লইসকার বিলে দুর্ঘটনা: ‘দুটি বাল্কহেড ধাক্কা দেয় ট্রলারকে’

লইসকার বিলে দুর্ঘটনা: ‘দুটি বাল্কহেড ধাক্কা দেয় ট্রলারকে’

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ট্রলার চালকের অদক্ষতাসহ বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন কমিটির সদস্যরা। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। নৌপথে দুর্ঘটনারোধে থাকবে বেশ কিছু সুপারিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার লইসকার বিলে নৌদুর্ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে কমিটির সদস্যরা বলছেন, ওই দিন যাত্রীবাহী ট্রলারকে ধাক্কা দেয় একটি নয় দুটি বালুবাহী বাল্কহেড। এতেই মৃত্যু হয় ২৩ জনের।

ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ট্রলার চালকের অদক্ষতাসহ বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছেন কমিটির সদস্যরা। তারা বলছেন, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। নৌপথে দুর্ঘটনারোধে থাকবে বেশ কিছু সুপারিশ।

তদন্ত কমিটি বুধবার পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া যাত্রীসহ অন্তত ৩০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল রেজা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। এখন পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া যাত্রীসহ ৩০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছি। সব সাক্ষীর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করা হবে।

‘দুর্ঘটনা রোধে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে কয়েক দফা সুপারিশ করা হবে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বলা যাচ্ছে না। তবে ট্রলারের চালক অদক্ষ ছিল, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়েছিল, এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া গেছে। আরও একাধিক কারণ নির্ণয় করা হয়েছে।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী জামাল মিয়ার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দুটি বড় আকারের বাল্কহেডকে এগুতে দেখেন ট্রলার চালক। তিনি দ্রুত পাশ কেটে যেতে চাইলে প্রথমে একটি বাল্কহেড ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। পেছন থেকে আসা আর একটি বাল্কহেড এর পর পরই ধাক্কা দেয় সেটিকে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘একাধিক সাক্ষীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এর মধ্যে একজন মুড়িওয়ালার (নাম প্রকাশ করেনি তদন্তের স্বার্থে) আমাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। এ সময় আলোর স্বল্পতা দেখা দেয়।

তিনি জানান, ‘ট্রলারটির কোনো ফিটনেস ছিল না। ছিল না চালকের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণ। অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। এসব কারণ সামনে রেখেই তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করা হবে। এর মধ্যে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী ট্রলারে লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করা না হয় সেই বিষয়টি ঘাটে দায়িত্বরতদের নিশ্চিত করতে হবে। এর দায়-দায়িত্ব ঘাট পরিচালনা কমিটিকে নিতে করতে হবে।

পাশাপাশি প্রতিটি ঘাটে যেন বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে জেটি বা পন্টুন থাকে সে বিষয়টি সুপারিশে উল্লেখ থাকবে।

দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রলারের মাঝি হিসেবে পরিচিত ‘সোনা মাঝি’ পলাতক রয়েছেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের ছতুরপুর গ্রামে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পতাকা অবমাননা: বেরোবির শিক্ষকসহ ১৯ জনের বিচার শুরু

পতাকা অবমাননা: বেরোবির শিক্ষকসহ ১৯ জনের বিচার শুরু

বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা বিকৃত করে ছবি তুলে সমালোচিত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। ছবি: সংগৃহীত

আসামিপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম জানান, যেহেতু আসামিরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল ছিল। তাই তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত তা নাকচ করেছে। 

জাতীয় পতাকা বিকৃত করে প্রদর্শন এবং অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে আদালত। এর মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

রংপুর মেট্রোপলিটন আমলি আদালত-২-এর হাকিম আল-মেহবুব মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আবেদন করেন আইনজীবী জহিরুল আলম।

মামলার আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তাবিউর রহমান প্রধান, গণিত বিভাগের আর এম হাফিজুর রহমান, বাংলা বিভাগের পরিমল চন্দ্র বর্মণ, অর্থনীতি বিভাগের মোরশেদ হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের রশিদুল ইসলাম ও শাহ জামান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নুর আলম সিদ্দিক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কামরুজ্জামান, মার্কেটিং বিভাগের মাসুদ উল হাসান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সদরুল ইসলাম সরকার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রদীপ কুমার সরকার।

