সংসদ অধিবেশন শুরু, চলবে শুক্রবারও

সংসদ অধিবেশন শুরু, চলবে শুক্রবারও

অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন। পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একটি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। এরপর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে একাদশ সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন। বুধবার বিকেল ৫টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে করোনার সময়ে এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশন শুরু হয়। করোনার কারণে এবার শুক্রবারেও অধিবেশন চলবে।

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, শুধু করোনা নেগেটিভ সনদ থাকা সংসদ সদস্যরাই অধিবেশনে যোগ দেয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ১২০ জনের বেশি সংসদ সদস্য অধিবেশনে অংশ নিতে পারবেন না।

বুধবার বিকেলে অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন।

এবারের অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শহীদুজ্জামান সরকার, শামসুল হক টুকু, আব্দুল মমিন মণ্ডল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, শেখ অ্যানি রহমান।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

অধিবেশনের শুরুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একটি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। এরপর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

চলতি সংসদের সদস্য কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. আলী আশরাফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহমেদ, তোফাজ্জল হোসেন সরকার, জামাল উদ্দিন আহম্মদ, খুররম খান চৌধুরী, মো. রেজা খান জাহানারা বেগম এবং আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

অধিবেশনে গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, গীতিকার ফজল-এ-খোদা, হাইকোর্টের বিচারপতি আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এস এ সামাদ, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং, জার্মানির ফুটবলার গার্ড মুলার, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জমান আহমেদের মা শামসুন্নাহার বেগম, সংসদ সদস্য মমতা হেনা লাভলীর মা আনোয়ারা খানম, সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের মা মানোয়ারা বেগম, সাবেক তথ্য কমিশনার আবু তাহের, কুলিয়ারচর গ্রুপের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী মুছা মিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলট নওশাদ আতাউল কাইয়ুম, সংসদ সচিবালয়ের সাবেক সচিব আবুল হাশেম ও সংসদ সচিবালয়ের পরিচ্ছনকর্মী শ্রী শংকরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে মারা যাওয়াদের জন্যও শোক প্রকাশ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহত, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে হতাহত, হাইতিতে ভূমিকম্পে হতাহতসহ সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য শোক প্রকাশ করা হয়।

চলমান সংসদের কোনো আইনপ্রণেতা মারা গেলে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে সংসদের বৈঠক মুলতবির রেওয়াজ রয়েছে। অধ্যাপক আলী আশরাফের জীবনের ওপর আলোচনার পর স্পিকার সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন।

শুক্রবারে জাতীয় সংসদের বৈঠক বসবে বিকেল ৪টায়। করোনার কারণে তাড়াতাড়ি অধিবেশন শেষ করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিবেশনে যেতে হবে। অধিবেশনের কার্যদিবসের মধ্যে বিরতি রাখলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সেজন্য শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারও সাংবাদিকদের সংসদের বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহের জন্য সংসদ ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। অধিবেশনের সব কার্যক্রম সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার থেকে সংবাদ সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

দেশে সিনোফার্মের আরও অর্ধকোটি টিকা

ফাইল ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায়। এই নিয়ে প্রায় সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে পৌঁছাল।

চীনের সিনোফার্ম উৎপাদিত টিকা বিবিআইবিপি-করভির আরও ৫০ লাখ ডোজ দেশে পৌঁছেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টিকাগুলো পৌঁছায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

প্রধান স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয়ক ডা. আবু জাহের বিমানবন্দরে এসব টিকা গ্রহণ করেন। এ পর্যন্ত সিনোফার্মের প্রায় আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে এলো।

ঢাকায় চীনের দূতাবাস থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, শনিবার ঢাকায় পৌঁছাবে টিকার এই বড় চালান। নির্ধারিত সময়ের আগেই তা দেশে পৌঁছায়। এর আগে ৫৪ লাখ ও ৫০ লাখ ডোজের আর দুটি টিকার বড় চালান বাংলাদেশে পাঠায় সিনোফার্ম।

বাংলাদেশে করোনারোধী চলমান টিকা কার্যক্রমে যেসব ব্র্যান্ডের টিকার প্রয়োগ চলছে তার বেশির ভাগই সিনোফার্মের।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা কিনতে চুক্তি করেছে সরকার। এর বাইরে ন্যায্যতার ভিত্তিতে টিকা বণ্টনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গড়া তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব টিকাই প্রতি সপ্তাহে ৫০ লাখ ডোজ করে পাঠাচ্ছে চীন।

