহাঙ্গীর যেখানে সমাবেশ করেছেন, তার অদূরে মামুনের কার্যালয় ঘিরে যে কর্মসূচি পালন করেন, তাতে আজমত অনুসারীদেরকেও দেখা গেছে, যদিও তিনি নিজে সেখানে যাননি।

কী করবেন জাহাঙ্গীর

দেশে ফিরেই মেয়র এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, এই ভিডিও (ভাইরাল রেকর্ড) বানোয়াট, কথা কেটে কেটে বসানো হয়েছে। ভিডিওগুলো ফেসবুক থেকে ডিলিট করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন, নইলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুক্রবারের সমাবেশেও মেয়র বলেছেন, তিনি চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচন করে দেবেন। তবে এগুলো যে মাঠের রাজনীতির কথা, সেটি নিউজবাংলাকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট।

গাজীপুরে কি অবস্থান হারাবেন মেয়র জাহাঙ্গীর
বিক্ষোভে মেয়রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের অবস্থায়। ফাইল ছবি

কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন, এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।’

‘প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না’

মেয়র যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় নিউজবাংলাকে আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

গাজীপুর তিনদিন ধরে উত্তপ্ত থাকলে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় চুপ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোনো মন্তব্য করছেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন গাজীপুরের নেতারা।

আরও পড়ুন:
‘গুম-খুনের রাজনীতি শুরু জিয়ার হাতে’
জিয়ার লাশ নিয়ে প্রতারণা করছে বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফখরুলের চিকিৎসার প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী 
তারা কি দেশটাকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন