শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল

শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল

রংপুরের তারাগঞ্জে বুড়িরহাট গ্রামের শামীমা আক্তার নামের এক উদ্যোক্তা ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

জেলায় বছর কয়েক আগে শখের বশেই কফি ও বিদেশি এসব ফল চাষ শুরু করেন নয়া উদ্যোক্তারা। এখন বাণিজ্যিকভাবেই এসবের ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

তামাকের রাজ্য রংপুরে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কফিসহ বিদেশি কিছু ফলের চাষ।

কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতার কারণে অন্যান্য ফসলের চেয়ে কম খরচে এসব ফলে ভালো ফলন পাচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি চারাও বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে কফি, ত্বীন, পেপিনোমেলন, ড্রাগন ও মাল্টা চাষে আগ্রহও বাড়ছে।

জেলায় বছর কয়েক আগে শখের বশেই কফি ও বিদেশি এসব ফল চাষ শুরু করেন নয়া উদ্যোক্তারা। এখন বাণিজ্যিকভাবেই এসবের ব্যাপক চাষ হচ্ছে।

তামাকের রাজ্যে কফি চাষ

রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় অন্যান্য ফসলের মতোই বিস্তৃত মাঠজুড়ে তামাকের চাষ হয়। অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে তামাক চাষ জনপ্রিয়।

এ বছর তামাকের পাশাপাশি রংপুরের তারাগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলায় কফি চাষ শুরু হয়েছে। এই দুটি উপজেলায় ১ দশমিক ২৮ একর জমিতে ১১টি বাগানে কফি চাষ করা হয়েছে।

শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল

এর মধ্যে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ১০টি আর তারাগঞ্জ উপজেলায় ১টি বাগান রয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলার গোয়ালবাড়ী গ্রামের যুবক মোখলেছুর রহমান জানান, ইউটিউবে দেখে ২০১৭ সালে কক্সবাজারের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে ১ হাজার কফি গাছের চারা নিয়ে আসেন। ২৮ শতক জমিতে এসব চারা রোপণ করে শেষ পর্যন্ত ৪৫০টি গাছ বাঁচাতে পেরেছিলেন। এ বছর প্রতিটি গাছে প্রায় ৩ হাজার করে কফি ধরেছে।

তিনি জানানলেন, এই কফি গাছগুলোর বয়স ৩০ পার হলে ফলন বাড়বে বহুগুণ। তখন প্রায় কোটি টাকার কফি বিক্রি সম্ভব হবে। এসব কারণে অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল

মোখলেছুর বলেন, ‘নতুন কফি বাগানের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি প্রায় আড়াই লাখ টাকার কফি ও বীজ বিক্রি করেছি।’

কাউনিয়া উপজেলার নাজিরদহ গ্রামের চাষি ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমি ১০ শতক জমির ওপর ৮৮টি গাছ লাগিয়েছি। গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ফল আসবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউনিয়া উপজেলায় ইয়াছিনের মতো আরও নয় যুবক এই কফি চাষ শুরু করেছেন। প্রত্যেকেই ১০ শতক জমির ওপর ৮৮টি করে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করছেন।

ত্বীন চাষে ভাগ্যবদল

মরু অঞ্চলের জনপ্রিয় ফল ত্বীন এখন চাষ হচ্ছে রংপুরের মিঠাপুকুর শাল্টিগোপালপুরে। ইনাম হাসান রাহাত ও তার বড় ভাই আসিফ হাসান রাতুল এই ত্বীন ফল চাষ করছেন।

ইনাম বলেন, ‘সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করি। দুই ভাই মিলে নিজেদের ৩৩ শতক জমিতে শুরু করি ত্বীন চাষ।

‘এই ফল মূলত বালুতে ভালো হয়। প্রথমদিকে লালমাটিতে এই ফলের চাষ নিয়ে খানিকটা সন্দেহ হলেও এখন দারুণ হচ্ছে গাছগুলো। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে গাছগুলোতে ত্বীন ফল আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফলগুলো দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের ডুমুর ফলের মতো। একেকটি ফলের ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম। এ বাগান থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০০ কেজি ফল সংগ্রহ করা হয়েছে।

‘প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। সে হিসেবে প্রতিটি ফলের দাম হয় এক ডলার। আর প্রতিটি চারা বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়।’

শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল

আসিফ হাসান রাতুল জানান, ত্বীন ফলের চাষের কথা জানাজানি হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন ফলের গাছ দেখতে। অনেকেই ত্বীন চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফল বিক্রির পাশাপাশি লাভ হচ্ছে চারাও বিক্রি করেও।

সফলতা পেপিনোমেলনেও

পেপিনোমেলন নামে মহাঔষধি অস্ট্রেলিয়ান এই ফল বাংলাদেশে প্রথম চাষ হচ্ছে রংপুরের মিঠাপুকুরে। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে এই ফল চাষ করছেন এ এস এম সেলিম। অস্ট্রেলিয়া থেকে আনা এই ফলগাছ এখন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কৃষি বিভাগেও।

পেপিনোমেলন ফল ১ ফুট লম্বা। গাছটি দেখতে বেগুন গাছের মতো।

সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সাভারে একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করতাম। ইউটিউবে দেখে আমি এই গাছের প্রতি আগ্রহী হই। ৪ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি চারা আনি।

‘সেই চারা জমির একটি কোণে রোপণ করি। সেখান থেকে অনেক চারা হয়। এই একটি গাছ থেকেই আমার স্বপ্ন পূরণ হয়।

এখন ১০ শতক জমির ওপর চাষ করছি এই ফল। ফলের পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছি।’

তিনি জানান, ক্যানসার, কিডনী সংক্রান্ত জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ ২১টি রোগের মহা ওষুধ হিসেবে কাজ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফলটি।

সেলিমের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক এই ফলের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় অন্য কৃষকরাও।

সেলিমের প্রতিবেশী হারুণ বলেন, ‘সেলিম ভাইয়ের কাছ থেকে চারা কিনে আমিও পাঁচ শতক জমিতে এই ফল লাগিয়েছি। গাছগুলো বড় হচ্ছে। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরিচর্যা করছি।’

ড্রাগন চাষে লাভ দেখছে চাষিরা

রংপুরের তারাগঞ্জে বুড়িরহাট গ্রামের শামীমা আক্তার ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন। এ বছর ৪০ হাজার টাকা লাভও করেছেন তিনি।

শামীমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা একজন সফল কৃষক ছিলেন। তিনি তার জমিতে মাছ, লিচু, কলা, আদা চাষে সফল হয়েছিলেন। আদা চাষ করে কৃষি বিভাগ থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন। আব্বার সেই কৃষিকাজ দেখে ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় ফুল-ফল ও ঔষধি গাছের চারা লাগাতাম।

‘২০১৫ সালে স্বামী ফরিদ আলমের সঙ্গে ভিয়েতনাম গিয়ে ড্রাগন ফল খেয়ে খুব মজা পাই। এরপর নিজেই সিদ্ধান্ত নেই এই ফল চাষের। আব্বার পরামর্শে তার ৫৫ শতক জমিতে ২০১৬ সালের শেষ দিকে ৮০০টি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করি। সেখানে এবার ফল এসেছে।’

শামীমা জানান, প্রতিটি গাছে বছরে ৫০ থেকে ৭০টি পর্যন্ত ড্রাগন ফল ধরে। ওজনে একটি ফল ৬০০-৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলাজুড়ে ২৭টি ড্রাগন বাগান রয়েছে। এ বছর ৯ হেক্টর জমিতে ১৮০ টন ড্রাগন উৎপাদন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করতে দেড় লাখ টাকার মতো প্রয়োজন হয়। চারা রোপণের ১ বছরের মধ্যে ফলন আসতে শুরু করে।

রংপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, ড্রাগন চাষ অত্যন্ত লাভজনক। এতে খরচ কম আবার লাভ বেশি। তা ছাড়া বিদেশি এই ফলগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর।

মাল্টা চাষও বেড়েছে

রংপুরে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭২ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে মাল্টা। উৎপাদন হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টন।

বদরগঞ্জে ১১ দশমিক ৫০ হেক্টর, তারাগঞ্জে ১২ দশমিক ৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জে ২৫ হেক্টর, পীরগাছায় ১ দশমিক ১১ হেক্টর, মিঠাপুকুরে ৬ হেক্টর, গঙ্গাচড়ায় ৯ দশমিক ৪ হেক্টর, কাউনিয়ায় ২ দশমিক ৬ হেক্টর, সদরে ৩ হেক্টর, মহানগরে ১ দশমিক ৫০ হেক্টরে চাষ হয়েছে মাল্টার।

শখের চাষে রংপুরের মাটিতে বিদেশি ফল


পীরগঞ্জের কুমেদপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে মালয়েশিয়াপ্রবাসী মিজানুর রহমান বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করছেন। ২০১৬ সালে ৩ বিঘা জমিতে লাগানো ৪০০ গাছ এখন পুরোদমে ফল দিচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি চারা উৎপাদন করে চারাপ্রতি ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।

মিজানুর জানান, সঠিকভাবে চাষ এবং সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে মাল্টা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে পারবেন চাষীরা।

যা বলল কৃষি বিভাগ

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, নতুন নতুন ফল চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। সম্ভাবনাময় নতুন বিদেশি ফলের চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এসব ফল চাষ সম্প্রসারণে এর উৎস, চাষাবাদ প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় যুবক গ্রেপ্তার

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর এক যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

চুয়াডাঙ্গায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার কুলচারা গ্রাম থেকে রোববার বিকেলে আহত অবস্থায় ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে খাবার দেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে যায় দিনমজুর ওই যুবক। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে বিকেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় আটক করে সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ওই যুবকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সোমবার তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। ওই যুবককেও সোমবার আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

স্বামী হত্যার ৬ বছর পর স্ত্রীর যাবজ্জীবন

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী ফাহমিনা ও মানিক নামের এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দিনাজপুরে আবু ছালাম মোল্লা হত্যার ছয় বছর পর মামলার রায়ে তার স্ত্রী ফাহমিনা বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

হত্যায় জড়িত আরও এক ব্যক্তিকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

দিনাজপুর জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমদ ভূঞা রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন রবিউল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন হযরত আলী বেলাল।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ফাহমিনা বেগম ও একই উপজেলার নিয়ামতপুর নতুনবাজার এলাকার মানিক রবিদাস ওরফে আর্ট মানিক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর পার্বতীপুর উপজেলা শহরের মোজাফফর হোসেন মহল্লার বাসিন্দা মুদি দোকানদার আবু ছালাম মোল্লার মরদেহ নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ছালামের বড়ভাই আবু হোসেন মোল্লা পার্বতীপুর থানায় ছালামের স্ত্রী ফাহমিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে ফাহমিনা স্বেচ্ছায় বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালতে বিচারকের কাছে ফাহমিনা জানান, ছালাম তাকে ও মানিককে নিয়ে সন্দেহ করত। তিনি ফাহমিনার নামে জমি লিখে দিতে চেয়েও পরে আর দেননি। এই ক্ষোভে ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে ফাহমিনা মানিককে ডেকে পাঠান। পরে দুই জনে মিলে নাইলনের দড়ি ছালামের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। পরে ছালামের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন তারা।

ফাহমিনার দেয়া তথ্যমতে, মানিককে গ্রেপ্তার করে মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার দুই মাস পর ফাহমিনা ও মানিকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

এ মামলায় ২১ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে রোববার রায় ঘোষণা করে আদালত।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বাপা কক্সবাজারের সভাপতি বলেন, ‘কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

কক্সবাজারের কলাতলীর দরিয়া নগরের শুকনাছড়ির ৭০০ একর বনভূমিতে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পরিবেশবাদীরা।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরসহ সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মেরিন ড্রাইভ সড়কের শুকনাছড়িতে মুখে কালো পতাকা বেঁধে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী।

মানবপ্রাচীর কর্মসূচি শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপা কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী।

বক্তব্য দেন বাপা কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সংরক্ষিত বনে প্রশাসন একাডেমি গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের পশুপাখি উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে এরই মধ্যে হাতিসহ পশুপাখির বিশাল আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত মারা পড়ছে হাতি।

‘নতুন করে ৭০০ একর বনভূমি ধ্বংস করা হলে মানুষের নিঃশ্বাস নেয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। দ্রুত লিজ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।’

বিসিএস প্রশাসন একাডেমির লিজ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ
মেরিন ড্রাইভ সড়কে রোববার বিকেলে মানবপ্রাচীরে অংশ নেন এলাকাবাসীসহ পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

কলিম উল্লাহ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণ করতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন শুকনাছড়ির রক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এলাকাটি প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন।’

তিনি বলেন, ‘বিপন্ন এশীয় বন্যহাতিসহ দেশের অনেক বিপন্নপ্রায় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বসতি কক্সবাজারের এই বনভূমি। এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্টত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এডমিন একাডেমির নামে দেয়া বন্দোবস্ত শিগগিরই বাতিল করতে হবে।’

সমাবেশে বলা হয়, ১৯৯০ সালে জারি করা ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড় ও পাহাড়ের ঢাল বন্দোবস্তযোগ্য নয়। ওই জমি বনায়নের জন্য ব্যবহার করবে বনবিভাগ। বন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের রক্ষিত বনে কোন ধরনের স্থাপনা করা নিষিদ্ধ।

কলিম উল্লাহ আরও বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ সংরক্ষিত এ বনভূমিকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে খাসজমি হিসেবে দেখিয়েছে। ঝিলংজা মৌজার এ বনভূমি যে খাসজমি নয়, তা সরকারি নথি ও রেকর্ডেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন ছাড়া যেকোন জমি কাউকে দিতে হলে তা আগে অধিগ্রহণ করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা মূল্যের ৭০০ একর জমি মাত্র এক লাখ টাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কাজে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

বাপা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা যথেচ্ছভাবে ক্ষমতা, সরকারি অর্থ ও সম্পদের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের নতুন নতুন পথ নির্মাণ করছেন। কক্সবাজারে নতুন প্রশাসন একাডেমি এমন আরেকটি উদ্যোগ।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সেভ দ্যা নেচার অফ বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা সভাপতি ওমর ফয়েজ হৃদয়, বাপা নেতা সমীর পাল, জসিম উদ্দিন, ঈসমাইল সাজ্জাদ, এম ওসমান আলী, আজিম নিহাদ, মোহাম্মদ হোসাইন, দোলন ধর, পারভেজ মোশাররফ, শহিদুল ইসলাম শাহেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল

মেয়র জাহাঙ্গীরের ভিডিওর প্রতিবাদে টঙ্গীতে তার কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

এর আগে ৪ মিনিটের ভিডিও ফাঁসকে কেন্দ্র করে পাঁচ দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের তোপের মুখে আছেন মেয়র। তিনি সেই ভিডিওটিকে কারসাজি বলেছেন। তবে এবার ৫০ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে, তাতে তার এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।

৪ মিনিটের একটি ঘরোয়া আলোচনার ভিডিও ফাঁসের পর বেকায়দায় পড়া গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের এবার ৫০ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

৪ মিনিটের ভিডিওটি এই ৫০ মিনিটের ভিডিও থেকেই কেটে ফেসবুকে ছাড়া হয়। তাতে মুক্তিযুদ্ধের শহিদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য থাকার অভিযোগ তুলে মেয়রের শাস্তির দাবিতে গত বুধবার থেকে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