বাংলাদেশ টিকা কার্যক্রমের শুরুটা করেছিল ভারতে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকা দিয়ে। এ জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ টিকা কেনার চুক্তিও করে। প্রতি মাসে আসার কথা ছিল ৫০ লাখ করে। কিন্তু দুই মেয়াদে ৭০ লাখ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় আর কোনো টিকা পাঠাতে পারেনি। এর ফলে গণটিকাদান কর্মসূচি কিছুদিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার।

সিরাম থেকে টিকা না পেয়ে টিকার বিকল্প উৎসেন সন্ধানে নামে বাংলাদেশ। এতে চীন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। দেশটি থেকে সিনোফার্মের মোটা দাগের টিকা কেনার পাশাপাশি দেশে উৎপাদনেরও চুক্তি করে সরকার, যা পক্রিয়াধীন।

চীনের পাশাপাশি কোভ্যাক্স থেকেও দফায় দফায় টিকা পাচ্ছে সরকার। সংকট কেটে যাওয়ায় টিকা প্রদানের আওতাও বাড়ানো হয়েছে। বয়স সীমা দফায় দফায় কমানো হয়েছে। ১৮ বছর বয়সীদেরও টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

বাসচাপায় গর্তে অটোরিকশা, নিহত ৪

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয় বাস। ছবি: মাহফুজ নান্টু/কুমিল্লা

মনোহরগঞ্জের নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস নাথের পেটুয়ামুখী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে চারজন নিহত ও একজন আহত হন।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন।

কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে উপজেলার নাথের পেটুয়া পুরাতন বাজার এলাকায় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাথের পেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাফর ইকবাল।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার খবর আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে শুরুতে বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি পরিবহনের একটি ট্রাক্টরের আংশিক সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষের পরই বাসটি সামনে এগিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে রাস্তার পাশের গর্তের দিকে টেনে নেয়। এরপর অটোরিকশাটির ওপর উঠে যায় বাস।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুল কবীর জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়েছেন। বাসের যাত্রীরা হতাহত হননি। অটোরিকশায় থাকা আহত আরোহীদের আশপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা গেছে ঘটনাস্থলেই।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির অফিসে কার্যক্রম বন্ধ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া জরুরি নোটিশ

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তারের তৃতীয় দিন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের অফিসে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার সকালে জরুরি এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালির কর্মচারীরা বাসা থেকে অফিসের কার্যক্রম চালাবেন।

নোটিশে ইভ্যালি বলেছে, ‘সম্মানিত গ্রাহক এবং সেলার, আপনাদের জন্যই আমাদের সকল আয়োজন। আর তাই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার লক্ষ্যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ রোজ শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ইভ্যালি এমপ্লয়িগণ নিজ নিজ বাসা থেকে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

‘হোম অফিস পদ্ধতিতে ইভ্যালির সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলমান থাকবে। আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের একান্তভাবে কাম্য। আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘দারুণ ভদ্রতার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেয়া যেতে পারে। ইভ্যালি এই ঘোষণার সঙ্গে এটা শিখিয়ে দিলো। আপনারা সবাই বাসায় অফিস করেন। শুভ কামনা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘আস্তা না রেখে কি পারি! ৭-৪৫ দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট ডেলিভারি দেবেন বলে অর্ডার নিয়ে ছয় মাস গেল কোনো খবর নাই। এখানেইতো আস্তা রাখার জায়গা। পুরা কপাল আমার কেন যে টাকাটা দিলাম!’

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কুড়িগ্রামে শেষ সময়ের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোপা, আমন, শাক-সবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতগ্রস্তরা বলছেন, সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতা না পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে চলতি বছর অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করলে ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হতে থাকে। ধারদেনা আর ঋণ করে আবাদ করায় বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত।

কৃষকরা জানান, অসময়ের বন্যায় রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার সব রোপা পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার পর ফসল তুলে জীবিকা নির্বাহ করার যে স্বপ্ন বুনেছিলেন তারা, বন্যার পানিতে তা মিশে গেছে।

আগামী দিনে কীভাবে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে, তা ভেবে দিশেহারা জেলার প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী কৃষকরা। সীমান্ত এলাকায় সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ জোটে না বলেও অভিযোগ কৃষকদের।

জেলার কৃষি বিভাগ জানায়, কুড়িগ্রামে এবারের বন্যায় ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে রোপা-আমন ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৬১ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৭ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

এতে জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষকের ৩১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগের হিসাবে রোপা-আমনে ২৯ কোটি ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের। শাক-সবজি ১ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে আমন করেছিলাম। কিন্তু বন্যা এসে সব আবাদ নষ্ট করে দিছে। ১৩-১৪ দিন ক্ষেত পানির নিচে থাকায় চারা সব পচে গেছে। আমার লোকসান হলো ৭-৮ হাজার টাকা।’

