দেশের পথে কাবুল থেকে উদ্ধার ৬ বাংলাদেশি

দেশের পথে কাবুল থেকে উদ্ধার ৬ বাংলাদেশি

দোহা বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে উড়াল দেয়ার আগে আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার হওয়া ছয় বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বাংলাদেশির একজন রাজিব বিন ইসলাম মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন এয়ারপোর্টে। এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে ৫৮৪ ফ্লাইটে করে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফিরছি। বিমানটি আজ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় ল্যান্ড করার কথা।’

আফগানিস্তানের কাবুল থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশের ১২ নাগরিকের ৬ জন দেশে ফিরছেন। দেশের উদ্দেশে কাতারের দোহা থেকে উড়াল দিতে যাচ্ছেন তারা।

ছয় বাংলাদেশির একজন রাজিব বিন ইসলাম মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এয়ারপোর্টে। এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে ৫৮৪ ফ্লাইটে করে দুবাই হয়ে ঢাকায় ফিরছি। বিমানটি আজ রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকায় ল্যান্ড করার কথা।’

অপর পাঁচ বাংলাদেশি হলেন মো. কামরুজ্জামান, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, আবু জাফর মোহাম্মদ মাসুদ করিম ও শেখ ফরিদ উদ্দিন। তারা সবাই কাবুলে টেলি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান আফগান ওয়্যারলেসের কর্মী ছিলেন।

কাবুল থেকে তাদের সঙ্গে আরও ৬ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই ছয়জনকে রাখা হয়েছে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে। তাদের সঙ্গে আছে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের দেড়শতাধিক আফগান শিক্ষার্থীও। তাদের সবাইকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়। কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

সংগঠনের নামে কেন সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো এবং সে খবর পত্রিকায় কীভাবে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়।

‘কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যেটি উপস্থাপন করা হয়েছে, সংগঠনের নাম দিয়ে কেন ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি স্বচ্ছ থাকলে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার সুযোগ নেই। যখন ব্যাংক হিসাব চাওয়ার পরে এটি প্রকাশ হবে, তাদের স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে তখন তো বরং তারা যে স্বচ্ছ এটিও প্রকাশ হবে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

‘তবে এটি কেন সংগঠনের নাম দিয়ে চাওয়া হলো, আবার কেন কাগজে আসল সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট- বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

একে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে মন্তব্য করে এই ১১ নেতা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

‘সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন’

বিএনপি নেতারা দাবি জানালেও বর্তমান সরকারের অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জোর গলায় দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা প্রায় ১২ বছর ধরেই এই আহ্বান জানিয়ে আসছেন, কিন্তু জনগণতো তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সাড়া দেয়ার কোনো কারণও নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ীই বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কখনো সরকারের অধীনে হয় না, হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

‘যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় তখন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। সরকার তখন একজন পুলিশ কনস্টেবলও বদলি করতে পারে না। কার্যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রচুর নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠান করেছে। আমি এ জন্য বিএনপিকে বলব, ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ স্থগিতাদেশ যে কোন সময় বাতিল হতে পারে বলেও বিএনপি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বহু আগেই ধন্যবাদ দেয়া উচিত ছিল। কারণ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু জামিনে মুক্তি পাননি। তাকে প্রধানমন্ত্রী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করেছেন, এ জন্যই তিনি কারাগারের বাহিরে আছেন। বিএনপির এ জন্য শুকরিয়া করা উচিত। ধন্যবাদ দেয়া উচিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যেকোনো সময় চাইলে ৬ মাসের সাজা স্থগিতের যে আদেশ তা বাতিল করতে পারে। সে আদেশ যদি আগামীকাল বাতিল হয়, তাহলে আগামীকালই তাকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এটিও বিএনপির মনে রাখা প্রয়োজন।’

‘ডোমেইন বরাদ্দে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকার পরেও আইপি টিভি কীভাবে ডোমেইন বরাদ্দ পায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আইপি টিভির নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু ডোমেইন বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি। ডোমেইন বরাদ্দ কীভাবে পেল সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। আমি মনে করি, কাউকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়ার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করব আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় এতে থাকবে। এখানেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব যে ডোমেইন বরাদ্দের দেয়ার ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। আমরা তদন্ত করছি এবং আদালতেরও নির্দেশনা আছে। আমরা অনলাইন ও আইপি টিভির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

