পরীমনি কারামুক্ত

পরীমনি কারামুক্ত

কারামুক্তির পর পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনির মুক্তির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী। তিনি বলেন, ‘আমরা বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমরা তাকে বনানীর বাসায় পৌঁছে দেব। তবে তিনি এখনই গণমাধ্যমে কথা বলবেন না।’

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার আগে তিনি কারামুক্ত হন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নায়িকার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী।

তিনি বলেন, ‘আমরা বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমরা তাকে বনানীর বাসায় পৌঁছে দেব। তবে তিনি এখনই গণমাধ্যমে কথা বলবেন না।’

এ বিষয়ে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার শাহ শরীফ বলেন, ‘পরীমনিকে সাড়ে ৯টার দিকে তার আইনজীবী ও স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা কারাগার থেকে চলে গেছেন।’

এর আগে সকালে কারাগারের সামনে পরীমনিকে বরণ করে নেয়ার জন্য তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী, খালু জসিমউদ্দিনসহ স্বজনরা অপেক্ষায় ছিলেন।

গত ৪ আগস্ট রাতে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাবের একটি দল। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দের দাবি করে বাহিনীটি।

পরের দিন পরীমনিকে আটকের কারণ জানানোর পাশাপাশি বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করে র‌্যাব। ওই দিনই এই অভিনেত্রীকে আদালতে তোলা হলে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে আরও দুই দফায় মোট তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি।

রিমান্ড শেষে পরীমনিকে রাখা হয় কাশিমপুর কারাগারে।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘গলুই’তে অচেনা সাজপোশাকে পূজা

‘গলুই’তে অচেনা সাজপোশাকে পূজা

গলুই সিনেমার অভিনেত্রী পূজা চেরি। ছবি: সংগৃহীত

সিনেমায় শাকিব খান ও পূজাকে জুটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আসলেই কি তারা জুটি হয়ে কাজ করছেন, জানতে চাইলে পূজা বলেন, ‘সেটা সিনেমাতেই দেখবেন দর্শকরা।’

সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী পূজা চেরি। বৃহস্পতিবার থেকে টাঙ্গাইলের মহেরা জমিদারবাড়িতে শুরু হয়েছে সিনেমার দৃশ্যধারণ।

শুক্রবার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের অভিনেত্রী পূজা চেরি। বিষটি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।

পূজা বলেন, ‘গলুইতে শুটিংয়ের দুই দিন আগেই আরেকটি সিনেমার শুটিং করে এসেছি। একটা শুটিং আবহেই আছি।’

সিনেমায় পূজার চরিত্র কেমন, তা প্রকাশ করেননি তিনি। বলেছেন, ‘এটা এখনই প্রকাশ করতে চাই না বা গল্পটা নিয়েও ধারণা দিতে চাই না। শুধু এটা বলতে চাই, সিনেমার প্রেক্ষাপট আশির দশকের। তাই আমার সাজপোশাকে একটা ভিন্নতা আছে। এমন সাজপোশাকের সঙ্গে আমি পরিচিত নই।’

সিনেমার প্রেক্ষাপট আগের সময়ের হওয়ায় পূজার ওজন বাড়াতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন শাকিব খান। তিনি অংশ নেবেন ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে।

সিনেমায় শাকিব খান ও পূজাকে জুটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আসলেই কি তারা জুটি হয়ে কাজ করছেন, জানতে চাইলে পূজা বলেন, ‘সেটা সিনেমাতেই দেখবেন দর্শকরা।’

তবে যদি শাকিব-পূজা হয়ে থাকেন, তাহলে শাকিব ও পূজার বয়স ও সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন পূজা।

তিনি বলেন, ‘শাকিব খান তো আমার পরের সময়ের নায়িকার সঙ্গেও কাজ করবেন বলে মনে হয়। আসলে এগুলো বিষয় না, মূল বিষয়টা হলো দর্শকের ভালো লাগল কি না। দর্শক পছন্দ করলে সবই হতে পারে।’

সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু এবং পরিচালনা করছেন এস এ হক অলিক।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

কলকাতায় চলছে ‘জে কে ১৯৭১’

কলকাতায় চলছে ‘জে কে ১৯৭১’

জে কে ১৯৭১ সিনেমার শুটিংয়ের কিছু দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

তরুণের নাম জ্যাঁ ইউজিন পল কুয়ে। ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে মারা যাওয়া মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে- এই ভাবনা থেকেই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ভুবন মাঝিগণ্ডির পরিচালক ফাখরুল আরেফীন খানের নতুন সিনেমা জে কে ১৯৭১। এর শুটিং শুরু হয়েছে কলকাতায়। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে সিনেমার শুটিং, চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সেপ্টেম্বরে শেষ হবে সিনেমার প্রথম লটের দৃশ্যধারণ। দ্বিতীয় লটের শুটিং কবে শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন সিনেমাসংশ্লিষ্ট একজন।

মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিদেশে ঘটে যাওয়া একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন দেশের খ্যাতিমান নাট্যকার মাসুম রেজা। সম্প্রতি ফেসবুকে ছবি প্রকাশ পেয়েছে শুটিংয়ের।

জে কে মূলত ফরাসি শব্দ। এটি ফ্রান্সের একজনের নাম। তার ভূমিকায় অভিনয় করছেন কলকাতার শুভ্র সৌরভ দাস এবং পাইলটের চরিত্রে দেখা যাবে সব্যসাচীকে। এ ছাড়া সিনেমায় আরও অভিনয় করছেন দেশের আমান খান।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর। প্যারিসের কাছে অরলি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের ৭২০ বি ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে যাচ্ছিল। এমন সময় বিমানের ককপিটে এক হাতে পিস্তল অন্য হাতে বোমার মতো দেখতে একটি ব্যাগ নিয়ে ঢুকে পড়েন এক ফরাসি যুবক।

তিনি দাবি করেন, ব্যাগের মধ্যে বোমা রয়েছে। এসব দেখিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করতে বলেন পাইলটকে।

খুবই অদ্ভুত তার দাবি। এই ফ্লাইটে করে ২০ টন চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাতে হবে যুদ্ধপীড়িত বাংলাদেশে। নয়তো এই বিমান কোথাও যেতে দেবেন না তিনি।

তরুণের নাম জ্যাঁ ইউজিন পল কুয়ে। ভারতে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে মারা যাওয়া মানুষের জন্য কিছু একটা করতে হবে- এই ভাবনা থেকেই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

বোমার মতো দেখতে সেই ব্যাগের মধ্যে ছিল একটা বাইবেল আর দুটি ডিকশনারি। এই দেখিয়ে কুয়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখেন বিমানটিকে।

ফরাসি সরকার তখন রাজি হয় এই জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিমানে লোড করার জন্য। কিন্তু একটা সময় ফরাসি পুলিশ ধরে ফেলে কুয়েকে।

পরবর্তী সময়ে ফরাসি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশকে সাহায্য করার। ভারতের আশ্রয় শিবিরে এসেছিল সেই ২০ টন ওষুধ আর চিকিৎসাসামগ্রী।

এই সত্য ঘটনা নিয়েই নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি। এটি প্রযোজনা করছে গড়াই ফিল্মস।

২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন দেখে সিনেমাটি করার ইচ্ছা জাগে আরেফীনের। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে।

সব ঠিক থাকলে সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে মার্চ মাসে। সিনেমায় একটি গান থাকবে, যেটি গাইবেন নাসিম আলী খান। এর সংগীত পরিচালনা করবেন পার্থ বড়ুয়া।

পরিচালক মনে করেন, এই সিনেমার মাধ্যমে অন্ধকারে থাকা একটি ইতিহাস দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারবেন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের জো কুয়েকে ফ্রেন্ড অব বাংলাদেশ খেতাবের দাবি জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

অচিনপুরী পরিচয়ে সিলেটি ভাষায় গান গেয়ে ভাইরাল চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়। অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানে তেমন কোনো তালিম না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

কক্ষের আশপাশে ছড়িয়ে আছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। দেয়ালে ঝোলানো ওষুধ কোম্পানির ওয়ালম্যাট। সাদামাটা একটি চক্ষু চিকিৎসার চেম্বার। ভেতরে বসা ঝাকড়া চুলের মধ্যবয়স্ক এক লোক। পাশে কয়েকজন বসে বাদ্য বাজাচ্ছেন। গান গাইছেন মধ্যবয়সী ব্যক্তিটি।

এ রকম কয়েকটি গান ফেসবুকে এখন ভাইরাল। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের শ্রোতা-দর্শকদের কাছে গানগুলো বেশ আলোচিত।

ওই চেম্বারে বসে যিনি গান গেয়েছেন তিনি চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আমি আসলে গানের লোক, গান ছাড়া তৃপ্তি পাই না।’

এ ‘গানের লোক’ হলেন চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। গানের ভনিতায় নিজেকে পরিচয় দেন ‘জহির অচিনপুরী’ হিসেবে। শ্রোতারা তাকে ‘অচিনপুরী’ নামেই সম্বোধন করেন।

ফেসবুক পেজে নিজের পরিচয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমি, করি চোখের ডাক্তারি/গান আমার প্রাণের খোরাক, রচি সংগীত অচিনপুরী।’

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়।

অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

মরমী সাধনার এক উজ্জ্বল চারণভূমি সুনামগঞ্জ। হাসন রাজা, রাধারমণ, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মতো মরমী সাধকরা ঋদ্ধ করে গেছেন বাংলা সংগীতকে।

জহির অচিনপুরীর জন্ম এ জেলারই ছাতকে। তার বাবা ময়না মিয়াও মরমী ধারার লোক; গানও লিখেন। সেই সূত্রে তার মধ্যেও বহমান মরমী ধারা।

রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জহির। এ ছাড়া ঢাকার রায়েরবাজারে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য চেম্বার আছে তার।

কাজের কারণে মূলত ঢাকাতেই থাকেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চলে আসেন সিলেট। শনিবার পর্যন্ত তিন দিন নগরের লামাবাজারে ‘সালেহা আই কেয়ার সেন্টার’ নামে নিজের চেম্বারে বসেন।

শরতের এক তপ্ত দুপুরে লামাবাজারে চেম্বারে দেখা মেলে জহির অচিনপুরীর। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তার দলবলও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তারা আবার ওই চেম্বারেই কাজ করেন।

চেম্বারটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মনাফ বাজান পারকাশন, কর্মী সিজান বাজান হারমোনিয়াম। আর জুয়েল তাল তোলেন তবলায়।

চেম্বারের কাছে অচিনপুরীর স্টুডিও। যখন রোগী থাকে না তখন স্টুডিওতেই সময় কাটান তিনি। নিউজবাংলার এই প্রতিবেদককে দেখে চেম্বারেই গান শুরু করেন তিনি। এর ফাঁকে চলে গল্প।

অচিনপুরী বলেন, ‘ছোটবেলায় মজা করে গান করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গাইতাম। গানের লোকদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তবে কখনো সেইভাবে গান শিখিনি।’

ছাতকে স্কুলে পড়াকালীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জহির। এরপর সংগীতশিল্পী কেতকী আচার্যের কাছে কিছুদিন স্বরলিপি শিখেছেন।

অচিনপুরী বলেন, ‘সে সময় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী গৌরি চৌধুরীসহ কয়েকজন কেতকী আচার্যের কাছে গান শিখতেন। আমিও তাদের সঙ্গে যেতাম; তাদের সঙ্গে গলা মিলাতাম। তবে তখন আমার আগ্রহ ছিল অভিনয়ে। যদিও গান শুনতাম প্রচুর।’

ছোটবেলার এক অভিজ্ঞতার কথা জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে প্রথমবারের মতো একটি গানের প্রতিযোগিতায় নাম দেই। সেখানে তৃতীয় হই। তবে পড়াশোনার কারণে গানে মনোযোগ দিতে পারিনি। আর মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ি।’

এইচএসসি শেষে জহির ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে পড়ার সময় আবার গানের ঝোঁক পেয়ে বসে তাকে। সংগীত শিক্ষক বিপ্রদাস ভট্টাচার্য বাপ্পুর কাছে কিছুদিন গানও শেখেন। সেই সঙ্গে চলে কবিতা লেখালেখি।

বন্ধুদের আড্ডায় জনপ্রিয় গানের প্যারোডি করতেন তিনি। আর সবসময় শুনতেন মরমী সাধকদের গান।

জহির বলেন, ‘হাসন রাজার গান আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তার জীবনদর্শনও আমাকে টানে। হাসন রাজা জমিদার হয়েও জমির মায়ায় জড়াননি। তিনি দুনিয়ার ভেতরে থেকেও অন্য দুনিয়ায় ছিলেন। এসব কারণে তাকে ভালো লাগে।’

২০০৫ সালের দিকে যখন গান গাওয়া শুরু করলেন, তখন হাসন রাজাকে ভালোবেসে নিজের নাম বদলে রাখেন ‘জহির কানাই’। তখন সবে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানকারই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতেন।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জহির গান লেখা শুরু করেন ২০১০ সালে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মাথায় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চিন্তা পেয়ে বসেছে। এর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ভারতে যাই। সেখানে গিয়েই ভাবনা পাল্টে যায় আমার। ভারতে গিয়ে দেখি, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিদেশের বিলাসী জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে নিজ দেশে থেকে মানুষের সেবা করছেন। আমিও তখন সিদ্ধান্ত নিই, দেশে থেকেই মানুষের চিকিৎসায় কাজ করব।’

তিনি বলেন, “এ রকম সময়ই আমার মাথায় হঠাৎ একটি গান আসে। মাকে নিয়ে গান, ‘আমি হব না দেশান্তরি, থাকিব থাকিব মায়ের চরণ ধরি।’ এরপর গানটি রেকর্ড করি। তখন আমার এক সহকর্মী আমার নাম দেন, ‘অচিনপুরী’। তার নামটি আমার পছন্দ হয়। নামের সঙ্গে অচিনপুরী জুড়ে দেই।”

২০১৩ সালে ইউটিউবে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলেন তিনি। নাম দেন ‘অচিনপুরী মিউজিক ভ্যালি’। এরপর ফেসবুকেও একই নামে পেজ খুলেন।

অচিনপুরী বলেন, “প্রথমে আমার ছাত্র, বন্ধু, সহকর্মীরাই কেবল আমার গান শুনত; বাইরের লোকজন তেমন শুনত না। তবে ২০১৬ সালে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া ‘মুই বালা নায়’ শিরোনামে একটি গান অনেক জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘খাউজ্জানি’ নামে সিলেটের ভাষার আরেকটি গান করি। এটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে; আমাকে পরিচিতি এনে দেয়।”

কথা বলতে বলতেই অচিনপুরী গেয়ে ওঠেন, ‘পরোর বালা দেখলে আমার গতরো উঠে খাউজ্জানি/ও বাবু বুঝছোনি, হায়রে মজার খাউজ্জানি।’

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গান লেখার কথা জানিয়ে অচিনপুরী বলেন, ‘সবগুলো রেকর্ড করা হয়নি। সংরক্ষণের অভাবে কিছু হারিয়েও গেছে। আমি অগোছালো মানুষ। সব সামলে রাখতে পারি না।’

‘চিকিৎসক হওয়ায় ব্যস্ত জীবন। তবু গানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কেন?’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জবাবে অচিনপুরী বলেন, ‘আমি নিজের আত্মিক উন্নয়ন ও আত্মতুষ্টির জন্যই গান করি। নিজেকে পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গানে গানে মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চাই। এ ছাড়া একটা মায়ার জগৎ গড়ার লক্ষ্যে গান করি, যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না; সম্প্রীতি থাকবে, বন্ধন থাকবে।’

মরমী গানকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে চান জহির। নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলো নতুনভাবে সামনে আনতে চান।

গান গাইতে গিয়ে কিছু মানুষের কটূ কথার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার গান শুনলে ভালো লাগে, আনন্দ হয়। আমি চাই আমার সৃষ্টিগুলো মানুষ দেখুক, শুনুক। মানুষ যখন আমার গান শুনে প্রশংসা করে, তখন খুশি হই। আবার গান করায় ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকারও হতে হয়। অনেকে কটূ মন্তব্য করে।

‘এখন ফেসবুক বা ইউটিউবে আপ দেয়া গানের নিচের মন্তব্যগুলো আর পড়ি না। এগুলো পড়লে হতাশ হয়ে যাই। সব সৃজনশীল মানুষকে এই সমস্যায় পড়তেই হয়। ফলে এগুলো গায়ে মাখি না। আমি দেখি নিজের অবস্থানে-বিশ্বাসে ঠিক আছি কি না।’

জহির আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে কৃত্রিমতা নাই। যা বিশ্বাস করি, যা ধারণ করি তাই কথা ও সুরে প্রকাশ করি।’

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা

বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

মল্লিকা বলেন, ‘ওরা আমার নামে মিথ্যা কথা লিখত; ঘটনা অতিরঞ্জিত করে লিখত। অনেক মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন, যারা আমার নামের পাশে এমন উক্তি বসিয়ে দিতেন, যা আমি বলিনি। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছিল।’

বলিউডে প্রায় দুই দশকের পথচলা মল্লিকা শেরাওয়াতের। ২০০৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল তার প্রথম সিনেমা খোয়াইশ

এর পরের বছরই মার্ডার সিনেমায় অভিনয় দিয়ে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান মল্লিকা। এর পরে দুই ডজনের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

প্রায় সব সিনেমায় চুম্বন ও খোলামেলা দৃশ্যের জন্য ‘সাহসী’ অভিনেত্রীর তকমা পেলেও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান মল্লিকা।

তিনি জানান, হেনস্তার মাত্রা এতই বেড়ে গিয়েছিল যে, তাকে দেশ পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে।

মল্লিকা সম্প্রতি এক সংবাদ সংস্থাকে এসব কথা জানান বলে ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলেছেন, সে বিষয়ে মল্লিকা বলেন, ‘আমি দেশ ছেড়ে চলে যাই। এইভাবেই সামলাই নিজেকে।’

মল্লিকার কথায়, সংবাদমাধ্যম এবং জনসাধারণের একটি অংশের কাছে অপদস্থ ও হেনস্তা হতে হয় তাকে। তিনি স্রেফ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সেই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অসম্ভব মানসিক চাপ তিনি নিতে পারেননি। তার মন ভেঙে গিয়েছিল।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, মানসিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার জন্য তাকে দেশ ছাড়তেই হতো।

মল্লিকার দাবি, সে সময় সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি অংশের কাছে তিনি সমর্থনও পেয়েছেন। আরেকটি অংশ যথেষ্ট অনৈতিক ছিল।

অভিনেত্রী বলেন, ‘ওরা আমার নামে মিথ্যা কথা লিখত; ঘটনা অতিরঞ্জিত করে লিখত। অনেক মূলধারার সাংবাদিক ছিলেন, যারা আমার নামের পাশে এমন উক্তি বসিয়ে দিতেন, যা আমি বলিনি। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছিল।’

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় বলে জানান মল্লিকা।

সাহসী চরিত্রের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল: মল্লিকা
বলিউড অভিনেত্রী মল্লিকা শেরাওয়াত। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে নারীদের জন্য পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলে মনে করেন মল্লিকা। তার মতে, আগের তুলনায় অনেক বেশি যৌন দৃশ্য এখন সিনেমায় দেখা যায়। সাহসী চরিত্রের জন্য অভিনেত্রীদের এখন আর নিচু চোখে দেখা হয় না।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

মনোজ বলেন, ‘অনেক ক্র্যাশ কাজ তো আমারও আছে। সবারই আছে। কোনো কাজ খাটো করে বলছি না। এটা আমাদের করতে হয়। আমরা যারা অভিনয় করি, সবাই আসলে চাই অভিনয়টা ভালো করে করতে এবং এমন কোনো অভিনয় করতে, যেটাতে দর্শক আমাদেরকে ভালোবাসবে; দর্শকের ভালো লাগবে।’

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ মনোজ কুমার প্রামাণিক। ওভার দ্য টপ (ওটিটি) প্ল্যাটফর্মেও বিচরণ বাড়ছে তার। এর বাইরেও পরিচয় আছে তার। ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে পড়ান তিনি।