একই এলাকার কৃষক আনছার হোসেন বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ করে আবাদ করছি ৩ বিঘা জমিতে; সে আবাদ বন্যায় খাইল। আবাদ নষ্ট হলেও এনজিওর কিস্তি বন্ধ নেই, মাস শেষ হলে কিস্তি দিতেই হবে। সীমান্ত এলাকার মানুষ হামরা এখানে সরকারি কোনো সহায়তা আসে না, পাইও না।’

একই ইউনিয়নের বগারচর গ্রামের বাসিন্দা রুপিয়া খাতুন বলেন, ‘ধারদেনা করিয়া আড়াই বিঘা জমিত আমন লাগাইছি। কিন্তু বন্যা আসিয়া সগ শ্যাষ করি দেইল। কীভাবে কী করমো, জানি না।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের ব্যাপারিটারী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম প্রায় চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন। বন্যায় ধানগাছ পচে গেছে। সেই চারা থেকে আর ধান হবার সম্ভাবনা নেই। নতুন করে রোপা লাগানোর সামর্থ্য তার নেই বলে জানান।

একই গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নষ্ট হয়ে যাওয়া জমিতে নতুন করে রোপার চারা লাগানোর সাধ্য আমার নাই। তা ছাড়া চারা ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বল্লভের খাষ ইউনিয়নের রমজান আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বন্যার পানি থাকায় আমনের চারা ধান সব শেষ। সরকারি সহযোগিতা না পেলে সামনের দিন পার করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।’

অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়

কুড়িগ্রাম খামারবাড়ীর উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নদ-নদীর পানি নেমে গেছে, অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমাদের কাছে রাখা ৬০০ হেক্টর বীজতলা এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাজে লাগছে। চর এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয় জাতের ধান ছিটিয়ে নতুন করে বপন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

এ ছাড়া সরকারিভাবে যে বীজতলা করে দেয়া হয়েছে, সেখান থেকেও কৃষকরা বীজ নিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। এতে করে কৃষকরা বন্যার ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

মধুর চাকের খবর পেলেই ছোটেন মামুন

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

কোথাও মধুর চাকের খবর পেলেই সাইকেল চালিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন। সঙ্গে রাখেন আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরির সরঞ্জাম এবং মধু রাখার বালতি। সংগ্রহ করেন মধু। আর এভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন তিনি।

এক মৌচাক ভাঙলে পাওয়া যায় ১৫-২০ কেজি মধু। শতভাগ খাঁটি ও বিশুদ্ধ মধু ক্রেতাকে পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তা দেন মামুন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের রতন বরিষ গ্রামে।

২০১৯ থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন মধু সংগ্রহের কাজ। তবে গত বছর করোনা মহামারির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টাঙ্গাইলে নিজের বাড়ি চলে আসেন তিনি। পরে নিজের এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়েই আবার শুরু করেন মধু সংগ্রহ।

মধু সংগ্রহের পাশাপাশি সরিষার তেল, খেজুরের গুড়, রাজশাহীর আম, আমসত্ব বিক্রি করেন মামুন। অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে এসব পণ্য বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।

তবে মধুর ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন মামুন। তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাকের মধু সংগ্রহ করা গেলে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। অনলাইনে মধু বিক্রি করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

মামুন জানান, মূলত মৌমাছিরা নিজেদের খাদ্য হিসেবেই মধু ফুল থেকে আহরণ করে। ফুলের মধ্যে নেক্টার নামের এক প্রকার মিষ্টি তরল পদার্থ থাকে। প্রথমে ফুল থেকে এই নেক্টার কর্মী মৌমাছিরা পান করে তাদের দেহের মধু থলিতে সংরক্ষণ করে মৌচাকে নিয়ে যায়। পরে মৌচাকে থাকা মৌমাছির মুখে দিয়ে দেয় কর্মী মৌমাছিরা। এরপর মৌচাকের মৌমাছিগুলো ফুলের রসের সঙ্গে তাদের শরীর থেকে নিঃসৃত বেশ কয়েক ধরনের এনজাইম যোগ করে মৌচাকে সেগুলো জমা করে।

মধু শক্তি প্রদানকারী খাদ্যগুলোর মধ্যে একটি। দেহে তাপ ও শক্তি সঞ্চার করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। প্রাকৃতিক মধুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

মামুন বলেন, ‘মধু সংগ্রহের কাজে সহযোগী হিসেবে আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন কাজ করেন। আমরা সারা বছর গ্রামগঞ্জে সাইকেল চালিয়ে প্রাকৃতিক চাকের মধুর সন্ধান করি। কোথাও মধুর সন্ধান পেলে ছুটে যাই সেখানে। মধু সংগ্রহ করার সরঞ্জাম সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকে। এরপর চোখ খোলা রেখে পুরো শরীর ঢেকে আমাদের একজন মৌচাক কাটি। সঙ্গে রাখা সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই আমরা মধু সংগ্রহ করি।’