পরিসংখ্যান বিভাগের চার্লস ডারউইন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রামপ্রসাদ বর্মণ, ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শামীম হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মো. রহমতউল্লাহ, রসায়ন বিভাগের মোস্তফা কাইয়ুম শারাফাত, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সোহাগ আলী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আবু সায়েদ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সেকশন অফিসার শুভঙ্কর চন্দ্র সরকার।

এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পুলিশের প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিক হাসনাইন বলেন, আদালত চার্জ গঠন করেছেন। এখন এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু আসামিরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল ছিল। তাই তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত নাকচ করেছে।’

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বিকৃত নকশার জাতীয় পতাকা নিয়ে ছবি তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক কর্মকর্তা। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম। পরে এই অভিযোগ মামলা হিসেবে নেয়া হয়।

শেয়ার করুন

ঘরের মেঝেতে শিক্ষকের মরদেহ

ঘরের মেঝেতে শিক্ষকের মরদেহ

রাজশাহীতে নিজ বাড়ি থেকে অবসর পাওয়া প্রধান শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, সুরতহালে মরদেহের গলায় দাগ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও মোবাইল লুট করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আরও নিশ্চিত করে সব বলা যাবে।

রাজশাহীতে নিজ বাড়ি থেকে অবসর পাওয়া প্রধান শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নগরীর কুমারপাড়া ঘোষপাড়া মহল্লার একটি বাড়ি থেকে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মায়া রাণী ঘোষ রাজশাহী নগরীর মন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ২০১০ সালে।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, মায়া রাণী অবিবাহিত ছিলেন। বাড়িতে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে গৃহকর্মী হেনা ঘোষ বাড়িতে গিয়ে তাকে চা বানিয়ে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মায়া রাণীর পালিত মেয়ে পুতুল ঘোষ শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই বাড়িতে যান।

এ সময় একটি ঘরের মেঝেতে মায়া রাণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পুতুল। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।

ওসি আরও জানান, সুরতহালে মরদেহের গলায় দাগ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও মোবাইল লুট করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আরও নিশ্চিত করে সব বলা যাবে।

পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

জাতিকে ধর্ম দিয়ে বিভক্তের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

জাতিকে ধর্ম দিয়ে বিভক্তের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশকে বিভক্তের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া।

হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করে দেশকে বিভক্তের চেষ্টা করে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের বিরলে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের (গৌরাঙ্গ আশ্রম) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেকবার ধর্ম নিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখনই সফল হয়নি।’

এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকবে বিএনপি কখনই সে কথা বলে না। তারা শুধু এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করে। সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে এক অপরাধী বসে আছে, তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশ দখলের পরিকল্পনা করে।

‘নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করে মীরজাফরের হাত ধরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষ শাসন করেছে। আজকে লন্ডনে বসে তারেক রহমান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো স্বপ্ন দেখছে। হত্যাযজ্ঞ ও নৈরাজ্যের বিনিময়ে তিনি দেশ দখল করতে চান।’

মন্দিরের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরলের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াজেদ মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সবুজার সিদ্দিক সাগর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায়।

শেয়ার করুন

১১ ‘জঙ্গি’র ৬ জন রিমান্ডে

১১ ‘জঙ্গি’র ৬ জন রিমান্ডে

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে মঙ্গলবার আদালতে আনা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অভিযান চালিয়ে ৪৫ জন আটক করে।

দিনাজপুরে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বাকি পাঁচ আসামিকে জেল গেটে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের তিনটি আলাদা আদালতের বিচারক মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দিনাজপুর আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

তিনি জানান, জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-১-এর বিচারক ইসমাইল হোসেন গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জেল গেটে দুই দিন করে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

তারা হলেন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, রাজধানীর মিরপুর-১২-এর সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল ও মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইওনিয়ার হাউজিং কলোনির নাফিস হাবিব, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মহসিন ভুঁইয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৪-এর বিচারক শিশির কুমার বসু তিনজনকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর দৌলাপাড়ার ওয়াহেদুজ্জামান, একই জেলার কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার সজল ওরফে সাব্বির আহমেদ।

অন্যদিকে বিচারিক হাকিম আমলি আদালত-৩-এর বিচারক শারমিন আক্তার তিন আসামিকে এক দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

তারা হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, রাজধানীর শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের জুনায়েদ খান এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার বরুয়াদৌলা গ্রামের হুমায়ুন কবির।

পরিদর্শ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জন আটক হয়।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে তিনটি থানায় মামলা করা হয়েছে। আটজনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

ভুজপুর থানার ওসি আসহাব উদ্দিন জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করে। রাতেই প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় একজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলা জজ আদালতের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে আসামি মো. আরিফকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরিফ উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সোনাই এলাকার বাসিন্দা।

ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সোমবার রাতে ওই তরুণী মামলা করেন। এর পরপরই অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এজাহারে বলা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার হেঁয়াকো এলাকায় এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যান ওই তরুণী। সেখানে স্থানীয় যুবক আরিফের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সোমবার বিকেলে আরিফ তার মায়ের সঙ্গে দেখা ও পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলে ওই তরুণীকে ডেকে নেন। পরে নিজ মোটরসাইকেলে করে তাকে রাবার বাগানে নেয়া হয়। সেখানে তাকে আরিফ ও তার দুই বন্ধু ধর্ষণ করেন।

ওসি আসহাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাত ৮টার দিকে ওই তরুণী চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। পরে রাতেই আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন জাকির হোসেন, মো. মহিবুল ও নূর মিয়া।

বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর এই বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাত বছর আগের শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলার রায়ে ১০ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক কে এম শহীদ আহমেদ মঙ্গলবার দুপুরে এই রায় দেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামিরা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শাহিন গুলসান নাহার মুনমুন। এই রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আলা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় বাদী মূল আসামিকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। পরে রায় আসামিদের পক্ষে যায়।

মূল আসামি আবদুর রাজ্জাক বাদী আশেক আলী মাস্টারের ভাই। আর আশেক আলী হলেন নিহত শিশুর বাবা।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মীরগঞ্জ বালাপাড়ার আশেক আলী মাস্টারের পাঁচ বছরে ছেলে সাকিবুল ইসলাম শুভকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এর পর শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

ঘটনার দুইদিন পর সন্দেহভাজন নয়জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যে ওই রাতেই গ্রামের ঈদগাঁ মাঠের কাছে একটি নালা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শুভর বাবা আশেক আলী মাস্টার পরদিন ৯ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তারের পর আসামি কবির মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ওই শিশুর চাচা আবদুর রাজ্জাক। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় রাজ্জাককেও।

তদন্ত কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জিন্নাত আলী সে বছরের ডিসেম্বরে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক মঙ্গলবার সবাইকে খালাস দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর জানান, সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মামলার বাদী শিশুটির বাবা আশেক আলী দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ভাই রাজ্জাক জড়িত নন। আরেক আসামি কবিরের কাছ থেকে পুলিশ জোর করে জবানবন্দি আদায় করেছে।

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাদীর আইনজীবী শাহিন গুলসান।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, জেরার সময় আশেক আলী বলেছেন, তার ভাই রাজ্জাক এই হত্যার পরিকল্পনাকারী- এমনটা তিনি সন্দেহ করেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই রায় দিলেন কি না তা জানতে রায়ের কপি হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

ট্রেন লাইনচ্যুত: উদ্ধার কার্যক্রম শুরু

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

গাজীপুরের টঙ্গীতে মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা মঙ্গলবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এরপর ২টা ৪০ মিনিটে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় রেলওয়ের উদ্ধারকারী ক্রেন।

টঙ্গী জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানান।

তিনি জানান, টঙ্গীর তিস্তারগেট এলাকায় পুবাইল হোমলাইনের ৪ নম্বর সিগন্যালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী মালবাহী ট্রেনের তিনটি বগি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাইনচ্যুত হয়। এতে বগি ও লাইনের স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের ট্রেন চলাচল।

স্টেশন কর্মকর্তা রাকিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। কখন উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ১ নম্বর লাইন দিয়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল চলাচল স্বাভাবিক আছে।’

শেয়ার করুন