এ মুহূর্তে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বেশ কিছু কাজে ব্যস্ত মনোজ। ওয়েব ফিল্মের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন। তবে কোন প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করছেন, তা বড় বিষয় নয় মনোজের কাছে। তার আগ্রহের বিষয় শুধু অভিনয়।

অভিনয় ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান মনোজ।

কোন চরিত্র কেমন লাগে

এ পর্যন্ত অনেক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মনোজ। এর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি কঠিন লেগেছে, তা জানতে চাওয়া হয় অভিনেতার কাছে।

জবাবে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো চরিত্রই কঠিন বা সহজ লাগে না। সব একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে যায়। সবগুলো সম্পর্কে একটু গবেষণার দরকার আছে; চিন্তাভাবনার দরকার আছে। কখনো সেটা করতে পারি, কখনো সেটা সঠিকভাবে করতে পারি না সময়ের অভাবে। সব চরিত্র আমার কাছে একই রকম মনে হয়।’

বেছে বেছে কাজ করেন কি না, জানতে চাইলে মনোজ বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে এত বাছাই করে কাজ করার সুযোগ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এখনও তৈরি হয়নি। আমাদের কাজের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু ভালো কাজের পরিমাণ আসলে এখনও অনেক কম। বিশেষ করে টেলিভিশনে আমরা যারা কাজ করি, আমাদের বাজেট-সময় সবকিছু মিলিয়ে আসলে বেছে...

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘অনেকেই আমরা বলি বেছে বেছে কাজ করছি, কিন্তু সত্যিকার অর্থে এত বেছে কাজ করার সুযোগ থাকে না। এখন দেখা যাচ্ছে, যদি ৮০-৯০ পারসেন্ট গল্পই খারাপ হয়, ডিরেকশন খারাপ হয় বা ৮০-৯০ পারসেন্টই যদি আমাদের অল্প সময়, অল্প বাজেটের মধ্যে করতে হয়, তাহলে এর মধ্যে যদি আমি বাদ দিয়ে যাই, বেছে করতে হয়, তাহলে বেশির ভাগই বাদ পড়ে যাবে। যদি ভাবি শুধু ভালোগুলো করব, তখন তো পেট চলবে না। তো এত বেছে আমাদের কাজ করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ক্র্যাশ কাজ তো আমারও আছে। সবারই আছে। কোনো কাজ খাটো করে বলছি না। এটা আমাদের করতে হয়। আমরা যারা অভিনয় করি সবাই আসলে চাই অভিনয়টা ভালো করে করতে এবং এমন কোনো অভিনয় করতে যেটাতে দর্শক আমাদেরকে ভালোবাসবে; দর্শকের ভালো লাগবে।’

‘টেলিভিশন নাটকের অবস্থা খুবই খারাপ’

নাটকের সার্বিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা মনোজ বলেন, ‘আমাদের নাটকের বাজেট নাই। আমাদের নাটকের যারা ডিরেকশন দিচ্ছেন তাদের কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো না। সবার না; বেশির ভাগেরই। এমন অল্প আয়োজনের মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়। ডিরেক্টর যদি ভালো করতে চানও, যদি টাইম দিতে চান, তাহলে সেই বাজেট নেই। একটা প্রোডাকশনের পেছনে সময় এক মাস, দুই মাস, পাঁচ মাস যে দেবেন, চলবে কীভাবে। সো এই কন্ডিশনের মধ্যে টেলিভিশন নাটকের অবস্থা খুবই খারাপ।

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘তারপরও আমরা করে যাচ্ছি। কারণ আমাদের জীবিকা; এটা প্রয়োজন। এর মধ্যে থেকেই কিছু কাজ হয়তো ভালোও হচ্ছে। বাজারে ১০টা হলে তার মধ্যে হয়তো তিনটা-চারটা ভালো হচ্ছে। আর বাকি সাতটাই হয়তো সে রকমভাবে মানের হচ্ছে না।’

‘সিনেমার ডিরেক্টরদের আরও টেকনিক্যাল হতে হবে’

নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপের একপর্যায়ে সিনেমা নিয়ে নিজ ভাবনার কথা জানান মনোজ।

তিনি বলেন, ‘সিনেমার ক্ষেত্রে আমি বলব, লকডাউনের কারণে সিনেমা দেড়-দুই বছর যাবৎ বন্ধই আছে। আমরা কোনো সিনেমা দেখতে পাচ্ছি না। সিনেমার ক্ষেত্রে আমি বলব যে, টেকনিক্যালি আরও ডেভেলপ করতে হবে। আমার তাই মনে হয়। আমাদের আইডিয়া আছে অনেক ভালো। তারপরে ডিরেক্টরিয়াল হেড আছে, ক্রিয়েটিভ আছে, অভিনেতা-অভিনেত্রী আছে, কিন্তু টেকনিক্যাল ক্রু টিম যেটা সেইটা নাই বা ডিরেক্টরদেরকেও আরও টেকনিক্যাল হতে হবে। অনেক ম্যাথমেটিক্যাল হতে হবে।

‘ম্যাথমেটিক্স বলছি। অবশ্যই এটা একটা টেকনিক্যাল কাজ, কিন্তু একই সাথে অনেক কিছুর ম্যাথমেটিক্সের ফলে ফিল্ম তৈরি হয়। তো সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় তাদেরকে আরও টেকনিক্যাল হওয়া উচিত। ফিল্ম ল্যাঙ্গুয়েজটা সম্পর্কে আরও বোঝা উচিত, জানা উচিত এবং ওই প্র্যাকটিসটা হওয়া উচিত। তাহলে আরও ভালো সিনেমা এখানে হবে। হচ্ছে না, তা না। অনেকেই খুব ভালো করছেন। কান, বুসান লেগেই আছে। আমাদের অনেক সিনেমা অনেক দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।’

‘অভিনেতাদের কাছে ওটিটি, টেলিভিশন, ফিল্মের পার্থক্য নাই’

মনোজের কথায় উঠে আসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিষয়টি। তিনি মনে করেন, অভিনেতাদের কাছে প্ল্যাটফর্ম নয়, অভিনয়ই মুখ্য বিষয়।

‘একসময় মানুষ তো মাঠেঘাটে অভিনয় করত, একসময় মঞ্চ তৈরি করে সেখানে অভিনয় করেছে। তারপরে টেলিভিশন বা ফিল্মের ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেছে। অভিনয় দেখানো হয়েছে প্রজেক্টরে; টেলিভিশনে দেখেছি আমরা। তারপর আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখছি’, বলেন মনোজ।

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

‘আসলে মাধ্যমটা সব সময় চেঞ্জ হয়। যারা অভিনয় করেন তাদের কাছে ওটিটি, টেলিভিশন, ফিল্ম—এগুলোর কোনো পার্থক্য নাই। যদি কাজটা ভালো হয় তাহলে ভালো, যদি ভালো না হয় ভালো না। ওটিটি মানেই যে সব ভালো হয়ে যাবে বা হচ্ছে তা নয়’, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অনেক ওটিটি এখন দেখা যায় যে, কোয়ালিটি অ্যাচিভ করতে পারি নাই। আবার অনেকগুলো বেশ ভালো যাচ্ছে আরকি। তো অভিনেতাদের কাছে কোনো প্ল্যাটফর্ম কোনো বিষয় না।’

ওটিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘এখন যদি বলেন ওটিটির ভবিষ্যৎ কী? ডেফিনেটলি, একসময় মহাকাব্য রচিত হতো; মাঝখানে কোনো মহাকাব্য রচিত হয়নি। অনুকাব্য হয়ে গেছে, অনুকবিতা হয়ে গেছে। এখন কিন্তু আবার দেখবেন ওয়েব সিরিজ নামের যা হচ্ছে, এটা আবার এপিসোডি মহাকাব্যিক। তাই না? এটা আসলে ঘুরে ঘুরে আসে। ওটিটি এখন আছে, এখন ওটিটিতেই সবাই কাজ করবে। জানি না বিজ্ঞান কী আবিষ্কার করবে তারপরে।’

‘নীতিমালা দিয়ে কাকে আটকাবেন?’

ওটিটির নীতিমালা নিয়ে মনোজ বলেন, ‘নীতিমালা দিয়ে মানুষের নীতিকে, বিবেককে আসলে বেঁধে রাখা যায় না বা মানুষের খারাপ কোনো কিছুকে নীতি দিয়ে বাঁধা যায় না। তাহলে এত এত যে আইনের বই তৈরি হইছে পৃথিবীতে বা এত এত যে নীতি তৈরি হইছে পৃথিবীতে, কই আমি দেখি না যে পৃথিবীর মানুষ খুন করা বন্ধ রাখছে। ইন অ্যা ওয়ে দ্য কিল, ইন অ্যা ওয়ে দ্য লাভ টু।

‘সো যিনি শিল্পী, যিনি কিছু বানাচ্ছেন, ধরেই নিতে হবে যে তিনি শুদ্ধ একজন মানুষ। তিনি ভালোর জন্য, মঙ্গলের জন্যই কিছু করছেন। তাকে আসলে নীতিমালা দিয়ে বাঁধা যাবে না। যদি নীতিমালা দিয়ে বাঁধতেই হয় তাহলে তো সিনেমায় এখন…।’

নীতিমালা সব ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য কি না, সে প্রশ্নও তোলেন মনোজ।

তিনি বলেন, ‌‌‘এটা আসলে খুব কনফিউজিং একটা ব্যাপার। নীতিমালা দিয়ে বলা হলো যে, ধরেন সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য দেখানো যাবে না। কোনো চরিত্র যদি সিগারেটখোর হয়, তখন কী করবেন? সো তখন নীতিমালাটা কীভাবে অ্যাপ্লাই করবেন বা ধরেন অনেক ক্ষেত্রে আছে যৌনতা দেখানো যাবে না বলা হয়। যৌনতা তো জীবনের একটা অংশ। সেটা কেন দেখানো যাবে না? আর মানুষ কি ইন্টারনেটে পর্নো মুভি দেখতেছে না? ইন্টারনেটে ঢুকলে তারা যেকোনো ধরনের যৌন দৃশ্য দেখতে পাচ্ছে।

‘তো কাকে আটকাবেন এই নীতিমালা দিয়ে? আমি বলতেছি না যে এ ধরনের দৃশ্যে গল্প ভরে দাও। তা না। কিন্তু এই দৃশ্যগুলো আমাদের জীবনের অংশ। এই দৃশ্যগুলো দেখানোই যাবে না, এটা আসলে মুশকিল।’