এই উদ্যোক্তা জানান, শীতকালে প্রকৃতিতে ফুল বেশি ফোটে। অন্যান্য ঋতুর তুলনায় এই সময়েই মৌচাকগুলোতে মধুও বেশি পাওয়া যায়।

মধু চেনার সঠিক উপায়ও জানালেন মামুন। বলেন, ‘মানুষ মধু কিনতে গিয়ে ব্যাপক সংশয়ে পড়েন। মধু চেনার বেশ কিছু প্রচলিত উপায় রয়েছে। সেগুলো নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। চুন দিয়ে পরীক্ষা, ফ্রিজে রেখে পরীক্ষা, পিঁপড়া দিয়ে পরীক্ষা-এগুলো আসলে সঠিক উপায় না।

‘আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা ক্রেতাদের ঠকানোর জন্য মধুতে আগুনে জ্বেলে ও পানি ঢেলে পরীক্ষা করে দেখান। এগুলো মধু চেনার সঠিক উপায় নয়। একমাত্র ল্যাবটেস্টই আসল মধু চেনা যায়। তবে আসল মধুর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ থাকে যেটি অনুধাবন করা যায়।’

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

বরগুনা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূল নকশা বদলে মূল ঘর ও বারান্দার একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও। নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় সরকারি নকশা পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুন্ন হয়েছে ঘরের গুণগতমান।

অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ইচ্ছামতো নির্মাণ করেছেন এইসব ঘর। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

তারা জানান, ভিন্ন নকশার কারণে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। আর নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে খসে পড়ছে প্লাস্টার, বালু উঠছে মেঝে থেকে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সবার জন্য ঘর নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে বরগুনাসহ সারা দেশে ৭০ হাজার ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বরগুনা সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩০টিসহ পর্যায়ক্রমে ২১৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নীতিমালা। দুর্নীতি ঠেকাতে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি। এ ছাড়া ঘরের জন্য দেয়া হয় আলাদা নকশা।

সারা দেশে সরকারি সেই নকশায় ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রম।

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ইট, বালু, কাঠসহ সব সামগ্রী নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। দেয়ালের পুরুত্বও ঠিক নেই বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) না থাকায় প্রকল্প-২-এ সেই দায়িত্ব দেয়া হয় বেতাগী উপজেলার পিআইও মো. ওয়ালিউল্লাহকে।

তবে ওয়ালিউল্লাহ দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকায় বরগুনা সদর উপজেলায় মূলত দেখাশোনা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী হওয়ায় হুমায়ুন কারও পরামর্শ না নিয়ে নকশা বদলে ইচ্ছেমতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার দক্ষিণ লাকুরতলা গ্রামে দেখা যায়, দুই শতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অন্য ঘরগুলোতে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে।

হস্তান্তর করা ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, মো. জহিরুলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নকশায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। এখন পর্যন্ত সব ঘর হস্তান্তর না হলেও খসে পড়া শুরু করেছে পলেস্তারা। মেঝে থেকেও বালু উঠছে। কয়েকজন নিজ উদ্যোগে মেঝে ঠিকও করে নিয়েছেন।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তার (প্রকৌশলী হুমায়ুন) সঙ্গে কোনো কথাই বলা যেত না। নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘর তৈরি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন। কার প্রভাবে কীভাবে হুমায়ুন এত ক্ষমতা পেল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ইউএনও সামিয়া শারমিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। আমি আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ঘর হস্তান্তর হয়নি। ঘর নির্মাণে অনিয়ম কিংবা নকশাবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রংমিস্ত্রি বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ওভার ব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে ছুরিকাঘাতে এক রংমিস্ত্রির নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রংমিস্ত্রির নাম বাঁধন। তবে কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

৩২ বছর বয়সী বাঁধনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পথচারী খুশি বেগম বলেন, ‘লোকটিকে আমরা কারওয়ান বাজার ওভারব্রিজের পাশে জনতা ফার্মেসির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’

ওই পথচারী জানান, বাঁধন রঙের কাজ করতেন। পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় থাকতেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সংসদ অধিবেশন বসছে বুধবার
সংসদ অধিবেশন বসছে ১ সেপ্টেম্বর
ভারতের সংসদে হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল
অধিবেশন পণ্ডে কাঁদলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান
সংসদের অচলাবস্থায় কংগ্রেস দায়ী: মোদি

শেয়ার করুন