ভিডিওতে গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে।

সে সময় মেয়র ছিলেন দেশের বাইরে। বুধবার রাতে দেশে ফিরে এক ভিডিওবার্তায় তিনি ভিডিওটিকে বানোয়াট বলে দাবি করেন। পরে শুক্রবার এক সমাবেশে তিনি ‘চক্রান্তকারীদের’ মুখোশ উন্মোচনের ঘোষণা দেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিরোধীরা সমাবেশ ডাকলে নিজের শক্তি দেখান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

তবে মেয়রবিরোধী বিক্ষোভ থামছে না আর এর অংশ হিসেবে শনিবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ৫০ মিনিটের পুরো রেকর্ডটি। এই রেকর্ডে আগের বক্তব্যের পাশাপাশি নতুন কিছু কথা মেয়রবিরোধী সমালোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

মেয়র জাহাঙ্গীর এই ভিডিওটিকেও বানোয়াট বলে চাপ এড়াতে চাইছেন।

যা আছে ৫০ মিনিটের নতুন ভিডিওতে

ভিডিওটির ২৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন মেয়র। ২৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের দিকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায় জাহাঙ্গীরকে।

২৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে সেই ব্যক্তি মেয়রকে বলেন, ‘আপনি আগুনকে (আজমত উল্লাহ খান) পানি বানাইয়া ফেলছেন। কীভাবে করলেন?

তখন মেয়র আজমত উল্লাহ খানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে গাজীপুর সিটির মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

৩২ মিনিটের সময় মেয়র বলেন, তিনি ৭০০ কিলোমিটার সড়ক করেছেন, ড্রেন ও এলইডি লাইট লাগিয়েছেন।

ভিডিওর ৩৩ মিনিটে মেয়র সেদিনকার তারিখ ও সময় বলেন। ভিডিওটি যে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ধারণ করা হয়, সেটি এখানে স্পষ্ট বোঝা যায়।

৩৩ মিনিটের দিকে প্রতিমন্ত্রী রাসেলকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীর।

৩৪ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে নিয়ে মন্তব্য করেন। মামুন পৃথিবীতে সবচেয়ে অসুখী মানুষ বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সে যেকোনো সময় মানুষের দ্বারা বা দুর্ঘটনায় মারা যাবে।’

মামুন মণ্ডল নগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়রবিরোধী সাম্প্রতিক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘তার কাউন্সিলর পদ আমি ৫ মিনিটে ডইলা দিতে পারি। এমনকি ভিডিওর ১৭ মিনিটে মেয়র কাউন্সিলরের জন্মপরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলম যার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। কিন্তু তার জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি নাম প্রকাশ করবেন না।

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
মেয়রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

তার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর কার্যত তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। বলেন, ‘আমাকে প্রত্যেক দিন মাইরা ফেলানো উচিত, আমাকে মাইরা ফেলা দরকার, অথবা আমাকে অন্য মানুষ মাইরা ফালাইব। আমি মারা যাব। হেয় কি ভাড়াটিয়া খুনি নিয়োগ করছে কি না যে খুনিরা আমারে মারব সে নিশ্চিত জানে। আল্লাহতাআলা ভবিষ্যৎ জানে। সে তো জানার কথা না। তিনি কি ভবিষ্যৎ জানার জন্য আবার নতুন কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করছে কি না?’

মামুন বলেন, ‘কথা পরিষ্কার, আমার কিছু হলে দায়ভার তার নিতে হবে। আমি বহু আগেই তার (মেয়র) বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় জিডি করে রাখছি।’

জাহাঙ্গীর যা বলছেন

৫০ মিনিটের এই ভিডিওটির ব্যাপারে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নতুন ভিডিওটি শুনি নাই। এগুলা কারা করতেছে, কী করতেছে আমি তো জানি না৷

‘অনেকের মেয়র হওয়ার খায়েশ, তারা এগুলো করতেছে হয়তো। তবে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আইনজীবীদের বলেছি জিনিসটা বাহির করুক।’

ভিডিওতে কণ্ঠে পুরোপুরি মিল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘অনেকে দেখা যায় কণ্ঠ মিলাইয়া ফেলে। হুবহু শব্দ দেখা যায় মিলায়। এগুলো যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা এটা যাচাই-বাছাই করুক।’

ভিডিওটিতে মেয়র যার সঙ্গে কথা বলছেন, তিনি গাছা এলাকার এক তাঁতী লীগ নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘আমি কনফার্ম না হয়ে কিছু বলতে পারছি না। আমি আরেকজনের যে বলব তার কি না সেটাও জানি না। আমার নির্বাচনকে ধরে আমার পার্টির সেক্রেটারি ও মেয়র হওয়া নিয়ে তারা এটা সব সময় করে। আজকে এটা নতুন না।‘

এবার মেয়র জাহাঙ্গীরের ৫০ মিনিটের ভিডিও ভাইরাল
বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার ঢাকা-গাজীপুর ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল বেশ কিছু সময়। ফাইল ছবি

কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমার জানামতে তিনি ৩০-৩৫টি মামলার আসামি। আমাদের ছাত্রলীগের এক কর্মীর হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি। তার সঙ্গে আমার তেমন একটা কথা হয় না।’

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অনুসারীরাও বিক্ষোভ করেছেন, এই বিষয়টি তুলে ধরলে মেয়র বলেন, ‘উনি সবাইকে ফোন করে আসতে বলছেন বলে আমি জেনেছি। বাকিটা ওনারাই জানে, আমি সঠিকটা জানি না।’

বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে জানাবেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি দেশের বাহিরে ছিলাম। দলের সভাপতিও (শেখ হাসিনা) দেশের বাহিরে। এখন বিষয়টি কেন্দ্রে জানানোর জন্য প্রস্তুত আছি। সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানাব।’

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’

একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন সাগরের মা নিলুফা। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।’

কমিউটার ট্রেনের ছাদে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত জামালপুরের সাগরের বাড়িতে গত তিন দিন ধরে রান্না হয়নি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা।

বৃহস্পতিবার সাগরের মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের দেয়া খাবার খাচ্ছেন তার মা, বাবা, ভাই, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

ওই ঘটনায় নিহত জামালপুরের নাহিদের পরিবারকে শনিবার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা দিলেও সাগরের পরিবার এখনও কোনো সহায়তা পায়নি।

রোববার বিকেলে জামালপুর শহরের বাগেরহাটা এলাকায় সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা শয্যাশায়ী মা হনুফা বেগম। সাগরের ছবি দেখে মাঝে মাঝেই ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি। ছেলের আচার বিক্রির সরঞ্জাম গুছিয়ে দিন কাটছে তার।

স্বামীকে হারিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মুসলিমার কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। দুই মেয়ে আর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় যেন রাজ্যের মেঘ জমেছে তার মুখে।

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের মৃত্যুতে দুই মেয়ে ও অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যের চিন্তা এখন মুসলিমার। ছবি: নিউজবাংলা

সাগরের মা হনুফা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা সাগর রিকশা চালাইত, আচার বেচত, আবার মাঝেমধ্যে রাজমিস্ত্রির কাজও করত। সাগর যা ইনকাম করত, ওইডে দিয়েই সংসার চলত। এহন তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, তিন দিন ধইরে আমার চুলাও জ্বলে না।

‘পাড়ার লোকেরা যা দিতাছে তাই খাইয়ে বাঁইচে আছি। এহন সরকার যদি সাহায্য না করে তাইলে আঙ্গর মরণ লাগব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবারে যারা মারছে তাগোর সবার ফাঁসি চাই। আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয়। আমার বাবারে হারায়ে আমি যেমন পাগল হয়ে গেছি। আর কেউ যাতে এমন পাগল না হয়।’

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। দুই মেয়েরে বিয়ে দিয়ে দিছি। বড় ছেলে সাগর কামাই কইরে সংসার চালাইত।

‘বুধবার আমার বড় মেয়ে হাসি আক্তারকে ঢাকায় রেখে বৃহস্পতিবার সাগর জামালপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাতে না আসলে পরে আমরা খবর নিয়ে দেখি হাসপাতালে লাশ পইড়ে আছে। আমি আমার বাবারে সারা জীবনের জন্য হারায় ফালাইছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন দিন ধইরে প্রতিবেশীরা যা দিতাছে তাই খাইতাছি। প্রতিবেশীরা আর কত দিন এইভাবে খাওয়াব। আমার পক্ষেও রোজগার করা সম্ভব না। এহন সরকার যদি আঙ্গরে সাহায্য না করে, তাহলে আঙ্গর সবার মরা ছাড়া উপায় নাই।’

সাগরের স্ত্রী মুসলিমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আগে থেকেই এতিম। আমার বাবা-মা কেউ নাই। এহন আমার দুইটা মেয়েবাচ্চাও এতিম হয়ে গেল। আমার গর্ভের সন্তানটা ওর বাবার মুখ দেখবার পাইল না। এই দুঃখ আমি কই রাখমু। আমার এত বড় ক্ষতি যে করল তাগোর ফাঁসি চাই।’

পরিবারটির প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘সাগর মরার পরে আমরাই এই পরিবারকে খাওয়া দিতাছি, কিন্তু এইভাবে আর কতদিন দিব। আমরাও তো গরিব মানুষ। এহন সরকারের উচিত এই পরিবারটারে সাহায্য করা।’

‘তিন দিন ধইরে আমার বাবা নাই, চুলাও জ্বলে না’
সাগরের ছবি হাতে মা হনুফা

জামালপুরের মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা সব সময় দেখি স্থানীয় প্রশাসন খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করে। ঘটনার পরদিন দেওয়ানগঞ্জের নাহিদের পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে জামালপুরে সাগরের পরিবারকে এখনও কোনো সহায়তা করা হয়নি। আমরা অতি দ্রুত সাগরের পরিবারকে সহায়তার দাবি জানাই।’

জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লিটুস লরেন্স চিরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত সাগরের পরিবারকে আমরা আর্থিক সহায়তা দেব। আগামীকাল সদরের এমপি মোজাফফর স্যারের উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি চাল সাগরের পরিবারকে দেয়া হবে। এমপি স্যার একটু ব্যস্ত থাকায় আজ দেয়া সম্ভব হয়নি।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি রাতে ময়মনসিংহে পৌঁছালে ট্রেনের ছাদে থাকা দুর্বৃত্তদের আঘাতে প্রাণ হারান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের নাহিদ ও শহরের বাগেরহাটা এলাকার সাগর।

ওই ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাগরের মা হনুফা ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশ দুজনকে এবং র‌্যাব পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

‘ডিসেম্বরের মধ্যে টিকা পাবে দেশের অর্ধেক মানুষ’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, দেশে এখন টিকার অভাব নেই। প্রতি মাসেই টিকা আসছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের অর্ধেক মানুষকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

রোববার দুপুর সোয়া ২টার দিকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৩৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের নিশ্চয়তা পেয়েছি। প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন আনা হচ্ছে।

‘হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এরই মধ্যে ৮ হাজার ২৮৭ জন্য নার্স ও ১ হাজার ৪০১ জন অ্যানেসথেসিস্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আট হাজার ডাক্তার নিয়োগ হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বশির আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম শিপনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

নালায় ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তির মরদেহ

সদরঘাট থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

চট্টগ্রামে নালা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বলছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকা থেকে রোববার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় জানা যায়নি। তার আনুমানিক বয়স ৩৫ বছর। পরনে শুধু লুঙ্গি ছিল।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন সকালে নালায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। ওই এলাকার কেউ তার পরিচয় জানাতে পারেনি। তবে স্থানীয়রা তাকে সারা দিন খালি গায়ে এলাকায় ঘুরতে দেখতেন। তাদের ধারণা, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

‘উনি যেভাবে নালায় পড়ে ছিলেন, তা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তিনি কোনোভাবে পড়ে গিয়েছিলেন। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবু আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
জমি কমলেও বাড়ছে চাষ

শেয়ার করুন