কোনো চরিত্র সহজ বা কঠিন লাগে না: মনোজ
অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। ছবি: সংগৃহীত

নীতিমালার অসুবিধা তুলে ধরে মনোজ বলেন, ‌‌‘এই প্রতিবন্ধকতা কীভাবে উতরানো যাবে? প্রথমত, আমি মনে করি নীতিমালা দিয়ে কোনো লাভ হয় না। দ্বিতীয়ত, নীতিমালা যতই কঠিন হোক না কেন, যিনি ক্রিয়েটিভ, যার মাথায় সৃষ্টিশীলতা আছে, তিনি কোনো না কোনো ওয়ে আউট করে নেন। সমস্যাটা এই দৃশ্য দেখানো যাবে বা এই দৃশ্য দেখানো যাবে না, এটাতে না; সমস্যা হচ্ছে একটা মানুষ কী বলতে চায়, সেটা সে কোনো না কোনোভাবে বলার ওয়ে খুঁজে নিতে পারে বুদ্ধি থাকলে।

‘এখন কী বলতে চাই সেটাকে থামানোই হচ্ছে নীতিমালার কাজ। কী দেখানো হচ্ছে এটা গুরুত্বপূর্ণ না, যখন মূলে গিয়ে আঘাত লাগে তখন আসলে নীতিমালার প্রয়োজন হয়। আমি সরকারকে, দেশের নিয়মকে কোনো কিছুকে খাটো করে বলছি না। কিন্তু জাস্ট একজন শিল্পী যে জায়গা থেকে অনুভব করে, সে জায়গা থেকে বলছি।’

তিনি বলেন, ‘‌নীতিমালার কোনো প্রয়োজন আছে মনে করি না। আবার নীতিমালা যদি দেয়ও, শিল্পীর তাতে কিছু যায় আসে না। সে একটা ওয়ে খুঁজে নিবে।’

অভিনয় নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান এ অভিনেতা।

তিনি বলেন, ‌‘অভিনয় নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। ভালো ভালো কাজ করতে চাই, ভালো গল্পে, ভালো ডিরেক্টরদের সঙ্গে। আর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

‘প্রস্তুতি ছিল না, আমি শুধু চরিত্রটি ফিল করেছি’

‘প্রস্তুতি ছিল না, আমি শুধু চরিত্রটি ফিল করেছি’

বলিউড অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম দিকে ইংরেজি সংলাপে সমস্যা হয়েছিল নওয়াজের। এ কথা নিজেই জানিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘ফারুকী আমাকে সব সময় সাহায্য করেছে। একবার আমি চরিত্রের ছন্দ পেয়ে গেলে, আর কোনো সমস্য হয় না। সেখানে ভাষাও কোনো বাধা না।’

তাদের বন্ধুত্বের শুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সেটি আরও দৃঢ় হয় সিনেমার প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং একে অপরের কাজের প্রতি শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও বলিউডের নামকরা অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী- একপর্যায়ে এ দুই সৃজনশীল মানুষের কাজ করাটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সেই অপেক্ষা শেষ হয় এবং তাদের একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহটা প্রকাশ পায় নো ল্যান্ডস ম্যান সিনেমার মধ্য দিয়ে।

ফারুকী ও তার সিনেমা নিয়ে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী শুরু করেন এভাবে, ‘তার (ফারুকীর) সিনেমাগুলো আকর্ষণীয়। শিল্প বা বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র অথবা উৎসবকেন্দ্রিক- কোনো ফর্মে ফেলা যায় না।’

নিউ ইয়র্ক, সিডনিতে হয়েছে সিনেমার দৃশ্যধারণ। একজন পরিচয়সংকটে থাকা দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তির গল্প নিয়েই নো ল্যান্ডস ম্যান। যিনি নিজের একটি জায়গা পেতে সংগ্রাম করছেন।

‘প্রস্তুতি ছিল না, আমি শুধু চরিত্রটি ফিল করেছি’
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম কয়েক দিন নওয়াজের চরিত্রটি নিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নওয়াজ তার চরিত্র নিয়ে বলেন, ‘আমি কোথায়? নিজেকে প্রশ্ন করা একটি চরিত্র আমার। এটি এমন একটি প্রশ্ন, যে কারও মনে তা আসতে পারে। সিনেমার বিষয়টি এখনকার সময়ের খুবই প্রাসঙ্গিক। আমি এই চরিত্রের জন্য কোনো প্রস্তুতিই নিইনি। আমি শুধু চরিত্রটির অনুভূতি অনুভব করার চেষ্টা করেছি।’

প্রথম দিকে ইংরেজি সংলাপে সমস্যা হয়েছিল নওয়াজের। এ কথা নিজেই জানিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘ফারুকী আমাকে সব সময় সাহায্য করেছে। একবার আমি চরিত্রের ছন্দ পেয়ে গেলে, আর কোনো সমস্য হয় না। সেখানে ভাষাও কোনো বাধা না।’

অভিনেতা জানিয়েছেন, গল্পের প্রয়োজনে ব্যঙ্গাত্মক আচরণ করা অপরিহার্য ছিল সিনেমায়।

নওয়াজ বলেন, ‘যদি একটি গল্প সহজ হয়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই গল্পে নতুন মোড় এবং চমক যোগ করতে হবে। বিপরীতভাবে বললে, জটিল গল্পগুলোকে সহজ করতে হবে। এ কারণে আমাদের মনে হয়েছে যে সিনেমার বিষয়টিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বা সহজভাবে বলা উচিত যাতে দর্শকরা এটি উপভোগ করতে পারেন এবং এর মূল বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারেন।’

‘প্রস্তুতি ছিল না, আমি শুধু চরিত্রটি ফিল করেছি’
নো ল্যান্ডস ম্যান সিনেমার শিল্পী, কলাকুশলী, পরিচালক ও প্রযোজক। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ার সম্মানজনক বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের কিম জিসেওক অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত হয়েছে নো ল্যান্ডস ম্যান। এ বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে আরও ছয়টি সিনেমা।

এ নিয়ে সিদ্দিকী গর্বিত যে তার চলচ্চিত্রটি মর্যাদাপূর্ণ উৎসবে অপর্ণা সেনের দ্য রেপিস্ট এর সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।

দ্য রেপিস্ট সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। শিডিউল জটিলতায় আমি এটা করতে পারিনি। অপর্ণা সেন একজন দুর্দান্ত পরিচালক; আমি নিশ্চিত যে এটি একটি ভালো চলচ্চিত্র।’ বলে শেষ করেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন

মরণোত্তর দেহদান করলেন কবীর সুমন

মরণোত্তর দেহদান করলেন কবীর সুমন

মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন করেছেন কবির সুমন। ছবি: সংগৃহীত

মৃতদেহ গবেষণার কাজে ব্যবহার হোক এমনটা চান সুমন। তার মৃত্যুর পর কোনো ধরনের স্মরণসভা করতেও নিষেধ করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। এমনকি নিজের সৃষ্টি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন তিনি।

গত বছর অক্টোবরে মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও গবেষক কবীর সুমন। দেহদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করেছেন ৭২ বছর বয়সী এই শিল্পী।

বুধবার দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই অঙ্গীকারপত্রের ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন সুমন।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সই- গতকাল, ২২.০৯.২১ সন্ধ্যে।’

এর আগে, ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের হাতে লেখা একটি ইচ্ছাপত্রের ছবি পোস্ট করেন। এতে তিনি মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ইচ্ছাপত্রে তিনি লেখেন, ‘সকলের অবগতির জন্য - সজ্ঞানে, সচেতন অবস্থায়, স্বাধীন ভাবনাচিন্তা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমি জানাচ্ছি; আমার কোনও অসুখ করলে, আমায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে অথবা আমি মারা গেলে আমার সম্পর্কিত সবকিছুর, প্রতিটি বিষয় ও ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার থাকবে একমাত্র মৃন্ময়ী তোকদারের (মায়ের নাম প্রয়াত প্রতিমা তোকদার, বাবার নাম দেবব্রত তোকদার), অন্য কারও কোনো অধিকার থাকবে না এইসব বিষয় ও ক্ষেত্রে।’

মরণোত্তর দেহদান করলেন কবীর সুমন
২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে এই ইচ্ছাপত্রের ছবি পোস্ট করেন কবীর সুমন। ছবি:ফেসবুক

মৃতদেহ গবেষণার কাজে ব্যবহার হোক এমনটা চান সুমন। তার মৃত্যুর পর কোনো ধরনের স্মরণসভা করতেও নিষেধ করেন এই জনপ্রিয় গায়ক। এমনকি নিজের সৃষ্টি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন তিনি।

লেখেন, ‘আমার মৃতদেহ যেন দান করা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে। কোনো স্মরণসভা, শোকসভা, প্রার্থনাসভা যেন না হয়। আমার সমস্ত পাণ্ডুলিপি, গান, রচনা, স্বরলিপি, রেকর্ডিং, হার্ড ডিস্ক, পেনড্রাইভ, লেখার খাতা, প্রিন্ট আউট যেন কলকাতা পুরসভার গাড়ি ডেকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় সেগুলো ধ্বংস করার জন্য-হাতে লেখা সব কিছু, অডিও ও ভিডিও ফাইল- সব। আমার কোনও কিছু যেন আমার মৃত্যুর পর পড়ে না থাকে। আমার ব্যবহার করা সব যন্ত্র, বাজনা, সরঞ্জাম যেন ধ্বংস করা হয়। এর অন্যথা হবে আমার অপমান।’

১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ ভারতে ওডিশায় জন্ম কবির সুমনের। ৯০ দশকের শুরুতে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবাম দিয়ে বাংলা আধুনিক গানের জগতে আবির্ভাব হয় তার।

সেই অ্যালবাম দিয়ে দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। অসংখ্য অ্যালবামের সঙ্গে উপহার দিয়েছেন ‘গানওলা’, ‘জাতিস্মর’ ‘নিষিদ্ধ ইস্তেহার’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় সব গান।

আরও পড়ুন:
কারাগারের সামনে পরীমনির আইনজীবী-স্বজনরা

শেয়ার করুন