ভারতফেরত ২ রোহিঙ্গার ঠিকানা আবার টেকনাফ ক্যাম্প

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা দুজন পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্ত থেকে বিএসএফের ফেরত পাঠানো দুই রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ।

পাটগ্রাম থানা পুলিশ সোমবার দুপুর একটার দিকে তাদের ফেরত পাঠায়।

ওই দুই নারী হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুন্সিপাড়া ২২ নম্বর ক্যাম্পের সেতুফা বেগম ও একই ক্যাম্পের মো. আনাস।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত শুক্রবার কক্সবাজার থেকে ওই দুই রোহিঙ্গা বাসে করে পাটগ্রাম আসেন। দালালের মাধ্যমে তারা বিজিবি চেকপোস্ট পার হয়ে দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে বিএসএফ তাদের আটক করে শনিবার রাতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। তবে তারা বিজিবিকে বিষয়টি জানায়নি।

স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পাটগ্রাম রেলস্টেশনে তাদের দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা আটক করে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পৌর মেয়র রাশেদুল ইসলাম সুইটের কাছে। সেখান থেকে রোববার ভোররাতে তাদের থানায় নেয়া হয়।

মো. আনাসের বরাতে পুলিশ জানায়, নেপালে আনাসের মামাত ভাই সাকেরের কাছে যাওয়ার জন্য তারা পালিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তারা পরিবারসহ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই থাকতেন।

ওসি ওমর ফারুক জানান, তারা নেপালে যাওয়ার উদ্দেশেই ভারতে গেছিলেন। সেখান থেকে বিএসএফ তাদের ফেরত পাঠায়। দুজনকেই আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

হবিগঞ্জ-ইকরাম মাত্র ১৮ কিলোমিটারের একটি সড়কের জন্য ১০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

সংস্কারের অভাবে প্রায় ১০ বছর ধরে আঞ্চলিক সড়কটিতে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। আরসিসি অংশের ঢালাইও উঠে গেছে; সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমছে পানি। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

তবু ভাঙাচোরা সড়কটি সংস্কারে নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। এতে হবিগঞ্জের বানিয়াচং আর কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আর ঝুঁকিকে সঙ্গী করেই চলাচল করতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি অংশ সংস্কারের জন্য বরাদ্দের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তবে হবিগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের দাবিতে আমরা পদযাত্রা করেছি। বিভিন্ন বাজার ও পয়েন্টে পথসভা করেছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাতই করছে না।’

হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে বানিয়াচং উপজেলার একাংশের একমাত্র ও কিশোরগঞ্জ জেলার অস্টগ্রাম উপজেলার একাংশের অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক শ যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহী যান চলে এ সড়ক দিয়ে।

দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৮ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাতেই বড় বড় খানাখন্দে ভরা। আরসিসি অংশে ঢালাই উঠে গিয়ে রড় বের হয়ে গেছে।

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টি হলে সড়কটির অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠে। গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকার দুর্ঘটনার শিকার হয় যানবাহন। দীর্ঘ দিন ধরে সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

সাঙ্গ এলাকার বাসিন্দা আয়ুব আলী বলেন, ‘এই সড়কটি মক্রমপুর, সুজাতপুর, পৈলারকান্দি, নোয়া পাথারিয়া, হিয়ালা, বাল্লা মধুপুর, বিথঙ্গল, পাহারপুর, কাকিয়ারআব্দা, টুপিয়াজুড়ি, সাঙ্গর, সুজাতপুর, রহমতপুর, গানপুর, মাখনিয়া, রায়পুর, আগুয়া, বিয়জপুর, মন্দরী, মুরাদপুর, বাগতলা এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েকটি গ্রামসহ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। তবে সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। অথচ সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কেউ।’

ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী সুবিনয় দাস বলেন, “ভাঙা সড়ক দিয়েই ব্যবসার জন্য পণ্য আনতে হয়। অনেক সময় মালবাহী ছোট ছোট গাড়ি গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে মালামাল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় আমাদের। এ ছাড়া গাড়ির ঝাকুনির কারণে বিভিন্ন পণ্য ভেঙে যায়। এ সড়কের কারণে ‘গুড়ের লাভ পিঁপড়ায় খাইলায়’।”

বাল্লা মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা সজল দাস বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে জেলা শহরসহ ঢাকা-সিলেট যেতে হয়। প্রসূতি নারীদের নিয়মিত হবিগঞ্জ শহরে ডাক্তার দেখাতে যেতে হয়, কিন্তু এই সড়ক দিয়ে চলাচলের কারণে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের।’

এই সড়কের সিএনজি অটোরিকশাচালক তারেক মিয়া বলেন, ‘এই মাসেও আমার টমটম তিনবার উল্টাই গেছে। ভাঙা জায়গাত পানি জইম্মা থাকে, যে কারণে ইখান দিয়ে চাক্কা (চাকা) গেলেই গাড়ি উইল্টা যায়গা। এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন পার্টসও দুই দিন পর পর ভাইঙ্গা যায়।’

এক সড়কের জন্য দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ


এই সড়কের কিছু অংশ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ কিলোমিটার সড়কের ৭ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য ৩ কোটি টাকার দরপত্র তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাসেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। আশা করা যায়, দুই মাসের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

বাকি ১১ কিলোমিটারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই স্থানটিও সংস্কারের জন্য খুব শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করছি, এ বছরই এটি একনেকে পাস হবে।’

শেয়ার করুন

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

রূপপুরে লোহার আঘাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

পাবনার ঈশ্বরদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করার সময় এক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির।

নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামের ওয়াছেদ আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের সন্তোষ চন্দ্র সরকারের ছেলে মাধব চন্দ্র সরকার।

হতাহতরা ‘টেস্ট রোসেম’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করতেন।

রূপপুর প্রকল্পে সোমবার দুপুর ১টার দিকে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মাধব ও মনিরুজ্জামান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রিঅ্যাক্টরের নিচে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বড় লোহার টুকরা তাদের মাথায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

এ সময় শিফাত নামে আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। এরপর তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট অফিস কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে।’

শেয়ার করুন

রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি এর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

টিপু মুনশি বলেন, ‘রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অথচ এই তৈরি পোশাকও বিভিন্ন জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে নিতে অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে। তাই তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য সরাসরি রপ্তানিতে রাশিয়ান সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রতিবন্ধকতা দূর করে রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দেশটির রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে রুশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ঢাকায় নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি এর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ সহযোগিতা চান।

রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে রাশিয়ার বাজারে সরাসরি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ নেই। ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতে না পারা এবং আরও কিছু শুল্ক জটিলতার কারণে অন্য দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি করতে হচ্ছে। এতে রাশিয়ার বাজারে বাণিজ্য আশা অনুযায়ী বাড়ছে না।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অথচ এই তৈরি পোশাকও বিভিন্ন জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে নিতে অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে। তাই তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য সরাসরি রপ্তানিতে রাশিয়ান সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান, জটিলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে রাশিয়ার বাজারে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রুশ সরকারের সহযোগিতা দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ এখন উন্নতমানের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশ রাশিয়াসহ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন ও সিআইএসভুক্ত অন্যান্য দেশে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।’

এসব আগ্রহের জবাবে মন্ত্রীকে অবহিত করে নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি বলেন, ‘বাংলাদেশকে রাশিয়া বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতেও আগ্রহী। কারণ আমাদের দেশে (রাশিয়ায়) বাংলাদেশের পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে। চলমান বাণিজ্য বাধা দূর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। রাশিয়ান সরকার চলমান সমস্যাগুলো দূর করতে আন্তরিক। রাশিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগী হতে চায়।’

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে রাশিয়ায় ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৬ কোাটি ৬৭ লাখ ডলারের পণ্য।

রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) নূর মো. মাহবুবুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কমকর্তারা।

শেয়ার করুন

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়

ফরিদপুর পৌরসভা। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

দেশের সব পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের বিষয়ে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘পৌরসভাতে প্রধান নির্বাহী দেয়ার জন্য আমি শক্ত করে… (বলেছিলাম)। অনেকে এটা মানতে চায় না, কিন্তু আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি রাজি হয়েছেন। প্রধান নির্বাহী দেয়া হলে, হবে কি.. মিনিস্ট্রির (মন্ত্রণালয়) সঙ্গে পৌরসভার সরাসরি একটি কানেকটিভিটি থাকবে।’

‘এতে তারা কী করছে, মানুষকে সেবাটা দিচ্ছে কি না সেটা আমরা বুঝতে পারব। এতে মানুষ লাভবান হবে। তারা যখন লাভবান হবে তখন তারা ট্যাক্সও দিতে চাইবে। যদি কারও লাভ হয় তাহলে সে কেন দেবে না? অবশ্যই দেবে। এ জায়গায় আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।’

একই সঙ্গে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে অডিটর নিয়োগ করছি। এটি নিয়োগ করা মানে কাউকে অসম্মান করা না। এতে কাজে স্বচ্ছতা আসবে।

সব পৌরসভায় সিইও নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সায়
সোমবার সকালে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সংলাপে অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

‘এটা হলে তাহলে জবাবদিহি বাড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রেসটিজিয়াস হবে, আয়বর্ধক হবে, স্বনির্ভর হবে। স্বনির্ভরতা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেকে প্রেসটিজিয়াস বলতে পারে না।’

‘ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানরা গালি ডিজার্ভ করে’

কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের যে গালিগালাজ শুনতে হয় তার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিয়নের মেম্বার বলে সারা দিন আমরা গালি দিই। সম্ভবত অনেক কারণও আছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদকে আমরা গালি দিই। আমি মনে করি তারা (গালি) পাওয়ার জন্য ডিজার্বও করে। কী কারণে করে?

‘তারা সঠিকভাবে সেবা দেয় না এবং এ প্রতিষ্ঠানগুলো যে দুর্নীতিমুক্ত এটা বলা যাচ্ছে না। এ প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের যেসব দায়িত্ব পালন করার কথা সেগুলো ঠিকভাবে পালন করে না। এটা মোটামুটি স্টাবলিস্ট।’

অবশ্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার অপ্রাপ্তির জন্য দায় নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এই ব্যর্থতা তাদের নয়, ব্যর্থতা আমার। আই হ্যাভ টু ডায়াগনোসিস ফেইলরটা কার। যে মানুষ জবাবদিহির আওতায় থাকবে না সে নষ্ট হবে। এ জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘আমরা জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করতে পারিনি, জনপ্রতিনিধিদের ঠিক করার দায়িত্ব আমাদের। মেম্বারের পজিশন যে মর্যাদাপূর্ণ সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে কাজ না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে যত বেশি, যত দ্রুত শক্তিশালী করা যাবে, দেশ তত দ্রুত শক্তিশালী হবে। মানুষগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা থেকে সচিব, মন্ত্রী গিয়ে গ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না।

‘ওখানে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে খুব ইফেকটিভ করতে পারলে কেউ আর পেছনে থাকবে না।’

শেয়ার করুন

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ৬ হাজার ইয়াবা

সৌদিগামী যাত্রীর ব্যাগে ৬ হাজার ইয়াবা

বিমানবন্দরে ইয়াবার চালানসহ আটক যাত্রী কাজী নয়ন। ছবি: নিউজবাংলা

সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন কাজী নয়ন। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে আটক করে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয় হাজার ৩৬ পিস ইয়াবাসহ কাজী নয়ন নামের এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের দাম্মামগামী ফ্লাইট বিজি-৪০৪৯ এর যাত্রী ছিলেন নয়ন। সোমবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাকে আটক করে বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স (এভসেক)।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, যাত্রী নয়নের হোল্ড লাগেজ ছিল ডি নম্বর সারিতে। সেখানে স্ক্যানিং করার সময় ব্যাটেলিয়ান আনসার রনি মিয়া ও সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী সাহারা বানু সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পান।

যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর পাওয়া যায় ছয় হাজার ৩৬ পিস ইয়াবা। নয়নের বাড়ি বগুড়া সদরে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুন